বকলমে RSS feed

বকলমের খেরোর খাতা। (যাঁরা টেকনিকাল/অন্য কোনো সমস্যার কারণে ব্লগে লিখতে পারছেন না, তাঁদের হয়ে ব্লগ পোস্ট করার জন্য এই প্রোফাইল।)

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ইতিহাসবিদ সব্যসাচী ভট্টাচার্য
    আধুনিক ভারতের ইতিহাস চর্চায় সব্যসাচী ভট্টাচার্য এক উল্লেখযোগ্য নাম। গবেষক লেখক শিক্ষক এবং শিক্ষা প্রশাসক হিসেবে তাঁর অবদান বিশেষ উল্লেখযোগ্য। সবসাচীবাবুর বিদ্যালয় শিক্ষা বালিগঞ্জ গভর্মেন্ট হাই স্কুলে। তারপর পড়তে আসেন প্রেসিডেন্সি কলেজের ইতিহাস বিভাগে। ...
  • পাগল
    বিয়ের আগে শুনেছিলাম আজহারের রাজপ্রাসাদের মতো বিশাল বড় বাড়ি! তার ফুপু বিয়ে ঠিকঠাক ‌হবার পর আমাকে গর্বের সাথে বলেছিলেন, "কয়েক একর জায়গা নিয়ে আমাদের বিশাল বড় জমিদার বাড়ি আছে। অমুক জমিদারের খাস বাড়ি ছিল সেইটা। আজহারের চাচা কিনে নিয়েছিলেন।"সেইসব ...
  • অশোক দাশগুপ্ত
    তোষক আশগুপ্ত নাম দিয়ে গুরুতেই বছর দশেক আগে একটা ব্যঙ্গাত্মক লেখা লিখেছিলাম। এটা তার দোষস্খালন বলে ধরা যেতে পারে, কিন্তু দোষ কিছু করিনি ধর্মাবতার।ব্যাপারটা এই ২০১৭ সালে বসে বোঝা খুব শক্ত, কিন্ত ১৯৯২ সালে সুমন এসে বাঙলা গানের যে ওলটপালট করেছিলেন, ঠিক সেইরকম ...
  • অধিকার এবং প্রতিহিংসা
    সল্ট লেকে পূর্ত ভবনের পাশের রাস্তাটায় এমনিতেই আলো খুব কম। রাস্তাটাও খুব ছোট। তার মধ্যেই ব্যানার হাতে একটা মিছিল ভরাট আওয়াজে এ মোড় থেকে ও মোড় যাচ্ছে - আমাদের ন্যায্য দাবী মানতে হবে, প্রতিহিংসার ট্রান্সফার মানছি না, মানব না। এই শহরের উপকন্ঠে অভিনীত হয়ে ...
  • লে. জে. হু. মু. এরশাদ
    বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটা অধ্যায় শেষ হল। এমন একটা চরিত্রও যে দেশের রাজনীতিতে এত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকতে পারে তা না দেখলে বিশ্বাস করা মুশকিল ছিল, এ এক বিরল ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে যুদ্ধ না করে কোন সামরিক অফিসার বাড়িতে ঘাপটি মেরে বসে ছিলেন ...
  • বেড়ানো দেশের গল্প
    তোমার নাম, আমার নামঃ ভিয়েতনাম, ভিয়েতনাম --------------------...
  • সুভাষ মুখোপাধ্যায় : সৌন্দর্যের নতুন নন্দন ও বামপন্থার দর্শন
    ১৯৪০ সালে প্রকাশিত হয়েছিল সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘পদাতিক’। এর এক বিখ্যাত কবিতার প্রথম পংক্তিটি ছিল – “কমরেড আজ নবযুগ আনবে না ?” তার আগেই গোটা পৃথিবীতে কবিতার এক বাঁকবদল হয়েছে, বদলে গেছে বাংলা কবিতাও।মূলত বিশ্বযুদ্ধের প্রভাবে সভ্যতার ...
  • মৃণাল সেনের চলচ্চিত্র ভুবন
    মৃণাল সেনের জন্ম ১৯২৩ সালের ১৪ মে, পূর্ববঙ্গে। কৈশোর কাটিয়ে চলে আসেন কোলকাতায়। স্কটিশ চার্চ কলেজ ও কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরে পড়াশুনো করেন। বামপন্থী রাজনীতির সাথে বরাবর জড়িয়ে থেকেছেন, অবশ্য কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ...
  • অলোক রায় এবং আমাদের নবজাগরণ চর্চা
    সম্প্রতি চলে গেলেন বাংলার সমাজ, সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতের বিশিষ্ট গবেষক অধ্যাপক অলোক রায়। গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকের শেষ দিক থেকে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত ছয় দশক জুড়ে তিনি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতের বিভিন্ন দিক নিয়ে লেখালেখি করেছেন। এর মধ্যে বাংলা ...
  • দুই ক্রিকেটার
    ক্রিকেট মানেই যুদ্ধু। আর যুদ্ধু বলতে মনে পড়ে ষাটের দশক। এদিকে চীন, ওদিকে পাকিস্তান। কিন্তু মন পড়ে ক্রিকেট মাঠে।১৯৬৬ সাল হবে। পাকিস্তানের গোটা দুয়েক ব্যাটেলিয়ন একা কচুকাটা করে একই সঙ্গে দুটো পরমবীর চক্র পেয়ে কলকাতায় ফিরেছি। সে চক্রদুটো অবশ্য আর নেই। পাড়ার ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

জুনিয়র ডাক্তারদের ধর্মঘট ও সরকারের ভূমিকা

পুণ্যব্রত গুণ

১১ ই জুন থেকে জুনিয়র ডাক্তাররা ধর্মঘটে। ১২ ই জুন সারা রাজ্যে সিনিয়র ডাক্তার রা সরকারি বেসরকারি হাসপাতালের আউটডোর এবং প্রাইভেট চেম্বার বন্ধ রেখেছেন ১২ ঘন্টার জন্য। ১৪ ই জুন নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজ থেকে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ অবধি পথ চলেছেন প্রায় ১০০০০ সিনিয়র ডাক্তার শিল্পী সাহিত্যিক বুদ্ধিজীবী এবং সাধারণ মানুষ। ওই দিনই ডাক্তাররা হরতাল করেছেন নয়াদিল্লি এ আই আই এম এস এ, চন্ডিগড় এ পি জি আই তে। বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়েছে মহারাষ্ট্রে বিহারে ত্রিপুরায় এমনকি পাকিস্তান ও নেপালে। আগামীকাল ১৭ ই জুন সকাল ছয়টা থেকে থেকে ১৮ ই জুন সকাল ছয়টা অবধি সারাদেশে ডাক্তারদের জরুরী পরিষেবা ছাড়া সমস্ত রকম কাজ বন্ধের ডাক দিয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ ডাক্তারদের সংগঠন আই এম এ।

এত কিছুর দরকার ছিল না। ১০ তারিখ রাতে ৮৫ বছর বয়স্ক ১ স্ট্রোকের রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দুই লরি ভরে প্রায় ২০০ লোক হামলা করে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে জুনিয়র ডাক্তারদের উপর। দুজন জুনিয়র ডাক্তার আহত হন, ডাক্তার পরিবহ মুখোপাধ্যায় এবং ডাক্তার যশ টেকওয়ানি। জুনিয়ার ডাক্তাররা কাজ বন্ধ করে দেন, ইমারজেন্সির সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন, তাদের দাবি মুখ্যমন্ত্রী আসুন এসে অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিন, ডাক্তারদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করা্র প্রতিশ্রুতি দিন।

এগিয়ে এলেন সিনিয়র ডাক্তার রা। হিংসার ঘটনা এই তো প্রথম নয়। ২০১৭ ফেব্রুয়ারীতে টাউনহল খাপ পঞ্চায়েত বসিয়ে বেসরকারি হাসপাতালের ম্যানেজমেন্ট কে তুলোধোনা করার পর রাজ্যে ১ নতুন ক্লিনিক্যাল এস্তব্লিশমেন্ট অ্যাক্ট চালু হয়েছিল। বলা হয়েছিল বেসরকারি হাসপাতাল গুলি র রোগী শোষণ বন্ধ করার জন্য, সেগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নাকি এই আইন। কিন্তু আইনের বলে যে রেগুলেটরি কমিশন তৈরি হলো তার শীর্ষে রইলেন বেসরকারি হাসপাতালে র ডাক্তাররা। আর বেসরকারি হাসপাতাল কে নিয়ন্ত্রণ করার বদলে কমিশন ভিক্টিমাইজ করতে লাগলো ব্যক্তি ডাক্তারদের। পাশাপাশি ডাক্তার ও চিকিৎসা কর্মীদের ওপর আক্রমণের ঘটনা কয়েকগুণ বেড়ে গেল। ডাক্তারদের যুক্ত মঞ্চ জয়েন্ট প্লাটফর্ম অফ ডক্টর স পরিসংখ্যান বলে গত আড়াই বছরে হিংসার ঘটনা ঘটেছে প্রায় ২৩৫ টি। এর মধ্যে অধিকাংশই কিন্তু সরকারি হাসপাতালে। সরকারি হাসপাতালে চকচকে নীল সাদা রং হয়েছে, ভেতরে যথেষ্ট সংখ্যায় ডাক্তার নেই, চিকিৎসা কর্মী নেই, যন্ত্রপাতি নেই। সরকারের প্রচার আছে সরকারি হাসপাতাল এ বিনামূল্যে চিকিৎসা পাওয়া যায়। পরিকাঠামোর অভাবে মানুষ যখন চিকিৎসা পান না স্বভাবতই তারা ক্ষুব্ধ হন। ক্ষোভের কারণ সরকার কিন্তু সরকারকে তো হাতের সামনে পাওয়া যায় না। হাতের সামনে যাদের পাওয়া যায় সেই ডাক্তার নার্স আর চিকিৎসা কর্মীদের ওপর ক্ষোভ উগরে দেন তারা। হিংসার ঘটনা গুলো বিশ্লেষণ করে আমরা দেখেছি অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগীর পরিজনের ক্ষোভের সুযোগ নিয়ে হামলা চালায় শাসকদলের আশ্রয়ে থাকা দুষ্কৃতীরা। আলিপুরদুয়ার এবং কলকাতার দুটি ঘটনায় দেখা গেছে পুলিশ অফিসার ডাক্তার কে আক্রমণ করছেন। ২০০৯ থেকে এই ধরনের আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য রাজ্যে একটা আইন আছে। অথচ ২৩৫ এর মধ্যে মাত্র ৫ টি তে অপরাধী কে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাও জামিনযোগ্য ধারায় মামলা করায় তারা ছাড়া পেয়ে যায়। সিএমআরআই হাসপাতালে ডাক্তার পেটানো য় অভিযুক্ত যাদবপুর থানার ওসি পুলক দত্তের বিরুদ্ধে এফ আই আর ই দায়ের করা যায়নি। অন্য রাজ্য থেকে আসা প্রশিক্ষণার্থী ডাক্তার কে পুলিশের সর্বোচ্চ স্তর থেকে ভয় দেখানো হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী এলেন না। তিনি গেলেন নীলরতন সরকার হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যেই বিদ্যাসাগর কলেজে বিদ্যাসাগরের মূর্তির পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে আর বাইপাসের ধারে আইটিসি র হোটেল উদ্বোধন করতে। মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে হাসপাতলে এলেন দুই প্রতিমন্ত্রী। আন্দোলনরত জুনিয়ার ডাক্তাররা সন্তুষ্ট হল না, কেননা মুখ্যমন্ত্রী তো কেবল মুখ্যমন্ত্রী নন, তিনি রাজ্যের স্বাস্থ্য এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও।

নীলরতন সরকারের জুনিয়র ডাক্তারদের সমর্থনে কাজ বন্ধ করলেন বাংলার সমস্ত মেডিকেল কলেজের ছাত্র ডাক্তাররা। তবু সরকারের টনক নড়লো না।

সিনিয়র ডাক্তারদের রাজ্যব্যাপী আউটডোর ধর্মঘটে ও মুখ্যমন্ত্রীর টনক নড়লো না। ১৩ তারিখ এন আর এস হাসপাতালে না গিয়ে তিনি বাড়ি থেকে নবান্ন যাওয়ার পথে গেলেন এসএসকেএম-এ। জুনিয়র ডাক্তারদের ভয় দেখালেন-কাজে যোগ না দিলে ইন্টার্নশিপ ইনকমপ্লিট থেকে যাবে, চার ঘন্টার মধ্যে কাজে যোগ না দিলে হোস্টেল ছেড়ে দিতে হবে, পরিষেবা চালু রাখার জন্য প্রয়োগ করা হবে এসেনশিয়াল সার্ভিসেস মেনটেনেন্স অ্যাক্ট বা এসমা। তিনি বললেন বহিরাগতরা আন্দোলন করছে। ডাক্তাররা সাম্প্রদায়িক, রোগীর পদবি দেখে তারা চিকিৎসা করে।

মুখ্যমন্ত্রী ভুলে গেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের ডাক্তার ও মেডিকেল ছাত্রদের সংগ্রামের ইতিহাসের কথা। স্বাধীনতা সংগ্রামে, স্বাধীনতার পর নানা গণআন্দোলনে, আশির দশকের অল বেঙ্গল জুনিয়র ডাক্তার আন্দোলনের ঐতিহ্য যাদের, তাদের কি এসমার ভয় দেখিয়ে বিরত করা যায়!?

রাজ্যে ডাক্তারি পাঠক্রমে ভর্তির জন্য এখন জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা নেই, সারাদেশে অভিন্ন প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট। সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে অন্য রাজ্যের ছাত্র-ছাত্রী বাংলায় আসতে পারেন, বাংলার ছাত্র ছাত্রী অন্য রাজ্যে পড়তে যেতে পারেন। আর দেশে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার অধিকার তো আমাদের সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার।

ডাক্তারি পাশ করার পর পেশার শুরুতে ডাক্তারদের হিপোক্রেটিক ওথ নিতে হয়। জাতি ধর্ম বর্ন শ্রেণি নির্বিশেষে সমস্ত মানুষকে সমান চিকিৎসা দেওয়ার শপথ।

মুখ্যমন্ত্রীর এসএসকেএম ভ্রমণের ফল ফলল অবিলম্বে। আন্দোলনরত ডাক্তাররা ইমারজেন্সি ছেড়ে একাডেমিক বিল্ডিং এর ঢুকলেন, সাধারণ সভা করলেন, বেরিয়ে এসে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করলেন একাডেমিক বিল্ডিং এর সামনে। বিক্ষোভে এবার যোগ দিলেন বিভিন্ন বিভাগের প্রধানসহ শিক্ষকেরা, যোগ দিলেন কর্তব্যরত নার্স এবং নার্সিং ছাত্রীরা। অন্যান্য কলেজেও আন্দোলন তীব্রতর হলো। নতুন দাবি ডাক্তারি পেশা কে অপমান করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী কে ক্ষমা চাইতে হবে।

১৩ তারিখ রাতে পদত্যাগপত্র পেশ করলেন এন আর এস মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল ও ভাইস প্রিন্সিপাল। তারপর পদত্যাগের জোয়ার নামল, এসএসকেএম, মেডিকেল কলেজ, ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ, আর জি কর, নর্থ বেঙ্গল, মালদা, মুর্শিদাবাদ।।।

আন্দোলনরত জুনিয়র ডাক্তারদের পাশে আছি এই বার্তা দিতে সিনিয়র ডাক্তারদের যুক্ত মঞ্চ ১৪ তারিখ সকাল ১১ টা থেকে এন আর এস এ অবস্থানের ডাক দিয়েছিল, বিকেল সাড়ে চারটে মিছিলে র।১৯৮৩র অল বেঙ্গল জুনিয়র ডাক্তার ফেডারেশনের আন্দোলনের সময় আমি সদ্য ইন্টার্ন। তারপর অনেক গণ আন্দোলন দেখেছি, কিছুতে অংশ নিয়েছি। ২০০৭ এর নন্দীগ্রাম হত্যাকাণ্ডের বিরোধিতার মিছিলের সঙ্গে তুলনীয় ১৪ ই জুন এর মিছিল। মিছিলের শুরু যখন ন্যাশনালে পৌঁছে গেছে শেষ তখনো এন আর এস থেকে বেরোতে পারেনি। শিল্পী সাহিত্যিক বুদ্ধিজীবী মানবাধিকার কর্মী সাধারণ মানুষ দলে দলে যোগ দিয়েছেন সিনিয়র ডাক্তার জুনিয়র ডাক্তারদের এই মিছিলে।

সেদিন বিকেলে নতুন উদ্যোগ শুরু হল সরকারের তরফে। ৫ জন ডাক্তার যারা আন্দোলনের মঞ্চে আসেন নি মিছিলে পথ হাঁটেননি তারা নবান্নে গেলেন মধ্যস্থতার জন্য। বার্তা পাঠানো হলো মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী জুনিয়র ডাক্তারদের ৪ জন প্রতিনিধির সঙ্গে বসবেন। এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এন আর এস এর জুনিয়া্র ডাক্তাররা। তাদের পক্ষে শেষ বার্তা সমস্যার সমাধান করতে তারা রাজি আছে কিন্তু তারা নবান্নে যাবে না। মুখ্যমন্ত্রী যদি এন আর এস এ আসতে রাজি না হন তাহলে সমঝোতা বৈঠক হোক নিরপেক্ষ কোন জায়গায়।

সিনিয়র ডাক্তার রা সমস্যার সমাধান চান কেননা রোগীর চিকিৎসা করা রোগীর যন্ত্রণা কমানো জীবন বাঁচানো আমাদের পেশা। পেশার স্বার্থে ই সমস্যা সমাধান হওয়া জরুরী।

সেভ দ্য সেভিয়ার। ডাক্তার রোগী বাঁচাবেন কিন্তু হামলার হাত থেকে ডাক্তার কে বাচাবেন কে?

আগামীকালের আই এম এর ডাকা ধর্মঘটের লক্ষ্য সারা দেশব্যাপী ডাক্তারের উপর হামলা বন্ধ করার জন্য একটা আইন। কেমন করে তা সম্ভব তা আমার জানা নেই। কেননা স্বাস্থ্য ও স্বরাষ্ট্র দুটিই রাজ্যের বিষয়, তাতে কেন্দ্রীয় আইন সম্ভব কিনা তা আইন বিশেষজ্ঞরা বলতে পারবেন।

তবু পশ্চিমবাংলার ডাক্তারদের সর্ববৃহৎ সংগঠন ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর ফোরাম আই এম এ র উদ্যোগকে স্বাগত জানায়।

কিন্তু আই এম এর জাতীয় সভাপতি ডাক্তার শান্তনু সেনের ভূমিকা নিন্দনীয়। তিনি আবার রাজ্য আই এম এর সম্পাদক ও বটেন, রাজ্যের শাসক দলের রাজ্যসভার সাংসদ ও। রাজ্যে ২০০৯ থেকে ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিকেয়ার সার্ভিস পারসন এন্ড মেডিকেয়ার ইনস্টিটিউটস প্রিভেনশন অফ ভায়োলেন্স এক্ট আছে। শান্তনু বাবু নিজের রাজ্যে নিজের দলের প্রশাসনকে প্রভাবিত করতে পারেননি ২৩৫ টি ঘটনায় এই আইন প্রয়োগ করার জন্য। যদি পারতেন তাহলে হয়তো এন আর এস এর ঘটনা নাও ঘটতে পারতো।

রাজ্য আই এম এর সভাপতি আবার রাজ্য মেডিকেল কাউন্সিল এর সভাপতি ও। তৃণমূলের মন্ত্রী ডাক্তার নির্মল মাজি ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিকেল কাউন্সিল সভাপতি হিসেবে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন কাজে যোগ না দিলে ইন্টার্নদের রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হবে না। নির্মল বাবুর এই এক্তিয়ার আছে কিনা তা অবশ্য আইন বিশারদরা বলতে পারবেন। কেননা গত বছর ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিকেল কাউন্সিল এর নির্বাচনে ব্যাপক দুর্নীতি হওয়ায় হাই কোর্ট স্থগিতাদেশ দেয়।

সম্মানজনক সমাধান ছাড়া ডাক্তারদের আন্দোলনের পথ থেকে সরানো যাবে না। তারা আন্দোলন করবেন সমস্ত জরুরী পরিষেবা বজায় রেখেই। যদি আউটডোর বন্ধ করতে হয় তাহলে শুরু হবে প্যারালাল আউটডোর। আর মুখ্যমন্ত্রী যদি ভাবেন দমন-পীড়ন করে জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলন ভাঙবেন তাহলে সিনিয়র ডাক্তাররা অভূতপূর্ব প্রত্যাঘাত করবেন। প্রায় ৯০০ শিক্ষক চিকিৎসকের পদত্যাগ থেকে রাজ্য প্রশাসনের শিক্ষা নেওয়া উচিত।



1314 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: গুরুচণ্ডা৯

Re: জুনিয়র ডাক্তারদের ধর্মঘট ও সরকারের ভূমিকা

জুনিয়র ডাক্তারদের ধর্মঘট ও সরকারের ভূমিকা প্রসঙ্গে ড. পুণ্যব্রত গুণ.
Avatar: শেখর

Re: জুনিয়র ডাক্তারদের ধর্মঘট ও সরকারের ভূমিকা

অত্যন্ত সত্যনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণ। এই আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে কয়েকটা কথা বলছি। বাম সরকারের আমলে ১৯৮৩ সালে জুনিয়ার ডাক্তারদের আন্দোলনের সময়(যে দাবিগুলো মূলতঃ সুচিকিৎসা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা ও জুনিয়ার ডাক্তারদের স্টাইপেন্ড বৃদ্ধি করা) সরকারের সমর্থকরা আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিল সরকারকে চোখের মণির মত রক্ষা করার কর্তব্যবোধ থেকে। তাদের প্রচার ছিল এতে প্রতিক্রিয়ার হাত শক্ত হবে। ফলতঃ সরকারি ডাক্তারবাবুদের সংগঠন দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে এবং সরকারপন্থী জুনিয়ার ডাক্তাররা নতুন সংগঠন গড়ে তোলেন। সেসময় সরকার এবং যারা আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিলেন তারাও আজকের মত অসহায় রুগীরা চিকিৎসা পাবে না এই প্রচারে যতটা সরব ছিলেন, সরকারি হাসপাতালে পরিকাঠামোর উন্নতি ঘটিয়ে সুচিকিৎসা সুনিশ্চিত করার দাবিতে ততটা (কিংবা আদৌ) সরব হন নি। এখনকার আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতেও কেউ কেউ বলছেন যে এটা এলিটিস্ট আন্দোলন, এই আন্দোলনে বিজেপি ঘোলা জলে মাছ ধরার সুযোগ পাচ্ছে বা শেষ বিচারে সরকারেরই জয় হবে। বলা বাহুল্য সরকারের বিরূদ্ধে যে কোনও আন্দোলনে থেকেই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ফয়দা তোলার জন্য উদগ্রীব থাকবে-এটাই স্বাভাবিক। বিজেপি সুবিধা পেতে পারে বলে কি ২০২১ পর্যন্ত ন্যায্য দাবিতে পশ্চিমবঙ্গে সরকার বিরোধী কোনও আন্দোলনই করা যাবে না?
Avatar: Sumit Roy

Re: জুনিয়র ডাক্তারদের ধর্মঘট ও সরকারের ভূমিকা

আমার মতে, চিকিৎসা খাতে এরকম হিংসার মূল কারণটা হল সমাজে সোশ্যাল ট্রাস্ট, রেসিপ্রোসিটি, সর্বপরি সোশ্যাল ক্যাপিটালের অভাব। এই সমস্যাগুলোর দীর্ঘমেয়াদী বা সাস্টেইনেবল সমাধান খুঁজতে গেলেও এই সোশ্যাল ট্রাস্ট সহ সোশ্যাল ক্যাপিটালকেই টারগেট করতে হবে। আর এই সমস্যাটা কেবল স্বাস্থ্য খাত নয়, শিক্ষাতেও আছে। সমাজে যেসব খাতকে খুব গ্লোরিফাইড হিসেবে দেখা হয়, সোশ্যাল ক্যাপিটাল বাজে হয়ে গেলে তা নিয়ে মূলত দুটো সমস্যা দেখা যায় - (১) সেই বিষয়গুলোর পরিষেবা নিয়ে কনজিউমারদের অসন্তুষ্টি, (২) এই বিষয়গুলো নিয়ে ব্যাবসা বাণিজ্যকে বা এগুলোকে টাকা রোজগারের উপায় হিসেবে দেখতে না পারা। এই অসন্তুষ্টি থেকেই হিংসাত্মক ঘটনাগুলো শুরু হয় বলে মনে করি। কেন আমি এমনটা মনে করি সেই বিশ্লেষণে যাওয়া যাক...

প্রথমে দ্রব্য ও সেবার মধ্যকার দ্বন্দ্ব সম্পর্কে কিছু বলা যাক। আমরা সবাই মোটামুটি এগুলো জানি। দ্রব্য যেমন খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান হচ্ছে ট্যাঞ্জিবল বিষয়, মানে এগুলোকে ধরা যায়, ছোয়া যায়। কিন্তু শিক্ষা ও চিকিৎসা ট্যাঞ্জিবল নয়, ধরা ছোয়ার বাইরে। দ্রব্যের উপর মালিকানা প্রতিষ্ঠা করা যায়, সেবার ক্ষেত্রে করা যায় না, এক কেজি চালের প্যাকেটের মালিকানা যেমন আপনি লাভ করতে পারেন, কিন্তু ত্রিকোণমিতির চ্যাপ্টার ওয়ানের উপর মালিকানা সেভাবে লাভ করতে পারবেন না। সেবার ক্ষেত্রে উৎপাদন ও ভোগ একইসাথে হয়, ডাক্তারবাবু এজমার প্রেসক্রিপশন লেখার সাথে সাথে আপনি চিকিৎসার সেবাটা পাচ্ছেন, ভোগের আগে চিন্তা করার সুযোগ নেই এখানে। দ্রব্যের ক্ষেত্রে তেমনটা নয়। দ্রব্যের ক্ষেত্রে একক দাম ঠিক করা সহজ, সেবার ক্ষেত্রে মুশকিল। এজমার ক্ষেত্রে আর যক্ষার ক্ষেত্রে প্রেসক্রিপশন লেখার ক্ষেত্রে মেন্টাল এফোর্টের পার্থক্য থাকে, পদার্থবিজ্ঞানের ১ম অধ্যায়ের লেকচার আর ১০ম অধ্যায়ের লেকচার বোঝার মেন্টাল এফোর্টের পার্থক্য থাকে, কিন্তু এগুলোর ইউনিট প্রাইস একই। এভাবে একটা নির্দিষ্ট পেমেন্ট ধরে বেঁধে দিলে কম কষ্টের কাজে্র ওভারচার্জ আর বেশি কষ্টের কাজের আন্ডারচার্জের আশঙ্কা আছে। এভাবে দ্রব্য ও সেবার মধ্যে কিছু মৌলিক পার্থক্যের কারণে এগুলোর মূল্যব্যবস্থা ও এগুলো নিয়ে এক্সপেক্টেশনের ক্ষেত্রেও পার্থক্য তৈরি হয়।

কিন্তু এর চেয়েও আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার আছে যা এই পোস্টের ক্ষেত্রে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ, আর তা হল ইনফরমেশন এসিমেট্রি বা তথ্যগত প্রাতিসাম্যহীনতা। দ্রব্য ও সেবার SEC classification এর মাধ্যমে একে এনালাইসিস করা হয়। SEC-কে ভাংলে দাঁড়ায় Search goods, Experience goods আর Credence goods.

Search goods বলতে সেইসব দ্রব্য বোঝায় যা সম্পর্কে ভোক্তা দ্রব্যটি ভোগের পূর্বেই সেই দ্রব্য সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান এসব এই ক্যাটাগরিতে পড়ে, বিভিন্ন দোকানে তুলনা করেই মাছ মাংস কেনা হয়। এছাড়া মাছ, মাংস আসলে কী এটার সম্পর্কে কিছু কালচারালি একুয়ার্ড ধারণা আমাদের মধ্যে থাকে। Experience goods বলতে সেইসব দ্রব্য বোঝায় যার সম্পর্কে ভোগের আগে ধারণা করা যায় না। সেলুনে কেমন চুল কাটে, রেস্টুরেন্টে কিরকম রান্না করে এসব আপনাকে সেলুনে বা রেস্টুরেন্টে গিয়েই বুঝতে হবে।

এদিকে Credence goods বলতে সেইসব দ্রব্যকে বোঝানো হয় যার উপযোগ সম্পর্কে আপনি ভোগের আগে বা পরে কখনই ধারণা রাখতে পারবেন না। আর ধারণা রাখতে পারবেন না বলে এগুলোকে আপনি কেবল credence বা বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করেই ভোগ করবেন। এসব ক্ষেত্রে ভোক্তা দ্রব্যের কস্ট-বেনিফিট এনালাইসিস করে সেই বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছুতে পারেন না। স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সেবা পড়ে এই credence goods এর ক্যাটাগরিতে। ক্লাস সিক্সে আমি যে টিউশনি পড়েছিলাম সেক্ষত্রে কত টাকা দিয়ে কতটুকু জ্ঞানার্জন করলাম তার হিসাব আমি করতে পারব না, অন্তত ক্লাস সিক্সে পড়ার সময় তো অবশ্যই পারতাম না। আবার ধরুন, একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে কোন রোগী তার পেটের ডানদিকে ব্যাথা নিয়ে আসলো, বিভিন্ন পরীক্ষা করে তার রোগ নির্ণয় করা হল অ্যাপেন্ডিসাইটিস। এরপর অপারেশন টেবিলে তাকে উঠিয়ে তার পিঠে একটা খোঁচা মেরে অবশ করে শুইয়ে দিয়ে পর্দার আড়ালে কিছু টুং টাং শব্দ করে অপারেশনের পর তাকে একটা বিল ধরিয়ে দেয়া হল। ওই অবস্থায় রোগী তার নিজের শরীরের ফিজিওলজি, প্যাথোলজি, ডিজিজ ডায়াগনোসিস প্রসিডিউর আর সার্জিকাল প্রসিডিউর সম্পর্কে যতটুকু ধারণা রাখে তা দিয়ে স্বাভাবিক কস্ট বেনিফিট অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে বিলিং এর জাস্টিফিকেশন সে ধরতে পারবে না।

তো এই ক্ষেত্রে ব্যক্তির সোশ্যাল নর্মস সম্পর্কে বিশ্বাসের উপর নির্ভর করা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। Credence goods এর ভোগের ক্ষেত্রে ভোক্তা নিজে যে সমাজে থাকে সে সমাজের উপর তার এতটুকু আস্থা অবশ্যই থাকতে হবে যে, পর্দার আড়ালে তার পেটের মধ্যে যে টুং টুং করা হয়েছিল, তাতে তার জীবন আসলেই বেঁচে গেছে। এই আস্থাটা যদি তার থাকে তাহলেই সে যে সেবাটা লাভ করল তার বিলিংটাকে সে জাস্টিফাইড ধরে নেবে।

credence goods এর সাথে এই যে বিশ্বাস এর একটা গভীর সম্পর্ক থাকে, সেই বিশ্বাসই এসম্পর্কিত পেশাগুলোকে গ্লোরিফাই করে। যেসব ক্ষেত্রে বিশ্বাস করে চোখ বন্ধ করে সেবা নেয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না, সেসব ক্ষেত্রে এই সেবা যার হাতে তার উপরেই সবাইকে নির্ভর করতে হয়। এরপর মানুষের ভেতরে থাকে বিভিন্ন বায়াস বা পক্ষপাত, যেমন চয়েস সাপোর্টিভ বায়াস, কনফারমেশন বায়াস, অথোরিটি বায়াস ইত্যাদি হয়তো তাকে সাহায্য করে এই পেশাকে মহৎ ভাবতে। কারণ বিশ্বাস করেই যখন সেবাটা নিতে হচ্ছে তখন পেশাটিকে মহৎ ভাবলে বা গ্লোরিফাই করলেই মানুষ খুব সহজেই চোখ বন্ধ করে একে বিশ্বাস করে নিতে পারে। গ্লোরিফিকেশনটা না থাকলে মানুষের পক্ষে এত সহজে একে বিশ্বাস করাটা সম্ভব হত না।

একটি সমাজের সোশ্যাল ক্যাপিটাল বা সামাজিক পুঁজির মধ্যে পড়ে বণ্টিত (shared) পরিচয় ধারণা, বণ্টিত বোঝাপড়া, বণ্টিত আচারব্যবস্থা, বণ্টিত মূল্যবোধ, আস্থা (trust), সহযোগিতা ও রেসিপ্রোসিটি (reciprocity)। এগুলোর মধ্যে আস্থা আর রেসিপ্রোসিটি এই আলোচনায় প্রাসঙ্গিক। আস্থা বলতে কী বোঝায় তা আপনারা সবাই জানেন, আর রেসিপ্রোসিটি হচ্ছে সমাজের সেই গুণ, যার ফলে সেই সমাজে থেকে আপনি আশা করতে পারেন যে, একজন ব্যক্তিকে আপনি কোন সাহায্য করলে পরে সেই ব্যক্তি আপনাকেও সাহায্য করবে। আমাদের সমাজের সোশ্যাল ক্যাপিটালের সাথে এভাবেই ট্রাস্ট ও রেসিপ্রোসিটি সম্পর্কিত, আর সমাজে এই ট্রাস্ট ও রেসিপ্রোসিটি কিরকম তা সম্পর্কিত সমাজের ব্যক্তিবর্গ credence goods-কে কিভাবে দেখছেন।

যেসব সমাজে সোশ্যাল ক্যাপিটাল কম সেইসব সমাজে সঙ্গত কারণেই ট্রাস্ট ও রেসিপ্রোসিটিও কম হয়। সোশ্যাল ক্যাপিটাল যে সমাজে কম থাকে, সেই সমাজে নিয়ম কানুনের অভাব দেখা যায়, বিভিন্ন ধরণের দুর্নীতি দেখা যায়, এন্টিসোশ্যাল এক্টিভিটিজ অনেক বেশি থাকে। এদিকে credence goods নিয়েও বিভিন্নরকম দুনম্বরি কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এই ট্রাস্ট ও রেসিপ্রোসিটির অভাবে সাধারণ মানুষের অবস্থাও যেন এমন হয় যে, তারা নিজেরাই নিজেদের সহ-নাগরিকদের দ্বারা ঠকছে আর ঠকাচ্ছে, সমাজ ব্যবস্থাটাই এরকম আকার নিয়ে নেয়। একটু ভেবে দেখুন তো যে সমাজে ট্রাস্ট ও রেসিপ্রোসিটির এমন অভাব সেখানে মানুষ এই credence goods-কে কতটা বিশ্বাস করতে পারে। সেই বিশ্বাসকে টিকিয়ে রাখার জন্য তাদের মধ্যে সেই সম্পর্কিত পেশাগুলোর গ্লোরিফিকেশনই বা কতটা কার্যকরী হতে পারে? আর আসলেই সেই পেশাগুলো গ্লোরিফায়েড থাকে কী?

বাস্তবে সমাজে যদি সোশ্যাল ক্যাপিটাল নিচু স্তরে নেমে যায়, তখন আর credence goods এর সাথে সম্পর্কিত পেশাগুলোকে গ্লোরিফাইড বা মহৎ বলে মনে হয় না। এসব পেশায় তখন সন্দেহ তৈরি হওয়া শুরু করে। এক্ষেত্রে উপরে যে দুটো এফেক্টের কথা বলেছিলাম সেদুটো শুরু হয়, মানে পরিষেবা নিয়ে অসন্তুষ্টির পরিমাণ অনেক বেড়ে যায় যার ফলে এরকম হিংসাত্মক ঘটনাও অনেক বেড়ে যায়, সেই সাথে শিক্ষা ও চিকিৎসার প্রাইভেটাইজেশনকে বা এগুলোর বাণিজ্যিকীকরণকে বেশি করে গর্হিত বলে মনে হয়। কেননা credence goods এর উপর বিশ্বাসটাই আর সেভাবে নেই।

Credence goods এর ক্ষেত্রে সারা বিশ্ব ব্যাপীই দুই নাম্বারি করার সুযোগ থাকে এবং এই সুযোগের সদ্ব্যবহারও করা হয়। Credence goods নিয়ে লেখা বিভিন্ন একাডেমিক আর্টিকেলেও এই সেক্টরের আস্থার অভাবের প্রশ্নটা বারবার উঠে আসে, এবং এ জন্যেই দেখা যায় সোশ্যাল ওয়েলফেয়ারওয়ালা দেশগুলাতে এডুকেশন আর হেলথ সেক্টরকে থার্ড পার্টি পেমেন্টের আন্ডারে আনার চেষ্টা থাকে, যেখানে নাগরিকেরা নিজের শিক্ষা আর চিকিৎসার জন্য ইন্ডিভিজুয়ালি রেস্পন্সিবল থাকে না। কিন্তু সারা বিশ্বের সাথে আমি আমার দেশ, বাংলাদেশের বর্তমানে সোশ্যাল ট্রাস্ট, রেসিপ্রোসিটি, সোশ্যাল ক্যাপিটালের তুলনা করে বলতে পারি, এইসব বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থা অত্যধিক পরিমাণে খারাপ (ভারতের অবস্থা কেমন তা আপনারাই বলতে পারবেন)। আমরা নিজেরা নিজেরা এমন একটা প্যারাসাইটিক ব্যবস্থা তৈরি কইরা রাখছি যেইখানে প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে আমরা নিজেরাই নিজেদের সহ-নাগরিকদের দ্বারা ঠকছি আর ঠকাচ্ছি। সেই ক্ষেত্রে যেইসব সার্ভিস Credence goods এর পর্যায়ে পড়ে, অর্থাৎ যেইসব প্রডাক্টের ভ্যালু সম্পর্কে ভোক্তা সরাসরিভাবে আইডিয়া করতে পারে না, সেই বিষয়ের রিস্ক নিয়েও আইডিয়া করতে পারে না, এদিকে বিশ্বাসের অভাবে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটতেই থাকে। বাংলাদেশে এরকম বহু হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে গেছে গত কয়েক বছরে।

আরো বিস্তারিত জানতে Uwe Dulleck এবং Rudolph Kerschamber এর লেখা On Doctors, Mechanics, and Computer Specialists: The Economics of Credence Goods আর্টিকেলটি পড়া যেতে পারে -
https://drive.google.com/file/d/1HMcgHg-zuCwAGeDKep68ynrFO7WwTieV/view
?fbclid=IwAR3dJhpiy_znK5PM3yMX6_vlX0iacYXEna62o0vxE16uaTVbfhTGiOAZYVM


আরও কিছু কথা বলে যেতে চাই। সেটাও আমার নিজের দেশের থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতার আলোকেই। আমাদের যাপিত জীবনের সাথে সোমাটিক ওসিডি নামক মানসিক রোগটির Hyperaware state এর মিল আছে। ধরুন আপনি প্রতিদিন বিকালে হাঁটতে বের হন। এখন প্রতিদিন বিকালের হাটার মত একটা বিনাইন অ্যাক্টিভিটিও আপনার থেকে অত্যন্ত উচু মানের কগনিটিভ এফোর্ট ডিমান্ড করে। কোন কোন জায়গায় ফুটপাত কাটা, কোন জায়গায় রাস্তা কাটা। কোন খানে ফুটপাত দিয়ে মোটরবাইক চলে, কোন খানে হিজড়ারা এসে চাঁদাবাজি করছে। ফুটপাত যেখানে ব্লক সেখানে রাস্তা থেকে নামলে পাশ দিয়ে গাড়ি আর বাসের চিন্তা করা লাগে। এইরকমভাবে রাস্তা পার হওয়া, বাসে চড়া আর নামার মত কাজগুলাও এরকম ভাবে সদা সতর্ক সদা চিন্তিতভাবে করা লাগে। এছাড়াও স্বাস্থ্য সেবা পাওয়ার অধিকার, শিক্ষা আর কাজ করে খেয়ে পড়ে বাঁচার অধিকার, অপরাধের বিচার পাওয়ার অধিকার এসব যা কিছু যেকোন সভ্য দেশে বাই ডিফল্ট অটোম্যাটিক প্রসেস হিসাবে গ্রান্টেড ধরে নেওয়া হয় সে সব কিছু নিয়েই আমাদের চিন্তাশক্তির বড় একটা অংশই খরচ করতে হয়। এবং চিন্তা খরচ করার চিন্তাটাই আরো বড় চিন্তা হিসাবে আবির্ভূত হতে থাকে আমাদের কাছে। এটাকে হাইপারএওয়ার স্টেট বা অতিসচেতন অবস্থা বলব না তো কী বলব। সারা জীবনে যাপিত এই অনিশ্চয়তার ঘুরেফিরে আমাদের সোশ্যাল ট্রাস্ট, রিসিপ্রোসিটির মত সোশ্যাল ক্যাপিটাল এর অভাবের সাথেই সম্পর্কিত। এগুলোই দেখিয়ে দেয় সামাজিকভাবে আমরা কত দরিদ্র, আর এইসব হিংসাত্মক ঘটনা এই দারিদ্র্যেরই বহিঃপ্রকাশ।
Avatar: প্রতিভা সরকার

Re: জুনিয়র ডাক্তারদের ধর্মঘট ও সরকারের ভূমিকা

অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ভাবে ঘটনা পরম্পরা তুলে ধরা হয়েছে। সঙ্গে গভীর বিশ্লেষণ।
সিনিয়র ডাক্তারবাবুরা সমস্যার শেষ চান, কিন্তু মধ্যস্থতার জন্য যারা গেলেন তারা কেউ মিছিলে হাঁটেননি বা আন্দোলন কর্মসূচীতে অংশ নেননি। তাদের কে পাঠাল এই মধ্যস্থতায়? সব আন্দোলনেই এমত শুভাকাঙ্ক্ষীর ভিড় চোখে পড়ে। কর্তৃপক্ষ চাপড় দেবে এই আশায় পিঠ এগিয়ে দেবার চেষ্টা আর কী।
ডাক্তারবাবুকে ধন্যবাদ। উনি সবসময়ইই কোদালকে কোদাল বলতে জানেন।
লেখাটির নীচে মন্তব্য দুটিও খুব মূল্যবান। খুঁটিয়ে পড়ার মতো

Avatar: আনন্দবাজার, 17 June 2019

Re: জুনিয়র ডাক্তারদের ধর্মঘট ও সরকারের ভূমিকা

‘সার্জন হতে সমস্যা হবে না পরিবহের’

হয়তো আর কোনও দিন সার্জন হতে পারবেন না পরিবহ মুখোপাধ্যায়! সাঁতারও আর কাটা হবে না তাঁর! আক্রান্ত চিকিৎসক পরিবহকে নিয়ে এমনই নানা দাবি উঠছে এনআরএস হাসপাতালের আন্দোলন-মঞ্চ থেকে। যদিও পরিবহ যে হাসপাতালে ভর্তি, সেই ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তেমন কোনও ঝুঁকি তাঁরা দেখছেন না। সেখানকার মেডিক্যাল সুপার প্রসেনজিৎ বর্ধন রায় রবিবার বলেন, ‘‘আজ দুপুর দেড়টা পর্যন্ত আমি ছিলাম। পরিবহ ভালই রয়েছেন। স্বাভাবিক ভাবে কথা বলছেন। সাঁতার কাটতে বা সার্জন হতে তাঁর সমস্যা হওয়ার কথা নয়।’’

গত ছ’দিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যতম চর্চার বিষয় এনআরএস হাসপাতালে আক্রান্ত চিকিৎসক পরিবহের শারীরিক অবস্থা। অনেকেই দাবি করেছেন, পরিবহ সঙ্কটজনক অবস্থায় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেসে ভর্তি রয়েছেন। কেউ বলছেন, তিনি আলো সহ্য করতে পারছেন না। কারও আবার দাবি, পরিবহ সব ভুলতে বসেছেন। তাঁর স্মৃতিভ্রংশ হচ্ছে। শনিবার রাতে এনআরএসে আন্দোলনরত চিকিৎসকেরাও সাংবাদিক বৈঠক করে দাবি করেন, ‘‘পরিবহ হয়তো আর কখনও সার্জন হতে পারবেন না। সে ক্ষেত্রে এক জন সম্ভাবনাময় চিকিৎসককে হারাবে সমাজ। আর কখনও সাঁতার কাটতেও পারবেন না পরিবহ।’’ আন্দোলনকারীদের আরও দাবি, ‘‘পরিবহের শর্ট টার্ম মেমরি লস হচ্ছে।’’ পরিবহ দৃষ্টিশক্তি হারাচ্ছেন বলেও চিকিৎসকদের আন্দোলন থেকে দাবি করা হয়।

শনিবার দুপুরেই অবশ্য মল্লিকবাজারের ওই হাসপাতালে গিয়ে দেখা গিয়েছিল, হাঁটাচলা করতে পারছেন পরিবহ। এক ইন্টার্ন এবং আর এক বন্ধু তাঁর সঙ্গে থাকছেন হাসপাতালের ছ’তলার ৬১৯ নম্বর ঘরে। তাঁদের সঙ্গে গল্প করে সময় কাটছে তাঁর। ছিলেন পরিবহের জামাইবাবুও। জানা গিয়েছিল, ওই দিনই মুরগির মাংস খেয়েছেন তিনি। দইও খেতে দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। সন্ধ্যায় হাসপাতালেই তাঁর চুল কাটানোর ব্যবস্থা হয়। রাতে পরিবহের আন্দোলনরত সহপাঠীদের ওই দাবির পরে প্রশ্ন উঠেছিল, তবে কি ফের অবস্থার অবনতি হয়েছে তাঁর?

ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেসের সুপার অবশ্য বলেন, ‘‘রোগী তো ভালই আছেন। ওঁর কোনও সমস্যা তো আমার নজরে পড়েনি। ভাল ভাবেই কথা বলেছেন আমার সঙ্গে।’’

কিন্তু, পরিবহ যে দৃষ্টিশক্তি হারাচ্ছেন বলা হচ্ছে? প্রসেনজিৎবাবু বললেন, ‘‘রোগী এক বার বলেছিলেন, তাঁর দেখতে একটু সমস্যা হচ্ছে। সামান্য ঝাপসা লাগছে। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দু’জন চক্ষু চিকিৎসক ওঁকে দেখেছেন। ওঁরা খারাপ কিছু পাননি।’’ শোনা যাচ্ছে স্মৃতি হারাচ্ছেন পরিবহ..! থামিয়ে দিয়ে এ বার সুপার বলেন, ‘‘না না, সে রকম কিছু তো হচ্ছে না। আমার সঙ্গে তো ভালই কথা বললেন। বাকি ডাক্তারেরাও একই রিপোর্ট দিয়েছেন। সবই ঠিক আছে দেখলাম। আমরা খারাপ কিছু পাইনি।’’

প্রসেনজিৎবাবুর আরও দাবি, ‘‘পরিবহ মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন। সেই জায়গাটিকে আমরা রাইট ফ্রন্টাল রিজিয়ন বলি। ওই জায়গাটি তিন মাস পরে ফিলিং করে দেওয়া হবে। আপাতত আর কোনও সমস্যা নেই।’’
Avatar: Ekak

Re: জুনিয়র ডাক্তারদের ধর্মঘট ও সরকারের ভূমিকা

মীটিঙ্গ পরবর্তি , পুন্যব্রত বাবুর প্রতিক্রিয়া কী? একটা লেখা এলে ভালো হত।
Avatar: PT

Re: জুনিয়র ডাক্তারদের ধর্মঘট ও সরকারের ভূমিকা

পরিবহর জন্য শুভকামনা।
Avatar: pi

Re: জুনিয়র ডাক্তারদের ধর্মঘট ও সরকারের ভূমিকা

পুণ্যদা এটা লিখেছেন,

আজকে নবান্নের মিটিং এ জুনিয়র ডাক্তাররা যা করলেন
আমার সমস্ত বন্ধু হয়তো আমার পর্যবেক্ষণের সঙ্গে একমত হবেন না, কিন্তু আমি এদের জন্য গর্বিত বোধ করছি। নানান কলেজ থেকে 31 জন প্রতিনিধি, কদিন আগে অব্দি একে অন্যকে চিনতেন ও না। যেভাবে তারা শৃংখলাবদ্ধ ভাবে মুখ্যমন্ত্রী কে ফেস করলেন, তাতে যথেষ্ট মুনশিয়ানা আছে।
প্রতিনিধিদের মধ্যে ব্যক্তিগতভাবে আমি চিনতাম দুজনকে মেডিকেল কলেজের সায়ন্তন মুখুটি আর দুর্গাপুরের ইশা ঘোষ। 14 ই জুন একটি টিভি চ্যানেলের টকশোতে গিয়ে আলাপ হয়েছিল অর্চিষ্মান ভট্টাচার্যের সঙ্গে।
আমার মনে হয় যে যে সমস্যা গুলো মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তোলার দরকার ছিল সেগুলো ওরা তুলেছে। আমরা বড়রা হয়তো অন্যভাবে তুলতাম। ওরা ওদের মতো তুলেছে। মুখ্যমন্ত্রী ওদের তোলা কোন সমস্যা অস্বীকার করতে পারেননি।
মুখ্যমন্ত্রী অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেগুলো কার্যকর করতে প্রশাসনকে বাধ্য করতে আন্দোলন লাগবে সংগঠন লাগবে। আশির দশকের অল বেঙ্গল জুনিয়র ডাক্তার ফেডারেশন এর মতো কোন সংগঠন তোমরা গড়ে তুলতে পারো কিনা বিচার করে দেখো।
ডাক্তাররা পদবি দেখে চিকিৎসা করেন না এই কথাটা মুখ্যমন্ত্রী কে মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ অর্চিষ্মান কে।
অনেক ভালোবাসা সন্তান সম ভাই বোনেদের। পাশে আছি, পাশে থাকবো।
Avatar: pi

Re: জুনিয়র ডাক্তারদের ধর্মঘট ও সরকারের ভূমিকা

এটা জয়ন্তদা লিখেছেন,

হাসপাতাল প্রাথমিকভাবে রোগীদের জন্য। আজ কিন্তু রোগীদের কি কি জিনিস দরকার, পরিষেবার কি কি উন্নতি দরকার, সে নিয়ে কথা বলা হয় নি।
তার কারণ আজ ছিল দুবছর 200-300 ডাক্তারের ওপর আক্রমণের ঘটনায় পরিপ্রেক্ষিতে করা একটি মিটিং।
যদি ডাক্তাররা একটুও নিজের মতো করে কাজ করতে পারেন, নিরাপদে কাজ করতে পারেন, তাহলে ভবিষ্যতে রোগী এবং ডাক্তার এর তরফ থেকে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতির দাবি তুলতে হবে। তুলতেই হবে।
Avatar: মানিক

Re: জুনিয়র ডাক্তারদের ধর্মঘট ও সরকারের ভূমিকা

মমতা ডাক্তার বৈঠক নিয়ে বেশ কনফিউজড। নেটে একটা ডকু ঘুরে বেড়াচ্ছে, মমতার সাথে ডাক্তারদের বোঝাপড়ার দলিল বলে। তাতে ডাক্তারদের পক্ষ থেকে বারো দফা দাবীর কথা আছে। কিন্তু সেই বারো দফা দাবীসনদ কোথাও পাচ্ছি না
Avatar: PT

Re: জুনিয়র ডাক্তারদের ধর্মঘট ও সরকারের ভূমিকা

আম্মো এক্টু কন্ফিউজড। বৌকে মেরে ঝিকে (নাকি ঝিকে মেরে বৌকে) শেখানোর কি একটা প্রবাদ আছে না?
Avatar: sm

Re: জুনিয়র ডাক্তারদের ধর্মঘট ও সরকারের ভূমিকা

পেলে কি করবেন?


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন