স্বাতী রায় RSS feed

Swati Rayএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি
    স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি। আমি স্টার্ট-আপ কোম্পানিতে কাজ করছি ১৯৯৮ সাল থেকে। সিলিকন ভ্যালিতে। সময়ের একটা আন্দাজ দিতে বলি - গুগুল তখনও শুধু সিলিকন ভ্যালির আনাচে-কানাচে, ফেসবুকের নামগন্ধ নেই, ইয়াহুর বয়েস বছর চারেক, অ্যামাজনেরও বেশি দিন হয়নি। ...
  • মৃণাল সেন : এক উপেক্ষিত চলচ্চিত্রকার
    [আজ বের্টোল্ট ব্রেশট-এর মৃত্যুদিন। ভারতীয় চলচ্চিত্রে যিনি সার্থকভাবে প্রয়োগ করেছিলেন ব্রেশটিয় আঙ্গিক, সেই মৃণাল সেনকে নিয়ে একটি সামান্য লেখা।]ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কীভাবে যেন পরিচালক ত্রয়ী সত্যজিৎ-ঋত্বিক-মৃণাল এক বিন্দুতে এসে মিলিত হন। ১৯৫৫-তে মুক্তি ...
  • দময়ন্তীর সিজনস অব বিট্রেয়াল পড়ে
    পড়লাম সিজনস অব বিট্রেয়াল গুরুচন্ডা৯'র বই দময়ন্তীর সিজনস অব বিট্রেয়াল। বইটার সঙ্গে যেন তীব্র সমানুভবে জড়িয়ে গেলাম। প্রাককথনে প্রথম বাক্যেই লেখক বলেছেন বাঙাল বাড়ির দ্বিতীয় প্রজন্মের মেয়ে হিসেবে পার্টিশন শব্দটির সঙ্গে পরিচিতি জন্মাবধি। দেশভাগ কেতাবি ...
  • দুটি পাড়া, একটি বাড়ি
    পাশাপাশি দুই পাড়া - ভ-পাড়া আর প-পাড়া। জন্মলগ্ন থেকেই তাদের মধ্যে তুমুল টক্কর। দুই পাড়ার সীমানায় একখানি সাতমহলা বাহারী বাড়ি। তাতে ক-পরিবারের বাস। এরা সম্ভ্রান্ত, উচ্চশিক্ষিত। দুই পাড়ার সাথেই এদের মুখ মিষ্টি, কিন্তু নিজেদের এরা কোনো পাড়ারই অংশ মনে করে না। ...
  • পরিচিতির রাজনীতি: সন্তোষ রাণার কাছে যা শিখেছি
    দিলীপ ঘোষযখন স্কুলের গণ্ডি ছাড়াচ্ছি, সন্তোষ রাণা তখন বেশ শিহরণ জাগানাে নাম। গত ষাটের দশকের শেষার্ধ। সংবাদপত্র, সাময়িক পত্রিকা, রেডিও জুড়ে নকশালবাড়ির আন্দোলনের নানা নাম ছড়িয়ে পড়ছে আমাদের মধ্যে। বুঝি না বুঝি, পকেটে রেড বুক নিয়ে ঘােরাঘুরি ফ্যাশন হয়ে ...
  • দক্ষিণের কড়চা
    (টিপ্পনি : দক্ষিণের কথ্যভাষার অনেক শব্দ রয়েছে। না বুঝতে পারলে বলে দেব।)দক্ষিণের কড়চা▶️এখানে মেঘ ও ভূমি সঙ্গমরত ক্রীড়াময়। এখন ভূমি অনাবৃত মহিষের মতো সহস্রবাসনা, জলধারাস্নানে। সামাদভেড়ির এই ভাগে চিরহরিৎ বৃক্ষরাজি নুনের দিকে চুপিসারে এগিয়ে এসেছে যেন ...
  • জোড়াসাঁকো জংশন ও জেনএক্স রকেটপ্যাড-১৪
    তোমার সুরের ধারা ঝরে যেথায়...আসলে যে কোনও শিল্প উপভোগ করতে পারার একটা বিজ্ঞান আছে। কারণ যাবতীয় পারফর্মিং আর্টের প্রাসাদ পদার্থবিদ্যার সশক্ত স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে থাকে। পদার্থবিদ্যার শর্তগুলি পূরণ হলেই তবে মনন ও অনুভূতির পর্যায় শুরু হয়। যেমন কণ্ঠ বা যন্ত্র ...
  • উপনিবেশের পাঁচালি
    সাহেবের কাঁধে আছে পৃথিবীর দায়ভিন্নগ্রহ থেকে তাই আসেন ধরায়ঐশী শক্তি, অবতার, আয়ুধাদি সহসকলে দখলে নেয় দুরাচারী গ্রহমর্ত্যলোকে মানুষ যে স্বভাবে পীড়িতমূঢ়মতি, ধীরগতি, জীবিত না মৃতঠাহরই হবে না, তার কীসে উপশমসাহেবের দুইগালে দয়ার পশমঘোষণা দিলেন ওই অবোধের ...
  • ৪৬ হরিগঙ্গা বসাক রোড
    পুরোনো কথার আবাদ বড্ড জড়িয়ে রাখে। যেন রাহুর প্রেমে - অবিরাম শুধু আমি ছাড়া আর কিছু না রহিবে মনে। মনে তো কতো কিছুই আছে। সময় এবং আরো কত অনিবার্যকে কাটাতে সেইসব মনে থাকা লেখার শুরু খামখেয়ালে, তাও পাঁচ বছর হতে চললো। মাঝে ছেড়ে দেওয়ার পর কিছু ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ ...
  • কাশ্মীরের ভূ-রাজনৈতিক ইতিহাসঃ ১৯৩০ থেকে ১৯৯০
    ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের সূর্য অস্ত যায় ১৯৪৭ এ। মূল ভারত ভূখন্ড ভেঙে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি আলাদা রাষ্ট্র গঠিত হয়। কিন্তু ভুখন্ডের ভাগবাঁটোয়ারা সংক্রান্ত আলোচনচক্র ওতটাও সরল ছিল না। মূল দুই ভূখণ্ড ছাড়াও তখন আরও ৫৬২ টি করদরাজ্য ছিল। এগুলোতে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

ইফতার ওয়াক

স্বাতী রায়

#এ_কলকাতার_ভিতর_আছে_আরেকটা_কলকাতা
১লা জুন ২০১৯

ছোটবেলায় বিজাতীয় খানা বলতে মাঝে সাঝে ছপ্পর ফুঁড়কে মিলে যাওয়া সাবিরের রেজালা আর ফিরনি-ই মনে পড়ে। উত্তর কলকাতা থেকে মধ্য কলকাতায় পাড়ি দিয়ে সেই খেতে আসাটাই একটা বেশ বড় সড় ঘটনা ছিল তখন। অথচ কি অবাক কান্ড। তারই কাছে অলি-গলির পেটের মধ্যে সেঁধিয়ে আছে আরেক কলকাতা সেটা জানতে আমাকে দু-কুড়ি পাঁচেরও বেশি বছর পেরোতে হল। সৌজন্যে কুণাল বসু। কালকুত্তার দৌলতে চিনলাম এক অজানা পৃথিবী। মনে আছে বইটা পড়ে নরেন্দ্রনাথ মিত্রের লেখা প্রথম পড়ার সময় যে শিহরণ জাগত, প্রায় তেমনই লেগেছিল। সেও কয়েকবছর হল- সেই থেকে তক্কে তক্কে ছিলাম। সুযোগ মিলেছিল গত পূজার আগে - এক রবিবারের দুপুরে জীবনে প্রথমবার পা দিয়েছিলাম জ্যাকারিয়া স্ট্রীটে। মোড়ের মাথা থেকে হাঁটতে হাঁটতে গেলাম, সুফিয়াতে লাঞ্চ হল - খাবার ভাল, তবু হয়ত ভরদুপুর বলেই বোধহয় গোটা পাড়া ঘুমিয়ে ছিল। কুণালের জমজমাট জ্যাকারিয়া স্ট্রীট আমার চোখে ধরা দিল না।

তবে সে দুঃখ মিটল আজ। এবার রমজানের শুরু থেকেই কর্তা-গিন্নী মিলে প্ল্যান করছি একদিন বিকেলের দিকে জ্যাকারিয়া স্ট্রীটে যেতে হবে। বিভিন্ন ফুড ব্লগারদের দৌলতে খালি বিভিন্ন খাবারের নাম শুনছি আর ছবি দেখছি - ল্যাপটপে একটা স্টিকি নোটই ঝুলিয়ে ফেললাম, কোন দোকানের কি চেখে না দেখলে জীবন ষোল আনা-ই বৃথা। এমন সময়ে বন্ধুবর সৌমেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী আমাকে একটি ই-নেমন্তন্ন পাঠালেন - খাওয়া প্লাস গপ্প, পোশাকি নাম ইফতার ওয়াক, আয়োজনে It's In Asia -ব্যস আর পায় কে! ঝটপট নাম লিখিয়ে ফেললাম। পরের অভিজ্ঞতার জন্য সৌমেন্দ্রের পাওনা অনেক ধন্যবাদ।

এইখানে আরও একটা কথা বলা প্রয়োজন – কলকাতা মেট্রোপলিটন যতই কসমোপলিটান হোক না কেন, আমাদের বেশির ভাগ শহরতলীর মেয়েদেরই, বিশেষতঃ ৭০-৮০ র দশকে বেড়ে ওঠাটা খুব একটা বহুমাত্রিক নয়। কলেজজীবনে হোস্টেলের ছেলে-বন্ধুদের মুখে নাইট শোতে সিনেমা দেখার সঙ্গে সঙ্গে শুনতাম নিজামের কাবারের আর রোলের গল্প – সে শুধু আমার কাছে গল্পই থেকে গিয়েছিল অনেক কাল। এখন লোকে শুনলে হাসবে নিশ্চয়, আমিও হাসি, কিন্তু আমি জীবনের প্রথম বিরিয়ানি খেয়েছি ১৯৮৮-৮৯ সালে। তাও কিন্তু আমি বেশ ছোটবেলা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে টুরে বেরাই – মহম্মদ আলি পার্কের পুজো তো দেখছি ক্লাস এইট থেকে, জোড়াসাঁকোতে আসি-যাই – কিন্তু ওই কলুর বলদের মত, যে রাস্তাটুকু ধরে যাই, তার বাইরে সব ব্ল্যাকবক্স। অথচ বাগবাজার- শোভাবাজারের গলি-ঘুঁচি-মন্দির-গঙ্গার ঘাট বেশ হাতের তালুর মত চেনা – এখন ভাবতে অবাক লাগে, একটা অলিখিত সীমানা জারি ছিল কি কোথাও? তাই এই বয়সে এসে নতুন করে আবার কলকাতা চিনছি। বো-ব্যারাক, টেরিটিবাজার, মেটিয়াবুরুজ, চায়নাটাউন, বড়বাজার – কলকাতাসুন্দরীর হরেক রূপ।

জ্যাকারিয়া স্ট্রীটে যখন পা দিলাম, তখন থ পুরো! সেদিনের সেই ঘুমন্ত পুরী আজ যেন কোন সোনার কাঠির ছোঁয়ায় জেগে উঠেছে। রাস্তা জুড়ে রাশি রাশি দোকান - জামা কাপড়, খাবার দাবার কি নেই! আর ভিড় কি ভিড়! ডাঁই করা পসরা, তার ফাঁকে পায়ে চলার জায়গা মেলাই দুস্কর, তারই মাঝে বাইক সওয়ার ঢুকে পড়ছেন বীরদর্পে। বিকিকেনার আসল খরিদ্দারেরা তখনও তেমন পথে নামেন নি - ইফতারের সময় আজ সন্ধ্যে ৬ টা ১৭। ভাবতেই ভয় হচ্ছিল রাতের বেলা এখানে কি যে হবে! আমাদের চোখের সামনেই এক বাইক-ম্যানের সঙ্গে পথচারীর ধুম-ধাড়াক্কা লেগে গেল। আমরা পালিয়ে বাঁচলাম! জামাকাপড়, সাজগোজের জিনিশ কি নেই সেই সম্ভারে! তবে সবথেকে ভালো লাগল রাশি রাশি লুঙ্গির বাহার - কি যে সুন্দর সুন্দর ডিজাইনের - সাদার উপর কটকী কাজের গুলো আগে দেখলেও ধপধপে সাদা লুঙ্গির তলায় ইঞ্চিপাড়ে জরি - দেখলেই মন জুড়ায় আর কিনতে ইচ্ছে করে! কিন্তু বাড়ীতে কেই বা পরবে ! তাই জুল জুল করে দেখতে দেখতে চলে যেতে হল।

রয়্যাল ইন্ডিয়ান হোটেলের সামনে দেখা হল আমাদের সফরসঙ্গীদের সঙ্গে। আমাদের আজকের গল্পকথকের ভুমিকায় শুদ্ধব্রত দেব... গল্পের জাদুতে, বলার ভঙ্গিমায় হরিহর রায়ের উত্তর পুরুষ। জানালেন এই কলুটোলা, চিতপুর এসবই ধূসর কলকাতার অংশ। সাহেবরা আর বনেদী বাঙ্গালী হিন্দু বাবুরা যাঁদের দূরে ঠেলে দিল, তারা এসে ভিড় জমাল এই চত্ত্বরে। আরমেনিয়ান, পর্তুগীজ , অবাঙ্গালী মুসলমান, চীনারা সবাই মিলে মিশে এক্কাকার হয়ে গেল এই কলকাতার ধূসর পরিসরে। এখানে সাহেবপাড়ার ঐশ্বর্যের দম্ভ নেই, নেই বনেদী হিন্দুর আচারের শুদ্ধতা - যা আছে তা হল জীবনের বহমানতা, আর আছে দশটা সংস্কৃতিকে গিলে নিয়ে এক নতুন মিলে মিশে থাকার মন্ত্র আবিষ্কারের ধক. পকেটের মাপটা একটু কম, কিন্তু বেরাদরী কম নয় তাই বলে।
যাই হোক আজকের হন্টন খাদ্যের উৎস সন্ধানে, আমি তো আর মুখ্যমন্ত্রী নই- তাই আমাকে ইফতার করতে কেউ ডাকেও না – তাই এমনি নকল নকল ভাবেই ইফতারি খাদ্যের স্বাদ নেওয়ার চেষ্টা। খাদ্যের মধ্যে দিয়ে একটি সংস্কৃতিকে ধরার চেষ্টা। তাই মালেকাজান কন্যা গহরজানের চারতলা বাড়ী সেলিম মন্জিল বাইরে থেকে দেখে চক্ষু সার্থক করলাম. এরপর শুধু খাবার আর খাবার! ইফতার শুরুর ঘন্টা বাজল যখন তখন আমরা ঠিক নাখোদা মসজিদের সামনে. সামনেই এক দোকানে এক ভদ্রলোক একটি খেজুর তুলে মুখে দিলেন , তৃপ্তিতে চোখ বন্ধ হয়ে গেল. মনে পড়ে গেল লক্ষ্মীপুজোর দিনে সমস্ত দিন উপোষের পর জ্যেঠিমা উপোষভঙ্গ করছেন পাটপাতা ভেজান জল দিয়ে. এক ঢোকে জলটা খেয়ে তিতো বলে মুখ ভ্যাটকানো না, তৃপ্তিতে মুখ ভরে যেত - কোথায় আমার জ্যেঠিমা আর কোথায় এই ভদ্রলোক – কিন্তু সারাদিন নিরম্বু উপবাসের পরে খাবার মুখে দেওয়ার তৃপ্তিটুকু একই.

Taskeen এর পাশের রাস্তা দিয়ে আমরা চলে এলাম সুতি কাবাব খেতে. অবশ্য টাস্কিনের ভিড় উপচে রাস্তার দখল নিয়েছে. আমরা যাওয়ার সময়ই দেখেছি এখানে লোকে লোকারণ্য. তাই লিস্টিতে থাকা চিকেন চাংগেজীকে দূর থেকেই নমো করলাম. সোজা চলে এলাম,আলবেলা বিরিয়ানী তে. চোখের সামনে একটা একটা স্টিকে মিহি মাংসের প্রলেপ লাগিয়ে সুতো জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে. নিপুণ হাতের দক্ষতায় কাবাব তৈরী হল, সুতোর রং তখনো সাদা. পরোটায় জড়িয়ে মুখে দিলাম, আহা! শুনলাম. ইনি. ইউ পির লোক, সেখানকার ঘরানার এই কাবাব- বাকী যারা বানান তাঁরা বিহারী. তবে পরে আমরা আদমের কাবাবও খেলাম, সে কাবাব খাওয়ার জন্য কি বিশাল লাইন , তবু তার থেকে আমার ব্যক্তিগতভাবে আলবেলার কাবার বেশি ভাল লাগল. আদমের কাবাবে মশলা সামান্য একটু বেশি উচ্চকিত, তেল তেলে আর গোলমরিচে মাত্রা একটু বেশি - সে যেন তারা’র সা, জোরালো, দৃপ্ত তুলনায় আলবেলার কাবাব যেন কোমল রেখাব. একটু আবছা - কিন্তু মনভরানো.

কাবাব যখন তৈরী হচ্ছিল , তখন আমরা হালিম টেস্ট করলাম. হালিম খাদ্যটির সঙ্গে আমার কেমন লাভ-হেট রিলেসনশিপ. দঃ কলকাতার বেশির ভাগ জায়গার হালিমে আমার বড্ড উচ্চকিত মশলার স্বাদ লাগে, সেই সঙ্গে উৎকট ঝাল – যে খাবারে মশলারা মুখ বাড়িয়ে হাঁক ডাক করে জানান দেয়, সে খাবার আমার একদম না-পসন্দ. কাজেই সে সব নাকচ করে দেওয়ায় পর আপাততঃ পিস্তা হাউজের হায়দ্রাবাদী হালিমের স্বাদটি বেশ লাগছে. আমার স্বাদ বাবদে ভয়ানক খুঁতখুঁতে জিভে এই হালিম আবার কেমন লাগবে তা নিয়ে একটু সন্দেহ ছিল প্রথমে - কি্ন্তু দেখা গেল স্বাদটি বেশ. এটা কেনা নাখোদা মসজিদের জ্যাকারিয়া স্ট্রীটের দিকের গেটের উল্টোদিকের একটা দোকান থেকে, নাম দেখতে পাই নি.

কাবাব টাবাব খেয়ে চললাম দিলশাদ অভিমুখে. কিন্তু দিলশাদে না ঢুকে ঢোকা হল তার উল্টোদিকের গলিতে. সামনের দিকের কটা দোকান পেরিয়ে বাঁহাতে একটা নাম ছাড়া দোকান. এখানে আমাদের লক্ষ্য ক্ষীরি কাবাব আর কলিজা কাবাব সাঁটানো. কলিজা কাবাব তো নামেই মালুম , ক্ষীরি কাবাব কি জানতে হলে নেট ঘাঁটুন - এই বাজারে আমি সে সব বলে রাষ্ট্রদ্রোহী হতে চাই না. কি যে দারুণ খেতে. আর সব থেকে ভালো লাগল যে এদের সাইজ গুলো ছোট ছোট. টুক করে মুখে পোরার জন্য একদম আদর্শ. কিন্তু এঁর কাছে শুধু এক প্লেটই ক্ষীরি কাবাব ছিল, তাই আরো কাবাবের জন্য যাওয়া হল দিলশাদে, নেওয়া হল মালাই কাবাব আর ক্ষীরি কাবাব. তবে খেয়ে দেয়ে সবার মত আগের দোকানেরটাই অনেক ভালো. দিলশাদের মালাই কাবাবটা অবশ্য খুব ভালো - মুখে দিলেই মিলিয়ে যায় গোছের তুলতুলে.

এরই মধ্যে আমি হ্যাংলার মত চেয়ে চিন্তে জোগাড় করেছি মালাই - এক ভাঁড় মালাই , আর তাতে চিনি ছড়ানো - আঃ স্বর্গ যদি থাকে কোথাও এই ধরারই মাঝে, এই খানে তা, এই খানে তা, এই খানে তা রাজে!
আর একটা জিনিষের নাম না করলে অন্যায় হবে, সেটা হল ফালুদা. শুধু বছরের এই সময়ই মেলে এই দেবভোগ্য জিনিস. রুহ আফজার স্বাদ আমার ভাল লাগে না, কেমন যেন সিন্থেটিক লাগে, তাই বেশ ভয়ে ভয়ে মুখে দিলাম, কিন্তু খেয়ে পুরো ফিদা হয়ে গেলাম! অবশ্য আদমের দোকানের পাশে শেখ লিয়াকতের দোকানের করাচী হালুয়া আর আফলাতুনও বেশ খেতে.

ততক্ষণে আটটা বাজে. আমাদের মেয়াদ শেষ. খাবার ছাড়া আরেকটা জিনিস আজ সন্ধান করার ইচ্ছে ছিল, চিৎপুরের আতর -সে ইচ্ছে আজ মুলতুবি রাখলাম. বরং বিশ্ববাংলার এয়ার কন্ডিশনড দোকান থেকেই সে সওদা করা যাবে. আর পারা যাচ্ছে না! দুটি ঘন্টা ধরে ভিড়ের মধ্যে মারামারি করে আমরা ততক্ষণে মহা শ্রান্ত. কত লিটার যে ঘেমেছি তার ইয়ত্তা নেই. তবু শেষের চমকটা ভারী মনের মত. আদমের দোকান ছাড়িয়ে গলি পথ দিয়ে এঁকে বেঁকে চলেছি. পথে যেমন কাবারের দেকানও আছে, আছে শ্রীরামকৃষ্ণদেবের পদধূলিধন্য বাড়ীও. সেই সব দেখতে দেখতে এসে পৌঁছালাম ব্ল্যাকবার্ণ লেনে. এক চীনা রেস্টুরেন্টের সামনে. একটি আধো-ছায়া গলিতে চাইনিজ ল্যান্টার্ণে সাজানো একটা শান্ত সমাহিত রেস্টুরেন্ট. Sei Vui নাম। দেখলেই খাই খাই ইচ্ছে করে. হয়তো পরিবেশের প্রভাবেই সেখানে নো বীফ , নো পর্ক . পাশেই চীনাদের মন্দির, কম্যুনিটি হল।

এখান থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে টেরিটি বাজার. আমরা গেলাম আদি নানকিং রেস্টুরেন্টের সামনে. গল্প শুনলাম দিলীপ কুমার নাকি সায়রাবানুকে নিয়ে সকালের ফ্লাইটে কলকাতায় এসে নানকিংএ লাঞ্চ সেরে বিকেলের ফ্লাইটে বোম্বে ফিরতেন, সত্যি মিথ্যে জানি না বাপু, দিলীপ কুমার বা শায়রা বানু কেউই আমার এক গেলাসের ইয়ার না. আস্টেপৃষ্ঠে বন্ধ করা নানকিং হোটেলের বাড়ীর সামনে দাঁড়িয়ে একটু দীর্ঘশ্বাস পড়ল. আগেকার দিনের লেখায় পড়েছি এর নাম, আজ সে অতীত. হয়তো, কে বলতে পারে , আর কদিন বাদে এই গোটা জ্যাকারিয়া স্ট্রীটও অতীত হয়ে যাবে. তবু ওই সুতি কাবাব, ক্ষীরি কাবাব, কলিজা কাবারের স্বাদ থেকে যাবে মনে.

হয়ত হারিয়ে যাবে মালাই বাখরখানিও. জ্যাকারিয়া স্ট্রীটে পা দিয়েই সাততাড়াতাড়ি করে আগে ব্যাগে ঢুকিয়েছিলাম সেটা, পাছে পরে আর না মেলে - বাড়ি এসে মুখে দিয়েই সব ক্লান্তি উধাও – কর্তাগিন্নি দুজন মিলে কে বেশি বড় টুকরো নিল তা নিয়ে মারামারি করলাম - এ স্বাদের ভাগ হবে না! এ কিন্তু বাংলাদেশের মত অমন খাস্তা নয়, তবু কি যে ভালো খেতে! চারদিকে অবশ্য বেশ মাছি- টাছি উড়ছিল, ডাঁই করে রাখা খাবারের উপর তাদের লোভ – তবে ওসব নিয়ে ভাবলে কি আর খাওয়া যায়!

বাড়ি ফিরে এলাম ভরা পেট আর ফুরফুরে মন নিয়ে। অনেককিছু নতুন জিনিস জানলাম। সময়টা ভালো কাটল। জানি, এই ভাবে বাইরে থেকে দেখায় মানুষ, গোষ্ঠী চেনাজানা যায় না। সে চেষ্টাও করি নি। তবু যেটুকু ছবি পেলাম, তাই বা মন্দ কি! একদম শুরুতে আমরা রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে শুদ্ধব্রত বাবুর মুখে ইতিহাসের গল্প শুনছিলাম, পাশে একজন রাস্তার উপর প্লাস্টিক বিছিয়ে লুঙ্গি বেচছেন। খরিদ্দারের হাতে জিনিস তুলে দিচ্ছেন, কান দেখি এদিকে। দোকান ফাঁকা হতেই তিনি উঠে ছবি তুললেন। তারপর আমরা যখন হাঁটতে শুরু করলাম, তিনি এসে শুদ্ধব্রত বাবুর সঙ্গে হাত মেলালেন। বোঝা গেল, পুরো ব্যাপারটা বেশ তারিফ করছেন। এই একই তারিফদারী দেখলাম আরও কয়েকজনের মধ্যে – কেউ কেউ এগিয়ে এসে কথা বলে গেলেন। ভালো লাগল দেখে।

ব্যস, এই হল আমাদের ইফতার ওয়াকের গল্প।


884 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 9 -- 28
Avatar: স্বাতী রায়

Re: ইফতার ওয়াক

@রঞ্জন দিল্লির খবরটা জেনে বেশ ভালো লাগল। পরের বার দিল্লি গেলে একটা অমন ট্রিপে যেতে চেষ্টা করব। আমি আমেদাবাদে একটা হেরিটেজ ওয়াকে গিয়েছিলাম। সেখান থেকেই নেশাটা ধরে গেছে। একজন সুদক্ষ কান্ডারীর হাতে পড়লে , যিনি তথ্য আর গল্পের ঠিক ঠিক ব্যালান্সটা জানেন, বেড়ানটা জমে যায়। কলকাতাতেও এখন বিভিন্ন থিমের উপর এক একটা অঞ্চল ঘিরে প্রদর্শকের সঙ্গে হেঁটে হেঁটে ঘোরার কনসেপ্ট চালু হয়েছে, খুব জনপ্রিয় নয় যদিও। তবু হচ্ছে।

@syandi গরুর বাঁট থেকে। একটু কচকচে টেস্ট, ছোট্ট ছোট্ট টুকরো কাবাব।

যারা পড়লেন, সবাইকে ধন্যবাদ।
Avatar: রঞ্জন

Re: ইফতার ওয়াক

বেশ ফোটো।
হ্যাঁ, প্রোগ্রামটা 'হেরিটেজ ওয়াক', মনে পড়ল।
Avatar: saikat

Re: ইফতার ওয়াক

ফীয়ার্স লেন থেকে হঠকারিতায় নেমে যাই, টেরিটিবাজারের দিকে ? জে দাস লিখেছিলেন, সাতটি তারার তিমির-এ ? কলকাতার শিরা-উপশিরার মধ্যে মনে হয় চলে যেতেন, রাসবিহারি থেকে ট্রাম ধরে ধর্মতলায় নেমে, বেন্টিঙ্ক স্ট্রীটের পাশের রাস্তাটা, ফীয়ার্স লেন ধরতেন মনে হয় পায়ে হেঁটে, মধ্য কলকাতার ঐ teeming humanityকে দেখে নেওয়ার জন্য, আর শহরের নাভির মধ্যে ঢুকে যাওয়ার জন্য !! কলুটোলাও এসেছিল কি , ১৯৪৬-৪৭ কবিতাটায় ? কাবাব খেতে যেতেন, পাওয়া যেত তখন, নাকি শুধুই মানুষ দেখার জন্য। কবিকে চলে যেতে হবে শহরে-বন্দরে বলে নিজেই হাঁটা দিতেন ঐ সব অঞ্চলে ? ব্রাক্ষ মন্দিরের চেয়ে ঢের বেশী স্বছন্দ সেখানেই।
Avatar: বুঝভুম্বুল

Re: ইফতার ওয়াক

adams এর কাবাব রমজান এর সময় না, শীতকালে খেয়ে দেখবেন, ঘাম ছুটে যাবে। আমি নিজে সুতার চেয়ে বটি বেশী পছন্দ করি, তবে খুব সামান্যই করে, আর সঙ্গে সঙ্গেই শেষ হয়ে যায়। ওই গলি ধরেই এক্টু এগিয়ে যান, নাম ভুলে গেছি দোকানটার, খাসা ঘি চপচপে হালুয়া পাওয়া যায়। আর কোনভাবেই সকালের সুফিয়ার নেহারিটা মিস করবেন না, খানিক খাটনি যদিও, কারণ সকাল ৫.৩০ এ শুরু হয়, ঘন্টাখানেক থাকে খুবজোর, আমি পৌনে সাতটায় গিয়ে ফিরে এসেছি। পায়া নেহারিও পাওয়া যায়, তবে আমার নিজের খুব সুবিধের লাগেনি। আর নেহারি কিন্তু শুধুই শীতকালে পাবেন, মাস খানেক বা দেড়েক বড়জোর।

আর আদি নানকিং এ খাইনি, তবে তুং নাম এখনো টিকে আছে, না খেলে ঠকবেন, ছাতাওয়ালা গলির ঠিক সামনে, টেলিফোন অফিসের পাশ দিয়ে যে রাস্তা যাচ্ছে। খেয়েদেয়ে খাঁটি চীনে মশলা আর সসের দোকানে ঢুঁ মারুন, সম্ভবতঃ পৌ চং বা পৌ হিং, এমন কিছু নাম। তবে মেন রোডের টা না, তুং নামের পাশে ওদের আসল শোরুম, পকেট খালি আর থলি ভর্তি করে কিনে নিন, বাড়ী এসে রেঁধে ফেলুন।
Avatar: saikat

Re: ইফতার ওয়াক

আমার কোন ধারণাই ছিল না যে আজ ঈদের দিন, ঐ চত্বর এরকম পুরো বন্ধ থাকে ! বিকেলের দিকে, নাখোদা মসজিদের ভেতরে দু`চারজন লোক, রাস্তায় কিছু লোক, ছোট ছেলে সাদা পাজামি-পাঞ্জাবিতে হেঁটে বেড়াচ্ছে বা বসে আছে আশেপাশে। তাসকিন খোলা কিন্তু ফালুদা ছাড়া কিছু করেনি, আরো দু-তিনজন কমবয়সী ছেলে-মেয়ে, কাবাব না পেয়ে হতাশ, সামনের বছর তো এসব বন্ধ হয়ে যাবে এই বলে আলাউদ্দিনের মিষ্টির দোকানের দিকে, আমিও তাদের সাথেই। এগিয়ে একটা গলিতে একটি দোকানই খোলা, যা পাই তাই সই, রুটির সাথে সুতলি কাবাব, আলাউদ্দিনেও বত্রিশ হালুয়া, না সেও আজ শেষ, কাল পাওয়া যাবে। আমিনিয়া বন্ধ, রয়াল বন্ধ, ইভেন নিউ মার্কেট চত্বরেও অধিকাংশ দোকানও বন্ধ, উপরন্তু নাহুম্সও।
Avatar: dc

Re: ইফতার ওয়াক

আজ এক বন্ধু খাওয়ালো হালিম আর মটন বিরিয়ানি। সাথে ফির্নিও ছিলো, আমি খাইনি, অন্যরা খেয়েছে। ওহোহো কি স্বর্গীয় স্বাদ! এখনো মুখে লেগে আছে। আর এমন পেট ঠুসে খেয়েছি যে মনে হয় রাতে আর খেতে হবে না।
Avatar: শক্তি

Re: ইফতার ওয়াক

চমৎকার ।মনে হলো একসঙ্গেই ঘুরে এলাম ।
Avatar: স্বাতী রায়

Re: ইফতার ওয়াক

@বুঝভুম্বুল পরের দিনের টার্গেট সেট করে দিলেন যে !

নিহারী খেয়েছিলাম মেটিয়াবুরুজে , এক রাস্তার ধারের পুটকু দোকানে. নাম টাম কিচ্ছু মনে নেই. শুধু স্বাদটা লেগে আছে মুখে. নেহাত দোকান বলে অতিকষ্টে বাটি চাটাটা বাদ ছিল!
Avatar: শিবাংশু

Re: ইফতার ওয়াক

ভারি ভালো লাগলো। সৎ লেখা।
হায় হায়দরাবাদ, এই দিনটিতে তোমায় ভুলে থাকতে পারিনা....
Avatar: রুখসানা কাজল

Re: ইফতার ওয়াক

একবার আসত হবে মনে হচ্ছে।
আমরা কিন্তু ঘরে এতসব বানাই না। রেগুলার ইফতারে শরবত একেকদিন একেক রকমের, পেয়াজু, বেগুনী, আলু চপ, নার্গিস কাবাব, ছোলা ভুনা, মুড়ি, জিলাপি, মিক্সড শাকের বড়া, দই বড়া, খেজুর , নানারকমের সালাদ আর ফল থাকে। মাঝে মাঝে হালিম, বুন্দিয়া , শিক কাবাব , জালি কাবাব, আনা হয়।
Avatar: Ela

Re: ইফতার ওয়াক

আচ্ছা বহুদিনের একটা প্রশ্ন। এই যে ইফতারে ভাজাভুজি খাওয়ার প্রথা এটা কবে থেকে শুরু হল ও কেন। মানে সারাদিন উপোস করে থেকে ভাজাভুজি খাওয়া তো খুব একটা স্বাস্থ্যকর মনে হয় না। এগুলো কি আমজনতার জন্য কাবাবের রিপ্লেসমেন্ট? না কি অন্য কোন প্রথা থেকে এসেছে?
Avatar: তন্বী হালদার

Re: ইফতার ওয়াক

মাঙস খাইনা। তাই ও রস বলতে পারবো না। মৎস্য প্রেমিকা। তবে ঐ যে মালাই ফিরনি আহা, আহা মন না না জিভে জল আনলো।
Avatar: তন্বী হালদার

Re: ইফতার ওয়াক

মাঙস খাইনা। তাই ও রস বলতে পারবো না। মৎস্য প্রেমিকা। তবে ঐ যে মালাই ফিরনি আহা, আহা মন না না জিভে জল আনলো।
Avatar: Du

Re: ইফতার ওয়াক

Avatar: খ

Re: ইফতার ওয়াক

আমার যেটা মোটামুটি অবসার্ভেশন, ইফতারে কি খাওয়া হবে সেটা এন্টায়ারলি রেস্ত, ভূগোল স্থানীয় য় বা পারিবারিক সংস্কৃতির উপ‍রে নির্ভরশীল। গ্রামীণ বাংলায় দরিদ্র পরিবারের কাবাব কল্পনার অতীত, তেলেভাজা সহ এটা ওটা খান লোকজন।শহরে দরিদ্র পরিবারেও তাই। ফল খাওয়া র একটা চল আছে। আমি টার্কিশ বা প‍্যালেস্টাইন এর পরিবারে প্রচুর নিরামিষ খাওয়া দেখেছি। ফালাফল ইত্যাদি।তবে পাকিস্তা নি যে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল, তারা বোষ্টম টাইপের তাদের দিয়ে কিসু বোঝা মুশকিল। বীরভূমে তেলে ভাজা ফল এসব ই দেখেছি।
Avatar: খ

Re: ইফতার ওয়াক

বিরিয়ানি জিনিস টা কলকাতার বাইরে আ্যকচুয়ালি দেখিনি, মানে হালে ছাড়া।
Avatar: খ

Re: ইফতার ওয়াক

ইদ টা পারিবারিক অনুষ্ঠান, সেদিন এলাকা ফাকা ই থাকে, আগের দু সপ্তাহ মেলা। জাকারিয়া স্ট্রিট এ।
Avatar: খ

Re: ইফতার ওয়াক

এই ট্রিপ টা কি সাবির দে্য নো ইয়োর নেবার ওয়াক টা? এটা আমি ও কয়েক বার করেছি, আ্যমেজিং, আমার কবশ‍্য একা ঘুরতেই ভালো লাগে।
Avatar: Ela

Re: ইফতার ওয়াক

খ, ধন্যবাদ। আমারও তাই মনে হয়, তেলেভাজা গরীবের কাবাব এখানে।

ইউনিভার্সিটিতে থাকতে ইফতারের বড় চমতকার নেমন্তন্ন খেয়েছি, সেও ঐ তেলেভাজা, ফল, ছোলাসেদ্ধ-ভাজা, শরবত।
Avatar: স্বাতী রায়

Re: ইফতার ওয়াক

@খ এই ট্রিপটা ইটস্ ইন এশিয়ার করানো.

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 9 -- 28


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন