Samrat Amin RSS feed

Samrat Aminএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি
    স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি। আমি স্টার্ট-আপ কোম্পানিতে কাজ করছি ১৯৯৮ সাল থেকে। সিলিকন ভ্যালিতে। সময়ের একটা আন্দাজ দিতে বলি - গুগুল তখনও শুধু সিলিকন ভ্যালির আনাচে-কানাচে, ফেসবুকের নামগন্ধ নেই, ইয়াহুর বয়েস বছর চারেক, অ্যামাজনেরও বেশি দিন হয়নি। ...
  • মৃণাল সেন : এক উপেক্ষিত চলচ্চিত্রকার
    [আজ বের্টোল্ট ব্রেশট-এর মৃত্যুদিন। ভারতীয় চলচ্চিত্রে যিনি সার্থকভাবে প্রয়োগ করেছিলেন ব্রেশটিয় আঙ্গিক, সেই মৃণাল সেনকে নিয়ে একটি সামান্য লেখা।]ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কীভাবে যেন পরিচালক ত্রয়ী সত্যজিৎ-ঋত্বিক-মৃণাল এক বিন্দুতে এসে মিলিত হন। ১৯৫৫-তে মুক্তি ...
  • দময়ন্তীর সিজনস অব বিট্রেয়াল পড়ে
    পড়লাম সিজনস অব বিট্রেয়াল গুরুচন্ডা৯'র বই দময়ন্তীর সিজনস অব বিট্রেয়াল। বইটার সঙ্গে যেন তীব্র সমানুভবে জড়িয়ে গেলাম। প্রাককথনে প্রথম বাক্যেই লেখক বলেছেন বাঙাল বাড়ির দ্বিতীয় প্রজন্মের মেয়ে হিসেবে পার্টিশন শব্দটির সঙ্গে পরিচিতি জন্মাবধি। দেশভাগ কেতাবি ...
  • দুটি পাড়া, একটি বাড়ি
    পাশাপাশি দুই পাড়া - ভ-পাড়া আর প-পাড়া। জন্মলগ্ন থেকেই তাদের মধ্যে তুমুল টক্কর। দুই পাড়ার সীমানায় একখানি সাতমহলা বাহারী বাড়ি। তাতে ক-পরিবারের বাস। এরা সম্ভ্রান্ত, উচ্চশিক্ষিত। দুই পাড়ার সাথেই এদের মুখ মিষ্টি, কিন্তু নিজেদের এরা কোনো পাড়ারই অংশ মনে করে না। ...
  • পরিচিতির রাজনীতি: সন্তোষ রাণার কাছে যা শিখেছি
    দিলীপ ঘোষযখন স্কুলের গণ্ডি ছাড়াচ্ছি, সন্তোষ রাণা তখন বেশ শিহরণ জাগানাে নাম। গত ষাটের দশকের শেষার্ধ। সংবাদপত্র, সাময়িক পত্রিকা, রেডিও জুড়ে নকশালবাড়ির আন্দোলনের নানা নাম ছড়িয়ে পড়ছে আমাদের মধ্যে। বুঝি না বুঝি, পকেটে রেড বুক নিয়ে ঘােরাঘুরি ফ্যাশন হয়ে ...
  • দক্ষিণের কড়চা
    (টিপ্পনি : দক্ষিণের কথ্যভাষার অনেক শব্দ রয়েছে। না বুঝতে পারলে বলে দেব।)দক্ষিণের কড়চা▶️এখানে মেঘ ও ভূমি সঙ্গমরত ক্রীড়াময়। এখন ভূমি অনাবৃত মহিষের মতো সহস্রবাসনা, জলধারাস্নানে। সামাদভেড়ির এই ভাগে চিরহরিৎ বৃক্ষরাজি নুনের দিকে চুপিসারে এগিয়ে এসেছে যেন ...
  • জোড়াসাঁকো জংশন ও জেনএক্স রকেটপ্যাড-১৪
    তোমার সুরের ধারা ঝরে যেথায়...আসলে যে কোনও শিল্প উপভোগ করতে পারার একটা বিজ্ঞান আছে। কারণ যাবতীয় পারফর্মিং আর্টের প্রাসাদ পদার্থবিদ্যার সশক্ত স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে থাকে। পদার্থবিদ্যার শর্তগুলি পূরণ হলেই তবে মনন ও অনুভূতির পর্যায় শুরু হয়। যেমন কণ্ঠ বা যন্ত্র ...
  • উপনিবেশের পাঁচালি
    সাহেবের কাঁধে আছে পৃথিবীর দায়ভিন্নগ্রহ থেকে তাই আসেন ধরায়ঐশী শক্তি, অবতার, আয়ুধাদি সহসকলে দখলে নেয় দুরাচারী গ্রহমর্ত্যলোকে মানুষ যে স্বভাবে পীড়িতমূঢ়মতি, ধীরগতি, জীবিত না মৃতঠাহরই হবে না, তার কীসে উপশমসাহেবের দুইগালে দয়ার পশমঘোষণা দিলেন ওই অবোধের ...
  • ৪৬ হরিগঙ্গা বসাক রোড
    পুরোনো কথার আবাদ বড্ড জড়িয়ে রাখে। যেন রাহুর প্রেমে - অবিরাম শুধু আমি ছাড়া আর কিছু না রহিবে মনে। মনে তো কতো কিছুই আছে। সময় এবং আরো কত অনিবার্যকে কাটাতে সেইসব মনে থাকা লেখার শুরু খামখেয়ালে, তাও পাঁচ বছর হতে চললো। মাঝে ছেড়ে দেওয়ার পর কিছু ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ ...
  • কাশ্মীরের ভূ-রাজনৈতিক ইতিহাসঃ ১৯৩০ থেকে ১৯৯০
    ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের সূর্য অস্ত যায় ১৯৪৭ এ। মূল ভারত ভূখন্ড ভেঙে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি আলাদা রাষ্ট্র গঠিত হয়। কিন্তু ভুখন্ডের ভাগবাঁটোয়ারা সংক্রান্ত আলোচনচক্র ওতটাও সরল ছিল না। মূল দুই ভূখণ্ড ছাড়াও তখন আরও ৫৬২ টি করদরাজ্য ছিল। এগুলোতে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

হিন্দী আগ্রাসনের প্রেক্ষিতঃ দেশ, রাষ্ট্র ও ভাষা

Samrat Amin

ফেব্রুয়ারী মাস প্রেমের মাস, ভাষারও মাস । শুধুই প্রেমের কুহুতান নয়, "অমর একুশে" ডাক দেয় এ মাসেই । আমার ভায়ের রক্তে রেঙে লাল হয়েছে ঢাকার রাজপথ, অমর একুশেই । হোক না পদ্মার ওপারের গল্প, তবুও বরকতরা তো আমারই ভাই, আমারই রক্ত । যে ভাষার জন্য তাদের আন্দোলন সেটা আমারই মায়ের ভাষা, যে সংস্কৃতির জন্য তাদের লড়াই সেটা আমারই সংস্কৃতি । অনেক লম্বা সে প্রেক্ষাপট । স্বাধীনতা-উত্তর দূর্বল রাষ্ট্রীয় কাঠামো নিয়ে গঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্র (পশ্চিম পাকিস্তান) চেয়েছিল "পূর্ব পাকিস্তানের" উপর সাংস্কৃতিক আধিপত্য বজায় রাখতে । উর্দু ভাষা ও উর্দু কেন্দ্রিক সংস্কৃতি বাংলা ও বাঙালী সমাজজীবনে চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল ক্ষমতালোলুপ পাকিস্তান রাষ্ট্র । রাষ্ট্রভাষা হিসাবে উর্দুকে মেনে নেয় নি বরকত রফিকের মতো স্বাধীনচেতা নির্ভিক আত্মমর্যাদাসম্পন্ন তরতাজা যুককেরা । সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে রক্ত দিয়ে । সেদিনের প্রতিরোধ যদি ঢাল হয়ে রুখে না দাঁড়াত তাহলে উর্দু ভাষা ও সাংস্কৃতির খোলসে রাষ্ট্রীয় থাবা বাংলাদেশকে পিষে দিত ।

রাষ্ট্রের (State) সঙ্গে দেশের (Nation) এ লড়াই চিরন্তন । এমন হাজারো লড়াইয়ের সাক্ষ্য বহন করে ইতিহাস । আন্তর্জাতিক রাজনীতির ইতিহাস ভূগোল ঘাঁটলে ছত্রে ছত্রে পাবেন দৃষ্টান্ত । এমনকি মানচিত্র থেকে আমাদের ভারত নামক রাষ্ট্রও বাদ নেই । যখন বলা হয় "বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য", তখন ভারতবর্ষের মধ্যেই অজস্র খন্ড ভারতের জাতিগত ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব স্বীকার করে নেওয়া হয় । বহু ভাষাভাষীর মিলনমেলা এই ভারতবর্ষ, যা কোনভাবেই একমাত্রিক বা একস্তরীয় নয় । যেমন বাংলা, তামিল, মারাঠী বা অন্য জাতি রাষ্ট্রীয় অখন্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ঐকান্তিকভাবে নিজ নিজ জাতিগত ও সাংস্কৃতিক পরিচিতি নিয়ে আত্মনিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে, ভারতবর্ষের নীতিগত দর্শন এটাই । কিন্তু বহুমাত্রিক ভারতবর্ষকে যদি একটি বিশেষ ভাষা ও সংস্কৃতির ছাঁচে ঢেলে একবগগা দেশ হিসাবে গড়ে তুলতে চাই ক্ষমতাবান রাষ্ট্র, তখনই নেমে আসে বিপদ, জাতির অস্তিত্বের সংকট ।

বাঙালী হিসাবে আমরা এই বিপদের সম্মুখীন । আর বিপদের অভিসম্পাত যদি রাষ্ট্রীয় মদতে নেমে আসে তবে আরও চিন্তার বিষয় । তাই সময়ের দাবি রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট হিন্দি আগ্রাসন রুখে দেওয়ার । আপনি যখন দেখছেন যে আপনার এলাকার রাস্তার মাইলষ্টোনের লেখা গুলো হঠাৎ বাংলা থেকে হিন্দিতে বদলে যাচ্ছে, যখন দেখছেন নোটবন্দীর পর ৫০০ টাকার নোটে হঠাৎ দেবনাগরি হরফের ব্যবহার শুর হচ্ছে, যখন দেখছেন আপনার এলাকার কেন্দ্রীয় সরকারী দপ্তর বা ব্যাঙ্কিং সেক্টরে হিন্দীভাষীদের দাপাদাপি শুরু হচ্ছে, যখন দেখছেন "জয় মা কালী"র থেকে "জয় শ্রীরাম" বেশি বার উচ্চারিত হচ্ছে, যখন দেখছেন শাক্তদেবির আরাধনার বদলে "রাম নবমী" নিয়ে বেশি হইচই হচ্ছে, যখন দেখছেন সুফীবাদের উদার আধ্যাত্মিকতা পিষে যাচ্ছে ওয়াহাবি-সালাফি কট্টরপন্থায়, যখন দেখছেন কেন্দ্রীয় সরকারী চাকরির পরীক্ষায় ইংরেজীর সঙ্গে হিন্দি ভাষায় প্রশ্নপত্র প্রদানের রীতি শুরু হচ্ছে, যখন দেখছেন বাংলার শহর কোলকাতা বা আসানসোলে হিন্দি ভাষায় কথোপকথনের একমাত্র মাধ্যম হয়ে উঠছে, যখন দেখছেন আপনার এলাকার কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে হিন্দি আছে কিন্তু আপনার ভাষা বাংলা নেই, তখন বুঝে নিতে অসুবিধা হয় না অন্য একটি ভাষাকেন্দ্রিক সংস্কৃতি মানে হিন্দি বাংলার ঘাড়ের উপর নিঃশ্বাস ফেলছে ।

চোখ কান খোলা থাকলে হিন্দি আগ্রাসনের পদচিহ্ন ঠাওর করা যায় । অনেকে ভাবতে পারেন, হিন্দি তো ভারতের "রাষ্ট্রভাষা" তাই এগুলো নিয়ে আপত্তি তোলার কিছু নেই । এই ভুল ভাবনাটা একটা বড় অংশের বাঙালীর মাথায় আছে । হিন্দি কোনকালেই ভারতের রাষ্ট্রভাষা ছিল না, আজও নেই। তাহলে এই ভাষাটিকে আমরা "রাষ্ট্রভাষা" জ্ঞান করতে লাগলাম কবে থেকে ? হ্যাঁ, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অবশ্যই আছে । স্বাধীনতার পূর্বে হিন্দিভাষী নেতানেতৃরা হিন্দিকে রাষ্ট্রভাষা বানানোর জন্য উঠেপড়ে লেগেছিলেন, পারেন নি । কারন এর বিপরীতে যুযুধান ছিল উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা বানানোর ভাষ্য । প্রসঙ্গত উল্লেখ্য হিন্দি হিন্দুদের ভাষা ও উর্দু মুসলিমদের ভাষা এই বিভেদবোধ ইংরেজরাই তৈরি করেছিল । ফোর্ট উইলিয়ম কলেজে হিন্দু ছাত্রদের দেবনাগরী হরফে হিন্দি ভাষায় আর মুসলিম ছাত্রদের ফারসী হরফে উর্দু ভাষায় রিডিং মেটেরিয়ালস দেওয়া হত । কারনটা খুবই স্পষ্ট, বিভেদের প্রাচীর তৈরি করা । যাই হোক, দ্বন্দ নিস্পত্তির জন্য কিছু ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদী নেতা এই দুই ভাষার মিশ্রণে "হিন্দুস্তানী" নামক এক ভাষাকে "রাষ্টভাষা" হিসাবে প্রমোট করার চেষ্টা করেন । এই ভাষায় বোম্বে ফিল্ম ইন্ডাষ্ট্রিতে দু-তিনটে সিনেমাও রয়েছে বলে শোনা যায় । কিন্তু বলিউডকে ব্যবহার করেও ভাষাটি কল্কে পায় নি । এর অন্য একটি কারন হল দেশ ভাগের পর উর্দুকে পাকিস্তান রাষ্ট্র হাইজ্যাক করে নিয়ে চলে গেল, হিন্দীর জন্য পড়ে রইল ফাঁকা মাঠ । অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেল হিন্দুস্তানী ।
ভারত স্বাধীন হওয়ার পর হিন্দিভাষী নেতানেতৃরা ভেবেছিলেন অনায়াসেই হিন্দিকে অহিন্দিভাষীদের উপর চাপিয়ে দিতে পারবেন । দেশের সংবিধান রচিত হওয়ার পর হিন্দিকে রাষ্ট্রভাষা বানানোর তোড়জোড় শুরু হল । কিন্তু কয়েকটা মাত্র রাজ্যের প্রাদেশিক ভাষাকে "রাষ্ট্রভাষা" বানাতে গেলে গোটা দেশের নিরিখে সমাজ ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ভাষা হতে হবে, কিন্তু উত্তর ভারত ছাড়া হিন্দির ব্যবহার ছিল না । তাছাড়া দক্ষিন ভারতের দ্রাবিড়ীয় ভাষাগোষ্ঠীর মানুষদের প্রতিবাদের ভাষ্য ছিল যথেষ্ট কড়া । তাঁরা নিজস্ব ভাষার পাশাপাশি ইংরাজিতে সড়গড় ছিল, কিন্তু হিন্দি তাদের অপছন্দের ভাষা । এমতাবস্থায় দরকার ছিল ভারতের বিভিন্ন জাতি ভাষা পরিচিতির মানুষদের সমাজ ও ব্যবহারিক জীবনে হিন্দিকে ছড়িয়ে দেওয়া। অলিখিতভাবে হিন্দিকে ভারতের "লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা" বানানোর উদ্যোগ নেওয়া হল, তার জন্য নির্ধারিত হল ১৫ বছর সময়।

পাকিস্তান রাষ্ট্র বলপূর্বক বাংলাদেশের উপর উর্দু চাপানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্ত ভারত রাষ্ট্র সেই একই কাজ শুরু করেছিল জনসাধারনের অনুমতিক্রমে এবং এই অনুমুতি ছিল আইডিওলজিক্যাল এবং ম্যানিপুলেটেড । মানে চয়েস দেওয়া হয়েছে ঠিকই, কিন্তু অপশন একটাই, এরকম একটা ব্যপার । রাষ্ট্র জানত যে জোরপূর্বক অহিন্দিভাষীদের হিন্দি গেলানো যাবে না, আদর করে মাথায় হাত বুলিয়ে গেলাতে হবে । পপুলার মিডিয়া হিসাবে বোম্বে ফিল্ম বিনোদন জগতকে তোল্লায় দেওয়ার কাজ শুরু হল। ১৯৪০ থেকে ১৯৬০ এই সময়টা বোম্বে ফিল্ম জগতের স্বর্ণযুগ । মারাঠাদের রাজ্যে মারাঠাদের শহর বোম্বেতে একটি হিন্দিভাষাকেন্দ্রিক বিনোদন জগৎ এভাবে ফুলেফেঁপে উঠল কাদের পৃষ্ঠপোষকতায় এটা আমাদের অনেক আগেই ভাবা উচিৎ ছিল । এটা ঠিক যে এসম্পর্কীয় কোন প্রমানস্বরুপ তথ্য নেই কিন্তু ব্যক ক্যালকুলেশন করলে অঙ্কটা খাপে খাপ মিলে যায় ।

অল ইন্ডিয়া রেডিওতে হিন্দি ভাষায় সম্প্রচার, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির হিন্দিতে দেওয়া বয়ান, কেবল হিন্দিতে লেখা দেশাত্মবোধক গানগুলো জাতীয় ক্ষেত্রে প্রমোট করা, হিন্দিতে জাতীয় ধ্বনী, বাংলায় লেখা জাতীয় সঙ্গীতের হিন্দিকরন সবই হিন্দিকে "লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা" বানানোর যে রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা তারই অঙ্গ । "কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় সংগঠন" গঠনের প্রসঙ্গটাও আনা যায় । এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হাজারের উপর কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়, মাধ্যম ইংরাজি, এবং দ্বিতীয় ভাষা হিসাবে কেবল হিন্দি, অন্য ভাষার জায়গা নেই । মানে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়টা আপনার নিজের এলাকায় হলেও বাংলা ভাষা চর্চা সেখানে নাজায়েজ । কিন্তু এতসব কিছু করেও রাষ্ট্র সংবিধান প্রণয়নের ১৫ বছর হতে চললেও অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে নি । তড়িঘড়ি ১৯৬৩ তে সংসদে "অফিসিয়াল ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যাক্ট" পাস হয় । হিন্দি এবং ইংরাজীকে দাপ্তরিক ভাষার স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং সরকারিভাবে নীতি গৃহিত হয় যে বিদেশী ভাষা ইংরেজির ব্যবহার ধীরে ধীরে কমিয়ে পুরোপুরিভাবে হিন্দি কায়েম করা হবে । এই দাপ্তরিক ভাষা হিসাবে হিন্দির স্বীকৃতিটাই আমাদের ভ্রান্ত ধারনায় জারিত হয়ে "রাষ্ট্রভাষা" হয়ে গেছে । ১৯৬৫ তে এই আইন লাগু হলে উদ্বিগ্ন হয়ে প্রতিবাদে ফেটে পড়ে তামিল নাড়ুর কলেজপড়ুয়ারা, অনেকে আত্মাহুতি দেন । হিন্দির দালালি তারা মেনে নেয় নি। এমন নাছোড়বান্দা আন্দোলন তাদের ভাষিক জাতীয়তাবাদী চেতনার বহিঃপ্রকাশ ।

এহেন প্রতিবাদের জেরে কিছুটা পিছু হটে রাষ্ট্র । তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রী ঘোষনা দেন যে ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগন যতদিন চাইবে ততদিন ইংরাজি দাপ্তরিক ভাষা হিসাবে টিকে থাকবে । কিন্তু আদতে পর্দার আড়ালে অহিন্দিভাষীদের উপর হিন্দি চাপানোর নীতি থেকে সরেনি রাষ্ট্র । তার জলন্ত প্রমান ১৯৬৮ সালের "ত্রিভাষা সুত্র" নীতি । এই নীতি অনুযায়ী বিদ্যালয় পরিসরে আঞ্চলিক ক্ষেত্রে নিজ ভাষা, জাতীয় ক্ষেত্রে হিন্দি এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইংরাজি ভাষা, সর্বমোট তিনটি ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক । এই নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদস্বরুপ ব্যঙ্গ করে তামিল নাড়ুর তৎকালীন মূখ্যমন্ত্রী সিএন আন্নাদুরাই বললেন --- " জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে দুটি আলাদা আলাদা ভাষার জন্য তদবির করার অর্থ হল দেওয়ালে বেড়াল বার করার জন্য একটা বড় ফুটো রাখা আছে, তবুও আবার ইঁদুরের জন্য আর একটা ছোট ফুটো করা হল, কিন্তু বেড়ালের জন্য রাখা বড় ফুটোতেই তো দুটো কাজ হয়, তাহলে আবার ছোট ফুটো করা কেন ?" ত্রিভাষা সুত্রকে এভাবেই তামিল ও তেলেগু মানুষজন ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছিল ।

অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন দেশীয় ভাষা হিন্দির থেকেও কি বিদেশী ভাষা ইংরাজী আপন যে তার জন্য ওকালতি করতে হবে ? কিন্তু প্রশ্নটা "আপন-পর" এর নয়, যৌক্তিক বুদ্ধির । কেউ মানুক আর না মানুক, ইংরাজি এখন গ্লোবাল ল্যাঙ্গুয়েজ, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিরুদ্ধশূন্য অপ্রতিদ্বন্দ্বী "লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা" । এটা বিগত দুই শতকের প্রায় বিশ্বজোড়া ঔপোনিবেশিক ইংরেজ শাসনের ফসল । তাই বাস্তববোধ বলে ভারতের কোন ভাষাকেই এই পর্যায়ে উন্নীত করা প্রায় অসম্ভব । ইংরাজী ভাষা ও সাহিত্য বহগুনে সমৃদ্ধ, বিশ্বজোড়া কদর । কম্পিউটার ইন্টারনেটের যুগে ভাষাটি না শিখতে চাওয়া মানে প্রভূত সাহিত্যরস এবং বিজ্ঞানভিত্তিক ও সমাজতাত্ত্বিক বৃহৎ জ্ঞানভান্ডার থেকে নিজেকে বঞ্চিত রাখা । কিন্তু হিন্দির সেই লেভেলের ষ্টেটাস নেই, তুলনায় বাংলা ভাষার মাধূর্য এবং শব্দনির্মান ক্ষমতা ও গঠন কাঠামো হিন্দির থেকে উন্নত । বাংলা সাহিত্যেও হিন্দি সাহিত্যের থেকে কয়েক যোজন এগিয়ে । আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইংরাজি শেখাটা যখন আবশ্যিকতা, তখন জাতীয় স্তরে ভাষাটি থেকে গেলে অতিরিক্ত একটি অপ্রয়োজনীয় ভাষা শিক্ষার চাপ থাকে না। অন্যদিকে জাতির জাতীয় ও সাংস্কৃতিক সত্ত্বাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য তার নিজের মায়ের ভাষা তো থাকছেই ।

পরিশেষে একটা কথা বলার । কোন ব্যাক্তিবিশেষ হিন্দিভাষীর বিরুদ্ধে বিষোদ্গারের জায়গা থেকে নয়, বরং হিন্দি আগ্রাসন সম্পর্কিত বাঙালী জাতির সচেতনতা ও সেটাকে শুধু ঠেকানোর কথা বলেছি । হিন্দিও একটা জনগোষ্ঠীর মায়ের ভাষা, হিন্দিকে ঘিরেও একটা অংশের মানুষের আবেগ জড়িয়ে আছে । এই জায়গাতে ভাষার চরিত্রটি নিরীহ । কিন্তু সাংস্কৃতিক আধিপত্য কায়েমের জন্য রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত হলে সেই নিরীহ ভাষাটিই হিংস্র হয়ে যায় । যাকে তাত্ত্বিকরা "ভাষাসন্ত্রাস" বলেন । ভাষা নদীর মতো । সময়ের সাথে সাথে নিজের চলার পথে অনেক কিছুকে নিজের করে নেয় । কিন্তু জোর করে সে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করতে চাইলে ফল মারাত্মক । তেমনি ভাষা একটি জাতির সংস্কৃতির আধার । ভাষার উপর কোপ পড়লে সাংস্কৃতিক শোষনের পথ প্রশস্থ হয় । শোষিত হতে হতে একসময় দেখা যাবে বাংলা ও বাঙালীয়ানার অস্তিত্বই বিলীন হয়ে যাবে । বিশ্ব-সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে বাংলার কোন জায়গায় থাকবে না । বহির্দেশের মানুষ "ভারত" বলতে শুধু বুঝবে হিন্দি ভাষা, হিন্দি সাহিত্যে আর গো-বলয়ী চালচলন । বাংলা আর বাংলার সংস্কৃতি এভাবে খাবি খাবে, আর আমরা চোখের সামনে দেখব ? মেনে নেব ? এটা মেনে নেওয়া যায় ?


3334 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8] [9] [10] [11] [12]   এই পাতায় আছে 213 -- 232
Avatar: এলেবেলে

Re: হিন্দী আগ্রাসনের প্রেক্ষিতঃ দেশ, রাষ্ট্র ও ভাষা

এবারে একেবারে বিশদে বোঝানোর চেষ্টা করছি (এই নিয়ে কতবার?)।

পশ্চিমবঙ্গে পর্ষদের অধীনে ছাত্রছাত্রীদের বাংলা-হিন্দি-উর্দু-নেপালি-সাঁওতালি এবং ইংরেজি মাধ্যমে পড়ার সুযোগ আছে। কেবল ইংরেজি মাধ্যমে পড়া ছেলেমেয়েদের দ্বিতীয় ভাষা হতে পারে বাংলা অথবা নেপালি। বাকি সমস্ত মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজি নেওয়া বাধ্যতামূলক। এটা শুধু মাধ্যমের আগ্রাসন। যেখানে ছেলেমেয়েরা ইচ্ছে থাকলেও সরকারি নিয়মেই বাংলা পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত এবং এদের সংখ্যাটা খুব কম নয়। এটা আগ্রাসনের প্রথম ধাপ।

এবার আগ্রাসনের দ্বিতীয় ধাপ। পশ্চিমবঙ্গে পর্ষদের অধীনে ছাত্রছাত্রীদের প্রথম ভাষা হিসেবে বেছে নেওয়ার সুযোগ আছে অসমিয়া-বাংলা-ইংরেজি-গুজরাটি-হিন্দি-মালয়ালম-মারাঠি-লুসাই-আধুনিক তিব্বতি-নেপালি-ওড়িয়া-গুরুমুখী-সাঁওতালি-সাদানি-তেলুগু-তামিল এবং উর্দু সহ মোট ১৭টি ভাষার মধ্যে একটিকে। অস্যার্থ, যে সব পড়ুয়া বাংলা বা ইংরেজিকে প্রথম ভাষা হিসেবে বাছবে না, তাদের আর বাংলা ভাষা পড়ার সুযোগ নেই। এই সুযোগ তাদের থেকে কেড়ে নিয়েছে সরকার, তাঁদের অভিভাবকরা নন।

নিজের রাজ্যের রাজধানীকে দিল্লি-মুম্বই-চেন্নাই ছাড়া আর কারও সঙ্গে বসাতেই পারব না অথচ এ রাজ্যে প্রথম ভাষা হিসেবে কেন এতগুলো ভাষা থাকবে তা জেনে চোখ কপালে তুলব? বাঃ! শুধু অজ্ঞতাই নয়, চরম উদাসীনতা এই আগ্রাসন নিয়ে। ধিক এই এলিট মানসিকতাকে।

ছাত্রসংখ্যা কমছে সরকারি স্কুলে। সারা রাজ্যে তার সংখ্যা কত? মেরেকেটে ৫০টা। আর যে অসংখ্য সরকার-পোষিত স্কুলগুলোতে ছাত্র উপচে পড়ছে, এগারো-বারোতে বাংলা-ইংরেজির ক্লাস হচ্ছে বিশালতম ঘরটিতে মাইকের সাহায্য নিয়ে তাদের খবর কে রাখে?
Avatar: S

Re: হিন্দী আগ্রাসনের প্রেক্ষিতঃ দেশ, রাষ্ট্র ও ভাষা

আমাদের ঐ ছোট্ট এলাকাতেই বেশ অনেক্গুলো স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। সেই হিসাবে শুধু কোলকাতাতেই ৫০এর উপরে স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়া উচিত। অবশ্য কোনও পরিসংখ্যান নেই।
Avatar: এলেবেলে

Re: হিন্দী আগ্রাসনের প্রেক্ষিতঃ দেশ, রাষ্ট্র ও ভাষা

সরকারি স্কুল মানে পিএসসি দিয়ে ঢুকতে হয়। সংখ্যা মেরেকেটে ৫০। সরকার-পোষিত মানে এসএসসি দিয়ে ঢুকতে হয়। সংখ্যা ৫০ বাদে সব। সারা রাজ্যে।
Avatar: S

Re: হিন্দী আগ্রাসনের প্রেক্ষিতঃ দেশ, রাষ্ট্র ও ভাষা

এতো সবাই জানে। সরকারি স্কুল বলতে সরকার-পোষিত স্কুলও বোঝানো হয়েছে।
Avatar: lcm

Re: হিন্দী আগ্রাসনের প্রেক্ষিতঃ দেশ, রাষ্ট্র ও ভাষা

আমি জানি না, জানতে চাই। আচ্ছা, ঐ ৫০ টা স্কুল কারা ? বালীগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাইস্কুল? যেসব স্কুলের নামের মধ্যে 'গভর্নমেন্ট' শব্দটা আছে - সেগুলো?

Avatar: এলেবেলে

Re: হিন্দী আগ্রাসনের প্রেক্ষিতঃ দেশ, রাষ্ট্র ও ভাষা

এলসিএম, একদম ঠিক। হিন্দু, হেয়ার, বালিগঞ্জ গভ, টাকি, বিধাননগর, বেথুন ইত্যাদি। জেলায় স্কুলগুলোর পরে সাধারণত জেলা স্কুল লেখা থাকে। কৃষ্ণনগরে কলেজিয়েট, কোচবিহারে জেনকিন্স ইত্যাদি। গড়ে জেলাপিছু দু'টো - একটা বয়েজ, অন্যটা গার্লস।
Avatar: রঞ্জন

Re: হিন্দী আগ্রাসনের প্রেক্ষিতঃ দেশ, রাষ্ট্র ও ভাষা

এলেবেলে,
একটু শান্ত হয়ে বলুন না ! এক্কেবারে ক্রুসেডের মত লাগছে, অথবা
ধরে নিচ্ছি এ'পাড়ায় আপনি বাদে সবাই এলিট মানসিকতায় ভুগছে। কিন্তু আপনি তো এইসব কাফিরদের বোঝাতে চাইছেন। দীক্ষিতদের মধ্যে বলছেন না ।
১ সরকারি স্কুল বন্ধ হচ্ছে অথচ সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল হচ্ছে না ? সেখানে ছাত্র উপচে পড়ছে?
২ গুপ্তিপাড়ার কাছে একটি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলে আমার ভাইঝি এস এস সি পাশ করে পড়াচ্ছে। ও বলছে বন্ধ হয়নি বটে, কিন্তু নতুন খোলা অর্ধপক্ক ইংরেজি মিডিয়ামের দৌলতে এদের ছাত্র সংখ্যা ক্রমাগত কমছে। কারণ গার্জেনরা চান ইংরেজি মাধ্যমে পড়াতে। আগে তারকেশ্বর থেকে আট কিমি দূরে একটি স্কুলে পড়াত, সেখানেও একই ছবি। তবে যত বেশি শহরের কাছে, তত দ্রুত কমছে।
৩ আপনার পয়েন্ট বুঝতে পারছি। সরকার চাইছে ইংরেজি পড়াতে হবে। তাই প্রথম বা দ্বিতীয় , কোন একটা ভাষা ইংরেজি হতেই হবে। ফলে যাদের মাতৃভাষা বাংলা নয় বা ইংরেজি প্রথম ভাষা নয় , তারা বাংলা পড়ার সুযোগ পাচ্ছে না ।----- কিন্তু এখানেই প্রশ্ন। ইংরেজি না পড়তে পেলে বাপ-মা সেই স্কুলে পড়াবে না । যার মাতৃভাষা বাংলা নয় , সে দ্বিতীয় ভাষা বাংলা কেন নেবে, ইংরেজিই নেবে।
সেটায় আপনার আপত্তি। আপনার সমাধান?
আমার সমাধান ত্রিভাষা ফর্মূলা মেনে বাংলাকে থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ হিসেবে পড়ার ব্যবস্থা ।
Avatar: lcm

Re: হিন্দী আগ্রাসনের প্রেক্ষিতঃ দেশ, রাষ্ট্র ও ভাষা

পশ্চিমবঙ্গে সরকারি স্কুল, মানে সরকার-পোষিত স্কুল, তার সংখ্যা অনেক এবং সংখ্যাটা জনসংখ্যার অনুপাতে বেড়েছে।

১৯৫১ -- ১,২৭০টি স্কুল
১৯৬৩ -- ২,৩১২ স্কুল
১৯৭৫ -- ৮,০০০ এর ওপর
২০১৮ - ১০,০০০ এর ওপর

এর বেশির ভাগই বাংলা মিডিয়াম স্কুল
Avatar: S

Re: হিন্দী আগ্রাসনের প্রেক্ষিতঃ দেশ, রাষ্ট্র ও ভাষা

পপুলেশান ১৯৭৫ থেকে ২০১৮ অবধি ২গুন হয়েছে।
Avatar: lcm

Re: হিন্দী আগ্রাসনের প্রেক্ষিতঃ দেশ, রাষ্ট্র ও ভাষা

তা হয়েছে, https://bengalinfo.com/wbstat.php
Avatar: রঞ্জন

Re: হিন্দী আগ্রাসনের প্রেক্ষিতঃ দেশ, রাষ্ট্র ও ভাষা

এবং সাক্ষরতার দরও বেড়েছে, বিশেষতঃ মহিলাদের মধ্যে।
Avatar: lcm

Re: হিন্দী আগ্রাসনের প্রেক্ষিতঃ দেশ, রাষ্ট্র ও ভাষা

বড় শহর, শহরতলী, মফঃস্বল শহরে প্রাইভেট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের সংখ্যা বেড়েছে, এবং বাড়ছে, এর প্রভাব স্থানীয় সরকারি বাংলা মিডিয়াম স্কুলে কিছুটা পড়বেই। পশ্চিমবঙ্গে আইসিএসই এবং সিবিএসই বোর্ড মিলিয়ে প্রায় ৬০০ স্কুল এখন, প্রচুর বেড়েছে।
Avatar: এলেবেলে

Re: হিন্দী আগ্রাসনের প্রেক্ষিতঃ দেশ, রাষ্ট্র ও ভাষা

রঞ্জনবাবু

ধ্যাত! রাগ কোথায় করলাম? দুঃখ পাচ্ছি বরং। আমার ভাষাশিক্ষার ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ২৯ বছরের। একটি মফস্‌সলের বাংলা মাধ্যম স্কুল যেখানে ছাত্রসংখ্যা গড়ে প্রতি বছরে ১২৫০-১৩৫০। সেখানে এগারো-বারোর ভাষার ক্লাসগুলোতে বিশাল হলঘরে মাইকের সাহায্য নিয়ে পড়াতে হয়। এবং তা শহরের অন্য স্কুল থেকে মোটেই ব্যতিক্রম নয়।

এইবারে আসি আপনার প্রশ্নে।
১) 'সরকারি স্কুল বন্ধ হচ্ছে অথচ সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল হচ্ছে না ? সেখানে ছাত্র উপচে পড়ছে?'

হ্যাঁ, দু'টো কারণে এটা ঘটছে। প্রথম কারণ ভৌগোলিক সুবিধা। সরকারি স্কুলগুলো প্রায় সবক'টাই জেলা সদরে অবস্থিত। সেখানে বর্তমানে ইংরেজি মাধ্যমে পড়ার সু্যোগও বেশি। তাই যে অভিভাবক হয়তো নিজে ওই সরকারি স্কুলটায় পড়েছেন, সেই তিনিই তাঁর সন্তানকে ভর্তি করছেন ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে। দ্বিতীয় কারণ হল ভর্তি ক্ষেত্রে লটারি। আগে অ্যাডমিশন টেস্ট ছিল বলে সরকারি স্কুলগুলোর রেজাল্ট বেশ ভালো হত। কিন্তু এই লটারির কারণে একেবারে প্রথম থেকেই বেশ কিছু 'কাঁচা' পড়ুয়া সেখানে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। অষ্টম শ্রেণি অবধি পাশ-ফেল না থাকায় তারা নাইনে উঠে যাচ্ছে টপাটপ। 'বাবু'-র ছেলেদের সঙ্গে এই 'ছোটলোক'-দের ছেলেপুলেদের অবাধ পাঠের ব্যবস্থা স্বাভাবিকভাবেই বাবুদের সরকারি স্কুলবিমুখ করছে।
কিন্তু যারা এই ভৌগোলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত সেই অজস্র মফস্‌সল শহরগুলোতে পড়ার আর বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় সেখানে ছাত্রস্ফীতি ঘটছে অস্বাভাবিক হারে। সঙ্গে গোদের ওপর বিষফোঁড়া শিক্ষকস্বল্পতা। সব মিলিয়ে সরকারি স্কুলের সার্বিক চিত্র খুব আশাপ্রদ হতে পারছে না।



২) আপনার প্রথম প্রশ্নের উত্তরেই লুকিয়ে আছে এর উত্তরটাও।

৩) ইংরেজি কেন নেবে না? নিতেই হবে। লেভেল-প্লেয়িং ফিল্ডের জন্য। মূল সমস্যা এখানে দু'টো। প্রথম সমস্যা মাধ্যমগত। বাংলা-ইংরেজি ছাড়াও হিন্দি-উর্দু-নেপালি-সাঁওতালি স্কুল যা চট করে তুলে দেওয়া সম্ভব নয়। দ্বিতীয় সমস্যা প্রথম ভাষা হিসেবে বেছে নেওয়ার জন্য ১৭টি ভাষার উপস্থিতি। সেটাও চট করে বন্ধ করা সম্ভব নয়।

না, এখনও অবধি ত্রি-ভাষা সূত্র চালু আছে কেবল সেভেন-এইটে। ১৯৮১ সাল থেকে।

এবং এবং এবং এই দু'টো সমস্যার একটাও তিনো আমলে তৈরি নয়!!!
Avatar: S

Re: হিন্দী আগ্রাসনের প্রেক্ষিতঃ দেশ, রাষ্ট্র ও ভাষা

আমি প্রাইমারিতে যে প্রাইভেট স্কুলে পড়েছি, আমাদের বাড়িতে যে মেয়েটি রান্না করে তার ছেলে-মেয়ে দুটিও সেখানেই পড়ে/পড়েছে। স্কুলের ফিজ তো বেড়েছে, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আনুষঙ্গিক এতোকিছু খরচ যুক্ত হয়েছে যে কি বলবো। এটি অবশ্যি বাংলা মাধ্যম।
Avatar: S

Re: হিন্দী আগ্রাসনের প্রেক্ষিতঃ দেশ, রাষ্ট্র ও ভাষা

আমিও যে স্কুলে পড়েছিলাম সেখানে ছাত্র সংখ্যা ছিলো ১২০০ মতন। কোনোদিনও মাইক ব্যবহার হয়নি। এক একটি সেক্শনে ৫০-৬০ জন থাকতো। সেকশানের সংখ্যা কমেছে? শিক্ষকও কমেছে, তার মানে।
Avatar: রঞ্জন

Re: হিন্দী আগ্রাসনের প্রেক্ষিতঃ দেশ, রাষ্ট্র ও ভাষা

আমি ষাটের দশকে বরানগর মিশনের বাংলা স্কুলে পড়েছি।
তখন সিক্স থেকে এইট (কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে) অব্দি হিন্দি ও সংস্কৃত পড়তে হত । সংস্কৃতে ক্লাস এইটে ৭৫% পেলে কোন একটা বৃত্তি পাওয়া যেত।
তখন নাইন-টেন-ইলেভেনে আলাদা স্ট্রিম হয়ে একসংগে হায়র সেকন্ডারি পরীক্ষা দিতে হত । প্রত্যেক পেপারে ৫০ নম্বর নাইন+টেন কোর্স থেকে , বাকি পঞ্চাশ ইলেভেনের কোর্স থেকে । আমাদের হাড় ভাজা ভাজা হয়ে গেছল। শত্তুরেরও যেন অমন পড়া না পড়তে হয়।
Avatar: Ishan

Re: হিন্দী আগ্রাসনের প্রেক্ষিতঃ দেশ, রাষ্ট্র ও ভাষা

আরে আপনি রেগে যাচ্ছেন কেন। বক্তব্যটা তো বুঝতেই চাইলাম।

আপনি যা বলছেনঃ
বাংলা বা ইংরিজি মাধ্যম ইশকুলের ছাত্র না হলে এ রাজ্যে বাংলা পড়ার ব্যবস্থা নেই। কারো প্রথম ভাষা নেপালি, সাঁওতালি, তামিল,অসমিয়া, গুজরাটি ইত্যাদি নানা হতেই পারে, কিন্তু পড়লে সে কিছুতেই বাংলা পড়বেনা।
অন্যত্র এর কী প্রভাব জানিনা, কিন্তু হিন্দি প্রথম ভাষা হতেই পারে, এবং হলে যে বাংলা পড়াই যাবেনা -- এর ফলাফল ভয়াবহ হওয়াই উচিত। "পড়াই যাবেনা"র ঠিক উল্টো দিকে "পড়তেই হবে" টাই আমি যুক্তিযুক্ত মনে করি।

যদি ঠিক বুঝে থাকি তো আপনার কথাটা যুক্তিযুক্ত এবং এতে আমি সম্পূর্ণ একমতই হচ্ছি। আগে বুঝলে আগেই হতাম। :-)
Avatar: dd

Re: হিন্দী আগ্রাসনের প্রেক্ষিতঃ দেশ, রাষ্ট্র ও ভাষা

আরে, আমিও রাগি নি।
Avatar: এলেবেলে

Re: হিন্দী আগ্রাসনের প্রেক্ষিতঃ দেশ, রাষ্ট্র ও ভাষা

ঈশান

মূল লেখাটা যাঁর সেই সম্রাট আমার বন্ধু, পেশায় শিক্ষক। ও দিব্যি ইদের আনন্দ করছে আর আমি খটখট! আমি একবিন্দু রাগিনি। '"পড়াই যাবেনা"র ঠিক উল্টো দিকে "পড়তেই হবে" টাই আমি যুক্তিযুক্ত মনে করি'। আমিও মনে করি। কিন্তু সমাধানের পথ নেই। ত্রি-ভাষা সূত্র নেই। ভবিষ্যতে হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। শিক্ষাব্যবস্থা এখন আড়াআড়ি ভাগে বিভক্ত। ৮ শতাংশ বড়লোক বনাম ৯২ শতাংশ ছোটলোক। কাজেই চারিদিকে অন্ধকার।
Avatar: পরশুরাম

Re: হিন্দী আগ্রাসনের প্রেক্ষিতঃ দেশ, রাষ্ট্র ও ভাষা

বাংলাদেশ পরদেশীতে ভরিয়া গিয়াছে। তাহাদের এক দল এদেশের কুলী মজুর ধোবা নাপিত কামার কুমার মাঝী মিস্ত্রীকে স্থানচ্যুত করিতেছে, আর এক দল দেশী বণিকের হাত হইতে ছোট বড় সকল ব্যবসায় কাড়িয়া লইতেছে এবং নূতন ব্যবসায়ের পত্তন করিতেছে। শিক্ষিত বাঙালী লোলুপ নেত্রে এই শেষোক্ত দলের কীর্তি দেখিতেছে কিন্তু তাহাদের পদ্ধতিতে দন্তস্ফুট করিতে পারিতেছে না। এইসকল পরদেশী ইংরেজী বিদ্যা জানে না, economics বোঝে না, ইহাদের হিসাবের প্রণালীও আধুনিক book-keeping হইতে অনেক নিকৃষ্ট, অথচ বাণিজ্যলক্ষ্মী ইহাদের ঘরেই বাসা লইয়াছেন। ইহারা বিজ্ঞানের খবর রাখে না, নূতন শিল্প প্রতিষ্ঠা করিতেও খুব ব্যস্ত নয়, কারণ ইহারা মনে করে পণ্য উৎপাদন অপেক্ষা পণ্য লইয়া কেনাবেচা করাই বেশী সহজ এবং তাহাতে লাভের নিশ্চয়তাও অধিক। ইহারা নির্বিচারে দেশী বিলাতী প্রয়োজনীয় অপ্রয়োজনীয় উপকারী অপকারী সকল পণ্যের উপরেই ব্যবসায়ের জাল ফেলিয়াছে। উৎপাদকের ভাণ্ডার হইতে ভোক্তার গৃহ পর্যন্ত বিস্তৃত ঋজুকুটিল নানা পথের প্রত্যেক ঘাটিতে দাঁড়াইয়া ইহারা পণ্য হইতে লাভ আদায় করিয়া লইতেছে।

শিক্ষিত বাঙালী কতক ঈর্ষার বশে কত অজ্ঞতার জন্য এইসকল পরদেশীর কার্যপ্রণালী হেয় প্রতিপন্ন করিতে চেষ্টা করেন। ইহারা বর্বর অশিক্ষিত দুর্নীতিপরায়ণ, টাকার জন্য দেশের সর্বনাশ করিতেছে। ইহারা লোটাকম্বল সম্বল করিয়া এদেশে আসে; যা-তা খাইয়া যেখানে সেখানে বাস করিয়া অশেষ কষ্ট স্বীকার করিয়া কৃপণের তুল্য অর্থসঞ্চয় করে। ধনী হইলেও ইহারা মানসিক সম্পদে নিঃস্ব। ভদ্র বাঙালী অত হীনভাবে জীবিকানির্বাহ আরম্ভ করিতে পারে না, তাহার ভব্যতার একটা সীমা আছে যাহার কমে তাহার চলে না। অতএব দখোদরের জন্য সে খোট্টার শিষ্য হইবে না।

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8] [9] [10] [11] [12]   এই পাতায় আছে 213 -- 232


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন