Muhammad Sadequzzaman Sharif RSS feed

Muhammad Sadequzzaman Sharifএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • পার্টিশানের অজানা গল্প ১
    এই ঘোর অন্ধকার সময়ে আরেকবার ফিরে দেখি ১৯৪৭ এর রক্তমাখা দিনগুলোকে। সেই দিনগুলো পার করে যাঁরা বেঁচে আছেন এখনও তাঁদেরই একজনের গল্প রইল আজকে। পড়ুন, জানুন, নিজের দিকে তাকান...============...
  • কাশ্মীরের ইতিহাস : পালাবদলের ৭৫ বছর
    কাশ্মীরের ইতিহাস : পালাবদলের ৭৫ বছর - সৌভিক ঘোষালভারতভুক্তির আগে কাশ্মীর১ব্রিটিশরা যখন ভারত ছেড়ে চলে যাবে এই ব্যাপারটা নিশ্চিত হয়ে গেল, তখন দুটো প্রধান সমস্যা এসে দাঁড়ালো আমাদের স্বাধীনতার সামনে। একটি অবশ্যই দেশ ভাগ সংক্রান্ত। বহু আলাপ-আলোচনা, ...
  • গাম্বিয়া - মিয়ানমারঃ শুরু হল যুগান্তকারী মামলার শুনানি
    নেদারল্যান্ডের হেগ শহরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস—আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে করা গাম্বিয়ার মামলার শুনানি শুরু হয়েছে আজকে। শান্তি প্রাসাদে শান্তি আসবে কিনা তার আইনই লড়াই শুরু আজকে থেকে। নেদারল্যান্ডের হেগ শহরের পিস ...
  • রাতপরী (গল্প)
    ‘কপাল মানুষের সঙ্গে সঙ্গে যায়। পালানোর কি আর উপায় আছে!’- এই সপ্তাহে শরীর ‘খারাপ’ থাকার কথা। কিন্তু, কিছু টাকার খুবই দরকার। সকালে পেট-না-হওয়ার ওষুধ গিলে, সন্ধেয় লিপস্টিক পাউডার ডলে প্রস্তুত থাকলে কী হবে, খদ্দের এলে তো! রাত প্রায় একটা। এই গলির কার্যত কোনো ...
  • রাতপরী (গল্প)
    ‘কপাল মানুষের সঙ্গে সঙ্গে যায়। পালানোর কি আর উপায় আছে!’- এই সপ্তাহে শরীর ‘খারাপ’ থাকার কথা। কিন্তু, কিছু টাকার খুবই দরকার। সকালে পেট-না-হওয়ার ওষুধ গিলে, সন্ধেয় লিপস্টিক পাউডার ডলে প্রস্তুত থাকলে কী হবে, খদ্দের এলে তো! রাত প্রায় একটা। এই গলির কার্যত কোনো ...
  • বিনম্র শ্রদ্ধা অজয় রায়
    একুশে পদকপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অজয় রায় (৮৪) আর নেই। সোমবার ( ৯ ডিসেম্বর) দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। অধ্যাপক অজয় দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে ভুগছিলেন।২০১৫ ...
  • আমাদের চমৎকার বড়দা প্রসঙ্গে
    ইয়ে, স-অ-অ-অ-ব দেখছে। বড়দা সব দেখছে। বড়দা স্রেফ দেখেনি ওইখানে এক দিন রাম জন্মালেন, তার পর কারা বিদেশ থেকে এসে যেন ভেঙেটেঙে মসজিদ স্থাপন করল, কেন না বড়দা তখন ঘুমোচ্ছিলেন। ঘুম ভাঙল যখন, চোখ কচলেটচলে দেখলেন মস্ত ব্যাপার এ, বড়দা বললেন, ভেঙে ফেলো মসজিদ, জমি ...
  • ধর্ষকের মৃত্যুদন্ড দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ?
    যেকোন নারকীয় ধর্ষণের ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়ে সামনে আসার পর নাগরিক হিসাবে আমাদের একটা ঈমানি দায়িত্ব থাকে। দায়িত্বটা হল অভিযুক্ত ধর্ষকের কঠোরতম শাস্তির দাবি করা। কঠোরতম শাস্তি বলতে কারোর কাছে মৃত্যুদন্ড। কেউ একটু এগিয়ে ধর্ষকের পুরুষাঙ্গ কেটে নেওয়ার ...
  • তোমার পূজার ছলে
    বাঙালি মধ্যবিত্তের মার্জিত ও পরিশীলিত হাবভাব দেখতে বেশ লাগে। অপসংস্কৃতি নিয়ে বাঙালি চিরকাল ওয়াকিবহাল ছিল। আজও আছে। বেশ লাগে। কিন্তু, বুকে হাত দিয়ে বলুন, আপনার প্রবল ক্ষোভ ও অপমানে আপনার কি খুব পরিশীলিত, গঙ্গাজলে ধোওয়া আদ্যন্ত সাত্ত্বিক শব্দ মনে পড়ে? না ...
  • The Irishman
    দা আইরিশম্যান। সিনেমা প্রেমীদের জন্য মার্টিন স্করসিসের নতুন বিস্ময়। ট্যাক্সি ড্রাইভার, গুডফেলাস, ক্যাসিনো, গ্যাংস অব নিউইয়র্ক, দা অ্যাভিয়েটর, দ্য ডিপার্টেড, শাটার আইল্যান্ড, দ্য উল্ফ অব ওয়াল স্ট্রিট, সাইলেন্টের পরের জায়গা দা আইরিশম্যান। বর্তমান সময়ের ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

ইফতারির ঐতিহ্য

Muhammad Sadequzzaman Sharif

রমজানের মাসের ইফতারিকে ঐতিহ্যে পরিণত করেছে পুরান ঢাকা। চারশো বছরের ঢাকা শহরে অনেকের দাবী অনুযায়ী ইফতার বিক্রির ঐতিহ্যও চারশো বছরের মতই। চকবাজার কে ঘিরেই মূলত এই আয়োজন। চকবাজার শাহি মসজিদের জন্ম ১৬৭৬ সালে। অনেকের মতে এর আগে থেকেই এখানে বাজার ছিল।কেউ বলে মসজিদ হওয়ার পর মসজিদের সামনে থেকে ইফতারের বাজার শুরু। তখন নাম ছিল বাদশাহি চকবাজার । পুরান ঢাকার বড় পুরাতন বাজারই হচ্ছে বাদশাহি চকবাজার, রায়সাহেব বাজার ও নাজিরাবাজার। তবে ইফতারির মূল বাজার এখনো চকবাজারই।

আগে ইফতার নাম ছিল না বা মানুষ ইফতার বলত না, বলত ‘রোজা খোলাই’, এখনো অনেক জায়গায় ‘রোজা খোলাই’ শব্দটা ব্যবহার করে অনেকে। সে যাই হোক, জমজমাট ইফতারের বাজার মূলত বসে চকবাজার শাহি মসজিদের সামনে। আগে মসজিদের সামনে একটা কুপ ছিল। এই কুপকে ঘিরেই রোজার সময় বাজার বসত বলে জানা যায়। এখান থেকেই ইতিহাসের জন্ম হয়ে গেছে। এখন শুধু মাত্র চকেই ৫০০ দোকান বসে। দুপুরের পরেই টেবিল ফেলে রাস্তা আটকিয়ে দোকান বসা শুরু হয়। আস্তে আস্তে পুরো এলাকা জুড়ে শুধু এই ভ্রাম্যমাণ দোকান থাকে। একদিনে কোন কোন দোকান দেড় দুই লাখ টাকার বিক্রি করে শুধু মাত্র দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সময়ে। কোটি টাকার ব্যবসা হয় চকে এই সময়।চকের সমস্যা হচ্ছে একটাই, চকবাজার হচ্ছে বাজার, এখানে বসে খাওয়ার ব্যবস্থা খুবই অপ্রতুল। আপনি ভিড় ঠেলে গিয়ে কিনে নিয়ে চলে আসবেন। বসে খাওয়ার জায়গা চকে পাওয়া যাবে না বললেই চলে।এখন যদিও বিকাল হতেই পুরো ঢাকা শহরেই ইফতারের বাজার বসে যায় কিন্তু পুরান ঢাকার ঐতিহ্য অন্য জিনিস। চক ছাড়া বাংলাবাজার, সদরঘাট, নবাবপুর, বংশাল, সিদ্দিকবাজার, গুলিস্তান, কোর্ট-কাচারী এলাকা, ওয়ারী, লক্ষ্মীবাজার, বাবুবাজার, মিটফোর্ড, আরমানিটোলা, সুরিটোলা, কাপ্তান বাজার, চানখাঁরপুল, আজিমপুর, টিপুসুলতান রোড, ধোলাইখালসহ পুরান ঢাকার আনাচে কানাচে ইফতারির বাজার জমে উঠে।

পুরান ঢাকার ইফতারে বিক্রি হয় কী? সব গুলা পদের নাম বলা রীতিমত গবেষণার বিষয় হতে পারে। তবে যার জন্য বা যে পদ গুলার জন্য বিখ্যাত পুরান ঢাকা তার কিছু তো বলা যায়ই। উল্লেখযোগ্য গুলো হল আস্ত মুরগির কাবাব, মোরগ মুসাল্লম, বটিকাবাব, টিকাকাবাব, কোফতা, চিকেন কাঠি, শামিকাবাব, শিকের ভারী কাবাব, সুতিকাবাব, কোয়েল পাখির রোস্ট, কবুতরের রোস্ট, জিলাপি, শাহি জিলাপি, নিমকপারা, সমুচা, আলাউদ্দিনের হালুয়া, হালিম, দইবড়া, লাবাং, কাশ্মীরি সরবত, খাসির রানের রোস্ট, দইবড়া, মোল্লার হালিম, নূরানি লাচ্ছি, পনির, বিভিন্ন ধরনের কাটলেট, পেস্তা বাদামের শরবত, ছানামাঠা, কিমা পরটা, ছোলা, মুড়ি, ঘুগনি, বেগুনি, আলুর চপ, জালি কাবাব, পিঁয়াজু, আধা কেজি থেকে ৫ কেজি ওজনের জাম্বো সাইজ শাহী জিলাপিসহ নানা পদের খাবার। এর মধ্যে শিকের ভারি কাবাব সম্ভবত চক ছাড়া আর কোথাও পাওয়া যায় না।

আলাদা করে যদি একটা পদের কথা বলতে হয় তাহলে বলতে হবে ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ নামক এক অদ্ভুত খাবারের কথা।অর্থ খুঁজে লাভ নাই। বড় বাপ কে? তার পোলায় মানে তার ছেলেই কেন খাবে এগুলাও ভেবে লাভ নাই। সত্য হচ্ছে এই জিনিসের বয়স ৭৫ বছর। এত বছর ধরে চলছে এই অদ্ভুত নামের খাবার। ঢাকাবাসী চকে গিয়ে আগে হুমড়ি খায় পরে বড় বাপের পোলায় খায় কিনে খায়। পাগলের মত মানুষ কিনে খায় এই জিনিস। পাকিস্তান আমলে এর নাম ছিল শিক চূড়ার ভর্তা। স্বাধীন বাংলাদেশে এর নাম হয়—বড় বাপের পোলায় খায়।
যার হাত দিয়ে এ পদের জন্ম তিনি হলেন পুরান ঢাকার বাসিন্দা দাতা মোহাম্মদ কামাল মাহমুদ। যিনি কামেল মিয়া নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি নিজে ছিলেন ভোজনরসিক মানুষ। তিনি নানা ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা করতেন খাবার নিয়ে। আর তা থেকেই জন্ম এই খাবারের। ৭০ থেকে ৭৫ বছর আগে তিনিই প্রথম খাবারটি তৈরি করে এখানে বিক্রি শুরু করেন। বটপাতার ডালায় করে তিনি বিক্রি করতেন 'বড় বাপের পোলায় খায়'।বংশানুক্রমে তার ছেলে জানে আলম থেকে সালেকিন মিয়ার হাত পেরিয়ে এখন চলছে সেন্টু মিয়ার যুগ। সেন্টু মিয়াও ৩২ বছর পার করে ফেলেছে এই কাজে।

এটি তৈরিতে ডিম, গরুর মগজ, আলু, ঘি, কাঁচা ও শুকনো মরিচ, গরুর কলিজা, মুরগির মাংসের কুচি, মুরগির গিলা কলিজা, সুতি কাবাব, মাংসের কিমা, চিড়া, ডাবলি, বুটের ডাল, মিষ্টি কুমড়াসহ ১৫ পদের খাবার আইটেম ও ১৬ ধরনের মসলা প্রয়োজন। আর মোট ৩১টি পদের যে মিশ্রণ তৈরি হয়, তার নামই ‘বড় বাপের পোলায় খায়’।একটি পিতলের বড় থালে সব কিছু দুই হাতে ভালো ভাবে মাখিয়ে তারপর ঠোঙ্গায় করে বিক্রি করা হয়। প্রতি কেজি ৪০০ থেক ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। এখন অনেক জায়গায়, চকেই অনেকে এই জিনিস বিক্রি করে। তারা তাদের তৈরি বড় বাপের পোলায় খায় বানাতে আরও বেশি পদ ব্যবহার করেন। যে যেমনই বানাক, এই জিনিস যে সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ পুরান ঢাকার ইফতারির মধ্যে তাতে কোন সন্দেহ নাই। ইফতারের সময় চকবাজারে কেউ যাবে আর 'বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙ্গায় ভইরা লইয়া যায়, ধনী-গরীব সবাই খায়, মজা পাইয়া লইয়া যায়' বলে চিৎকার শুনবে না তা কখনই হবে না। এমন করে হাঁকডাক করে বিক্রি করা হয় এই জিনিস।

এরপর যদি আমার পছন্দের কিছু বলতে হয় তাহলে বলতে হবে রয়েলের শরবত। সারা দিন রোজা রাখার পর রয়েলের সরবত কে এই পৃথিবীর কিছু বলে মনে হয় না, জাস্ট স্বর্গ থেকে আসা কিছু মনে হয়। দুধ, পেস্তা বাদাম আর আল্লাই জানে কী কী দিয়ে বানায় সরবত। কলিজা ঠাণ্ডা করে দেওয়ার মত কিছু থাকলে তা রয়েলের শরবত। রয়েল হচ্ছে লালবাগ কেল্লার ঠিক পাসেই। কেল্লা দেখে শরবত না খেয়ে ফেরা পাপের পর্যায় পরে যেতে পারে।

এবার ঢাকা থেকে বের হয়ে আসি। আমার প্রাণের শহর শেরপুরে আসি। মফস্বল শহর। সবাই বাড়িতে তৈরি ইফতার দিয়েই মূলত ইফতার করে। বাইরে থেকে কেনা হয় মূলত জিলাপি। খেসারীর ডাল দিয়ে বানানো আমিত্তি।এই ডালের আমিত্তি কেনার জন্য মানুষ আগেও সারি দিয়ে দাঁড়াত এখনো সারি দিয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু এটা ইফতারির ঐতিহ্য না। এই জিনিস সব সময়ই পাওয়া যায়। এখানে অদ্ভুত এক জিনিস ইফতারির ঐতিহ্যের মর্যাদা পেয়েছে। তা হচ্ছে ছোলা বুট দিয়ে তৈরি ভুনা খিচুরি। আমাদের এখানে বলে বুটের বা ছোলার চাল বিরান। শেরপুরবাসি এই জিনিস ছাড়া ইফতারি করতে পারে না। আগে যখন ইফতারি বাইরে দোকানে তেমন বিক্রি হত না, দুই একটা হোটেলে কিছু পরিচিত পদ শুধু বিক্রি হত তখনও যেমন এই জিনিস রাস্তায় বিক্রি হত, এখন যখন অনেক কিছুই বিক্রি হয় রাস্তার পাসে দোকান ফেলে, এখনো সবাই বিক্রি করে এই চাল বিরান। জাস্ট কল্পনাই করতে পারে না ইফতারির কথা যেখানে চাল বিরান দিবে না! পলিথিনের ব্যাগে, ১০/১৫/২০ টাকার খিচুরি বিক্রি হচ্ছে সব জায়গায়।

প্রতি বছর রোজা আসে আর ফিরে আসে ঐতিহ্য গুলো। ঢাকা এখন বহু আধুনিক শহর। আধুনিকতার মাঝেও পুরান ঢাকা যেমন পুরান ঢাকাই থেকে গেছে অনেকাংশে। তেমনই পুরান ঢাকা অনেক কিছুর মত ঢাকার ঐতিহ্য ইফতারিকেও ধরে রেখেছে। খাবার কেনাও যে ঐতিহ্য হতে পারে কিংবা খাবার বিক্রিও যে দেখার মত ব্যাপার হতে পারে তা দেখতে একবার অন্তত রোজার মাসে পুরান ঢাকা ঘুরে দেখা উচিত।ইংলিশ রোড থেকে বেচারাম দেউরী, মুগ্ধ করে রেখে দেবে সকলকে। রমজানের শুভেচ্ছা সকলকে।



601 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: ষষ্ঠ পাণ্ডব

Re: ইফতারির ঐতিহ্য

আপনি শেরপুরের মানুষ! আমার শাশুড়ির বাড়ি শেরপুর। সেই সুবাদে শেরপুরে যাওয়া, সেখানকার খাবার খাওয়া হয়েছে। চাল বিরান আসলেই একটা স্পেশাল জিনিস। শেরপুরের ময়রাদের বানানো ছানার অমৃতি, ছানার পোলাও আর ছানার পায়েস 'অপার্থিব' এক একটা খাবার। এগুলো স্বর্গের খাবার। ঢাকার মিষ্টির দোকানগুলোতে 'বালুসাই' নামে যে মিষ্টি বিক্রি করা হয় সেটা বালুসাই নামের কলঙ্ক। শেরপুরের বালুসাই যে খায়নি সে জানবেও না বালুসাই কাকে বলে! একই প্রকারের বালুসাই আমাদের নারায়ণগঞ্জের জগদ্বন্ধু মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের সামনেও বানানো হয়।
Avatar: Muhammad Sadequzzaman Sharif

Re: ইফতারির ঐতিহ্য

মিষ্টির জন্য শেরপুর বেশ ভাল। কিন্তু অন্য জায়গায় যেমন একটা ব্র্যান্ড নেম তৈরি হয়ে গেছে এখানে তেমন হয়নি। ছানার পায়েসের তুলানা আমরা শেরপুরবাসিরা কোথাও খুঁজে পাই না। আমাদের কাছে কুমিল্লার রসমালাই আমাদের ছানার পায়েসের কাছে কিছুই মনে হয় না। আপনি কোন দোকানেরটা খেয়েছেন জানতে পারলে ভাল হয়। স্বদেশের ছানার পোলাও অসাধারণ। ছানার পায়েস অনুরাধারটা খুব পছন্দের আমার। বালুসাই খেয়ে ভাল লাগছে জেনে ভাল লাগল। অনুরাধার ছানার আমিত্তি, মালাই চপ, মালাইকারি খেয়ে দেখার অনুরোধ থাকল। চমকে যাবেন খেয়ে যদি আগে খেয়ে না থাকেন, বিশেষ করে গরম গরম যদি মালাই চপ খেতে পারেন। অনুরাধায় আরেকটা জিনিস তৈরি করে যার নিয়মিত খাদক আমরা। তা হচ্ছে শীতের দিনে খেজুরের গুড়ের রস গোল্লা। গরম খেতে পারলে অন্য আর কিছুই ভাল লাগবে না। অনুরাধার মালিক পার্থদার সাথে আমাদের অলিখিত চুক্তিই হচ্ছে গরম থাকলে আমাদের তা দিতে হবে। আমরা দোকানে দিয়ে বসলে তিনি নিজেই এখন আগে বলে দেন যে গরম মিষ্টি আছে কিংবা নাই!! আর বালুসাই না শুধু, ঢাকার কোন মিষ্টিই আমার কাছে জুতের মনে হয় না। শেরপুরের মিষ্টির আরেকটা বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর দাম। অন্য যে কোন এলাকার তুলনায় অনেক অনেক কম। শেরপুরের সাথে সংযোগ আছে জেনে ভাল লাগল।
Avatar: Amit

Re: ইফতারির ঐতিহ্য

এই সব লেখা পত্তর গলায় তোয়ালে জড়িয়ে পড়তে হয়। নাহলে জিভের জলে কীবোর্ড ভিজে যেতে পারে।
Avatar: সুকি

Re: ইফতারির ঐতিহ্য

দারুণ লাগলো লেখাটা। আমার মাঝে মাঝে মনে হয় সাহিত্য হল কিনা, তেমন তো কোন বার্তা নেই লেখায় - এই সব না ভেবে এমন লিখে রাখা দরকার। এই ভাবেই আমাদের জীবন ডকুমেন্টেড হয়ে যাবে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য।

আর অমিতাভদা একদম ঠিক । জিভের জল আটকানো মুশকিল
Avatar: দ

Re: ইফতারির ঐতিহ্য

ইশ কি রসালো লেখা!
উল্লস!
Avatar: dc

Re: ইফতারির ঐতিহ্য

আরে এই টইটা মিস করে গেছিলাম! লেখক কাবাবের যা লিস্টি দিয়েছেন সেসব পড়তে তো ভালো লাগলোই, বড়ো বাপের পোলায় খায় এর বর্ণনা পড়ে ভয়ানক খিদে পেয়ে গেলো। এটা যদি খেতে পেতাম!
Avatar: স্বাতী রায়

Re: ইফতারির ঐতিহ্য

পরের বার বাংলাদেশে গেলে শেরপুর যেতেই হবে দেখছি! দারূণ লেখা - জিভে জল আনা। শিকের ভারী কাবাব টা কি জিনিস?

Avatar: Muhammad Sadequzzaman Sharif

Re: ইফতারির ঐতিহ্য

শিকের ভারী কাবাব বড় আকারের শিক কাবাব বলতে পারেন। শিক কাবাবও ঠিক বলা যায় কিনা বুঝতেছি না। ছবি দেখাতে পারলে বুঝাতে পারতাম। একটু গুগুল করে নিয়েন দয়া করে। শেরপুর ঘুরে যাওয়ার আমন্ত্রণ থাকল। শিলিগুড়ি থেকে সরাসরি বাস আছে শেরপুর সীমান্ত পর্যন্ত। ইমিগ্রেশন পার হয়ে নাকুগাও, নাকুগাও থেকে শেরপুর। অবশ্য আমি জানি না শিলিগুড়ি থেকে কলকাতা কত দূর বা আপনি কোথা থেকে আসবেন।
আরেকটা বিষয় বিনয়ের সাথে বলতে চাই। ইফতারের যে বর্ণনা দিয়েছি পুরান ঢাকার তার স্বাদ নিয়ে আমি কিন্তু কিছুই বলিনি। কারন হচ্ছে যে পদ গুলা তৈরি হয় ইফতারের সময় তার চেয়ে সুস্বাধু ঢাকার ভিন্ন জায়গায় পাওয়া যায়। পুরান ঢাকার ইফতার শুধু মাত্র ঐতিহ্যের জন্য টিকে আছে, স্বাদের জন্য না। অনেকের বিরূপ অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমি নিজে বেশ কয়েকবার কানে চিমটি দিয়েছি যে আর কোন দিন যাব না ইফতার করতে পুরান ঢাকায়। রয়েলের সরবত বাদে অন্য কিছু আসলেই কিনে খাওয়া ঝুঁকি পূর্ণ, পেটের জন্য আর স্বাস্থের জন্যও। তাই আমার লেখায় দেখার জন্য যেতে বললেও কেনার কথা বা খাওয়ার কথা বলি নাই ইচ্ছে করেই। লেখাটা আপনাদের ভাল লেগেছে জেনে ভাল লাগছে, ধন্যবাদ।
Avatar: স্বাতী রায়

Re: ইফতারির ঐতিহ্য

পেট বা স্বাস্থ্য নিয়ে চাপ নেবেন না, কলকাত্তাইয়াদের পেটে সব সহ্য হয় -ছোট্টবেলা থেকে নর্দমার জলে তৈরী আইসক্রীম আর কুলপি মালাই খেয়ে অভ্যেস কিনা .... যদিও আমি সেই তেনাকে খুঁজছি যার উর্বর মাথা থেকে এই নর্দমার জলের থিওরীটা বেরিয়ে আমাদের বাঙালী মা মাসিদের মাথায় ঢুকেছিল!

ঢাকার কাচ্চি বিরিয়ানী খেয়েছি - আহা পুরো দিল তর করা অভিজ্ঞতা , আপনার লিস্টটির খাবারের মধ্যে তার ধারে কাছে স্বাদ কিসের কিসের কন দেখি! জানমালের দায় আমার!
Avatar: খ

Re: ইফতারির ঐতিহ্য

এ মাইরি যেতেই হবে👍👍
Avatar: ষষ্ঠ পাণ্ডব

Re: ইফতারির ঐতিহ্য

সত্যি বলতে কি ঢাকা মহানগরের বাইরের যে কোন জায়গার মিষ্টি ঢাকার মিষ্টির চেয়ে মানে-স্বাদে ভালো। খাঁটি দুধ দিয়ে বানানো মিষ্টির স্বাদ ভালো হবেই। একবার শেরপুর যাবার পথে খিদে পাওয়ায় ময়মনসিংহ শহরে ঢোকার আগে এক ছাপড়া চায়ের দোকানে মিষ্টি খেয়েছিলাম। ঐ নামধাম ছাড়া চায়ের দোকানের মিষ্টির মান ঢাকার বড় বড় ব্রান্ডের মিষ্টির মানের চেয়ে ঢেড় ভালো। এমন অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের আরও অনেক জায়গায় হয়েছে। আর দামের কথা যদি বলেন তাহলেও ঢাকার বাইরের মিষ্টির দাম তাদের মানের তুলনায় অনেক কম।

কুমিল্লার কান্দিরপাড় মনোহরপুরের ‘মাতৃভাণ্ডার’ ব্রান্ডনেম হয়ে যাওয়ায় লোকে ভাবে তাদের রসমালাইই বুঝি সেরা। অথচ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার (সম্ভবত কুমার শীল মোড়ের) রসমালাই মানে-স্বাদে আরও ভালো। কিন্তু শেরপুরের ছানার পায়েসের তুলনা আমিও বাংলাদেশের কোথাও পাইনি। এমনকি পশ্চিমবঙ্গে যে অল্পস্বল্প মিষ্টি খাবার সুযোগ হয়েছে সেখানেও অমনটা পাইনি।

আমি শেরপুরের কোন্‌ কোন্‌ দোকানের ছানার পায়েস খেয়েছি তাতো বলতে পারবো না, কারণ আমি তো ‘শেরপুরের জামাই’! ওখানে গেলে কোন না কোন আত্মীয়ের বাড়িতে থাকা হয়। তাদের কি আর জিজ্ঞেস করা যায়, “মিষ্টি কোন্‌ দোকানের”? একবার ঢাকায় ফেরার পথে মিষ্টি কিনে ফিরবো বলায় এক মামাশ্বশুর সাথে একজন লোক দিয়ে দিলেন। তারপর এক জায়গায় (সম্ভবত তিন আনী বাজার) গাড়ি দাঁড় করিয়ে রেখে তিনি নিজেই গিয়ে ছানার পায়েস, ছানার পোলাও আর বালুসাই কিনে এনেছিলেন। আমাকে আর যেতে দেননি। আমি বহু কষ্টে মূল্যটা পরিশোধ করতে পেরেছিলাম মাত্র।

“স্বদেশের ছানার পোলাও; অনুরাধার ছানার পায়েস, ছানার অমৃতি, মালাই চপ, মালাই কারি” – মুখস্থ করে রাখবো। পরের বার আর ছাড়াছাড়ি নাই। শেরপুরের মালাই চপ একবার খাবার সুযোগ হয়েছিল, স্বাদের কথা বিশেষ মনে নেই।

খেজুরের গুড়ের রসগোল্লা মানে ঐযে লালচে হলুদ রঙের (আসলে রঙটা বোঝাতে পারলাম না) ছোট রসগোল্লা তো! রসগোল্লাতে স্বাদের বাইরে সুবাস বলেও যে একটা জিনিস আছে সেটা এই রসগোল্লা না খেলে বোঝা যাবে না।

শেরপুরের সাথে সংযোগ কমে গেছে রে ভাই! শাশুড়ির যা শারিরীক অবস্থা তাতে উনি আর শেরপুরে যাবার ধকল নিতে পারেন না। সজবরখিলার বাড়িটা আর নেই। বেশিরভাগ আত্মীয় ঢাকায় চলে এসেছেন। অনেকে দেশ ছেড়ে অন্য কোন দেশে ঠাঁই গেড়েছেন। অনেক আত্মীয় মারা গেছেন, যাদের ছেলেমেয়েদের সাথে সম্পর্ক অতোটা গভীর নয়। তবু শেরপুরে যেতে পারলে ভালো লাগে। শুধু এর দুধের মিষ্টি বা অন্য খাবার নয় শেরপুরের ডায়ালেক্টটাও মিষ্টি লাগে।
Avatar: Muhammad Sadequzzaman Sharif

Re: ইফতারির ঐতিহ্য

@ষষ্ঠ পাণ্ডব, খেজুরের গুড়ের রসগোল্লা ছোট বড় সব রকমই হয়। অনুরাধারটা বড় হয়। তিন আনি বাজার থেকে কিনে থাকলে স্বদেশের দোকান থেকে কিনে ছিলেন সম্ভবত। সেরা মিষ্টির দোকান বলা যায় স্বদেশের দোকানকে। শেরপুরের ডায়ালেক্ট ভাল লাগে জেনে সত্যই খুব ভাল লাগল।

@স্বাতী রায়, জানমানের ওপরে রিস্ক নিতে হবে না। আপনি একবার বড় বাপের পোলায় খায় খেয়ে দেখুন। এ এক আজব জিনিস। আপনার জিব্বা এই জিনিসের মত কিছুর স্বাদ আর পায়নি আগে কোন দিন।
আর রয়েলের সরবত যদি পারেন খেয়ে দেখবেন। আমি আমার লেখায় লেখছি পৃথিবীর খাদ্য বলে মনে হয় না একে। আসলেই তাই, চেখে দেখার অনুরোধ থাকল। আমন্ত্রণ থাকল দিদি বাংলাদেশ থেকে।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন