Muhammad Sadequzzaman Sharif RSS feed

Muhammad Sadequzzaman Sharifএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • দক্ষিণের কড়চা
    গরু বাগদির মর্মরহস্য➡️মাঝে কেবল একটি একক বাঁশের সাঁকো। তার দোসর আরেকটি ধরার বাঁশ লম্বালম্বি। সাঁকোর নিচে অতিদূর জ্বরের মতো পাতলা একটি খাল নিজের গায়ে কচুরিপানার চাদর জড়িয়ে রুগ্ন বহুকাল। খালটি জলনিকাশির। ঘোর বর্ষায় ফুলে ফেঁপে ওঠে পচা লাশের মতো। যেহেতু এই ...
  • বাংলায় এনআরসি ?
    বাংলায় শেষমেস এনআরসি হবে, না হবে না, জানি না। তবে গ্রামের সাধারণ নিরক্ষর মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আজ ব্লক অফিসে গেছিলাম। দেখে তাজ্জব! এত এত মানু্ষের রেশন কার্ডে ভুল! কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানলাম প্রায় সবার ভোটারেও ভুল। সব আইকার্ড নির্ভুল আছে এমন ...
  • যান্ত্রিক বিপিন
    (১)বিপিন বাবু সোদপুর থেকে ডি এন ৪৬ ধরবেন। প্রতিদিন’ই ধরেন। গত তিন-চার বছর ধরে এটাই বিপিন’বাবুর অফিস যাওয়ার রুট। হিতাচি এসি কোম্পানীর সিনিয়র টেকনিশিয়ন, বয়েস আটান্ন। এত বেশী বয়েসে বাড়ি বাড়ি ঘুরে এসি সার্ভিসিং করা, ইন্সটল করা একটু চাপ।ভুল বললাম, অনেকটাই চাপ। ...
  • কাইট রানার ও তার বাপের গল্প
    গত তিন বছর ধরে ছেলের খুব ঘুড়ি ওড়ানোর শখ। গত দুবার আমাকে দিয়ে ঘুড়ি লাটাই কিনিয়েছে কিন্তু ওড়াতে পারেনা - কায়দা করার আগেই ঘুড়ি ছিঁড়ে যায়। গত বছর আমাকে নিয়ে ছাদে গেছিল কিন্তু এই ব্যপারে আমিও তথৈবচ - ছোটবেলায় মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল ঘুড়ি ওড়ানো "বদ ছেলে" দের ...
  • কুচু-মনা উপাখ্যান
    ১৯৮৩ সনের মাঝামাঝি অকস্মাৎ আমাদের বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ(ক) শ্রেণী দুই দলে বিভক্ত হইয়া গেল।এতদিন ক্লাসে নিরঙ্কুশ তথা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করিয়া ছিল কুচু। কুচুর ভাল নাম কচ কুমার অধিকারী। সে ক্লাসে স্বীয় মহিমায় প্রভূত জনপ্রিয়তা অর্জন করিয়াছিল। একটি গান অবিকল ...
  • 'আইনি পথে' অর্জিত অধিকার হরণ
    ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম ও কর্পোরেট পুঁজির স্বার্থে, দীর্ঘসংগ্রামে অর্জিত অধিকার সমূহকে মোদী সরকার হরণ করছে— আলোচনা করলেন রতন গায়েন। দেশে নয়া উদারবাদী অর্থনীতি লাগু হওয়ার পর থেকেই দক্ষিণপন্থার সুদিন সূচিত হয়েছে। তথাপি ১৯৯০-২০১৪-র মধ্যবর্তী সময়ে ...
  • সম্পাদকীয়-- অর্থনৈতিক সংকটের স্বরূপ
    মোদীর সিংহগর্জন আর অর্থনৈতিক সংকটের তীব্রতাকে চাপা দিয়ে রাখতে পারছে না। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে ভারতের অর্থনীতি সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। সংকট কতটা গভীর সেটা তার স্বীকারোক্তিতে ধরা পড়েনি। ধরা পড়েনি এই নির্মম ...
  • কাশ্মীরি পন্ডিত বিতাড়নঃ মিথ, ইতিহাস ও রাজনীতি
    কাশ্মীরে ডোগরা রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হবার পর তাদের আত্মীয় পরিজনেরা কাশ্মীর উপত্যকায় বসতি শুরু করে। কাশ্মীরি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মানুষেরাও ছিলেন। এরা শিক্ষিত উচ্চ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেনি। দেশভাগের পরেও এদের ছেলেমেয়েরা স্কুল কলেজে পড়াশোনা করেছে। অন্যদিকে ...
  • নিকানো উঠোনে ঝরে রোদ
    "তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে ?আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে ..."সেই অক্ষরগুলোকে ধরার আরেকটা অক্ষম চেষ্টা, আমার নতুন লেখায় ... এক বন্ধু অনেকদিন আগে বলেছিলো, 'আঙ্গুলের গভীর বন্দর থেকে যে নৌকোগুলো ছাড়ে সেগুলো ঠিক-ই গন্তব্যে পৌঁছে যায়' ...
  • খানাকুল - ২
    [এর আগে - https://www.guruchan...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

রাতের ঢাকা শহর

Muhammad Sadequzzaman Sharif

ঢাকা শহরের নানা সমস্যা। দুই একদিন আগে দেখলাম সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিয়ায় ওপরের দিকে নাম ঢাকা শহরের। যারা ঢাকা শহরে থাকে বা থেকেছে তারা জানে নাগরিক জীবনের নানা সমস্যা আষ্টেপিষ্টে জরিয়ে আছে। বাতাস শুধু দূষিত না এ শহরের, আরও কত কী যে দূষিত তার কোন হিসেব নেই। খাওয়ার পানিতে সমস্যা, হাঁটার মত ফুটপাথ নাই, নিরিবিলিতে সময় কাটানোর জন্য কোন জায়গা নাই, গন পরিবহনের অবস্থা কল্পনাও করা যায় না, নারী দিনে রাতে সমান ভাবে অনিরাপদ, কিছু এলাকায় আবর্জনা এত জমে থাকে যে সে মুখি হওয়াও যায় না। আরও আরও নানা রকমের সমস্যায় জর্জরিত ঢাকা। কিন্তু তবুও কেন মানুষ ঢাকায় পড়ে থাকতে চায়? কিছুই কী নেই শহরের মাঝে যা আটকিয়ে রাখে মানুষ কে? শুধুই কী টাকা উপার্জনের জন্য বাধা পড়ে থাকে এখানে সবাই? সরকারের নানা রকমের ব্যর্থতা আছে ঢাকাকে নিয়ে। সবাই কেন ঢাকায়ই থাকতে চায় তা নির্ণয় করা খুব কঠিন কিছু না। কিন্তু অজ্ঞার কারনে সব সরকার শুধু ঢাকাকেই তিলোত্তমা করার চিন্তা করে গেছে, বিকেন্দ্রীকরণের চিন্তা খুব একটা কার্য ক্ষেত্রে দেখা যায়নি। কিন্তু সবাই কী বাধ্য হয়েই ঢাকায় থাকে? নাকি কেউ কেউ ঢাকার প্রেমে পড়ে ঢাকায় থেকে যায়? আমি তো এমন অনেককেই চিনি যারা ইচ্ছা করলেই এই দূষিত শহর থেকে যোজন যোজন দূরে থাকতে পারে, ইচ্ছা করলেই নির্মল বাতাসে বুক ভরে শ্বাস নিতে পারে। কিন্তু তারাও কেন ঢাকায় পড়ে থাকে? শুধু মাত্র ভাল হোটেলে খাওয়া যায় বলে? নাট্যশালায় নাটক দেখা যায় বলে? মাল্টিপ্লেক্সে সিনেমা দেখা যায় বলে? বারে মদ খাওয়া যায় বলে? নাকি আলাদা কোন গল্প আছে সবার? নাকি কেউ শুধু মাত্র ছবির হাটে বিকালে বসতে চায় বলে ঢাকা থাকতে চায়? নাকি কেউ সব কিছুর বিনিময়ে হলেও টিএসসির আড্ডা মিস করতে চায় না? চারশো বছরের পুরনো এই শহর কী কোন এক বুনো সৌন্দর্য নিয়ে অলিক মায়ায় আটকে রাখে অনেককে?

ঢাকার রূপের বর্ণনা দেওয়া আমার উদ্দেশ্য না। বহু জ্ঞানী গুনি ঢাকা নিয়ে লিখে গেছে। আমি তাদের চেয়ে বাড়তি কিছু বলতে পারব তার কোন সম্ভাবনা দেখছি না এখনো। কিন্তু আমি আমার দেখা বলতে পারি আজকে। আমি বলতে পারি আমি কিভাবে মুগ্ধ হতাম এই আজব শহরের আজব কাণ্ড কারখানা দেখে। আমি বলতে পারি প্রচণ্ড জ্যামেও কিভাবে দিনের পর দিন আমি ঢাকার রাস্তার প্রেমে পড়ে থাকতাম। আমি বলতে পারি দুই আড়াই বছর ধরে ঢাকার বাইরে থেকে কি প্রচণ্ড ভাবেই হাহাকার অনুভব করি এই শহরটার জন্য।

আমার পক্ষে ঢাকা নিয়ে কিছু বলতে হলে রাতের ঢাকা নিয়েই বলা সহজ। কারন দিনের বেলায় আর সবার মতই আমার সময় কেটে যেত। ঘাড় বাঁকা করে সময় পার করা। কিন্তু অন্য অনেকের থেকেই রাতের ঢাকা দেখার সৌভাগ্য আমার বেশি হয়েছে। একা থাকার কারনে আমার যেটা নেশা হয়ে গেছিল তা হচ্ছে ঢাকা শহরে রাত করে ঘুরে বেরানো। ঢাকা শহরে ছিনতাইয়ের ভয় মানুষ দিনের বেলায় পেলেও আমি কেন যেন এই ভয় কোনদিন পাইনি। সাথে থাকতও না তেমন কিছু। আমার অল্প দামি মোবাইল আর দুই একশ টাকা।দোতালা বাসের শেষ ট্রিপ ধরে হয়ত চলে যেতাম মতিঝিল কিংবা মিরপুর।কোন কাজ যেহেতু নাই তাই সেখানে রাতের কোন একটা টং দোকানে বসে চা খেয়ে আবার ফেরার চিন্তা। এমনও হয়েছে নেমেছি চা খেয়েছি উল্টো দিকের বাস পেয়ে আবার চড়ে বসেছি বাসে। ফার্মগেট থাকার কারনে মোটামুটি সারা রাত বাস পেতাম। মাঝে মাঝে সঙ্গী জুটলে মাওয়া কিংবা নারায়ণগঞ্জ।

রাতের ঢাকার চেহারা দিনের ঢাকার সাথে একবিন্দু মিলবে না। যেখানে দিনে বেলা ব্যস্ত সড়ক রাতে হয়ত জমজমাট কাঁচা বাজার। শুধু কাঁচা বাজারই বা কেন? ফার্মগেটে তো সব কিছুরই হাট বসে যেত রাতের বেলা। ফার্মগেট থেকে দুই কদম এগোলেই কাওরানবাজার। ঢাকার তথা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি কাঁচা বাজার। যত রাত হচ্ছে তত জমে উঠে কাওরানবাজার। সমানে ট্রাক আসছে সারা দেশ থেকে, মাল নামছে, পাইকারদের হাঁকাহাঁকি, মজুরদের বস্তা নিয়ে মাল নামানো, ঠ্যালা গাড়ি ওয়ালাদের ঠ্যালা ঠ্যালি। বেশিরভাগ দোকানে কেন জানি সবুজ বাতি লাগানো। বাজারের ভিতরে ঢুকলে নানা কাঁচা সবজির গন্ধে মাথা ঝিমঝিম করা শুরু করে। যেখানে লেবু নামছে সেখানে লেবুর তীব্র গন্ধ টেকা যাচ্ছে না হয়ত। তবে আমার সবচেয়ে ভাল লাগত কাঁচামরিচের গন্ধ। তীব্র ঝাঁজ নাক দিয়ে মাথায় গিয়ে লাথি দিত যেন। বেশিক্ষণ টেকা যেত না সেখানেও।

পাইকারদের জন্য হোটেল খোলা থাকত। আমার কাজ হত তাদের সঙ্গে বসে খাওয়া। তাদের গল্প শুনতাম। সেই কোন পঞ্চগড় থেকে হয়ত আসছে ট্রাকের ওপরে চড়ে। মাল বিক্রি করে আবার অন্য কোন ট্রাকে করে ফিরে যাবে তারা। কোথা থেকে কোথা থেকে কী কী কিনবে তার ফিরিস্তি শোনাত। আমি আদর্শ শ্রোতা, ঝিম মেরে শুনতাম গপ্প।

যে কোন পরিস্থিতিতে খেতে পারার বিশেষ গুণ নিয়েই ঢাকায় পা ফেলেছিলাম। কমলাপুরে রেল স্টেশনের সামনের ফুটপাথে সটানে বসে পরে পেট ভরে ভাত খেয়েছি ভর দুপুর বেলা। চেহারা আর পোশাকে হয়ত ফুটপাথে বসে খাওয়ার মানুষ বলে মনে হয় না। তাই অনেকেই হেঁটে যেতে যেতে থমকে যাচ্ছিল। কেউ কেউ অবাক হয়ে চোখ কপালে তুলে জিজ্ঞাসই করে বসল, তুমি ওখানে বসে কেন খাচ্ছ!! আমি বললাম, খিদা লাগছে যে!! এরপর বহুবার ফুটপাথে খেয়েছি, শাহাবাগের ফুটপাথের খাওয়া তো রীতিমত অসধারন।

রাতের ঢাকার অন্যতম একটা বলার মত জিনিস হচ্ছে রাতের ঢাকার খাওয়া দাওয়া। স্টার হোটেল খোলা থাকে মোটামুটি রাত বারোটা পর্যন্ত। আমার জগতটার কাছে ছিল বলে স্টার ছিল সেরা পছন্দ সব সময়। পুরো রোজা স্টারে সেহেরি করে পার করে দিয়েছি। রোজার মাসে সারা রাত খোলা থাকত স্টার। কিন্তু রাতের ঢাকার খাবারের জন্য আসলে স্টার না। বিখ্যাত হচ্ছে চাংখারপুল। চাংখারপুল এলাকার সব হোটেল খোলা থাকে পুরো রাত। পাসেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হওয়াতে তাদের রাতের বাণিজ্য ছিল জমজমাট। আর আমার মত রাতের ঘুরাঘুরি করা লোকজন তো আছেই। হোটেলের নাম মনে নেই, সম্ভবত মঙ্গলবার করে উটের মাংস বিক্রি করত। কাজ নেই তো কি আর করা! উটের মাংস খার জন্য হাজিরা দিছি কয়েকবার।

রাতের ঢাকার বর্ণনা করছি কিন্তু নিষিদ্ধ কোন কিছু উল্লেখ্য করছি না। এ যেন মাংস ছাড়া বিরিয়ানির গল্প বলছি। আসলে ওই পথের পথিক না হওয়াতে বলার মত গপ্পও কম। তবে যেহেতু ঢাকা শহরের গল্প তাই আমি এর বাইরেই থাকি কি করে? রেড লাইট জোন গুলা শুধু দেখি গেছি। তাদের গল্প শোনা হয়নি। তবে অন্য এক ঢাকার দেখাও পেয়েছি যা সচারচর দেখা সম্ভব হয়না অনেকের। ওই গল্প বলেই বিদায় নিব আজকে।
আমি হচ্ছি এমন এক জিনিস যে নির্দ্বিধায় যে কোন আড্ডায় গিয়ে বসে যেতে পারি। আমার বিন্দু মাত্র সমস্যা হয় না এতে। মদের আড্ডা বা নেশার আরও বড় আসরেও অনায়াসে ফিট হয়ে গেছি। কিন্তু আর সবাই খুব অস্বস্তি অনুভব করত যখন দেখত আমি শুধু তাদের সাথেই আছি কিন্তু কিছুই নিচ্ছি না, সিগারেটও তো খাই না আমি!। অন্য আসরে তেমন না হলেও মদের আসরে সবাই জেনে যাওয়ার পর যে আমি মদ খাব না, এবং জীবনেও খাই নাই তখন যা হত তা হচ্ছে একজন একজন করে উনি কেন মদ খান, উনার কী কী সমস্যা ইত্যাদি নানা প্যাঁচাল পেরে উনার খাওয়াটা জায়েজ করতে চান। আমি শুধু বলতাম, ঠিক বলছেন, আপনি অবশ্যই খাবেন!!

এমন এক আড্ডায় আমি বসে আছি। আড্ডা হচ্ছে ইস্কাটন এলাকার একটা বারে। রাত ১২ টার ওপরে বাজে। পরের দিন আমার কামলা খাটা বন্ধ তাই আমি নিশ্চিতে বসে সেভেন আপ খাচ্ছি। দুই একজন এর মধ্যে বলে ফেলেছে যে আসলে মদ খাওয়া ঠিক না, সারা দিন নানা ভ্যাজালে থাকে তাই রাতে একটু আধটু খায় উনারা। আমি যথারীতি মাথা নেড়ে বলে দিলাম, ঠিক, এর দরকার আছে…
এর মধ্যে হুট করে তাদের কী বাই উঠল বলল এখানে আর থাকবে না। বাংলামটর যাবে। কাছেই বাংলামটর। আমার সঙ্গী বলল চল, এই জায়গায় তুই কোন দিন যাসনি, এই অভিজ্ঞতা তোর কোনদিনই হয়নি, চল, গেলেই দেখতে পাবি। তো চললাম ওদের সাথে। আমার বন্ধু ওই আড্ডার মধ্যে একজন নেতা গোছের লোকের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল। তিনি এই তিনি সেই বলে রীতিমত ভয় পাইয়ে দেওয়ার মত পরিচয় দিল। আমি উনার পরিচয় পেয়ে যার পর নাই কৃতজ্ঞ বলে জানালাম। এবং বুঝতেই পারলাম না যে এই লোক যে পরিচয় দিচ্ছে সেই পরিচয় সত্য হলে উনি এখানে কী করছেন। মাথা ঘামালাম না, জানি লাভ নাই ঘামিয়ে। বাংলামটর এসে আসলেই জীবনের অন্য এক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলাম। সাত আট তালা ওপরে একটা দালানের একটা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে যখন আমি তখনও জানি না দরকার ওপারে কি অপেক্ষা করছি। সাথের ভাইয়ের পরিচয় দেওয়া মাত্র দরজা খুলে গেল। খুলতেই প্রচণ্ড রকমের বাজনার শব্দ পেলাম। ঢুকে দেখি বড় একটা রুম। বাংলা সিনেমায় যেমন দেখা যায় তেমন করে বড় বড় সোফা ফেলা। তাতে গাদাগাদি করে বসে আছে অনেক মানুষ। একটু সামনে খোলা একটু জায়গা। তাতে মাইক্রোফোন স্ট্যান্ড। নারী শিল্পীরা গান গাচ্ছে। তাদের চলনবলনে বুঝলাম শুধু মাত্র গান গাওয়াই তাদের পেশা না সম্ভবত। কোন অজ্ঞাত কারনে সুপার হিরো মুভি গুলার সুপার হিরোইন কিংবা ভিলেনরা যেমন রাবারের চামড়া কামড়ে ধরে রাখার মত পোশাক পরে এরাও দেখলাম তেমন। এই জিনিস পরে চলা ফেরা করে ক্যামনে আল্লা মালুম। আমি দু চোখ ভরে দেখতে দেখতে একটা সোফার এক পাসে গিয়ে বসে পড়লাম। দেখলাম যারা বসে আছে তারা কেউ খালি হাতে না। সবার হাতেই মদের গেলাস। মদ বিক্রির আরেকটা মাধ্যম বুঝতে পারলাম। আমারা যে ভাইয়ের আওতায় তিনি সেখানে গিয়েই উনার আরেক ভাইয়ের দেখা পেলেন। বুঝলাম তিনি আরও বড় ভাই। আল্লার দুনিয়ায় এখন আর কেউ আওয়ামীলীগ ছাড়া নাই। তাই যত ভাই এখানে জমা হয়েছে তারা সকলেই আওয়ামীলীগের ভাই বেরাদর।এর মাঝেই হঠাৎ শিল্পী গান গিয়ে উঠল, যদি রাত পোহালে শোনা যেত বঙ্গবন্ধু মরে নাই… আমি একটু হচকচিয়ে গিয়ে ভাবলাম বাহ! বেশ তো! এই গানের সাথেও যে মানুষ ফুর্তি করতে পারে তা কল্পনা করা একটু কষ্টকর যে কারো জন্য। যাই হোক, গান শেষ হল। আমার অবাক হওয়ার তখনও যে কত বাকি তা জানতাম না। শিল্পী অন্য গান গাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু সেখানকার যে বড় ভাই তিনি আপত্তি জানালেন। বললেন, বঙ্গবন্ধু নিয়ে গান হয়ে যাওয়ার পর আর কোন গান হতে পারে না। আমার অবাক হওয়া শুরু হল কেবল। আমি ভাবলাম, এত প্রেম, মদের গেলাস হাতে কেন ভাইয়া!! তারপর ভাবলাম, তাহলে তো আজকের মত আসর শেষ। কিন্তু কত অজানারে! কেউ কেউ মৃদু আপত্তি তুলতে চাইলে আমাদের সঙ্গের বড় ভাই ধমক দিয়ে বলল, ভাই বলছে বঙ্গবন্ধুর গানে পর কোন গান হতে পারবে না, ব্যাস, আর কোন কথা হবে না এখানে, গান বন্ধ। গান বন্ধ হল, মাইক্রোফোন স্ট্যান্ড সরে গেল। আমাকে অবাক করতে করতে মেরে ফেলার জন্যই যেন বিপুল বিক্রমে নাচ শুরু হয়ে গেল!! আগে বলছি তাদের পোশাক আশাক বেশ রহস্যজনক, বেশ উদ্বেগজনকও বটে, তার মধ্যে যদি নাচ শুরু উঁচু আওয়াজে হিন্দি গানের সাথে তাহলে ওই বদ্ধ ঘরের অবস্থা কী হয় তা সহজেই অনুমেয়। আমি খালি ভাবছি, বঙ্গবন্ধুর গানের পর যদি আর গান না হতে পারে তাহলে নাচ শুরু হল কি মনে করে? ওরাই অবশ্য তাই বলছে, ওরা বলছে, ভাই গান হবে না বলেছে গান বন্ধ, নাচ তো আর ভাই না করে নাই, তাই নাচ শুরু। আমি বুঝলাম, এক রাতের পক্ষে অনেক হয়েছে, এবার সময় হয়েছে কেটে পরার। নচেৎ আমার শিশু পাকস্থলীতে এই গুরুপাক বদহজমের কারন হয়ে যেতে পারে। মগবাজারে আমার আরেক বন্ধু রাত করে রাস্তা মেরামতের কাজ করছে আমি জানি, ওকে ফোন দিয়ে বললাম গাড়ি নিয়ে আসতে পারবে কিনা, বলল, পাঁচ মিনিট লাগবে। আমি নিচে নেমে দাঁড়ালাম, ও আসতেই বললাম, এই এলাকা ছাড় আগে, জব্বর গপ্প শোনাব তোকে। আমি জানি ওরও এই দুনিয়া দেখার সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্য হয়নি, তাই ওকে বলে চমকে দেওয়া যাবে।

পরে আমার যে বন্ধুর সাথে ওইখানে গিয়েছিলাম ওকে নাকি ওই ভাই বলছে আমাকে আবার নিয়ে যেতে, সেদিন ঠিক মত আপ্যায়ন নাকি হয়নি। আমি শুধু ভাবছি আমার রাতের ঢাকা দেখা অপূরণ থেকে যেত এই জিনিস না দেখতে পারলে, যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তাই ঢের, রক্ষে করো আর চাহি না আমার।





866 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: রাতের ঢাকা শহর

আল্লার দুনিয়ায় আওয়ামী লীগ ছাড়া কিছু নাই -- কথা সত্য। তবে ইস্কাটনের বারে বসে সেভেন আপ খাওয়া ঠিক হয় নাই। আর লেখাটি বেশ এলোমেলো মনে হয়েছে। শুভ 🌹


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন