ফরিদা RSS feed

পাঁচকথা সাতকান করতে করতে উনিশ-বিশ যা হয় তারই সাত-সতের কথা। এর একচুল বেশিও না, কমও না।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • বদল
    ছাত্র হয়ে অ্যামেরিকায় পড়তে যারা আসে - আমি মূলতঃ ছেলেদের কথাই বলছি - তাদের জীবনের মোটামুটি একটা নিশ্চিত গতিপথ আছে। মানে ছিল। আজ থেকে কুড়ি-বাইশ বছর বা তার আগে। যেমন ধরুন, পড়তে এল তো - এসে প্রথম প্রথম একেবারে দিশেহারা অবস্থা হত। হবে না-ই বা কেন? এতদিন অব্দি ...
  • নাদির
    "ইনসাইড আস দেয়ার ইজ সামথিং দ্যাট হ্যাজ নো নেম,দ্যাট সামথিং ইজ হোয়াট উই আর।"― হোসে সারামাগো, ব্লাইন্ডনেস***হেলেন-...
  • জিয়াগঞ্জের ঘটনাঃ সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও ধর্মনিরপেক্ষতা
    আসামে এনার্সি কেসে লাথ খেয়েছে। একমাত্র দালাল ছাড়া গরিষ্ঠ বাঙালী এনার্সি চাই না। এসব বুঝে, জিয়াগঞ্জ নিয়ে উঠেপড়ে লেগেছিল। যাই হোক করে ঘটনাটি থেকে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই হবে। মেরুকরনের রাজনীতিই এদের ভোট কৌশল। ঐক্যবদ্ধ বাঙালী জাতিকে হিন্দু মুসলমানে ভাগ করা ...
  • অরফ্যানগঞ্জ
    পায়ের নিচে মাটি তোলপাড় হচ্ছিল প্রফুল্লর— ভূমিকম্পর মত। পৃথিবীর অভ্যন্তরে যেন কেউ আছাড়ি পিছাড়ি খাচ্ছে— সেই প্রচণ্ড কাঁপুনিতে ফাটল ধরছে পথঘাট, দোকানবাজার, বহুতলে। পাতাল থেকে গোঙানির আওয়াজ আসছিল। ঝোড়ো বাতাস বইছিল রেলব্রিজের দিক থেকে। প্রফুল্ল দোকান থেকে ...
  • থিম পুজো
    অনেকদিন পরে পুরনো পাড়ায় গেছিলাম। মাঝে মাঝে যাই। পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়, আড্ডা হয়। বন্ধুদের মা-বাবা-পরিবারের সঙ্গে কথা হয়। ভাল লাগে। বেশ রিজুভিনেটিং। এবার অনেকদিন পরে গেলাম। এবার গিয়ে শুনলাম তপেস নাকি ব্যবসা করে ফুলে ফেঁপে উঠেছে। একটু পরে তপেসও এল ...
  • কাঁসাইয়ের সুতি খেলা
    সেকালে কাঁসাই নদীতে 'সুতি' নামের একটা খেলা প্রচলিত ছিল। মাছ ধরার অভিনব এক পদ্ধতি, বহু কাল ধরে যা চলে আসছে। আমাদের পাড়ার একাধিক লোক সুতি খেলাতে অংশ নিত। এই মৎস্যশিকার সার্বজনীন, হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ে জনপ্রিয়। মনে আছে ক্লাস সেভেনে পড়ার সময় একদিন ...
  • শুভ বিজয়া
    আমার যে ঠাকুর-দেবতায় খুব একটা বিশ্বাস আছে, এমন নয়। শাশ্বত অবিনশ্বর আত্মাতেও নয়। এদিকে, আমার এই জীবন, এই বেঁচে থাকা, সবকিছু নিছকই জৈবরাসায়নিক ক্রিয়া, এমনটা সবসময় বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে না - জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য-পরিণ...
  • আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার চাই...
    দেশের সবচেয়ে মেধাবীরা বুয়েটে পড়ার সুযোগ পায়। দেশের সবচেয়ে ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিঃসন্দেহে বুয়েট। সেই প্রতিষ্ঠানের একজন ছাত্রকে শিবির সন্দেহে পিটিয়ে মেরে ফেলল কিছু বরাহ নন্দন! কাওকে পিটিয়ে মেরে ফেলা কি খুব সহজ কাজ? কতটুকু জোরে মারতে হয়? একজন মানুষ পারে ...
  • ইন্দুবালা ভাতের হোটেল-৭
    চন্দ্রপুলিধনঞ্জয় বাজার থেকে এনেছে গোটা দশেক নারকেল। কিলোটাক খোয়া ক্ষীর। চিনি। ছোট এলাচ আনতে ভুলে গেছে। যত বয়েস বাড়ছে ধনঞ্জয়ের ভুল হচ্ছে ততো। এই নিয়ে সকালে ইন্দুবালার সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে। ছোট খাটো ঝগড়াও। পুজো এলেই ইন্দুবালার মন ভালো থাকে না। কেমন যেন ...
  • গুমনামিজোচ্চরফেরেব্বাজ
    #গুমনামিজোচ্চরফেরেব্...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

শ্রীপঞ্চমী

ফরিদা

তখন চন্দ্র সূর্য উঠত, দু'শো ছয় সারা কলকাতা ঘুরে করুণাময়ী পৌঁছত। অনেকটা যেন, সারা দিন সারা রাত মিউজিকাল চেয়ার খেলার মতো — কে তোমাকে স্কুলে নিয়ে যেতে পারে, কে আবার ফেরাবে বিকেলে, যখন রোদ্দুরের তাত কিছুটা উতপ্ত হয় তোমার কপালে হাত রেখে। যে তোমাকে পেত, সেই বাসটি যেন অকারণে — টার্মিনাসের সামান্য বিশ্রামে রাতের আকাশ ব্ল্যাকবোর্ড মনে করে তারা জুড়ে জুড়ে ছবি টবি হিজিবিজি আঁকত, শব্দ জুড়ত মনে মনে। বাস কন্ডাক্টর এগরোল কিনে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতেন সেদিন আর তাসের আড্ডায় না গিয়ে। ড্রাইভারটি নিতেন পাড়ার কুকুরদের জন্য আস্ত দু-দু’'টো মেরি বিস্কুটের প্যাকেট।


হাঁটাপথে স্কুল থেকে বাসের রাস্তাটুকুর ধুলো বালি ইঁটের টুকরো, তিরপল বাঁশের পোশাকে চায়ের দোকান, তার ক্ষয়াটে রোগা নড়বড়ে অপুষ্ট বেঞ্চিবাচ্চারা, ছেলেদের ইস্কুলের মাতব্বর গেট, তাদের দোতলার বারান্দা মাটি থেকে অল্প গোড়ালি তুলে ঝাঁকড়া নিমগাছ ও বাউন্ডারি দেয়াল পেরিয়ে তোমাকে দেখত বা দেখার চেষ্টা করত ওই রাস্তা দিয়ে তোমাকে হেঁটে যেতে তাদের বিশাল আয়ুর মাত্র ওই কয়েকটি দিনে। সেই দেওয়াল লেখা থাকত “পৃথিবীর সব ভোট শুধু তোমার জন্য”, পোস্টার পড়ত “তুমি একবার যদি চাও, তাই আমি আজীবন সেঁটে রইলাম, চলন্ত ট্রামের গায়ে বিজ্ঞাপন - “জীবনানন্দের জন্য আমাদের এখনও ক্ষমা করলে না?”। আশিকি সিনেমার জ্যাকেটে ঢাকা পোস্টারের মধ্যে থেকে নায়ক নায়িকা অপলক তাকিয়ে থাকত তোমার দিকে। আর কেয়ামত সে কেয়ামত তক সিনেমার পোস্টারই বা কম কী, আমীর খানের ঘাড় ঘুরে যেত তোমার চলাচলে সে তো স্পষ্ট জানতই সবাই।

শ্রীপঞ্চমী টি সম্বৎসরের সত্যনারায়ণ সিন্নিপুজোর মধ্যে দুর্গাষ্টমী বিশেষ। সেই বাসরাস্তা, সেই বাসস্টপ থেকে স্কুল যাতায়াতটুকু প্রায় মহাকুম্ভের অমৃতযোগ। সেদিন চা দোকানের তাপ্পি দেওয়া তিরপলে রঙিন কাগজের ঝালর। নড়বড়ে বেঞ্চিবাচ্চারা ঠান্ডায় আরও ঠকঠকে হয়েও ন্যাপথলিন বলের গন্ধমাখা পোশাকের কাছাকাছি এসে পেপারমিন্ট খাওয়া বালকের মতো ঝকঝকে হাসে। চা ফোটানর স্যসপ্যানটিতে আজ তিন চারটে ছোট এলাচ পড়ল বলে সে প্রায় পায়েস রেঁধেছে মনে করে। নিমগাছটিতে নতুন ভর্তি হওয়া কচিপাতাদের দুর্দান্ত সবুজ ইউনিফর্মের কিচকিচানিতে প্রতিদিনের কাকেদের মিটিং অবধি খানিকটা চুপ। রাস্তা ধুতে মাঘের মহার্ঘ বৃষ্টি এসেছিল আগের রাত্রে। অনেক রাত অবধি তাদের তদারক করছিল শেষ শীতের প্রশ্রয় উষ্ণতা মাখা সামান্য বাচাল হাওয়া। রাস্তা থেকে ধুলোটুলো সাফ করে আলপনা দিয়েছিল নিমগাছটির পুরনো পাতা আর অজস্র কৃষ্ণচূড়ার পাপড়ি দিয়ে। ছেলেদের ইস্কুলের মাতব্বর গেটের পাল্লারা আজ খোলা। দরজার এমাথা থেকে ওমাথা কাগজের শিকল যা লাগান হয়েছিল তা গতরাতের বৃষ্টিতে তার একদিক খুলে গিয়ে হাওয়ায় হাওয়ায় পতাকা ওড়াতে চায়। দেবদারু পাতার ফেস্টুন যা ভোরে টাঙান হয়েছিল বলে বৃষ্টি বিপর্যস্ত নয়, সকালের হাওয়ায় সামান্য দোলে। গার্ড অফ অনার দিতে তোমাকেই, যখন সামনের রাস্তা দিয়ে তুমি যাও চলে।

ওই তো সামান্য ক্ষণ, যার জন্য রঙিন কাগজ জন্মায়, কিছুক্ষণ ওড়ে, রাতের বৃষ্টিতে ধুয়ে গিয়ে অন্যরকম হয় পরদিন জঞ্জালের বাক্সে পড়বে জেনে। যার জন্য রাস্তা জোড়া কৃষ্ণচূড়া পাপড়ির রেড কার্পেট, যার জন্য চা দোকানের নড়বড়ে বেঞ্চিবাচ্চারা আপ্লুত হতে হতে নার্ভাস হয়ে যায়, ভাবে কিছু বলবে এইবার - বলা হয় না। ওই বুড়ো নিমগাছের ইস্কুলে ভর্তি হওয়া নতুন পাতারা জড়ো হয় তারা সবাই ওই ক্ষণটুকুই বেঁচে থাকে। তার আগে কিছুই ছিল না যেন। তার পরে কিছুই থাকে না। চায়ের স্যসপ্যান ক্রমশ তুবড়ে যেতে যেতে বাতিল হয়। চা - দোকানও উঠে যায় কালে কালে। তাতে কিছু যায় আসে না। তুমি তো আর ফিরে আসনি নাটকের দৃশ্য বদলালে।

এও জানি, সেই বৃষ্টিভেজা রোদ্দুর সেই শহর সেই মুহূর্তদের অ্যালবাম তৈরি করে রেখেছিল বলে, আজও মন খারাপ হ'লে সে একলা একলা ওইসব নিজে নিজে বসে বসে দেখে। ঠিক সে কারণেই প্যাচপ্যাচে গরমের পর আকাশ কালো করে ঝড়বৃষ্টি আসে, প্রচন্ড শীতের পর ফুরফুরে দক্ষিণের হাওয়া যা কি না সামান্য হলদে রং নিয়ে নতুন পাতাদের চমৎকৃত করে। কিছুটা বদলে দেয়, এও জানি, যেমন শ্রীপঞ্চমীতে দোলের কৃষ্ণচূড়া এনে মেশায়, অনেকটা ভ্রমণের সময়, লাগেজের মধ্যে লেখার খাতার সঙ্গে চিরুনি আটকে থাকে। জানি সেই রাস্তারা তাদের নতুন অংশদের সে কথা বিশদে বলেছে এত যে তুমি সেখানে আজ প্রায় প্রবাদে পরিণত। যাবে নাকি আরও একবার? দেখই না একবার গিয়ে — সেই বাস, সেই রাস্তা, মুহূর্তরা দেখবে মাটি ফুঁড়ে ফের জন্মেছে এখনও সতেজ, ওই ভাষাতেই তোতলায় এখনও তোমায় দেখলে - দেখ, কী করে ওরা আবার তোমাকে নিয়ে, শুনবে ঠিক কোন কথা বলতে চেয়েছিল, যদি আজ একবার বলে ফেলে।



339 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: ফরিদা

Re: শ্রীপঞ্চমী

#


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন