Saikat Bandyopadhyay RSS feed

Saikat Bandyopadhyayএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • আর কিছু নয়
    প্রতিদিন পণ করি, তোমার দুয়ারে আর পণ্য হয়ে থাকা নয় ।তারপর দক্ষিণা মলয়ের প্রভাবে, পণ ভঙ্গ করে, ঠিক ঠিকখুলে দেই নিজের জানা-লা। তুমি ভাব, মূল্য পড়ে গেছে।আমি ভাবি, মূল্য বেড়ে গেছে।কখন যে কার মূল্য বাড়ে আর কার কমে , এই কথা ক'জনাই বা জানে?এই না-জানাদের দলে আমিই ...
  • একা আমলকী
    বাইরে কে একটা চিৎকার করছে। বাইরে মানে এই ছোট্টো নোংরা কফির দোকানটা, যার বৈশিষ্ট্যহীন টেবিলগুলোর ওপর ছড়িয়ে রয়েছে খাবারের গুঁড়ো আর দেয়ালে ঝোলানো ফ্যাকাশে ছবিটা কোনো জলপ্রপাত নাকি মেয়ের মুখ বোঝা যাচ্ছে না — এই দোকানটার দরজার কাছে দাঁড়িয়ে কেউ চিৎকার করছে। ...
  • গল্পঃ রেড বুকের লোকেরা
    রবিবার। সকাল দশটার মত বাজে।শহরের মিরপুর ডিওএইচেসে চাঞ্চল্যকর খুন। স্ত্রীকে হত্যা করে স্বামী পলাতক।টিভি স্ক্রিণে এই খবর ভাসছে। একজন কমবয়েসী রিপোর্টার চ্যাটাং চ্যাটাং করে কথা বলছে। কথা আর কিছুই নয়, চিরাচরিত খুনের ভাষ্য। বলার ভঙ্গিতে সাসপেন্স রাখার চেষ্টা ...
  • মহাভারতের কথা অমৃতসমান ২
    মহাভারতের কথা অমৃতসমান ২চিত্রগুপ্ত: হে দ্রুপদকন্যা, যজ্ঞাগ্নিসম্ভূতা পাঞ্চালী, বলো তোমার কি অভিযোগ। আজ এ সভায় দুর্যোধন, দু:শাসন, কর্ণ সবার বিচার হবে। দ্রৌপদী: ওদের বিরূদ্ধে আমার কোনও অভিযোগ নেই রাজন। ওরা ওদের ইচ্ছা কখনো অপ্রকাশ রাখেন নি। আমার অভিযোগ ...
  • মহাভারতের কথা অমৃতসমান
    কুন্তী: প্রণাম কুরুজ্যেষ্ঠ্য গঙ্গাপুত্র। ভীষ্ম: আহ্ কুন্তী, সুখী হও। কিন্তু এত রাত্রে? কোনও বিশেষ প্রয়োজন? কুন্তী: কাল প্রভাতেই খান্ডবপ্রস্থের উদ্দেশ্যে যাত্রা করব। তার আগে মনে একটি প্রশ্ন বড়ই বিব্রত করছিল। তাই ভাবলাম, একবার আপনার দর্শন করে যাই। ভীষ্ম: সে ...
  • অযোধ্যা রায়ঃ গণতন্ত্রের প্রত্যাশা এবং আদালত
    বাবরি রায় কী হতে চলেছে প্রায় সবাই জানতেন। তার প্রতিক্রিয়াও মোটামুটি প্রেডিক্টেবল। তবুও সকাল থেকে সোশ্যাল মিডিয়া, মানে মূলতঃ ফেবু আর হোয়াটস অ্যাপে চার ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখলাম। বলাই বাহুল্য সবগুলিই রাজনৈতিক পরিচয়জ্ঞাপক। বিজেপি সমর্থক এবং দক্ষিণপন্থীরা ...
  • ফয়সালা বৃক্ষের কাহিনি
    অতিদূর পল্লীপ্রান্তে এক ফয়সালা বৃক্ষশাখায় পিন্টু মাষ্টার ও বলহরি বসবাস করিত । তরুবর শাখাবহুল হইলেও নাতিদীর্ঘ , এই লইয়া , সার্কাস পালানো বানর পিন্টু মাষ্টারের আক্ষেপের অন্ত ছিলনা । এদিকে বলহরি বয়সে অনুজ তায় শিবস্থ প্রকৃতির । শীতের প্রহর হইতে প্রহর ...
  • গেরিলা নেতা এমএন লারমা
    [মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ব্যক্তি ও রাজনৈতিক জীবনের মধ্যে লেখকের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে, তার প্রায় এক দশকের গেরিলা জীবন। কারণ এম এন লারমাই প্রথম সশস্ত্র গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে পাহাড়িদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখান। আর তাঁর ...
  • হ্যামলিনের বাঁশিওলা
    হ্যামলিনের বাঁশিওলার গল্পটা জানিস তো? একটা শহরে খুব ইঁদুরের উপদ্রব হয়েছিল। ইঁদুরের জ্বালায় শহরের লোকের ত্রাহি ত্রাহি রব। কিছুতেই ইঁদুর তাড়ান যাচ্ছেনা। এমন সময়ে হ্যামলিন শহর থেকে একজন বাঁশিওলা বাঁশি নিয়ে এল। শহরের মেয়রকে বলল যে উপযুক্ত পারিশ্রমিক পেলে সে ...
  • প্রেমের জীবন চক্র অথবা প্রেমিক-প্রেমিকার
    "তোমার মিলনে বুঝি গো জীবন, বিরহে মরণ"।প্রেমের চরম স্টেজটা পার করতে গিয়ে এই রকম একটা অনুভূতি আসে। একজন আরেকজনকে ছাড়া বাঁচে না। এই স্টেজটা যদি কোনভাবে খারাপের দিকে যায় তখন মানুষের নানা পাগলামি লক্ষ্য করা যায়। কখনো কখনো পাগলামিটা তার গন্ডি ছাড়িয়ে ছাগলামিতে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

পাড়াতুতো চাঁদ

Saikat Bandyopadhyay

আজ মুণ্ডু কাটার পালা গল্পকার ইন্দ্রাণী দত্তর, যাঁকে আমি দীর্ঘদিন ধরে টিটি দিদি বলে ডেকে থাকি। এই জন্য একেবারেই নয়, যে, তিনি একদা টোরান্টোর লোকাল ট্রেনে কালো কোট পরে টিটিগিরি করতেন। ওসব গল্পকথা। কালো কোট অবশ্যই তাঁর ছিল এবং আছে, কিন্তু তিনি হলেন অনুভূতির টিকিট-পরীক্ষক, ট্রেনের সঙ্গে যার কোনো সম্পর্ক নেই। তাঁর টোরান্টোর কালও কবেই খতম হয়ে গেছে। অর্ধেক আকাশ উড়ে এখন তিনি অস্ট্রেলিয়ায় ডেরা বেঁধেছেন, কিন্তু বিশ্বস্ত সূত্রের খবর কোটটি নিয়ে যেতে ভোলেননি। সে বস্তু আজও তাঁর চিরসঙ্গী। ভেন্ডার কম্পার্টমেন্টে বেশি অনুভূতি ঠাসাঠাসি হয়ে গেলেই, তিনি কোট বাগিয়ে প্রশ্ন করেন, কামরায় যে এত জঞ্জাল ডাঁই করে রেখেছেন দাদা ও দিদিরা, দেখান তো একটু টিকিটটা?

এ হেন টিকিট পরীক্ষকের সঙ্গে আমার আলাপ-পরিচয়ের কারণ খুব পরিষ্কার। লোকাল ট্রেনে আর বাসে, পত্রিকা আর সোশাল মিডিয়ায় আমার ডেলিপ্যাসেঞ্জারি। রোজকার কারবার বলে ভিড়ভাট্টা কিঞ্চিৎ কম হলে বাঁচি। তার মানে অবশ্য এই নয়, যে, অনুভূতিতে আমার বিশেষ কোনো সমস্যা আছে। সকালের ট্রেনে সূর্য দেখলে কারো মন খারাপ করে, জ্যোৎস্নারাতে কেউ কারো ফুর্তির প্রাণ গড়ের মাঠ হয়, পা মাড়িয়ে দিলে কেউ খাল খিঁচে নেবে বলে খিস্তি করে, সেসব একদম ঠিকই আছে। কিন্তু ভিড়ভাট্টার প্যান্ডেলে 'অনুভূতিতে নমো করো' শুনলেই, দোষ নাস্তিক্যেরই হবে, হাল্কা করে গা জ্বলে। সাজানো ওরিগ্যামি দেখলেই আমার নকশা ছিঁড়ে কাগজের টেক্সচার পরখ করতে ইচ্ছে করে। খোলা চুলের নগরললনাদের উদাস নয়নের সেলফি দেখলেই মনে হয়, নির্ঘাত এইমাত্র কলতলায় ঝগড়া করে এসে মন হাল্কা করছে। বাস্তব দুনিয়ায় মূলত সেরকমই হয়। 'ওমুক পড়ে সারাদিন মন খারাপ হয়ে থাকবে' বলে টলে লোকে চিলি-চিকেন সাঁটাতে চলে যায়। 'তোমার সাফল্যে গর্বে বুক ফুলে গেল' বলার তিনদিন পরেই উদোম খিস্তাখিস্তি। ট্রেনময় তখন শুধু পড়ে থাকে বাক্যের জঞ্জাল।

আজকাল লেখালিখির দিনকাল মূলত এইরকমই। কেউ একজন লিখলেন, 'জানো ভাই ১৯৯৬ সালের তেসরা জানুয়ারি আমার পাছায় একজন চিমটি কেটে দিয়েছিল, আজও মন ব্যথায় টলমল'। শুনে পৃথিবীতে সহানুভূতির ঝড়, সোশাল মিডিয়ায় তিনশ তেত্রিরিশটি ভালোবাসা ও দুশোএগারোটি মন্তব্য। কেউ আদরবাসা দিচ্ছেন, কেউ বলছেন সঙ্গে আছি। কেউ বলছেন, আহা তোমার সেই নিষ্পাপ নিটোল পাছা, ভেবেই কান্না পাচ্ছে। কেউ 'জানো সেই ক্লাস ইলেভেনে বাদামের খোসা ছাড়াতে গিয়ে আঙুলে খোঁচা লেগেছিল, এখনও আঙুল টনটন করে' বলে সহমর্মিতা জানাচ্ছেন। ইত্যাদি প্রভৃতি। এখানে অবশ্যই বাস্তব দুনিয়ার কথা হচ্ছেনা, লেখালিখির কথা। বাস্তব দুনিয়ায় এসব যা খুশি হোক, গোল্লায় যাক, কিন্তু লেখালিখিতে এসব অচল। লিখতে গেলে, বরং, প্রশ্ন করতে হবে। করতেই হবে। সত্যিই লেগেছিল তো? কী ছিল তার ইতিহাস, কী ছিল ভূগোল? ব্যথাই ছিল তো, না পুরোটাই আজকের কম্পোজিশন? এইসব। কারণ, বহুকাল আগেই একজন কোনো একজন বৃদ্ধ বলে গিয়েছিলেন, 'অপরীক্ষিত জীবন বাঁচিবার যোগ্য নহে'। টিকিট-পরীক্ষকের কালো কোটের কথা অবশ্য বলেননি, কারণ তখন গণপরিবহন নামক বস্তুটি ছিলনা।

তা, যবে থেকে চিনি, ইন্দ্রাণী দত্ত, এই কাজটি করে আসছেন, যেজন্য তাঁর নাম টিটি-দিদি। টোরান্টোর লোকাল ট্রেনে চড়তেন বলে নয়। অনুভূতি এবং শব্দমালা নিয়েই তাঁর কারবার। কিন্তু তারা কখনও একটি বারের জন্যও অপরীক্ষিত নয়। প্রশ্নচিহ্নের ঊর্ধ্বে নয়। কম্পোজিশনের জগতে অবশ্য কোনো নির্দিষ্ট লিটমাস নেই, যা দিয়ে সব পরীক্ষা এবং তার ফলাফল ঠিক না ভুল দুমদাম বলে দেওয়া যাবে। বস্তুত প্রশ্নচিহ্নের ঊর্ধ্বে নয় বলেই তাঁর পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিয়েও প্রশ্ন তোলাই যায়, যাকে সাহিত্য সমালোচনা বলা হয়। সেসব কাটাছেঁড়া করা যেতেই পারে, কিন্তু কিন্তু নির্দ্বিধায় এক নিঃশ্বাসে যেটুকু বলে দেওয়া যায়, তা হল, পরীক্ষা না করে একটিও শব্দ, একটি অনুভূতির আখ্যানও তাঁর হাত থেকে কখনও বেরোয়নি।

গুরুর আঙিনা থেকে এবারই বেরোলো টিটিদিদির গল্প সংকলন। পাড়াতুতো চাঁদ।

799 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: খাতাঞ্চী

Re: পাড়াতুতো চাঁদ

.
Avatar: দ

Re: পাড়াতুতো চাঁদ

এরপরে নিশ্চয় আরো কেউ ইন্দ্রাণীর লেখার মূল্যায়ন করবে, কিন্তু একহনও পর্যন্ত এইটা সেরা।

" ভেন্ডার কম্পার্টমেন্টে বেশি অনুভূতি ঠাসাঠাসি হয়ে গেলেই, তিনি কোট বাগিয়ে প্রশ্ন করেন, কামরায় যে এত জঞ্জাল ডাঁই করে রেখেছেন দাদা ও দিদিরা, দেখান তো একটু টিকিটটা?
"

একদম একদম! শুধু তাইই নয়, অনুভুতি একটু কম হলেও প্রশ্ন চশমার ফাঁক দিয়ে প্রশ্ন করেন "কি হে পিঁপড়ে টিপড়ে দেখো নি?' না দেখলেও ভয়েচ্চোটে তখন সেসব বলে ওঠা যায় না।


Avatar: Aniket Pathik

Re: পাড়াতুতো চাঁদ

পাড়াতুতো চাঁদ। কথাটা কানে ঢুকলেই যা মনে হয়, মানে অন্ততঃ আমার যা মনে হয়েছে, এই বই আদতে ঠিক তাই। সামান্য একটু ওপর থেকে, বেশি ওপর থেকে নয় কিন্তু, জীবনকে দেখলে যেমন আপনি অনেক দূর অবধি দেখতে পাবেন, অনেক খুটিনাটি চোখে পড়বে, আবার কিছু কিছু জিনিস অদেখা-অজানা থেকে যাবে…তেমন একটা আড়াই বা ২.২৫ মাত্রিক জীবনের গল্প পেয়ে যাবেন এই বইতে।
ভয় পাবেন না, এই বই একেবারেই আপনার বুদ্ধির পরীক্ষা নেবে না, বোধের কিঞ্চিৎ পরীক্ষা নিলেও নিতে পারে, তবে তাতেও চাপে পড়ে যাবার কিচ্ছু নেই। বরং লেখক সারাক্ষনই একটা চেনা-শোনা জীবনের গল্প শোনাবেন, যার খাঁজে খাঁজে চোখে পড়বে জলের ফোঁটায় রামধনুর রঙ কিম্বা রাস্তায় জমে থাকা জলে ছিটকে ওঠা চাঁদের আলো। না না এইগুলো কোনো উপমা নয়, একেবারে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য সত্যিকারের ছবি। আকাশে মেঘ ভেঙে ভেঙে বিচিত্র গঠন তৈরী হওয়া থেকে মোড়া টানার বিশেষ শব্দ, খবরের কাগজে ছাপা আত্মহত্যার গ্রামের খবর থেকে ভারত-পাকিস্তান টানাপোড়েন, এমন অনেক কিছু মেমরী ড্রাইভ থেকে বেরিয়ে লেখকের নিজস্ব এক পাকদন্ডী বা লগারিদ্‌মিক স্পাইরাল বেয়ে মিশে যাবে পাঠকের চেতনায়। কোথাও কোথাও সামান্য জাদুবাস্তবতার সঙ্গেও। তারই নাম পাড়াতুতো চাঁদ। সব প্রশ্নের উত্তর গল্পে নাও পাওয়া যেতে পারে, কেনই বা যাবে, চোখ বুঁজলে আয়নায় আপনাকে কেমন দেখায় আপনি কি জানেন ? তাহলে গল্পের কাছে সব উত্তর কেন থাকতে হবে !
লেখক ইন্দ্রাণী দত্ত আমাদের বহুদিনের পরিচিত। বাংলালাইভ থেকে গুরুচন্ডালী, এইসময় থেকে দেশ পত্রিকা এবং অন্যন্য অনেক পত্র-পত্রিকায় তিনি লেখালেখি করছেন দীর্ঘদিন ধরে। তাঁর লেখায় গভীর যত্নের পরিচয় পাঠক নিজের দায়িত্বে আবিস্কার করবেন। লেখার ‘ফর্ম’ ও ‘কন্টেক্সট’, প্রতিটি শব্দ এমনকি যতিচিহ্নও সুচিন্তিত, হয়তো পরীক্ষিতও। তা নিয়ে বেশি কথা বলার কোনো মানে হয় না। কিন্তু তা কোথাও গল্পের স্বতঃস্ফূর্ততাকে আটকায়নি, এটাই লেখকের সবচেয়ে বড় জিত। আমি বহুদিন ধরে চাইছিলাম এই বইটা, তাই আমি বইটা কিনব আপনাকেও কেনাব...এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার ইত্যাদি।
Avatar: Atoz

Re: পাড়াতুতো চাঁদ

সেই বৃদ্ধের গণতন্ত্র ছিল। কিন্তু হায়, গণপরিবহন ছিল না। ঃ-)
সেইজন্যেই পরবর্তীকালে গণতন্ত্র ঘেঁটে গেল কিনা কেজানে!
Avatar: Ishan

Re: পাড়াতুতো চাঁদ

গতকাল রাতে এই লেখাটি লিখে ভাবিনি কোনো অনুচিত কাজ করছি। কিন্তু আজ সকালে উঠে দেখলাম, ফেবুতে পরিচিতরা লিখছেন লেখাটি মিটু বিরোধী ইত্যাদি। আমি, শুনে, যাকে বলে ইনস্যাট কততম যেন থেকে পড়েছিলাম , কারণ জেন্ডার এবং জেন্ডার সংক্রান্ত আন্দোলন নিয়ে নানা জায়গায় আমি নানা মন্তব্য খোলাখুলি করে থাকলেও, এই লেখার সঙ্গে তার বহুদূর পর্যন্ত সম্পর্ক নেই। ইনিশিয়াল শক কাটার পর দু-একটি জায়গায় খুঁজে মূল রহস্যটি খানিক উদ্ধার হল। 'জানো ভাই ১৯৯৬ সালের তেসরা জানুয়ারি আমার পাছায় একজন চিমটি কেটে দিয়েছিল, আজও মন ব্যথায় টলমল' -- লেখায় এই লাইনটিই সব সমস্যার উৎস। পাছা এবং চিমটি, অতএব জেন্ডার। চিমটির জ্বালাকে অস্বীকার, ব্যথিত পাছায় অন্যের হাত বোলানোর সংবেদনশীলতাকে অস্বীকার, অতএব ইনসেনসিটিভিটি, ভিকটিম ব্যাশিং ইত্যাদি সোজাসাপ্টা ও সরল যুক্তিপরম্পরা।

নিজের লেখালিখির মানেবই আমি লিখিনা। কিন্তু ফেবুতেও এইরকম একটি বস্তু লিখে টাঙিয়েছি, এখানেও লিখছি, কারণ এইটিতে আমার প্রিয় লেখিকা ইন্দ্রাণী দত্তর বই জড়িয়ে, যে বই নিয়ে লেখায় আর যাই হোক অন্তত জেন্ডার-বিতর্ক আমি টেনে আনতে চাইনা, তাই প্রতিজ্ঞা চুলোয় দিয়ে এক-আধটা কথা বলেই দিই। পাছায় চিমটি, আমার নিজের বহুব্যবহৃত একটি অভিব্যক্তি। ওটা লিখতে আমি ভালোবাসি। আজ থেকে দশ বছরেরও বেশি আগে ল্যালা ম্যানিফেস্টো নামক একটি লেখায় লিখেছিলাম, 'ভাবগম্ভীর সভার মধ্যে বক্তার নিতম্বে ভার্চুয়াল চিমটি কেটে পালিয়ে যাবে ফচকে ছোঁড়া। সাজানো ড্রইংরুমে টিভির পাশে রেখে দেওয়া হবে দুটো চামচ আর একপাটি জুতো, টেবিলে ফ্লাওয়ার ভাসের পাশে থাকবে একখানি তোবড়ানো কোকের বোতল। গাম্ভীর্য আর প্র্যাকটিকাল জোক, রসিকতা আর কালো হিউমার পাশাপাশি রেখে তৈরি হবে বিচিত্র এক অর্ডার অফ থিংস।' এর পরেও আরও একাধিকবার পাছা এবং চিমটি নিয়ে লিখেছি, কিন্তু কোথায় খেয়াল নেই। ঈশ্বর জানেন, আজকের সমালোচকরা হয়তো বলবেন, এসবে পাছায় চিমটি কাটাকে গ্লোরিফাই করা হয়েছে। রুপান দেওল বাজাজের সংগ্রামকে ছোটো করা হয়েছে। ইত্যাদি ইত্যাদি। এমনকি যা দিনকাল, এই যে লিখলাম 'ওটা লিখতে আমি ভালোবাসি' -- এরও মানে হতে পারে, উনি তো পাছায় চিমটি ভালোবাসেন। আমার শুনে অ্যাবসার্ড লাগতে পারে, ইনস্যাটের বদলে মঙ্গলগ্রহ থেকেও পড়তে পারি, কিন্তু কেউ কেউ বলতেই পারেন, কিছুই বিশ্বাস নেই।

তবু, কবিগুরু বলেছেন, মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ। তাই, যেটা আগেই লিখেছি, আরেকবার লিখি। জেন্ডার এবং জেন্ডার আন্দোলন নিয়ে আমার মতামতে লুকোছাপা কিচ্ছু নেই, অতীতেও ছিলনা, ভবিষ্যতেও থাকবেনা। সে নিয়ে জলঘোলা করা কিছু কম হয়নি, তাতে আমার অবস্থান আমি ছাড়িনি, ছাড়ছিওনা। কিন্তু এই বিশেষ লেখাটির সঙ্গে, টিটিদিদির বই জড়িত আছে বলেই, জেন্ডার দৃষ্টিভঙ্গীর কোনো সম্পর্ক নেই। সংবেদনশীলতা বনাম অতিসংবেদনশীলতা বা তার ভানের একটা দ্বৈত অবশ্যই তৈরি করা হয়েছে, কিন্তু তার সঙ্গে মিটু-টিটুর সম্পর্কহীন। যেখানে মিটু নিয়ে, জেন্ডার নিয়ে লিখব, খোলাখুলিই লিখব, নিঃসন্দেহে তার কিছু সমালোচনা প্রাপ্য হতেই পারে। কিন্তু, কিচ্ছু না লিখেও ফালতু টিটিদিদির বইকে এইটার সঙ্গে জড়িয়ে ফেলা হবে, আমার কল্পনার অতীত ছিল। যাক লিখে ফেলেছি আর কী হবে। সেই জন্যই এই ছোট্টো বক্তব্য জুড়ে দিলাম। এইটুকুই।

Avatar: Atoz

Re: পাড়াতুতো চাঁদ

তখন বৃহস্পতিগ্রহ থেকে পড়তে হবে। ঃ-)
Avatar: সিকি

Re: পাড়াতুতো চাঁদ

না মানে, এতকিছু লেখার দরকার ছিল না। লাইনটা কোনওভাবেই জাস্টিফাই করা যায় না, এখনও গেল না। এবং লাইনটা টিটিদিদির বইয়ের প্রোমোর অংশ হিসেবেও, একেবারে অপ্রয়োজনীয় আর সামঞ্জস্যবিহীন লাগল।
Avatar: Ishan

Re: পাড়াতুতো চাঁদ

সিকি, আমি কোনো জাস্টিফিকেশন লিখিনি। তুমি এবং তোমরা কিছু লেখা লিখেছ, সেগুলিকে ভুলভাল এবং সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেছি মাত্র। এটাকে পাঠপ্রতিক্রিয়া হিসেবে নিতে পার।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন