Tapas Kumar Das RSS feed

Tapas Kumar Dasএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • আমাদের চমৎকার বড়দা প্রসঙ্গে
    ইয়ে, স-অ-অ-অ-ব দেখছে। বড়দা সব দেখছে। বড়দা স্রেফ দেখেনি ওইখানে এক দিন রাম জন্মালেন, তার পর কারা বিদেশ থেকে এসে যেন ভেঙেটেঙে মসজিদ স্থাপন করল, কেন না বড়দা তখন ঘুমোচ্ছিলেন। ঘুম ভাঙল যখন, চোখ কচলেটচলে দেখলেন মস্ত ব্যাপার এ, বড়দা বললেন, ভেঙে ফেলো মসজিদ, জমি ...
  • ধর্ষকের মৃত্যুদন্ড দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ?
    যেকোন নারকীয় ধর্ষণের ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়ে সামনে আসার পর নাগরিক হিসাবে আমাদের একটা ঈমানি দায়িত্ব থাকে। দায়িত্বটা হল অভিযুক্ত ধর্ষকের কঠোরতম শাস্তির দাবি করা। কঠোরতম শাস্তি বলতে কারোর কাছে মৃত্যুদন্ড। কেউ একটু এগিয়ে ধর্ষকের পুরুষাঙ্গ কেটে নেওয়ার ...
  • তোমার পূজার ছলে
    বাঙালি মধ্যবিত্তের মার্জিত ও পরিশীলিত হাবভাব দেখতে বেশ লাগে। অপসংস্কৃতি নিয়ে বাঙালি চিরকাল ওয়াকিবহাল ছিল। আজও আছে। বেশ লাগে। কিন্তু, বুকে হাত দিয়ে বলুন, আপনার প্রবল ক্ষোভ ও অপমানে আপনার কি খুব পরিশীলিত, গঙ্গাজলে ধোওয়া আদ্যন্ত সাত্ত্বিক শব্দ মনে পড়ে? না ...
  • The Irishman
    দা আইরিশম্যান। সিনেমা প্রেমীদের জন্য মার্টিন স্করসিসের নতুন বিস্ময়। ট্যাক্সি ড্রাইভার, গুডফেলাস, ক্যাসিনো, গ্যাংস অব নিউইয়র্ক, দা অ্যাভিয়েটর, দ্য ডিপার্টেড, শাটার আইল্যান্ড, দ্য উল্ফ অব ওয়াল স্ট্রিট, সাইলেন্টের পরের জায়গা দা আইরিশম্যান। বর্তমান সময়ের ...
  • তোকে আমরা কী দিইনি?
    পূর্ণেন্দু পত্রী মশাই মার্জনা করবেন -********তোকে আমরা কী দিইনি নরেন?আগুন জ্বালিয়ে হোলি খেলবি বলে আমরা তোকে দিয়েছি এক ট্রেন ভর্তি করসেবক। দেদার মুসলমান মারবি বলে তুলে দিয়েছি পুরো গুজরাট। তোর রাজধর্ম পালন করতে ইচ্ছে করে বলে পাঠিয়ে দিয়েছি স্বয়ং আদবানীজীকে, ...
  • ইশকুল ও আর্কাদি গাইদার
    "জাহাজ আসে, বলে, ধন্যি খোকা !বিমান আসে, বলে, ধন্যি খোকা !এঞ্জিনও যায়, ধন্যি তোরে খোকা !আসে তরুণ পাইওনিয়র,সেলাম তোরে খোকা !"আরজামাস বলে একটা শহর ছিল। ছোট্ট শহর, অনেক দূরের, অন্য মহাদেশে। অনেক ছোটবেলায় চিনে ফেলেছিলাম। ভৌগোলিক দূরত্ব টের পাইনি।টের পেতে দেননি ...
  • ছন্দহীন কবিতা
    একদিন দুঃসাহসের পাখায় ভর করে,ছুঁতে চেয়েছিলাম কবিতার শরীর ।দ্বিখন্ডিত বাংলার মত কবিতা হয়ে উঠলোছন্দহীন ।অর্থহীন যাত্রার “কা কা” চিৎকারে,ছুটে এলোপ্রতিবাদী পাঠক।ছন্দভঙ্গের নায়কডানা ভেঙ্গে পড়িপুঁথি পুস্তকের এক দোকানে।আলোক প্রাপ্তির প্রত্যাশায়,যোগ ধ্যানে কেটে ...
  • হ্যালোউইনের ভূত
    হ্যালোউইন চলে গেল। আমাদের বাড়িতে হ্যালোউইনের রীতি হল মেয়েরা বন্ধুদের সঙ্গে ট্রিক-অর-ট্রিট করতে বেরোয় দল বেঁধে। পেছনে পেছনে চলে মায়েদের দল। আর আমি বাড়িতে থাকি ক্যান্ডি বিতরণ করব বলে। মুহূর্মুহূ কলিং বেল বাজে, আমি হাসি-হাসি মুখে ক্যান্ডির গামলা নিয়ে দরজা ...
  • হয়নি
    তুমি ভালবাসতে চেয়েছিলে।আমিও ।হয়নি।তুমিঅনেক দূর অব্দি চলে এসেছিলে।আমিও ।হয়নি আর পথ চলা।তুমি ফিরে গেলে,জানালে,ভালবাসতে চেয়েছিলেহয়নি। আমি জানলামচেয়ে পাইনি।হয়নি।জলভেজা চোখে ভেসে গেলআমাদের অতীত।স্মিত হেসে সামনে এসে দাঁড়ালোপথদুজনার দু টি পথ।সেপ্টেম্বর ২২, ...
  • তিরাশির শীত
    ১৯৮৩ র শীতে লয়েডের ওয়েস্টইন্ডিজ ভারতে সফর করতে এলো। সেই সময়কার আমাদের মফস্বলের সেই শীতঋতু, তাজা খেজুর রস ও রকমারি টোপা কুলে আয়োজিত, রঙিন কমলালেবু-সুরভিত, কিছু অন্যরকম ছিলো। এত শীত, এত শীত সেই অধুনাবিস্মৃত কালে, কুয়াশাআচ্ছন্ন পুকুরের লেগে থাকা হিমে মাছ ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

সুর ই ঈশ্বর

Tapas Kumar Das

দীক্ষা (স্থানীয় উচ্চারণে দীকষা) রাণী। বাড়ি হরিয়াণা রাজ্যের সোনীপত্ জেলার প্রত্যন্ত এক গ্রাম এ। ছোটবেলা থেকেই উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত এ অগাধ উত্সাহ। কিন্তু অর্থনৈতিক এবং সামাজিক ভাবে অনগ্রসর শ্রেনীর হওয়ার ফলে, সেভাবে কোনো সুযোগ সুবিধা পান নি তথাকথিত কোন এলিট জায়গায় সঙ্গীতশিক্ষার। নিজে নিজে যতটা পারেন, এগিয়েছেন - এবং অনেকটাই এগিয়েছেন।

পরিচয় হলো প্রয়াগ সঙ্গীত সমিতি তে, গতকাল বিকেলে আমার মেয়ের বার্ষিক পরীক্ষা ছিলো তবলা`র (দ্বিতীয় বর্ষে ওঠার), তাকে পরীক্ষা দেওয়াতে নিয়ে গিয়ে। বড়দের (সপ্তম বর্ষ থেকে) খেয়াল এর বার্ষিক পরীক্ষা ও ছিলো এক ই দিনে।

`থাকেন কোথায় ? ' - প্রশ্ন করি।

উত্তরে দীক্ষা উপরোক্ত তথ্য দেন।

`বাবা ! অত দূর থেকে এসেছেন পরীক্ষা দিতে?' - অবাক হই। সঙ্গীতের প্রতি প্রভূত ভালবাসা না হলে তো এমনটি সম্ভবে না।

তবে অবাক হওয়ার অনেক বাকি ছিলো। ভারতবর্ষ কে চেনার` ও। আমার প্রশ্নের উত্তরে উনি লাজুক হাসেন মাথা নামিয়ে। 'কি করব বলুন, আমাদের ওখানে তো সুযোগ সুবিধা নেই, নিজে নিজে যা শিখি, পরীক্ষা টা দিতে তো এখানে আসতেই হবে। তাছাড়াও, এই সুত্রে এখানে কত বিভিন্ন কলাবত্ - তাঁদের সাথে আলাপ হলে বা দু পাঁচ মিনিট তাঁদের শুনতে পেলেও ধণ্য হই। '

`এলেন কিভাবে?'

`আর বলবেন না ভাইয়া। ট্রেন এর টিকেট পাওয়া মুশকিল এত...'

`ঠিক`ই তো।' মাথা নাড়ি। দিনরাত ইলাহাবাদ কোলকাতা করা এই অধমের সেটা কি আর জানতে বাকি আছে ?

`তত্কাল এ এলেন নিশ্চই ?'

`সেটা কি?' - অবাক দেখায় ওনাকে।

`আরে তৎকাল ! তৎকাল এ`ই তো কাটলেন টিকেট তার মানে, যদি এমনি না পেয়ে থাকেন?'

বেশ অসহায় দেখায় ওনাকে - `ওই তৎ না কি একটা বললেন সেটা কি ভাইসাব? গ্রামের মেয়ে খুব একটা তো জানিনা কিছু আমি আসলে ...'

এবারে বিস্মিত হওয়ার পালা আমার `আরে এলেন কি করে তাহলে তৎকাল জানেন না তো ?'

'কেন? ট্রেন`এ উঠে মেঝেয় বসে পড়লাম?'

`মানে?! আন-রিসার্ভড এ এলেন ?'

`হাঁ জী। মেঝেয় বসে আসতে হলো। বাব্বাঃ, যা গরম !' - মিয়নো স্বর এ বলেন উনি।

আন-রিসার্ভড! আন-রিসার্ভড! সারাদিন ধরে আন-রিসার্ভড এ! মাথার মধ্যে টা ঝিমঝিম করতে থাকে আমার - এখন যে ৪৭ ডিগ্রী চলছে এইসব অঞ্চলে!

`হোটেল এ ভালো করে চান টান করে খেয়ে নিয়েছেন তো পৌঁছে গতকাল ?'

'হোটেল?' - ঠুংরী`র মতো দানায় দানায় হেসে ওঠেন - 'ভাইয়া, অত পয়সা খরচ করলে চলে? এমনিতেই একটা ভৈঁশ মারা গেছে আমাদের এ বছরে ...

ট্রেন লেট ছিল কিনা অনেক, সকাল পৌনে সাতটায় এসে পৌঁছেছি তাই। ভালই হয়েছে অবশ্য সেটা একদিন থেকে, না হলে স্টেশন এ বসে থাকতে হত রাত টা। সাড়ে সাত টা থেকে টানা প্র্যাক্টিকাল, থিওরী - আলাদা আলাদা ঘর এ ঘুরে ঘুরে। মাঝে একবার ছাতু আর জল খেয়ে আসতে পেরেছি। এখনো একটা সেশন বাকি।'

`কেমন দিলেন প্র্যাকটিকাল?' - জিজ্ঞাসা করি।

` কি জানি ভাইয়া। আগে তো কখনো এত বড় জায়গায় গাই নি এভাবে পরীক্ষায়। কে জানে কেমন হলো। ' - উপরওয়ালার উদ্দেশ্যে জোড়হাত কপালে ঠেকান - `যেন পাশ হয়ে যাই ভাইয়া। তাহলে তো আরো শিখতে পারবো ' - চোখমুখ স্বপ্নালু হয়ে ওঠে গ্রামের মেয়েটির। কি সুন্দর যে দেখায় ওনাকে তখন? এক অদ্ভুত নরম আলোয় ভরে ওঠে চারপাশ। সেই আলোয় আমিও আলোকিত হই।

স্বর ই ঈশ্বর - এই মেয়েকে দেখে মনে হয় কাঠ নাস্তিক এই অধমের।

মলিনবেশী এক পুরুষ ঘুরঘুর করছিলেন ধারেকাছে খানিক্ষণ থেকেই - ইতিউতি চাইছিলেন। দীক্ষা হাত নেড়ে ডাকেন সেই মহোদয় কে - `এই - পাণি দেখো না একটু ঠান্ডা পাও কিনা কোথাও - চোখেমুখে দিতাম। '

লোকটি সম্মতির ভঙ্গিতে মাথা নেড়ে চলে যান।

`চেনেন নাকি?'

এই প্রথম মহিলা কে লজ্জা পেতে দেখি - 'আমার মরদ। ' লাল হয়ে ওঠেন।

পরক্ষণে সামলে উঠে বলেন - 'আমাদের অতোটা বিরক্ত লাগে না তাও, পরীক্ষার টেনশন নিয়ে মাথা ঘামিয়েই সময় টা কেটে যায় কোথা দিয়ে বুঝতে পারি না। কিন্তু আমার বর এর অবস্থাটা ভাবুন। বেচারা। এত কষ্ট নিতে হচ্ছে। '

`বিরক্ত হচ্ছেন হয়ত উনি। ' - স-সংকোচে জানাই।

`কে বলেছে?' গ্রীবা উঁচু করে ঝাঁঝিয়ে ওঠেন দীক্ষা - ' কত সাথ দেয় জানেন? মরদ না থাকলে একপাও এগোতে পারতাম নাকি?' গর্বে, আনন্দে, ভালবাসায় জ্বলজ্বল করতে থাকে মহিলার মুখ। `কে দিত উত্সাহ এতো? ভৈঁশ এর গোবর পরিস্কার করে গোয়ালেই জীবনটা কেটে যেত হয়তো । '

কারা যেন বলে থাকেন ভারতীয় পুরষ মাত্রেই শভিনিস্ট?









528 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: dc

Re: সুর ই ঈশ্বর

খুব খুব ভাল্লাগলো। অসাধারন।
Avatar: সুকি

Re: সুর ই ঈশ্বর

খুব ভালো লাগল - উনি যেন সাফল্য লাভ করেন নিজের চাওয়াতে।
Avatar: র২হ

Re: সুর ই ঈশ্বর

খুব ভালো লাগলো। স্বপ্ন পূর্ণ হয় যেন ওঁর।
Avatar: de

Re: সুর ই ঈশ্বর

কারা বলেন?

লেখাটা খুবই ভালো, শেষ লাইনেও ঔৎসুক্য জাগিয়ে রাখলো - ঃ)
Avatar: সিকি

Re: সুর ই ঈশ্বর

লাভ বাটনটা কোথায়?
Avatar: শঙ্খ

Re: সুর ই ঈশ্বর

এখানে
💓💕💖
Avatar: শিবাংশু

Re: সুর ই ঈশ্বর

সুরের নেশার মধ্যে একটা 'নার্কোটিক' ব্যাপার থাকে। চলিত গণিতে তার হিসেবটা সবসময় করা যায়না।
Avatar: San

Re: সুর ই ঈশ্বর

এই লেখাটা আমি দু-এক বছর আগে পড়েছি। খুব ভাল লেগেছিল। এটা কি অন্য কোথাও প্রকাশিত ?
Avatar: San

Re: সুর ই ঈশ্বর

এই লেখাটা আমি দু-এক বছর আগে পড়েছি। খুব ভাল লেগেছিল। এটা কি অন্য কোথাও প্রকাশিত ?
Avatar: Tapas Kumar Das

Re: সুর ই ঈশ্বর

সবাইকে ধন্যবাদ। আপনাদের ভালো লেগেছে জেনে খুব আনন্দ হলো। হ্যাঁ এটা দু বছর আগের ঘটনা। তবে প্রকাশিত নয় কোথাও। ওখানে বসেই ফেসবুকে স্ট্যটাস দিয়েছিলাম, সেই লেখাটা কেই মডিফাই করে এখানে দিলাম।

বেনারসের ঘাটে এরকম আরেক অভিজ্ঞতা হয়েছিলো আমার। নিজের দেশ কে চেনার। আপনারা চাইলে সেটাও লিখতে পারি এখানে আলাদা করে
Avatar: anandaB

Re: সুর ই ঈশ্বর

এই লেখাটার অনেকগুলি আঙ্গিক, তাপস কিছুটা ইঙ্গিত ও দিয়েছেন

কিন্তু সেসব বিশ্লেষণে মন সায় দেয় না

ধন্যবাদ তাপস, আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য

সুর যে কখন কিভাবে পাগল করে, বাঁধাধরা ছকে ফেলা মুশকিল
Avatar: hu

Re: সুর ই ঈশ্বর

খুব ভাল লাগলো লেখাটা। আনরিজার্ভডে ঘুরেছি ছোটবেলায় অনেকবার। বাবামায়ের দেশ ঘোরার শখ ছিল। তবে সবসময় রিজার্ভ কামরায় টিকিট কাটার সামর্থ্য হত না। মেঝেতে বসিনি কখনো। বেডিং বা ট্রাংক বা কারোর কোলে। ভারতবর্ষকে যেটুকু চেনা তা ওভাবেই।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন