Tapas Kumar Das RSS feed

Tapas Kumar Dasএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • কাশ্মীরের ইতিহাস : পালাবদলের ৭৫ বছর
    কাশ্মীরের ইতিহাস : পালাবদলের ৭৫ বছর - সৌভিক ঘোষালভারতভুক্তির আগে কাশ্মীর১ব্রিটিশরা যখন ভারত ছেড়ে চলে যাবে এই ব্যাপারটা নিশ্চিত হয়ে গেল, তখন দুটো প্রধান সমস্যা এসে দাঁড়ালো আমাদের স্বাধীনতার সামনে। একটি অবশ্যই দেশ ভাগ সংক্রান্ত। বহু আলাপ-আলোচনা, ...
  • গাম্বিয়া - মিয়ানমারঃ শুরু হল যুগান্তকারী মামলার শুনানি
    নেদারল্যান্ডের হেগ শহরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস—আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে করা গাম্বিয়ার মামলার শুনানি শুরু হয়েছে আজকে। শান্তি প্রাসাদে শান্তি আসবে কিনা তার আইনই লড়াই শুরু আজকে থেকে। নেদারল্যান্ডের হেগ শহরের পিস ...
  • রাতপরী (গল্প)
    ‘কপাল মানুষের সঙ্গে সঙ্গে যায়। পালানোর কি আর উপায় আছে!’- এই সপ্তাহে শরীর ‘খারাপ’ থাকার কথা। কিন্তু, কিছু টাকার খুবই দরকার। সকালে পেট-না-হওয়ার ওষুধ গিলে, সন্ধেয় লিপস্টিক পাউডার ডলে প্রস্তুত থাকলে কী হবে, খদ্দের এলে তো! রাত প্রায় একটা। এই গলির কার্যত কোনো ...
  • রাতপরী (গল্প)
    ‘কপাল মানুষের সঙ্গে সঙ্গে যায়। পালানোর কি আর উপায় আছে!’- এই সপ্তাহে শরীর ‘খারাপ’ থাকার কথা। কিন্তু, কিছু টাকার খুবই দরকার। সকালে পেট-না-হওয়ার ওষুধ গিলে, সন্ধেয় লিপস্টিক পাউডার ডলে প্রস্তুত থাকলে কী হবে, খদ্দের এলে তো! রাত প্রায় একটা। এই গলির কার্যত কোনো ...
  • বিনম্র শ্রদ্ধা অজয় রায়
    একুশে পদকপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অজয় রায় (৮৪) আর নেই। সোমবার ( ৯ ডিসেম্বর) দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। অধ্যাপক অজয় দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে ভুগছিলেন।২০১৫ ...
  • আমাদের চমৎকার বড়দা প্রসঙ্গে
    ইয়ে, স-অ-অ-অ-ব দেখছে। বড়দা সব দেখছে। বড়দা স্রেফ দেখেনি ওইখানে এক দিন রাম জন্মালেন, তার পর কারা বিদেশ থেকে এসে যেন ভেঙেটেঙে মসজিদ স্থাপন করল, কেন না বড়দা তখন ঘুমোচ্ছিলেন। ঘুম ভাঙল যখন, চোখ কচলেটচলে দেখলেন মস্ত ব্যাপার এ, বড়দা বললেন, ভেঙে ফেলো মসজিদ, জমি ...
  • ধর্ষকের মৃত্যুদন্ড দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ?
    যেকোন নারকীয় ধর্ষণের ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়ে সামনে আসার পর নাগরিক হিসাবে আমাদের একটা ঈমানি দায়িত্ব থাকে। দায়িত্বটা হল অভিযুক্ত ধর্ষকের কঠোরতম শাস্তির দাবি করা। কঠোরতম শাস্তি বলতে কারোর কাছে মৃত্যুদন্ড। কেউ একটু এগিয়ে ধর্ষকের পুরুষাঙ্গ কেটে নেওয়ার ...
  • তোমার পূজার ছলে
    বাঙালি মধ্যবিত্তের মার্জিত ও পরিশীলিত হাবভাব দেখতে বেশ লাগে। অপসংস্কৃতি নিয়ে বাঙালি চিরকাল ওয়াকিবহাল ছিল। আজও আছে। বেশ লাগে। কিন্তু, বুকে হাত দিয়ে বলুন, আপনার প্রবল ক্ষোভ ও অপমানে আপনার কি খুব পরিশীলিত, গঙ্গাজলে ধোওয়া আদ্যন্ত সাত্ত্বিক শব্দ মনে পড়ে? না ...
  • The Irishman
    দা আইরিশম্যান। সিনেমা প্রেমীদের জন্য মার্টিন স্করসিসের নতুন বিস্ময়। ট্যাক্সি ড্রাইভার, গুডফেলাস, ক্যাসিনো, গ্যাংস অব নিউইয়র্ক, দা অ্যাভিয়েটর, দ্য ডিপার্টেড, শাটার আইল্যান্ড, দ্য উল্ফ অব ওয়াল স্ট্রিট, সাইলেন্টের পরের জায়গা দা আইরিশম্যান। বর্তমান সময়ের ...
  • তোকে আমরা কী দিইনি?
    পূর্ণেন্দু পত্রী মশাই মার্জনা করবেন -********তোকে আমরা কী দিইনি নরেন?আগুন জ্বালিয়ে হোলি খেলবি বলে আমরা তোকে দিয়েছি এক ট্রেন ভর্তি করসেবক। দেদার মুসলমান মারবি বলে তুলে দিয়েছি পুরো গুজরাট। তোর রাজধর্ম পালন করতে ইচ্ছে করে বলে পাঠিয়ে দিয়েছি স্বয়ং আদবানীজীকে, ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

নন্দলালের মন্দ কপাল

Tapas Kumar Das


ঢোল সহরত করে ইয়েল-দিদিমণি ঘোষণা দিয়েছিলেন যে পাসপোর্ট পাওয়ার পদ্ধতি এখন ভারতীয় নাগরিক দের কাছে মাখনমসৃণ। ফলে আজ যখন গুটি গুটি পায়ে বারাণসী'র পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্র'র দিকে রওনা দিলুম পরেড কোঠি থেকে, নিশ্চিত ছিলুম মাখন না হোক মার্জারিন কোমল ব্যবহার পাবো। তাছাড়া, আমার ক্ষেত্রে, এটি পাসপোর্ট নবীকরণ মাত্র, এবং ঠিকানা না পাল্টেই - সুতরাং সহজতম পদ্ধতিতে ন্যূণতম সময়েই হওয়া উচিত।

পৌঁছেই ধাক্কা খেলুম। ই কি রে বাবা ! এ কোথায় এলুম ! একটা উড়ালপুল এর নীচে, বিচ্ছিরি রকমের জল কাদা পাঁক এর মধ্যে শয়ে শয়ে মানুষ ঘাম মুছতে মুছতে দন্ডায়মান - চিৎকারে কান পাতা যায় না, মাছের বাজার। অন্ততঃ পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্রের মতো গুরুত্ব পূর্ণ পরিষেবা যেখানে দেওয়া হয় তার সামনেটা একটু পরিষ্কার রাখলে পারে! আমাকে কি এই লাইনে এই দাঁড়াতে হবে সামনের বাড়িটায় ঢোকার জন্য? তাহলে এতো ঢং করে তৎকাল এপয়েন্টমেন্ট এর অপশন রাখার মানে কি অনলাইন এপ্লিকেশন এ? দ্বাররক্ষী কে জিগাই। পাত্তা দেন না গুঁফো ভদ্রলোক, আবার জিগাই , উনি খেঁচান , আমি ঝগড়া করি - অবশেষে তৎকাল এর সম্মান ধরে-বেঁধে আদায় করি এবং গেট পেরিয়ে ঢুকে পড়ি।

সারি সারি ডেস্ক। আলতো ধাক্কায় নিরাপত্তা রক্ষী আমাকে যে ডেস্ক এর দিকে এগিয়ে দেন সেখানে গোমড়ামুখো এক দিদিমনি উপবিষ্টা। যাবতীয় নথিপত্র দেখতে চান। সব গোছানোই ছিল, বার করে দি। উনি দ্রুত চোখ বুলিয়ে জানান তৎকাল বিভাগ এ আবেদন করার মতো প্রয়োজনীয় নথিপত্র আমার নেই। আকাশ থেকে পড়ি! গত দু সপ্তাহ ধরে পড়াশুনো শিকেয় তুলে এই ই করে চলেছি - নথিপত্র তৈরি করা এবং গোছানো। প্রয়োজনীয় নথি নেই মানে? স্থির নিশ্চিত যে সমস্তই প্রস্তুত করে এনেছি । দিদিমনি কে তা জানাই। লাগাতার কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগা উটের পশ্চাৎদেশের মতো বিরক্তিমাখা মুখে উনি ফাইনাল ভার্ডিক্ট দ্যান যে আমি যেন আর কথা বাড়িয়ে ওনাকে বিরক্ত না করি, এবং আমি এখন আসতে পারি, কারণ আমার Annexure I নেই।

Annexure I হলো স্ট্যাম্প পেপার এ লেখা এফিডেবিট করা, নির্দিষ্ট ফরম্যাট অনুযায়ী একটি স্বঘোষিত বয়ান (সেল্ফ ডিক্লেরেশন)। এবং সেটি আবশ্যিক নয়। অত্যন্ত স্পষ্ট ভাবে সেটা নিয়মাবলী তে জানানো রয়েছে সে ব্যাপারে, আমি নিশ্চিত। আমি দিদিমনি কে তা জানাতে উনি ঝাঁঝিয়ে উঠে আমাকে পরের লোকের জন্য লাইন ছেড়ে দিতে বলেন। এবারে আমার প্রকৃত ধৈর্যচ্যুতি ঘটে - নিয়মাবলী এর ছাপানো কপি (প্রিন্ট আউট নিয়ে গিয়েছিলাম সাথে, প্রয়োজনীয় জায়গা গুলি দাগিয়ে নিয়ে) ওনার সামনে রেখে ডেস্ক চাপড়ে জিজ্ঞাসা করি ভারত সরকারের তৈরি করা এই নিয়মাবলী অনুযায়ী যা যা প্রয়োজন, তার প্রতিটি আমার কাছে থাকা সত্ত্বেও আমার পাসপোর্ট পাওয়া আটকায় কার কোন পিতা? সেই শ্যালক-মহাশয় এর সাথে দিদিমনি আমাকে সাক্ষাৎ করিয়ে দিতে পারেন কি এই মুহূর্তে?

এই সুমিষ্ট আলাপচারিতা উনি আশা করেন নি বোধহয়। আমার এই অমোঘ প্রশ্নে স্পষ্টতই বিব্রত হয়ে পড়েন এবং আমতা আমতা করে আঙ্গুল দিয়ে অন্য একটি ডেস্ক দেখিয়ে দ্যান। দূরবীন কষেও সেখানে কারো পিতা (বা শ্যালক) কে দেখতে পাইনা, এক মাতৃস্থানীয়া অসীম মনোযোগে নখ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে নেইল পলিশ নিরীক্ষণ করছেন - নজরে আসে। সেই ডেস্ক এর দিকে এগোই। তড়িৎ গতিতে পূর্ববর্তী বালিকা নখ-নিরীক্ষণ কারিণীর কানে কানে কিছু বলে দিয়ে আসেন। আমি পৌঁছে আমার দুই প্রশ্ন পুনরায় পেশ করি।

`দেখুন, আমি বুঝতে পারছি যে আপনি অনেক দূর থেকে এসেছেন, আমরা কি আপনাকে বাড়ি চলে যেতে বলেছি?' পরকীয়ার মতো মধুর ভাবে উনি প্রতিপ্রশ্ন করেন। `আসলে যদিও সর্বভারতীয় নিয়মাবলী তে নেই, কিন্তু এক এক জায়গার জন্য এক এক রকম নিয়ম হয় জানেন তো (হয় নাকি? সাতজন্মে এমনটি শুনিনি। বেচারা মহিলা দেখছি মিথ্যা কথাটাও কনভিন্সিং ভাবে বলার অভ্যাস রপ্ত করে উঠতে পারেননি এখনো), তাই আমাদের রিজিওনাল পাসপোর্ট অফিসার নিয়ম করেছেন যে ঐটি চাই ই চাই'। কিন্তু বাড়ি না গেলে Annexure I জোটানো কি ভাবে সম্ভব?

`কোনো চিন্তা করবেন না ভাইয়া, ওইইইই দরজার দিকে চলে যান, যা চাইছেন পেয়ে যাবেন। ' হাসিমুখে চুপি চুপি জানান তিনি, ষড়যন্ত্রকারিনীদের মতো।
সর্বনাশ? আমার বৌয়ের নাম ছাপানো কাগজ নিয়ে লোকে বসে আছে এখানে? (পাসপোর্ট এ স্পাউস এর নাম ছিল যেহেতু, Annexure I এর সেল্ফ ডিক্লেরেশন এও সেটি থাকা প্রয়োজন। ) বলি, হচ্ছে টা কী? চুল খাড়া হয়ে ওঠে আমার, সাসপেন্স এ। গুটি গুটি সেই গেট এর দিকে এগোই। দ্বাররক্ষী আমাকে আসতে দেখে হাসিমুখে আমার দিকে হেলে দুলে এগিয়ে আসেন। বাবাঃ, হুলো - হাঁটার (cat walk এর পুরুষ সংস্করণ সেটাই তো হয়, নাকি?) মহড়া চলছে নাকি দুজনে?

উনি আমাকে জানান যে বাহার আদমি একদ্দম্ তৈয়ার হেঁ - সির্ফ দো-শো রুপাইয়া এর বিনিময়ে যিনি ঝটাকসে এক বেহেতঁরীন Annexure তাঁর মেশিন'সে নিকলে দেবেন -`ইত্ মিনানসে জাইয়ে না আপ, কিউঁ সাহাব'? অঃ ! এই ব্যাপার তাহলে। এই তাহলে এক এক জায়গার এক এক নিয়ম? হুমমম। করার ও তো কিছু নেই, ফলতঃ সেভাবেই সেই বেহেতঁরীন Annexure বগলদাবা করে এসে পাসপোর্ট অফিসার এর ঘরের সামনে লাইন লাগাই।

অতি সুন্দর সাজানো এক হলঘর এ সারি সারি স্টেইনলেস স্টিল এর চেয়ার, বসার জন্য। সারা উত্তর প্রদেশ জুড়ে যে কোনো পাবলিক প্লেস এ এই চেয়ার গুলি দেখি আজকাল। স্টেইনলেস স্টীল এর শিট দিয়ে বানানো, শিট এ ছোট ছোট ছিদ্র করা ওজন কমাতে। সরাসরি স্টীল এর সারফেস এর ওপরেই বসতে হয় ফলতঃ। তীব্র গরমে এবং বাঘাটে শীত এ এই চেয়ার এ বসলে পশ্চাৎদেশে কেমন অনুভূতি হয় তা যাঁরা বসেছেন তাঁরাই জানেন।

বসার জন্য এগোতেই কিছু লোক হাঁ হাঁ করে তেড়ে ওঠেন - ঘাবড়ে পিছিয়ে আসি - 'কি ভাই? ওই দিকটা কি ব্রাহ্মণ দের জন্য সংরক্ষিত?' - সামাজিক শ্রেণীবিন্যস্ত উত্তরপ্রদেশ, তায় আবার বারাণসী, ভয়ে ভয়ে তাই প্রশ্ন রাখি।

`আরে না মশাই - চেয়ার গুলো ভাঙা, অশক্ত'

`কেন? ঐ যে বসে আছে লোক?'

`দূর মশাই, ওসব ছেলেছোকরার দল। আপনার এই মোষের লাশ নিয়ে বসে দেখুন দিকিনি একবার? ব্যাপারটা কি দাঁড়ায়?'

ঠিক ই তো। ধন্যবাদ দিয়ে খুঁজে খুঁজে ভাঙা নয় এমন চেয়ার এ বসি।

বসে বসে ক্লান্ত হয়ে পড়ি। লিংক ফেলিওর। লিংক না এলে কর্তার ঘরে ডাক পড়বে না আমাদের কারো। ঝিমোতে শুরু করি।

এন্ডি গেন্ডি গোটা পাঁচেক কে নিয়ে হইহই করে জানা তিনেক বিপুলকায়া মহিলা ঢুকে পড়েন। এনারাও আবেদনকারিনী। গটগট করে এগিয়ে যেতে থাকেন চেয়ার গুলির দিকে। `আহা বসবেন না বসবেন না ' - হৈহৈ করে উঠি আমরা।

`দূর মিনষে! বাপের চেয়ার তোর? কেন বসবো না? বলে সরকারি চেয়ার! ভোট দি ই না নাকি, আমরা? হাঁ!' - ঝংকার ভেসে আসে।

সিল্কের শাড়ি পরা ধরিত্রী-সম বিপুল পশ্চাৎ গুলি দুবলা চেয়ার এর কোলে স্থাপিত হলো। ফলতঃ - যা ঘটার মূহুর্তে ঘটলো! কুমড়ো নয়, কলসি -- না না, জালা গড়াগড়ি যাকে বলে। এই মিনষেরা'ই এগিয়ে গিয়ে হাত পাকড়ে তুলি আবার। হাত তো নয়, বাহু! এদিকে এঁড়ি গেঁড়ি গুলো ও চেয়ার উল্টে গড়াচ্ছে। চ্যাঁ-ভ্যাঁ চতুর্দিকে। গুরুনিতম্বিনী রা পটাপট `মুখপোড়ার দল' কে খেঁচকে তোলেন, চুলের মুঠি এবং নড়া ধরে। লাগাতার একধারসে চড় গাঁট্টার ঝড় বয়ে যায় `আপদ গুলোর' ওপর দিয়ে। আঁউঁ আঁউঁ চিৎকারে কান পাতা দায়! ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি - দু হাত তুলে ককিয়ে উঠি আমরা মা জননীদের উদ্দেশ্যে। ওনারা আমাদের আবেদনে দয়া করে সাড়া দেন, গম্ভীর মুখে ক্ষান্ত হন।
'মরণদশা!' - চাপা গর্জন ভেসে আসে। তবে বেচারা ছানা পোনা গুলি রেহাই পায়, এবারের মতো অন্ততঃ।

সময় গড়িয়ে চলে। লিংক ফেল মেরেই থাকে, তাকে পাশ করানো কবে হবে সে প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় না। ক্রমশঃ শিরায় রক্তের স্রোত উত্তপ্ত হতে থাকে। কিছু লোক জুটিয়ে, উঠে নিরাপত্তা রক্ষী দের ডাকি - একদম পরিষ্কার সত্তরের পশ্চিমবঙ্গীয় সুরে ' এয় যে দাদা ! স্ - সুনুন তো মোস্ সাই ! বলি কেস টা কি মাইরি? আঁ? আর কতোক্ষন?' কাজ হয়। অদ্ভুত দেশ ও সমাজ আমাদের, ভদ্রতা কে দুর্বলতা ভাবে বরাবর। আমাদের জানানো হয় দু ঘন্টার বেশি হয়ে গেলে অন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দু ঘন্টা আরো অপেক্ষা করি। হা হতোঃষ্মি। লোকজন ভেতর থেকে এসে জানায় যে ফেল করা লিংক কে পাশ করানোর জন্য ওস্তাদ (নেট টেকনিশিয়ান) ডাকা হয়েছে, দুর্ভাগ্য বশতঃ তারা এসে কাজ শুরু করতে করতে অফিস বন্ধ হওয়ার সময় হয়ে যাবে। ফলতঃ আমাদের নতুন করে অনলাইনে আবেদন করে নতুন শিডিউল নেওয়া ছাড়া গতি নেই। অন্য কোনো দিন। বা অন্য কোনো খানে। কানপুর বা লক্ষ্নৌ। অথবা গোরক্ষপুর।

ইলাহাবাদ থেকে এসে রাতে হোটেল এ থেকে, সেই কোন পাঁচ-সকালে (সাত টায় ঘুম থেকে ওঠা আমার জন্য সাত সকালের ও বহু আগে) উঠে না খেয়ে দেয়ে এসে বসে আছি। প্রবল ইচ্ছা হয় স্টীল এর চেয়ার গুলো তুলে রিজিওনাল পাসপোর্ট অফিসার এর কাঁচের ঘর লক্ষ্য করে পরপর ছুঁড়তে থাকার। বহু, বহু কষ্টে নিজেকে সংযত করে বেরিয়ে এলাম। দুটো দিন নষ্ট হলো, একগাদা টাকাপয়সা ও। ট্রেন ভাড়া, হোটেল, বাইরে খাওয়া। আমার একার নয়, অনেকের ই। তাঁদের মধ্যে অনেকেই আছেন নিশ্চয় যাদের এই টাকা গুলো নষ্ট হওয়ায় যথেষ্ট গায়ে লাগে (গরিব গুর্বো মানুষ রাও পাসপোর্ট করান। মধ্য প্রাচ্যে কাজে যেতে), আমার ও কি লাগেনি?

এই হলো সিস্টেম এর প্রকৃত রূপ। মিথ্যাবাদী, অকর্মন্য কিছু মানুষ আবেদনকারী দের বিভ্রান্ত করে। চলে বেআইনী অর্থনৈতিক লেনদেন। উঁচু তলার লোকের অজান্তে হয় কি এই কাজ? মনে তো হয় না। প্রত্যেকেই ভাগ পায়।
বসার চেয়ারগুলো পর্যন্ত ঠিকঠাক মেইনটেইন করতে পারে না। লিংক খারাপ হলে দ্রুত টেকনিশিয়ান ডাকার ব্যাক-আপ অবধি নেই। এভাবেই চলছে। পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্রের মতো এরকম অতি গুরুত্ব পূর্ণ প্রতিষ্ঠান। ভাবা যায়?
কোনোদিন কিছু হবে এই দেশের? এই সিস্টেম এর? নৈব!

সেই পাসপোর্ট অবশেষে হাতে এসেছিলো, বেশ কিছুমাস পর অবশ্য। পাসপোর্ট টা হাতে নিলাম, এবং চমকে উঠলাম। আমার ফটো দেখে সেটাকে আমি বলে আইডেন্টিফাই করা (স্বর্গতাঃ) গর্ভধারিণীর পক্ষেও সম্ভব হতো না - অন্য পরে কা কথা। ইমিগ্র্যাশন অফিসার চিনবেন কি করে সেটাই ভাবছি - আমার'ই শঙ্খ বাবু (শঙ্খ ঘোষ) স্মরণে আসছে নিজের বদনছাপ দেখে :

আজও চেনা হলো না নিজেকে,
অন্তরে যতই দেখি, তাকাই দর্পণে,
রৌদ্রে পুড়ে চাঁদিনীতে ভিজে
অনুশোচনার খর আষাঢ় তর্পণে
কিছুতে নিশ্চিত নই নিজে,
ভেবে চলি সর্বদা, যে, এ কে?

ফটোর ওপরের ল্যামিনেশন এর ভেতরে হাওয়া ঢোকা, ফলতঃ আমার মুখচ্ছবি গর্ভিণীর বেবি বাম্প এর জ্যামিতি প্রাপ্ত। বুকলেট টা বাঁধাতে কি আঠা ব্যবহার করা হয়েছে জানি না (আমার একটা সন্দেহ হচ্ছে বটে, কিন্তু সেটা এখানে প্রকাশ করলে অশ্লীলতার দায়ে হাজতবাস বাঁধা, মৌনতাই শ্রেয়ঃ সুতরাং) - পাসপোর্ট টা খাম এর ভেতর থেকে বার করে রাখার আধঘণ্টা বাদে তেউড়ে গিয়ে এমন চেহারা নিলো যে ওপরে একটা প্ল্যাষ্টিক এর শিট রেখে ইঁট চাপা দিয়ে রাখলাম গোটা একটা দিন। তারপর একটু শেপ এ এসেছে।

এই জিনিস দশ বছর সার্ভিস দেবে? মাইরি?

আজকাল শুনি পাসপোর্ট নিয়ে প্রায় সবার অভিজ্ঞতাই পজিটিভ। আমি ই তার মানে সুকুমার রায় এর সেই গল্পের শিরোনাম - `নন্দলাল এর মন্দ কপাল'!

877 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: amit

Re: নন্দলালের মন্দ কপাল

দারুন হয়েছে লেখাটা। পাসপোর্ট অফিসের তিক্ত অভিজ্ঞতা অনুরূপ। সব থেকে যেটা মোজা জ্বলে যায়, বেটারা ভালো ভাবে কথা পর্যন্ত বলতে পারেনা, একেবারে কুকুর বেড়ালের মতো খেদিয়ে দেয় পারলে। তাও তো আজকাল পুলিশ ভেরিফিকেশন একটু সিস্টেম্যাটিক হয়েছে, নাহলে আগে বাড়িতে পুলিশ এর খোচর গুলো এসে পুরো মাছের বাজারের মতো দরদাম করতো।
Avatar: সিকি

Re: নন্দলালের মন্দ কপাল

আমার নিজেরও অনেক অভিজ্ঞতা আছে, এবং বেশির ভাগই নেগেটিভ। মেয়ের পাসপোর্ট রিনিউ করার সময়ে একবার আমাকে জানিয়েছিল আপনার স্পাউস আসেন নি কেন। আমি বলেছিলাম পাসপোর্ট তো মেয়ের, গার্জিয়ান হিসেবে যে কোনও একজন আসলেই তো হয়। দু জন আসতে হবে এমন তো কোথাও লেখা নেই!

তাতে উত্তর এসেছিল, না, দুজনকেই আসতে হবে (ঐ এক এক জায়গার এক এক নিয়ম হয় তো) না হলে মা হিসেবে যার নাম দিচ্চেন, তিনি যে আপনাদের সঙ্গেই থাকেন, তাঁর সঙ্গে যে আপনার ডিভোর্স হয়ে যায় নি তার কী প্রমাণ? দুজনকেই আসতে হবে।

মানে, ডিভোর্স হয়ে গেলে যে বাচ্চার মা আর বাচ্চার মা থাকে না, কিংবা একসাথে এলেই প্রমাণ হয় ডিভোর্স হয় নি, এইসব জিনিস এই মেরা ভারত মহান ছাড়া আর কোথায় জানতে পারবো?

পুলিশ আজকাল ঘরে আসে না টাকা নিতে। পাড়ার থানা বা চৌকিতে ডাকে - ঐ যাকে আপনারা বংগালিরা ফাঁড়ি বলেন। সেইখানে ডেকে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে ভেরিফিকেশন ফর্ম ভরে টাকা চান। কারণ এঁদের অভিজ্ঞতা হয়েছে যে ঘরে আসলে কোথায় সিসিটিভি লাগিয়ে রেখেছে ঘরের মধ্যে, ভিডিও ফাঁস হয়ে গেলে কেচ্ছা হবে, তাই নীল আকাশের নিচে।
Avatar: pi

Re: নন্দলালের মন্দ কপাল

খাসা লেখা আর হক্কথা!
আমার রিন্যুয়ালে হল এন ও সি নিয়ে অহেতুক ভোগান্তি এবং এরকম একবার ফিরে যাওয়া, ততকালেই।নিজেদেরি দু তিনিরকম ফর্ম,
নিজেরাই জানেনা কোন্টা লাগবে, কোনটা আর লাগবেনা। লেখা একরুম, কাজে একরকম! । তখন আবার দেড় মাস বাদে মিটিং এ যাওয়ার খাঁড়া ঝুলছে!
তবে অফিসের কাজ মিটলে বাকিটা বেশ তাড়াতাড়ি হয়েছিল আর সমানে এস এম এস এ আপডেট দিচ্ছিল।
যদিও থানা থেকে ডেকে পাঠায় একদিনের নোটিসে, দূরে অফিস ফিল্ড থেকে যাওয়া কী চাপ!

Avatar: pi

Re: নন্দলালের মন্দ কপাল

খাসা লেখা আর হক্কথা!
আমার রিন্যুয়ালে হল এন ও সি নিয়ে অহেতুক ভোগান্তি এবং এরকম একবার ফিরে যাওয়া, ততকালেই।নিজেদেরি দু তিনিরকম ফর্ম,
নিজেরাই জানেনা কোন্টা লাগবে, কোনটা আর লাগবেনা। লেখা একরুম, কাজে একরকম! । তখন আবার দেড় মাস বাদে মিটিং এ যাওয়ার খাঁড়া ঝুলছে!
তবে অফিসের কাজ মিটলে বাকিটা বেশ তাড়াতাড়ি হয়েছিল আর সমানে এস এম এস এ আপডেট দিচ্ছিল।
যদিও থানা থেকে ডেকে পাঠায় একদিনের নোটিসে, দূরে অফিস ফিল্ড থেকে যাওয়া কী চাপ!

Avatar: dc

Re: নন্দলালের মন্দ কপাল

আমার পাসপোর্ট রিনিউ আর নতুন ইস্যু দুটোরই অভিজ্ঞতা হয়েছে, আর দুটোই বেশ ভালো। প্রথমবার গেছিলাম আমার পাসপোর্ট রিনিউ করতে, দ্বিতীয়বার মেয়ের নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করতে। দুবারই বিনা তৎকালে।

আমি যে আরপিওতে গেছিলাম সেটা একটা বহুতল বিল্ডিং এর দুতলায় আর ভিড়ে ভর্তি। কাগজপত্র জমা দেওয়ার প্রথম লাইনে বেশ খানিকক্ষন দাঁড়াতে হয়েছিল, আর লাইনে দাঁড়াতে আমার ভয়ানক বিরক্তি লাগে। প্রথমবার রিনিউ করতে যখন গেছিলাম তখন কোন একটা কাগজের যেন জেরক্স নিয়ে যাইনি। কাউন্টারের ভদ্রমহিলা সব পরীক্ষা করে বললেন ইদে পেপারকে জেরক্স ভেনু, মানে এই কাগজটার জেরক্স লাগবে। তারপর নিজেই বললেন ওপাশের টেবিলে জেরক্স মেশিন আছে, ওখান থেকে জেরক্স করে আনুন, আমি এগুলো রাখছি, আপনাকে আবার লাইনে দাঁড়াতে হবেনা। আমিও চট করে জেরক্স করে এনে ওনাকে দিলাম, উনি পাশের কাউন্টারে দিয়ে দিলেন।

সেই কাউন্টারে আবার লাইন দিলাম, আবার দশ মিনিট বিরক্তি দেখালাম, তারপর সেই কাউন্টারের ভদ্রলোক সব জমা নিয়ে টোকেন দিয়ে বললেন ভেতরে চলে যান। কাউন্টারগুলোর পাশ দিয়ে ভেতরে ঢুকে দেখলাম বিরাট একটা হলঘর, একগাদা চেয়ার রাখা, আর শেষে স্ন্যাক্স কাউন্টার। এককাপ চা কিনে বসে পড়লাম, টিভিতে টোকেন নং দেখাচ্ছিল, খানিক পর আমার নম্বর এলো। সেই হলঘর দিয়ে ভেতরে ঢুকলাম, সারি সারি কাউন্টার, প্রথমে ফটো তোলার কাউন্টার, সেখানে বসে ফটো তুললাম, তারপর আরও কয়েকটা কাউন্টার। সেসব মিটিয়ে বোধায় ঘন্টা তিন-চার পর বেরিয়ে এলাম।

পুরো জায়গাটাই খুব পরিষ্কার আর সব কিছুর সুন্দর ব্যাব্স্থা। ঝগড়া টগড়াও শুনিনি, এমনিতেও তামিলরা খুব একটা ঝগড়া করেনা। পাসপোর্ট অফিস থেকে বেরোতে বেরোতেই প্রথম এসেমেস পেয়ে গেছিলাম, আপনার রিনিউয়াল অ্যাপ্লিকেশান অ্যাপ্রুভড, বোধায় দুয়েক সপ্তাহ পর আবার এসেমেস পেয়েছিলাম যে পাসপোর্ট প্রিন্ট হয়ে গেছে, তারপরের এসেমেস পেয়েছিলাম, স্পিড পোস্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মেয়েকে নিয়েও আমিই গেছিলাম, স্ত্রী যেতে পারেনি। লাইনে দাঁড়ানো ছাড়া আর কোন খারাপ অভিজ্ঞতা হয় নি। বাড়িতে পুলিশ ভেরিফিকেশানের জন্য এসেছিল, চেন্নাইতে প্রত্যেক সরকারি প্রসেসের বাঁধা ঘুষ আছে, আমি সেইমতো টাকা দিয়ে দিলাম, পুলিশ ভদ্রলোক দুয়েকটা প্রশ্ন করে চলে গেলেন। আগের বারের মতোই দুতিনবার এসেমেস পেয়েছিলাম। আমি এমনিতে সরকারি সমস্ত পরিষেবাই অ্যাভয়েড করার চেষ্টা করি, কিন্তু স্বীকার করতেই হবে যে পাসপোর্ট প্রসেসটা যেভাবে কম্পিউটারাইজ করেছে তাতে ইমপ্রেসড হয়েছিলাম।
Avatar: dc

Re: নন্দলালের মন্দ কপাল

তবে ঘুষের ব্যাপারে মাসখানেক আগে আরেকটা অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হলো। তামিল নাড়ুতে নিয়ম করেছে রেশন কার্ডের বদলে স্মার্ট কার্ড করতে হবে, সেটার অ্যাপ্লিকেশান পুরোটাই অনলাইনে করা যায় (অফলাইনও আছে)। সেইমতো তিন চার মাস আগে অনলাইন অ্যাপ্লিকেশান করেছিলাম, ট্র্যাকিং নং দিয়েছিল। দুতিনটে স্টেজ পেরিয়ে মাসখানেক আগে দেখাল তোমার কার্ড এখন ভেরিফিকেশান স্টেজে। তারপর এক ভদ্রলোক বাড়িতে এলেন, কাগজপত্র ভেরিফাই করলেন। আর অবাক কান্ড, চলে যেতে উদ্যত হলেন। আমি বললাম স্যর ইয়ে, মানে টাকা, তাতে উনি বললেন আর কিছু লাগবেনা, এসেমেস পাবেন, সেইমতো রেশন দোকানে গিয়ে কার্ড নিয়ে আসবেন। সেই কার্ড অবশ্য এখনো হাতে পাইনি, তবে সরকারি কাজে ঘুষ দিতে হলোনা সেটা চেন্নাইতে এই প্রথম।
Avatar: PM

Re: নন্দলালের মন্দ কপাল

কলকাতাতেও আমার পাসপোর্ট এক্সপিরিএন্স বেশ ভালো। প্রসেস ডিসি যেমন বল্লেন তেমোন ই। তবে ডিসি হয়ত জানেন না আস্ট অ্যাপ্রোভালটা ছাড়া পুরোটা ম্যানেজ করে টিসিএস BPO । ছবি তোলা , কাগজ ভেরিফিকেসন সব। সিসটেম টাও ওদের ই তৈরী। ওদের কিছু তালি প্রাপ্য ঃ)
Avatar: dc

Re: নন্দলালের মন্দ কপাল

PM দা, জানি। ওদের ধন্যবাদ দিতে ভুলে গেছি।

ইন ফ্যাক্ট জমিবাড়ির রেজিস্ট্রির যে প্রসেস সেটাও এখন টিসিএস ম্যানেজ করছে। অন্তত তামিল নাড়ুতে করছে, পুরো ভারতে করছে কিনা জানিনা। রেজিস্ট্রি সংক্রান্ত আমার অভিজ্ঞতাও মোটামুটি ভালো, পাসপোর্ট অফিসের মতো ভালো না হলেও একেবারে খারাপ না।


Avatar: PM

Re: নন্দলালের মন্দ কপাল

জমি / বাড়ী রেজিস্ট্রেসন স্টেট সাবজেক্ট। সেনট্রালি কেউ করে না। রাজ্যে রাজ্যে আলাদা সিসটেম। এবং আমাদের রাজ্যের টা যথারীতি খুব বাজে সিস্টেম

আর একটা অদ্ভুত বেপার কলকাতার অনেক জায়গায় (নিউটাউনসহ) সরকারী ভ্যালুএসন আসল কেনা দামের থেকে ১০-৩০ % বেশী। আগে লোকে দাম কমিয়ে দেখিয়ে ট্যক্স চুরি করতো। এখন সরকার জোর করে দাম বেশী দেখিয়ে লোকের পকেট মারছে ঃ(
Avatar: PM

Re: নন্দলালের মন্দ কপাল

আসলে ১০ বছর টিসিএস কাজ করার সুবাদে এখনো সফ্ট কর্নার রয়ে গেছে ঃ)
Avatar: শঙ্খ

Re: নন্দলালের মন্দ কপাল

পাসপোর্ট নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা মিক্সড। ফর্ম তুলতে প্রচুর বাওয়ালি হয়েছিল, তবে পুলিশ ভেরিফিকেশন এর সময় পহাকঢ়ি চায় নাই।
Avatar: sm

Re: নন্দলালের মন্দ কপাল

তৃণমূল সরকার জমি বাড়ির স্ট্যাম্প ডিউটি আগের সরকারের চেয়ে এক পার্সেন্ট কমিয়েছে।সারা কলকাতায় 95 শতাংশ এর বেশি জায়গায় সরকার নির্ধারিত প্রপার্টির দাম বা ভ্যালুএশন, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের প্রপার্টির সেল ভ্যালুর চাইতে কম।
পকেট কাটার ইচ্ছে থাকলে সরকার,স্ট্যাম্প ডিউটি 1 পার্সেন্ট বাড়িয়ে দিতো ,কমাতো না।যত্ত সব রাবিশ পাইল করার চেষ্টা।
Avatar: দ

Re: নন্দলালের মন্দ কপাল

আমার পাসপোর্ট ইস্যু আর প্রথম রিন্যুয়াল দুইই মাখনের মত্য হয়েছিল। গতবছর ছিল দ্বিতীয় রিন্যুয়াল। তা গেলাম কলকাতায় বাইপাসের সেখানে। তৎকালের ঝামেলায় যাই নি, কারণ পুণেতে দেখেছি নর্মাল রিনিয়ুয়ালই ৪-৫ দিনের মধ্যে চলে আসে। ঠিকানা না বদলালে তো পুলিশ ভেরিফিকেশান থাকার কথা নয়। তা গেলাম, আমার সময় ছিল ১১.১৫ থেকে ১১.৩০ কিন্তু ভেতরে ঢুকতে দিল ১২.,15র পরে। ততক্ষাণ বাইরে রাস্তায় দাঁড়ানো। বিতিকিচ্ছিরি অবস্থা।

যাই হোক, ভেতরে ঢোকার পর মোটামুটি ডিসির মতনই অভিজ্ঞতা। ঐ মিনিট দশেক করে দাঁড়ানো, চেক টেক করা টোকেন দেওয়া, টোকেন ডিসপ্লেতে দেখালে ভেতরে গেলাম। তো, টিসিএসের ল্যানিয়ার্ড ঝোলানো যে ছেলেটি ফোটো বায়োমেট্রিক নিল সে জিগ্যেস করল কভার কিনব কিনা। বললাম নাহ, তাতে বলল ভাল কভার বাইরে টাইরে যেতে ফ্লাইটে কাজে লাগবে। তা বললাম ওসব তো কোম্পানি থেকেই দেয় বাইরে যাবার সময়। তাতে একটু চিবিয়ে চিবিয়ে বলল 'অফিস থেকে দেয়' (এটা তখন খেয়াল করি নি, পরে মনে হয়েছে)। তারপর বাকী সবই ঠিকঠাক হয়ে গেল। ডিসির মতই অফিস থেকে বেরোতে না বেরোতেই মেসেজ এলো যে রিনিউয়াল জমা পড়েছে।

মজা হল এরপরে। পরেরদিন সকালে মেসেজ এলো তোমার পুলিশ ভেরিফিকেশান অমুকের কাছে এসেছে, তমুক নাম্বারে ফোন করে কথা বলে নাও। একটা মোবাইল নাম্বার দেওয়া। কল করলাম, এক ভদ্রলোক একটা ইয়া লম্বা লিস্টি ধরিয়ে বললেন সব অরিজিনাল আ র এককপি জেরক্স নিয়ে আসতে। তাতে বাড়ির ট্যাক্স সার্টিফিকেট থেকে মায়ের রেশনকার্ড অবধি সবই ছিল। আমি তো এমন অবাক হলাম যে কহতব্য নয়। যাই হোক সবই ছিল, বললাম বিকেলে যাব কিনা, বললেন না না আজ তো আপনার ফাইলই আসবে না,। কাল ফোন করুন। তারপর কি ভেবে বললেন আচ্ছা বিকেলে একবর ফোন করুন। তো বইমেলা যাবার প্ল্যান চৌপাট করে সব ফোটোকপি করে বিকেলে আশায় আশায় ফোন করলাম। ধরলেন না, না না না শেষে সন্ধ্যের দিকে ধরে বললেন নাহ কাল বেলা এগারোটায় করুন।

ব্যাস পরেরদিন বইমেলা যাওয়াও চৌপাট। আবার বেলা এগারোটা থেকে চেষ্টা করে সাড়ে বারোটা নাগাদ বললেন বিকেল ৪টেয় আসুন, দেরী করবেন না। গেলাম পৌনে চারটেয় উত্তরপাড়া থানায়। দেখা গেল থানার উল্টোদিকের বিল্ডিং এবং ভেরিফিকেশানের ঘরটি সযত্নে তালাবন্ধ। সামনে অপেক্ষারত আরো তিন পার্টি, যাদের যথাক্রমে ২টো, আড়াইটে এবং তিনটেয় টাইম দেওয়া। সামনে এক রিকশাওলার থেকে জানা গেল ভদ্রলোক পৌনে দুটো নাগাদ বাইক নিয়ে বেরিয়ে গেছেন। অতএব অপেক্ষা। পায়চারি ও অপেক্ষা, সেটা শনিবার। আমার রবিবার পুনে ফেরত আসার কথা। আর এক ভদ্রলোক তাঁরও রবিবার সকালে কর্মস্থলে ফেরত যাবার কথা। অতএব অপেক্ষা। ওঁর ফোন স্যুইচড অফ।

ভদ্রলোক এলে ৪.৪৫ এ। এসে আমাকেই বললেন 'আপনার পেপার্স সেই কোন্নগরে পড়ে ছিল, সেইটে আনতে গেসলাম বুঝলেন?' বুঝলাম এবং অবশ্যই ঠিক আপ্লুত না হলেও কিঁচিৎ অভিভূত টাইপ হলাম বৈকী। তারপর ভদ্রলোক লাইন মেনে পরপর কাগজপত্র নিতে লাগলেন এবং বার্থ সার্টিফিকেট চাইতে লাগলেন। না থাকলেই কোন এক উল্টোদিকের গলিতে এক উকীল ২০০/- নিয়ে এফিডেভিট করে দিচ্ছেন সেটি করিয়ে আনতে বললেন। তা আমার একেবারে কলিকাতা কর্পোরেশানের বার্থ সার্টিফিকেট রয়েছে। আমাকে ঠিকানা জিগ্যেস করায় আমি সেই ঠিকানাই বাড়ির নাম্বার শুদ্ধই বলেছিলাম, ফলে এপিঠ ওপিঠের জায়গা নেই। এইবার ইনিই আমাকে জিগ্যেস করলেন আপনার তো সেই পাসপোর্ট বানানোর সময়কার ঠিকানা বদলায় নি, তাহলে পুলিশ ভেরিফিকেশান দিয়েছে কেন? সেটা তো আমারও প্রশ্ন, বললাম সেটা। তিনি প্রচুর ছানবিন করলেন, করেটরে শেষে জিগ্যেস করলেন 'কভার কিনতে বলেছিল? কিনেছিলেন?' তো এইবার বোঝা গেল কেসটা।
টিসিএসের ভিখিরি বেচুটি কভার না কেনায় জব্দ করার মানসিকতায় পুলিশ ভেরিফিকেশান অন করে দিয়েছিল। কিন্তু কথা হচ্ছে সিস্টেমে এরকম প্রভিশান থাকে নাকি? ঠিকানার বদল না ঘটলে ইচ্ছেমত করতে পারে? পুলিশ্গ অফিসার কিন্তু বললেন পারে।

আমি অবশ্য প্রথম পুলিশ ভেরিফিকেশানের মেসেজ পেয়েই গ্রিভান্সে মেল করেছিলাম। তা সেসব পাসপোর্ট ইস্যু হয়ে গেছে বলে ৫ দিনের মাথায় ক্লোজ করে দিয়েছিল। পরেও আরেকবার গ্রিভান্সে মেল করে পসপোর্ট ডেলিভারি হয়ে গেছে বলে ক্লোজ করে দিয়েছিল।

Avatar: Tapas Kumar Das

Re: নন্দলালের মন্দ কপাল

মজার বেশ।সুমন


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন