ন্যাড়া RSS feed
বাচালের স্বগতোক্তি

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • মিঞা কবিতা এবং আসামের বীভৎস মজা
    আসামের নাগরিকপঞ্জি নিয়ে কী বীভৎস মজা চলছে, কাল তিস্তা শেতলবাদের লেখা ( https://www.telegrap...
  • সেলিব্রিটির প্রতি ভালোবাসা
    নিউজফিড ঘাঁটতে ঘাঁটতে বর্তমানের ফেমাস সিঙ্গার, মেয়েদের ক্রাশ মাঈনুল আহসান নোবেলের একটা ছবি হঠাৎ সামনে চলে এলো। ছবিটা দেখামাত্র আমার পা থেকে মাথা পর্যন্ত একটা শিহরণ বয়ে গেল। ইউরেকা! পেয়েছি! আমার জীবনসঙ্গী,আমার বাচ্চার বাপ, আমার নাতি-পুতির দাদা। সেই ...
  • ভ্যান গগ ও একটি কুৎসিত তৈলচিত্র
    রঙ! শব্দটা শুনলে একটা অদ্ভুত অনুভূতি জাগে মনে। হঠাৎ যেন মনে হয় কেউ এক মুঠো লাল - হলুদ আবির ছড়িয়ে দিল হাওয়ায়। রঙ শুনলে আমার কেন জানি মনে হয়, একটা ক্যানভাসে খুব পাৎলা করে কেউ ক্রিমসন রেডের একটা শেডের উপরে ক্রোম ইয়োলোর এক পোঁচ ভেজা রঙ লাগিয়েছে। আপনাদের কি ...
  • সম্রাট ও সারমেয়
    একটি খুব স্নেহের মেয়ে, বিদেশে পড়াশুনো করছে, সূর্যের নীচে সবকিছু ভালোর জন্যই ওর গভীর ভালবাসা। মাঝে মাঝে পাগলামি করে বটে,আবার শুধরে নেওয়ায় কোন অনীহা নেই।আমার খুব পছন্দের মানুষ !সে একদিন লিখলো ইসলামে কুকুর নাপাক জীব। এইটাতে সে ভয়ানক খাপ্পা, কারণ কুকুর তার ...
  • ইন্দুবালা ভাতের হোটেল-৬
    চিংড়ির হলুদ গালা ঝোলকোলাপোতা গ্রামটার পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে কপোতাক্ষ। এছাড়া চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে খাল বিল পুকুর। সবুজ জংলা ঝোপের পাশে সন্ধ্যামণি ফুল। হেলেঞ্চার লতা। উঠোনের কোন ঘেঁষে কাঠ চাঁপা। পঞ্চমুখী জবা। সদরের মুখটায় শিউলি। সাদা আঁচলের মতো পড়ে থাকে ...
  • যৌন শিক্ষা মহাপাপ...
    কিছুদিন ধরে হুট করেই যেন ধর্ষণের খবর খুব বেশি পাওয়া যাচ্ছে। যেন হুট করে কোন বিষাক্ত পোকার কামড়ে পাগলা কুকুরের মত হয়ে গেছে কিছু মানুষ। নিজের খিদে মিটাতে শিশু বৃদ্ধ বাছ বিচার করারও সময় নাই, হামলে পড়ছে শুধু। যদি বিষাক্ত পোকার কামড়ে হত তাহলে এই সমস্যার সমাধান ...
  • ইতিহাসবিদ সব্যসাচী ভট্টাচার্য
    আধুনিক ভারতের ইতিহাস চর্চায় সব্যসাচী ভট্টাচার্য এক উল্লেখযোগ্য নাম। গবেষক লেখক শিক্ষক এবং শিক্ষা প্রশাসক হিসেবে তাঁর অবদান বিশেষ উল্লেখযোগ্য। সবসাচীবাবুর বিদ্যালয় শিক্ষা বালিগঞ্জ গভর্মেন্ট হাই স্কুলে। তারপর পড়তে আসেন প্রেসিডেন্সি কলেজের ইতিহাস বিভাগে। ...
  • পাগল
    বিয়ের আগে শুনেছিলাম আজহারের রাজপ্রাসাদের মতো বিশাল বড় বাড়ি! তার ফুপু বিয়ে ঠিকঠাক ‌হবার পর আমাকে গর্বের সাথে বলেছিলেন, "কয়েক একর জায়গা নিয়ে আমাদের বিশাল বড় জমিদার বাড়ি আছে। অমুক জমিদারের খাস বাড়ি ছিল সেইটা। আজহারের চাচা কিনে নিয়েছিলেন।"সেইসব ...
  • অশোক দাশগুপ্ত
    তোষক আশগুপ্ত নাম দিয়ে গুরুতেই বছর দশেক আগে একটা ব্যঙ্গাত্মক লেখা লিখেছিলাম। এটা তার দোষস্খালন বলে ধরা যেতে পারে, কিন্তু দোষ কিছু করিনি ধর্মাবতার।ব্যাপারটা এই ২০১৭ সালে বসে বোঝা খুব শক্ত, কিন্ত ১৯৯২ সালে সুমন এসে বাঙলা গানের যে ওলটপালট করেছিলেন, ঠিক সেইরকম ...
  • অধিকার এবং প্রতিহিংসা
    সল্ট লেকে পূর্ত ভবনের পাশের রাস্তাটায় এমনিতেই আলো খুব কম। রাস্তাটাও খুব ছোট। তার মধ্যেই ব্যানার হাতে একটা মিছিল ভরাট আওয়াজে এ মোড় থেকে ও মোড় যাচ্ছে - আমাদের ন্যায্য দাবী মানতে হবে, প্রতিহিংসার ট্রান্সফার মানছি না, মানব না। এই শহরের উপকন্ঠে অভিনীত হয়ে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

খানাকুল

ন্যাড়া

খাওয়া-দাওয়া ছিল বটে স্বাধীনতার আগে। ভারতীয় খানার স্বর্ণযুগ বলতে মুঘল যুগ। শ্রীযুক্ত বাবর যখন ভারতের অধিপতি হয়েই পড়লেন, যে জিনিসটি তিনি সবথেকে বেশি আকাঙ্খা করতেন তা হল তার জন্মস্থানের খানা, বিশেষতঃ ফলমূল। মধ্য এশিয়ার খোবানি থেকে পারস্যের তরমুজের জন্যে তার প্রাণ কাঁদত। তাছাড়াও ভারতের মশলাদার খাবারও তাঁর বিশেষ পছন্দের ছিলনা। বাবর পছন্দ করতে মধ্য এশিয়ার ঝলসান মাংসর পদ। বাবরপুত্র হুমায়ুন কিন্তু ভক্ত ছিলে পারসিক পোলাও থেকে হালকা মশলাদার রান্নার। আকবরের সময়ে ভারতীয় রান্না, পারসিক রন্ধনপ্রণালী আর মধ্য এশিয়ার সাদাসাপ্টা ঝলসান প্রকরণে তৈরি হয়েছিল মুঘলাই খানা যা সারা বিশ্বের কিউলিনারি ট্র্যাডিশনে সব শালাকে হারায়। আজকে মুঘলাই খানা বলে যা চলে তাকে কুমারপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় একেবারে সঠিকভাবেই 'গ্লোরিফায়েড পাঞ্জাবি ধাবার' খাবার বলে আখ্যা দিয়েছেন। পাঞ্জাবি খাবার তার নিজগুণেই বিশ্বের দরবারে জায়গা নিতে পারে ও নিয়েছেও। কিন্তু মুঘলাই ছদ্মবেশ ধারণ করা শখ্ত বেয়াদপি। মুঘল সাম্রাজ্যের ইন্তেকাল হবার পরে ভারতীয় খানার গৌরবের দিন ধরে রেখেছিলেন দেশজ রাজন্যবর্গ।

অযোধ্যার নবাব গাজিউদ্দীন হাওয়দারের একজন খাস বাবুর্চি ছিল শুধু পরোটা বানানোর জন্যে। আর কী সে পরোটা! হুজুরের জন্যে দিনে স্রেফ ছটি পরোটা ভাজতেন তিরিশ সের ঘি খরচা করে।

লক্ষ্ণৌর গলাবট বা গালৌটি কাবাবের উৎপত্তি শোনা যায় কোন এক হুজুরের দন্তহীনতার জবাব হিসেবে। সে কাবাবের মাংস এতই মিহি করে বাটা হত ও তারপর অন্য অনুপান মিশিয়ে এমনই নরম করা হত যে দন্তহীন হুজুরের মাড়িতে কোন তকলিফ না ঘটিয়েই কাবাবের স্বাদের বেহেস্তে পৌঁছন যেত। এরকমই আরেক মিহি কাবাব কাকেরি কাবাব। যা কিনা, কুমারপ্রসাদের বয়ানে, শাস্ত্রমতে তিনটে শিলে বাটা হওয়া চাই।

এও শোনা যায় সম্রাট জাহাঙ্গিরের প্রিয় ছিল মুর্গির একটি বিশেষ পদ। যে সে মুর্গি নয়। জাফরানের পথ্য খাওয়া বিশেষ মুর্গি। মুর্গি তৈরির প্রণালীটি শুনুন। কয়েকশো মুর্গিকে একটি বিশেষ খাঁচায় রেখে তাদের খাওয়ান হত জাফরান-মিশ্রিত মুর্গির খাবার। প্রতিদিন এই দঙ্গল থেকে একটি করে মুর্গি জবাই করে তার মাংস মেশান হত এই জাফরানি পথ্যে। এই করতে করতে বছরের শেষে যে তাগড়াই মুর্গিটি অবশিষ্ট থাকত সেটি খাদ্য হয়ে উপস্থিত হত সম্রাটের ভোজ্যে। অঙ্কের হিসেবে, প্রতিদিনই যদি জাহাঙ্গির এই পদ খেতেন তাহলে কিছু নাহক বছরে লাখ দেড়েক মুর্গির জীবন সংশয় হত। মুঘল সম্রাটদের ব্যাপারই আলাদা।

বাঙালি মুঘলাই খাবারে মাথা মুড়িয়েছিল নবাব ওয়াজিদ আলি শাহ মেটেবুরুজে আশ্রয় নেবার পরে। সেই নবাব ওয়াজিদ আলি শাহ একদা মেহমান হয়ে আগত নাবাবজাদা মির্জা আসমান কাদেরকে দাওয়াতে এক মোরব্বা খেতে দিয়েছিলেন। কামড় দেবার আগে অব্দি নবাবজাদা বুঝতে পারেননি যে মোরব্বাটি আদতে মাংসর কোর্মা।

লক্ষ্ণৌর নবাব নাসিরুদ্দীন হায়দারের বাবুর্চিখানায় এক বাবুর্চি কাঠবাদামে (অ্যামন্ড) আর পেস্তা দিয়ে সে এমন খিচুড়ি করত যা মুখে তোলার আগে বোঝার উপায় ছিলনা যে এ চাল-ডালের খিচুড়ি নয়। কাঠবাদামের খোসা ছাড়িয়ে চালের আদলে কেটে ডালের আদলে কাটা পেস্তায় মিশিয়ে সেই খিচুড়ি তৈরি হত।

সরকারি দাওয়াত, ইয়ানি কি আজকাল খবরের কাগজে যাকে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ বা বাংলায় স্টেট ডিনার বলে লেখে, ছিল এক দেখার মতন জিনিস। পাতিয়ালার শাসক মহারাজ ভূপিন্দর সিং ভালমন্দ নানা কারণে খ্যাতি পেয়েছেন। তার একটি ছিল মহারাজের খর্চে বাতিকের জন্যে। তাঁর মোতিবাগ প্রাসাদের সরকারি দাওয়াতে অন্ততঃ একান্নটি পদ হতই হত।

আরেক বিখ্যাত নবাব রামপুরের হামিদ আলি খান একদা এক মেহমানের জন্যে দাওয়াত সাজিয়েছিলে দুশোটি পদ দিয়ে। তার ফিরিস্তিটাও একবার শুনুন - ডালই ছিল পঞ্চাশ রকমের, পোলাও দশ রকমের, মুর্গির পদ ছিল তিরিশরকমের, মাংসর পদ - পঁচিশ, চল্লিশ রকম শিকারের মাংসর পদ (গেম মিট)। এর সঙ্গে আরও সব আনুসঙ্গিক পদাবলী।

এর তুলনায় দু'হাজার ন' সালের নভেম্বরে অ্যামেরিকার রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার হোয়াইট হাউজে দেওয়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে দেওয়া স্টেট ডিনারের মেনু দেখছি চার কোর্সের পেয়ার্ড ডিনার। পেয়ার্ড ডিনার মানে প্রত্যেক পদের সঙ্গে সেই পদের মানানসই সুরার বন্দোবস্ত। প্রথম পদ স্যালাড, দ্বিতীয় পদ সুপ, তৃতীয় পদ মূল খানা (পিয়েস-দ্য-রেজিস্তাঁ) আর শেষ পদ ডেজার্ট। এরসঙ্গে অবশ্য কফি, বাদাম, ফল-টল উপরি ছিল।

হায়, কোথায় হামিদ আলি আর কোথায় হোয়াইট হাউজ। এই জন্যেই গণতন্ত্র আমি দুচক্ষে দেখতে পারিনা।

1181 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 7 -- 26
Avatar: ন্যাড়া

Re: খানাকুল

ডিডিদাদার পতনে যে আমি কী পরিমাণ ভেঙে পড়েছি যে কী আর বলব। কোথায় নবাবের ঘরের দস্তরখান আর কোথায় সদ্যনবাব ইংরেজ-হতে-চাওয়া বেহ্ম টেবিল।

চিত্রা দেবের বইই। তবে উনি প্রজ্ঞাসুন্দরীর বইয়ের মেনু উদ্ধৃত করেছিলেন।

আরও গপ্প আসবে।
Avatar: বাউণ্ডুলে বান্দা

Re: খানাকুল

পড়তে পড়তে উদাস হয়ে যাচ্ছি।
Avatar: b

Re: খানাকুল

আমার এক হিস্টরিয়ান দাদা, আইন -ই আকবরীতে থাকা কিছু রেসিপি বাড়িতে ফলো করার চেষ্টা করেছিলেন। শেষে বৌদি বিদ্রোহ করায় এগুতে পারেন নি। অ্যাপারেন্টলি মুঘল রান্নায় জল টলের ব্যাপার নেই, ঘি-এ সেদ্ধ সব। আর মাংস ম্যারিনেট করতে হবে লেবু বা ভিনিগার নয়, অল্প টক অল্প মিষ্টি আঙুরের রসে। এইসব আর কি।
Avatar: শঙ্খ

Re: খানাকুল

মনটা কাবাব কাবাব করছে
Avatar: de

Re: খানাকুল

মজার কথা হোলো এতো লিটার লিটার ঘিতে ভাজা এতো রেড মিট খেয়েও এনার দিব্বি যুদ্ধু-টুদ্ধু কত্তেন, শ-দুশো বেগমও রাখতেন হারেমে - কলেস্টেরল, ডায়াবেটিস এসব বোধহয় তখন ছিলো না -

বম্বেতে স্যাফ্রন বলে একটা চেইন আছে - তারা ওই গলৌটি কাবাবটা বেশ বানায় - ছোট ছোট পরোটার ওপরে একএকখান কাবাব বসিয়ে আনে, পাশে রিং ওনিয়ন আর লেবু আর পুদিনা-ধনিয়ার চাটনি।
Avatar: ন্যাড়া

Re: খানাকুল

বম্বে গিয়ে কোনদিন স্যাফ্রনের গালৌটি কাবাব খাওয়া হবে কিনা জানিনা। তবে গলৌটি কাবাবের বেহেস্ত শুনেছি লক্ষ্ণৌর 'তুন্ডে'। এক ল্যাংড়া (তুন্ডে) বাবুর্চির দান। আল্লার দোয়ায় ব্যাঙ্গালোরে তার একটি ব্রাঞ্চ ছিল - তুন্ডে কাবাবি। সেখানে উত্তম গলৌটি খেয়েছি, যদিও নাম দিয়েছে তুন্ডে কাবাব। রুমালি রুটির সঙ্গে খেতে হয়। কল্লোলদা সায় দেবে।
Avatar: b

Re: খানাকুল

অত যুদ্ধু আর অত বেগম থাকলে এমনি-ই কোলেস্টেরল কমে যাবে।
Avatar: সৈকত

Re: খানাকুল

ন্যাড়াবাবু নিশ্চয় বলতে পারবেন। খাস বাবুর্চির ছটি পরোটা ভাজার কথা পড়ে মনে পড়ল, কদিন আগে একটা লেখায় পড়লাম। এই যে কলকাতার বিরিয়ানিতে আলু দেয়া হয়না কারণ ওয়াজিদ আলি শাহর সামর্থ্য ছিল না (যদিও ওনার উত্তরপুরুষরা এই মতকে মানেন না, বক্তব্য যে নবাব এক্সপেরিমেন্ট করার জন্য আলু যোগ করেছিলেন বিরিয়ানিতে), তো সেই আলু দেওয়ার ব্যাপারটা নাকি রয়ালের বিরিয়ানিতে ঘটে না, সেটা আলু ছাড়াই (অর্ধেক জীবন কেটে গেল, রয়ালের বিরিয়ানি খাওয়া হয়নি এখনও !!)। এর কারণ রয়ালের দোকান যে পরিবার চালায় তাদের পূর্বপুরুষ ছিল ওয়াজিদ আলি শাহর খাস বাবুর্চি, তাদের বলা হত রেকাবদার। কারণ, একটি রেকাবিতে যতখানি বিরিয়ানি ধরে ঠিক সেই পরিমাণের বিরিয়ানিই তাঁরা রাঁধতেন নবাব আর দু-চারজন পরিবারের সদস্যদের জন্য। এবং সেই বিরিয়ানিতে মাংসই থাকত। বাকি লোকজনের বিরিয়ানি রাঁধার আলাদা বাবুর্চি ছিল আর সেই বিরিয়ানিতে আলুই পড়ত ! তো, এই রেকাবদারদের কথা ন্যাড়াবাবু জানেন কিছু ?


Avatar: sm

Re: খানাকুল

ন্যাড়া র প্রত্যেকটা লেখার মধ্যে আলাদা ফ্লেভার পাচ্ছি।মোগলাই খানার লেখাটাতো লা জবাব।তবে ভূতের টা তুলনাহীন।
হেব্বি হচ্ছে।
নবাবী রেসিপি দু চারটে হয়ে যাক।
Avatar: সুমন

Re: খানাকুল

উলস!!!
Avatar: কল্লোল

Re: খানাকুল

আহাহা। ন্যাড়ার দুই গালে গন্ডা গন্ডা চুমু।
সে এক লুরু ভাটে ন্যাড়ার প্রথম লুরুবাসায় খেয়েছিলুম। তার আগে (আমার তখন বোধহয় ৫৫) আমি কস্মিনকালেও ঐ বস্তুটি আস্বাদ করিনি। ওটি আমার কলকাতা থাকাকালীন (১৯৫৫ থে ২০০৬) সারা শহরে কোত্থাও পাওয়া যেতো না।
প্রথম দেখে মনে হয়েছিলো শামী কাবাব। মুখে দিতে চক্ষু ভালে ও সাথে আরও কিছুমিছু রগে। যারে কবিরা কয়েছেন (নাঃ, এ অনুভুতি কবিদের বাবারও সাধ্যের অতীত) - জিভের ভিতর দিয়া মরমে পশিল। পাক্কা সুফি বিলাপ - ধরি ধরি মনে করি / ধরা নাহি যায়.......
বস্তুটির পরিচয় ন্যাড়াই বল্লে "টুন্ডে কাবাব"। কোরমঙ্গলায় উনার নিবাস টুন্ডে কাবাবি নামের খানাঘরে।
খুঁজে পেতে পরদিনই গেলুম ও গরগরা শুদম হয়ে গেলো।
তাপ্পর থে যতদিন লুরুতে ছিলুম পরিচিত, স্বল্প পরিচিত, পরিচিত হবে হবে এমন মনুষ্যপদবাচ্য হগ্গলরে খাইয়েছি।
এট্টা ছোট্ট তথ্যপ্রমাদ - ওটি রুমালী রুটি নয়, টুন্ডে পরোটা দিয়ে খেতে হয়। বস্তুটি রুমালী রুটির কায়দাতেই বেলা হয়। কড়াইয়ের উল্টোদিকেই সেঁকা হয়। কিন্তু স্বাদে ভীষন স্বল্প তেলের পরোটা।
কেউ লুরু গেলে চেখে আসবেন। কোরমোঙ্গলা কৃষ্ণ টেম্পেলের কাছে, তন্দুর হাট ও লাজিজের মাঝে।
Avatar: ন্যাড়া

Re: খানাকুল

সৈকত - ঠিকই। তিন শ্রেণীর লোক খানা পাকানোয় নিযুক্ত হতেন। একদম তলার ধাপে ছিলেন যারা তাদের কাজ ছিল বাসন-টাসন মাজা আর বাবুর্চিদের ফাইফরমাস খাটা। অনেকটা আজকের রেস্তোঁরার বাস-বয়দের মতন। দ্বিতীয় ধাপে ছিলেন বাবুর্চিরা। বাবুর্চিরা পাইকারি হারে খাবার রাঁধত। লাইন শেফের মতন। সবার ওপরে ছিলেন রকবদার। তাঁরা অতি অল্প পরিমাণে রান্না করতেন বিশিষ্টজনদের জন্যে। পাইকিরি হারে রান্না করতে তাদের সম্মানে লাগত। তবে রান্নার পাশাপাশি রকবদাররা গার্নিশিঙে খুবই পটু ছিলেন। প্রচুর সময় যেত ফল কেটে ফুল, পাখি বানিয়ে খাবারের থালায় পরিবেশন করতে। আর দড় ছিলেন নানারকম আচার, মোরব্বা, চাটনি তৈরিতে।

কলকাতার বিরিয়ানিতে আলু নিয়ে খুব ধন্দে আছি। এখনও কোন অথেনটিক সোর্স চোখে পড়েনি। আমিও বহুদিন রয়েলের বিরিয়ানি, চাঁপ - কিছুই খাইনি। হায়।
Avatar: ন্যাড়া

Re: খানাকুল

এই তো কল্লোলদা বলে দিয়েছে। হ্যাঁ, তুন্ডে পরোটা। ওই দোকানের বাকি সব খাবার এই দুয়ের তুলনায় অতি ফিকে।
Avatar: dc

Re: খানাকুল

এবার ব্যাঙ্গালোর গেলে এই টুন্ডে কাবাবি তে গিয়ে খেতে হবে।
Avatar: amit

Re: খানাকুল

পুরো জিভে জল আনা টোয়ি।
কলকাতার আলুওয়ালা বিরিয়ানি কি ওয়াজেদ আলী শা-র বাবুর্চিরা চালু করেছিল ? কোথায় যেন পড়েছিলাম একটা। ডিটেলস জানি না।
Avatar: dc

Re: খানাকুল

কিন্তু জোম্যাটোতে দেখছি অনেকে রিভিউতে লিখেছে রিসেন্টলি নাকি খারাপ হয়ে গেছে! এটা কোরামঙ্গলার টুন্ডে কাবাবির রিভিউ।
Avatar: দ

Re: খানাকুল

আমি কোরামঙ্গলার এই দোকানটায় ২০১৫তে খেয়েছি, সরি ট্যু সে, খুব আহামরি কিছু লাগে নি।

যারা ব্যাঙ্গালোর যেতে পারছেন না তারা কলকাতার আমিনিয়া - চিনার পার্ক ব্র্যাঞ্চে নানারকম কেবাব চেখে দেখতে পারেন। বেশ দিব্বি বানায়।

আর অওধি আমার চাখা হয় নি, অজ্জিত ব্ল্যাঙ্কিরা বলতে পারবে।

এবার কলকাতা গিয়ে সিকিম হাউজের ভেতরে ব্লু পপি থাক্কালিতে খেয়ে এলাম। পাঁঠা আর শুয়োরের অতি উত্তম কিছু পদ। একটা ছিল পাঁথার খুরের। ওদের কিমচি ফ্রায়েড রাইসও একদম ইউনিক টেস্ট।
Avatar: কল্লোল

Re: খানাকুল

আমি চলে আসার পর ইন্দ্রানগরে 100ফিট রোডে 6thক্রসের কাছে একটা মুঘলাই খাবার জায়গা হয়েছে। সেখানেও গলাওটি কাবাব পাওয়া যায়।

এছাড়া কেম্ব্রিজ লে আউটে 1stক্রসের কাছে কিম লি-তে চিলি পর্ক চমৎকার। কোরমঙ্গলায় বাঙ্গালীয়ানার পাশে জুক বক্সে পর্ক স্পেয়ার রিবস অতি উত্তম। হেথায় চাইলে গরম (ঈষদুষ্ণ) বিয়র পাওয়া যায়। চেষ্টা করে দেখতে পারেন।
Avatar: San

Re: খানাকুল

লুরু বা দিল্লিতে গলৌতি কাবাব ভালই মেলে , কিন্তু লখনউ এর চক-বাজারে ওরিজিনাল তুন্ডে কাবাবিতে খাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে , সেটা সত্যিই অসাধারণ ! সরু গলির ছোট্ট ঘুপচি দোকান , দুটোমাত্র আইটেম বিক্কিরি হয় - গলৌতি কাবাব আর 'উল্টে তাওয়া কি পরাঠে'।
Avatar: প্রতিভা

Re: খানাকুল

কাবাব টাবাব নিয়ে কথা হচ্ছে হোক। দিব্যি লাগছে। মাঝে মাঝে হাড্ডির মতো বেগমরা এসে পড়ছে কেন কে জানে !

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 7 -- 26


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন