সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা... বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ পরিবর্তন হওয়ার দিন
    বিএনপি এখন অস্তিত্ব সংকটে আছে। কিন্তু কয়েক বছর আগেও পরিস্থিতি এমন ছিল না। ক্ষমতার তাপে মাথা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল দলটার। ফলাফল ২০০৪ সালের ২১ আগস্টে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেনেড মেরে হত্যার চেষ্টা। বিরোধীদলের নেত্রীকে হত্যার চেষ্টা করলেই ...
  • তোমার বাড়ি
    তোমার বাড়ি মেঘের কাছে, তোমার গ্রামে বরফ আজো?আজ, সীমান্তবর্তী শহর, শুধুই বেয়নেটে সাজো।সারাটা দিন বুটের টহল, সারাটা দিন বন্দী ঘরে।সমস্ত রাত দুয়ারগুলি অবিরত ভাঙলো ঝড়ে।জেনেছো আজ, কেউ আসেনি: তোমার জন্য পরিত্রাতা।তোমার নমাজ হয় না আদায়, তোমার চোখে পেলেট ...
  • বার্সিলোনা - পর্ব ২
    বার্সিলোনা আসলে স্পেনের শহর হয়েও স্পেনের না। উত্তর পুর্ব স্পেনের যেখানে বার্সিলোনা, সেই অঞ্চল কে বলা হয় ক্যাটালোনিয়া। স্বাধীনদেশ না হয়েও স্বশাসিত প্রদেশ। যেমন কানাডায় কিউবেক। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই মনে হয় এরকম একটা জায়গা থাকে, দেশি হয়েও দেশি না। ...
  • বার্সিলোনা - পর্ব ১
    ঠিক করেছিলাম আট-নয়দিন স্পেন বেড়াতে গেলে, বার্সিলোনাতেই থাকব। বেড়ানোর সময়টুকুর মধ্যে খুব দৌড় ঝাঁপ, এক দিনে একটা শহর দেখে বা একটা গন্তব্যের দেখার জায়গা ফর্দ মিলিয়ে শেষ করে আবার মাল পত্তর নিয়ে পরবর্তী গন্তব্যের দিকে ভোর রাতে রওনা হওয়া, আর এই করে ১০ দিনে ৮ ...
  • লাল ঝুঁটি কাকাতুয়া
    -'একটা ছিল লাল ঝুঁটি কাকাতুয়া।আর ছিল একটা নীল ঝুঁটি মামাতুয়া।'-'এরা কারা?' মেয়েটা সঙ্গে সঙ্গে চোখ বড়ো করে অদ্ভুত লোকটাকে জিজ্ঞেস করে।-'আসলে কাকাতুয়া আর মামাতুয়া এক জনই। ওর আসল নাম তুয়া। কাকা-ও তুয়া বলে ডাকে, মামা-ও ডাকে তুয়া।'শুনেই মেয়েটা ফিক করে হেসে ...
  • স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি
    স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি। আমি স্টার্ট-আপ কোম্পানিতে কাজ করছি ১৯৯৮ সাল থেকে। সিলিকন ভ্যালিতে। সময়ের একটা আন্দাজ দিতে বলি - গুগুল তখনও শুধু সিলিকন ভ্যালির আনাচে-কানাচে, ফেসবুকের নামগন্ধ নেই, ইয়াহুর বয়েস বছর চারেক, অ্যামাজনেরও বেশি দিন হয়নি। ...
  • মৃণাল সেন : এক উপেক্ষিত চলচ্চিত্রকার
    [আজ বের্টোল্ট ব্রেশট-এর মৃত্যুদিন। ভারতীয় চলচ্চিত্রে যিনি সার্থকভাবে প্রয়োগ করেছিলেন ব্রেশটিয় আঙ্গিক, সেই মৃণাল সেনকে নিয়ে একটি সামান্য লেখা।]ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কীভাবে যেন পরিচালক ত্রয়ী সত্যজিৎ-ঋত্বিক-মৃণাল এক বিন্দুতে এসে মিলিত হন। ১৯৫৫-তে মুক্তি ...
  • দময়ন্তীর সিজনস অব বিট্রেয়াল পড়ে
    পড়লাম সিজনস অব বিট্রেয়াল গুরুচন্ডা৯'র বই দময়ন্তীর সিজনস অব বিট্রেয়াল। বইটার সঙ্গে যেন তীব্র সমানুভবে জড়িয়ে গেলাম। প্রাককথনে প্রথম বাক্যেই লেখক বলেছেন বাঙাল বাড়ির দ্বিতীয় প্রজন্মের মেয়ে হিসেবে পার্টিশন শব্দটির সঙ্গে পরিচিতি জন্মাবধি। দেশভাগ কেতাবি ...
  • দুটি পাড়া, একটি বাড়ি
    পাশাপাশি দুই পাড়া - ভ-পাড়া আর প-পাড়া। জন্মলগ্ন থেকেই তাদের মধ্যে তুমুল টক্কর। দুই পাড়ার সীমানায় একখানি সাতমহলা বাহারী বাড়ি। তাতে ক-পরিবারের বাস। এরা সম্ভ্রান্ত, উচ্চশিক্ষিত। দুই পাড়ার সাথেই এদের মুখ মিষ্টি, কিন্তু নিজেদের এরা কোনো পাড়ারই অংশ মনে করে না। ...
  • পরিচিতির রাজনীতি: সন্তোষ রাণার কাছে যা শিখেছি
    দিলীপ ঘোষযখন স্কুলের গণ্ডি ছাড়াচ্ছি, সন্তোষ রাণা তখন বেশ শিহরণ জাগানাে নাম। গত ষাটের দশকের শেষার্ধ। সংবাদপত্র, সাময়িক পত্রিকা, রেডিও জুড়ে নকশালবাড়ির আন্দোলনের নানা নাম ছড়িয়ে পড়ছে আমাদের মধ্যে। বুঝি না বুঝি, পকেটে রেড বুক নিয়ে ঘােরাঘুরি ফ্যাশন হয়ে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

#মারখা_মেমারিজ (পর্ব ৩)

Biswajit Hazra


লে-পর্ব (০৩.০৯.২০১৮)
--------------------------

দিল্লী থেকে সরাসরি ফ্লাইটে লাদাখের মূল শহর লে-তে এসে পৌঁছলে একটা কমন প্রবলেম হয়। হাই অল্টিটিউড সিকনেস। হওয়ারই কথা। দিল্লীর অল্টিটিউড ৭০০ ফুট। লে সেখানে ১১,৫০০ ফুট। মানে, দেড় ঘন্টায় ঝপ্‌ করে প্রায় ১১,০০০ ফুট অল্টিটিউড গেইন। শরীরের কলকব্জা বিগড়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। লে এয়ারপোর্টে নেমেই শুনলাম মাইকে অ্যানাউন্স করা হচ্ছে ... কমপক্ষে ২৪ ঘন্টা, পারলে ৭২ ঘন্টা রেস্ট নিন। গুছিয়ে জল খান। নিজেকে অ্যাক্লেমাটাইজ করুন। তারপর যত খুশি ঘুরে বেড়ান।

আরও পড়ুন...

আয়নাবানুর ঘেনর ঘেনর ১

Bored_বুদ্ধি

রোজকার মতোই আজকেও একটা প্রচন্ড মন খারাপ চুপচাপ বসে আছে। ঠিক গায়ে সাঁটা ব্রায়ের হুক এর মত।
বাকি সবটাই বয়ে যায়। বয়ে যাওয়া সব কালেই ছিল। এখনো রয়েছে। গতি টা বেড়েছে কেবল। আরো বাড়বে বলেই বোধ হয়। বোধ? বোধ কি আর হয় আজকাল?!
যাকগে!!
বলছিলাম মন খারাপের কথা।
বরের সাথে ঝগড়া থেকে বোনের সঙ্গে মন কষাকষি, ধুন্ধুমার চলতে থাকা মব লিঞ্চিং বা সামান্য একটু অন্য কথায় হাজার চোখের লাল টুকটুকে টমেটো হয়ে ওঠা এসব আগে জ্বালা ধরাত। মাথা তরতরিয়ে ভাবতো হ্যান করেঙ্গা, ত্যান করেং।এখন কেবল বস্তাপ

আরও পড়ুন...

আঠের শেষের একুশ

ফরিদা



অনেকদিন যোগাযোগ নেই,
ঘুম থেকে উঠে বিপর্যস্ত লাগে,
নতুন জায়গা, খুব শীত সকালের দিকে
বেলা বাড়লেও কুয়াশায় কিছুই দেখা যায় না।
ঠিক যেন পর্দার ঠিক ওইপাশে সবকিছু ঠিকঠাকই আছে।
সকালে উঠেই যেন তাকে আজও মনে পড়ে
আলনায় গেরস্তকথা, চিঠিপত্র গাছে গাছে।



তুমি বলেছিলে…..
খুব একটা গভীর কিছুই নয়
দু'চারটে নুড়িপাথর, নেড়িকুকুর শব্দ
তুমি বলেছিলে বলে তার চারপাশে
এতদিন বেড়া দিয়ে, ভিত খুঁড়ে
যতটুকু পারি এবড়োখেবড়ো গাঁথনি বানিয়ে
নিজে দেখে দ

আরও পড়ুন...

মৃণাল সেন-এর অবিচুয়ারি

Anamitra Roy

সেই ছোটবেলায় বাবামায়েরা আমাদের টাটা দিতে শেখায়। সফলভাবে এই টাটাশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠতে পারলে আমাদের জনসমক্ষে বেশ গুডবয়-গুডগার্ল জোটে প্রথমপ্রথম। তারপর বড় হওয়া, কথা বলতে শেখা, এইসবের মধ্যে কখন যেন একদিন জোটা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু রিওয়ার্ড বেসড লার্নিং বলে একটা কথা আছে। এটা আমাদের কাজুদের ক্ষেত্রেও সত্যি। যে কাজগুলো করলে প্রশংসা-পুরস্কার বা নিদেনপক্ষে অ্যাটেনশন জোটে, সেগুলো আমরা চট করে ভুলি না, এবং বারে বারে করতে থাকি। অথবা বলা ভালো করে 'দেখাতে' থাকি আসলে, সে সেটা প্রাসঙ্গিক হোক বা না হোক। এই যেমন

আরও পড়ুন...

লাভ সোনিয়া

Prativa Sarker

Love Soniya

নন্দন টুতে তখন পর্দাজোড়া একটা নিষ্পাপ বালিকামুখ, যে দেখছে উর্দিপরা পুলিশের সঙ্গে ব্রথেল মালিকের দোস্তির কারণে পালিয়ে গেলেও আবার পুলিশ তাকে ফিরিয়ে এনেছে সেই নরকেই। ।গায়ের রঙ কালো ব'লে প্রথমে তাকে শিখতে হয় ওরাল সেক্সের নানা রকম, যার ফলে ঠাকুর্দার বয়সী একজন ঘরে এসে দাঁড়ালে সে রিফ্লেক্সজনিত কারণে হাঁটু মুড়ে বসে পড়ে মেঝেতে। 'সিল' ইন্ট্যাক্ট, এই আনন্দে কৃষ্ণত্বকের দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে প্রথমে তাকে মুম্বাই থেকে পাচার করা হয় হংকং, তারপর লস এঞ্জেলস। হাজার হাজার মাইল সে পাড়ি দেয় আক্ষরিক অর

আরও পড়ুন...

জেড প্লাস

Suvendu Debnath

১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। তাঁর দুই শিখ দেহরক্ষী সৎবন্ত সিংহ ও বিয়ন্ত সিংহ অপারেশন ব্লু স্টার চলাকালীন স্বর্ণমন্দির নামে পরিচিত শিখদের সর্বোচ্চ তীর্থ হরমন্দির সাহিবে সেনা অভিযানের প্রতিশোধ নিতে তাঁকে হত্যা করে। আইরিশ টেলিভিশনের জন্য নির্মীয়মান একটি তথ্যচিত্রের প্রয়োজনে ব্রিটিশ অভিনেতা পিটার উস্তিনভকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার কথা ছিল শ্রীমতী গান্ধীর। নতুন দিল্লির ১ নং সফদরজঙ্গ রোডের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাগানের পথ ধরে হেঁটে যাচ্ছিলেন তিনি

আরও পড়ুন...

যাদবপুর -- ডোমিসাইল নীতি

সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়

যাদবপুরের উপাচার্যকে নিয়ে একটা খবর দেখলাম। সম্ভবত সত্যিই। যে, যাদবপুরে ডোমিসাইল নীতির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের ছেলেমেয়েদের অগ্রাধিকার দেবার প্রস্তাব স্থগিত রাখা হয়েছে। বর্তমান নীতি অনুযায়ী রাজ্যের সরকারী ইঞ্জিনিয়ারিং ইত্যাদি কলেজগুলিতে রাজ্যের বাইরের ছাত্রছাত্রীদেরও প্রায় অবাধে ভর্তি বহার সমানাধিকার দেওয়া আছে। খবরে পড়েছি, যাদবপুরের ইঞ্জিনিয়ারিং এর ডেমোগ্রাফি গত এক বা দু বছরে একেবারে বদলে গেছে। অন্য কলেজের কী খবর জানিনা। এখনই যদি একই অবস্থা না হয়, তো অদূর ভবিষ্যতেই হবে বলে আন্দাজ করা যায়।

আরও পড়ুন...

চিত্রবাণী-র ফাউল ফেস্টিভ্যাল সম্পর্কিত কিছু কথা

Anamitra Roy

আমার শর্ট ফিল্ম কোন প্ল্যাটফর্মে দেখানো হবে না হবে সেটা একান্তই আমার সিদ্ধান্ত। এমনকি আদেও ছবিটা ইন্টারনেটে কোথাও থাকবে কিনা সেই সিদ্ধান্তও আমিই নেবো। অন্য কেউ এখানে আমাকে বাধ্য করতে পারে না। চিত্রবাণীর চলচ্চিত্রোৎসবের আয়োজকরা ঠিক সেটাই করার চেষ্টা করছেন। আজকের 'এই সময়'-তে বেরোনো রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যাপারটা নাকি অপশনাল। এই পোস্টের সাথে কতগুলো ছবি দেওয়া রইলো, সেগুলো কিন্তু উল্টো কথা বলছে। ডিক্লেয়ারেশন ফর্ম-এ grant /do not grant -এর অপশন নেই। ফিল্ম ফ্রিওয়ে বলছে, "preview copies will be part of the K

আরও পড়ুন...

কুড়োন টিভি

ন্যাড়া

আমি মার্কিন দেশে আসি পিএইচডি করার নাম করে। প্রথম দু বছর থাকতাম একটা দু বেডরুম অ্যাপার্টমেন্টে চারজন। পরেশ, ভাবিন, জয়েশ আর আমি। পরেশ বম্বের ছেলে, আমাদের এক বছর আগে এসেছে। ভাবিনও বম্বের। তবে গুজরাটি। আর জয়েশ আহমেদাবাদের গুজরাটি। আমাদের অ্যাপার্টমেন্টে আসবাব বলে কিছু ছিলনা। এদেশে একটা রীতি আছে। পুরনো জিনিস - সে আসবাবই হোক কি টিভি হোক কি মাইক্রোওয়েভ হোক - ব্যবহারযোগ্য থাকলে লোকে "ফ্রি" বলে একটা কাগজ সেঁটে বাড়ির সামনে রেখে দেয়। যদ্দিন না গারবেজের ট্রাক এসে ওগুলো নিয়ে যাচ্ছে, অন্য কেউ প্রয়োজন থাকলে স্

আরও পড়ুন...

হ্যাশট্যাগ ভার্চুয়াল জুতোপেটা: এত হইচই কিসের!

Anamitra Roy

কেউ কেউ এখনও জানতে চাইছে বাওয়ালটা ঠিক কি নিয়ে। ওদিকে কাল ইপ্সিতাদিও বলছিলো এসভিএফ-এর পিছনে এত এনার্জি নষ্ট করিস না, লিখে রাখ বরং। এমনিতে বিপ্লবটা আজকাল উইকেন্ড দেখেই করতে হয়। আজ সন্ধ্যের পর নিজের পক্ষেই আর সময় দেওয়া সম্ভব হবে না। কয়েকজনকে মেসেজে লিখলাম একটু আগে, বড় ঘটনা, পরে বলবো / ধীরে ধীরে লিখছি ইত্যাদি। তারপর ভেবে দেখলাম ব্লগ যখন আছে, তুলেই রাখি, কেউ জানতে চাইলে লিংক পাঠিয়ে দেব। কোনো সাহিত্য নয়, যেরকম যা ঘটেছে এবং মনে হয়েছে লিখে যাচ্ছি।

আমি আর শ্রীপর্ণা আপাতত অনেকগুলো ওয়েবসিরিজ দেখে

আরও পড়ুন...

তেমনি আমার বুকের মাঝে

শিবাংশু

আমি আর সায়ন ফিরছিলুম একসঙ্গে অটোতে। এইট বি থেকে গড়িয়া। সায়ন শুধালো, শিবাংশুদা, কেমন লাগলো আজ? তখনই প্রথম আমি আলাদা করে ভাবতে প্ররোচিত হলুম। ঠিকই তো। কেমন লাগলো আমার এইসব কিছু। জানি, এই প্রশ্ন তো আমাকে আবার করা হবে। করা হলো। অনেকরাতে। স্বয়ং পাইদিদি। জীবনে প্রথম এতোজন উন্মোচিত সমকামী ও বৃহন্নলা মানুষজনের সঙ্গে এতোক্ষণ কাটালুম। তাদের কথা শুনলুম। তাদের ভাবনার জগতে রু-ব-রু মহড়া নিলুম। প্রথমবার এ জীবনে।

কিছু বলার আগে একটা অব্স্থান নিতে হয়। 'সামাজিক অবস্থান'। নিত্য দেখি, 'মানবিকতা' নামক একটি

আরও পড়ুন...

২৩ ডিসেম্বর - শুভ জন্মদিন ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল

Muhammad Sadequzzaman Sharif

আচ্ছা, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে কতজন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল? জনসংখ্যা ছিল ৭ কোটি, ১ কোটির মত মানুষ ভারতে আশ্রয় নেয়। বাকি সবাই ছিল দেশে। তো বাকিদের মাঝে কতজন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল? সংখ্যাটা খুব বেশি না। মাত্র দুই লাখ মানুষ। বর্তমান মুক্তিযোদ্ধার তালিকা অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ১ লাখ ৮০ হাজার। সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ না করলেও আরও বেশ কিছু মানুষ মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য সহযোগিতা করেছে। আর বাদবাকি সবাই পুরো যুদ্ধকালীন সময়টা চুপচাপ তামাসা দেখে গেছে। শুনতে খারাপ শোনালেও বাস্তবটা অন

আরও পড়ুন...

বিকেলের রাঙা গল্প

Parthasarathi Giri


বিকেলের রাঙা গল্প
*****************

একটা উধাও হাইওয়ের পাশে একটা ডোবা। ডোবার পাড়ে একটা ঝাঁকড়া শিরিষ গাছ। ছায়া পড়েছে জলে। এক টুকরো জল ঘিরে একটি ইকোসিস্টেম।

জল দেখলে, বিশেষত কাদামাখা ঘোলাজল দেখলে আমার কানকো খলবল করে ওঠে। পায়ের নখের ধার বরাবর, কানের লতির নিচে সুড়সুড় করে শিরিষ-ফুল-ভাসা ডোবা দেখলে। মাঝে মাঝে স্থির জল তিরতির করে কেঁপে উঠছে। মনে হয় ফিসফিস নাকি বিড়বিড়; ডোবার ঘরে আমার খলসে বউয়ের গা ভারি হয়েছে বলে গজগজ করে?

পুরুষজাতটাই তো বজ্জাত। বলিনি আমি? কতবার করে বা

আরও পড়ুন...

রাজত্বের দাম

Ritwik Gangopadhyay




- মহামান্য সম্রাটের জয় হোক।

আলো আঁধারি মন্ত্রনা কক্ষ গমগম করে উঠলো।

সম্রাট চিন্তান্বিত ভাবে বসে ছিলেন। মূল দরবার কক্ষের কাজ সেরে সামান্য কিছু আহার করেই তিনি আজ মন্ত্রনাকক্ষে চলে এসেছেন বা বলা যেতে পারে আসতে বাধ্য হয়েছেন। তার মন বিক্ষুব্ধ। চিন্তা এতটাই গভীর যে মন্ত্রনাকক্ষের দরজা খুলেছে, দুজন প্রহরীর সাথে প্রধান পুরোহিত প্রবেশ করেছেন, তিনজনের মানুষের পায়ের শব্দে কক্ষের নিস্তব্ধতা ভঙ্গ হয়েছে কিন্ত সম্রাট খেয়ালই করেন নি।

সেনাপতি অবশ্য আগেই লক্ষ্য ক

আরও পড়ুন...

#মারখা_মেমারিজ (পর্ব ২)

Biswajit Hazra

ট্রেন ও প্লেন পর্ব (০২.০৯.২১৮)
---------------------------------

আগের দিন ট্রেন ছেড়েছিলো ঠিক সাতটা চল্লিশে। রাত ন’টায় বর্ধমান থেকে সুব্রতদার ওঠার কথা। ড্রামটা কেন সিটের তলায় ঢুকছে না, বস্তাগুলো আড়ে ঢোকানো উচিৎ না লম্বায়, স্টোভের সাথে এক্সট্রা পিন নেওয়া হয়েছে না হয়নি ... জনগন যখন এইসব তুচ্ছ জাগতিক সমস্যা নিয়ে ব্যাস্ত, কানে এলো, মোবাইলে সুব্রতদাকে শঙ্খদা মধু-মাখা গলায় বলছে, “ট্রেন রাইট টাইমে। হ্যাঁ হ্যাঁ। ওই কেজিখানেক মিহিদানা আর দু-প্যাকেট চানাচুর নিলেই চলবে। ব্যাস্‌। ন’টায় দেখা হচ্

আরও পড়ুন...

ও ডাক্তার

Koushik Lahiri



একটা কথা আমরা প্রায়শঃ শুনি, রাতে কোনো ডাক্তার ফোন ধরেন না !

কিন্তু যেটা আমরা ভুলে যাই যে চিকিৎসকটিও একজন মানুষ, তাঁরও একটা পরিবার থাকতে পারে প্রাকৃতিক কারণেই তাঁরও বিশ্রাম-আহার-নিদ্রা-প্রাত্যহিক কৃত্যাদির প্রয়োজন থাকতে পারে!

এমনকি তিনি নিজেও উচ্চ রক্তচাপ, শর্করাবৃদ্ধি, হৃদযন্ত্রঘটিত সমস্যা বা অন্য কোনো শারীরিক অসুস্থতার শিকার হতে পারেন !

কিন্তু সেই বিপন্ন মানুষটির অসহায়তাও তো কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

শিশু, মহিলা, প্রবীণ যেই হন, মধ্যরাতে অসুস্থ, বিপদগ্রস্

আরও পড়ুন...

কোনো সম্পাদক গ্রেপ্তার হননি

অতন্দ্র লহরী

বন্ধুগণ, আপনারা সবাই জানেন, আমরা বাংলার মূলধারার মিডিয়া, আমরা কোনো সমালোচনার মতো কাজ করিনা। কোনওদিন করিনি, কোনওদিন করবওনা। আমাদের মাথার পিছনে জ্যোতি, বগলে সুগন্ধ। আমাদের কানের খোল সোনার তৈরি, নাকের পোঁটায় আলপনা থাকে আর বর্জ্য পদার্থে মেশানো ফরাসী সেন্ট। আমরা সারা দুনিয়ার চোখে-আঙুল-দাদা, দুনিয়ার সব লোকের সমালোচনা করি। কিন্তু আমাদের কোনো খুঁত নেই, ছিলনা, থাকবেওনা। তাই ছাপার প্রশ্নও নেই। এতদিন আমরা সারদা-নারদা নিয়ে অনেক ফাটিয়েছি, অনেক খবর বার করেছি, অনেক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, জল্পনা কল্পনা করেছি

আরও পড়ুন...

#মারখা_মেমারিজ (পর্ব ১)

Biswajit Hazra

ডে জিরো (০১.০৯.২০১৮)
----------------------------

হালকা ঝাঁকুনি দিয়ে ট্রেনটা চলতে শুরু করতেই ঝপ্‌ করে সুতোটা কেটে গেলো! প্রতিবারের মতো সেই একই অনুভুতি! কি করে বোঝাই? ছোটোবেলায় ঘুড়ি ওড়াতাম। শান দেওয়া মাঞ্জা সুতোয় বাঁধা টান্‌ টান্‌ ঘুড়িটা গোটা আকাশ জুড়ে দাপাদাপি করছে ... লাট খাচ্ছে ... গোঁৎ খেয়ে নীচে নামছে ... আবার সুতোর টানে হূ হূ করে উঠে যাচ্ছে সেই টঙে। বিশ্ব-চরাচর ডকে তুলে কি যেন একটা ঘটে চলেছে আকাশে। বাহ্যিক ধ্যান-জ্ঞান লুপ্ত। হৃদপিণ্ড যেন গলার কাছে আটকে। ক্রেপ-কাগজের ঘুড়ি, প

আরও পড়ুন...

সাধু কালাচাঁদ, ট‍্যাঁপা-মদনা, পটলা ও রুনু

কুশান গুপ্ত

'ভালো লাগছে না রে তোপসে' বা 'ডিলাগ্রান্ডি' বললে বাঙালি মননে এক ধরনের রিফ্লেক্স অ্যাকশন কাজ করে যেন। ফেলুদা/তোপসে, টেনিদা, ঘনাদা ইত্যাকার নামগুলি বাঙালির আড্ডার স্বাভাবিক উপাদান। এই অনুষঙ্গগুলি দিয়ে বাঙালি তার হিউমারের অভ্যাস ঝালিয়ে নেয়, কিছুটা আক্রান্ত হয় নস্টালজিয়াতেও।

তবে, এইসবের মধ্যে বাল্যবেলায় পড়া কিছু কিশোরচরিত্ররা হারিয়ে গেছে, কিছুটা উপেক্ষিতই যেন তারা। ক'জন আর নগণ্য সাধু কালাচাঁদকে মনে রেখেছে? ট্যাঁপা-মদনা বললে আমরা ক'জনই বা সহসা আবার ক্লাস ফোরের পূজাপ্রাক্কালে চলে যাই? এইসব চরি

আরও পড়ুন...

যম-দুয়ারে পড়ল কাঁটা

ন্যাড়া

অন্য লোকের স্বপ্নে আসে ভগবান, সিনেমা স্টার, ছেলেবেলার বন্ধু নিদেন ইশকুল-কলেজের কড়া মাস্টারমশাই। কবি হলে প্রেমিকা-টেমিকা, একেবারে কবিতাশুদ্ধু। " বাসস্টপে দেখা হলো তিন মিনিট, অথচ তোমায় কাল স্বপ্নে বহুক্ষণ ..." ইত্যাদি। আর আমার স্বপ্নে আসেন যমরাজ। যমরাজ মানে শমন, কৃতান্ত। ভাল্লাগে না মাইরি।

আর আসবেন তো আসুন, মোষের পিঠে চেপে স্টেজ লেফট দিয়ে ঢুকে ভয়-টয় দেখিয়ে স্টেজ রাইট দিয়ে বেরিয়ে গেলেন - সে একরকম। কিংবা যাত্রাদলের যমরাজের মতন বালা-হাতে আখাম্বা হাত কোমরে দিয়ে চোখ পাকিয়ে বুহাহাহা করে অট্টহাস

আরও পড়ুন...

আমার বাড়ির বিজয় দিবস...

Muhammad Sadequzzaman Sharif

মুক্তিযুদ্ধের সরাসরি প্রভাব আমার পরিবারের ওপরে পড়েনি। বলা যেতে পারে আশপাশ দিয়ে চলে গেছে বিপদ আপদ। কিন্তু আশপাশ দিয়ে যেতে যেতেও একদিন যমদূতের মত বাড়িতে হাজির হয়েছিল পাকিস্তানী সৈন্যরা। আমার বাবা ছিল তৎকালীন পাকিস্তান বিমান বাহিনীর বিমান সেনা। যুদ্ধের সময় তিনি পাকিস্তানে বন্দী ছিলেন। উনার পুরো ইউনিফর্ম পরা অবস্থার একটা ছবি বাড়িতে লাগানো ছিল। ওই এক ছবিই বাঁচিয়ে দেয় আমাদের পুরো পরিবার কে। পাকিরা এসেই ছবি দেখে, ছবিকেই একটা স্যালুট করে চলে যায়। সম্ভবত খুব বড় কোন অফিসার ছিল না তাদের সাথে, থাকলে এমন হয়ত

আরও পড়ুন...

রান্নাঘর ও রাজ্যপাট

Durba Mukherjee

কিছুদিন যাবৎ চেষ্টা করছিলাম লিঙ্গভিত্তিক শ্রমবন্টনের চিত্রটা বুঝতে।

যত পুরোনো হচ্ছি কাজের বাজারে তত দেখছি ওপরের দিকে মহিলাদের সংখ্যা কমতে থাকছে। কর্পোরেট সেক্টরে প্রায়শই সংখ্যা দিয়ে দেখানো হয় অনেক মেয়ে কেরিয়ার শুরু করলেও মাঝপথে ছেড়ে যাচ্ছেন বা কোনো রকমে চাকরি বজায় রাখতে পারলেই সন্তুষ্ট থাকছেন। নতুন কিছু করার চেষ্টা করছেন না বা বাড়তি দায়িত্ব নিতে চাইছেন না। ফলে কর্মক্ষেত্রে তারা পিছিয়েই থাকছেন।

এদিকে মহিলারা কর্মক্ষেত্রে নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। গত কয়েক বছরে যৌন হেনস্থা

আরও পড়ুন...

শকওয়েভ

সুকান্ত ঘোষ


“এই কি তবে মানুষ?
দ্যাখো, পরমাণু বোমা কেমন বদলে দিয়েছে ওকে
সব পুরুষ ও মহিলা একই আকারে এখন
গায়ের মাংস ফেঁপে উঠেছে ভয়াল
ক্ষত-বিক্ষত, পুড়ে যাওয়া কালো মুখের
ফুলে ওঠা ঠোঁট দিয়ে ঝরে পরা স্বর
ফিসফাস করে ওঠে যেন -
আমাকে দয়া করে সাহায্য কর!
এই, এই তো এক মানুষ
এই তো এক মানুষের মুখ!”

হিরোশিমা বিস্ফোরণের থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন তামিকি হারা, তখন তাঁর প্রায় চল্লিশ বছর বয়স। তামিকি কি ভাগ্যবান ছিলেন নিজের কাছে বা আমাদের মতে? জানি না – তবে এটা জানি ভা

আরও পড়ুন...

ফেকু পাঁড়ের দুঃখনামা

ফেকু পাঁড়ে

নমন মিত্রোঁ – অনেকদিন পর আবার আপনাদের কাছে ফিরে এলাম। আসলে আপনারা তো জানেন যে আমাকে দেশের কাজে বেশীরভাগ সময়েই দেশের বাইরে থাকতে হয় – তাছাড়া আসামের বাঙালি এই ইয়ে মানে থুড়ি – বিদেশী অবৈধ ডি-ভোটার খেদানো, সাত মাসের কাশ্মিরী বাচ্চাগুলোর চোখে পেলেট ঠোসা – কত রকমের কাজ যে তদারকি করতে হয় – কী আর বলি। তার মধ্যে আবার নির্বাচন – সে তো খুবই দুঃখজনক – আপনারা তো ভালই জানেন যে হিন্দু হিন্দুর ভালো চায় না – সবাই শুধু নিজের স্বার্থ দেখে। এই আমি এত সার্জিকাল পকেট – ইয়ে মানে স্ট্রাইক কল্লাম, আচ্ছে দিন এনে দিলাম, ঘ

আরও পড়ুন...

একটি পুরুষের পুরুষ হয়ে ওঠার গল্প

Samrat Amin


পুরুষ আর পুরুষতন্ত্র আমরা হামেশাই গুলিয়ে ফেলি । নারীবাদী আন্দোলন পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে, ব্যক্তি পুরুষের বিরুদ্ধে নয় । অনেক পুরুষ আছে যারা নারীবাদ বলতে বোঝেন পুরুষের বিরুদ্ধাচরণ । অনেক নারী আছেন যারা নারীবাদের দোহাই পেড়ে ব্যক্তিপুরুষকে আক্রমন করে বসেন । কিন্তু পুরুষতন্ত্র একটা সিষ্টেম যা আদ্যিকাল ধরে চলে আসছে । নারীদের মতো পুরুষরাও এই সিষ্টেমের শিকার । পার্থক্যটা হল নারীরা পুরুষতন্ত্রের শিকার এটা সমাজসিদ্ধ, কিন্তু পুরুষের ক্ষেত্রে নয় । নারীর লড়াইটা গোষ্ঠীর, পুরুষের লড়াইটা একার । বিংশ শতকের

আরও পড়ুন...

বসন্তকাল

কুশান গুপ্ত

(ছোটদের জন্য, বড়রাও পড়তে পারেন)

'Nay!' answered the child; 'but these are the wounds of Love'

একটা দানো, হিংসুটে খুব, স্বার্থপরও:
তার বাগানের তিন সীমানায় ক'রলো জড়ো,
ইঁট, বালি, আর, গাঁথলো পাঁচিল,
ঢাকলো আকাশ,
সেই থেকে তার বাগান থেকে উধাও সবুজ, সবটুকু নীল।
রঙ হারালো সবক'টি ঘাস।

সেই থেকে কেউ আর আসে না তার বাগানে।
সেই শিশুরা কোথায় গেলো কেউ কি জানে?
শীত চ'লে যায়, লাগল আগুন সব বনে তাই;
পলাশ, শিমুল, কৃষ্ণচূড়ার পাতায় পাতায়।
কিন্তু দানোর সেই

আরও পড়ুন...

ভুখা বাংলাঃ '৪৩-এর মন্বন্তর (পর্ব ৫)

I

(সতর্কীকরণঃ এই পর্বে দুর্ভিক্ষের বীভৎসতার গ্রাফিক বিবরণ রয়েছে।)
----------

১৯৪৩-এর মে মাস নাগাদ রংপুর, ময়মনসিংহ, বাখরগঞ্জ, চিটাগং, নোয়াখালি থেকে অনাহারে মৃত্যুর খবর আসতে থাকল। 'বিপ্লবী' পত্রিকার ২৩ শে মে সংখ্যায় মেদিনীপুরে ৫টি অনাহারে মৃত্যু আর ৮টি ধান লুঠের খবর বের হল।জানানো হল-প্রতিদিন ছ' থেকে সাতশো মানুষ তমলুক থেকে রেলে চাপছে ওড়িশায় গিয়ে সস্তায় চাল কিনবে বলে। বহু মানুষ তাদের ঘটিবাটি বেচে দিয়ে কলকাতার দিকে রওনা হয়ে যাচ্ছে-স্রেফ দুমুঠো খেতে পাবে এই আশায়। পাবনা থেকে খবর এল জে

আরও পড়ুন...

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস

Muhammad Sadequzzaman Sharif

১৩ ডিসেম্বর শহিদুল্লাহ কায়সার সবার সাথে আলোচনা করে ঠিক করে বাড়ি থেকে সরে পড়া উচিত। সোভিয়েত সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রধান নবিকভ শহিদুল্লাহ কায়সারের খুব ভাল বন্ধু ছিলেন।তিনি সোভিয়েত দূতাবাসে আশ্রয় নেওয়ার জন্য বলেছিলেন। আল বদর রাজাকাররা যে গুপ্তহত্যা শুরু করে দিয়েছে তার খবর নবিকভ শহিদুল্লাহ কায়সার কে দিয়েছিলেন। শহিদুল্লাহ কায়সার বন্ধুর পরামর্শ অগ্রাহ্য করেনি। তিনি সেই দিনই সরে যাবেন ঠিক করলেন। কিন্তু নিয়তি বলে একটা ব্যাপার আছে। ঘর থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় মা স্ত্রীর কান্না ভেজা মুখ দেখে কিছুদূর গিয়েও

আরও পড়ুন...

কালচক্রের ছবি

সৈকত ভট্টাচার্য

বৃষ্টিটা নামছি নামছি করছিল অনেকক্ষন ধরে। শেষমেশ নেমেই পড়ল ঝাঁপিয়ে। ক্লাশের শেষ ঘন্টা। পি এল টি ওয়ানের বিশালাকৃতির জানলার বাইরে ধোঁয়াটে সব কিছু। মেন বিল্ডিং এর মাথার ওপরের ঘড়িটা আবছা হয়ে গেছে। সব্যসাচী কনুই দিয়ে ঠেলা মারল। মুখে উদবেগ। আমারও যে চিন্তা হচ্ছিল না, তা নয়। না না, বাড়ি যাওয়ার জন্য মোটেই চিন্তিত আমরা কেউ নই। চিন্তা এই বৃষ্টিতে সিনেমা হবে তো? কলেজের ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল চলছে। ছাত্র-সংসদ থেকে প্রতিবার হয় যেমন। এবারও নানা দেশ-বিদেশী ছবির মধ্যে চোখ আটকে গেছিল একটা নামে – ‘কিম-কি-দুক’।
ভদ্

আরও পড়ুন...

এয়ারপোর্টে

সুকান্ত ঘোষ


১।

আর একটু পর উড়ে যাব
ভয় করে
কথা ছিল কফি খাব
ফেরার গল্প নিয়ে
কত সহজেই না-ফিরে
ফুল হয়ে থাকা যায়
যারা ফেরে নি উড়ার শেষে
তাদের পাশ দিয়ে যাই
ভয় আসে
কথা আছে কফি নেব
দুজন টেবিলে
ফেরার পর

২।

সময় কাটানো যায়
শুধু তাকিয়ে থেকে
তোমার না বলা কথা
ওরা বলে দেয়
তোমার না ছুঁতে পারা
ওরা ছুঁয়ে দেয়
তোমারই রোমাঞ্চ
ওরা ভোগ করে
এভাবেই সময় কাটানো ভালো
দু-চার ঘন্টা
যতক্ষণ ডাক না আসে

৩।
আরও পড়ুন...

ভগবতী

ন্যাড়া

একদিন কিঞ্চিৎ সকাল-সকাল আপিস হইতে বাড়ি ফিরিতেছি, দেখিলাম রাস্তার মোড়ের মিষ্টান্নর দোকানের সম্মুখে একটি জটলা। পাড়ার মাতব্বর দু-চারজনকে দেখিয়া আগাইয়া যাইলাম। বাইশ-চব্বিশের একটি যুবক মিষ্টির দোকানের সামনের চাতালে বসিয়া মা-মা বলিয়া হাপুস নয়নে কাঁদিতেছে আর তাহাকে ঘিরিয়া বারো-তেরো জনের একটি জটলা গোল হইয়া সান্ত্বনা দিতেছে। কেহ বলিতেছে, "মা কী আর কারুর চিরদিন থাকে?" কেহ বলিতেছে, "ভাবছিস কেন, আমরা তো আছি।" কেহ বলিতেছে, "চল, চল, বাড়ি চল।" ইহার মধ্যে আবার একজনের রসিকতা পাইয়া গেল, "ভাবছিস কেন, আরেকটা মা আসব

আরও পড়ুন...

শীতের কবিতাগুচ্ছ

কুশান গুপ্ত


ফাটাও বিষ্টু

এবার ফাটাও বিষ্টু, সামনে ট্রেকার,
পেছনে হাঁ হাঁ করে তেড়ে আসছে দিঘাগামী সুপার ডিলাক্স।
আমাদের গন্তব্য অন্য কোথাও,
নন্দকুমারে গিয়ে এক কাপ চা,
বিড়িতে দুটান দিয়ে অসমাপ্ত গল্প শোনাব
সেই মেয়েটার,
সেই যার
জয়া প্রদার মত ফেস কাটিং, রাখীর মত চোখ।
বাঁয়ে রাখো, বিষ্টুপদ, মেজাজ হারিও না,
যতক্ষন হারু আছে জমিয়ে চালাও,
সঙ্কেত শুনে নিও, কখন বলছি, 'আস্তে, লেডিজ'

এখন দুধারে ধানক্ষেত, পাগলা হাওয়া...
তোমার জন্য চালিয়ে দিচ্ছি, ' কি আশায়

আরও পড়ুন...

তঞ্চক প্রবঞ্চক - একটি নাটক দেখার অভিজ্ঞতা

Bishan Basu

ন্যায় কী? মর‍্যালিটিই বা কী?

বিশুদ্ধবাদীদের মতে, কিছু শাশ্বত সত্যি তো থাকবেই, এবং কিছু শাশ্বত মানবিক নীতিবোধ। যেমন, চুরি কোরো না, লোক ঠকিয়ো না বা মানুষ মেরো না।

কিন্তু, একজন মানুষ যদি লোক ঠকায়, মানুষকে শোষণ করে, অত্যাচার করে - তাকে পাল্টা ঠকানো, বা তাকে হত্যা করাও কি অন্যায়?

মর‍্যালিটি কী বলে?

ইউটিলিটেরিয়ানরা বলবেন, যাতে বেশীরভাগ মানুষ খুশী হন, তা-ই মর‍্যাল। কিন্তু, তা-ই কি শেষ সত্য?

এইসব জটিল কথা মাথায় এলো একটি আপাতনিরীহ নাটক দেখতে গিয়ে। রাসবিহারী শৈ

আরও পড়ুন...

কুহু কেকা ডাকে

সুকান্ত ঘোষ

নিমো গ্রামের বাকি ছেলেদের মতন আমারও হৃদয়ে আপন করে নেবার ক্ষমতা ভালোই ছিল। কিন্তু একটা জিনিস বাদ দিয়ে, আর সেটা আমি অনেক পরে বুঝতে পেরেছিলাম – সেগুলি ছিল সো কলড্‌ প্রফেশ্যানাল লাইফে ‘সফট স্কিল’ জাতীয় ট্রেনিং। আগে এমন ট্রেনিং-এর শুরুতে বেশ ফালতু টাইপের জিনিস পত্র করতে হত – এখন তা আবার ‘সফট’ থেকে ডিফিউজ করে হার্ডকোর টেকনিক্যাল ট্রেনিংতেও ঢুকে গেছে। মাঝে মাঝে তাকে বলা হয় – ‘আইস ব্রেকিং’। আরে ভাই যদি বুঝতে, এই আইস ব্রেক হবার নয় – পুরো হিমবাহ স্বরূপ শীতলতা জমা আছে আমার বুকে।

বিশাল কিছু অ্যাম্

আরও পড়ুন...

মায়ের কাজ

Durba Mukherjee

আমি একজন সাধারণ মধ্যবিত্ত স্বনির্ভর মহিলা। অন্য পরিচয় আমি একজন স্কুল পড়ুয়া শিশুর মা। রাজনীতিতে আগ্রহ থাকলেও সক্রিয়ভাবে কখনো কিছু করে ওঠা হয়নি। তবে বামপন্থী বাড়িতে বড় হবার সুবাদে শ্রেণী সংগ্রাম শব্দবন্ধটির সঙ্গে বেশ পরিচিত। যত বয়স বাড়ছে তত বেশি করে রাজনীতির গুরুত্ব বুঝতে পারছি। মাঝে মাঝে মনে হয় আমার শ্রেণীর মানুষজনের মধ্যে কাজকর্ম, সুযোগ সুবিধা, সমস্যা ও সমাধান নিয়ে সচেতনতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। তাই দুচার কথা লিখতে বসা।

আমাদের দেশে মেয়েদের বড় করা হয় শ্বশুরবাড়ি পাঠানোর জন্য। না, শহুরে শিক্ষ

আরও পড়ুন...

ক্রিকেট ক্রিকেট

ন্যাড়া

আমি না ক্রিকেটে ওপেন করতাম আর উইকেট-কিপিং করতাম। এবং স্কুল-পাড়া লেভেলে খুব খারাপ করতাম না। সিএবির ইন্টার-স্কুল ক্রিকেট - যাকে সামার ক্রিকেট বলা হত - সেই টুর্নামেন্টে একবছর শুধু খেলিইনি, একটি গুরুত্বপূর্ন ম্যাচে ক্রিটিকাল টাইমে মিড-অনে দাঁড়িয়ে একটি হাই-ক্যাচ ফেলে টিমকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দেবার কৃতিত্বও অর্জন করেছিলাম। যদিও তার বদলে সিএবি আমাদের বিনি-পয়সায় কি অতি-অল্পমূল্যে টেস্ট ক্রিকেটের টিকিট দিয়েছিল। সেই একবারই রঞ্জি স্টেডিয়ামে বলে খেলা দেখেছি। কিন্তু বাবারও বাবা থাকে। পাড়ার ক্রিকেটে পিকলু

আরও পড়ুন...

ভুখা বাংলাঃ '৪৩-এর মন্বন্তর (পর্ব ৪)

I

'একটা কোনো দেশকে ছাড় দিলেই হয়ে গেল- আর দেখতে হবে না; সবাই মিলে একেবারে 'দাও' দাও' বলে চীৎকার জুড়ে দেবে'- ৪৩'এর ১০ই মার্চ ওয়ার ক্যাবিনেটের এক মেমোতে মন্তব্য করবেন চার্চিল, কলোনিগুলিতে যুদ্ধকালীন খাদ্যসরবরাহ নিয়ে কথা বলছিলেন তখন তিনি-'আমাদের ('ব্রিটেন'-মন্তব্য আমার) দেখে শিখুক সবাই; নিজেদের বন্দোবস্ত নিজেরাই করে নিক গে!' (1)

মাস তিনেক ধরেই লিনলিথগো ভারতের খাদ্য-সংকটের কথা বলে আসছিলেন। ভারতকে খাওয়ানোর মত খাদ্যশস্য যে নেই তা নয়,অস্ট্রেলিয়াতেই যথেষ্ট গম মজুদ আছে। কিন্তু সেখান থেকে ভার

আরও পড়ুন...

ফেসবুক সাহিত্য

Samrat Amin


মুখস্থ বিদ্যাটা বরাবরের কম। তবুও ক্লাস সেভেনে হেগেমেতে কোনরকমে শক্তির সংজ্ঞাটা মুখস্থ করেছিলাম -- শক্তি অবিনেশ্বর, ইহার সৃষ্টি বা বিনাশ নেই, শক্তি এক শক্তি থেকে অন্য শক্তিতে রূপান্তরিত হয় মাত্র । সংজ্ঞাটিকে এবার ফেসবুকে পোষ্ট করা কোনো আপাত "মৌলিক" লেখার ক্ষেত্রে খাপে খাপে বসিয়ে দেন । ফেসবুকের পোষ্ট করা লেখা অবিনেশ্বর, ইহার সৃষ্টি বা বিনাশ নেই , এক টাইমলাইন থেকে অন্য টাইমলাইনে স্থানান্তরিত হয় মাত্র । ধরুন, আপনি অনেক ভেবে ভেবে আপনার সৃষ্টিশীল স্বত্বা দিয়ে একটি চমৎকার মনোগ্রাহী কিছু লিখলেন । প

আরও পড়ুন...

বি ই কলেজ ও রাষ্ট্রভাষা

সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়

একদা যে কলেজটিতে পড়তাম, তার নাম বিই কলেজ। নাম বদলে যদিও এখন আই আই ইএসটি। কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু তাতে কিছু এসে যায়না। আমাদের কাছে এখনও বিই কলেজই। সেখানে যে সরকারি উদ্যোগে একটি হিন্দি সেল তৈরি হয়েছে জানতামই না, যদিনা আমার বন্ধু গৌরব ফেসবুকে একটি পোস্ট করত। তার পোস্টের সূত্র ধরে কলেজ তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখি, সেখানে ইংরিজির পাশে একটি হিন্দি সংস্করণও আছে। এবং হিন্দি সেলকে সরকারি ভাবে একটি আলাদা ওয়েবসাইট (সাবডোমেন) ও দান করা হয়েছে। সেখানে গিয়ে নানা মণিমুক্ত দেখা গেল। পুরোটাই

আরও পড়ুন...

“কিছুটা থাক আলগোছেতে কিছুটা থাক কাছে কিছু কথা ছড়িয়ে পড়ুক চেনা আলোর মাঝে”

Nahar Trina

চেনা আলোয় ছড়িয়ে পড়া কথাগুলো জড়ো করার গভীর মনোযোগ আর গল্পের মুখগুলো চিনে নেবার একবুক তাগিদ নিয়ে পাঠক শুরু করেন গোরা নকশাল।
পূর্ব বাংলা থেকে আগত এক পরিবার, বলা ভালো উদ্বাস্তু তকমা এঁটে যাওয়া এক পরিবার, যাদের ঠাঁই পশ্চিম বাংলার উত্তর পাড়ার বালি এলাকায়। সেই তাদের নিয়েই শীতের একটা সকালের বর্ণনার মাধ্যমে গল্পের উড়ান।

উত্তম পুরুষে লেখা এই আখ্যানের কথক ছোট্ট টুকুনের দেখা পাবেন পাঠক প্রথম অধ্যায়েই। সে পরিবারের কনিষ্ঠ জন। ভীষণ ঘুম কাতুরে, নানান ফন্দিতে পড়াশোনায় ফাঁকি দেয়া, ঠাম্মার খাবারে ভা

আরও পড়ুন...

ওর কথা

সুকান্ত ঘোষ

অমৃতা জীবন ভালোবাসত – অফুরন্ত জীবনীশক্তি নিয়ে সে আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গিয়েছিল জীবনের সাথে। আরো সহজ করে বলতে গেলে সে বড় ভালোবাসা ভালোবাসত। স্বাভাবিক ভাবেই তার কবিতায় ঘুরে ফিরে এসেছে ভালোবাসার কথা আর তার সাথে লেগে থাকা জীবনের কথা।

“নারী পরাজিত হতে ভালবাসে
লতিয়ে থাকে ভালো থাকার
ঘন সবুজ আস্তানায়”

একমাত্র ভালোবাসার কাছেই পরাজিত ছিল সে। সেই স্বেছা পরাজয়ের পর খুঁজে নিয়েছে সে নিজের আস্তানা – যেখানে আস্তানা মানে ঘর, আস্তানা মানে আশ্রয়, আস্তানা মানে নিজের একান্তের প্রকাশ। এক সময় কব

আরও পড়ুন...

কবিতা শ্রীরামপুর

Subhendu Chattopadhyay


অদ্রিশদা যখন মারা গেলেন , কাগজে বেরোয় জনৈক পৌড় , সেই কাগজে যেখানে অদ্রিশদা অনেকদিন কাজ করেছেন, কবে যে পৌড় হয়ে গেলে আমার তো জানা হয় নি । অদ্রিশদা বললে আমার এখন মনে পড়ে মউ দি কে সামনে বসিয়ে সাইকেল করে আসছেন শ্রীরামপুর স্টেশনে । নিয়ম করে দেখা হত , আমি তখন কিছুই লিখতে পারি না , শুধু অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি এই অপরূপ দম্পতির দিকে । আর একবার লক্ষ্মীঘাটে কবিতা পাঠের আয়োজন হল , রমাদির একক কবিতা পাঠ , পাঠ শেষে , মউদি গান গাইল , প্রদীপের আলোই তার মুখে অন্ধকার খেলে বেড়াচ্ছে , কি করে জানব , কত ঝড় বৃষ্টি

আরও পড়ুন...

শীতকাল কবে আসবে, সুপর্ণা?

কুশান গুপ্ত

শীতের সেই শিহরিত সন্ধেগুলো মনে পড়ে, আশিস?

হাড়জমানো বাঘের মত জাঁকিয়ে ঠান্ডা পড়ত দক্ষিণবঙ্গের ডিসেম্বর-অধ্যুষিত 'মাওয়া' গ্রামে। বাঁদর টুপি, রঙিন মাফলার ও ধূসর চাদরে ঢেকে যেত নানাবয়সের মুখ, কান, নাকসকল। সন্ধে থেকে রাত শীতকালীন গ্রামবাংলা মেতে উঠত পাঁচদিন ব্যাপী যাত্রানুষ্ঠানে। এ সেই সুসময়, যখন খেজুর রসের মৌতাত ও শস্যফলনের হাসি বাংলার ঘরে ঘরে, আপামর বাংলার গ্রামীণ জীবনের এ এক ঐকান্তিক উদযাপন। গ্রামের, গঞ্জের আবালবৃদ্ধবনিতাকে জাপটে ধরত শীতের বিশ্রুত যাত্রাজ্বরের তাড়স।

ক্লাস ফোরে দে

আরও পড়ুন...