কুশান গুপ্ত RSS feed

নাম পরিবর্তন করি, এফিডেফিট বিনা।আসল নামে হাজার হাজার ডক্টর হাজরা আছেন, কে প্রথম জানা নেই, কে দ্বিতীয়, কে অদ্বিতীয়, এ ব্যাপারে ধারণা অস্বচ্ছ। অধমের ব্লগ অত্যন্ত ইনকনসিস্টেন্ট,কিছু বা খাপছাড়া, খানিকটা বারোভাজা ধরণের। কিন্তু গম্ভীর নিবন্ধের পর ক্লান্তি আসে, তখন কবিতা, তারপর ঘুম, ক্লান্তি ও নস্টালজিয়া। কোনো গন্তব্য নেই, তবু হাঁটতে হয় যেমন। একসময় অবকাশ ছিল অখন্ড, নিষিদ্ধ তামাশা লয়ে রংদার সমকাল চোখ মারিত। আজকাল আর মনেও হয় না, এ জীবন লইয়া কি করিব? আপনাদের হয়?

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • বার্সিলোনা - পর্ব ২
    বার্সিলোনা আসলে স্পেনের শহর হয়েও স্পেনের না। উত্তর পুর্ব স্পেনের যেখানে বার্সিলোনা, সেই অঞ্চল কে বলা হয় ক্যাটালোনিয়া। স্বাধীনদেশ না হয়েও স্বশাসিত প্রদেশ। যেমন কানাডায় কিউবেক। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই মনে হয় এরকম একটা জায়গা থাকে, দেশি হয়েও দেশি না। ...
  • বার্সিলোনা - পর্ব ১
    ঠিক করেছিলাম আট-নয়দিন স্পেন বেড়াতে গেলে, বার্সিলোনাতেই থাকব। বেড়ানোর সময়টুকুর মধ্যে খুব দৌড় ঝাঁপ, এক দিনে একটা শহর দেখে বা একটা গন্তব্যের দেখার জায়গা ফর্দ মিলিয়ে শেষ করে আবার মাল পত্তর নিয়ে পরবর্তী গন্তব্যের দিকে ভোর রাতে রওনা হওয়া, আর এই করে ১০ দিনে ৮ ...
  • লাল ঝুঁটি কাকাতুয়া
    -'একটা ছিল লাল ঝুঁটি কাকাতুয়া।আর ছিল একটা নীল ঝুঁটি মামাতুয়া।'-'এরা কারা?' মেয়েটা সঙ্গে সঙ্গে চোখ বড়ো করে অদ্ভুত লোকটাকে জিজ্ঞেস করে।-'আসলে কাকাতুয়া আর মামাতুয়া এক জনই। ওর আসল নাম তুয়া। কাকা-ও তুয়া বলে ডাকে, মামা-ও ডাকে তুয়া।'শুনেই মেয়েটা ফিক করে হেসে ...
  • স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি
    স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি। আমি স্টার্ট-আপ কোম্পানিতে কাজ করছি ১৯৯৮ সাল থেকে। সিলিকন ভ্যালিতে। সময়ের একটা আন্দাজ দিতে বলি - গুগুল তখনও শুধু সিলিকন ভ্যালির আনাচে-কানাচে, ফেসবুকের নামগন্ধ নেই, ইয়াহুর বয়েস বছর চারেক, অ্যামাজনেরও বেশি দিন হয়নি। ...
  • মৃণাল সেন : এক উপেক্ষিত চলচ্চিত্রকার
    [আজ বের্টোল্ট ব্রেশট-এর মৃত্যুদিন। ভারতীয় চলচ্চিত্রে যিনি সার্থকভাবে প্রয়োগ করেছিলেন ব্রেশটিয় আঙ্গিক, সেই মৃণাল সেনকে নিয়ে একটি সামান্য লেখা।]ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কীভাবে যেন পরিচালক ত্রয়ী সত্যজিৎ-ঋত্বিক-মৃণাল এক বিন্দুতে এসে মিলিত হন। ১৯৫৫-তে মুক্তি ...
  • দময়ন্তীর সিজনস অব বিট্রেয়াল পড়ে
    পড়লাম সিজনস অব বিট্রেয়াল গুরুচন্ডা৯'র বই দময়ন্তীর সিজনস অব বিট্রেয়াল। বইটার সঙ্গে যেন তীব্র সমানুভবে জড়িয়ে গেলাম। প্রাককথনে প্রথম বাক্যেই লেখক বলেছেন বাঙাল বাড়ির দ্বিতীয় প্রজন্মের মেয়ে হিসেবে পার্টিশন শব্দটির সঙ্গে পরিচিতি জন্মাবধি। দেশভাগ কেতাবি ...
  • দুটি পাড়া, একটি বাড়ি
    পাশাপাশি দুই পাড়া - ভ-পাড়া আর প-পাড়া। জন্মলগ্ন থেকেই তাদের মধ্যে তুমুল টক্কর। দুই পাড়ার সীমানায় একখানি সাতমহলা বাহারী বাড়ি। তাতে ক-পরিবারের বাস। এরা সম্ভ্রান্ত, উচ্চশিক্ষিত। দুই পাড়ার সাথেই এদের মুখ মিষ্টি, কিন্তু নিজেদের এরা কোনো পাড়ারই অংশ মনে করে না। ...
  • পরিচিতির রাজনীতি: সন্তোষ রাণার কাছে যা শিখেছি
    দিলীপ ঘোষযখন স্কুলের গণ্ডি ছাড়াচ্ছি, সন্তোষ রাণা তখন বেশ শিহরণ জাগানাে নাম। গত ষাটের দশকের শেষার্ধ। সংবাদপত্র, সাময়িক পত্রিকা, রেডিও জুড়ে নকশালবাড়ির আন্দোলনের নানা নাম ছড়িয়ে পড়ছে আমাদের মধ্যে। বুঝি না বুঝি, পকেটে রেড বুক নিয়ে ঘােরাঘুরি ফ্যাশন হয়ে ...
  • দক্ষিণের কড়চা
    (টিপ্পনি : দক্ষিণের কথ্যভাষার অনেক শব্দ রয়েছে। না বুঝতে পারলে বলে দেব।)দক্ষিণের কড়চা▶️এখানে মেঘ ও ভূমি সঙ্গমরত ক্রীড়াময়। এখন ভূমি অনাবৃত মহিষের মতো সহস্রবাসনা, জলধারাস্নানে। সামাদভেড়ির এই ভাগে চিরহরিৎ বৃক্ষরাজি নুনের দিকে চুপিসারে এগিয়ে এসেছে যেন ...
  • জোড়াসাঁকো জংশন ও জেনএক্স রকেটপ্যাড-১৪
    তোমার সুরের ধারা ঝরে যেথায়...আসলে যে কোনও শিল্প উপভোগ করতে পারার একটা বিজ্ঞান আছে। কারণ যাবতীয় পারফর্মিং আর্টের প্রাসাদ পদার্থবিদ্যার সশক্ত স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে থাকে। পদার্থবিদ্যার শর্তগুলি পূরণ হলেই তবে মনন ও অনুভূতির পর্যায় শুরু হয়। যেমন কণ্ঠ বা যন্ত্র ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

কাঁচঘর ও ক্লাশ ফোর

কুশান গুপ্ত

ক্লাস ফোরে যখন পড়ছি তখনও ফেলুদার সঙ্গে পরিচয় হয়নি, পড়িনি হেমেন্দ্রকুমার। কিন্তু, যথাক্রমে, দুটি প্ররোচনামূলক বই পড়ে ফেলেছি। একটির নাম 'শয়তানের ঘাঁটি' ও অপরটি 'চম্বলের দস্যুসর্দার'। উক্ত দুটি বইয়ের লেখকের নাম আজ প্রতারক স্মৃতির অতলে। যতদূর মনে পড়ে, এই বইদুটি ছিল দেব সাহিত্য কুটিরের প্রকাশনা।সে সময়ে দেব সাহিত্য কুটির ছিলো বালকদিগের অনিবার্য ঠিকানা, রহস্য ও রোমাঞ্চে একেবারে ঠাসা।

দুটি বইই পড়তে দিয়েছিলেন মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলের লাইব্রেরিয়ান পানুদা।শয়তানের ঘাঁটির প্লট এরকম: পদ্মার চর থেকে কিছু স্থানীয় ছেলে নিয়মিত হারিয়ে যেতে লাগল। একটা দুষ্ট চক্র এই কিশোরদের নিয়মিত অপহরণ করছিল। যখন ছেলেরা স্নান করতে গিয়ে সাঁতার কাটতে মগ্ন, সেই সময়ে নৌকোতে তাদের তুলে নৌকোর খোলে  'শয়তানের ঘাঁটি'তে বন্দি করে পাচার করে দিত দুর্বৃত্তরা। শেষে এক দামাল কিশোর শয়তানের ডেরায় যায় এবং যুগপৎ সাহস ও বুদ্ধির জোরে শয়তানদের ফন্দি ফাঁস করে দেয় এবং বন্দী কিশোরদের উদ্ধার করে আনে।

দ্বিতীয় উপন্যাসের নায়ক সনৎ কিশোর নয়, যুবা। চম্বল অঞ্চলে চাকরির সুবাদে সে ট্রেনে করে যাচ্ছিল, ট্রেন দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়, জ্ঞান ফিরে সে দেখে সে ডাকাতদের কবলে। ডাকাতদের সর্দার ধীরে ধীরে সনতের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে, এবং পক্ষপাতপূর্ণ আচরণ করতে শুরু করে। একসময় সনৎ সর্দারের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সর্দারকে বিট্রে করে এবং পুলিশে ধরিয়ে দেয়। এই লেখাটি কিছুটা জটিল এবং শেষে একটা বিষণ্ন সুর ফুটে ওঠে, চম্বলের দস্যুসর্দারের জন্য মন খারাপ হয়ে যায়।

তো, এই বইদুটি পড়ার পর যাবতীয় রূপকথার গল্প বা হিতোপদেশ মার্কা গাথা পানসে লাগতে শুরু করল। তখন আরো রহস্য, আরো রোমাঞ্চ চাই, সেই বই খুঁজে চলেছি আপ্রাণ। এই সময়ে একদিন ক্লাশমেট প্রদীপ লাহা ক্লাশ চলাকালীন আমাকে ফিসফিস করে বলল, ' আমার কাছে একটা দারুন বই আছে।' কি বই জিজ্ঞেস করাতে চোরাচোখে তাকিয়ে বলল, 'ফাটাফাটি বই।' আমি রহস্যের গন্ধ পেয়ে বইটার নাম কি জানতে চাইলাম। ও চাপা গলায় বলল,'কাঁচঘর'। আমি বললাম, 'আমাকে পড়তে দে না।' ও বলল, 'এখন দাদা পড়ছে। দাদার পড়া হলে পাবি।'

এরপর প্রদীপকে আমি তোয়াজে রাখতে শুরু করলাম। উদ্দেশ্য? কাঁচঘর বইটি বাগানো। মাঝে মধ্যেই চোখ বন্ধ করলেই জেগে ওঠে একটা মস্ত গা ছমছমে কাঁচের ঘর,  তার আগাগোড়া যেন কুয়াশায় মোড়া,  রহস্যাবৃত।

প্রদীপ আসে, আজ দিচ্ছি কাল দিচ্ছি করে। কোনোদিন বলে, কাল ঠিক নিয়ে আসব।

সে দিনটা মনে আছে। প্রদীপ ক্লাসে ঢুকেই আমাকে ডাকল। হাতে একটা বই ধরা। ঢুকেই বললো, ' এই নে, কাঁচঘর।' আমি দ্রুত ওর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ছোঁ মেরে  হাত থেকে বইটা নিয়ে মুহূর্তেই ব্যাগস্থ করলাম। বুক উত্তেজনায় ঢিপঢিপ করছে।কিন্তু ব্যাগ থেকে বই বের করছি না, পাছে অন্য কারুর হস্তগত হয়।

বাড়ি ফিরেই কোনোমতে নাকেমুখে গুঁজে 'কাঁচঘর' খুলে বসলাম। লেখকের নাম বিমল কর। কেমন একটা বিমূর্ত ও অর্থহীন প্রচ্ছদ। ওপরের মলাট দেখে হতাশই হলাম।পাতা খুলে এক পাতা পড়ে কিচ্ছু মাথায় ঢুকল না। পরের পাতা অবধি এগোতেই পারলাম না, এত খটমট বিষয়। অনেক চেষ্টা করে শেষে হাল ছেড়ে বই ফেলে উঠলাম।  তখনো আসলে জানতামই না যে বিমল কর ছোটদের জন্য বিশেষ লেখেন না, এমনকি বড়দের জন্যও বিমল করের লেখা যথেষ্ট জটিল।

পরের দিন বইটা ফেরত দেওয়ার সময় প্রদীপ জিজ্ঞেস করল, 'কেমন লাগল?' আমি বললাম, 'অপূর্ব'।  ফেরত দেওয়ার সময় প্রদীপের হাত থেকে অতনু প্রায় কেড়ে নিল বইটা। আসলে ততদিনে ক্লাশ ফোর বি তে মুখে মুখে এই রুদ্ধশ্বাস বইটির নাম ঘুরছে ফিরছে, সবাই এ-বই হাতে পাওয়ার জন্য উদগ্রীব।

কিন্তু বইটি যেই নিত, নিয়ে দ্রুত ফেরত দিয়ে দিত। আর, কেমন লাগলো জানতে চাইলে উত্তর এড়িয়ে যেত।

এই হলো কুয়াশাচ্ছন্ন 'কাঁচঘর' পড়ার বা না-পড়ার উপাখ্যান।



541 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: i

Re: কাঁচঘর ও ক্লাশ ফোর

বিমল করের বিখ্যাত ছোটোগল্প কাচঘর। শুধু একটি ছোটো গল্প নিয়ে একটি সম্পূর্ণ বই হওয়ার কথা নয়। ক্লাস ফোরের স্মৃতিতে অবশ্য এই ভুল হতেই পারে।
যতদূর জানি কাঁচ নয় কাচ।
Avatar: কুশান গুপ্ত

Re: কাঁচঘর ও ক্লাশ ফোর

ধন্যবাদ। আপনি ঠিকই বলেছেন। সম্পূর্ণ স্মৃতির ওপর নির্ভর ক'রে লিখেছি বলেই এই অসতর্ক ভুল, হয়তো বা, মার্জনীয়।
আপনার দুটি তথ্যই যথাযথ। বইটি দুই মলাটের ছিল। হয়ত বা কোনো গল্প সংকলন। জানিনা এই নামে কোনো।উপন্যাস আছে কিনা।
কাচঘর লেখাই উচিত ছিল। এই ভুলটা তুলনায় অধিক গর্হিত।
Avatar: i

Re: কাঁচঘর ও ক্লাশ ফোর

আরে না না মার্জনা ইত্যাদির কথাই আসে না। বিমল করের নাম দেখে আগ্রহী হয়ে পড়তে এসে যা মনে হয়েছে, লিখ্লাম সকালে। আপনাকে লিখে তারপর নিজেই একটু খোঁজাখুঁজি করলাম এদিক ওদিক- কাচঘর নামে বিমল করের একটি আলাদা বই রয়েছে-কলিকাতা ক্লাসিক প্রেস থেকে প্রকাশিত, ১৩৬২ বঙ্গাব্দে। যে প্রচ্ছদের উল্লেখ আপনি করেছেন, সেই প্রচ্ছদ এঁকেছিলেন সুবোধ দাশগুপ্ত।
তবে হ্যাঁ, সম্ভবতঃ বইটি ছোটো গল্পের সংকলন ছিল।

ধন্যবাদ আপনাকে, আলাদা করে এই বইটির অস্তিত্ব আমার জানা ছিল না।
Avatar: কুশান

Re: কাঁচঘর ও ক্লাশ ফোর

আপনি আবার খুঁজেছেন এই বই? আমি যে সময়ের কথা বলছি সেটা ধরুন উনিশশ একাশি হবে। পরে বিমল কর কিছু গল্প ও উপন্যাস পড়লেও আলাদা করে এই লেখা পড়া হয়ে ওঠেনি। আপনি তো আগ্রহ বাড়িয়ে দিলেন। ধন্যবাদ জানবেন।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন