কুশান গুপ্ত RSS feed

নাম পরিবর্তন করি, এফিডেফিট বিনা।আসল নামে হাজার হাজার ডক্টর হাজরা আছেন, কে প্রথম জানা নেই, কে দ্বিতীয়, কে অদ্বিতীয়, এ ব্যাপারে ধারণা অস্বচ্ছ। অধমের ব্লগ অত্যন্ত ইনকনসিস্টেন্ট,কিছু বা খাপছাড়া, খানিকটা বারোভাজা ধরণের। কিন্তু গম্ভীর নিবন্ধের পর ক্লান্তি আসে, তখন কবিতা, তারপর ঘুম, ক্লান্তি ও নস্টালজিয়া। কোনো গন্তব্য নেই, তবু হাঁটতে হয় যেমন। একসময় অবকাশ ছিল অখন্ড, নিষিদ্ধ তামাশা লয়ে রংদার সমকাল চোখ মারিত। আজকাল আর মনেও হয় না, এ জীবন লইয়া কি করিব? আপনাদের হয়?

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • অরফ্যানগঞ্জ
    পায়ের নিচে মাটি তোলপাড় হচ্ছিল প্রফুল্লর— ভূমিকম্পর মত। পৃথিবীর অভ্যন্তরে যেন কেউ আছাড়ি পিছাড়ি খাচ্ছে— সেই প্রচণ্ড কাঁপুনিতে ফাটল ধরছে পথঘাট, দোকানবাজার, বহুতলে। পাতাল থেকে গোঙানির আওয়াজ আসছিল। ঝোড়ো বাতাস বইছিল রেলব্রিজের দিক থেকে। প্রফুল্ল দোকান থেকে ...
  • থিম পুজো
    অনেকদিন পরে পুরনো পাড়ায় গেছিলাম। মাঝে মাঝে যাই। পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়, আড্ডা হয়। বন্ধুদের মা-বাবা-পরিবারের সঙ্গে কথা হয়। ভাল লাগে। বেশ রিজুভিনেটিং। এবার অনেকদিন পরে গেলাম। এবার গিয়ে শুনলাম তপেস নাকি ব্যবসা করে ফুলে ফেঁপে উঠেছে। একটু পরে তপেসও এল ...
  • কাঁসাইয়ের সুতি খেলা
    সেকালে কাঁসাই নদীতে 'সুতি' নামের একটা খেলা প্রচলিত ছিল। মাছ ধরার অভিনব এক পদ্ধতি, বহু কাল ধরে যা চলে আসছে। আমাদের পাড়ার একাধিক লোক সুতি খেলাতে অংশ নিত। এই মৎস্যশিকার সার্বজনীন, হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ে জনপ্রিয়। মনে আছে ক্লাস সেভেনে পড়ার সময় একদিন ...
  • শুভ বিজয়া
    আমার যে ঠাকুর-দেবতায় খুব একটা বিশ্বাস আছে, এমন নয়। শাশ্বত অবিনশ্বর আত্মাতেও নয়। এদিকে, আমার এই জীবন, এই বেঁচে থাকা, সবকিছু নিছকই জৈবরাসায়নিক ক্রিয়া, এমনটা সবসময় বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে না - জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য-পরিণ...
  • আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার চাই...
    দেশের সবচেয়ে মেধাবীরা বুয়েটে পড়ার সুযোগ পায়। দেশের সবচেয়ে ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিঃসন্দেহে বুয়েট। সেই প্রতিষ্ঠানের একজন ছাত্রকে শিবির সন্দেহে পিটিয়ে মেরে ফেলল কিছু বরাহ নন্দন! কাওকে পিটিয়ে মেরে ফেলা কি খুব সহজ কাজ? কতটুকু জোরে মারতে হয়? একজন মানুষ পারে ...
  • ইন্দুবালা ভাতের হোটেল-৭
    চন্দ্রপুলিধনঞ্জয় বাজার থেকে এনেছে গোটা দশেক নারকেল। কিলোটাক খোয়া ক্ষীর। চিনি। ছোট এলাচ আনতে ভুলে গেছে। যত বয়েস বাড়ছে ধনঞ্জয়ের ভুল হচ্ছে ততো। এই নিয়ে সকালে ইন্দুবালার সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে। ছোট খাটো ঝগড়াও। পুজো এলেই ইন্দুবালার মন ভালো থাকে না। কেমন যেন ...
  • গুমনামিজোচ্চরফেরেব্বাজ
    #গুমনামিজোচ্চরফেরেব্...
  • হাসিমারার হাটে
    অনেকদিন আগে একবার দিন সাতেকের জন্যে ভূটান বেড়াতে যাব ঠিক করেছিলাম। কলেজ থেকে বেরিয়ে তদ্দিনে বছরখানেক চাকরি করা হয়ে গেছে। পুজোর সপ্তমীর দিন আমি, অভিজিৎ আর শুভায়ু দার্জিলিং মেল ধরলাম। শিলিগুড়ি অব্দি ট্রেন, সেখান থেকে বাসে ফুন্টসলিং। ফুন্টসলিঙে এক রাত্তির ...
  • দ্বিষো জহি
    বোধন হয়ে গেছে গতকাল। আজ ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ, সন্ধ্যাবেলায় আমন্ত্রণ ও অধিবাস। তবে আমবাঙালির মতো, আমারও এসব স্পেশিয়ালাইজড শিডিউল নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই তেমন - ছেলেবেলা থেকে আমি বুঝি দুগ্গা এসে গেছে, খুব আনন্দ হবে - এটুকুই।তা এখানে সেই আকাশ আজ। গভীর নীল - ...
  • গান্ধিজির স্বরাজ
    আমার চোখে আধুনিক ভারতের যত সমস্যা তার সবকটির মূলেই দায়ী আছে ব্রিটিশ শাসন। উদাহরণ, হাতে গরম এন আর সি নিন, প্রাক ব্রিটিশ ভারতে এরকম কোনও ইস্যুই ভাবা যেতো না। কিম্বা হিন্দু-মুসলমান, জাতিভেদ, আর্থিক বৈষম্য, জনস্ফীতি, গণস্বাস্থ্য ব্যবস্থার অভাব, শিক্ষার অভাব ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

কাঁচঘর ও ক্লাশ ফোর

কুশান গুপ্ত

ক্লাস ফোরে যখন পড়ছি তখনও ফেলুদার সঙ্গে পরিচয় হয়নি, পড়িনি হেমেন্দ্রকুমার। কিন্তু, যথাক্রমে, দুটি প্ররোচনামূলক বই পড়ে ফেলেছি। একটির নাম 'শয়তানের ঘাঁটি' ও অপরটি 'চম্বলের দস্যুসর্দার'। উক্ত দুটি বইয়ের লেখকের নাম আজ প্রতারক স্মৃতির অতলে। যতদূর মনে পড়ে, এই বইদুটি ছিল দেব সাহিত্য কুটিরের প্রকাশনা।সে সময়ে দেব সাহিত্য কুটির ছিলো বালকদিগের অনিবার্য ঠিকানা, রহস্য ও রোমাঞ্চে একেবারে ঠাসা।

দুটি বইই পড়তে দিয়েছিলেন মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলের লাইব্রেরিয়ান পানুদা।শয়তানের ঘাঁটির প্লট এরকম: পদ্মার চর থেকে কিছু স্থানীয় ছেলে নিয়মিত হারিয়ে যেতে লাগল। একটা দুষ্ট চক্র এই কিশোরদের নিয়মিত অপহরণ করছিল। যখন ছেলেরা স্নান করতে গিয়ে সাঁতার কাটতে মগ্ন, সেই সময়ে নৌকোতে তাদের তুলে নৌকোর খোলে  'শয়তানের ঘাঁটি'তে বন্দি করে পাচার করে দিত দুর্বৃত্তরা। শেষে এক দামাল কিশোর শয়তানের ডেরায় যায় এবং যুগপৎ সাহস ও বুদ্ধির জোরে শয়তানদের ফন্দি ফাঁস করে দেয় এবং বন্দী কিশোরদের উদ্ধার করে আনে।

দ্বিতীয় উপন্যাসের নায়ক সনৎ কিশোর নয়, যুবা। চম্বল অঞ্চলে চাকরির সুবাদে সে ট্রেনে করে যাচ্ছিল, ট্রেন দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়, জ্ঞান ফিরে সে দেখে সে ডাকাতদের কবলে। ডাকাতদের সর্দার ধীরে ধীরে সনতের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে, এবং পক্ষপাতপূর্ণ আচরণ করতে শুরু করে। একসময় সনৎ সর্দারের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সর্দারকে বিট্রে করে এবং পুলিশে ধরিয়ে দেয়। এই লেখাটি কিছুটা জটিল এবং শেষে একটা বিষণ্ন সুর ফুটে ওঠে, চম্বলের দস্যুসর্দারের জন্য মন খারাপ হয়ে যায়।

তো, এই বইদুটি পড়ার পর যাবতীয় রূপকথার গল্প বা হিতোপদেশ মার্কা গাথা পানসে লাগতে শুরু করল। তখন আরো রহস্য, আরো রোমাঞ্চ চাই, সেই বই খুঁজে চলেছি আপ্রাণ। এই সময়ে একদিন ক্লাশমেট প্রদীপ লাহা ক্লাশ চলাকালীন আমাকে ফিসফিস করে বলল, ' আমার কাছে একটা দারুন বই আছে।' কি বই জিজ্ঞেস করাতে চোরাচোখে তাকিয়ে বলল, 'ফাটাফাটি বই।' আমি রহস্যের গন্ধ পেয়ে বইটার নাম কি জানতে চাইলাম। ও চাপা গলায় বলল,'কাঁচঘর'। আমি বললাম, 'আমাকে পড়তে দে না।' ও বলল, 'এখন দাদা পড়ছে। দাদার পড়া হলে পাবি।'

এরপর প্রদীপকে আমি তোয়াজে রাখতে শুরু করলাম। উদ্দেশ্য? কাঁচঘর বইটি বাগানো। মাঝে মধ্যেই চোখ বন্ধ করলেই জেগে ওঠে একটা মস্ত গা ছমছমে কাঁচের ঘর,  তার আগাগোড়া যেন কুয়াশায় মোড়া,  রহস্যাবৃত।

প্রদীপ আসে, আজ দিচ্ছি কাল দিচ্ছি করে। কোনোদিন বলে, কাল ঠিক নিয়ে আসব।

সে দিনটা মনে আছে। প্রদীপ ক্লাসে ঢুকেই আমাকে ডাকল। হাতে একটা বই ধরা। ঢুকেই বললো, ' এই নে, কাঁচঘর।' আমি দ্রুত ওর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ছোঁ মেরে  হাত থেকে বইটা নিয়ে মুহূর্তেই ব্যাগস্থ করলাম। বুক উত্তেজনায় ঢিপঢিপ করছে।কিন্তু ব্যাগ থেকে বই বের করছি না, পাছে অন্য কারুর হস্তগত হয়।

বাড়ি ফিরেই কোনোমতে নাকেমুখে গুঁজে 'কাঁচঘর' খুলে বসলাম। লেখকের নাম বিমল কর। কেমন একটা বিমূর্ত ও অর্থহীন প্রচ্ছদ। ওপরের মলাট দেখে হতাশই হলাম।পাতা খুলে এক পাতা পড়ে কিচ্ছু মাথায় ঢুকল না। পরের পাতা অবধি এগোতেই পারলাম না, এত খটমট বিষয়। অনেক চেষ্টা করে শেষে হাল ছেড়ে বই ফেলে উঠলাম।  তখনো আসলে জানতামই না যে বিমল কর ছোটদের জন্য বিশেষ লেখেন না, এমনকি বড়দের জন্যও বিমল করের লেখা যথেষ্ট জটিল।

পরের দিন বইটা ফেরত দেওয়ার সময় প্রদীপ জিজ্ঞেস করল, 'কেমন লাগল?' আমি বললাম, 'অপূর্ব'।  ফেরত দেওয়ার সময় প্রদীপের হাত থেকে অতনু প্রায় কেড়ে নিল বইটা। আসলে ততদিনে ক্লাশ ফোর বি তে মুখে মুখে এই রুদ্ধশ্বাস বইটির নাম ঘুরছে ফিরছে, সবাই এ-বই হাতে পাওয়ার জন্য উদগ্রীব।

কিন্তু বইটি যেই নিত, নিয়ে দ্রুত ফেরত দিয়ে দিত। আর, কেমন লাগলো জানতে চাইলে উত্তর এড়িয়ে যেত।

এই হলো কুয়াশাচ্ছন্ন 'কাঁচঘর' পড়ার বা না-পড়ার উপাখ্যান।



556 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: i

Re: কাঁচঘর ও ক্লাশ ফোর

বিমল করের বিখ্যাত ছোটোগল্প কাচঘর। শুধু একটি ছোটো গল্প নিয়ে একটি সম্পূর্ণ বই হওয়ার কথা নয়। ক্লাস ফোরের স্মৃতিতে অবশ্য এই ভুল হতেই পারে।
যতদূর জানি কাঁচ নয় কাচ।
Avatar: কুশান গুপ্ত

Re: কাঁচঘর ও ক্লাশ ফোর

ধন্যবাদ। আপনি ঠিকই বলেছেন। সম্পূর্ণ স্মৃতির ওপর নির্ভর ক'রে লিখেছি বলেই এই অসতর্ক ভুল, হয়তো বা, মার্জনীয়।
আপনার দুটি তথ্যই যথাযথ। বইটি দুই মলাটের ছিল। হয়ত বা কোনো গল্প সংকলন। জানিনা এই নামে কোনো।উপন্যাস আছে কিনা।
কাচঘর লেখাই উচিত ছিল। এই ভুলটা তুলনায় অধিক গর্হিত।
Avatar: i

Re: কাঁচঘর ও ক্লাশ ফোর

আরে না না মার্জনা ইত্যাদির কথাই আসে না। বিমল করের নাম দেখে আগ্রহী হয়ে পড়তে এসে যা মনে হয়েছে, লিখ্লাম সকালে। আপনাকে লিখে তারপর নিজেই একটু খোঁজাখুঁজি করলাম এদিক ওদিক- কাচঘর নামে বিমল করের একটি আলাদা বই রয়েছে-কলিকাতা ক্লাসিক প্রেস থেকে প্রকাশিত, ১৩৬২ বঙ্গাব্দে। যে প্রচ্ছদের উল্লেখ আপনি করেছেন, সেই প্রচ্ছদ এঁকেছিলেন সুবোধ দাশগুপ্ত।
তবে হ্যাঁ, সম্ভবতঃ বইটি ছোটো গল্পের সংকলন ছিল।

ধন্যবাদ আপনাকে, আলাদা করে এই বইটির অস্তিত্ব আমার জানা ছিল না।
Avatar: কুশান

Re: কাঁচঘর ও ক্লাশ ফোর

আপনি আবার খুঁজেছেন এই বই? আমি যে সময়ের কথা বলছি সেটা ধরুন উনিশশ একাশি হবে। পরে বিমল কর কিছু গল্প ও উপন্যাস পড়লেও আলাদা করে এই লেখা পড়া হয়ে ওঠেনি। আপনি তো আগ্রহ বাড়িয়ে দিলেন। ধন্যবাদ জানবেন।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন