কুশান গুপ্ত RSS feed

নাম পরিবর্তন করি, এফিডেফিট বিনা।আসল নামে হাজার হাজার ডক্টর হাজরা আছেন, কে প্রথম জানা নেই, কে দ্বিতীয়, কে অদ্বিতীয়, এ ব্যাপারে ধারণা অস্বচ্ছ। অধমের ব্লগ অত্যন্ত ইনকনসিস্টেন্ট,কিছু বা খাপছাড়া, খানিকটা বারোভাজা ধরণের। কিন্তু গম্ভীর নিবন্ধের পর ক্লান্তি আসে, তখন কবিতা, তারপর ঘুম, ক্লান্তি ও নস্টালজিয়া। কোনো গন্তব্য নেই, তবু হাঁটতে হয় যেমন। একসময় অবকাশ ছিল অখন্ড, নিষিদ্ধ তামাশা লয়ে রংদার সমকাল চোখ মারিত। আজকাল আর মনেও হয় না, এ জীবন লইয়া কি করিব? আপনাদের হয়?

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
    ভারত আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র - মিল কতটুকু?একটি দেশ যদি বিশ্বের সবচাইতে শক্তিশালী অর্থনীতি হয়, আরেকটির হাল বেশ নড়বড়ে - মানুষের হাতে কাজ নেই, আদ্ধেক মানুষের পেটে খাবার নেই, মাথার ওপরে ছাদ নেই, অসুস্থ হলে চিকিৎসার বন্দোবস্ত নেই। অবশ্য দুর্জনেরা বলেন, প্রথম ...
  • দক্ষিণের কড়চা
    গরু বাগদির মর্মরহস্য➡️মাঝে কেবল একটি একক বাঁশের সাঁকো। তার দোসর আরেকটি ধরার বাঁশ লম্বালম্বি। সাঁকোর নিচে অতিদূর জ্বরের মতো পাতলা একটি খাল নিজের গায়ে কচুরিপানার চাদর জড়িয়ে রুগ্ন বহুকাল। খালটি জলনিকাশির। ঘোর বর্ষায় ফুলে ফেঁপে ওঠে পচা লাশের মতো। যেহেতু এই ...
  • বাংলায় এনআরসি ?
    বাংলায় শেষমেস এনআরসি হবে, না হবে না, জানি না। তবে গ্রামের সাধারণ নিরক্ষর মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আজ ব্লক অফিসে গেছিলাম। দেখে তাজ্জব! এত এত মানু্ষের রেশন কার্ডে ভুল! কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানলাম প্রায় সবার ভোটারেও ভুল। সব আইকার্ড নির্ভুল আছে এমন ...
  • যান্ত্রিক বিপিন
    (১)বিপিন বাবু সোদপুর থেকে ডি এন ৪৬ ধরবেন। প্রতিদিন’ই ধরেন। গত তিন-চার বছর ধরে এটাই বিপিন’বাবুর অফিস যাওয়ার রুট। হিতাচি এসি কোম্পানীর সিনিয়র টেকনিশিয়ন, বয়েস আটান্ন। এত বেশী বয়েসে বাড়ি বাড়ি ঘুরে এসি সার্ভিসিং করা, ইন্সটল করা একটু চাপ।ভুল বললাম, অনেকটাই চাপ। ...
  • কাইট রানার ও তার বাপের গল্প
    গত তিন বছর ধরে ছেলের খুব ঘুড়ি ওড়ানোর শখ। গত দুবার আমাকে দিয়ে ঘুড়ি লাটাই কিনিয়েছে কিন্তু ওড়াতে পারেনা - কায়দা করার আগেই ঘুড়ি ছিঁড়ে যায়। গত বছর আমাকে নিয়ে ছাদে গেছিল কিন্তু এই ব্যপারে আমিও তথৈবচ - ছোটবেলায় মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল ঘুড়ি ওড়ানো "বদ ছেলে" দের ...
  • কুচু-মনা উপাখ্যান
    ১৯৮৩ সনের মাঝামাঝি অকস্মাৎ আমাদের বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ(ক) শ্রেণী দুই দলে বিভক্ত হইয়া গেল।এতদিন ক্লাসে নিরঙ্কুশ তথা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করিয়া ছিল কুচু। কুচুর ভাল নাম কচ কুমার অধিকারী। সে ক্লাসে স্বীয় মহিমায় প্রভূত জনপ্রিয়তা অর্জন করিয়াছিল। একটি গান অবিকল ...
  • 'আইনি পথে' অর্জিত অধিকার হরণ
    ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম ও কর্পোরেট পুঁজির স্বার্থে, দীর্ঘসংগ্রামে অর্জিত অধিকার সমূহকে মোদী সরকার হরণ করছে— আলোচনা করলেন রতন গায়েন। দেশে নয়া উদারবাদী অর্থনীতি লাগু হওয়ার পর থেকেই দক্ষিণপন্থার সুদিন সূচিত হয়েছে। তথাপি ১৯৯০-২০১৪-র মধ্যবর্তী সময়ে ...
  • সম্পাদকীয়-- অর্থনৈতিক সংকটের স্বরূপ
    মোদীর সিংহগর্জন আর অর্থনৈতিক সংকটের তীব্রতাকে চাপা দিয়ে রাখতে পারছে না। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে ভারতের অর্থনীতি সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। সংকট কতটা গভীর সেটা তার স্বীকারোক্তিতে ধরা পড়েনি। ধরা পড়েনি এই নির্মম ...
  • কাশ্মীরি পন্ডিত বিতাড়নঃ মিথ, ইতিহাস ও রাজনীতি
    কাশ্মীরে ডোগরা রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হবার পর তাদের আত্মীয় পরিজনেরা কাশ্মীর উপত্যকায় বসতি শুরু করে। কাশ্মীরি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মানুষেরাও ছিলেন। এরা শিক্ষিত উচ্চ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেনি। দেশভাগের পরেও এদের ছেলেমেয়েরা স্কুল কলেজে পড়াশোনা করেছে। অন্যদিকে ...
  • নিকানো উঠোনে ঝরে রোদ
    "তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে ?আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে ..."সেই অক্ষরগুলোকে ধরার আরেকটা অক্ষম চেষ্টা, আমার নতুন লেখায় ... এক বন্ধু অনেকদিন আগে বলেছিলো, 'আঙ্গুলের গভীর বন্দর থেকে যে নৌকোগুলো ছাড়ে সেগুলো ঠিক-ই গন্তব্যে পৌঁছে যায়' ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

ইরোডভের 'প্রব্লেমস ইন জেনেরাল ফিজিক্স'- ছোট জিজ্ঞাসা

কুশান গুপ্ত

এক বন্ধুর কাছে শুনলাম আই.আই. টির এন্ট্রান্স টেস্ট নাকি পৃথিবীর কঠিনতম পরীক্ষাগুলোর মধ্যে অন্যতম। সেই প্রসঙ্গে খানিক আলোচনা হলো বন্ধুদের সঙ্গে। কিছু তথ্য, ফিটজি ইত্যাদি সংস্থা, এম সি কিউ, বইপত্তর ইত্যাকার বিষয়ে খানিক খোঁজ নেওয়ার পর একটি আশ্চর্য তথ্য পেলাম। যেখান থেকে এই লেখা লিখতে প্ররোচিত হলাম।

আই আই টির এন্ট্রান্স যারা ক্র্যাক করেন তাঁরা নিঃসন্দেহে প্রতিভাবান, তাঁদের অনেকেই বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হন, কেউ হন নামী সংস্থার সি ই ও, কেউ বা গবেষণায় সফল, বিশেষত পলিসি মেকিং এও তাঁদের ভূমিকা থাকবেই। এ-বিষয়ে এই আলোচনা নয়।
মূল বিষয়ে আসি।

তথ্যসূত্রে জানা গেল, আই.আই. টি বা সমতূল্য পরীক্ষায় সাফল্য পেতে গেলে নাকি ফিজিক্সের একটি বই এর দুরূহ প্রবলেমসমূহ সলভ করতে হয়। বইটির নাম? 'প্রব্লেমস ইন জেনেরাল ফিজিক্স'। লেখকের নাম? ইরোডভ। কে এই ইরোডভ? তিনি রাশিয়ান। নেট-তদন্তের পর জানা গেল বইটি 'মীর পাবলিশার্সের'। ইংরেজি সংস্করণের প্রকাশকাল? 1981.

হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন, অখন্ড সোভিয়েতের, সেই দেশ, যাকে ঘিরে এক ধরণের ভুল স্বপ্নে বিভোর ছিল অনেক মানুষ।

একটা প্রশ্ন এসেই যাচ্ছে। পুঁজিবাদী দুনিয়ায় ও আজকের বিশ্বায়নে ব্যক্তি-মেধার এক ধরণের স্বীকৃতি রয়েছে, যার জোরে গোটা পিছিয়ে পড়া সমাজ এগোতে না পারলেও ছিটকে গিয়ে খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছে যান কেউ কেউ। এই খ্যাতি যেন রোনাল্ডো বা মেসির স্বপ্নপূরণের মতই হয়ত-বা কিছু। সেক্ষেত্রে, ভেঙে পড়া সোভিয়েতের ম্লান হয়ে যাওয়া ইরোডভের 'প্রব্লেমস ইন ফিজিক্স' যদি আই.আই. টি বা সমতূল্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য কোনোভাবে প্রাসঙ্গিক হয়, তা কিসের ইঙ্গিত দেয়?

প্রশ্ন উঠছে, মুক্ত চিন্তার চর্চা কি সম্পূর্ণ ব্যাহত ছিল সোভিয়েতে? কিভাবে এত পুরনো, বাতিল হয়ে যাওয়া তত্ত্বের ভেঙে যাওয়া বিলুপ্ত দেশের বই, আজকের তুমুল প্রতিযোগিতায়(যেখানে ব্যক্তি-মেধা ও স্কিল গুরুত্বপূর্ণ), এখনো প্রাসঙ্গিক?

একটা গল্প মনে পড়ল। এক স্বনামধন্য অধ্যাপক বর্তমানে একটি নামী প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর। শুনেছি তিনি পুরোদস্তুর গবেষণার জগতে নামার আগে পিশকুনভের 'ডিফারেন্শিয়াল এন্ড ইনটিগ্র্যাল ক্যালকুলাস' পুরোটা সলভ করেন এবং পুরোনো জিনিস ঝালিয়ে নিয়ে তারপর বিদেশে পাড়ি দেন। তিনিও কেন অখন্ড সোভিয়েতে জন্ম নেওয়া ওই বইটি বেছেছিলেন কে জানে?

তাহলে সোভিয়েত কোনোভাবে আজও বেঁচে আছে!

মার্কিনমুলুকের ভবিষ্যত-স্বপ্নচারীদের কাছে তো বটেই। ইরোডভ তাই বলে।

2709 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5]   এই পাতায় আছে 41 -- 60
Avatar: কুশান গুপ্ত

Re: ইরোডভের 'প্রব্লেমস ইন জেনেরাল ফিজিক্স'- ছোট জিজ্ঞাসা

এবার ইতিউতি ঝোপে লাঠি না মেরে, ঝটপট জরুরি পয়েন্টগুলো আসছে। বোলতার চাকে ইঁটও মারিনি, হাল্কা দিতে চেয়েছিলাম বাসার নম্বর এবং পিন কোড। ডি কোড করে অনেকে তৈরি করছেন বিচিত্র সব প্যাটার্ন।
সামান্য ব্লগে বুম্বার ছোট জিজ্ঞাসা। তাতে অনেক বাদী, বিবাদী কলস্বর তৈরি হচ্ছে।

তবু,পেনাল্টি ও সাডেন ডেথে ভরসা নেই।

খেলা চললে চলুক। স্বাভাবিক নিয়মে একসময় মৃত্যু হোক।অমরত্বের প্রত্যাশা নেই।

Avatar: indra

Re: ইরোডভের 'প্রব্লেমস ইন জেনেরাল ফিজিক্স'- ছোট জিজ্ঞাসা

রাশান বিজ্ঞানীদের নিয়ে আলোচনা হল, অথচ কাপিত্সা(নোবেল প্রাইজ ১৯৭৮) এর নাম নিলেন না কেউ! আর বিপ এর লেখায় ছোট্ট একটা ভুল চোখে পড়্লঃ অসওয়াল্ড মানে যদি ভীলহেল্ম অসওয়াল্ড তাহলে উনিতো রাশান নন জার্মান।
Avatar: S

Re: ইরোডভের 'প্রব্লেমস ইন জেনেরাল ফিজিক্স'- ছোট জিজ্ঞাসা

বিপদা আপনার মনে হয় যে এআই এর যুগে ইন্ডিয়ান ইন্জিনিয়াররা আদৌ ধোপে টিকবে? আইটির যুগে দরকার ছিলো একটু অন্ক জানা, একটু লজিকাল সেন্স অছে, একটু ইংরাজি বলতে পারে এমন মধ্যমানের প্রচুর সংখ্যক জনগণ যারা লো ওয়েজে কাজ করতে রাজী থাকবে, আম্রিগা যাওয়াকে জীবনের স্বপ্ন মনে করবে। ইন্ডিয়া সেটা নিয়মিত সাপ্লাই করে গেছে।

এআই এলে দরকার হবে অনেক কম সংখ্যক কিন্তু খুব হাই কোয়ালিটির ইন্জিনিয়ার আর সায়েন্টিস্ট। সেটা সাপ্লাই করার মতন অনেক দেশ আছে ইনক্লুডিঙ্গ আম্রিগা। ইন্ডিয়া থেকেও যারা সেই জায়্গায় পৌঁছচ্ছে, তারাও বিদেশে গিয়ে পিএইচডি করে হচ্ছে। তাও সবাই নয়।

ইন্ডিয়ার পড়াশুনা করার পরে ছেলেপিলেদের মধ্যে যেটা সবথেকে কম হয় তা হলো ইনোভেশন করার ক্ষমতা। বিগত কয়েক বছরে যতগুলো স্টার্টাপ তৈরী হয়েছে সেগুলো প্রায় সবকটাই পস্চীমের কোনও না কোনও মডেলের নকলে।
Avatar: কুশান গুপ্ত

Re: ইরোডভের 'প্রব্লেমস ইন জেনেরাল ফিজিক্স'- ছোট জিজ্ঞাসা

অল্প কথা, গল্প না:
উত্তর নয়, প্রশ্ন আবার।

এক মান্যবর বলিলেন ইহা নাকি সোভিয়েত-ডিফেন্স। কেউ কেউ স্ট্যালিনের প্রেতাত্মা পাইলেন। জবাবে একটি কথা: সৌরভ গাঙ্গুলির অফ স্ট্যাম্পের টাইমিংয়ে কি আপনারা বাম সরকারের কৃতিত্ব পান? নবারুণ হারবার্ট উপন্যাসে সুকান্ত কোট করিলে কি আপনারা পাম এভিনিউ  দ্যাখেন?

কেন এই প্রকল্প শুনুন তবে। বম্বেতে 1998 তে সৌরভ যখন আউট হইত বাঙালি ছাড়া সকলে এক্কাটা হইয়া হাততালি দিত, বলিত উহা বাংলা কোটা, আমাদের কতিপয় বাঙালির গা জ্বলিত। কেহ তথ্য, লজিক শুনিত না। অতঃপর শুরু হইত বাঙালি আসলে পলিটিক্স করে। ইহার ইঙ্গিত আছে।

একজন বলিলেন স্ট্যালিনের বাপের হাঁটু, মুচির গল্প ইত্যাকার প্রসঙ্গ। উপভোগ  করিলাম। কিন্তু বাপ না বলিয়া শ্যাম বাগচী বা কিটু গিদওয়ানী বলিলে অধিক উপভোগ করিতাম। কেন, বলিব না। লিঙ্ক দিব না।

কে বলিলেন ভুরভুড়ি কাটিতেছি। সত্য, ভুরভুড়ি কাটিলাম। শোল, মাগুর, ট্যাংরা, রুই কিছু থাকিলে তো থাকিতে পারে। তাছাড়া ধোঁয়া দেখিয়া আগুন আছে ভাবিতেই পারি। আগুন না ভিক্টর ব্যানার্জি ইহা লইয়া একটু বলেন না।

কেহ বলিলেন ফিজিক্স নাই। ফিজিক্স নাই, সত্য। অনুষঙ্গ হইতে অন্য ছোট জিজ্ঞাসা আসিতেছে। উহার পরে অনেক জরুরি পয়েন্ট আসিতেছে।

ল্যানডাউ লইয়া এক স্বনামধন্য অধ্যাপক আগেই আমাকে তর্কে প্রবৃত্ত করিয়াছেন। কারণ পূর্বেই ইহা অন্যত্র শেয়ার করিয়া অনেক মন্তব্য পাই। তথাপি, উহা অন্তর্গত করিতে পারিতাম। তথাপি, করি নাই। তাহলে রেফার করিতে হইত। সেক্ষেত্রে আপনাদের বক্তব্য কমিয়া যাইত।

আরো অনেক পয়েন্ট আসিতেছে। যাদের সঙ্গে হালকা সহমত, সম্পূর্ণ একমত, ভিন্নমত, তাহা লইয়া অনন্তর বলিব।

আমার গবেষণার ক্ষেত্র প্রযুক্তিবিদ্যা। সামান্য কিছু গবেষণা পত্র আছে। রিভিউয়ার সকল বারম্বার বলেন 'ইহাতে নতুন ফিজিক্স কোথায়?' ফিজিক্স লইয়া তর্ক বিতর্ক চলে। কনভিন্স করাইতে জান কয়লা হইয়া যায়। ফলে, রেফারেন্স বিহীন অল্প কথায় হালকা উস্কাইতেছি। ব্লগে বিশেষ কিছু বলিতে চাহি না। সময়ও অল্প।

তথাপি, এত কিছু শুনিলাম, কিছু বা বুঝিব।

অনেকের কমেন্ট মূল পোস্ট অপেক্ষা বড়। এতদূর তর্কে প্ররোচিত হইলেন, ধন্যবাদ।

ডিসি নামক ব্যক্তির পোস্টে বেশ ম্যাটার আছে। আরো অনেকের প্রশ্নে পাইলাম। সময়ে লিখিব হয়ত।

যারা বলিতেছেন ইন্ট্রোতে ঘোড়ার ডিম, কোচিং ক্লাসে কচু হয়, সকলই ভুল তাহলে অতঃপর উহাকে হালকা তোড়ার পাল্টা প্রশ্নে মুড়িয়া দি। ক্যামেরা ফিজিক্স হইতে অন্যত্র ঘুরুক।

1. আজকের জীবন প্রতিযোগিতামূলক। প্রশ্ন, ভিক্টট্রি স্ট্যান্ডে যখন বালক বালিকা কুসুম মুখ করিয়া দাঁড়ায় উহাদের পিতামাতা গর্বিত হন কেন? কেনই বা অন্যরা ঈর্ষান্বিত হয়? তথাপি, কেউ কেউ কনগ্রাচুলেট করে। উক্ত স্ট্যান্ডে দাঁড় করাইবেন অথচ আই আই টি র ফার্স্ট বয় কে ফুৎকারে উড়াইয়া দিবেন, ইহা কি ভাল হইল?

2. কার্ল লিউইস বা সৌরভ গাঙ্গুলি পয়দা করিতে কি প্রতিভা লাগে না নিয়মিত অনুশীলন? যদি আজকের টোল লইয়া এত বিদ্রূপ করেন তাহলে বলি এতে  শক্তি সঙ্ঘ লাগে। লাগে কোচ। স্কিল তৈরি করিতে লাগে না অনুশীলন?

3. মৃণাল সেনের ইন্টারভিউ দেখিয়াছেন? উহার প্রকল্প কি উড়াইয়া দেওয়া যায়?

4. মারাডোনা কি আকাশ হইতে পড়িয়া আর ফুটবলের ইতিহাস, বিজ্ঞান ও ভূগোল পড়িয়া জার্মান বধ করিলেন? নাকি তাঁকে অনুশীলন করিতে হত না? তাঁহার পেরেলম্যান না ইরোডভ, কোনটি বেশি প্রয়োজন হইত?

5. বুকে হাত দিয়া বলেন তো, আপনারা কি 1986 র  বিশ্বকাপের ফার্স্ট বয় কেই মালা পরান নাই?


একটু অপ্রসঙ্গ হইল। শুভ রাত।


Avatar: কুশান গুপ্ত

Re: ইরোডভের 'প্রব্লেমস ইন জেনেরাল ফিজিক্স'- ছোট জিজ্ঞাসা

তথাপি, আমি অর্পিতার বক্তব্যের সঙ্গে একমত। অর্থাৎ পেরেলম্যান পড়িয়াছি। মুগধ। কিন্তু, ইরোডভ পড়ি নাই।
Avatar: কুশান গুপ্ত

Re: ইরোডভের 'প্রব্লেমস ইন জেনেরাল ফিজিক্স'- ছোট জিজ্ঞাসা

সরি, বিপ এর বক্তব্যর সঙ্গে অনেকটা সহমত। কিছুটা না। বলা উচিত ছিল।
Avatar: S

Re: ইরোডভের 'প্রব্লেমস ইন জেনেরাল ফিজিক্স'- ছোট জিজ্ঞাসা

ফার্স্ট বয় মানে ভালো সক্কলে জানে। কিন্তু ভালো মানেই ফার্স্ট বয় নয়। আর খুব ভালো মানে তো ফার্স্ট বয় একেবারেই নয়।

আইআইটি কোচিং কে ভালো করে নিলো আর কে ভালো ইন্জিনিয়ার তৈরী হলো এর মধ্যে প্রায় কোনই কোরিলেশন নেই। কারণ আইআইটি এন্ট্রান্স (বা যেকোনও এন্টান্সই) কে ভালো ইন্জিনিয়ার সেটা নির্ধারণ করেনা, তাইলে সেটাকে আর এন্ট্রান্স বলা হতো না। হ্যাঁ ভালো অন্ক, ফিজিক্স জানা থাকলে একটা ইন্জিনিয়ারিং সমস্যার সমাধান করতে সুবিধে হয় বইকি। কিন্তু সমস্যাটা যে আদৌ আছে সেটা জানতে গেলে যা লাগে সেটা কোনও কোচিং সেন্টার শেখাতে পারেনা। তাই ইন্ডিয়া আউটসোর্সিং হাব হয়েই থেকে গেলো।

১৯৮৬র ফার্স্ট বয় আর আইআইটি এন্ট্রান্সের ফার্স্ট বয় এক নয়। আইআইটি এন্ট্রান্সের ফার্স্ট বয়কে বোধয় সেই ছেলের সাথে তুলনা করা যেতে পারে যে সবথেকে বেশিক্ষন বল ড্রিবল করতে পারে।
Avatar: কুশান গুপ্ত

Re: ইরোডভের 'প্রব্লেমস ইন জেনেরাল ফিজিক্স'- ছোট জিজ্ঞাসা

S আপনাকে লিখছি স্কিলটাকে জোর দিতেই মারাদোনার analogy. ফার্স্ট বয় মানে ভালো সবাই জানে। তার পরের বাক্য দুটি আপনার, ফলে আমার পোস্টে না চাপানোই ভালো।
যাঁরা আমার পোস্টে ভাবছেন যে আমার উদ্দেশ্য কি সেই প্রসঙ্গে বলি, কোনো উদ্দেশ্য, কাউকে গ্লোরিফাই করা, কারুর পক্ষে/বিপক্ষে, ইরোডভ বললাম, কিন্তু চেরেঙ্ক বাদ রয়ে গেল কেন ইত্তাদি ছেড়ে বলি প্রযুক্তির কথা এসে পড়েছে সেই প্রসঙ্গেই বলি
ভালো ইঞ্জিনিয়ার নিয়ে আমার ধারণা কি সেটা পরে বলতে পারি।যদি থ্রি ইডিয়েটের আমির খানকে ধরি যে সে ভালো ইঞ্জিনিয়ার, যন্ত্র খুলে ফেলে লাগায়, তৈরি করে ইনভেটিভ যন্ত্র। কিন্তু, প্রথমে যে স্পেস টেকনোলজির প্রসঙ্গে পেন্সিল মডেল আর ভাইরাসের গ্রাভিটির কত মিলিয়ন খরচ করা মডেল এটা তো কোল্ড ওয়ারের সময়কার বহুচর্চিত সোভিয়েত বনাম মার্কিনের লড়াই। এক্ষেত্রেও ভালো ইঞ্জিনিয়ারের যে ধারণা দেওয়াল হচ্ছে, যে ব্যবস্থা কে চ্যালেঞ্জ করে। অথচ এটি একটি বাণিজ্যিক ছবির বিষয়।কোন অজানা নিয়মে সোভিয়েত মডেলটি যেন জিতে যাচ্ছে।
ইঞ্জিনিয়ারিং প্রসঙ্গে বলি, আমাকে একটি বিষয় পড়াতে হয়। সেখানেও দেখেছি ম্যাকগ্র হিলের বই তে অজস্র জিনিস রেজনিকভ বলে একটি বিপলবোত্তর সোভিয়েত বই থেকে টোকা। ছবি টবি সব। পাতার পর পাতা। এই বিষয়টি হল পাওয়ার প্ল্যান্ট সংক্রান্ত।

আমি পিশকুনভের গণিতের বইটি খানিকটা দেখেছি।অসামান্য। পেরেলম্যান পড়েছি। নিজের ফিল্ডে পড়েছি ল্যাখটিন, রেজনিকভ, Acherkan সহ আরো অনেক বই।

এবার আসি স্কিল প্রসঙ্গে। যদি আদিম ইঞ্জিনিয়ারিং অর্থাৎ পুরোনো পাথর যুগে সেটা আসলে অস্ত্র বানানোর স্কিল। স্যাপিয়েন্স এর বই এর সাক্ষ্য দেবে। এর জন্য অস্ত্র বানানোর একমুখী অনুশীলন দরকার। হাওড়ার ঘিঞ্জি ওয়ার্কশপে গিয়ে যে স্কিল দেখেছি ক্লাস এইট পাশ যুবকের তাতে নিজের জন্য লজ্জা হয়েছে। নিজের ওয়ার্কশপ। নিজেই মালিক। একা কাজ করছেন।কোন ধরনের স্টিলে কি ওয়েল্ডিং লাগবে, কখন কত সাইজের বোল্ট, ফ্ল্যাঞ্জ লাগবে তিনি মুহূর্তে বলে দিচ্ছেন। এদের আমরা শ্রমিক বলি। ইঞ্জিনিয়ার বলি আই আই টি পাশ ছেলেদের। কারণ তাঁরা দ্রুত প্রব্লেম সলভ করেন।
এখানে কি আমি নিজেকে কাটলাম? না, একেবারেই না। আমার ইনিশিয়াল assumption হলো যে ধরে নিচ্ছি তাঁরা প্রতিভাবান। কেন ধরছি?
কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ইঞ্জিনিয়ারিং বলতে IIT ই চেনে। ক্যাপিটালিস্ট এমনি এমনি চেনে না, নিজের স্বার্থে চেনে। সেক্ষেত্রে IIT র ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে পরে America যেতে গেলে কি ইরোডভ দরকার হচ্ছে না?

স্ট্যানফোর্ড যেতেও তো gre লাগে। সেটা কি ব্যারনের ওয়ার্ড মুখস্ত করা নয়?সেক্ষেত্রে তো স্কিলের চেয়েও মারাত্মক ব্যাপার চলে আসছে। মুখস্তবিদ্যা। যদি ধরি কেউ স্ট্যানফোর্ড কি এম আই টি থেকে ফিজিক্সে গবেষণা করতে চান, তাকে তো সেই ওয়ার্ড মুখস্ত করতে হচ্চে, এমনকি কি সব জামাই ঠকানো প্রশ্নও সলভ করতে হচ্ছে।

আর মানুন না মানুন টোল সব সময় ছিল। মহাভারতের সময় দ্রোনাচার্জের টোল ছিল। যেখানে একলব্য চান্স পেতেন না। আজকের ভাল টোল এ চান্স পেতে গেলে পয়সা বেশি ঢালতে হচ্ছে। কিন্তু আমি একলব্য র পক্ষে। যারা সুযোগ পাচ্ছে না।
'সমস্যা টা যে আদৌ আছে' এই প্রশ্নে আমি একমত। তবে এটা বুঝতে অনেক ম্যাচিউরিটি লাগে। অন্তত 23/24 কি তারও বেশি। এই প্রসঙ্গ টা গবেষণা র কথা।
Avatar: S

Re: ইরোডভের 'প্রব্লেমস ইন জেনেরাল ফিজিক্স'- ছোট জিজ্ঞাসা

কৃশানু, রাশিয়ানরা অন্ক বা ফিজিক্স বা ইন্জিনিয়ারিংএ ভালো ছিলো সেটা তো জানা কথা। ঐযে আপনি তো লিখেই দিয়েছেন। ওদের মিলিটারি/ডিফেন্স দেখুন। আরো অনেক উদাহরণ দিতে পারি। এখন সেটা আম্রিগার থেকেও ভালো নাকি অতটাও নয়, সেটা আলোচনা সাপেক্ষ। আমার মনে হয়েছে অতটাও নয়, কিন্তু ঐযে সেখানে তর্ক আসে। তাই ঐ আলোচনাতেই যাবোনা।

কিন্তু আইআইটি এন্ট্রান্সে একটা বই পড়ানো হচ্ছে বলেই সেই লেখক ও বই মহান, এইটাতে আপত্তি আছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ইঞ্জিনিয়ারিং বলতে IIT ই চেনে, এটা ঠিক কথা। কিন্তু কি হিসাবে চেনে? কেরানী হিসাবে। আইটি কুলি হিসাবে। আগেই বলেছি তাড়াতাড়ি কঠিন অন্ক কষে দেবে, সেই হিসাবে। ইনোভেটর হিসাবে নয় (যেটা আপনিও পরে লিখেছেন আপনার পোস্টে)। খুব ভালো রিসার্চার হিসাবে আলাদা করে খুবেকটা নাম নেই ভারতীয়দের। এক্সেপশনাল রিসার্চার আছেন অবশ্যই, কিন্তু সেটার প্রোপোর্শান খুব বেশি না।

জিআরই নিয়ে একটু লিখি। আমি আগেও অন্যত্র বলেছি এই পরীক্ষাটা অত্যন্ত মিনিংলেস মনে হয় আমার। তবে স্ট্যান্ডার্ডাইজড টেস্ট নিয়ে কিছু ভুল ধারণা আছে। এমাইটিতে (বা টপ স্কুল গুলোতে) পেতে গেলে শুধু জিআরই দিয়ে হয়না (আপনি জানেন আশা করি)। সেখানে অন্য অনেক কিছু দেখা হয়। গ্রেড, রেফারেন্স লেটার, এসোপি, কটা পেটেন্ট আছে, পাবলিকেশন, ইন্টার্নশিপ, আরো হাজার জিনিস। জিআরই সেখানে টার্শিয়ারি। কারোর পার্ফেক্ট স্কোর থাকলেও না হতে পারে। জিআরই কিছুটা ম্যাটার করে নীচের দিকের স্কুলে।

আমিও একলব্যের পক্ষে। কিন্তু আমরা যদি ফার্স্ট বয় নিয়েই ব্যস্ত থাকি তাহলে হাওড়ার ঘিঞ্জি ওয়ার্কশপের ক্লাস এইট পাশ যুবককে কে নিয়ে আসবে ক্যাপিটালিজমের আলোয়?
Avatar: dc

Re: ইরোডভের 'প্রব্লেমস ইন জেনেরাল ফিজিক্স'- ছোট জিজ্ঞাসা

কুশানবাবু, "আজকের জীবন প্রতিযোগিতামূলক", এটা ঠিক লিখেছেন, আর ঠিক এখানেই আমার তীব্র আপত্তি আছে। তার কারন আমাদের দেশে আমরা প্রতিযোগিতাকে একটা অসুস্থ প্র্যায়ে নিয়ে গেছি। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো ছেলেমেয়েকে ইন্জিনিয়ার বা ডাক্তার বানানো, আর তার জন্য আইআইটির পরীক্ষা পাশ করানো। আইআইটি ছাড়া আমরা আর কিছু ভাবতে পারিনা, তার ফলে ক্লাস সেভেন এইট থেকে ছেলেমেয়েদের ফিটজি আর আরো এক গাদা কোচিং এ ভর্তি করানোর প্রতিযোগিতা চলছে। আমাদের ছেলেমেয়েদের ওদের নিজেদের মতো হয়ে বড়ো হতে দি না, ওদের নিজেদের মতো করে ভাবতে দি না, ছোটবেলার থেকে ওদের একটাই কথা শেখাই - আইআইটি আর কম্পিটিটিভ পরীক্ষা।

অথচ আইআইটি ইত্যাদি না করেও কিন্তু বহুভাবে জীবনে সফল হওয়া যায়, শুধুমাত্র নিজের প্যাশন ফলো করেও দিব্যি ভালোভাবে বেঁচে থাকা যায়। আপনি হয়তো য়ুটুবে কেসি নাইস্ট্যাটের ভিডিও দুয়েক সময়ে দেখে থাকবেন। এই লোকটা অসম্ভব ট্যালেন্টেড, একেবারে নিজের টার্মসে নিজের লাইফ লিড করে। আইআইটির বা ইন্জিনিয়ারিং এর ধারকাছ দিয়েও যায়নি। আরেকটা লোক আছে, লস্ট লেব্ল্যাংক নামের চ্যানেল, ও ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার ছিল, চাকরি ছেড়ে দিয়ে নানান দেশ ঘুরে বেড়ায় আর ভিডিও আপলোড করে। একটা মেয়ে, ও একেবারে অ্যাকাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসেছে, স্কুল পালিয়ে জিমনাস্টিক্সের ক্লাসে জয়েন করেছিল, তার পর ওর মা একটা ওই ধরনের স্কুলে ভর্তি করে দিয়েছিল, এখন ও একটা সার্কাস টিমে আছে, সির হুইলের খেলা দেখায়। এরকম আরও অনেকে আছে, স্যাম চুই ফিনান্সের চাকরি ছেড়ে এয়ারলাইনের রিভিউ লেখে। লেউ আর্টিস্যান, কেউ শেফ, কেউ অ্যাডভেঞ্চার টুরিজম করে। এরা প্রত্যেকে নিজেদের ইন্টারেস্ট ফলো করেছে, নিজেদের লাইফ এনজয় করছে। আসল কথা হলো নিজের মতো করে কিছু করা, নিজের মতো করে বাঁচা। আইআইটি, ইন্জিনিয়ারিং, কোচিং, এসব তুচ্ছ।

আর লাস্টে একটা কথা বলি। ইরোদভের বইটা অনেকদিন খুলে দেখা হয়নি, তবে যদ্দুর মনে পড়ছে বইটার শুরুতে লেখা ছিল, এই আগে প্রব্লেমগুলো বোঝো, এগুলো কেন জিগ্যেস করা হয়েছে সেটা বোঝো, তারপর সলভ কোরো। তবে এই কথাগুলো ইরোদভে লেখা ছিল নাকি ট্যানেনবমের নেটওয়ার্কিং এর বইতে লেখা ছিল সেটা মনে পড়ছে না, গুলিয়ে গেছে। এই দুটো বইই একসময়ে আমার প্রিয় ছিল ঃ)
Avatar: কুশান গুপ্ত

Re: ইরোডভের 'প্রব্লেমস ইন জেনেরাল ফিজিক্স'- ছোট জিজ্ঞাসা

S ও dc আপনাদের বক্তব্যের স্পিরিটের সঙ্গে অনেকাংশে একমত। তাছাড়া মূল্যবান রেফারেন্স কিছু পেলাম। তার আগের অনেকের কাছ থেকেও পেয়েছি। সবটা মিলিয়ে বলি, আমার এই ছোট লেখায় সব আমি বলিনি, একটা হালকা ছোঁয়া দিয়ে একটা তর্ক ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি চাইছিলাম। সে দিক দিয়ে দেখলে আমার লেখার শিরোনাম হওয়া উচিত ছিল:
'ইরোডভের পক্ষে কিছু উস্কানি মূলক কথাবার্তা।'
Avatar: dc

Re: ইরোডভের 'প্রব্লেমস ইন জেনেরাল ফিজিক্স'- ছোট জিজ্ঞাসা

ট্যানেনবম না। এই কথাটা বোধায় রেজনিক হ্যালিডেতে ছিল।
Avatar: কুশান গুপ্ত

Re: ইরোডভের 'প্রব্লেমস ইন জেনেরাল ফিজিক্স'- ছোট জিজ্ঞাসা

আলোচনা হচ্ছে, তবে ব্যক্তিগত দু একটা কথা:
1. dc, রেসনিক হ্যালিডে দেখেছি। পাতা উল্টে পাঠোদ্ধার করতে পারিনি। এতে হালকা হীনমন্যতা ছিল। ইংরিজি বই, বিশেষত বিজ্ঞানের, পড়তে পারতাম না। আমরা মোমেন্টাম বলতে ভরবেগ, আর মোমেন্ট বলতে ভ্রামক বুঝতাম।

2. পেরেলম্যান বাংলাতে পড়েছি। আরো অনেক সোভিয়েত বই। বিজ্ঞান, ও গল্পের বই। একটা বইতে কিছু সুন্দর প্রসঙ্গ ছিল। কিছু অদ্ভুত জিওমেট্রিক শেপের অঙ্ক না কষে কিভাবে সিজি বের করতে হয়।

3. কলেজে প্রথম দুটো বছর রেজাল্ট বেশি খারাপ হওয়ার কারণ ইংরেজিতে ধাতস্থ না হওয়া।

4. ইংরেজি না জানার জন্য অংকের বইতে অসুবিধে কম হ


Avatar: lcm

Re: ইরোডভের 'প্রব্লেমস ইন জেনেরাল ফিজিক্স'- ছোট জিজ্ঞাসা

সহজলভ্য সোভিয়েত প্রকাশনার বই নিয়ে গুরুচন্ডালিতে আগে আলোচনা হয়েছে বোধহয়, তো আর একটু হোক -

১৯৪৫ এ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হল। আর তারাপ্র থেকেই শুরু হয়ে গেল ইউএস-সোভিয়েত কোল্ড ওয়ারের প্রস্তুতি, যা হয়ে গেল মূলত প্রযুক্তির প্রতিযোগিতা।
সোভিয়েত গভর্নমেন্ট MIR প্রকাশন সংস্থা তৈরি করে, ১৯৪৬-এ মস্কোতে। শুরুতে উদ্দেশ্য ছিল বিজ্ঞান সম্বন্ধীয় স্কুল/কলেজ পাঠ্যপুস্তক প্রকাশ করা, অন্য ভাষা থেকে সহজ রাশিয়ান ভাষায় অনুবাদ করা। প্রচুর রাশিয়ান বিজ্ঞানী, অধ্যাপক, ভাষাবিদ-রা এই কাজে হাত লাগান। এনারা পশ্চিম ইউরোপ এবং আমেরিকার বিজ্ঞান পাঠ্যক্রম খুব মনযোগ সহকারে অনুধাবন করতেন, এবং, কীভাবে সহজ রাশিয়ান ভাষায় বিজ্ঞান সম্বন্ধীয় বই, স্কুল-কলেজের কারিকুলাম তৈরি করা যায় তা নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনা হত। রাশিয়ানরা মাতৃভাষায় আধুনিক বিজ্ঞান চর্চার এক অসাধারণ পরিকাঠামো তৈরী করেছিলেন। এটি শুরু হয় তিরিশের দশক থেকেই। কিন্তু শুরুর দিকে পার্টি কন্ট্রোল ছিল অনেক বেশি, অবশ্য অনেক পরীক্ষানিরীক্ষাও চলছিল, এখানে বলছে --
...Soviet education in 1930-1950s was inflexible and suppressive. Research and education, in all subjects but especially in the social sciences, was dominated by Marxist-Leninist ideology and supervised by the CPSU. Such domination led to abolition of whole academic disciplines such as genetics...
যাই হোক, এই পরিকাঠামোর ফল দেখা গেছে পরে ৫০-৬০ এর দশকে স্পেস প্রোগ্রাম থেকে, মিলিটারি রিসার্চ এবং বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় সোভিয়েত বিজ্ঞানীদের অভাবনীয় দক্ষতা। এটা হ্ঠাৎ করে তো হয় না। মাতৃভাষায় বিজ্ঞানশিক্ষার পরিকাঠামো ছিল এর প্রাথমিক ভিত্তি।

এর পর ধরো মোটামুটি ৫০-৬০ এর দশক থেকে শুরু হয় সোভিয়েত প্রোপাগান্ডায় ইনভেস্টমেন্ট। তখন শুরু হল এই সব পাঠ্যপুস্তকের ইংরেজিতে অনুবাদ। একটা সময় ছিল যখন দৈনিক নাকি প্রায় ১০ টন ছাপানো মেটিরিয়াল বেরোত (প্লেনে, জাহাজে, ট্রেনে করে) সোভিয়েত রাষ্ট্র থেকে - পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ভাষায় ছাপানো। এতে থাকত - ম্যাগাজিন, বই, খবরের কাগজ, পাঠ্যপুস্তক, রাশিয়ান সাহিত্যকর্মের অনুবাদ, ব্রেজনেভের স্পিচ, চেকভের কনসার্টের ক্যাসেট/টেপ...। রেডিও মস্কো থেকে ভারতের জন্য সপ্তাহে প্রায় ১২০ ঘন্টার প্রোগ্রাম এয়ার্ড হত মূলত ইংরেজি ভাষায়, এবং প্রায় আরও পাঁচটি ভারতীয় ভাষায়। সোভিয়েত-ল্যান্ড ম্যাগাজিন ছাপা হত ১৩টি ভারতীয় ভাষায়। তখন ভারতের কোনো একটি ম্যাগাজিন এত ভাষায় ছাপা হত না। শুধু ১৯৭৯ সালেই ভারতে ৫ লাখের বেশি ছাপানো মেটিরিয়াল এসেছে রাশিয়া থেকে।

আসত মির প্রকাশনার বিজ্ঞানের বই - অংক এবং পদার্থবিদ্যার বই ছিল বেশি। ভারতের প্রায় ৬০-৭০ টি প্রকাশকের সঙ্গে মির-এর বোঝাপড়া ছিল বিভিন্ন ভাষায় বই প্রকাশ এবং বিতরণের জন্য ('বিতরণ' বলছি কারণ মির এর থেকে কোনো লাভ থাকত না)। ভারতীয়দের দুটি সুবিধে হত এই বইগুলোতে, প্রথমত খুব শস্তা, আর বইগুলোর ইংরেজি ছিল খুব সহজপাঠ্য, এমনকি অনেকক্ষেত্রে ভারতীয় লেখকদের লেখা ইংরেজি বিজ্ঞান বিষয়ক বইগুলির থেকেও সহজপাঠ্য। যদিও পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষার মেটিরিয়াল ছাপানো হত সোভিয়েত থেকে, কিন্তু বিজ্ঞান পাঠ্যপুস্তকের অনুবাদ রাশিয়ান থেকে মূলত ইংরেজিতে হয়েছে, অন্য ভাষায় কম, মানে ধরো পর্তুগিজ ভাষায়, বা স্প্যানিশ ভাষায় প্রোব্যাবিলিটির রাশিয়ান বই কম - কারণ উচ্চশিক্ষার বিজ্ঞানের বই অন্য ভাষায় অনুবাদ করা কঠিন, ভারতে তো এখনও কাজ চলছে।

এই ইংরেজি বইগুলো ভারতে পাওয়া যেত, তার মানে এই নয় যে দেশে এই বই পাওয়া যেত না, সেখানে ছাত্ররা কিছু শিখত না। শস্তায় ভাল পাঠ্যপুস্তক পেলে শিখতে সুবিধে হয় সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।

আর এই কোন দেশের কোন পরীক্ষা সবথেকে শক্ত এসব কথা তো এমনি কথার কথা, যেমন এখন লোকে বলে চীনের গাওকাও (কলেজ এন্ট্রান্স টেস্ট) পৃথিবীর মধ্যে সবথেকে শক্ত বা ভারতে আইআইটি শক্ত - এসব তো নাম্বার গেম, শতাংশের হিসেব, এইসব... তার মানে কি উরুগুয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং এর স্টুডেন্টদের মান কম - এসব এমনি, তেমন কিছু না।
Avatar: dc

Re: ইরোডভের 'প্রব্লেমস ইন জেনেরাল ফিজিক্স'- ছোট জিজ্ঞাসা

পেরেলম্যান তো আমার ছোটবেলার অনেকগুলো বছর খুব প্রিয় বই ছিল। বাবা কিনে দিয়েছিল, তবে প্রথম ভল্যুমটা, দ্বিতীয় খন্ডটা অনেক পরে পড়েছি। মির পাবলিকেশানের কতো যে চটি বই ছিল আর সেগুলো পড়তে যে কি ভালো লাগতো কি বলবো। তার দুয়েকটা এখনো রয়ে গেছে। প্রোবাবিলিটির ওপর একটা ছোট্ট বই ছিল, "ইয়েস, নো অর মেবি"। আরেকটা বই ছিল, "দ্য ফাস্টেস্ট স্পিড"। আরেকটা বই পড়ে জানতে পেরেছিলাম ডিরাক সির কথা, "সামথিং কলড নাথিং"। যাদবপুরে সিপিএম পাট্টি স্টল দিতো, সেখান থেকে প্রতি বছর এরকম দুয়েকটা বই কিনতাম। অসাধারন সব বই ছিল।
Avatar: কুশান গুপ্ত

Re: ইরোডভের 'প্রব্লেমস ইন জেনেরাল ফিজিক্স'- ছোট জিজ্ঞাসা

Icm
চমৎকার মূল্যায়ন।
একটা জিনিস এই প্রসঙ্গে বলি।
সোভিয়েতের বিজ্ঞান ও উপন্যাস, গল্প এগুলোর অনুবাদ মন ছুঁয়ে নিত। উদাহরণ, পেরেলম্যান, আর্কাদি গাইদার।

এই প্রসঙ্গে বলি সাহিত্যের বইগুলির অনুবাদক হিসেবে সমর সেন, মঙ্গলাচরন, ননী ভৌমিক প্রমুখ।

রাজনৈতিক বইগুলির অনুবাদ ঘাঁটা হত। কারন কি।জানিনা।

তখন সোভিয়েত বইগুলোতে সাইবারনেটিক্স প্রসঙ্গ খুব আসতো।

লিঙ্গুইস্টিক্স নিয়ে বই ছিল। Anthropology নিয়েও।

তবে, ওরা তলস্তয়, তুর্গনেভে জোর দিত মাকারেঙ্ক গোর্কির পাশে।
Avatar: কুশান গুপ্ত

Re: ইরোডভের 'প্রব্লেমস ইন জেনেরাল ফিজিক্স'- ছোট জিজ্ঞাসা

dc আপনার আর আমার বক্তব্য এক। রেফারেন্স আলাদা।
Something called nothing মন্দ লাগেনি।
Avatar: lcm

Re: ইরোডভের 'প্রব্লেমস ইন জেনেরাল ফিজিক্স'- ছোট জিজ্ঞাসা

* চেকভ না, রাশিয়ান মিউজিশিয়ান নাম মনে পড়ছে না

হ্যাঁ, রুশ শিশুসাহিত্য, রূপকথার গপ্পো - এসব সহজলভ্য হয়েছিল।
Avatar: কুশান গুপ্ত

Re: ইরোডভের 'প্রব্লেমস ইন জেনেরাল ফিজিক্স'- ছোট জিজ্ঞাসা

1.প্রতিযোগিতা নিয়ে একটা মৌলিক প্রশ্ন তুলেছিলাম। কেউ address করেনি। বসে আঁকো, দাঁড়িয়ে নাচো টাইপস নয়। স্কুলের স্পোর্টস এ ভিক্টট্রি স্ট্যান্ড না থাকলে কি ছাত্র ছাত্রীদের ক্রীড়াতে উৎসাহ কমে যাবে?

2. আবার আসছি ওই প্রথম প্রসঙ্গে। মারাদোনা প্রথম হলে ধেই ধেই করে নাচি কেন? ড্রিবল দেখেও তো মেসি দেখে নাচি। এগুলো তো স্কিল। স্কিল ছাড়া কি কোনো কিছু হয়?

3. কোচিং সেন্টার লাগে। আধুনিক জীবনে আরো লাগে। মারাডোনার লাগে, কোনির খিদ্দা লাগে। লক্ষ্য করুন, কোনি কে ক্লাব জয়েন করতে হয়। তবেই সে চ্যাম্পিয়ন হয়।
তা নাহলে গঙ্গায় সাঁতার কেটে ডাব নিয়েই কেটে যেত।

4. আর কোচিং ট্রেনিং এর অভাবে কেই আই আই টি যায়, হাওড়ার ওই ছেলেটার জোটে আই টি আই।
Avatar: S

Re: ইরোডভের 'প্রব্লেমস ইন জেনেরাল ফিজিক্স'- ছোট জিজ্ঞাসা

মারাদোনা আর মেসি কোন কোচিং সেন্টারএ গেছিলো?

সমস্যা হলো আইআইটি গুলোতে তো ইন্জিনিয়ারদের ভালো করে ট্রেইন করা হচ্ছে না। কোচিং ক্লাসে হয়তো কঠিন অন্ক আর ফিজিক্সের প্রব্লেম সল্ভ করা শেখানো হচ্ছে।

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5]   এই পাতায় আছে 41 -- 60


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন