Debasis Bhattacharya RSS feed

Debasis Bhattacharyaএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • আমাদের চমৎকার বড়দা প্রসঙ্গে
    ইয়ে, স-অ-অ-অ-ব দেখছে। বড়দা সব দেখছে। বড়দা স্রেফ দেখেনি ওইখানে এক দিন রাম জন্মালেন, তার পর কারা বিদেশ থেকে এসে যেন ভেঙেটেঙে মসজিদ স্থাপন করল, কেন না বড়দা তখন ঘুমোচ্ছিলেন। ঘুম ভাঙল যখন, চোখ কচলেটচলে দেখলেন মস্ত ব্যাপার এ, বড়দা বললেন, ভেঙে ফেলো মসজিদ, জমি ...
  • ধর্ষকের মৃত্যুদন্ড দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ?
    যেকোন নারকীয় ধর্ষণের ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়ে সামনে আসার পর নাগরিক হিসাবে আমাদের একটা ঈমানি দায়িত্ব থাকে। দায়িত্বটা হল অভিযুক্ত ধর্ষকের কঠোরতম শাস্তির দাবি করা। কঠোরতম শাস্তি বলতে কারোর কাছে মৃত্যুদন্ড। কেউ একটু এগিয়ে ধর্ষকের পুরুষাঙ্গ কেটে নেওয়ার ...
  • তোমার পূজার ছলে
    বাঙালি মধ্যবিত্তের মার্জিত ও পরিশীলিত হাবভাব দেখতে বেশ লাগে। অপসংস্কৃতি নিয়ে বাঙালি চিরকাল ওয়াকিবহাল ছিল। আজও আছে। বেশ লাগে। কিন্তু, বুকে হাত দিয়ে বলুন, আপনার প্রবল ক্ষোভ ও অপমানে আপনার কি খুব পরিশীলিত, গঙ্গাজলে ধোওয়া আদ্যন্ত সাত্ত্বিক শব্দ মনে পড়ে? না ...
  • The Irishman
    দা আইরিশম্যান। সিনেমা প্রেমীদের জন্য মার্টিন স্করসিসের নতুন বিস্ময়। ট্যাক্সি ড্রাইভার, গুডফেলাস, ক্যাসিনো, গ্যাংস অব নিউইয়র্ক, দা অ্যাভিয়েটর, দ্য ডিপার্টেড, শাটার আইল্যান্ড, দ্য উল্ফ অব ওয়াল স্ট্রিট, সাইলেন্টের পরের জায়গা দা আইরিশম্যান। বর্তমান সময়ের ...
  • তোকে আমরা কী দিইনি?
    পূর্ণেন্দু পত্রী মশাই মার্জনা করবেন -********তোকে আমরা কী দিইনি নরেন?আগুন জ্বালিয়ে হোলি খেলবি বলে আমরা তোকে দিয়েছি এক ট্রেন ভর্তি করসেবক। দেদার মুসলমান মারবি বলে তুলে দিয়েছি পুরো গুজরাট। তোর রাজধর্ম পালন করতে ইচ্ছে করে বলে পাঠিয়ে দিয়েছি স্বয়ং আদবানীজীকে, ...
  • ইশকুল ও আর্কাদি গাইদার
    "জাহাজ আসে, বলে, ধন্যি খোকা !বিমান আসে, বলে, ধন্যি খোকা !এঞ্জিনও যায়, ধন্যি তোরে খোকা !আসে তরুণ পাইওনিয়র,সেলাম তোরে খোকা !"আরজামাস বলে একটা শহর ছিল। ছোট্ট শহর, অনেক দূরের, অন্য মহাদেশে। অনেক ছোটবেলায় চিনে ফেলেছিলাম। ভৌগোলিক দূরত্ব টের পাইনি।টের পেতে দেননি ...
  • ছন্দহীন কবিতা
    একদিন দুঃসাহসের পাখায় ভর করে,ছুঁতে চেয়েছিলাম কবিতার শরীর ।দ্বিখন্ডিত বাংলার মত কবিতা হয়ে উঠলোছন্দহীন ।অর্থহীন যাত্রার “কা কা” চিৎকারে,ছুটে এলোপ্রতিবাদী পাঠক।ছন্দভঙ্গের নায়কডানা ভেঙ্গে পড়িপুঁথি পুস্তকের এক দোকানে।আলোক প্রাপ্তির প্রত্যাশায়,যোগ ধ্যানে কেটে ...
  • হ্যালোউইনের ভূত
    হ্যালোউইন চলে গেল। আমাদের বাড়িতে হ্যালোউইনের রীতি হল মেয়েরা বন্ধুদের সঙ্গে ট্রিক-অর-ট্রিট করতে বেরোয় দল বেঁধে। পেছনে পেছনে চলে মায়েদের দল। আর আমি বাড়িতে থাকি ক্যান্ডি বিতরণ করব বলে। মুহূর্মুহূ কলিং বেল বাজে, আমি হাসি-হাসি মুখে ক্যান্ডির গামলা নিয়ে দরজা ...
  • হয়নি
    তুমি ভালবাসতে চেয়েছিলে।আমিও ।হয়নি।তুমিঅনেক দূর অব্দি চলে এসেছিলে।আমিও ।হয়নি আর পথ চলা।তুমি ফিরে গেলে,জানালে,ভালবাসতে চেয়েছিলেহয়নি। আমি জানলামচেয়ে পাইনি।হয়নি।জলভেজা চোখে ভেসে গেলআমাদের অতীত।স্মিত হেসে সামনে এসে দাঁড়ালোপথদুজনার দু টি পথ।সেপ্টেম্বর ২২, ...
  • তিরাশির শীত
    ১৯৮৩ র শীতে লয়েডের ওয়েস্টইন্ডিজ ভারতে সফর করতে এলো। সেই সময়কার আমাদের মফস্বলের সেই শীতঋতু, তাজা খেজুর রস ও রকমারি টোপা কুলে আয়োজিত, রঙিন কমলালেবু-সুরভিত, কিছু অন্যরকম ছিলো। এত শীত, এত শীত সেই অধুনাবিস্মৃত কালে, কুয়াশাআচ্ছন্ন পুকুরের লেগে থাকা হিমে মাছ ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

প্রহরী

Debasis Bhattacharya

[মূল গল্প – Sentry, লেখক – Fredric Brown, প্রথম প্রকাশকাল - ১৯৫৪] .....................


বাড়ি থেকে পঞ্চাশ হাজার আলোকবর্ষ দূরের এক গ্রহের মাটিতে কর্তব্যরত সে, জলে-কাদায় যতটা মাখামাখি, খিদে আর শীতে তার চেয়ে কিছু কম নয় ।

এখানে আলোটা পাওয়া যায় এক বিদ্‌ঘুটে নীল রঙের সূর্য থেকে, আর মাধ্যাকর্ষণের যা দশা সে আর বলে কাজ নেই । সে যাতে অভ্যস্ত তার দ্বিগুণ মাধ্যাকর্ষণ এখানে, নড়াচড়া করাই দায় ।

যুদ্ধের এমন কতকগুলো মৌলিক ব্যাপার আছে, লাখো বছরেও যার কোনও পরিবর্তন হয়না । যারা আকাশে উড়ে উড়ে যুদ্ধ করে তারা তোফা আছে, নিজেদের ছিমছাম মহাকাশযান আর ঝিন্‌চ্যাক অস্তরশস্তর নিয়ে । কিন্তু সময় যখন খারাপ আসে তখন স্রেফ নিজের পায়ে ঠায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে রক্ত ঘাম ঝরিয়ে ঘাঁটি আগলাতে হয়, এক পা এক পা করে এগোতে হয়, তখন যে এই পদাতিক শর্মারা ছাড়া আর গতি নাই হে ! এই যে এক অজানা তারার এই জঘন্য গ্রহটা, যার কথা এখানে এসে নামবার আগে সে কোনওদিন শোনেইনি, সেখানেও তো ঠিক সেই ব্যাপারটাই ঘটছে । এই গ্রহ এখন এক পবিত্র লড়াইয়ের স্থান হয়ে উঠেছে, কারণ, এখানেও এসে পৌঁছেছে ওরা । ‘ওরা’, মানে সেই দেখলেই-গা-ঘুলিয়ে-ওঠা নিষ্ঠুর কুৎসিত ভিনগ্রহী দানবগুলো, এ গ্যালাক্সির অন্য আর একমাত্র বুদ্ধিমান জাত ।

খুব ধীরে ধীরে বহুকষ্টে হাজার কয়েক গ্রহ দখলে আনার পর ওদের সাথে প্রথম দেখা হয়েছিল এই গ্যালাক্সির কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি জায়গায়, আর তারপর থেকে দেখা হয়েছে কি যুদ্ধ । শান্তি চুক্তি আপস রফা এ সবের তোয়াক্কা করেনা ওরা, দেখতে পেলেই সটান অস্ত্র চালিয়ে দেবে ।

কাজেই, একের পর এক গ্রহের মাটিতে শুধু তিক্ত লড়াইটা লড়ে যাওয়া, এ ছাড়া আর পথ নেই ।

একেই জলেকাদায় চুপচুপে শরীর, তার ওপর খিদে আর শীত, আর তারও ওপরে এক তীব্র কঠিন বাতাস উঠেছে আজ, তার ঘষা খেয়ে চোখ জ্বালা করছে তার । কিন্তু, চুপিসারে ঢুকতে চাইছে ভিনগ্রহীরা, কাজেই প্রহরীর প্রতিটা গুমটিই এখন ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ।

উদ্যত অস্ত্র হাতে হুঁশিয়ার আছে সে, পঞ্চাশ হাজার আলোকবর্ষ দূরের এই অদ্ভুত রণাঙ্গনে । বেঁচে বাড়ি ফেরা, সে কি আর হবে কোনওদিন ?

ওই যে, ওই যে, গুঁড়ি মেরে এগোচ্ছে একজন । নিখুঁত লক্ষ্যে অস্ত্র চালাল সে । ভিনগ্রহী দানব এক বীভৎস আওয়াজ তুলেই নিথর হয়ে পড়ে গেল । মরার সময়টায় ঠিক ওই রকমই করে ওরা ।

দানবটার আর্তনাদ আর ওই পড়ে থাকা দেহটায় একটু শিউরে উঠল সে । অনেকদিন ধরেই তো হচ্ছে, এতদিনে তার এইসব সয়ে যাওয়া উচিত ছিল, কিন্তু সে আর কোনওদিন পেরে ওঠা হল না তার । উফ, এত কুৎসিতও হতে পারে কোনও জীব ! মাত্রই দুটো করে হাত আর পা, ভয়ঙ্কর ফ্যাকাশে চামড়া, এবং, এবং, এবং ............... তাদের শরীরে কোনও আঁশ নেই !



409 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: Debasis Bhattacharya

Re: প্রহরী

আমি আগেও বলেছি এখনও বলছি অনুবাদকের দক্ষতায় লেখার শৈল্পিক গুন বেড়ে যাওয়া টাই বড় প্রাপ্তি।
তৃপ্ত হলাম।
Avatar: Debasis Bhattacharya

Re: প্রহরী

ধন্যবাদ । কিন্তু, মন্তব্যটা আমার নামেই এল । কে বললেন ?
Avatar: pi

Re: প্রহরী

আবার সেই বাগঃ( লেখকের নামে চলে আসছেঃ(। এটা কী আসে দেখি।
Avatar: b

Re: প্রহরী

ইয়ে, এগুলো টুকরো টুকরো করে না করে, ব্লগে পর পর দিলে হয় না?
সিরিজটা দারুণ হচ্ছে।
Avatar: দ

Re: প্রহরী

এটা তো ব্লগই, টই তো নয়। লেখক পরপর অ্যাপেন্ড না করে আলাদা আলাদা লিখছেন এই যা।
Avatar: Debasis Bhattacharya

Re: প্রহরী

না, এবার আর মন্তব্য আমার নামে আসেনি, ঠিকঠাকই এসেছে । উৎসাহ দেবার জন্য সবাইকেই ধন্যবাদ । গোটাতিনেক মাত্র ছোট্ট ছোট্ট অনুবাদ দিয়েছি, একে 'সিরিজ' আখ্যা দেবার সময় বোধহয় এখনও আসেনি । তবে, আরও কয়েকটা করার ইচ্ছে আছে, নিজের লেখা গল্পও হয়ত দুয়েকটা দেব, যদি শেষপর্যন্ত তা পেরে উঠি তখন এটা 'সিরিজ' আখ্যা পেলেও পেতে পারে । একসঙ্গে কয়েকটা দিয়ে দেওয়া যায়, কিন্তু সেক্ষেত্রে পরপর সব দ্রুত নামাতে হবে, টানা অতটা সময় পাই না, একটু অনিয়মিতভাবেই করি ব্যাপারটা । আর, বিভিন্ন লেখকের ঠিক ওই রকম উচ্চমানের কল্পবিজ্ঞান অণুগল্প খুঁজে খুঁজে বার করাও একটা সমস্যা । তার ওপর আবার, এর মাঝে মাঝে প্রবন্ধ-নিবন্ধ গোছের কিছু কিছু গদ্যও ঢুকে যাবে । ফলত, কিঞ্চিৎ উস্কোখুস্কো ভাব অনিবার্য বলেই মনে হচ্ছে । আশা করি, আপনাদের তরফ থেকে শুধু উৎসাহ নয়, সুচিন্তিত সমালোচনা ও মূল্যবান পরামর্শও পাব ।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন