Prosenjit Bose RSS feed

Prosenjit Boseএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ইন্দুবালা ভাতের হোটেল-৬
    চিংড়ির হলুদ গালা ঝোলকোলাপোতা গ্রামটার পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে কপোতাক্ষ। এছাড়া চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে খাল বিল পুকুর। সবুজ জংলা ঝোপের পাশে সন্ধ্যামণি ফুল। হেলেঞ্চার লতা। উঠোনের কোন ঘেঁষে কাঠ চাঁপা। পঞ্চমুখী জবা। সদরের মুখটায় শিউলি। সাদা আঁচলের মতো পড়ে থাকে ...
  • যৌন শিক্ষা মহাপাপ...
    কিছুদিন ধরে হুট করেই যেন ধর্ষণের খবর খুব বেশি পাওয়া যাচ্ছে। যেন হুট করে কোন বিষাক্ত পোকার কামড়ে পাগলা কুকুরের মত হয়ে গেছে কিছু মানুষ। নিজের খিদে মিটাতে শিশু বৃদ্ধ বাছ বিচার করারও সময় নাই, হামলে পড়ছে শুধু। যদি বিষাক্ত পোকার কামড়ে হত তাহলে এই সমস্যার সমাধান ...
  • ইতিহাসবিদ সব্যসাচী ভট্টাচার্য
    আধুনিক ভারতের ইতিহাস চর্চায় সব্যসাচী ভট্টাচার্য এক উল্লেখযোগ্য নাম। গবেষক লেখক শিক্ষক এবং শিক্ষা প্রশাসক হিসেবে তাঁর অবদান বিশেষ উল্লেখযোগ্য। সবসাচীবাবুর বিদ্যালয় শিক্ষা বালিগঞ্জ গভর্মেন্ট হাই স্কুলে। তারপর পড়তে আসেন প্রেসিডেন্সি কলেজের ইতিহাস বিভাগে। ...
  • পাগল
    বিয়ের আগে শুনেছিলাম আজহারের রাজপ্রাসাদের মতো বিশাল বড় বাড়ি! তার ফুপু বিয়ে ঠিকঠাক ‌হবার পর আমাকে গর্বের সাথে বলেছিলেন, "কয়েক একর জায়গা নিয়ে আমাদের বিশাল বড় জমিদার বাড়ি আছে। অমুক জমিদারের খাস বাড়ি ছিল সেইটা। আজহারের চাচা কিনে নিয়েছিলেন।"সেইসব ...
  • অশোক দাশগুপ্ত
    তোষক আশগুপ্ত নাম দিয়ে গুরুতেই বছর দশেক আগে একটা ব্যঙ্গাত্মক লেখা লিখেছিলাম। এটা তার দোষস্খালন বলে ধরা যেতে পারে, কিন্তু দোষ কিছু করিনি ধর্মাবতার।ব্যাপারটা এই ২০১৭ সালে বসে বোঝা খুব শক্ত, কিন্ত ১৯৯২ সালে সুমন এসে বাঙলা গানের যে ওলটপালট করেছিলেন, ঠিক সেইরকম ...
  • অধিকার এবং প্রতিহিংসা
    সল্ট লেকে পূর্ত ভবনের পাশের রাস্তাটায় এমনিতেই আলো খুব কম। রাস্তাটাও খুব ছোট। তার মধ্যেই ব্যানার হাতে একটা মিছিল ভরাট আওয়াজে এ মোড় থেকে ও মোড় যাচ্ছে - আমাদের ন্যায্য দাবী মানতে হবে, প্রতিহিংসার ট্রান্সফার মানছি না, মানব না। এই শহরের উপকন্ঠে অভিনীত হয়ে ...
  • লে. জে. হু. মু. এরশাদ
    বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটা অধ্যায় শেষ হল। এমন একটা চরিত্রও যে দেশের রাজনীতিতে এত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকতে পারে তা না দেখলে বিশ্বাস করা মুশকিল ছিল, এ এক বিরল ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে যুদ্ধ না করে কোন সামরিক অফিসার বাড়িতে ঘাপটি মেরে বসে ছিলেন ...
  • বেড়ানো দেশের গল্প
    তোমার নাম, আমার নামঃ ভিয়েতনাম, ভিয়েতনাম --------------------...
  • সুভাষ মুখোপাধ্যায় : সৌন্দর্যের নতুন নন্দন ও বামপন্থার দর্শন
    ১৯৪০ সালে প্রকাশিত হয়েছিল সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘পদাতিক’। এর এক বিখ্যাত কবিতার প্রথম পংক্তিটি ছিল – “কমরেড আজ নবযুগ আনবে না ?” তার আগেই গোটা পৃথিবীতে কবিতার এক বাঁকবদল হয়েছে, বদলে গেছে বাংলা কবিতাও।মূলত বিশ্বযুদ্ধের প্রভাবে সভ্যতার ...
  • মৃণাল সেনের চলচ্চিত্র ভুবন
    মৃণাল সেনের জন্ম ১৯২৩ সালের ১৪ মে, পূর্ববঙ্গে। কৈশোর কাটিয়ে চলে আসেন কোলকাতায়। স্কটিশ চার্চ কলেজ ও কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরে পড়াশুনো করেন। বামপন্থী রাজনীতির সাথে বরাবর জড়িয়ে থেকেছেন, অবশ্য কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

সতী

Prosenjit Bose

সতী : প্রথম পর্ব
প্রসেনজিৎ বসু

মেয়েটা মাসতিনেক হল এসেছে এই পাড়ায়।
মেয়ে ? এই হয়েছে শালা এক মুশকিল ! বিয়ের পর মেয়েরা বউ হয়, কিন্তু ডিভোর্সের পর তারা কি বউই থাকে ? নাকি ফের মেয়ে বনে যায় ? জল জমে বরফ হয়। বরফ গললে আবার জল। কিন্তু এক্ষেত্রে ? ডিভোর্সি মহিলারা ঠিক কী শালা ? কুমারী নয়, কারণ ফুলশয্যা হয়ে গেছে। সধবা নয়, কারণ বর্তমানে বর নেই। আবার বিধবাও নয়, কারণ বর মরেনি। তাহলে ? ধ্যার ওয়াড়া ! ছেলেদের নিয়ে এসব ঝামেলা নেই। ছেলে ছেলেই। জল-বরফ-বাষ্প কিস্যু নয়। ছেলে।

তো কথা হচ্ছিল এই ডিভোর্সি মেয়েছেলেটাকে নিয়ে। সারা পাড়া জুড়েই হয়। কালভার্টের মধ্যে একটা সবে-জন্মানো বাচ্চা পাওয়া গেল যেদিন, সেদিন সেটাকে নিয়েও এতটা কথা হয়নি, যতটা হয় এই মহিলাটাকে নিয়ে। একে মহিলা, তায় যুবতী, তায় সুন্দরী ও তায় ডিভোর্সি। লোকে এমন জিনিসকে নিয়ে জাবর কাটবে না তো কি বাবা রামদেবকে নিয়ে কাটবে !

কিন্তু কথাটা তা নয়। কথা হল, সারা পাড়া একে নিয়ে গুলতানিতে মশগুল হলেও এদের তিনজনের চুলকুনিটা একটু বেশি। বিরু, বিষ্টু, ভোলা। প্রথম জন 'বীণাপাণি প্রাথমিক বিদ্যালয়'-এর ঘণ্টিদার। পরের জন 'কমলা চাউল ভাণ্ডার'-এ মোট বয়। ভোলাটা তেমন কিছু এখনও পায়নি। 'কালীমাতা বিড়ি-বাংলা ঠেক'টায় পাকা হাজিরাদার মূলত সেই।

প্রথম খবরটা এনেছিল বিষ্টু। কে-এক মাল নাকি চাল কিনতে এসেছিল দোকানে, হাত-কাটা ব্লাউজ পরে। খোঁপা ঠিক করতে ডানহাতটা একটু তুলতেই দেখা গেছে পরিষ্কার কামানো বগল। মাইরি ! তখনই বিষ্টুর জিভ সুড়সুড় করে উঠেছে। তারপর তো বুক, কোমর, পাছা। যা চোখে চেখে দেখল আর যা মনেমনে দেখল -- দুয়ে মিলে পুরো এইচ ডি।

শোনা ইস্তক অন্য দুটোও তক্কে-তক্কে আছে। হাতকাটা ব্লাউজ আর নাভির নীচ অব্দি শাড়ির থেকে ভাল ট্রেলার আর হয় ?

কোথায় যেন চাকরি করে মহিলাটি। নাকি ব্যবসা ? এ পাড়ায় ঘরভাড়া নিয়েছে মাসতিনেক। তিন, না আড়াই ? তিনই হবে। কালভার্টে মরা বাচ্চা তো মিলল মেয়েটা আসার পরেই। তবে না, ওসব পাপ এই মালটার নয়। প্রথম যারা ঢুকতে দেখেছে মেয়েটিকে, পাড়ার চ্যাংড়ার দল, প্রত্যেকেই তার 'কটিলি কমরিয়া'র হুদা তারিফ করেছে। আসলে মেয়ে বাচ্চা নর্দমা-ফর্দমায় মরে পড়ে থাকলে কেউ পুঁছত না। নেহাত ব্যাটাছেলে বাচ্চা, তাই পাবলিক একটু বমকেছিল।

যা হোক, বিষ্টুর কথামতো বিরু আর ভোলাও একদিন দেখেই ফেলল ওই কামানো বগল আর খোঁদল নাভি। তিনজনেরই ওয়াড়া নালেঝোলে অবস্থা। তারপর থেকে বিড়ি-বাংলার ঠেকে এই মেয়েটিই মদের টাকনা। এর শরীরের মাপজোকের কথা উঠলে আধ গেলাসেও দেড় গেলাসের চটকা আসে।

।। ২ ।।

ফিরতে-ফিরতে রাত সাড়ে-ন'টা। সময়টা দেখে নিয়েছে ওরা। ন'টা সাতে হাসনাবাদ লোকাল ঢোকে। মেয়েটা নেমে টুকটাক কিছু সব্জি-টব্জি কেনে রেললাইনের ধারের মাসিগুলোর থেকে। তারপর স্টেশন থেকে বাসা অব্দি হেঁটে আসতে যেটুকু সময়। দিনকয়েক চুপচাপ ফলো মারার পর বেপরোয়া ভোলা একদিন ডেকেও ফেলল -- "কী ম্যাডাম ? থলিদুটো বয়ে দেব নাকি ? অত ভারী থলি, আমরা ধরলে আরাম পাবেন !"

লাভ হয়নি। যে মেয়েরা ছেলেদের দেওয়া আওয়াজ শুনে গায়ের কাপড় ঠিক করে না/ ফিরে তাকায় না/ খিস্তি করে না/ হাঁটার গতি বাড়ায় না/ রাস্তা পাল্টায় না -- তাদের আওয়াজ দিয়ে সুখ নেই। এ শালি যেন বদ্ধ কালা মাইরি ! যেমনকার পিছন-দুলুনি -- তেমনই রইল। বাড়লও না, কমলও না। দিব্যি হেঁটে বাড়ি চলে গেল।

আওয়াজ দেওয়া কিন্তু তারপরও বেড়েছে। কী জানি, সব তাওয়া কি একই সময়ে গরম হয় ? ধৈর্য চাই বাওয়া, ধৈর্য। ভাষা আরও চাঁছাছোলা আর জোরালো হয়েছে। "আবার দাম দিয়ে বেগুন কিনতে গেলেন কেন ম্যাডাম ? তিনটে তো ফ্রিতেই পাচ্ছিলেন !" ইত্যাদি।

নাঃ। তাতেও চিঁড়ে ভেজেনি। ডালও গলেনি। ঐ বেগুনই পুড়েছে খালি। ফলে হতাশা। কেসটা ঝুল হয়ে যাচ্ছে।

ঠিক এমন সময়েই, বাংলার ঘোরেই কিনা কে জানে, বিরু বলেই ফেলল কথাটা। "একবার চান্স নিয়ে দেখবি ?"

(আগামীকাল)

485 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: সতী

খাইছে! কী হইল পরে?

[কিস্তিগুলা এট্টু বড় কইরা লেইখেন কর্তা, খেদ থেইকা যায়। ]

উড়ুক। 👌


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন