কুশান গুপ্ত RSS feed

নাম পরিবর্তন করি, এফিডেফিট বিনা।আসল নামে হাজার হাজার ডক্টর হাজরা আছেন, কে প্রথম জানা নেই, কে দ্বিতীয়, কে অদ্বিতীয়, এ ব্যাপারে ধারণা অস্বচ্ছ। অধমের ব্লগ অত্যন্ত ইনকনসিস্টেন্ট,কিছু বা খাপছাড়া, খানিকটা বারোভাজা ধরণের। কিন্তু গম্ভীর নিবন্ধের পর ক্লান্তি আসে, তখন কবিতা, তারপর ঘুম, ক্লান্তি ও নস্টালজিয়া। কোনো গন্তব্য নেই, তবু হাঁটতে হয় যেমন। একসময় অবকাশ ছিল অখন্ড, নিষিদ্ধ তামাশা লয়ে রংদার সমকাল চোখ মারিত। আজকাল আর মনেও হয় না, এ জীবন লইয়া কি করিব? আপনাদের হয়?

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
    ভারত আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র - মিল কতটুকু?একটি দেশ যদি বিশ্বের সবচাইতে শক্তিশালী অর্থনীতি হয়, আরেকটির হাল বেশ নড়বড়ে - মানুষের হাতে কাজ নেই, আদ্ধেক মানুষের পেটে খাবার নেই, মাথার ওপরে ছাদ নেই, অসুস্থ হলে চিকিৎসার বন্দোবস্ত নেই। অবশ্য দুর্জনেরা বলেন, প্রথম ...
  • দক্ষিণের কড়চা
    গরু বাগদির মর্মরহস্য➡️মাঝে কেবল একটি একক বাঁশের সাঁকো। তার দোসর আরেকটি ধরার বাঁশ লম্বালম্বি। সাঁকোর নিচে অতিদূর জ্বরের মতো পাতলা একটি খাল নিজের গায়ে কচুরিপানার চাদর জড়িয়ে রুগ্ন বহুকাল। খালটি জলনিকাশির। ঘোর বর্ষায় ফুলে ফেঁপে ওঠে পচা লাশের মতো। যেহেতু এই ...
  • বাংলায় এনআরসি ?
    বাংলায় শেষমেস এনআরসি হবে, না হবে না, জানি না। তবে গ্রামের সাধারণ নিরক্ষর মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আজ ব্লক অফিসে গেছিলাম। দেখে তাজ্জব! এত এত মানু্ষের রেশন কার্ডে ভুল! কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানলাম প্রায় সবার ভোটারেও ভুল। সব আইকার্ড নির্ভুল আছে এমন ...
  • যান্ত্রিক বিপিন
    (১)বিপিন বাবু সোদপুর থেকে ডি এন ৪৬ ধরবেন। প্রতিদিন’ই ধরেন। গত তিন-চার বছর ধরে এটাই বিপিন’বাবুর অফিস যাওয়ার রুট। হিতাচি এসি কোম্পানীর সিনিয়র টেকনিশিয়ন, বয়েস আটান্ন। এত বেশী বয়েসে বাড়ি বাড়ি ঘুরে এসি সার্ভিসিং করা, ইন্সটল করা একটু চাপ।ভুল বললাম, অনেকটাই চাপ। ...
  • কাইট রানার ও তার বাপের গল্প
    গত তিন বছর ধরে ছেলের খুব ঘুড়ি ওড়ানোর শখ। গত দুবার আমাকে দিয়ে ঘুড়ি লাটাই কিনিয়েছে কিন্তু ওড়াতে পারেনা - কায়দা করার আগেই ঘুড়ি ছিঁড়ে যায়। গত বছর আমাকে নিয়ে ছাদে গেছিল কিন্তু এই ব্যপারে আমিও তথৈবচ - ছোটবেলায় মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল ঘুড়ি ওড়ানো "বদ ছেলে" দের ...
  • কুচু-মনা উপাখ্যান
    ১৯৮৩ সনের মাঝামাঝি অকস্মাৎ আমাদের বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ(ক) শ্রেণী দুই দলে বিভক্ত হইয়া গেল।এতদিন ক্লাসে নিরঙ্কুশ তথা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করিয়া ছিল কুচু। কুচুর ভাল নাম কচ কুমার অধিকারী। সে ক্লাসে স্বীয় মহিমায় প্রভূত জনপ্রিয়তা অর্জন করিয়াছিল। একটি গান অবিকল ...
  • 'আইনি পথে' অর্জিত অধিকার হরণ
    ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম ও কর্পোরেট পুঁজির স্বার্থে, দীর্ঘসংগ্রামে অর্জিত অধিকার সমূহকে মোদী সরকার হরণ করছে— আলোচনা করলেন রতন গায়েন। দেশে নয়া উদারবাদী অর্থনীতি লাগু হওয়ার পর থেকেই দক্ষিণপন্থার সুদিন সূচিত হয়েছে। তথাপি ১৯৯০-২০১৪-র মধ্যবর্তী সময়ে ...
  • সম্পাদকীয়-- অর্থনৈতিক সংকটের স্বরূপ
    মোদীর সিংহগর্জন আর অর্থনৈতিক সংকটের তীব্রতাকে চাপা দিয়ে রাখতে পারছে না। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে ভারতের অর্থনীতি সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। সংকট কতটা গভীর সেটা তার স্বীকারোক্তিতে ধরা পড়েনি। ধরা পড়েনি এই নির্মম ...
  • কাশ্মীরি পন্ডিত বিতাড়নঃ মিথ, ইতিহাস ও রাজনীতি
    কাশ্মীরে ডোগরা রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হবার পর তাদের আত্মীয় পরিজনেরা কাশ্মীর উপত্যকায় বসতি শুরু করে। কাশ্মীরি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মানুষেরাও ছিলেন। এরা শিক্ষিত উচ্চ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেনি। দেশভাগের পরেও এদের ছেলেমেয়েরা স্কুল কলেজে পড়াশোনা করেছে। অন্যদিকে ...
  • নিকানো উঠোনে ঝরে রোদ
    "তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে ?আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে ..."সেই অক্ষরগুলোকে ধরার আরেকটা অক্ষম চেষ্টা, আমার নতুন লেখায় ... এক বন্ধু অনেকদিন আগে বলেছিলো, 'আঙ্গুলের গভীর বন্দর থেকে যে নৌকোগুলো ছাড়ে সেগুলো ঠিক-ই গন্তব্যে পৌঁছে যায়' ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

'শীতকাল': বীতশোকের একটি কবিতার পাঠ প্রতিক্রিয়া

Koushik Ghosh

বীতশোকের প্রথম দিকের কবিতা বাংলা কবিতা-কে এক অন্য স্বর শুনিয়েছিলো, তাঁর কণ্ঠস্বরে ছিলো নাগরিক সপ্রতিভতা, কিন্তু এইসব কবিতার মধ্যে আলগোছে লুকোনো থাকতো লোকজীবনের টুকরো ইঙ্গিত। ১৯৭৩ বা ৭৪ সালের পুরনো ‘গল্পকবিতা’-র (কৃষ্ণগোপাল মল্লিক সম্পাদিত) কোনো সংখ্যায় আমার মামাবাড়ির পুরনো বইয়ের ঘরে খুঁজে পেয়েছিলাম এই কবিতা-টি, কবিতার নাম ‘শীতকাল’।

"চেয়ে দ্যাখো, সেরকম-ই রেখেছি স্বভাব;
সহজ কবচে কত যত্ন করি, বেতার যন্ত্রের কাছে  কান পেতে থাকি
কারা এত শব্দ করে, মনে প’ড়ে যায়
কত ডেকে কাকে যেন লিখিয়েছি তোমার চিঠিটি;
যাকে দিয়ে পাঠিয়েছি, সে ন্যুব্জ ও পথচারী,
ঘোড়া দেখে খোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে কারশেডতলে;
তা বলে কি শীতকালে বৃষ্টি হতে নেই,
শব্দ হতে বাকি আছে তোমার চালা-য়?
সানশেডে ঝ’রে যায় বৃষ্টি কত, তোমার প্রস্তুত
বাথরুম থেকে দূরে উড়ে যায় জলাধার, এমন গরম
জলের ভাপ ও বাষ্পে ক্রমাগত ভ’রে যাবে চোখ!
এই রোদ এই বৃষ্টি- প্রকৃতি মানুষ হতে চায়!
রক্ত ও রৌপ্যের মধ্যে  ট্রেন যায় কোলাঘাট ব্রিজের ওপরে;
উত্তরেই যায় চিঠি, শব্দহীন উত্তরেই যায়।
রোদ ভালো লাগে বলে স’রে বসি ছায়াতে ছায়াতে শীতকালে।"

বেতার যন্ত্রের কাছে কান পেতে আছেন, আর ‘সহজ কবচে’ যত্নে এ-কবিতা লিখছেন বছর চব্বিশের তরুণ বীতশোক। এই কবিতা লেখা হচ্ছে সেই সময়ে, যখন টেলিভিশন ঘরে ঘরে যায়-নি, ফলে রেডিও বা ‘বেতার-যন্ত্র’ ছিলো সংবাদ আর বিনোদনের এক অন্যতম উপায়। এই সময়ে মানুষ ‘আকাশবাণী কলকাতা’ য় ‘স্থানীয় সংবাদ’ শুনতেন। ‘বিবিধ ভারতী’ বিভাগে তখন রিনরিনে শ্রাবন্তী মজুমদার আর মেঘমন্দ্র কাজী সব্যসাচী মাতিয়ে রাখতেন গ্রাম থেকে শহর। এই ফেলে আসা সময়ে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিলো চিঠি। বীতশোকের ‘কত ডেকে কাকে যেন লিখিয়েছি তোমার চিঠিটি’-এই লাইন-টি মনে করায় আমাদের নিরক্ষর লোকজীবনের অঙ্গীভূত প্রথা, যেখানে গ্রামে ও শহরে লোক ডেকে চিঠি লেখানো হয়, এবং, পত্রলেখকের মতো  পত্রবাহকের গুরুত্ব-ও কম নয়। ফলে পত্রবাহকের সেই ভূমিকা ফুটে উঠছে এই লাইনে: ‘যাকে দিয়ে পাঠিয়েছি, সে ন্যুব্জ ও পথচারী’। পাঠক, পরের লাইন পড়ুন: ‘ঘোড়া দেখে খোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে কারশেডতলে’। ‘ঘোড়া দেখলেই খোঁড়া’- এই চলতি লোকপ্রবাদ লিখছেন দক্ষ কবি, কিন্তু, ঘোড়া এখানে ট্রেন, তাই সেই ন্যুব্জ পথচারী দাঁড়িয়েছে ‘কারশেডতলে’। কবির নাম বীতশোক, দক্ষতার নাম বীতশোক। 

কবি তার পরের লাইনে বলছেন শীতকালে-ও বৃষ্টি হতে পারে (‘তা বলে কি শীতকালে বৃষ্টি হতে নেই?’), কিন্তু  তার অব্যবহিত পরের লাইনে লিখে দিলেন : ‘শব্দ হতে বাকি আছে তোমার চালা-য়?’ নিবিষ্ট পাঠক লক্ষ্য করবেন ‘চালা’ এই আটপৌরে শব্দ-টির তুখোড় ব্যবহার। আসলে ‘কারশেড’ এর ‘শেড’ এখন গ্রামীণ চালা-র অবয়ব নিলো। পরের লাইনে আবার ‘সানশেডে ঝরে যায় বৃষ্টি কতো...’, ‘কারশেড’ থেকে হলো গ্রামীণ ‘চালা’, কিন্তু সে আবার নাগরিক ‘সানশেড’ হয়ে দেখা দিচ্ছে তার পরের লাইনে। এই সানশেড আসলে রেইন শেড-ও বটে, তাই ‘সানশেডে ঝরে যায় বৃষ্টি কতো,’। বীতশোকের এই কবিতায় একই সঙ্গে খেলা করছে প্রাকৃতিক রোদ, ছায়া(শেড), বৃষ্টি। ‘তোমার প্রস্তুত/ বাথরুম থেকে দূরে উড়ে যায় জলাধার, এমন গরম/ জলের ভাপ ও বাষ্পে ক্রমাগত ভ’রে যাবে চোখ!’- এই লাইনগুলি একদিকে ধরিয়ে দিচ্ছে উষ্ণতাপ্রিয় মানুষের শীতকালীন স্নানের প্রস্তুতি, আবার ভাপ, গরম আর বাষ্পীভবনে  জলাধারের উড়ে যাওয়া- বৃষ্টি তৈরির গোপন নিয়ম-টিকে চিহ্নিত করলো না কি? ‘এই রোদ এই বৃষ্টি- প্রকৃতি মানুষ হতে চায়’!-এই লাইন ইঙ্গিত দিচ্ছে এই শীতকালীন বিরল কবিতার বৃষ্টি আর রোদের বিরল ও রহস্যময় সহাবস্থান, প্রকৃতি যেন মানুষের মতোই বেখেয়ালী, তাই সেই-প্রকৃতি, ‘মানুষ হতে চায়’। পরের লাইনে সশব্দে কোলাঘাট ব্রীজ পার করছে বীতশোকের ট্রেন, স্মরণে রাখুন কিছু আগে এই ট্রেন দাঁড়িয়েছিলো ‘কারশেডতলে’।  

শব্দময় এ-কবিতা, বিভিন্ন অনুষঙ্গে শব্দ কিভাবে ফিরে ফিরে আসছে দৃশ্যপট ধরে, লক্ষ্য করুন:

(১) বেতার যন্ত্রের কাছে কান পেতে থাকি
(২) কারা এত শব্দ করে, মনে পড়ে যায়
(৩) শব্দ হতে বাকি আছে তোমার চালা-য়?
(৪) সানশেডে ঝরে যায় বৃষ্টি কতো
(৫) রক্ত ও রৌপ্যের মধ্যে ট্রেন যায়, কোলাঘাট ব্রিজের ওপরে

এ-কবিতার প্রথম লাইনে বীতশোক লিখছেন: ‘চেয়ে দ্যাখো, সেরকম-ই রেখেছি স্বভাব’, কাকে  লিখছেন বোঝানোর দায় কবির নেই, তবে ‘চেয়ে দ্যাখো’-এই উচ্চারণ ভীষণ অভিমানী ও ব্যক্তিগত বলেই মনে হয়। তিনি যত্নবান, তাই লিখলেন: ‘সহজ কবচে কত যত্ন করি’, যত্ন করে চিঠি লেখালেন কাকে যেন ডেকে, আর কাকে দিয়ে যেন পাঠালেন। সেই চিঠির প্রসঙ্গ আবার ফিরিয়ে আনছে কবিতার শেষ লাইনের অব্যবহিত আগের লাইন, যেখানে আমরা দেখবো বীতশোক-হেঁয়ালী: ‘উত্তরেই যায় চিঠি, শব্দহীন উত্তরেই যায়’। কোন উত্তরে যায় চিঠি? আগের লাইনে সূত্র রেখে দিয়েছেন কবি: ‘রক্ত ও রৌপ্যের মধ্যে  ট্রেন যায় কোলাঘাট ব্রিজের ওপরে’। কোলাঘাট ব্রিজ হয়ে ট্রেন ছুটছে সাউথ ইস্টার্ন রেলপথ ধরে, দক্ষিণ থেকে উত্তরে ছুটছে সেই ট্রেন, তাই উত্তরে ছুটছে চিঠি ও পত্রবাহক। ‘শব্দহীন উত্তরে যায়’- এর অর্থ যে কোনো চিঠি লেখাই হয়নি হয়তো।  প্রশ্ন করা হয় নি কোনো, তবু তার উত্তর দিচ্ছে এ কবিতায়- লেখা -চিঠি, এমনটাও হতে পারে। ‘চেয়ে দ্যাখো, সেরকম-ই রেখেছি স্বভাব’-এ যেন কোনো ব্যক্তিগত চিঠির অভিমানী প্রথম লাইন।
লক্ষ্যণীয় এই যে এই কবিতায় কিভাবে যান্ত্রিক সভ্যতা ফুটিয়ে তুলছেন বীতশোক। ‘বেতার যন্ত্র’ এই সময়ের মূল গণমাধ্যম ছিলো, ডাকবিভাগ ছিলো ব্যক্তিগত ও পেশাদারী যোগাযোগের মূল উপায়, ‘চিঠি’ এই কবিতায় ফিরে ফিরে আসছে, ব্রিজ আর ট্রেন পরিবহণে সমান গুরুত্বপূর্ণ আজো।এই কবিতায় এই সব মাধ্যম দিয়ে পাঠকের সঙ্গে কমিউনিকেট করছেন বীতশোক, আর মেলবন্ধন ঘটাচ্ছেন নগরজীবনের সঙ্গে লোকজীবনের।
বিশেষ থেকে সাধারণ সূত্র লেখায় পারদর্শী ছিলেন বীতশোক, কিভাবে- এই কবিতা তার-ও সাক্ষ্য দেয়। এই কবিতায় কারশেড, সানশেড-এই নাগরিক শব্দদ্বয়, আর চালা –এই লোকশব্দ বিশেষ অনুষঙ্গে ব্যবহৃত হচ্ছে, কিন্তু প্রতি ক্ষেত্রেই যেন লুকিয়ে রোদ ঢাকছে ছায়া। পাঠক, লক্ষ্য করুন কবিতার শেষ লাইন:

‘রোদ ভালো লাগে বলে স’রে বসি ছায়াতে ছায়াতে শীতকালে’।

সেহেতু, কবিতা-র শেষ পংক্তি প্রবাদ তৈরি করে ফেলে। একবার সমস্ত কবিতার থেকে সমস্ত লাইন ছেঁটে যদি প্রথম ও শেষ লাইন দুটি শুধু রেখে পড়া হয়, তাহলে দেখবো, বেশ মিলেমিশে রয়েছে একটি ব্যক্তিগত, আপাত-অভিমানী পংক্তি, এবং আরেকটি বিস্ময়কর রকমের নিরভিমানী ও নৈর্ব্যক্তিক পংক্তি :

   চেয়ে দ্যাখো, সেরকম-ই রেখেছি স্বভাব
রোদ ভালোবাসি বলে ছায়াতে সরে সরে বসি, শীতকালে। 

বস্তুত, শেষ পংক্তিটিতে এসে মূর্ত হচ্ছে যেন মানুষের শীতকালীন আকাঙ্ক্ষা।

বীতশোক পাঠের অভিজ্ঞতা, আমার কাছে বরাবর-ই নতুন বিস্ময় এনে দিয়েছে। পরতে পরতে তার রহস্য আর হেঁয়ালী; মোক্ষম লোকশব্দ, আর লোকবাক্যে তাঁর কবিতা প্রথম থেকেই নিজস্ব, ভেতরে তার নিহিত দর্শন থাকলেও, তা জ্ঞানভারে নুয়ে পড়েনি। তিনি নিজের মত করে ছেনে আনতেন জুতসই লোকপ্রবাদ, আর তার কবিতা-র ভেতরে থাকতো বিশেষ থেকে সাধারণে যাওয়ার এক অনায়াস কাব্যময়তা।

এই পাল্টানো সময়ে বীতশোক আজ আর নেই। তিনি বেঁচে থাকুন তাঁর কবিতায়। শীতে, গ্রীষ্মে, বর্ষায়।



519 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: সৌমী

Re: 'শীতকাল': বীতশোকের একটি কবিতার পাঠ প্রতিক্রিয়া

আমি কবিতা পড়তে ভালোবাসি......সমৃদ্ধ হলাম সত্যিই..... বাকি গুলো ও পড়ে ফেলার চেষ্টা করবো..... খুব ভালো লাগলো এমন সরল ভাষায় ... সুন্দর বিশ্লেষণ.….... ধন্যবাদ।
Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: 'শীতকাল': বীতশোকের একটি কবিতার পাঠ প্রতিক্রিয়া

অপূর্ব কবিতা!

কবিতার বিশ্লেষণও খুব ভাল লাগলো। ব্রেভো! 👌
Avatar: Koushik Ghosh

Re: 'শীতকাল': বীতশোকের একটি কবিতার পাঠ প্রতিক্রিয়া

ধন্যবাদ।
Avatar: কুশান গুপ্ত

Re: 'শীতকাল': বীতশোকের একটি কবিতার পাঠ প্রতিক্রিয়া

এই লেখাটি কি করে চোখ এড়িয়ে গেল !! কবিতার এতো নিবিড় পাঠ ইদানীং চোখে পড়েনি।
Avatar: কুশান গুপ্ত

Re: 'শীতকাল': বীতশোকের একটি কবিতার পাঠ প্রতিক্রিয়া

আরে ওপরের কমেন্টটি আমি, মানে প্রতিভা সরকার করলাম। কুশান গুপ্তের নামে হয়ে গেল কি !!!
Avatar: কুশান গুপ্ত

Re: 'শীতকাল': বীতশোকের একটি কবিতার পাঠ প্রতিক্রিয়া

কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ প্রতিভাদি। এটা আমি কুশানই লিখছি। এডমিন একটু অনুগ্রহপূর্বক দেখবেন অন্যের কমেন্টে কেন আমার নাম যাচ্ছে।
Avatar: কুশান গুপ্ত

Re: 'শীতকাল': বীতশোকের একটি কবিতার পাঠ প্রতিক্রিয়া

জাস্ট অসাধারণ। যেমন কবিতা তেমনি তার বিশ্লেষণ ।।
Avatar: কুশান গুপ্ত

Re: 'শীতকাল': বীতশোকের একটি কবিতার পাঠ প্রতিক্রিয়া

আরে!! উপরের মন্তব্যটিও আমার (কুশান গুপ্তর) করা নয়। কি করে বারবার এমন ঘটছে ? Admin, অনুগ্রহপূর্বক দেখবেন। ব্যাপারটা এমন দাঁড়াচ্ছে যে, আমি নিজেই কবিতার আলোচনা লিখে বারবার নিজেকে বাহবা দিচ্ছি।
Avatar: :-)

Re: 'শীতকাল': বীতশোকের একটি কবিতার পাঠ প্রতিক্রিয়া

আহা, অন্যের উপরে নির্ভর না করে স্বনির্ভর হওয়াই তো ভালো!
Avatar: র২হ

Re: 'শীতকাল': বীতশোকের একটি কবিতার পাঠ প্রতিক্রিয়া

লগিন করে লিখলে কোন কোন সময় এটা হয়।
ঠিক কখন হয় জানিনা, আমি নিজে কখনো লগিন করিনা :)
Avatar: Nahar Trina

Re: 'শীতকাল': বীতশোকের একটি কবিতার পাঠ প্রতিক্রিয়া

চমৎকার! বিশ্লেষণের সাবলীল ভঙ্গি, কবিতার ভেতর বাড়িতে অনায়াস আসা যাওয়া, পাঠক উপভোগ করবেন নিঃসন্দেহে।

**
কৌশিকদা, আপনার প্রোফাইল কিন্তু দেখাচ্ছে না উপরে(আমি অন্তত দেখতে পাচ্ছি না), দেখাচ্ছে কুশানদার প্রোফাইলটা..ওই কথাগুলো দিব্য পড়ে নেয়া যাচ্ছে ''নাম পরিবর্তন করি, এফিডেফিট বিনা।আসল নামে হাজার হাজার ডক্টর হাজরা আছেন........." ব্যাপারটা কেমন অদ্ভূতুড়ে বাবা! লগইন না গুরুতে ঢোকা সম্ভব কিভাবে?
Avatar: র২হ

Re: 'শীতকাল': বীতশোকের একটি কবিতার পাঠ প্রতিক্রিয়া

ফেসবুক থেকে না এসে সোজা guruchandali.com এ এলেই লগিন না করে ঢোকা যাবে; মানে অন্য যেকোন ওয়েবসাইটে আমরা যেমন ঢুকি সেরকমভাবে।
Avatar: কুশান

Re: 'শীতকাল': বীতশোকের একটি কবিতার পাঠ প্রতিক্রিয়া

ধন্যবাদ।

তৃণা, আমিই কৌশিক ঘোষ। এখন কুশান নামে লিখছি, যেহেতু আমার নামে একজন আছেন যিনি গুরুতে লেখেন।

র২হ, ব্যাপারটা মোটামুটি বুঝলাম। এটি একটি বাগ।
Avatar: দ

Re: 'শীতকাল': বীতশোকের একটি কবিতার পাঠ প্রতিক্রিয়া

লগিন না করলে বগটা কামড়াতেই পারে না সে তো একশোবর। তবে লগিন করেও আমাকে এখনও কোনোদিন কামড়ায় নি। আমি আসোলে মোবাইল থেকে খুললেও উপরে 'ওয়েব ভার্সান' এ চলে যাই চিমটি ফন্ট বড় করার সুবিধে পাবার জন্য। কাজেই মোবাইল থেকে ওয়েব ভার্সানে অ্যাকসেস করলেও বাগটা কামড়ায় না বলেই মনে হয়।
Avatar: দ

Re: 'শীতকাল': বীতশোকের একটি কবিতার পাঠ প্রতিক্রিয়া

*চিমটি দিয়ে ফন্ট বড় করার


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন