Farha Kazi RSS feed

Farha Kaziএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • আমাদের চমৎকার বড়দা প্রসঙ্গে
    ইয়ে, স-অ-অ-অ-ব দেখছে। বড়দা সব দেখছে। বড়দা স্রেফ দেখেনি ওইখানে এক দিন রাম জন্মালেন, তার পর কারা বিদেশ থেকে এসে যেন ভেঙেটেঙে মসজিদ স্থাপন করল, কেন না বড়দা তখন ঘুমোচ্ছিলেন। ঘুম ভাঙল যখন, চোখ কচলেটচলে দেখলেন মস্ত ব্যাপার এ, বড়দা বললেন, ভেঙে ফেলো মসজিদ, জমি ...
  • ধর্ষকের মৃত্যুদন্ড দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ?
    যেকোন নারকীয় ধর্ষণের ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়ে সামনে আসার পর নাগরিক হিসাবে আমাদের একটা ঈমানি দায়িত্ব থাকে। দায়িত্বটা হল অভিযুক্ত ধর্ষকের কঠোরতম শাস্তির দাবি করা। কঠোরতম শাস্তি বলতে কারোর কাছে মৃত্যুদন্ড। কেউ একটু এগিয়ে ধর্ষকের পুরুষাঙ্গ কেটে নেওয়ার ...
  • তোমার পূজার ছলে
    বাঙালি মধ্যবিত্তের মার্জিত ও পরিশীলিত হাবভাব দেখতে বেশ লাগে। অপসংস্কৃতি নিয়ে বাঙালি চিরকাল ওয়াকিবহাল ছিল। আজও আছে। বেশ লাগে। কিন্তু, বুকে হাত দিয়ে বলুন, আপনার প্রবল ক্ষোভ ও অপমানে আপনার কি খুব পরিশীলিত, গঙ্গাজলে ধোওয়া আদ্যন্ত সাত্ত্বিক শব্দ মনে পড়ে? না ...
  • The Irishman
    দা আইরিশম্যান। সিনেমা প্রেমীদের জন্য মার্টিন স্করসিসের নতুন বিস্ময়। ট্যাক্সি ড্রাইভার, গুডফেলাস, ক্যাসিনো, গ্যাংস অব নিউইয়র্ক, দা অ্যাভিয়েটর, দ্য ডিপার্টেড, শাটার আইল্যান্ড, দ্য উল্ফ অব ওয়াল স্ট্রিট, সাইলেন্টের পরের জায়গা দা আইরিশম্যান। বর্তমান সময়ের ...
  • তোকে আমরা কী দিইনি?
    পূর্ণেন্দু পত্রী মশাই মার্জনা করবেন -********তোকে আমরা কী দিইনি নরেন?আগুন জ্বালিয়ে হোলি খেলবি বলে আমরা তোকে দিয়েছি এক ট্রেন ভর্তি করসেবক। দেদার মুসলমান মারবি বলে তুলে দিয়েছি পুরো গুজরাট। তোর রাজধর্ম পালন করতে ইচ্ছে করে বলে পাঠিয়ে দিয়েছি স্বয়ং আদবানীজীকে, ...
  • ইশকুল ও আর্কাদি গাইদার
    "জাহাজ আসে, বলে, ধন্যি খোকা !বিমান আসে, বলে, ধন্যি খোকা !এঞ্জিনও যায়, ধন্যি তোরে খোকা !আসে তরুণ পাইওনিয়র,সেলাম তোরে খোকা !"আরজামাস বলে একটা শহর ছিল। ছোট্ট শহর, অনেক দূরের, অন্য মহাদেশে। অনেক ছোটবেলায় চিনে ফেলেছিলাম। ভৌগোলিক দূরত্ব টের পাইনি।টের পেতে দেননি ...
  • ছন্দহীন কবিতা
    একদিন দুঃসাহসের পাখায় ভর করে,ছুঁতে চেয়েছিলাম কবিতার শরীর ।দ্বিখন্ডিত বাংলার মত কবিতা হয়ে উঠলোছন্দহীন ।অর্থহীন যাত্রার “কা কা” চিৎকারে,ছুটে এলোপ্রতিবাদী পাঠক।ছন্দভঙ্গের নায়কডানা ভেঙ্গে পড়িপুঁথি পুস্তকের এক দোকানে।আলোক প্রাপ্তির প্রত্যাশায়,যোগ ধ্যানে কেটে ...
  • হ্যালোউইনের ভূত
    হ্যালোউইন চলে গেল। আমাদের বাড়িতে হ্যালোউইনের রীতি হল মেয়েরা বন্ধুদের সঙ্গে ট্রিক-অর-ট্রিট করতে বেরোয় দল বেঁধে। পেছনে পেছনে চলে মায়েদের দল। আর আমি বাড়িতে থাকি ক্যান্ডি বিতরণ করব বলে। মুহূর্মুহূ কলিং বেল বাজে, আমি হাসি-হাসি মুখে ক্যান্ডির গামলা নিয়ে দরজা ...
  • হয়নি
    তুমি ভালবাসতে চেয়েছিলে।আমিও ।হয়নি।তুমিঅনেক দূর অব্দি চলে এসেছিলে।আমিও ।হয়নি আর পথ চলা।তুমি ফিরে গেলে,জানালে,ভালবাসতে চেয়েছিলেহয়নি। আমি জানলামচেয়ে পাইনি।হয়নি।জলভেজা চোখে ভেসে গেলআমাদের অতীত।স্মিত হেসে সামনে এসে দাঁড়ালোপথদুজনার দু টি পথ।সেপ্টেম্বর ২২, ...
  • তিরাশির শীত
    ১৯৮৩ র শীতে লয়েডের ওয়েস্টইন্ডিজ ভারতে সফর করতে এলো। সেই সময়কার আমাদের মফস্বলের সেই শীতঋতু, তাজা খেজুর রস ও রকমারি টোপা কুলে আয়োজিত, রঙিন কমলালেবু-সুরভিত, কিছু অন্যরকম ছিলো। এত শীত, এত শীত সেই অধুনাবিস্মৃত কালে, কুয়াশাআচ্ছন্ন পুকুরের লেগে থাকা হিমে মাছ ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

আমার ভাষা,প্রাণের ভাষা

Farha Kazi

ঘটনা এক:

তখন কলেজে সদ্য ঢুকেছি। কলেজের জেরক্স সেন্টারে নোটস জেরক্স করতে গেছি। বকবক করা স্বভাব আমার। অতএব খুব কম সময়েই আলাপ করে ফেললাম সেন্টার দাদার সঙ্গে।
বেশ খানিকক্ষণ গল্পের পরে দাদা নাম জিজ্ঞাসা করলো। নাম শুনে প্রতিক্রিয়া ছিলো “তোমার কথা শুনে বোঝা যায় না যে তুমি বাঙালী নও।”
আমি খুব বিরক্ত হয়ে বলেছিলাম “আমি বাঙালী নই তো কি তবে?
ধর্ম আর ভাষা গুলিয়ে ফেলবেন না। বাংলা ভাষার জন্য কত মুসলিম ছেলে প্রাণ দিয়েছে জানেন? বাংলায় যারা কথা বলে, বাংলা যাদের মায়ের ভাষা তারা সবাই বাঙালী। বাংলা ভাষা কারোর বাপের সম্পত্তি নয়। সাতপুরুষেরও বেশী সময় ধরে বাংলায় আছি। বাংলায় কথা বলি, বাংলা মাধ্যম স্কুলে পড়েছি। আপনার থেকে ভালো বাংলা জানি আমি। আমি যদি বাঙালী না হই, তাহলে আপনিও বাঙালী নন।”

ঘটনা দুই:

অফিস থেকে বাড়ি ফিরছি। তখন আমি আর ভাই বাঁশদ্রোণীতে ভাড়া থাকতাম। মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা। ভাইয়ের মেডিক্যাল কোচিং চলছে। অফিসের গাড়িটা বড়ো রাস্তার মুখে দাঁড় করিয়ে বাকি পথটুকু আমি হেঁটে চলে যেতাম, গাড়ি সরু রাস্তায় ঢোকালে ড্রাইভারের গাড়ি বের করতে অসুবিধা হতে পারে ভেবে।
আমাদের গাড়িতে একজন সিকিউরিটি গার্ড থাকতো। নামার আগে অফিসের কাগজে নাম, তারিখ আর সময় লিখে সই করতে হতো। তখনি গার্ডের বলে উঠলো “দিদি সাবধানে যাবেন, জায়গাটা ভালো নয়.. বুঝতেই পারছেন কারা সব থাকে। এসব জায়গা মোটেই ভালো নয়।”
আমি সইটা করতে করতে বললাম “কারা থাকে?”
গার্ড বললেন “আরে ঐ মুসলমানরা। ওরা খুব ডেঞ্জারেস হয় ম্যাডাম।”
আমি হেসে বললাম “আমিও মুসলিম। আমাকে আপনার কি ভয়ানক লাগছে খুব?”
গার্ড অবাক হয়ে বলে উঠলো “ম্যাডাম, আপনি তো খুব ভালো। আপনারে দেখে মনেই হয়না আপনি বাঙালী নন। তবে আপনার আর ভয় নেই। ওরা মুসলমান মেয়েদের কিছু বলেনা।”
আমি হেসে বললাম “দাদা, আমি বাঙালীই। একজন বাঙালীকে আপনার বাঙালী মনে হবে এটাই স্বাভাবিক নয় কি? আমার ধর্ম এবং আপনার ধর্ম আলাদা হলেও আমরা দুজনেই বাঙালী। বাংলা আমাদের মায়ের ভাষা।
আর খারাপ লোক সব জায়গায় আছে। কেউ যদি আমার ক্ষতি করতে আসে সে আমাকে জিজ্ঞাসাও করবে না যে আমার ধর্ম কি! আর আমার গায়ে স্ট্যাম্পও মারা নেই যে আমি মুসলিম।
অতএব, খারাপ লোকের কিছু করার হলে এমনিই করবে।
তাছাড়া খারাপ লোক সব ধর্মেই আছে। হিন্দু রেপিষ্ট বা চোর ডাকাত কি হয়না? আপনিই ভাবুন তো!”
গার্ড খুব অপ্রস্তুত হয়ে বলেছিলেন “ক্ষমা করবেন দিদি, আমি কখনো এইভাবে ভাবিনি। আপনি একদম ঠিক বলেছেন। আসলে দিদি কেউ কোনোদিন আমাদের এইভাবে বুঝিয়ে বলেনি।আমরা অশিক্ষিত মানুষ, এতো বুঝিনা। সবাই বলে তাই আমিও এটাই ভাবতাম। আপনিও বাঙালী, অবশ্যই বাঙালী।”

এইরকম ঘটনা প্রতিটা মুসলিম বাঙালীর সাথে কমবেশী ঘটেছে। তুর্কি শব্দ “বাবা” কে বাংলা শব্দ বলতে হিন্দু বাঙালীর আপত্তি নেই। চেয়ার, টেবিল, আদালত, মঞ্জিল, উকিল ইত্যাদি বিদেশী শব্দকে হিন্দু বাঙালী আপন করে নিতে পারে। কিন্তু আব্বা,ফুফু, আম্মা, গোসল, পানির সাথে তাদের বিরোধ। তখনি বাঙালীর বাংলাসত্ত্বার আবির্ভাব হয়। নিজের ছেলেমেয়েকে বাংলা না শিখিয়ে ইংরাজী মাধ্যমে পড়িয়ে অন্যদের দিকে আঙুল তোলে ওরা বাঙালী নয়।
বাংলা ভাষা আজ যেটুকু আছে বা যেটুকু থাকবে তা ঐ মোল্লা বরকত, শফিক, জব্বারের কারণে। এমনকি সারা বিশ্ব ব্যাপী ভাষাদিবস পালনের নেপথ্যেও আছেন এরকমই দুই মোল্লা। কানাডার ভ্যানকুভার শহরে বসবাসরত দুই বাঙালী রফিকুল ইসলাম এবং আবদুস সালাম রাষ্ট্রপুঞ্জের তৎকালীন মহাসচিব কোফি আন্নানের কাছে এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক ভাষাদিবস হিসাবে ঘোষণার আবেদন জানিয়েছিলেন।
আজকে আমরা যে মোবাইলে বাংলা লিখছি যে অভ্র কিবোর্ডের সাহায্যে সেই সফ্টওয়্যারটির নেপথ্যে ডা. মেহদী হাসান খান, রিফাত নবী, তানবিন ইসলাম সিয়াম নামক তিন মোল্লা আছে।
আসলে মাতৃভাষার ধর্ম হয়না। মাতৃভাষা মায়ের ভাষা, অন্তর থেকে আসে। মাতৃভাষা মায়ের মতো। তাই সূদুর জার্মানীতে বসে একগাদা জার্মানের সামনে ব্যাথা লাগলেও অন্য কিছুর বদলে “ও মাগো” ই বেরোয় মুখ দিয়ে।
ও মা , মা গো, আমার ভাষা... প্রাণের ভাষা।
বাঙালী বলে স্বীকার না করলেও মনেপ্রাণে বাঙালী আছি, বাঙালী থাকবো। আমার মায়ের ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখবো নিজের মধ্যে, পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে।

বিঃদ্রঃ: (তাদের জন্য যারা এখুনি লাফিয়ে পরবেন বাংলাভাষা রক্ষায় হিন্দুদের ভূমিকা কেন লিখিনি)
বরাক উপত্যকায় ভাষা আন্দোলনের শহীদদের ততটাই সম্মান করি যতটা ২১ শে ফেব্রুয়ারির শহীদদের করি।
আমাদের দুর্ভাগ্য যে এপার বাংলার স্মৃতি বিস্মৃত বাঙালী বরাক উপত্যকার আন্দোলন মনে রাখতে পারেনি যেখানে ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে মনে রাখতে বাধ্য করেছে ওপার বাংলার মানুষেরা।
বাংলা ভাষা যদি বেঁচে থাকে তবে ওদের জন্যেই থাকবে। এপার বাংলা তো আস্তে আস্তে হিন্দী হিন্দু হিন্দুস্তানের অংশ হয়ে যাচ্ছে।

621 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: Debarati Chatterjee

Re: আমার ভাষা,প্রাণের ভাষা

ব্যাথা লেগে কাজ নেই আর।ব্যাথায় নয়, যেন বিস্ময়ে মা গো বল।
Avatar: dd

Re: আমার ভাষা,প্রাণের ভাষা

ব্যাপারটা খুবি ইমোশনাল। ফারহার দুঃখ আমিও feel করছি।

তবে অসুখটা গভীরে। শ্রীকান্তে "বাঙালি বনাম মুসলমানদের ফুটবল ম্যাচ" এখন যেরকম চোখে লাগে ,সে সময়ে সেটা বোধহয় অভ্যস্ত ছিলো। মহেশের লেখক এরকম লিখবেন, এখন তো ভাবাই যায় না।

দুই প্রজন্ম মানে বছর পঞ্চাশ আগে প্রথমে মালদা ও পরে বর্ধমানে স্কুলে পড়েছি। কলকাতায় কলেজে পড়েছি মৌলানা আজাদে। প্রচুর মুসলমান সহপাঠী ছিলো। তখন দেখতাম প্রত্যন্ত গাঁয়ের কিছু মুসলমান ছেলে ভালো করে বাংলা বলতেই পারতো না। তারা নিজেদের উর্দুভাষী বলতো অথচ নিছক গাঁয়ের ছেলে - বহু জন্ম ধরে। অনেকটা কলকাতার অ্যাংলো ইন্ডিয়ান গোষ্ঠীর কিছু মানুষ যেমন ছিলো। তিন চার পুরুষ ধরে কলকাতায় কাটিয়ে বাংলা কিছুই জানতেন না।

এক্ষেপশনই বেশী ছিলো। কিন্তু এরকম একটা গোষ্ঠী ছিলো। আগে আরো বড় ছিলো। হয়তো বাংলাদেশে হবার পরে বাঙালী হিসেবে গর্বিত আইডেন্টিটি সেটা অনেকটাই বদলে দিয়েছে।
Avatar: dd

Re: আমার ভাষা,প্রাণের ভাষা

এইটা বহুবার লিখেছি। আবার লিখছি।

পশ্চিমবংগে বিশেষতঃকলকাতায় হিন্দু মুসলমানে একটা অদ্ভুত বিভাজন আছে, সেটা সাম্প্রদায়িক নয় পুরোটাই। অনেকটাই অর্থনীতির। ভালো স্কুলে বা কলেজে মুসলিম ছাত্র ছাত্রী খুঁজে পাওয়া দুষ্কর ছিলো। আপিসেও অফিসার গ্রেডে বা তার উপরে মুসলিম ছিলো হাতে গোনা। প্র্যাক্টিক্যালি নেই।

ব্যাংগালুরুতে সেরকম নয়। পার্কসার্কাস, মেটিয়াবুরুজের মতন ধর্ম ভিত্তিক ঘেটো খুব কমই আছে। বহুতল বাড়ীর বাসিন্দা সব ধর্মের ও প্রদেশের। স্কুল কলেজে আপিসে মুসলিম ও খ্রীষ্টান প্রচুর।

নাঃ, প্রেজুডিস তাই বলে দূর হয় নি। সে এখনো আছে। থাকবেও। ধর্ম ভিত্তিক আছে, কাস্ট নিয়ে আছে, প্রদেশ নিয়ে আছে। কিন্তু মেলামেশা অবাধ। ভরসা রাখি পরের প্রজন্মগুলো আরো উদার হবে।
Avatar: sm

Re: আমার ভাষা,প্রাণের ভাষা

এগুলো তো প্রকাশ ভঙ্গীর রকমফের। আমরা বিশেষত হিন্দু বাঙালিরা---বিহারী, উত্তর প্রদেশ বাসী, দিল্লিবাসী--সব্বাই কে একধার্সে বলি, ওরা হিন্দুস্থানী।
এর মানে কি?
বাঙ্গালীরা নিজেদের হিন্দুস্থান বা ভারতের লোক ভাবে না?
ব্যাপার টা এরকম মোটেও নয়। একচুয়ালি এইসব প্রদেশের লোকজনের ভাষা হিন্দি। তাই এদের হিন্দুস্থানী তে রুপান্তর ঘটেছে।
অর্থাৎ যে টার্ম ইউজ করা হচ্ছে প্রকাশ টি অন্যরকম হয় যাচ্ছে।
বাঙালি আর মুসলমানদের মধ্যে ফুটবল ম্যাচ তাও ওইরকম প্রকাশের রকমফের।শরৎ চন্দ্র হিন্দুস্থানী বা খোটটা শব্দও ইউজ করেছেন।সম্ভবত মুসলমান দের অনেকে উর্দু স্পিকিং বলে এমন টার্মের উদ্ভব হয়েছে।
ভাষায় আত্মীকরণ থাকবেই। তাতে যদি কোন ভাষা বিলীন হ ক্ষতি নেই।যে ভাষা টিকে থাকার, সে তার মতো বেঁচে থাকবেই।
বাংলাও ,পব বা বাংলা দেশের আদি ভাষা নয়। ঠিক যেমন আমেরিকার আদি ভাষা ইংলিশ নয়, বা ব্রেজিলের পর্তুগিজ নয়।
প্রশ্ন হল, কে কতো বাঙালি তা নিয়ে নয়। হিন্দু বা মুসলিম বাঙালি জনতা পরস্পর কে কতটা সম্মান করে, সেটাই বিচার্য।
যদি বাংলাদেশী মুসলিম লোকজন বাংলা ভাষার অস্তিত্ব রক্ষায় বেশি সার্থক হন তো তাদের আন্তরিক অভিনন্দন।

Avatar: aranya

Re: আমার ভাষা,প্রাণের ভাষা

ফারহা এখনকার কথা লিখছেন। আজকের দিনেও মুসলিম বাঙালী বাঙালী নয়, এমন ভাবলে তো মুশকিল
Avatar: cm

Re: আমার ভাষা,প্রাণের ভাষা

গোটাটাই কে কার সঙ্গে নিজেকে আইডেন্টিফাই করবেন তারওপর নির্ভর করছে। মুসলমান আইডেন্টিটিতে বেশি জোর দিলে হয়ত অন্য ভাষার দিকে ঝোঁকার প্রবণতা আসতে পারে। বাংলাদেশে অবশ্য এখন যারা মানুষ নয় মুসলমান আইডেন্টিকে প্রাধান্য দেন তারাও নিশ্চিন্তে বাংলা বলতে পারেন, হিন্দু সব মেরে/ তাড়িয়ে খালাশ করে দেওয়া হয়েছে।
Avatar: S

Re: আমার ভাষা,প্রাণের ভাষা

"ওরা বাঙালী নয়, মুসলমান" এটা পস্চিম বঙ্গে খুব কম ব্যাপার। একটু বুঝিয়ে বললে অবশ্যি অনেকেই বোঝে।

ডিডিদার কথা প্রসঙ্গে, টলিউডেও মুসলমান নেই বললেই চলে (নুসরাত জাহানকে ছেড়ে)।

মাইসোরের ভেঙে যাওয়া টিপু সুলতানের প্রাসাদ (কিছুই নেই) দেখিয়ে গার্ড বলছে "এখানে ইংরেজদের সাথে মুসলমানদের যুদ্ধ হয়েছিলো"। এই কথার মাধ্যমে যে হিন্দুদেরই অপমান করা হলো, কে বোঝাবে?
Avatar: sm

Re: আমার ভাষা,প্রাণের ভাষা

প্রথমে বাঙ্গালী কাকে বলে ক্লিয়ার হোক।
Avatar: স্বাতী রায়

Re: আমার ভাষা,প্রাণের ভাষা

ধর্ম -টরম জানি না। শুধু এটুকু জানি ভাষার মায়া কোথাও থেকে যায়। এই ভারত- বাংলাদেশ কচকচির থেকে অনেক দূরে শুধু এক ভাষায় কথা বলা কোথাও একটা আত্মীয়তার বন্ধন তৈরি করে, যেটা সময় বিশেষে খুব কম্ফরটিং।
Avatar: paps

Re: আমার ভাষা,প্রাণের ভাষা

sm, “তোমার কথা শুনে বোঝা যায় না যে তুমি বাঙালী নও”- এই কমেণ্টের মাধ্য়মে ধর্মে মুসলিম লোকজনকে বাঙালি নামক সেটটি থেকে এক্সক্লুড করে দেওয়া হয়। এই কমেণ্টের মাধ্য়মে ধর্মে মুসলিম লোকজনকে বাঙালি নামক সেটটি থেকে এক্সক্লুড করে দেওয়া হয়। এটা বুঝতে বাঙালির ডেফিনিশন জানার দরকার নেই।
Avatar: pi

Re: আমার ভাষা,প্রাণের ভাষা

এই ঘটনাগুলো ঘটেনা বলে যারা অস্বীকার করেন বা ঘটলেও ইগনোর করতে বলেন, তাঁরা ঐ দ্বার বন্ধ করে ভ্রম রুখছেন বা বালিতে মুখ গুঁজছেন।
Avatar: লোটাস

Re: আমার ভাষা,প্রাণের ভাষা

আমি অনেকবার এর উল্টো শুনেছি I পশ্ছিম বঙ্গের অনেক বাঙালি মুসলিম নিজেদের খালি মুসলমান বলে উল্লেখ করে I আসল কথা ব্রিটিশরা যে ভেদভাব নিজেদের প্রয়োজনে সৃষ্টি করেছিল তা মজ্জায় মজ্জায় মিশে গেছে
Avatar: paps

Re: আমার ভাষা,প্রাণের ভাষা

পাই একদম ঠিক বলেছেন। লোকজন বুঝতেই পারে না বা চায় না যে 'বাঙালি'একটা এথনিক আইডেণ্টিটি মাত্র। এর সঙ্গে ধর্মের কোনো যোগসূত্র নেই।

Avatar: S

Re: আমার ভাষা,প্রাণের ভাষা

জোকায় প্রফেসার বলেছিলেন যে মানুষের আইডিন্টিটিগুলোর মধ্যে ভাষা হলো কোর, ধর্ম হলো শেল। কোরটা বদলানো যায়্না। শেলটা ফেলে অন্য শেল নেওয়া যায়।
Avatar: S

Re: আমার ভাষা,প্রাণের ভাষা

দেখেছেন কি গন্ডগোল হয়ে গেছে। ঃ)

"ওরা বাঙালী নয়, মুসলমান" এটা পস্চিম বঙ্গে খুব কম ব্যাপার।

এটা আসলে হবে

"ওরা বাঙালী নয়, মুসলমান" এটা পস্চিম বঙ্গে খুব কমন ব্যাপার।
Avatar: paps

Re: আমার ভাষা,প্রাণের ভাষা

বড়েস এর প্রফেসারের কথাটা দারুণ, নোট করে রাখলাম ভবিষ্য়তে ব্য়াবহার করার জন্য়।
Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: আমার ভাষা,প্রাণের ভাষা

"চেয়ার, টেবিল, আদালত, মঞ্জিল, উকিল ইত্যাদি বিদেশী শব্দকে হিন্দু বাঙালী আপন করে নিতে পারে। কিন্তু আব্বা,ফুফু, আম্মা, গোসল, পানির সাথে তাদের বিরোধ। তখনি বাঙালীর বাংলাসত্ত্বার আবির্ভাব হয়।"

এইটি দেশ বিভাগের পর বাংগালি মুসলমানের ওপর জোর কেরে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে নির্দিষ্ট কিছু বচন ও আচরণে হিন্দুয়ানি মুছে ফেলার প্রচেষ্টায়! পরে তা বাংগালি মুসলমানের অভ্যাসে (পড়ুন, গজকচ্ছপ সংস্কৃতিতে) দাঁড়িয়েছ।

যেমন, ধুতি পাঞ্জাবির সংগে কোটের বদলে পাঞ্জাবি পায়জামা শেরওয়ানি, ঢাকাই আদি মিষ্টির দোকান মরণ চাঁদের পালটা মুসলিম সুইটস, সাধনা ঔষধালয়ের বিপরীতে হামদর্দ, মঘা ইউনানি দাওয়াখানা, আর নিত্য ব্যবহার্য ধুতির বদলে লুংগী, শাড়ির বদলে সালোয়ার কুর্তা ওরনা, উর্দু রীতি মেনে ১০০% ভাগ গরু খেকো মুসলমান হওয়ার প্রচেষ্টায় আম্মা, আম্মাজান, আম্মু, আব্বা, আব্বু, খালা, ফুফু, দুলাভাই, পানি ইত্যাদি ইতং। সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহর "আব্দুল্লাহ" বইটিতে বাংগালি মুসলমানের আচার ও কুসংস্কার খুব স্পষ্ট ধরা পড়েছে।

মাঝখানে বাংগালি মুসলামানের নিজস্বতাই খোয়া যেতে বসেছিল পাকিস্তানি ধর্ম ভিত্তিক উগ্র সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে। ভাগ্যিস একটি '৫২, ৬২, ৬৯, ৭১ ঘটে গেল এই বাংলায়, পেয়ারে পাকিস্তান ভেংগে খান খান হলো।

কিছু গজকচ্ছপ স্বত্তেও আমরা ফিরে পেলাম বাংলা ভাষাভাষী একমাত্র দেশ, একুশের অলংকার, ৭১ এর গৌরব, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, পহেলা বৈশাখ, নবান্ন উৎসব, ইলিশ মাছ, রসগোল্লা, শীতলপাটি, সুন্দরবন, এমন কি বইমেলা থেকে গুরুচণ্ডালীর বিতর্কের বারান্দা।

ফারাহ কাজীকে ধন্যবাদ, এই রকম সন্দীপনী করে আরো লিখুন! 👌
Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: আমার ভাষা,প্রাণের ভাষা

*টাইপো= একুশের অহংকার 👍
Avatar: pi

Re: আমার ভাষা,প্রাণের ভাষা

কিকিদি, এটা পড়েছ?
Avatar: kiki

Re: আমার ভাষা,প্রাণের ভাষা

পড়লাম। ঃ)


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন