Writobroto Ghosh RSS feed

আহাম্মকের জ্ঞান বা "য়াদেবেহা তদামুত্রা, য়াদামুত্রা তদানবিহা" প্রজ্ঞা পরিমিত, আমার ছেলে জিজ্ঞাসা করেছিল, মাই বাপ, তুমি কেমন করে বুঝতে পার কতখানি মাত্রায় তামাক সাজালে একটি রিফার একবারে ভরে ফেলবে? এ প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে আছে, সমারূঢ় হয়ে আমি বললাম - অভিজ্ঞতা রে খোকা, তার কাঁধে হাত রেখেছি, বিড়বিড় করে কথাগুলো প্রাণবন্ত, আনুমানিক কত বছর আগে এই উপলব্ধি হয়েছিল তা আমার জানা নেই, তারপর থেকে বিধিবদ্ধ উৎকর্ষতা লাভ করতে থেকেছি আমি ক্রমাগত; এমন ভাবেই কৌন্তমশক্তির ঘনত্ব কেন্দ্রীভূত করতে করতে করতে শূণ্য থেকে মাত্রাপূর্ণ হয়ে সৃষ্টি হয়েছিল অরগ্যানিজম্,জীবাণু। বিদ্যুৎপাদক কোষ যেমন ধারণ করে থাকে সংবিগ্ন শক্তি আর অপেক্ষা করে মুহূর্তের শিহরণ, ভোল্টাইক কোষের দুই মেরুপ্রান্তে প্রতিস্থাপিত হয় প্রবাহ প্রান্তিক তেমনি বৈজ্ঞানিক রহস্যের মূলাধার একটি জৈবিক কোষ, নদীর ধারে বাসা, নদীর ধারে দিনায়মান লেপটে থাকা, খাসা ! প্রাণ এসে নিরন্তর তথ্যসমৃদ্ধ হয় আকাশের কথা মনে পড়ে নির্লিপ্ত আকাশের গায় ছড়িয়ে যাচ্ছে বিপন্ন আর্তি ছিলিমের ধোঁয়াও আকাশে বিলীন হয়, ঘরে কোনো গন্ধ থাকে না। সমাজে তার বিচার হয় না বলবৎ। নিরাকার বলেই স্বাধীন অভিপ্রায় তার। দগ্ধ হয়েছি আরো, দিগন্তে মিলিয়ে গেছে খগপৎ স্পৃহা, আক্ষেপ করেছি পরে অনুষ্টুপ বয়ে চলেছি আবর্তনের ছটায় আমার নিসর্গ বাছাই করা দল, যারা পারে নি সময়মত কারণত পিছে হটে গেছে, স্টেশনে এসে দেখেছি রেলগাড়ি ছুটে গেছে কখন, বিবর্তনের চাকা উল্টোপাকে মুচড়ে উঠেছে, ওখানে চ্যুতিকোণ ভেদে বর্ণের অপেরনে মাধ্যমের প্রেরণায় মাছ এসে ওড়ে ক্ষণিকের অভিপ্রায়ে, বিনয় যাদের বলেন বিশুদ্ধ দেশের গান। ঘিপঘাপ স্বতঃস্ফূর্ত সৌষম্য ভাঙতে লেগেছে তখন, গণিতের চমৎকার সামঞ্জস্য চুরমার হয়ে বিধিবহির্ভূত অঙ্কারে সেজেছে প্রান্তর, স্বনির্ভর চোঙদার টুপির স্তম্ভটির গা বেয়ে গড়িয়ে পড়া গোলকের মতো কোথায় কোনখানে এসে স্থির হয়ে যায় জানা যায় নাকো, অনিশ্চিত পরিণাম বুঝে ইচ্ছতি গচ্ছতি গাছে চড়ে থেকে গাছের দেহ বেয়ে উঠছি, মগডাল ভেবে কিছুটা নিচে থেমে যাই দেখি শাখা প্রশাখা আরো বহুদূর অবধি এখানে এসে যা কি না নিচে থেকে দিগন্ত অসীম মনে হয়েছিল তাকে কাছে রেখে অসীমতত পাগারি মাঠ আরো দূর লাগে, অনন্ত ক্রন্দসী স্বয়ং-মুগ্ধ হয়ে লীলাময় অভিনয়ে স্বমেহন করে।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • অরফ্যানগঞ্জ
    পায়ের নিচে মাটি তোলপাড় হচ্ছিল প্রফুল্লর— ভূমিকম্পর মত। পৃথিবীর অভ্যন্তরে যেন কেউ আছাড়ি পিছাড়ি খাচ্ছে— সেই প্রচণ্ড কাঁপুনিতে ফাটল ধরছে পথঘাট, দোকানবাজার, বহুতলে। পাতাল থেকে গোঙানির আওয়াজ আসছিল। ঝোড়ো বাতাস বইছিল রেলব্রিজের দিক থেকে। প্রফুল্ল দোকান থেকে ...
  • থিম পুজো
    অনেকদিন পরে পুরনো পাড়ায় গেছিলাম। মাঝে মাঝে যাই। পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়, আড্ডা হয়। বন্ধুদের মা-বাবা-পরিবারের সঙ্গে কথা হয়। ভাল লাগে। বেশ রিজুভিনেটিং। এবার অনেকদিন পরে গেলাম। এবার গিয়ে শুনলাম তপেস নাকি ব্যবসা করে ফুলে ফেঁপে উঠেছে। একটু পরে তপেসও এল ...
  • কাঁসাইয়ের সুতি খেলা
    সেকালে কাঁসাই নদীতে 'সুতি' নামের একটা খেলা প্রচলিত ছিল। মাছ ধরার অভিনব এক পদ্ধতি, বহু কাল ধরে যা চলে আসছে। আমাদের পাড়ার একাধিক লোক সুতি খেলাতে অংশ নিত। এই মৎস্যশিকার সার্বজনীন, হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ে জনপ্রিয়। মনে আছে ক্লাস সেভেনে পড়ার সময় একদিন ...
  • শুভ বিজয়া
    আমার যে ঠাকুর-দেবতায় খুব একটা বিশ্বাস আছে, এমন নয়। শাশ্বত অবিনশ্বর আত্মাতেও নয়। এদিকে, আমার এই জীবন, এই বেঁচে থাকা, সবকিছু নিছকই জৈবরাসায়নিক ক্রিয়া, এমনটা সবসময় বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে না - জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য-পরিণ...
  • আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার চাই...
    দেশের সবচেয়ে মেধাবীরা বুয়েটে পড়ার সুযোগ পায়। দেশের সবচেয়ে ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিঃসন্দেহে বুয়েট। সেই প্রতিষ্ঠানের একজন ছাত্রকে শিবির সন্দেহে পিটিয়ে মেরে ফেলল কিছু বরাহ নন্দন! কাওকে পিটিয়ে মেরে ফেলা কি খুব সহজ কাজ? কতটুকু জোরে মারতে হয়? একজন মানুষ পারে ...
  • ইন্দুবালা ভাতের হোটেল-৭
    চন্দ্রপুলিধনঞ্জয় বাজার থেকে এনেছে গোটা দশেক নারকেল। কিলোটাক খোয়া ক্ষীর। চিনি। ছোট এলাচ আনতে ভুলে গেছে। যত বয়েস বাড়ছে ধনঞ্জয়ের ভুল হচ্ছে ততো। এই নিয়ে সকালে ইন্দুবালার সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে। ছোট খাটো ঝগড়াও। পুজো এলেই ইন্দুবালার মন ভালো থাকে না। কেমন যেন ...
  • গুমনামিজোচ্চরফেরেব্বাজ
    #গুমনামিজোচ্চরফেরেব্...
  • হাসিমারার হাটে
    অনেকদিন আগে একবার দিন সাতেকের জন্যে ভূটান বেড়াতে যাব ঠিক করেছিলাম। কলেজ থেকে বেরিয়ে তদ্দিনে বছরখানেক চাকরি করা হয়ে গেছে। পুজোর সপ্তমীর দিন আমি, অভিজিৎ আর শুভায়ু দার্জিলিং মেল ধরলাম। শিলিগুড়ি অব্দি ট্রেন, সেখান থেকে বাসে ফুন্টসলিং। ফুন্টসলিঙে এক রাত্তির ...
  • দ্বিষো জহি
    বোধন হয়ে গেছে গতকাল। আজ ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ, সন্ধ্যাবেলায় আমন্ত্রণ ও অধিবাস। তবে আমবাঙালির মতো, আমারও এসব স্পেশিয়ালাইজড শিডিউল নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই তেমন - ছেলেবেলা থেকে আমি বুঝি দুগ্গা এসে গেছে, খুব আনন্দ হবে - এটুকুই।তা এখানে সেই আকাশ আজ। গভীর নীল - ...
  • গান্ধিজির স্বরাজ
    আমার চোখে আধুনিক ভারতের যত সমস্যা তার সবকটির মূলেই দায়ী আছে ব্রিটিশ শাসন। উদাহরণ, হাতে গরম এন আর সি নিন, প্রাক ব্রিটিশ ভারতে এরকম কোনও ইস্যুই ভাবা যেতো না। কিম্বা হিন্দু-মুসলমান, জাতিভেদ, আর্থিক বৈষম্য, জনস্ফীতি, গণস্বাস্থ্য ব্যবস্থার অভাব, শিক্ষার অভাব ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

পরিবর্তনের স্ট্যাসিস

Writobroto Ghosh

প্রাচীনকালে ভাস্করদের আঙুল কেটে ফেলতে ফেলতে এমন একটা অবস্থা হল যে
বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে ভাস্কর মৃৎকর পটুয়া পাওয়াই দুষ্কর হয়ে উঠলো।
কেউ আর যেচে পঙ্গু হয়ে অসমর্থ হয়ে বেরোজগারী হতে চাইতো না।
ফলত কি হোলো, ভাষ্কর্যের প্রথা লুপ্ত হয়ে ছিলো।
বহুকাল পর,
এই শাসনকালের অবসানে এবং পরবর্ত্তী শাসনের আক্কালে এহেন বর্বরতার সমাপ্তি উপলব্ধি করে আবার আবির্ভাব হলো ভাস্করের।
অতীতে নির্মিত সৌধের পাশে, কখনো সামনে, মূর্তি বা ধূসর অবয়ব স্থাপিত হচ্ছিলো।
একজন ভাস্কর তৎ পর নব নির্মাণে প্রগতিশীল হতেই একটা দুটো ছেনি বাটালি ধরা ঠুকঠুক শোনা যেতে লাগলো,
এ আরেক কাঁকন কন্ কন্,
অর্থাৎ এই শিল্পকর্ম পুনরায় চাউর হলো, চলতি আয়ের উপায় হয়ে দাঁড়ালো অচিরে।
প্রজাদের মনে বিশ্বাস আর ভীতি উভয়ই জাগ্রত রাখতে আরো বেশি করে প্রতিমূর্তি তৈরী করা অবশ্য হয়ে পড়তে,
শাসক আদেশ দিলেন, মূর্তি গড়।
কার মূর্তি নরেশ?
বিংশ শতকের নাট্যাশ্চর্য গরজে উঠলেন - মূর্তি আমার।

ভাস্কর রঙ্গ বুঝলো না। মাথা তার টলমল করে। নির্মাণের আবিষ্কার করেছে তখন সে।
চোখের সামনে ঘুরঘুর ঘুরঘুর, কখনো প্রকট কখনও নয়।
সিরাজের মনে ধরলো। নিয়ে এলো তাকে সঙ্গে করে রসদ সাজিয়ে বসালো।
আর কি চাই? একটা থাকার জায়গা আর দুমুঠো।
ব্যবস্থা হয়ে গেল।
এমনি করেই আরেক প্রজন্মে বাবা আলাদীন তার চিরাগিয়া সরোদের তানে মুহুর্মূহু;
জ্বালানি ধরিয়ে দেয়া হয়েছে,
বরাদ্দ থাকে একখণ্ড বৃহৎ প্রস্তর। দরজা খুলে দালানের মাঝখানে। ছেনিগুলি পাশে রাখা
কাঁচা লোহা,
ভঙ্গুর। নেবে না। ওরা বাতিল।
বাতিলের নাকি পৃথিবীতে স্থান নেয়া অনর্থ,
ইতিহাস ধরে বেঁধে একটাও বাতিলের কাহিনী শোনায় নি।
একটিও অখ্যাত শিল্পী সুখ্যাতি পায় নি।
তাই স্থির করলো কিঙ্কর
নিজের দুটো ছেনির একটায় শুরু করবে ছিলকানি,
তারপর অন্যটায় সূক্ষ্ম কারিগরি,
যা ভাবি তাই করি,
বেশি কিছু উচ্ছৃঙ্খল সৃজনের ইজাজৎ নেই, প্রথম দিনেই ব্যক্ত করেছেন প্রমথ।
বিধি বাঁধবে, বেঁধে রাখবে আজীবন।
নয় মাস, তাও ত একটা জীবন। জীবনকে বলতে পারো পুনরুজ্জীবন,
আরেকবার কিছুটা অবশৃঙ্খলিত বাঁচবার। নশ্বর নিরলম্ব ছেদ।
বিধিবত।
উপার্জন থিতু হতে ধীরে, অনুযোগে অতএব যুগলে সমাজে চিহ্নিত হতে হোলো।
প্রয়োজনভিত্তিক আশ্রয় গাথা প্রচার হচ্ছে রাতারাতি।
শাসন গেড়ে বসেছে এবার। ইচ্ছেমাফিক কিছু হচ্ছে না।
রাষ্ট্র আইন আনলো - একুশে জমায়েতে নির্বিচারে গুলি-খুন করা হলো অনেককে।
তার মধ্যে, যাকে নিয়ে গল্প, নিরাপরাধ মৃত্যুমুখে ভাবছে, আমিও?
অস্ত যাচ্ছে একটা সময়, কিঙ্করের সেরিব্রাম স্ট্রোক করেছে, অস্ত্রোপচার করতে চাইছেন না চিকিৎসক।
শান্তি আনুক তার মৃত্যু।
শাসন এগিয়ে এসেছে, পরম ব্রত নিয়ে - বাঁচাতেই হবে এমন মহত্ত্বপূর্ণ প্রাণ।
কিঙ্কর তখন বাঁচা-মরার ঊর্ধ্বে
একমাত্র কন্যাকুমারীকে একবার দেখতে চাইছে।

ঋতব্রত।


177 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন