সিকি RSS feed

অচল সিকির খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • আমাদের চমৎকার বড়দা প্রসঙ্গে
    ইয়ে, স-অ-অ-অ-ব দেখছে। বড়দা সব দেখছে। বড়দা স্রেফ দেখেনি ওইখানে এক দিন রাম জন্মালেন, তার পর কারা বিদেশ থেকে এসে যেন ভেঙেটেঙে মসজিদ স্থাপন করল, কেন না বড়দা তখন ঘুমোচ্ছিলেন। ঘুম ভাঙল যখন, চোখ কচলেটচলে দেখলেন মস্ত ব্যাপার এ, বড়দা বললেন, ভেঙে ফেলো মসজিদ, জমি ...
  • ধর্ষকের মৃত্যুদন্ড দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ?
    যেকোন নারকীয় ধর্ষণের ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়ে সামনে আসার পর নাগরিক হিসাবে আমাদের একটা ঈমানি দায়িত্ব থাকে। দায়িত্বটা হল অভিযুক্ত ধর্ষকের কঠোরতম শাস্তির দাবি করা। কঠোরতম শাস্তি বলতে কারোর কাছে মৃত্যুদন্ড। কেউ একটু এগিয়ে ধর্ষকের পুরুষাঙ্গ কেটে নেওয়ার ...
  • তোমার পূজার ছলে
    বাঙালি মধ্যবিত্তের মার্জিত ও পরিশীলিত হাবভাব দেখতে বেশ লাগে। অপসংস্কৃতি নিয়ে বাঙালি চিরকাল ওয়াকিবহাল ছিল। আজও আছে। বেশ লাগে। কিন্তু, বুকে হাত দিয়ে বলুন, আপনার প্রবল ক্ষোভ ও অপমানে আপনার কি খুব পরিশীলিত, গঙ্গাজলে ধোওয়া আদ্যন্ত সাত্ত্বিক শব্দ মনে পড়ে? না ...
  • The Irishman
    দা আইরিশম্যান। সিনেমা প্রেমীদের জন্য মার্টিন স্করসিসের নতুন বিস্ময়। ট্যাক্সি ড্রাইভার, গুডফেলাস, ক্যাসিনো, গ্যাংস অব নিউইয়র্ক, দা অ্যাভিয়েটর, দ্য ডিপার্টেড, শাটার আইল্যান্ড, দ্য উল্ফ অব ওয়াল স্ট্রিট, সাইলেন্টের পরের জায়গা দা আইরিশম্যান। বর্তমান সময়ের ...
  • তোকে আমরা কী দিইনি?
    পূর্ণেন্দু পত্রী মশাই মার্জনা করবেন -********তোকে আমরা কী দিইনি নরেন?আগুন জ্বালিয়ে হোলি খেলবি বলে আমরা তোকে দিয়েছি এক ট্রেন ভর্তি করসেবক। দেদার মুসলমান মারবি বলে তুলে দিয়েছি পুরো গুজরাট। তোর রাজধর্ম পালন করতে ইচ্ছে করে বলে পাঠিয়ে দিয়েছি স্বয়ং আদবানীজীকে, ...
  • ইশকুল ও আর্কাদি গাইদার
    "জাহাজ আসে, বলে, ধন্যি খোকা !বিমান আসে, বলে, ধন্যি খোকা !এঞ্জিনও যায়, ধন্যি তোরে খোকা !আসে তরুণ পাইওনিয়র,সেলাম তোরে খোকা !"আরজামাস বলে একটা শহর ছিল। ছোট্ট শহর, অনেক দূরের, অন্য মহাদেশে। অনেক ছোটবেলায় চিনে ফেলেছিলাম। ভৌগোলিক দূরত্ব টের পাইনি।টের পেতে দেননি ...
  • ছন্দহীন কবিতা
    একদিন দুঃসাহসের পাখায় ভর করে,ছুঁতে চেয়েছিলাম কবিতার শরীর ।দ্বিখন্ডিত বাংলার মত কবিতা হয়ে উঠলোছন্দহীন ।অর্থহীন যাত্রার “কা কা” চিৎকারে,ছুটে এলোপ্রতিবাদী পাঠক।ছন্দভঙ্গের নায়কডানা ভেঙ্গে পড়িপুঁথি পুস্তকের এক দোকানে।আলোক প্রাপ্তির প্রত্যাশায়,যোগ ধ্যানে কেটে ...
  • হ্যালোউইনের ভূত
    হ্যালোউইন চলে গেল। আমাদের বাড়িতে হ্যালোউইনের রীতি হল মেয়েরা বন্ধুদের সঙ্গে ট্রিক-অর-ট্রিট করতে বেরোয় দল বেঁধে। পেছনে পেছনে চলে মায়েদের দল। আর আমি বাড়িতে থাকি ক্যান্ডি বিতরণ করব বলে। মুহূর্মুহূ কলিং বেল বাজে, আমি হাসি-হাসি মুখে ক্যান্ডির গামলা নিয়ে দরজা ...
  • হয়নি
    তুমি ভালবাসতে চেয়েছিলে।আমিও ।হয়নি।তুমিঅনেক দূর অব্দি চলে এসেছিলে।আমিও ।হয়নি আর পথ চলা।তুমি ফিরে গেলে,জানালে,ভালবাসতে চেয়েছিলেহয়নি। আমি জানলামচেয়ে পাইনি।হয়নি।জলভেজা চোখে ভেসে গেলআমাদের অতীত।স্মিত হেসে সামনে এসে দাঁড়ালোপথদুজনার দু টি পথ।সেপ্টেম্বর ২২, ...
  • তিরাশির শীত
    ১৯৮৩ র শীতে লয়েডের ওয়েস্টইন্ডিজ ভারতে সফর করতে এলো। সেই সময়কার আমাদের মফস্বলের সেই শীতঋতু, তাজা খেজুর রস ও রকমারি টোপা কুলে আয়োজিত, রঙিন কমলালেবু-সুরভিত, কিছু অন্যরকম ছিলো। এত শীত, এত শীত সেই অধুনাবিস্মৃত কালে, কুয়াশাআচ্ছন্ন পুকুরের লেগে থাকা হিমে মাছ ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

দুর্গা-বিসর্জনঃ কৃষ্ণ প্রসাদ

সিকি

আউটলুকের প্রাক্তন এডিটর, কৃষ্ণ প্রসাদ গতকাল (সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৭) একটি লেখা (https://www.facebook.com/churumuri/posts/10154755236972301?pnref=story) শেয়ার করেছেন ফেসবুকে। তাঁর অনুমতি নিয়ে আমি লেখাটার বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করলাম। বন্ধু বোধিসত্ত্ব মাইতিকে বিশেষ ধন্যবাদ, অনুমতি জোগাড় করে দেবার জন্য।


https://achalsiki.files.wordpress.com/2017/09/x060917033737gauri-pages
peed-ic-t1_kfp4to4.jpg


গৌরী লঙ্কেশ খুব নিয়মিত ফোন করতেন না। কিন্তু যেদিন করতেন, বেশ রাতের দিকে করতেন আর সহজে ছাড়তেন না।

কথা বলতেন, যে সমস্ত লড়াই তিনি লড়ে চলেছেন – মনের মধ্যে কিংবা ম্যাগাজিনের পাতায়, সেই সব নিয়ে। আর সেই লড়াইগুলোর জন্য যে দাম তাঁকে দিতে হচ্ছে, সেসব নিয়ে বলতেন।

এ বছরের ১৮ই এপ্রিল, উনি যখন ফোন করলেন, বড় বিপর্যস্ত লাগছিল ওঁর কণ্ঠ। কথায় কথায় উনি স্বীকার করলেন, ডিমানিটাইজেশন তাঁর ব্যবসাকে তছনছ করে দিয়েছে।

তাঁর কাছে আর বড়জোর এক মাস টেনেটুনে চালাবার মত পয়সা আছে, জানালেন।

“য়েনু মাদোধু, মুন্ধাক্কে য়েনু দারি?”
“য়াভাগা বাদালাগাত্থে, য়েনারু গোত্থা-পা?”

(কী করি বলো তো? এর পরে কী করা যায়? কবে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলতে পারো?)

তাঁর নামকরা, বিজ্ঞাপনমুক্ত সাপ্তাহিক পত্রিকা সম্পূর্ণভাবে নিউজস্ট্যান্ডের বিক্রির ওপর নির্ভরশীল ছিল। নামকরা অন্যান্য ইংরেজি পত্রিকাগুলো যেমন বার্ষিক, ৩ বছর বা ৫ বছরের সাবস্ক্রিপশনের ওপর ভিত্তি করে তাদের নিয়মিত লাভের পথ সুনিশ্চিত করত, তেমন কোনও স্কিমই তাঁর পত্রিকার জন্য ছিল না।

নরেন্দ্র মোদীর সার্জিকাল স্ট্রাইকের খাঁড়া আম ভারতবাসীর পকেটের ওপর এসে পড়েছিল ৮ই নভেম্বর তারিখে, যার ফলে গৌরীর পত্রিকার পাঠকরাও, যাঁরা তথাকথিত উচ্চবিত্ত গোত্রের ছিলেন না এবং ধীরে ধীরে যাঁদের সংখ্যা কমে আসছিল, তাঁরাও পত্রিকার জন্য পয়সা খরচা করতে ক্রমশ অনীহা বোধ করছিলেন।

কিন্তু ডিমানিটাইজেশনের পরে তিনি শুধুমাত্র আর পত্রিকার ওপর নির্ভর করে দিন চালাতে পারেন নি। তিনি পরীক্ষার গাইডবুক পাবলিশ করতেন, বেশির ভাগই ইংরেজি থেকে অনুবাদ করে।

এই বইগুলো, সাধারণত তাঁর ট্যাবলয়েডের থেকে অনেক বেশি অঙ্কে প্রচ্ছদমূল্য ছাপিয়ে বিক্রি হত, যাতে লাভ বেশি হয়, আইএনএস গৌরী যাতে তাতে নির্ভর করে বেঁচে থাকতে পারে।

লাভ না হলে, এই যুদ্ধজাহাজ হয় তো কবেই ডুবে যেত।

আমি উপদেশ দিয়েছিলাম, গো ডিজিটাল ইত্যাদি, তার পরে আমি পত্রিকা প্রকাশনার অর্থনীতি বোঝা কয়েকজন সিইও-র সঙ্গে তাঁর আলাপ করিয়ে দিয়েছিলাম, যাঁরা এই টালটামাল সময়ে কীভাবে পত্রিকা চালিয়ে যেতে হয় সে ব্যাপারে কিছু অমূল্য উপদেশ দিয়ে সাহায্য করেছিলেন।

‘গৌরী লঙ্কেশ পত্রিকে’ এর পরেও পাঁচ মাস চলেছে।

আর গৌরী লঙ্কেশ?

*****

এইসব গল্পগাছা আমি এখানে লিখছি, স্রেফ চারটে জিনিস আপনাদের বোঝাবার জন্যে, যে যে বিষয়গুলো তাঁর মৃত্যুর পরেঃ কারেকশন, তাঁর নিজের বাড়ির দালানে তাঁর পরিকল্পিত খুনের পরে – কথার পিঠে কথার ভিড়ে সম্পূর্ণ ডুবে গেছে।

একঃ যে অসম লড়াই এই সামান্য একলা মহিলাটি লড়ে গেছেন, সম্পূর্ণ নিজে নিজে এবং সম্পূর্ণ নিঃশব্দে। ‘আই অ্যাম গৌরী’ শুনলে মনে হয় রূপকথার মত এক জাজ্বল্যমান অকুতোভয় জার্নালিস্টের সমস্ত অন্যায়কে হারিয়ে দিয়ে জিতে আসার গল্প, বাস্তবটা কিন্তু সেরকম ছিল না, অন্তত শেষের দিকে।

দুইঃ আত্মম্ভরিতায় পূর্ণ মূলধারার মিডিয়াগুলোর কেঁদো কেঁদো মালিকদের দাবি – যে ট্যাবলয়েডগুলো আসলে “রোল-কল”, পয়সা না দিলেই বন্ধ করে দেওয়া যায়, আর তাদের এডিটর আর জার্নালিস্টরা আদতে তোলাবাজি চালায় – সে সমস্ত প্রকাশিত হয়েছে।

তিনঃ কোনও “নক্সাল সিমপ্যাথাইজারস”, “পীসনিকস”, “জেএনইউ প্রিকস”, “র‍্যাডিকালস”-এরই কোনওরকমের অন্তহীন বিদেশী মূলধনের জোগান নেই এবং তাঁরা কেউই বিলাস বৈভবে ভরা জীবন কাটান না। জীবনের শেষ সময়টিতে তিনি টয়োটার ভারতে বিক্রি হওয়া সবথেকে শস্তার গাড়িটি থেকে নেমেছিলেন।

চারঃ শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত, তাঁর পরিস্থিতি, বিশেষত তাঁর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত ছিল সেই ব্যক্তিটির সঙ্গে যাকে তিনি সবরকম দিক থেকে অপছন্দ আর ঘৃণা করতেন।

তাঁর পরিবারের সঙ্গে কর্ণাটকের বেশ কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পরিচিতি ছিল, বিশেষত কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। এই অবস্থায় পত্রিকা চালানোর জন্য মূলধন জোগাড় করা তাঁর পক্ষে খুব কঠিন কাজ কিছু ছিল না, কিন্তু গৌরীর সাথে আমার ফোনে কথোপকথন থেকে এটা পরিষ্কার যে তিনি কখনওই সে রাস্তায় হাঁটেন নি।

বেঙ্গালুরুতে তাঁর শেষকৃত্যের সময়ে মুখ্যমন্ত্রীর মিডিয়া অ্যাডভাইসর দীনেশ আমিন মাত্তু জানিয়েছিলেন, তিনি শুনেছেন গৌরী তাঁর শেষ লাইফ ইনশিওরেন্স পলিসিটুকুও সারেন্ডার করে দিয়েছিলেন দিনের খাবারটুকু জোগাড় করার জন্য।

মাইসোরে একটি শোকসভায়, তিরিশ বছর ধরে লঙ্কেশ পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা স্বামী আনন্দ জানিয়েছিলেন, তিনি ইংরেজি প্রকাশনায় লিখতেন কেবলমাত্র কন্নড় জার্নালিজমকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য টাকার জোগাড় করতে।

আরেকজন কেউ জানিয়েছিলেন, এই মুহূর্তে তাঁর ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স, সম্ভবত কয়েক হাজারের বেশি নয়।

হয় তো তাইই হবে, স্বাধীনতার পরে এ দেশে নেওয়া এত ধ্বংসাত্মক অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের ধাক্কায় অসহায়ভাবে মার খেয়েছেন কৃষক, তাঁতী, ছোট দোকানদার, দিনমজুর – কারা নয়!

‘গৌরী লঙ্কেশ পত্রিকা’র কাহিনি শুনলে জানা যায় তার অস্তিত্ব কী মারাত্মক প্রভাব ফেলেছিল জার্নালিজমের ওপর – বিশেষত ছোট নিউজপেপার, যেগুলো স্থানীয় ভাষায় প্রকাশিত হত, তাদের ওপর।

এবং সেই সমস্ত সংস্থা যাঁরা চালাতেন এবং সেখানে কাজ করতেন, জানা যায় তাঁদের দুঃখ দুর্দশার কথা।

এবং অন্তঃসারশূন্য হয়ে যাওয়া গণতান্ত্রিক বিতর্কের পরিসরের কথা।

একমাত্র সান্ত্বনার জায়গা এই যে, যে জানোয়ারগুলো তাঁর শরীরে বুলেট ফুঁড়ে দিয়েছিল, তারা, আরবিআই যখন #DemonetisationDisaster ট্যাগটিকে অফিশিয়াল সীলমোহর দেয়, তখন, সেদিন, গৌরীর আত্মপ্রসাদের হাসি তারা মুছে দিতে পারে নি।

****

এক চক্রাকার আবর্তের মধ্যে দিয়ে, হয় তো সেটাই তাঁর শেষ অবদান হয়ে থাকবে জার্নালিজম পেশার কাছে, গৌরী লঙ্কেশ চিরভাস্বর হয়ে আলো দেখাবেন আধুনিক ভারতীয় জার্নালিজমকে।

প্রতিবাদ মিছিলের এবং সভার কভারেজ দেখে একজন সাধারণ দর্শক বা পাঠক হয় তো ভাবছেনঃ

কী করে, একজন সামান্য, অশ্রুত, আর্থিকভাবে দুর্দশাগ্রস্ত কন্নড় ট্যাবলয়েডের সম্পাদক, এই রকম ভাবে কাউকে ক্ষেপিয়ে দিয়েছিলেন যে তারা শেষমেশ লোক পাঠাল তাঁকে শেষ করে দেবার জন্য, যাতে উনি আর কোনও পরবর্তী কাজ শুরু না করতে পারেন?

উল্টোদিকে, এই হাঙরে ভরা সমুদ্রের মাঝে বাকি বড় বড় মিডিয়া হাউসগুলো কী করে আরামসে সাঁতরে চলেছে কোনওরকমের ক্ষতির আশঙ্কা না করে, যে ক্ষতি শোচনীয়ভাবে আক্রমণ করেছে গৌরী এবং ‘প্যাট্রিক’কে?

এবং ল্যুটিয়েন্স ডেলহির মাঝখানে মূলধারার মিডিয়াদের সমাবেশে দাঁড়িয়ে, অনলাইনে আর অফলাইনে তাদের কথা শুনে তরুণ সাংবাদিকরা হয় তো ভাবতে পারেনঃ

আমরা কেন স্বাধীনভাবে সেই সমস্ত স্টোরি কভার করতে পারছি না – অসাম্যের, বৈষম্যের, অবিচারের, দুর্নীতির, সাম্প্রদায়িক পোলারাইজেশনের স্টোরি – আর এইখানে এইসব বক্তারা এখন গৌরী লঙ্কেশের সম্বন্ধে বক্তৃতা ঝাড়ছে?

আমেরিকান জার্নালিস্ট ডেভিড হ্যালবারস্ট্যাম একবার একটা বিখ্যাত উক্তি করেছিলেন, জার্নালিজম বন্ধু বানাবার আর প্রশংসা কুড়োবার জায়গা নয়। যদি তোমার সেগুলোই লক্ষ্য হয়, অন্য কোনও পেশা বেছে নাও।

ভারতীয় মিডিয়ার সিংহভাগই আজ বালিতে মাথা গুঁজে রেখে সাম্প্রদায়িকতার কুৎসিত প্রতিযোগিতার লেলিহান আগুনকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে করে চলে, আর সেই ফাঁকে ড্রাগনেরা এসে ঘৃণা আর ধর্মান্ধতার বীজ বুনে দিয়ে যায় আমাদের মননের ভেতরে। সবার ভূমিকা বদলে গেছে।

শুধুমাত্র গৌরীরই হয় তো অন্য কোথাও পৌঁছবার ছিল।

****

১৯৮৪র নভেম্বর মাসে ইংলন্ডের ক্রিকেট টিম টেস্ট সিরিজ খেলতে ভারতে এসেছিল।

তার ঠিক কদিন আগেই ইন্দিরা গান্ধী তাঁর দেহরক্ষীদের গুলিতে নির্মমভাবে খুন হয়েছেন।

বম্বের ব্রিটিশ হাইকমিশনার, পার্সি নরিস, যিনি ইংলিশ টিমের জন্য একটা অভ্যর্থনাসভার আয়োজন করেছিলেন প্রথম টেস্টের আগে, তিনি খেলা শুরুর প্রথম দিনেই আততায়ীর হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান।

তাঁর স্মৃতিচারণায়, ফক্সি, ইংলন্ডের ওপেনিং ব্যাটসম্যান গ্রিম ফাউলার লিখেছিলেন সেই খবর শোনার পরে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের পিচে তাঁর ব্যাট করতে এগিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা।

“স্টেডিয়ামে তখন ৫৫,০০০ লোক, তাদের যে কারুর পকেটে একটা রিভলবার থাকতেই পারে।”

আজকের দিনে জার্নালিজম ঠিক সেই রকমের অবস্থায়।

সংশোধন করে বলি। দৃঢ়চেতা, সাহসী নিউজ জার্নালিজম – যা ক্ষমতার সত্য রূপ তুলে ধরে, যা ধর্মান্ধতার চোখে চোখ রেখে দাঁড়ায়, যা ঘৃণার বেসাতিদের চিবিয়ে খেয়ে ফেলার ক্ষমতা রাখে, যা দুর্নীতিবাজদের এক্সপোজ করে, অসৎ, সাম্প্রদায়িকদের জনসমক্ষে নগ্ন করে দেয় – সেই জার্নালিজম আজ ঠিক সেই রকমের অবস্থায়।

তুমি জানো না, দরজা খোলার পরেই কে তোমার বুকে পর পর বুলেট ফুঁড়ে ঢুকিয়ে দিতে পারে।

অথবা, ঠিক কখন।

ফাউলার সেদিন ২৮ রান করতে পেরেছিলেন।

গৌরী লঙ্কেশের ভাগ্য অনেক ভালো, তিনি ৫৫ ছুঁতে পেরেছিলেন।

****

গত নভেম্বরে, গৌরি আমাকে মেসেজ করেছিলেনঃ “তোমার দলে ভিড়লাম। ‘ব্যাঙ্গালোর মিরর’এর এডিটর আমার কলাম বন্ধ করে দিয়েছেন।”

আমি উত্তরে যখন আমার সান্ত্বনাবাক্য লিখে পাঠালাম, গৌরীর উত্তর এলঃ “ধুর বাল। আমরা টিকে থাকবই আর এই সমস্ত সাম্প্রদায়িক জীবগুলোকে পিষে মারবই।”

থাকব কি, গৌরী?

562 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: সিকি

Re: দুর্গা-বিসর্জনঃ কৃষ্ণ প্রসাদ


Avatar: i

Re: দুর্গা-বিসর্জনঃ কৃষ্ণ প্রসাদ

থ্যান্ক ইউ সিকি। থ্যান্ক ইউ থ্যান্ক ইউ থ্যান্ক ইউ
Avatar: পিনাকী

Re: দুর্গা-বিসর্জনঃ কৃষ্ণ প্রসাদ

এটা একটা ভালো কাজ করেছো সিকি।
Avatar: aranya

Re: দুর্গা-বিসর্জনঃ কৃষ্ণ প্রসাদ

ভাল লাগল
Avatar: aranya

Re: দুর্গা-বিসর্জনঃ কৃষ্ণ প্রসাদ

সিকি যে এই গুরুত্বপূর্ণ লেখাগুলো লিখছে/অনুবাদ করছে, সময় দিচ্ছে এগুলোর জন্য, খুবই ভাল লাগে দেখলে। খুব বেশি লোকের কাছে হয়ত পৌঁছয় না, তাও যেটুকু হয় ..
Avatar: pi

Re: দুর্গা-বিসর্জনঃ কৃষ্ণ প্রসাদ

সত্যিই খ্হুব জরুরি লেখা।

এটা একটু বিস্তারিত জানা যাবে ?

'দুইঃ আত্মম্ভরিতায় পূর্ণ মূলধারার মিডিয়াগুলোর কেঁদো কেঁদো মালিকদের দাবি – যে ট্যাবলয়েডগুলো আসলে “রোল-কল”, পয়সা না দিলেই বন্ধ করে দেওয়া যায়, আর তাদের এডিটর আর জার্নালিস্টরা আদতে তোলাবাজি চালায় – সে সমস্ত প্রকাশিত হয়েছে।'

এগুলো প্রকাশিত হয়েছে বলতে ? এরকম দাবি এখন মূলধারার মিডিয়া করেছে ?
Avatar: রুখসানা কাজল

Re: দুর্গা-বিসর্জনঃ কৃষ্ণ প্রসাদ

সময় বলছে , থাকাটা জরুরী।
Avatar: de

Re: দুর্গা-বিসর্জনঃ কৃষ্ণ প্রসাদ

সিনসিয়ার প্রচেষ্টা - ভালো লাগলো -
Avatar: ভরসা হয়

Re: দুর্গা-বিসর্জনঃ কৃষ্ণ প্রসাদ

গৌরীদেবীদের দেখে। একদিকে এনাদের মত সাংবাদিক আর অন্যদিকে গরীবদরদী বামফ্রন্ট সরকারের ঋতব্রত, যিনি বিজনেস ক্লাসে ভ্রমন করে বছরে সরকারের ২৫ লক্ষ টাকা খরচা করেন।
Avatar: সিকি

Re: দুর্গা-বিসর্জনঃ কৃষ্ণ প্রসাদ

অপ্রাসঙ্গিক। খরচাটা যদি সরকার অনুমোদিত হয় একজন এমপির জন্য, তা হলে সেটা অনৈতিক কিছু নয়।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন