Prativa Sarker RSS feed

Prativa Sarkerএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • আমাদের চমৎকার বড়দা প্রসঙ্গে
    ইয়ে, স-অ-অ-অ-ব দেখছে। বড়দা সব দেখছে। বড়দা স্রেফ দেখেনি ওইখানে এক দিন রাম জন্মালেন, তার পর কারা বিদেশ থেকে এসে যেন ভেঙেটেঙে মসজিদ স্থাপন করল, কেন না বড়দা তখন ঘুমোচ্ছিলেন। ঘুম ভাঙল যখন, চোখ কচলেটচলে দেখলেন মস্ত ব্যাপার এ, বড়দা বললেন, ভেঙে ফেলো মসজিদ, জমি ...
  • ধর্ষকের মৃত্যুদন্ড দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ?
    যেকোন নারকীয় ধর্ষণের ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়ে সামনে আসার পর নাগরিক হিসাবে আমাদের একটা ঈমানি দায়িত্ব থাকে। দায়িত্বটা হল অভিযুক্ত ধর্ষকের কঠোরতম শাস্তির দাবি করা। কঠোরতম শাস্তি বলতে কারোর কাছে মৃত্যুদন্ড। কেউ একটু এগিয়ে ধর্ষকের পুরুষাঙ্গ কেটে নেওয়ার ...
  • তোমার পূজার ছলে
    বাঙালি মধ্যবিত্তের মার্জিত ও পরিশীলিত হাবভাব দেখতে বেশ লাগে। অপসংস্কৃতি নিয়ে বাঙালি চিরকাল ওয়াকিবহাল ছিল। আজও আছে। বেশ লাগে। কিন্তু, বুকে হাত দিয়ে বলুন, আপনার প্রবল ক্ষোভ ও অপমানে আপনার কি খুব পরিশীলিত, গঙ্গাজলে ধোওয়া আদ্যন্ত সাত্ত্বিক শব্দ মনে পড়ে? না ...
  • The Irishman
    দা আইরিশম্যান। সিনেমা প্রেমীদের জন্য মার্টিন স্করসিসের নতুন বিস্ময়। ট্যাক্সি ড্রাইভার, গুডফেলাস, ক্যাসিনো, গ্যাংস অব নিউইয়র্ক, দা অ্যাভিয়েটর, দ্য ডিপার্টেড, শাটার আইল্যান্ড, দ্য উল্ফ অব ওয়াল স্ট্রিট, সাইলেন্টের পরের জায়গা দা আইরিশম্যান। বর্তমান সময়ের ...
  • তোকে আমরা কী দিইনি?
    পূর্ণেন্দু পত্রী মশাই মার্জনা করবেন -********তোকে আমরা কী দিইনি নরেন?আগুন জ্বালিয়ে হোলি খেলবি বলে আমরা তোকে দিয়েছি এক ট্রেন ভর্তি করসেবক। দেদার মুসলমান মারবি বলে তুলে দিয়েছি পুরো গুজরাট। তোর রাজধর্ম পালন করতে ইচ্ছে করে বলে পাঠিয়ে দিয়েছি স্বয়ং আদবানীজীকে, ...
  • ইশকুল ও আর্কাদি গাইদার
    "জাহাজ আসে, বলে, ধন্যি খোকা !বিমান আসে, বলে, ধন্যি খোকা !এঞ্জিনও যায়, ধন্যি তোরে খোকা !আসে তরুণ পাইওনিয়র,সেলাম তোরে খোকা !"আরজামাস বলে একটা শহর ছিল। ছোট্ট শহর, অনেক দূরের, অন্য মহাদেশে। অনেক ছোটবেলায় চিনে ফেলেছিলাম। ভৌগোলিক দূরত্ব টের পাইনি।টের পেতে দেননি ...
  • ছন্দহীন কবিতা
    একদিন দুঃসাহসের পাখায় ভর করে,ছুঁতে চেয়েছিলাম কবিতার শরীর ।দ্বিখন্ডিত বাংলার মত কবিতা হয়ে উঠলোছন্দহীন ।অর্থহীন যাত্রার “কা কা” চিৎকারে,ছুটে এলোপ্রতিবাদী পাঠক।ছন্দভঙ্গের নায়কডানা ভেঙ্গে পড়িপুঁথি পুস্তকের এক দোকানে।আলোক প্রাপ্তির প্রত্যাশায়,যোগ ধ্যানে কেটে ...
  • হ্যালোউইনের ভূত
    হ্যালোউইন চলে গেল। আমাদের বাড়িতে হ্যালোউইনের রীতি হল মেয়েরা বন্ধুদের সঙ্গে ট্রিক-অর-ট্রিট করতে বেরোয় দল বেঁধে। পেছনে পেছনে চলে মায়েদের দল। আর আমি বাড়িতে থাকি ক্যান্ডি বিতরণ করব বলে। মুহূর্মুহূ কলিং বেল বাজে, আমি হাসি-হাসি মুখে ক্যান্ডির গামলা নিয়ে দরজা ...
  • হয়নি
    তুমি ভালবাসতে চেয়েছিলে।আমিও ।হয়নি।তুমিঅনেক দূর অব্দি চলে এসেছিলে।আমিও ।হয়নি আর পথ চলা।তুমি ফিরে গেলে,জানালে,ভালবাসতে চেয়েছিলেহয়নি। আমি জানলামচেয়ে পাইনি।হয়নি।জলভেজা চোখে ভেসে গেলআমাদের অতীত।স্মিত হেসে সামনে এসে দাঁড়ালোপথদুজনার দু টি পথ।সেপ্টেম্বর ২২, ...
  • তিরাশির শীত
    ১৯৮৩ র শীতে লয়েডের ওয়েস্টইন্ডিজ ভারতে সফর করতে এলো। সেই সময়কার আমাদের মফস্বলের সেই শীতঋতু, তাজা খেজুর রস ও রকমারি টোপা কুলে আয়োজিত, রঙিন কমলালেবু-সুরভিত, কিছু অন্যরকম ছিলো। এত শীত, এত শীত সেই অধুনাবিস্মৃত কালে, কুয়াশাআচ্ছন্ন পুকুরের লেগে থাকা হিমে মাছ ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

আল ইজ ওয়েল

Prativa Sarker

দৈহিক যন্ত্রণার কান্না আর তীব্র আবেগের অশ্রু, যার জন্ম যন্ত্রণাতেই, এই দুটোর মধ্যে তফাৎ করা খুব মুস্কিল এটা বোঝাবার জন্য সোনার গৌর সাহেবজান ঘর ভর্তি দর্শকের সামনে প্রথমে কচকচিয়ে একটি পেঁয়াজ খেলেন, তারপর একটি বিরাট কাঁচা লংকার অর্ধেকটা ! ফলে তার ঈগলচঞ্চু নাসা আরো টকটকে লাল হয়ে গেল, মুখ একটু হাঁ ।
কিন্তু তার চোখে জল এলো না। অথচ সে দৃশ্যে তখন পুরো এক প্লেন ভর্তি মানুষের ছোঁয়াচে হাপুস কান্নারোগে আক্রান্ত হবার কথা বলা হচ্ছিল। ব্যতিক্রম ওই চরিত্রটি।একেবারে শেষে পাগলের মতো হ্যান্ড স্যানিটাইজার ঘষতে ঘষতে সে চেঁচাতে থাকে, everything will get well soon, সব ঠিক হয়ে যাবে, যাবে,যাবে।

তার চিৎকার চারদিকে যে শব্দকুহকের সৃষ্টি করে তা অভ্রান্ত জানায়, কোনকিছুই ঠিক নেই, হবেও না কোনকালে।

আমি বেঙালুরু ব্রিটিশ কাউন্সিলে বিখ্যাত ইংরেজ নাট্যকার ও অভিনেতা ড্যানিয়েল বাই এর "গোয়িং ভাইরাল" নামের একক অভিনয়ের কথা লিখলাম এতক্ষণ। অনেক পুরস্কার টুরস্কার পেয়েছে নাটকটি। চমৎকার দেখিয়েছে কি করে মূহুর্তে ভাইরাল হয়ে যায় নানা অসুখ অথবা মানসিক আতঙ্ক। আর গা ঘেঁষাঘেঁষি করে থাকা ভুবনগ্রামের অধিবাসীরা লহমায় হয়ে পড়ে আরো অসহায়, আরো অরক্ষিত !

নাটক শেষে বহুক্ষণ অন্ধকারে দাঁড়িয়ে রইলাম আমরা। সর্বনাশা ডিমনিটাইজেশনের আতঙ্ক আমাদের আশিরনখ। নাটকের সঙ্গে এমন আত্মিক যোগ কমই হয়!

উবর ট্যাক্সিতে অনেকটা আসবার পর বাঁদিক ঘুরতেই কয়েকজন কর্ণাটকী পুলিশ। কয়েকটা গাড়ি। আমাদেরটাও পাশে দাঁড়িয়ে গেল ঘ্যাঁচ করে। চালক শশব্যস্ত নেমে সেই যে গেল তো গেলই। একটু দূরে আধো অন্ধকারে পুলিশের সঙ্গে তার এতো কি কথা !
আম উশখুশ করছি দেখে সঙ্গী নেমে গেলেন। তিনি ছিলেন দাপুটে সরকারী অফিসার। সব পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবেন ভাবেন।
কিন্তু সবার আগে দৌড়ে এল আমাদের ড্রাইভার,
- সাব, যাইয়ে অন্দর বৈঠিয়ে।
- আরে হুয়া কেয়া ?
- কুছ নেই সাব। আপ বৈঠিয়ে।

কিছুক্ষণ বাদে সে ফিরে এলো বটে, কিন্তু যে কাহিনী শোনালো তাতে নাটকীয় উপাদান গোয়িং ভাইরালের থেকে কম কিছু নয়।
ট্রাফিক লাইট খেয়াল না করে দু পা এগিয়ে গিয়েছিল আমাদের উবর। সেতো হতেই পারে। নিয়ম ভেঙেছ, জরিমানা দাও, বাড়ি যাও। কিন্তু তা নয়, পুলিশ ঘুষ চাইছে। সে ঘুষও বিচিত্র ! হয় তিনশ টাকা দাও, একশোর নোটে, নয় পুরনো পাঁচশ টাকা। পুলিশ ব্যাংকে গিয়ে পালটে নেবে। আমাদের বড়বাজার কেস আর কি। এখানে পাঁচশতে গচ্ছা একশ, ওখানে পুলিশের কাছে দুশো।
সোয়ারী নাক গলাতে গেলে আরো মুশকিল। পুলিশ তখন কঠোর নিয়মানুবর্তী। বলবে,
- এই গাড়ি সাইড কর। এদের অন্য গাড়িতে তুলে দে। তারপর দেখছি।
আমাদের ড্রাইভার পুরনো পাঁচশর নোট দিয়ে রেহাই কিনেছে তাই।

ডিমনিটাইজেশনের ভোগান্তির সাংঘাতিক আঁচ তো পোহাচ্ছেই সাধারণ মানুষ, অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক, ছোট ব্যবসায়ী, দোকানী, চাকুরে, পেনশনার, কৃষক, কে নয়। উপরি পাওনা, অসততার ভাইরাল হয়ে যাওয়া। অনিচ্ছায় অসততার ভাগীদার হচ্ছেন জনধনযোজনার আওতায় থাকা গরীব গুর্বো। সে টাকা ফেরত না দিয়ে যদিও তাদের উপায় নেই। বিহারের দেহাতে বৌ ছেলেকে টাকা পাঠাতে না পেরে চুরি ডাকাতি করতে চাইছে ট্যানারি শ্রমিক।
স্বইচ্ছেয় আরো অসৎ হচ্ছে পুলিশ, কিছু ব্যাংকার, চাটার্ড একাউন্টেন্ট। যারা বাতিল টাকা থেকে চূড়ান্ত মুনাফা লোটার ফন্দিফিকিরে ব্যস্ত। সবার ওপরে রয়েছেন অসৎকুলচূড়ামণি আমাদের কর্পোরেটরা। কোথায় লাগে ড্যানিয়েল বাই আর তার গোয়িং ভাইরাল !

এই অসততার বহুবর্ণ পিরামিডের সামনে বসে আসুন আমরা হ্যান্ড স্যানিটাইজার মাখতে মাখতে পুরো দিশি কায়দায় গলা খুলে গান গাই, 'আল ইজ ওয়েল। '



209 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: d

Re: আল ইজ ওয়েল

হুঁ
Avatar: সিকি

Re: আল ইজ ওয়েল

একদম। এখানেও তাই। ৯ই নভেম্বরের পরে হঠাৎ রাস্তায় অতিসক্রিয় পুলিশ। দরকার না হলেও গাড়ি থামিয়ে পেপার চেক। কারুর না কারুর তো ধরা পড়েই - পল্যুশন সার্টিফিকেট ঠিক নেই বা ইনশিওরেন্স এক্সপায়ার্ড। অমনি পয়সা। এমনিতে এটা চলে মার্চের শেষদিকে, আর দিওয়ালির আগেপিছে। আবার শুরু হয়ে গেছে ডিমানিটাইজেশনের পরে। এটিএমে না গিয়েও পুলিশ একশো টাকর নোট পেয়ে যাচ্ছে।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন