Prativa Sarker RSS feed

Prativa Sarkerএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • জীবন যেরকম
    কিছুদিন আগে ফেসবুকে একটা পোষ্ট করেছিলাম “সাচ্‌ ইজ লাইফ” বলে। কেন করেছিলাম সেটা ঠিক ব্যখ্যা করে বলতে পারব না – আসলে গত দুই বছরে ব্যক্তিগত ভাবে যা কিছুর মধ্যে দিয়ে গেছি তাতে করে কখনও কখনও মনে হয়েছে যে হয়ত এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি মানুষ চট করে হয় না। আমি যেন ...
  • মদ্যপুরাণ
    আমাদের ভোঁদাদার সব ভাল, খালি পয়সা খরচ করতে হলে নাভিশ্বাস ওঠে। একেবারে ওয়ান-পাইস-ফাদার-মাদা...
  • বার্সিলোনা - পর্ব ৩
    ঊনবিংশ শতকের শেষে বা বিংশশতকের প্রথমে বার্সিলোনার যেসব স্থাপত্য তৈরী হয়েছে , যেমন বসতবাটি ক্যাথিড্রাল ইত্যাদি , যে সময়ের সেলিব্রিটি স্থপতি ছিলেন এন্টোনি গাউদি, সেগুলো মধ্যে একটা অপ্রচলিত ব্যাপার আছে। যেমন আমরা বিল্ডিং বলতে ভাবি কোনো জ্যামিতিক আকার। যেমন ...
  • মাসকাবারি বইপত্তর
    অত্যন্ত লজ্জার সাথে স্বীকার করি, আমি রিজিয়া রহমানের নামও জানতাম না। কখনও কোনও আলোচনাতেও শুনি নি। এঁর নাম প্রথম দেখলাম কুলদা রায়ের দেয়ালে, রিজিয়া রহমানের মৃত্যুর পরে অল্প কিছু কথা লিখেছেন। কুলদা'র সংক্ষিপ্ত মূল্যায়নটুকু পড়ে খুবই আগ্রহ জাগে, কুলদা তৎক্ষণাৎ ...
  • ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা... বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ পরিবর্তন হওয়ার দিন
    বিএনপি এখন অস্তিত্ব সংকটে আছে। কিন্তু কয়েক বছর আগেও পরিস্থিতি এমন ছিল না। ক্ষমতার তাপে মাথা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল দলটার। ফলাফল ২০০৪ সালের ২১ আগস্টে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেনেড মেরে হত্যার চেষ্টা। বিরোধীদলের নেত্রীকে হত্যার চেষ্টা করলেই ...
  • তোমার বাড়ি
    তোমার বাড়ি মেঘের কাছে, তোমার গ্রামে বরফ আজো?আজ, সীমান্তবর্তী শহর, শুধুই বেয়নেটে সাজো।সারাটা দিন বুটের টহল, সারাটা দিন বন্দী ঘরে।সমস্ত রাত দুয়ারগুলি অবিরত ভাঙলো ঝড়ে।জেনেছো আজ, কেউ আসেনি: তোমার জন্য পরিত্রাতা।তোমার নমাজ হয় না আদায়, তোমার চোখে পেলেট ...
  • বার্সিলোনা - পর্ব ২
    বার্সিলোনা আসলে স্পেনের শহর হয়েও স্পেনের না। উত্তর পুর্ব স্পেনের যেখানে বার্সিলোনা, সেই অঞ্চল কে বলা হয় ক্যাটালোনিয়া। স্বাধীনদেশ না হয়েও স্বশাসিত প্রদেশ। যেমন কানাডায় কিউবেক। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই মনে হয় এরকম একটা জায়গা থাকে, দেশি হয়েও দেশি না। ...
  • বার্সিলোনা - পর্ব ১
    ঠিক করেছিলাম আট-নয়দিন স্পেন বেড়াতে গেলে, বার্সিলোনাতেই থাকব। বেড়ানোর সময়টুকুর মধ্যে খুব দৌড় ঝাঁপ, এক দিনে একটা শহর দেখে বা একটা গন্তব্যের দেখার জায়গা ফর্দ মিলিয়ে শেষ করে আবার মাল পত্তর নিয়ে পরবর্তী গন্তব্যের দিকে ভোর রাতে রওনা হওয়া, আর এই করে ১০ দিনে ৮ ...
  • লাল ঝুঁটি কাকাতুয়া
    -'একটা ছিল লাল ঝুঁটি কাকাতুয়া।আর ছিল একটা নীল ঝুঁটি মামাতুয়া।'-'এরা কারা?' মেয়েটা সঙ্গে সঙ্গে চোখ বড়ো করে অদ্ভুত লোকটাকে জিজ্ঞেস করে।-'আসলে কাকাতুয়া আর মামাতুয়া এক জনই। ওর আসল নাম তুয়া। কাকা-ও তুয়া বলে ডাকে, মামা-ও ডাকে তুয়া।'শুনেই মেয়েটা ফিক করে হেসে ...
  • স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি
    স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি। আমি স্টার্ট-আপ কোম্পানিতে কাজ করছি ১৯৯৮ সাল থেকে। সিলিকন ভ্যালিতে। সময়ের একটা আন্দাজ দিতে বলি - গুগুল তখনও শুধু সিলিকন ভ্যালির আনাচে-কানাচে, ফেসবুকের নামগন্ধ নেই, ইয়াহুর বয়েস বছর চারেক, অ্যামাজনেরও বেশি দিন হয়নি। ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

আল ইজ ওয়েল

Prativa Sarker

দৈহিক যন্ত্রণার কান্না আর তীব্র আবেগের অশ্রু, যার জন্ম যন্ত্রণাতেই, এই দুটোর মধ্যে তফাৎ করা খুব মুস্কিল এটা বোঝাবার জন্য সোনার গৌর সাহেবজান ঘর ভর্তি দর্শকের সামনে প্রথমে কচকচিয়ে একটি পেঁয়াজ খেলেন, তারপর একটি বিরাট কাঁচা লংকার অর্ধেকটা ! ফলে তার ঈগলচঞ্চু নাসা আরো টকটকে লাল হয়ে গেল, মুখ একটু হাঁ ।
কিন্তু তার চোখে জল এলো না। অথচ সে দৃশ্যে তখন পুরো এক প্লেন ভর্তি মানুষের ছোঁয়াচে হাপুস কান্নারোগে আক্রান্ত হবার কথা বলা হচ্ছিল। ব্যতিক্রম ওই চরিত্রটি।একেবারে শেষে পাগলের মতো হ্যান্ড স্যানিটাইজার ঘষতে ঘষতে সে চেঁচাতে থাকে, everything will get well soon, সব ঠিক হয়ে যাবে, যাবে,যাবে।

তার চিৎকার চারদিকে যে শব্দকুহকের সৃষ্টি করে তা অভ্রান্ত জানায়, কোনকিছুই ঠিক নেই, হবেও না কোনকালে।

আমি বেঙালুরু ব্রিটিশ কাউন্সিলে বিখ্যাত ইংরেজ নাট্যকার ও অভিনেতা ড্যানিয়েল বাই এর "গোয়িং ভাইরাল" নামের একক অভিনয়ের কথা লিখলাম এতক্ষণ। অনেক পুরস্কার টুরস্কার পেয়েছে নাটকটি। চমৎকার দেখিয়েছে কি করে মূহুর্তে ভাইরাল হয়ে যায় নানা অসুখ অথবা মানসিক আতঙ্ক। আর গা ঘেঁষাঘেঁষি করে থাকা ভুবনগ্রামের অধিবাসীরা লহমায় হয়ে পড়ে আরো অসহায়, আরো অরক্ষিত !

নাটক শেষে বহুক্ষণ অন্ধকারে দাঁড়িয়ে রইলাম আমরা। সর্বনাশা ডিমনিটাইজেশনের আতঙ্ক আমাদের আশিরনখ। নাটকের সঙ্গে এমন আত্মিক যোগ কমই হয়!

উবর ট্যাক্সিতে অনেকটা আসবার পর বাঁদিক ঘুরতেই কয়েকজন কর্ণাটকী পুলিশ। কয়েকটা গাড়ি। আমাদেরটাও পাশে দাঁড়িয়ে গেল ঘ্যাঁচ করে। চালক শশব্যস্ত নেমে সেই যে গেল তো গেলই। একটু দূরে আধো অন্ধকারে পুলিশের সঙ্গে তার এতো কি কথা !
আম উশখুশ করছি দেখে সঙ্গী নেমে গেলেন। তিনি ছিলেন দাপুটে সরকারী অফিসার। সব পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবেন ভাবেন।
কিন্তু সবার আগে দৌড়ে এল আমাদের ড্রাইভার,
- সাব, যাইয়ে অন্দর বৈঠিয়ে।
- আরে হুয়া কেয়া ?
- কুছ নেই সাব। আপ বৈঠিয়ে।

কিছুক্ষণ বাদে সে ফিরে এলো বটে, কিন্তু যে কাহিনী শোনালো তাতে নাটকীয় উপাদান গোয়িং ভাইরালের থেকে কম কিছু নয়।
ট্রাফিক লাইট খেয়াল না করে দু পা এগিয়ে গিয়েছিল আমাদের উবর। সেতো হতেই পারে। নিয়ম ভেঙেছ, জরিমানা দাও, বাড়ি যাও। কিন্তু তা নয়, পুলিশ ঘুষ চাইছে। সে ঘুষও বিচিত্র ! হয় তিনশ টাকা দাও, একশোর নোটে, নয় পুরনো পাঁচশ টাকা। পুলিশ ব্যাংকে গিয়ে পালটে নেবে। আমাদের বড়বাজার কেস আর কি। এখানে পাঁচশতে গচ্ছা একশ, ওখানে পুলিশের কাছে দুশো।
সোয়ারী নাক গলাতে গেলে আরো মুশকিল। পুলিশ তখন কঠোর নিয়মানুবর্তী। বলবে,
- এই গাড়ি সাইড কর। এদের অন্য গাড়িতে তুলে দে। তারপর দেখছি।
আমাদের ড্রাইভার পুরনো পাঁচশর নোট দিয়ে রেহাই কিনেছে তাই।

ডিমনিটাইজেশনের ভোগান্তির সাংঘাতিক আঁচ তো পোহাচ্ছেই সাধারণ মানুষ, অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক, ছোট ব্যবসায়ী, দোকানী, চাকুরে, পেনশনার, কৃষক, কে নয়। উপরি পাওনা, অসততার ভাইরাল হয়ে যাওয়া। অনিচ্ছায় অসততার ভাগীদার হচ্ছেন জনধনযোজনার আওতায় থাকা গরীব গুর্বো। সে টাকা ফেরত না দিয়ে যদিও তাদের উপায় নেই। বিহারের দেহাতে বৌ ছেলেকে টাকা পাঠাতে না পেরে চুরি ডাকাতি করতে চাইছে ট্যানারি শ্রমিক।
স্বইচ্ছেয় আরো অসৎ হচ্ছে পুলিশ, কিছু ব্যাংকার, চাটার্ড একাউন্টেন্ট। যারা বাতিল টাকা থেকে চূড়ান্ত মুনাফা লোটার ফন্দিফিকিরে ব্যস্ত। সবার ওপরে রয়েছেন অসৎকুলচূড়ামণি আমাদের কর্পোরেটরা। কোথায় লাগে ড্যানিয়েল বাই আর তার গোয়িং ভাইরাল !

এই অসততার বহুবর্ণ পিরামিডের সামনে বসে আসুন আমরা হ্যান্ড স্যানিটাইজার মাখতে মাখতে পুরো দিশি কায়দায় গলা খুলে গান গাই, 'আল ইজ ওয়েল। '



174 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: d

Re: আল ইজ ওয়েল

হুঁ
Avatar: সিকি

Re: আল ইজ ওয়েল

একদম। এখানেও তাই। ৯ই নভেম্বরের পরে হঠাৎ রাস্তায় অতিসক্রিয় পুলিশ। দরকার না হলেও গাড়ি থামিয়ে পেপার চেক। কারুর না কারুর তো ধরা পড়েই - পল্যুশন সার্টিফিকেট ঠিক নেই বা ইনশিওরেন্স এক্সপায়ার্ড। অমনি পয়সা। এমনিতে এটা চলে মার্চের শেষদিকে, আর দিওয়ালির আগেপিছে। আবার শুরু হয়ে গেছে ডিমানিটাইজেশনের পরে। এটিএমে না গিয়েও পুলিশ একশো টাকর নোট পেয়ে যাচ্ছে।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন