অনিকেত পথিক RSS feed

[email protected]
নামেই পরিচয়

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • আমাদের চমৎকার বড়দা প্রসঙ্গে
    ইয়ে, স-অ-অ-অ-ব দেখছে। বড়দা সব দেখছে। বড়দা স্রেফ দেখেনি ওইখানে এক দিন রাম জন্মালেন, তার পর কারা বিদেশ থেকে এসে যেন ভেঙেটেঙে মসজিদ স্থাপন করল, কেন না বড়দা তখন ঘুমোচ্ছিলেন। ঘুম ভাঙল যখন, চোখ কচলেটচলে দেখলেন মস্ত ব্যাপার এ, বড়দা বললেন, ভেঙে ফেলো মসজিদ, জমি ...
  • ধর্ষকের মৃত্যুদন্ড দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ?
    যেকোন নারকীয় ধর্ষণের ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়ে সামনে আসার পর নাগরিক হিসাবে আমাদের একটা ঈমানি দায়িত্ব থাকে। দায়িত্বটা হল অভিযুক্ত ধর্ষকের কঠোরতম শাস্তির দাবি করা। কঠোরতম শাস্তি বলতে কারোর কাছে মৃত্যুদন্ড। কেউ একটু এগিয়ে ধর্ষকের পুরুষাঙ্গ কেটে নেওয়ার ...
  • তোমার পূজার ছলে
    বাঙালি মধ্যবিত্তের মার্জিত ও পরিশীলিত হাবভাব দেখতে বেশ লাগে। অপসংস্কৃতি নিয়ে বাঙালি চিরকাল ওয়াকিবহাল ছিল। আজও আছে। বেশ লাগে। কিন্তু, বুকে হাত দিয়ে বলুন, আপনার প্রবল ক্ষোভ ও অপমানে আপনার কি খুব পরিশীলিত, গঙ্গাজলে ধোওয়া আদ্যন্ত সাত্ত্বিক শব্দ মনে পড়ে? না ...
  • The Irishman
    দা আইরিশম্যান। সিনেমা প্রেমীদের জন্য মার্টিন স্করসিসের নতুন বিস্ময়। ট্যাক্সি ড্রাইভার, গুডফেলাস, ক্যাসিনো, গ্যাংস অব নিউইয়র্ক, দা অ্যাভিয়েটর, দ্য ডিপার্টেড, শাটার আইল্যান্ড, দ্য উল্ফ অব ওয়াল স্ট্রিট, সাইলেন্টের পরের জায়গা দা আইরিশম্যান। বর্তমান সময়ের ...
  • তোকে আমরা কী দিইনি?
    পূর্ণেন্দু পত্রী মশাই মার্জনা করবেন -********তোকে আমরা কী দিইনি নরেন?আগুন জ্বালিয়ে হোলি খেলবি বলে আমরা তোকে দিয়েছি এক ট্রেন ভর্তি করসেবক। দেদার মুসলমান মারবি বলে তুলে দিয়েছি পুরো গুজরাট। তোর রাজধর্ম পালন করতে ইচ্ছে করে বলে পাঠিয়ে দিয়েছি স্বয়ং আদবানীজীকে, ...
  • ইশকুল ও আর্কাদি গাইদার
    "জাহাজ আসে, বলে, ধন্যি খোকা !বিমান আসে, বলে, ধন্যি খোকা !এঞ্জিনও যায়, ধন্যি তোরে খোকা !আসে তরুণ পাইওনিয়র,সেলাম তোরে খোকা !"আরজামাস বলে একটা শহর ছিল। ছোট্ট শহর, অনেক দূরের, অন্য মহাদেশে। অনেক ছোটবেলায় চিনে ফেলেছিলাম। ভৌগোলিক দূরত্ব টের পাইনি।টের পেতে দেননি ...
  • ছন্দহীন কবিতা
    একদিন দুঃসাহসের পাখায় ভর করে,ছুঁতে চেয়েছিলাম কবিতার শরীর ।দ্বিখন্ডিত বাংলার মত কবিতা হয়ে উঠলোছন্দহীন ।অর্থহীন যাত্রার “কা কা” চিৎকারে,ছুটে এলোপ্রতিবাদী পাঠক।ছন্দভঙ্গের নায়কডানা ভেঙ্গে পড়িপুঁথি পুস্তকের এক দোকানে।আলোক প্রাপ্তির প্রত্যাশায়,যোগ ধ্যানে কেটে ...
  • হ্যালোউইনের ভূত
    হ্যালোউইন চলে গেল। আমাদের বাড়িতে হ্যালোউইনের রীতি হল মেয়েরা বন্ধুদের সঙ্গে ট্রিক-অর-ট্রিট করতে বেরোয় দল বেঁধে। পেছনে পেছনে চলে মায়েদের দল। আর আমি বাড়িতে থাকি ক্যান্ডি বিতরণ করব বলে। মুহূর্মুহূ কলিং বেল বাজে, আমি হাসি-হাসি মুখে ক্যান্ডির গামলা নিয়ে দরজা ...
  • হয়নি
    তুমি ভালবাসতে চেয়েছিলে।আমিও ।হয়নি।তুমিঅনেক দূর অব্দি চলে এসেছিলে।আমিও ।হয়নি আর পথ চলা।তুমি ফিরে গেলে,জানালে,ভালবাসতে চেয়েছিলেহয়নি। আমি জানলামচেয়ে পাইনি।হয়নি।জলভেজা চোখে ভেসে গেলআমাদের অতীত।স্মিত হেসে সামনে এসে দাঁড়ালোপথদুজনার দু টি পথ।সেপ্টেম্বর ২২, ...
  • তিরাশির শীত
    ১৯৮৩ র শীতে লয়েডের ওয়েস্টইন্ডিজ ভারতে সফর করতে এলো। সেই সময়কার আমাদের মফস্বলের সেই শীতঋতু, তাজা খেজুর রস ও রকমারি টোপা কুলে আয়োজিত, রঙিন কমলালেবু-সুরভিত, কিছু অন্যরকম ছিলো। এত শীত, এত শীত সেই অধুনাবিস্মৃত কালে, কুয়াশাআচ্ছন্ন পুকুরের লেগে থাকা হিমে মাছ ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

ফুলবিলাসীর সংশয় এবং...

অনিকেত পথিক

দেখতে দেখতে ডিসেম্বর এসে গেল। শীতকাল আসুক না আসুক, নতুন ৫০০ নোট বাজারে মিলুক না মিলুক, এ টি এম-এ টাকা থাকুক না থাকুক, মরসুমী ফুলের চারা বসানোর সময় এসে গেছে। আর ওইখানে দেরী নট অ্যালাওড ! কুচি কুচি টবে কিম্বা কাগজ মুড়ে ছোট ছোট বান্ডিলে চারা নিয়ে রাস্তার ধারে, দোকানের রোয়াকে যেখানে সেখানে চাটাই পেতে বসে পড়তে দেখা যাচ্ছে চারা ব্যাপারীদের। ফুলবিলাসীর এখন টেনশনের শেষ নেই। এই যে বর্ষা পেরিয়ে পুজোটাও যেতে না যেতেই চন্দ্রমল্লিকায় কুঁড়ি এসে যায় হৈ হৈ করে, এ ভারী জ্বালাতন। একবার কুঁড়ি এসে গেলে গাছগুলোর আর কিছু করা যায় না। তবে দোষ আপনারও কম নয়, বর্ষার শেষের দিকে যখন এই চারা গুলো লকলকিয়ে বেড়ে উঠেছিল তখনই তো তাদের আগাটি কুচ করে কেটে ফেলা উচিৎ ছিল যাতে সঠিক সময়ে সঠিক আকৃতির চারা পান। আর পুরোনো চারা কাটাকুটি করে নতুন গাছ তখনই তৈরী করে নেওয়া দরকার ছিল কিন্তু তখন সেসব কিছুই করেননি। চন্দ্রমল্লিকার ডাল কেটে নতুন চারা বসিয়েছেন কিন্তু পুরনো গোড়াটি কি দোষ করেছে ভেবে মায়া বশতঃ তাকেও ত্যাগ করেননি, এখন আর দুঃখ করে কি হবে ! সেই লতিয়ে যাওয়া ডালই টেনেটুনে বেঁধে গোড়া খুঁড়ে সারটার দিয়ে এখন স্রেফ অপেক্ষা। নাহ এই ডিসেম্বরের শুরুতেও কোনো হিন্ট নেই কবে কোন কুঁড়ি ফুটে কি রঙের ছানা থুড়ি ফুল বেরোয়। কিন্তু কালো কালো পোকার আমদানী হয়ে গেছে ডগায়। এদিকে পিটুনিয়া, ক্যালেন্ডুলা, প্যাঞ্জি, কসমস শুধু বসেই যায়নি দাঁড়িয়েও গেছে, বাড়ছে তরতর করে। কিন্তু গোল গোল পদ্মপাতার মত যে নস্টাশিয়াম, তিনি এখনও দেখা দেন নি। অ্যাস্টরের চারা বসে গেছে কিন্তু এখনও আই-সি-ইউ দশা কাটেনি। রাতে শিশির থেরাপি আর দিনের বেলায় ছায়া থেরাপি চলছে। এই পর্ব কাটিয়ে কবে যে ওরা পাতা মেলবে, আদৌ মেলতে পারবে ক’জন তাও এখন বলা যাচ্ছে না।

নভেম্বরের মাঝামাঝি এই কুচি কুচি চারা রোপণ করার পর ভারী মজার (ঝামেলারও) একটা ব্যাপার হয়। চারা লাগানো টবগুলো দোতলা থেকে দেখলে বিশ্বাসই করতে পারবেন না যে ওতে আদৌ সবুজ কিছু আছে, যেন শুধু মাটি। বিশ্বাস হবে না, আবার নীচে নেমে দেখে আসতে হবে, আছে তো ! জল দিতে গেলেন তো কেত্‌রে পড়ে মাটির সঙ্গে মিশেই গেল, তখন তাকে আবার কাঠি দিয়ে ঠেলে তোলা। তারপর আপনার পরিবেশের যাবতীয় পক্ষীকূল, চড়াই, শালিখ, টুনটুনি কখন যে এসে টুক করে আপনার পিটুনিয়ার কচি ডগাটি কি ডায়ান্থসের পাতাগুলো কেটে সাফ করে রেখে যাবে টেরটি পাবেন না। এসব এড়াতে কচি চারা ঘিরে কাঠির বেড়া দেবেন, দিন কিন্তু গাছটা একটু বড় হলে সময় মত বেড়াটা সরিয়ে নিতে হবে না হলে গাছে বাড় ভালো হবে না !

এভাবেই চলুক এই মাসটা, নজরদারিতে। বছরের শেষে কিছু না কিছু হাতে আসবেই নিশ্চিত। নজরদারি মানে কিন্তু অনেকের কাছে ঘন্টায় ঘন্টায় (মিনিটে মিনিটে বললে ঠিক হত) গিয়ে দেখে আসা মাঝখানের কুচি পাতাটি কত ন্যানোমিটার বাড়ল ! মাঝের পাতাটি বাড়ছে মানে চারাটির আই-সি-ইউ থেকে বেরোবার চান্স আছে। কিন্তু এহ বাহ্য। ফুলবিলাসীর জীবনে কিছু সংশয় আছে, কঠিনতর। যেমন ঘোর গ্রীষ্মে কি ঘনঘোর বর্ষায় যখন এই আহ্লাদী ফুলেরা ছিল না, আপনার টবের মাটিতে আপনমনেই বেড়ে উঠেছিল গোলাপী সাদা নয়নতারা, একপাটী অপরাজিতা, সবুজের ওপর লাল-সাদা ছিট বাহারী কচুপাতা, অযত্নের পাথরকুচি আর নাম না জানা ছোট্ট ছোট্ট গাছে কুচি কুচি ঘন নীল ফুল। সেদিন বর্ষার জলে সতেজ সবুজ সেই চারাই ছিল আপনার শখের বাগান আপনার মুক্তি তাই আপনিও তাদের বাড়তে দিয়েছেন, ইচ্ছেমত, এমনকি জলও (মানে তোল্লাই) দিয়েছেন কখনও কখনও। আজও তারা অনেকেই আছে তেমনই সুন্দর কিন্তু এই ফুলে ফুলে প্রফুল্ল হওয়ার দিনে যখন টবে টানাটানি পড়ছে তখন টান পড়ছে ওই অযত্নের সবুজের বরাদ্দে। ওদের উৎখাত করে টব খালি না করলে যথেষ্ট মরসুমী ফুল ফোটান যাবে না। কিন্তু ওদের গোড়ায় কোপ মারতে গিয়ে আমি জানি হে প্রেমিক, আপনার ভুরুতে খাঁজ মনে গভীর সংশয়। এই গাছগুলোর দোষ কোথায় ? ওরা তো ওদের কাজ করেছে, পাতা দিয়ে রঙ দিয়ে ফুল দিয়েও ভরে রেখেছে আপনার বেরঙিন ঋতু। আর আপনিও যদি বিলাসী না হয়ে প্রেমিক হয়ে থাকেন আপনার কাছে তো গাছে গাছে এমন তফাত হবার কথা নয় যাতে একজনকে জায়গা দিতে আর একজনকে উৎখাত হতে হয় (প্রাণ দিতে হয়-টয় বল্লাম না, কেমন সৈনিক সৈনিক শোনায় !)। তাহলে ?

তাহলে এই হল যে শেষ অবধি টব খালি করার বাসনা ত্যাগ করে আপনি আবার চল্লেন বাজারে, চারা, সার ইত্যাদির সঙ্গে দু-চারটি টবও এল বাড়িতে, পরের দিন সকালে হাঁটতে বেরোবার সময় লুকিয়ে লুকিয়ে ঝোলায় নিলেন দুটো পলিথিন ব্যাগ, একটা খুরপি, মাঠে-ঘাটে কোথাও মাটি কাটা দেখলে যাতে চুপচাপ ভরে নেওয়া যায়। ফিরে আসার পর যতই লুকিয়ে রাখুন শত্রুপক্ষের চোখে ঠিক পড়ে গেল আবার কিছু গুলিবর্ষণ, সেসবে কান না দেওয়ার ট্রেনিং তো আপনার আছেই। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলেন আর নয়, টবের সংখ্যা আর কিছুতেই বাড়াবেন না ইত্যাদি। কিন্তু সে সব তো পরের বছরের কথা আপাততঃ আসুন মাটিটা ঠিকঠাক করে সার মিশিয়ে নতুন টবগুলোয় ভরে ফেলি, তারপর চারাগুলো, ছায়ায় রেখে দিই, রাতে শিশির...চলুক।

পাশাপাশি জেনে নিন, কবিও আপনার এই সংশয় নিয়ে কি বলিয়াছেন।

# ফুল ফুটুক না ফুটুক আমি বারান্দার টবগুলোয় জল দিয়ে চলি
মাটি খুঁড়ে দিই সময়মতো সার আর মাপমত ভালোবাসা মিশিয়ে দিই মাটিতে
যাতে ফুল ফুটুক না ফুটুক গাছের কোনো অভিমান না থাকে
আমার পরিপাটি আদর বিন্দু বিন্দু জলকণা পৌঁছে যায় দেখতে না পাওয়া শেকড়ের কাছে
অব্যর্থ
অদৃশ্য সমঝোতা বেড়ে চলে সমান্তরালে
ফুল কিম্বা পাতা নয় গোটাগুটি গাছটার সঙ্গে

কিন্তু মাটি কিঞ্চিৎ দ্বিধাগ্রস্ত তার অঙ্গীকার কার কাছে--
আমি গাছগুলোর গোড়ায় জল দিয়ে চলি মাটি খুঁড়ে দিই সার মেশাই আর ভালবাসাও পরিমাণমত
শুধু গাছ আর আগাছায় এখন আর তফাৎ করতে পারি না ।।


436 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: sch

Re: ফুলবিলাসীর সংশয় এবং...

খুব ভালো লাগল। বিশেষ বিশেষ গাছের জন্য মাটি তৈরীর কিছু টিপস পেলে ভালো লাগত।
" আপনার কাছে তো গাছে গাছে এমন তফাত হবার কথা নয় যাতে একজনকে জায়গা দিতে আর একজনকে উৎখাত হতে হয় " - একদম
Avatar: Ela

Re: ফুলবিলাসীর সংশয় এবং...

আহা বড্ড মনের মত লেখা!


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন