Atanu Sanpui RSS feed

Atanu Sanpuiএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • বার্সিলোনা - পর্ব ২
    বার্সিলোনা আসলে স্পেনের শহর হয়েও স্পেনের না। উত্তর পুর্ব স্পেনের যেখানে বার্সিলোনা, সেই অঞ্চল কে বলা হয় ক্যাটালোনিয়া। স্বাধীনদেশ না হয়েও স্বশাসিত প্রদেশ। যেমন কানাডায় কিউবেক। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই মনে হয় এরকম একটা জায়গা থাকে, দেশি হয়েও দেশি না। ...
  • বার্সিলোনা - পর্ব ১
    ঠিক করেছিলাম আট-নয়দিন স্পেন বেড়াতে গেলে, বার্সিলোনাতেই থাকব। বেড়ানোর সময়টুকুর মধ্যে খুব দৌড় ঝাঁপ, এক দিনে একটা শহর দেখে বা একটা গন্তব্যের দেখার জায়গা ফর্দ মিলিয়ে শেষ করে আবার মাল পত্তর নিয়ে পরবর্তী গন্তব্যের দিকে ভোর রাতে রওনা হওয়া, আর এই করে ১০ দিনে ৮ ...
  • লাল ঝুঁটি কাকাতুয়া
    -'একটা ছিল লাল ঝুঁটি কাকাতুয়া।আর ছিল একটা নীল ঝুঁটি মামাতুয়া।'-'এরা কারা?' মেয়েটা সঙ্গে সঙ্গে চোখ বড়ো করে অদ্ভুত লোকটাকে জিজ্ঞেস করে।-'আসলে কাকাতুয়া আর মামাতুয়া এক জনই। ওর আসল নাম তুয়া। কাকা-ও তুয়া বলে ডাকে, মামা-ও ডাকে তুয়া।'শুনেই মেয়েটা ফিক করে হেসে ...
  • স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি
    স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি। আমি স্টার্ট-আপ কোম্পানিতে কাজ করছি ১৯৯৮ সাল থেকে। সিলিকন ভ্যালিতে। সময়ের একটা আন্দাজ দিতে বলি - গুগুল তখনও শুধু সিলিকন ভ্যালির আনাচে-কানাচে, ফেসবুকের নামগন্ধ নেই, ইয়াহুর বয়েস বছর চারেক, অ্যামাজনেরও বেশি দিন হয়নি। ...
  • মৃণাল সেন : এক উপেক্ষিত চলচ্চিত্রকার
    [আজ বের্টোল্ট ব্রেশট-এর মৃত্যুদিন। ভারতীয় চলচ্চিত্রে যিনি সার্থকভাবে প্রয়োগ করেছিলেন ব্রেশটিয় আঙ্গিক, সেই মৃণাল সেনকে নিয়ে একটি সামান্য লেখা।]ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কীভাবে যেন পরিচালক ত্রয়ী সত্যজিৎ-ঋত্বিক-মৃণাল এক বিন্দুতে এসে মিলিত হন। ১৯৫৫-তে মুক্তি ...
  • দময়ন্তীর সিজনস অব বিট্রেয়াল পড়ে
    পড়লাম সিজনস অব বিট্রেয়াল গুরুচন্ডা৯'র বই দময়ন্তীর সিজনস অব বিট্রেয়াল। বইটার সঙ্গে যেন তীব্র সমানুভবে জড়িয়ে গেলাম। প্রাককথনে প্রথম বাক্যেই লেখক বলেছেন বাঙাল বাড়ির দ্বিতীয় প্রজন্মের মেয়ে হিসেবে পার্টিশন শব্দটির সঙ্গে পরিচিতি জন্মাবধি। দেশভাগ কেতাবি ...
  • দুটি পাড়া, একটি বাড়ি
    পাশাপাশি দুই পাড়া - ভ-পাড়া আর প-পাড়া। জন্মলগ্ন থেকেই তাদের মধ্যে তুমুল টক্কর। দুই পাড়ার সীমানায় একখানি সাতমহলা বাহারী বাড়ি। তাতে ক-পরিবারের বাস। এরা সম্ভ্রান্ত, উচ্চশিক্ষিত। দুই পাড়ার সাথেই এদের মুখ মিষ্টি, কিন্তু নিজেদের এরা কোনো পাড়ারই অংশ মনে করে না। ...
  • পরিচিতির রাজনীতি: সন্তোষ রাণার কাছে যা শিখেছি
    দিলীপ ঘোষযখন স্কুলের গণ্ডি ছাড়াচ্ছি, সন্তোষ রাণা তখন বেশ শিহরণ জাগানাে নাম। গত ষাটের দশকের শেষার্ধ। সংবাদপত্র, সাময়িক পত্রিকা, রেডিও জুড়ে নকশালবাড়ির আন্দোলনের নানা নাম ছড়িয়ে পড়ছে আমাদের মধ্যে। বুঝি না বুঝি, পকেটে রেড বুক নিয়ে ঘােরাঘুরি ফ্যাশন হয়ে ...
  • দক্ষিণের কড়চা
    (টিপ্পনি : দক্ষিণের কথ্যভাষার অনেক শব্দ রয়েছে। না বুঝতে পারলে বলে দেব।)দক্ষিণের কড়চা▶️এখানে মেঘ ও ভূমি সঙ্গমরত ক্রীড়াময়। এখন ভূমি অনাবৃত মহিষের মতো সহস্রবাসনা, জলধারাস্নানে। সামাদভেড়ির এই ভাগে চিরহরিৎ বৃক্ষরাজি নুনের দিকে চুপিসারে এগিয়ে এসেছে যেন ...
  • জোড়াসাঁকো জংশন ও জেনএক্স রকেটপ্যাড-১৪
    তোমার সুরের ধারা ঝরে যেথায়...আসলে যে কোনও শিল্প উপভোগ করতে পারার একটা বিজ্ঞান আছে। কারণ যাবতীয় পারফর্মিং আর্টের প্রাসাদ পদার্থবিদ্যার সশক্ত স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে থাকে। পদার্থবিদ্যার শর্তগুলি পূরণ হলেই তবে মনন ও অনুভূতির পর্যায় শুরু হয়। যেমন কণ্ঠ বা যন্ত্র ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

পুজোর চিঠি/ পর্ব 1

Atanu Sanpui

।।।ষষ্ঠীর চিঠি।।।

বিয়াস,
সেলফি স্টিক দিয়ে বর্তমানকে আঁকড়ে ধরার ক্ষমতা আমার নেই, তুমি জানো। আঙুলের ফাঁক গলে হারিয়ে যাওয়া পেজার আর ফ্লপির সময়ের পুজোর মধ্যে দিয়েই আমি তোমাকে আমাকে খুঁজে পাই। গত বছর সেই মন খুঁড়ে পাওয়া কিছু মুহূর্ত পুজোর দিনগুলোয় তোমায় দিতে চেয়েছিলাম। যে পুজো আজ আর আমরা যাপন করি না। সে পুজোর হদিশ নিতে গেলে নিজেকে জাতিস্মর মনে হয়। তখন চতুর্থী থেকে ঠাকুর দেখা শুরু হত না। বরং উল্টোটা হত। ষষ্ঠী সকালেও পুজো আসছে পুজো আসছে .. রেশ রয়ে যেত। পুজোর জমানো নতুন জামার বদলে আগের বারের সবচেয়ে ভালো জামাটা বরাদ্দ থাকতো ষষ্ঠীর জন্য। এখন তো ষষ্ঠীতেই পুজো মাঝআকাশে। আর তখন বাড়ি বাড়ি নতুন জামা কাপড় দেওয়া চলতো ষষ্ঠীতেও। সেই ষষ্ঠীতে আমার উপর ভার পড়েছিল রাঙাপিসির জন্য কেনা ঝুম্পা লাহিড়ির 'নেমসেক', দমিনিক লাপিয়ারের 'ফাইভ পাস্ট মিডনাইট অ্যাট ভোপাল' আর একটা নতুন শাড়ি পৌঁছে দেওয়ার। রাঙাপিসিকে তোমার মনে আছে বিয়াস? সেই যে বাবার পাতানো দিদি। তিনকুলে কেউ নেই। চুঁচড়ায় থাকতেন। আগের দিন বাবা যখন চুঁচড়া যেতে বললেন, আমি তো 'না' বলতে পারলাম না। একে আমায় দিয়ে নাকি কোনও কাজই হয় না। তাও একটা দায়িত্ব দেওয়ার পর যদি আমতা আমতা করি.. কিন্তু এটাও জানতাম, চুঁচড়ায় আপ ডাউন মানে ষষ্ঠীটা গেল ট্রেন আর স্টিমারের খাতায়। যে খাতার কোনও পাতায় বিয়াস থাকবে না। মিনমিন করে তোমায় বলেছিলাম। লাফিয়ে উঠে বলেছিলে- "তোমার সত্যিই বুদ্ধি নেই। আমি বলে তাই এতদিন তোমায়....।" আমি বোঝাতে গেলাম, আমি সত্যিই নিরুপায়। তুমি বললে-"বুদ্ধুরাম, এটা তো আরও ভালো হল। আমিও যাব তোমার সঙ্গে। ট্রেনে চেপে, স্টিমারে চড়ে..তোমার গা ঘেঁষে। কেউ চিনবে না। জানতেও চাইবে না।" -"কিন্তু.. মানে.. রাঙাপিসিকে কী বলবো? আর বাড়িতে?".... "উফ্। বাড়িতে কিচ্ছু বলতে হবে না। আর তোমার রাঙাপিসিকে যা বলার আমি বলব। তুমি হাঁদারাম সেজে দাঁড়িয়ে থেকো। ওকে?" এরপর আর কী বলবো? নিজেই শুধু নিজেকে বোঝালাম, রাঙাপিসির বাড়ি টেলিফোন নেই। সুতরাং দুর্ঘটনা ঘটলেও তার আঁচ পেতে পেতে আরও মাসচারেক। ষষ্ঠী সকালে স্টেশনে যাওয়ার অটোতে উঠে বেশ বীরপুরুষের মতো বললাম,"তাহলে? চললে বিয়াস চুঁচড়ায়। তোমার পিসিশাশুড়ির সঙ্গে দেখা করতে.. "।.... "মোটেও না। আমি তো বাড়িতে বলেছি, দোয়েলের জ্যাঠতুতো দিদির হবু শ্বশুরবাড়ি বিরাট বড় পুজো হয়। সব বন্ধুদের ডেকেছে। তাই কোন্নগরে যাচ্ছি।"
স্টেশনে টিকিট কাটতে গিয়ে বুঝলাম, কেমন যেন মনে হচ্ছে বড় হয়ে গেলাম। এই প্রথম ট্রেনে কারও সঙ্গে যাব। যার দায়িত্ব আমার। নৈহাটি পর্যন্ত ঘণ্টাখানেকের জার্নি। তার মধ্যে ওই বড় হয়ে যাওয়ার অনুভূতি আর কোনও কিছু মাথায় আসতে দেয়নি। এরপর ফেরিঘাট-স্টিমার.. এবং টেনশন। মাঝে বারদুয়েক জানতে চেয়েছিলাম, কী বলবে রাঙাপিসিকে? জবাব মেলেনি।
পুরনো দিনের বাড়ি। খুব বড় নয়। তবে কোয়ার্টারে বড় হওয়া আমার চোখে জমিদার বাড়ির থেকে ছোটও নয়। একাই থাকেন, সঙ্গে পঞ্চু কাকা সবসময়। রিকশ থেকে নামতেই দরজা খুলে বেরিয়ে এলেন কচ-দেবযানী-নোয়ার নৌকো-ইব্রাহিম আর শার্লামেনের গল্প বলা রাঙাপিসি। আমার জীবনের খুব কম মানুষদের একজন, যাঁকে দেখলেই পা ছুঁতে ইচ্ছে করে। ঘরে ঢুকে প্রণাম করে বললাম,-" ওই ও হল বিয়াস.. " থামিয়ে দিয়ে বললেন, "কথা বলতে পারে না বুঝি? কি গো মেয়ে?" তারপর তোমার হাত ধরে জানতে চাইলেন, বাড়িতে সবাই ভালো আছেন কি না? ঘাড় হেলিয়ে তুমি বলেছিলে "জানো রাঙাপিসি, ও আমায় আনতে চাইছিল না।" সত্যিই বিয়াস। সে দিন আরও একবার মনে হয়েছিল "দেয়ার আর মোর থিংস ইন হিভেন অ্যান্ড আর্থ হোরাশিও.." কী নিষ্ঠুরের মতো আমায় ঠেলে দুজন দুজনকে আপন করে নিয়েছিলে সে দিন
। জলখাবারের পরে রাঙাপিসি গেলেন রান্না করতে আর আমার উপর ভার পড়ল বাড়ির পিছন দিকের ওই হিজলের ছায়া মেলে দেওয়া রাস্তা ধরে তোমায় যেন গঙ্গার ঘাট পর্যন্ত ঘুরিয়ে আনি। আধভাঙা ঘাটের সিঁড়িতে বসে তোমার দিকে তাকিয়ে ছিলাম .. ঢাক বাজছিল অনেক দুরে .. সেও এক ষষ্ঠী। কতক্ষণ পরে জানিনা, পঞ্চুকাকার ডাকে ফিরে এলাম নেশাতুর দুটো মন। দুপুরে খেতে বসে দেখলাম, একজনের জন্যেই থালা সাজানো। উত্তর এল -"মা বেটিতে পরে খাব আমরা। তুই আগে খেয়ে নে।"
নিরালা দুপুরে ঘুঘুটাও ডাকতে ডাকতে একটু জিরিয়ে নিচ্ছে তখন। বড় পালঙ্কের একধারে হেলান দিয়ে রাঙাপিসি, তাঁর কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছো তুমি। সামনে বসে আমি পড়ে শোনাচ্ছি হেলাল হাফিজ। "এখন তুমি কোথায় আছো কেমন আছো, পত্র দিয়ো/এক বিকেলে মেলায় কেনা খামখেয়ালী তাল পাখাটা/খুব নিশীথে তোমার হাতে কেমন আছে, পত্র দিয়ো.." একবার চোখ তুলে দেখলাম, তোমার মাথায় পরম মমতায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন রাঙাপিসি। তুমি আর পিসি দুজনেরই চোখ জানালা ছাড়িয়ে অনেক দূরে..আবার পড়তে শুরু করলাম, "আমি না হয় ভালোবেসেই ভুল করেছি ভুল করেছি/নষ্ট ফুলের পরাগ মেখে/পাঁচ দুপুরের নির্জনতা খুন করেছি, কী আসে যায়?"
ফেরার সময় সারা রাস্তা তুমি একটাও কথা বলোনি সেদিন। একবার শুধু বলেছিলে, "কথা দাও, আমাদের বিয়েতে রাঙাপিসি কনেপক্ষ হবে।" তোমার বিয়ের পরে আর একবার চুঁচড়ায় গিয়েছিলাম। সেই শেষবার। সারাদিন ছিলাম। অনেক গল্প করেছিলাম। কিন্তু তোমার কথা রাঙাপিসি একবারও তোলেননি। আসার সময় শুধু মাথায় হাত বুলিয়ে বলেছিলেন,-"ভালো থাকিস। বিয়াসের সঙ্গে আবার যে দিন দেখা হবে, সে দিন যেন তোকে দেখে মেয়েটা কষ্ট না পায় দেখিস।"

বিয়াস, তোমার আমার আর রাঙাপিসির কোনও গ্রুপ্ফি তোলা নেই। তাই এই চিঠিই সম্বল।

শুভষষ্ঠী।।


#পুজোর_চিঠি
-অতনু।।
7 অক্টোবর, 2016









174 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: রৌহিন

Re: পুজোর চিঠি/ পর্ব 1

পরের লেখাটার লিঙ্ক আগের লেখাটায় এড করে দে। দারুণ লেখাগুলো
Avatar: সিকি

Re: পুজোর চিঠি/ পর্ব 1

এইটা আমি মিস করে গেছিলাম? কী করে সম্ভব?


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন