Swarnendu Sil RSS feed

Swarnendu Silএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • দক্ষিণের কড়চা
    গরু বাগদির মর্মরহস্য➡️মাঝে কেবল একটি একক বাঁশের সাঁকো। তার দোসর আরেকটি ধরার বাঁশ লম্বালম্বি। সাঁকোর নিচে অতিদূর জ্বরের মতো পাতলা একটি খাল নিজের গায়ে কচুরিপানার চাদর জড়িয়ে রুগ্ন বহুকাল। খালটি জলনিকাশির। ঘোর বর্ষায় ফুলে ফেঁপে ওঠে পচা লাশের মতো। যেহেতু এই ...
  • বাংলায় এনআরসি ?
    বাংলায় শেষমেস এনআরসি হবে, না হবে না, জানি না। তবে গ্রামের সাধারণ নিরক্ষর মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আজ ব্লক অফিসে গেছিলাম। দেখে তাজ্জব! এত এত মানু্ষের রেশন কার্ডে ভুল! কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানলাম প্রায় সবার ভোটারেও ভুল। সব আইকার্ড নির্ভুল আছে এমন ...
  • যান্ত্রিক বিপিন
    (১)বিপিন বাবু সোদপুর থেকে ডি এন ৪৬ ধরবেন। প্রতিদিন’ই ধরেন। গত তিন-চার বছর ধরে এটাই বিপিন’বাবুর অফিস যাওয়ার রুট। হিতাচি এসি কোম্পানীর সিনিয়র টেকনিশিয়ন, বয়েস আটান্ন। এত বেশী বয়েসে বাড়ি বাড়ি ঘুরে এসি সার্ভিসিং করা, ইন্সটল করা একটু চাপ।ভুল বললাম, অনেকটাই চাপ। ...
  • কাইট রানার ও তার বাপের গল্প
    গত তিন বছর ধরে ছেলের খুব ঘুড়ি ওড়ানোর শখ। গত দুবার আমাকে দিয়ে ঘুড়ি লাটাই কিনিয়েছে কিন্তু ওড়াতে পারেনা - কায়দা করার আগেই ঘুড়ি ছিঁড়ে যায়। গত বছর আমাকে নিয়ে ছাদে গেছিল কিন্তু এই ব্যপারে আমিও তথৈবচ - ছোটবেলায় মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল ঘুড়ি ওড়ানো "বদ ছেলে" দের ...
  • কুচু-মনা উপাখ্যান
    ১৯৮৩ সনের মাঝামাঝি অকস্মাৎ আমাদের বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ(ক) শ্রেণী দুই দলে বিভক্ত হইয়া গেল।এতদিন ক্লাসে নিরঙ্কুশ তথা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করিয়া ছিল কুচু। কুচুর ভাল নাম কচ কুমার অধিকারী। সে ক্লাসে স্বীয় মহিমায় প্রভূত জনপ্রিয়তা অর্জন করিয়াছিল। একটি গান অবিকল ...
  • 'আইনি পথে' অর্জিত অধিকার হরণ
    ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম ও কর্পোরেট পুঁজির স্বার্থে, দীর্ঘসংগ্রামে অর্জিত অধিকার সমূহকে মোদী সরকার হরণ করছে— আলোচনা করলেন রতন গায়েন। দেশে নয়া উদারবাদী অর্থনীতি লাগু হওয়ার পর থেকেই দক্ষিণপন্থার সুদিন সূচিত হয়েছে। তথাপি ১৯৯০-২০১৪-র মধ্যবর্তী সময়ে ...
  • সম্পাদকীয়-- অর্থনৈতিক সংকটের স্বরূপ
    মোদীর সিংহগর্জন আর অর্থনৈতিক সংকটের তীব্রতাকে চাপা দিয়ে রাখতে পারছে না। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে ভারতের অর্থনীতি সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। সংকট কতটা গভীর সেটা তার স্বীকারোক্তিতে ধরা পড়েনি। ধরা পড়েনি এই নির্মম ...
  • কাশ্মীরি পন্ডিত বিতাড়নঃ মিথ, ইতিহাস ও রাজনীতি
    কাশ্মীরে ডোগরা রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হবার পর তাদের আত্মীয় পরিজনেরা কাশ্মীর উপত্যকায় বসতি শুরু করে। কাশ্মীরি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মানুষেরাও ছিলেন। এরা শিক্ষিত উচ্চ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেনি। দেশভাগের পরেও এদের ছেলেমেয়েরা স্কুল কলেজে পড়াশোনা করেছে। অন্যদিকে ...
  • নিকানো উঠোনে ঝরে রোদ
    "তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে ?আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে ..."সেই অক্ষরগুলোকে ধরার আরেকটা অক্ষম চেষ্টা, আমার নতুন লেখায় ... এক বন্ধু অনেকদিন আগে বলেছিলো, 'আঙ্গুলের গভীর বন্দর থেকে যে নৌকোগুলো ছাড়ে সেগুলো ঠিক-ই গন্তব্যে পৌঁছে যায়' ...
  • খানাকুল - ২
    [এর আগে - https://www.guruchan...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

দুর্গা, নিওলিথিক উত্তরাধিকার

Swarnendu Sil

দুর্গাপুজোর মাঝে কিছু অদ্ভুত পোস্ট চোখে পড়ল ফেসবুকে... এক ধরণের কাউন্টার-প্রোপাগ্যান্ডা... মহিষাসুর 'অসুর' নামের কোন আদিবাসী উপজাতির লোককথার এক রাজা... যাকে সাদাচামড়ার ( implying, depending on the context, উচ্চবর্ণের বা ইন্দো-ইউরোপীয় ) দুর্গা কৌশলে হত্যা করে... আর তাই দুর্গাপুজো তাদের কাছে শোকের দিন...

এমন পোস্ট অবশ্য এবছরই প্রথম নয়, এর আগেও 'হুদুর-দুর্গা' ইত্যাদি নিয়ে লেখালিখি চোখে পড়েছে...

যাই হোক, ইতিহাস বিকৃতি এই হনুমানদের ভারতবর্ষে একরকম গা-সওয়া হয়ে যাচ্ছে বা গেছে বলা চলে... কিন্তু হনুমানদের বিরোধীদেরও সেই একই রাস্তায় হাঁটতে দেখলে ভবিষ্যৎ ভেবে একটু ডিপ্রেসসড লাগে এখনো... আমার কাছে অন্তত ইতিহাস বিকৃত করে কি বলছের থেকে এই অভিসন্ধিমূলক বিকৃতিটাই মৌলবাদের সমার্থক... সেই থেকেই কিছু কথা লেখা...

এই ধরণের propaganda য় subscribe যারা করেন তারা কি আদৌ মানুষের ইতিহাসে মাতৃপূজার ইতিহাস ও সেই সংক্রান্ত মতগুলো নিয়ে সামান্যও ওয়াকিবহাল? মহিষাসুর কোন আদিবাসী উপজাতীয় রাজা বা নেতা তো দুরে থাকুক, আদৌ কোন মানুষকে ( অর্থাৎ কোন ব্যক্তিকে, কোন individual কে, সে মানুষ, দেবতা, অসুর, রাক্ষস যাই হোক না কেন) রিপ্রেজেন্ট করে কি না আদৌ...

নাকি রিপ্রেজেন্ট করে, আজ্ঞে হ্যাঁ, বন্য মহিষকে... অন্যত্র বন্য ষাঁড়কে... এই অন্যত্রটা বুঝিয়ে বলি... একজন মহিলা ও একটা ষাঁড়, সঙ্গে কোন একটা big cat, মানুষের সংস্কৃতির ইতিহাসে এই symbol টার বয়স কত জানেন? ৯৫০০ বছর... আজ্ঞে হ্যাঁ, একটাও শূন্য বেশী দেখেন নি... সাড়ে নহাজারই লেখা ওটা... সবচেয়ে পুরনো এমন সিম্বল পাওয়া গেছে চাতালহয়ুক এ ...

https://en.wikipedia.org/wiki/%C3%87atalh%C3%B6y%C3%BCk

এই পেজেই ছবি পাবেন... দুটো লেপার্ড বা প্যান্থারের ওপর বসে থাকা mother goddess....... মন্দিরগুলোয় ষাঁড়ের শিং, ষাঁড়ের খুলি ভর্তি... দেওয়ালে ষাঁড়ের ছবি ও ...

cattle domestication এর সামান্য আগে-পরে... মোটামুটি সেই সময় থেকেই ( ৭৫০০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দ মোটামুটি ) থেকেই এই সিম্বলটার অস্তিত্ব আছে...এবং যাকে নিওলিথিক রেভল্যুশন বলা হয় সেই থেকেই... আর্য-অনার্য, উচ্চ বর্ণ-নিম্ন বর্ণ, আদিবাসী জনজাতি এইসব ভাগাভাগি আস্তে তখনো বহু সহস্রাব্দ বাকি, এমনকি ইন্দো-ইউরোপীয় material culture এর জন্মলাভ তখনো কয়েক হাজার বছর ভবিষ্যতের গর্ভে...

এই নিওলিথিক কালচার প্যাকেজ-এর ছড়িয়ে পড়া ( উৎপত্তিস্থল মোটামুটিভাবে লেভান্ত, আজকের সিরিয়া-ইরাক-প্যালেস্তাইন-ইজরায়েল-লেবানন অঞ্চল) ... পুবে ও পশ্চিমে... এবং পুবে বন্য ষাঁড় এর বন্য মহিষে ট্রান্সফর্মড হয়ে যাওয়া ( মোষ বা water buffalo ভারতীয় উপমহাদেশে অথবা চীনে domesticated হয় প্রথম ) ... এগুলো জানার দুর্ভাগ্যক্রমে কোন শর্টকাট নেই... definitive account ও কম... without controversy ও নয় সেগুলো... তবু বই আছে... পড়ে দেখতে পারেন... একটা ১৯৫৯ এর ক্লাসিক,
জেমস এর কাল্ট অফ দ্য মাদার গডেস ...
https://books.google.ch/books/about/The_Cult_of_the_Mother_goddess.htm
l?id=ppyAoAEACAAJ&redir_esc=y


এছাড়াও
https://books.google.ch/books/about/The_Birth_of_the_Gods_and_the_Orig
ins_of.html?id=z4epGQpNyucC&redir_esc=y


সুমেরীয় বা মেসোপটেমিয়ার Ananna-Ishtar এর ছবি ও গুগল সার্চ দিলেই পাবেন... একটা দিলাম নিচে...সিংহবাহিনী দুর্গার সাথে মিলিয়ে নিন নিজেরাই...


http://67.media.tumblr.com/fd18556dbf36472c7e76fde7f082692e/tumblr_inl
ine_nkkr7xbnIg1qhe44g.jpg


প্রাচীন সিম্বলগুলোকে নাহয় একটু রেহাইই দিলেন আপনাদের আইডেন্টিটি পলিটিক্স এর থেকে...

যাই হোক, নবমীর রাত ফুরতে চলল... আপাতত এইটুকুই ...

[ লেখাটা ফেসবুকে লিখি গতকাল... এখানেও দিলাম আজ... অবিকৃতভাবেই...
সব্বাইকে শুভ বিজয়া ]

2651 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6]   এই পাতায় আছে 81 -- 100
Avatar: নন্টে

Re: দুর্গা, নিওলিথিক উত্তরাধিকার

রামধনু=রাম্বো
Avatar: Soumyadeep Bandyopadhyay

Re: দুর্গা, নিওলিথিক উত্তরাধিকার

আমি যেটা লিখেছিলাম এ বিষয়ে

অসুর , ভাসুর এবং কেচ্ছা বিলাপ

শুভ দেবীপক্ষ র প্রীতি ও শুভেচ্ছা বন্ধুরা। বছরের এই সময় , বিশেষতঃ বিগত তিন চার বছর ধরে আপনারা, বিশেষত যাঁরা একটু নেট স্যাভি এই সময়েই দেখবেন একটা নতুন থিওরি ভেসে ওঠে। আগ্রহীরা পড়ে নিতেই পারেন , আমি একটু যারে কয় সংক্ষিপ্ত সার দিয়ে দিচ্ছি। এই থিওরি প্রথম বাজারে আসে একটা সদ্য দুধের দাঁত ওঠা সংবাদ পত্রের হাত ধরে , আর এই নিয়ে প্রথম হই চৈ শুরু হয় জে এন ইউ বিশ্ববিদ্যালয়ে। বক্তব্য মোটামুটি , দুর্গাপুজোর সাবল্টার্ন ভাষ্য - দুর্গাপুজো নাকি আদতে ৪০০০ বছর আগে বহিরাগত আর্য দের হাতে মূলনিবাসী (অসুর) দের হত্যাকান্ড। এরম ই এক মহিষ পালক জাতির এক(যাদব বংশীয়, দ্রাবিড় ) রাজা ছিলেন, যিনি সর্ব জন প্রিয় এবং শক্তিশালী যাঁর নাম মহিষাসুর। তাঁর সাথে যুদ্ধে এঁটে উঠতে না পেরে এই আর্য রা এক ছলনা ময়ী বেশ্যা নারী কে নিয়োগ করে, যার নাম দুর্গা। এই এজেন্ট দুর্গা নিজের ছলা কলায় মহিষাসুর কে নিজের প্রেমে ভোলায় আর বিয়ে করে। নয় দিন প্রচুর মদ্য পান, আনন্দ উৎসব এবং অবশ্যই যৌন উদযাপনের পর দশম দিনে অসতর্ক মহিষ রাজা কে দুর্গা হত্যা করে। এই প্রথম নয় দিন হলো নব রাত্রি এবং দশম দিনে দশেরা , যেটা অনেক জায়গায় পালন হয় রাবণ জ্বালিয়ে ( এ ব্যাপারে পরে দু এক কথা লিখবো। এর পর এই হীনবল , শোকার্ত ,রাজা হীন মূলনিবাসী দের ওপর আর্য রা ঝাঁপিয়ে পড়ে , শিশু বয়স্ক দের খুন করে মেয়েদের ধর্ষণ করে। সেই দেখে অনুশোচনায় দুর্গা জলে ডুবে আত্মহত্যা করে ( ভাসান )। এই ইতিহাস নাকি মূলনিবাসী দের হারিয়ে যাওয়া স্মৃতির এক অংশ , যা ঢ্যামনা বাদীরা থুড়ি বামনা বাদীরা জোর করে লুকিয়ে রেখেছিল যাতে মূলনিবাসীদের জাতিসত্ত্বা ক্রমশ বিলীন হয়ে যায়। সত্যি অত্যন্ত কষ্টকর এবং লজ্জাষ্কর এই বৃত্তান্ত। তারপর এই ভাষ্য সমর্থন করছে জে এন ইউ এর মত এলিট বিশ্ববিদ্যালয় এর বামপন্থী রা , কোনো অশিক্ষিত চাড্ডী নয়। সুতরাং বিশ্বাস তো করতেই হয়, তাই ভাবলাম নিশ্চয়ই এ ব্যাপারে একটু পড়াশোনা করলে আরো কিছু জানা যাবে। তো সেই খান থেকেই কিছু কিছু জিনিস আপনাদের সমক্ষে রাখা যাক।

১. আর্য্ দের হাতে মূলনিবাসী জয়, বা আরিয়ান ইনভেসন থিওরি ( এ আই টি ) - এটা মোটামুটি ২০০ বছর আগে শ্বেতাঙ্গ দের সফেদ শ্রেষ্ঠত্ব ভাষ্যের একটা পাঠ। আজ ডান বাঁ কোনো ঐতিহাসিকই এ আই টি কে প্রামাণ্য বলে স্বীকার করেননা | কিন্তু ডানপন্থী মানেই চাড্ডী , দালাল তাই আমরা এনাদের বক্তব্য আলোচনা করবো না। দেখা যাক ডি ডি কোশাম্বী' কি বলেছেন এ ব্যাপারে। তাঁর মতে আর্য রা সবাই বাইরে থেকে এসেছে এবং বৈদিক সভ্যতা স্থাপন করেছে , তা একদম ই প্রামাণ্য নয়, ভারতের ইতিহাস গভীর ভাবে পড়লেই তা জানা যায়। একধাপ এগিয়ে উনি আরো বলছেন ''Before the invention of the "exalted" Aryan (of European origin) by British (and other European and Western) ideologues, few Indians had any conscious memory of an "Aryan" warrior''-
রোমিলা থাপার বলছেন ''Indo-European and Indo-Aryan are language labels, but in the nineteenth century these were also incorrectly used as racial labels and this confusion persists. The correct usage should be “Indo-European-speaking people” and `Indo-Aryan-Speaking-people’, but the shortened labels, Indo-European and Indo-Aryan are commonly used. Language is a cultural label and should not be confused with race'' মোটা অনুবাদে ইন্দো ইউরোপীয় এবং ইন্দো আর্য খুব বেশী হলে একটা ভাষা গোষ্ঠী এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়। তাকে জাতির সাথে কখনোই গোলানো যায়না।
এমনকি আম্বেদকর পর্যন্ত বলছেন, এই এ আই টি থিওরি আরো আগে বাতিল হয়ে যাওয়া উচিত ছিল। এটা কিছুই নয় সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্রী প্রচার ছাড়া | আরো বলছেন "The theory of [Aryan] invasion is an invention. It is a perversion of scientific investigation, it is not allowed to evolve out of facts.... It falls to the ground at every point.''
কি কেলো , শেষ পর্যন্ত নাকি কলোনিয়াল থিওরির দাসত্ত্ব নিচ্ছেন জে এন ইউ কুল !

তাহলে একটা মূল্যবান থিওরি যা এই মূলনিবাসী দের ওপর বহিরাগত দের আক্রমণ কে প্রমাণ করতে পারতো , পন্ডিত রা মোটা মুটি একে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন ! কি মুশকিল !
আচ্ছা একবার এটাও ভাবুন, এরকম কেন হতে ই হবে যে আর্য রা, বা উচ্চবর্ণ ব্রাহ্মণ রা এসে নিজেদের সংস্কৃত চাপিয়ে দিলো অনার্য্য দের ওপর ? সংস্কৃতিক মেলবন্ধন তো হতেই পারে''
আবার কোশাম্বীর শরণাপন্ন হলাম, উনি ইন্ট্রোডাকশন টু ইন্ডিয়ান হিস্ট্রি বই fতে কি বলছেন দেখুন '' many of India's Brahmins rose from 'Hinduised' tribes that earlier practised animism or totem worship, A majority of these Hinduised tribes retained many elements of their older forms of worship, and several Brahmin gotra (clan) names are derived from non-Aryan clan totems '' মোদ্দা কথা প্রচুর ব্রাহ্মণ গোত্র উৎপত্তিস্থল আদিবাসী টোটেম দের থেকে। লোকায়ত দর্শন বইতে দেবী প্রসাদ চট্টোপাধ্যায় মোটামুটি একই কথা বলছেন ,লিস্ট ও দিয়ে দিচ্ছেন শান্ডিল্য , কশ্যপ ইত্যাদি গোত্র কি কি টোটেম এর নাম থেকে এসেছে !
তারমানে, সাংস্কৃতিক আদান প্রদান ছিল যথেষ্ট। অনার্য মানেই অহিন্দু এরম কিছুও প্রতিপাদ্য নয় দেখলাম।

২. এবার তাহলে অসুর বা আসুর নিয়ে দেখা যাক ওনাদের কেমন অসংস্কৃত , ভিলেন টাইপ বানিয়েছে এই আগ্রাসক আর্য রা । Hindu Mythology, Vedic and Puranic, by W.J. Wilkins, তে দেখছি লেখা আছে বেদে অসুর বলতে দেবতা বোঝানো হয়েছে অনেক বেশী বার , দেবতার শত্রু দেখানো হয়েছে অনেক কম. ''Varuna was the all-knowing asura, Prajāpati the Supreme Being; Indra, the Maruts, Tvastri, Mitra, Rudra, Agni, Vāyu, Pushan, Savitri, Parjanya, the sacrificial priests, were all asuras. In fine, Deva (god) and asura were synonymous expressions in a multitude of texts."'' মানে , ইন্দ্র , বরুণ , অগ্নি নামক অতি পরিচিত দেব রা অসুর ছিলেন।
এনাদের গুণের প্রশংসা বার বার করা হয়েছে প্রাচীন ধর্মগ্রন্থে। মহাভারতে কবি দৈত্য দানব দের রূপের প্রশংসা করেছেন কলম খুলে।
জেন্দ আবেস্তা গ্রন্থে আহুর মাজদা ( জ্ঞানী প্রভু বা the Wise Lord) থেকে এই অসুর শব্দ ইন্দো আর্য শব্দ কোষে ঢুকে পড়ে এই মত বেশীর ভাগ ঐতিহাসিকদের। প্রাচীন স্থাপত্যে এই সর্বশক্তিমান আহুর মাজদার নিদর্শন প্রচুর।
এবারে দেখা যাক, ঝাড়খণ্ডের যে অসুর ট্রাইব কে এখানে টানা হচ্ছে , তাঁদের ইতিহাস।
জন ব্যাপ্টিস্ট হফম্যানের এনসাইক্লোপিডিয়া মুন্ডারিকে (১৫ খন্ড) , নৃতত্ব বিদ এবং ঐতিহাসিক কে কে লিউভা রাঁচিতে তফসিলি জাতি ও উপজাতি আধিকারিক থাকার সময় তাঁর ১০ বছরের রিসার্চ প্রকাশ করেন ‘The Asur'(1963) ) এছাড়াও প্রামাণ্য সূত্র এই ব্যাপারে Tribes of India'(KS Singh 1994) and ‘Asurs and their dancers'(joseph marianus kujur 1996).এই সব রিসার্চে যা জানা যাচ্ছে আসুর হলো উত্তর মুন্ডা ভাষা ,মুন্ডারী র কাছাকাছি।
এবং আরো আশ্চর্য্ ভাবে এর কোথাও উল্লেখ নেই , মহিষাসুর এর সাথে এদের কোনো দূর থেকে দূরান্তের সম্পর্ক আছে। ধর্মীয় বিশ্বাস সম্বন্ধে যা জানা যাচ্ছে তা হলো , এনাদের বিশ্বাস মহাদেব এবং পার্বতী পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। উপাস্য দেব সিং বোঙ্গা (সূর্য্য) এবং ধরতি মাই (পৃথিবী). অতিপ্রাকৃতিক শক্তি পেতে এনারা চন্ডী পুজো করেন। নৃতত্ববিদ কুজুর এর বইতে বলা হচ্ছে, এনাদের মধ্যে হোলি, এবং দশেরা খুব ই জনপ্রিয়। এনাদের কাছেও রামায়ন কথা জনপ্রিয়, এবং এনাদের কাছে স্থল পুরাণের সমমনস্ক গীতিকা আছে যেখানে হনুমানের লঙ্কা পোড়ানো একটা বড় ঘটনা।

এনাদের সমস্ত লোক গীতি/ গাথা ( যা খুবই তথ্য বহুল) সেখানে কোথাও উল্লেখ দেখা যাচ্ছে না যে ইন্দ্রের সাথে যুদ্ধে এনাদের রাজা জিতেছিলেন তার পরে দুর্গা এসে ইত্যাদি ইত্যাদি করেন,দূর্গাপুজোয় এঁরা শোক পালন করেন ,দশমী তে উৎসবে মেতে ওঠেন এবং এনারা মহিষাসুর এর বংশ ) | সম্প্রতি কোনো ট্রাইবাল রাই মহিষাসুর পুজো করেন না এই মন্তব্য করেছেন ঝাড়খন্ডের ট্রাইবাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন অধিকর্তা প্রকাশ ওরাঁও |

আরো দুটো তথ্য দিয়ে শেষ করি , এনাদের প্রাচীন পেশা হচ্ছে লোহা গলানো ( পশুপালন নয় ),এবং সে কাজে এদের ব্যুৎপত্তি অসাধারণ। আর যারা পুরুলিয়া বা ঝাড়খণ্ডের ছৌ নাচ দেখেছেন তাঁরা মনে করতে পারবেন, এই নাচের একটা খুব জনপ্রিয় থিম হচ্ছে মহিষাসুর মর্দিনী। এবং বেশীর ভাগ শিল্পীই মুন্ডা বা হো।

নিশ্চয়ই আপনি অবাক হয়ে ভাবছেন যে মূলনিবাসীরা নিজেদের যে ইতিহাস জানেন না এত যুগ ধরে কিভাবে এই বিপ্লবী কুল এই তথ্য জেনে নিলেন ? ভাবুন ভাবুন ভাবা প্র্যাকটিস করুন !

৩. আর্য দেবী দুর্গার ছলনা এবং মহিষাসুর - মহিষাসুর মর্দিনী বলতেই আমাদের চোখের সামনে যে মূর্তি ভেসে আসে তা হলো, সিংহ বাহিনী দেবী বর্শায় এফোঁড় ওফোঁড় করে দিচ্ছেন মহিষের পেট থেকে বেরোন অসুর কে। এবারে আমরা একটু টাইম ট্রাভেল করি , প্রেক্ষিত জানতে ।
দেবী মূর্তি বা আরো ভালো ভাবে বলতে গেলে মাতৃমূর্তি পুজো র প্রথম আভাস পাওয়া যায় ৩০০০০ বছর আগের মানুষদের মধ্যে। এই দেবীর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই, সর্প , ষাঁড় এবং পাখী পরিবৃত . তবে এব্যাপারে প্রাচীন যে মূর্তি পাওয়া যায় তা হলো আনাতোলিয়া অঞ্চলের , শাতাল হয়ুক (Catal Huyuk) গ্রামে খ্রি পূ ৭০০০ সাল্ নাগাদ , দুটি সিংহের / প্যান্থার পরিবৃত এক ঈষৎ স্ফীতোদরা দেবীমূর্তি ( চিত্র ২)



ওই অঞ্চলে প্রচুর ষাঁড় এর সিম্বল এবং দেয়াল চিত্র মহান মাতা ( magna mater ) এর অস্তিত্ব সূচিত করে। এই মাতৃ পুজোর নিদর্শন আমরা দেখতে পাই , ব্যাবিলন, মেসোপটেমিয়া, সুমের, প্রাচীন ইউরোপ, এবং সেখান থেকে পশ্চিম এশিয়া, হরপ্পায়। ব্যাবিলনের দেবীর নাম ইশতার (অনেকের মতে ইস্টার উৎসবের উৎপত্তি নাকি এনার থেকেই) , ইনি যুদ্ধ, ধ্বংস , যৌবন / যৌনতা আবার ফসলের ও দেবী | যাঁর আক্কাদিয়ান দেবী রূপ ইন্নানা আবার মধ্য প্রাচ্য ( নিয়ার ইস্ট ) এ দেবী এস্টার্ট (Astarte or Ashtoreth তিনিই ইজিপ্টে যুদ্ধ দেবী ইনাত ), গ্রেকো রোমে সিবিল (cybele ), মিশরে আইসিস ( শুনেই ভয় লাগছে না, কিন্তু এনার সর্ব পরিচিত মূর্তি যেখানে উনি নিজ সন্তান হোরাস কে কোলে বসিয়ে আদর করছেন , সেখান থেকেই মাদার মেরি র উৎপত্তি !) পরে আবার এই ইশতার এর প্রেম অবতার আফ্রোদিতি | এখানে সমস্ত দেবী মূর্তির মধ্যে যা সাধারণ মিল তা হলো, এনাদের সবাইকেই আদি কাল থেকে কৃষি প্রধান এবং নদী মাতৃক মানুষ পুজো করে এসেছে ফসল বাড়ানোর জন্য, উর্বরতার জন্য ভূমি মাতৃকা হিসেবে ( প্যাগান ধর্মাচার) । এ জন্যেই, আদিম শাতাল হয়ুক দেবীর মূর্তি ঠিক যেন সিংহাসনে বসে জন্ম দেবার। এবং আরো বহু দেবী মূর্তি পাওয়া গেছে যেখানে দেবী দের পুজো করা হচ্ছে উর্বরতার প্রতীক হিসেবে। কৃষির উৎপত্তি/আবিষ্কার নারী থেকে সুতরাং সমাজে এই মাতৃ মূর্তি পুজোর স্থান যে অনেক ওপরে থাকবেই এতে আশ্চর্য হবার কিছু নেই। এই সমস্ত দেবীর সাথে আরেকটি যে মিল তা হলো যে এনাদের সাথে একজন পুরুষ সঙ্গী যা একাধারে এনাদেরি অন্য রূপ তাদের একবার মৃত্যু ( কিছু ক্ষেত্রে দেবীর ই হাতে ) ও আবার পুনরুত্থান ( আইসিস - ওসিরিস , ইশ টার - তম্মুজ ইত্যাদি) . এই সমস্ত সভ্যতায় সিংহ এবং ষাঁড় এর প্রচুর লড়াই এর সিল, স্থাপত্য চিন্হ বর্তমান | কারণ এই সিংহ বাহিনী দেবী কর্তৃক নিজের পুরুষ সঙ্গী কে হত্যা এই সভ্যতার একটা বড় অনুষঙ্গ | পরে এই পুরুষ সঙ্গীর প্রতীক হিসেবে ষাঁড় বলি দেবার প্রথা প্রচলিত হয় | ক্রমে ব্যবসায়ীদের হাত ধরে হরপ্পায় যখন এই বলি প্রথা এসে পৌছাঁয় , সেখানে এর শিকার হয় মহিষ। হরপ্পান সিলের মহিষ চিহ্নের উদাহরণ প্রচুর ।বিশেষত বিখ্যাত বেলনাকৃতি একটিও সিলে যেখানে একজন মহিষের শিং দাবিয়ে বর্শা নিয়ে হত্যা করছে | ( চিত্র ১ ) এই মহিষ বধের থিম টা খেয়াল রাখুন বন্ধুরা , গন্ডা গন্ডা প্রোপাগান্ডা প্রিয় দের নেগ্রিটো অনার্য বধের থিওরির উল্লেখ পর্যন্ত কোথাও নেই |

বিখ্যাত ভারত বিশেষজ্ঞ আস্ক পারপোলা বলেছেন দক্ষিণ ভারতে গ্রামীণ দেবী দের বহু জায়গায় মহিষ বলি দিয়ে পুজো করা হয়। এসমস্ত জায়গায় দেবী কে মহিষ দেবতার সাথে একীভূত কল্পনা করা হয়। ঠিক যেভাবে তম্মুজ , ওসিরিস ইত্যাদির ইন্নানা , আইসিস দেবীর অপর সত্ত্বা এবং দেবীর হাতে বা কারণে মৃত্যুর মাধ্যমেই পুনর্জন্ম হবে তাঁদের। একই ভাবে মহিষাসুর কেও পুজোতে দেবীর আরেক সত্ত্বা হিসেবেই দেখানো হয়, যেখানে তাঁর ও পুজো হয় | এ প্রথার যুক্তি হলো এর মধ্য দিয়েই দেবীর অন্য সত্বার মুক্তি (পুনর্জন্ম) |
এবার আসুন দুর্গার উৎস সন্ধানে আর একটু এগিয়ে আসি , পুরাণের সহায়তা নিয়ে, দেখি কি পাওয়া যায়| মার্কন্ডেয় পুরাণে দেবী বলছেন অনন্তর বর্ষাকালে নিজ দেহ (আত্মদেহসমুদ্ভবৈ) উদ্ভূত প্রাণধারক শাকের সাহায্যে আমি সারা জগতের পুষ্টি সম্পাদন করব ,এবং শাকম্ভরী হিসেবে পরিচিত হব | হরপ্পায় এরম ই এক দেবী মূর্তি পাওয়া গেছে যাঁর গর্ভ থেকে লতা উত্পন্ন হচ্ছে | ঐতিহাসিক ও নৃতত্ববিদ রমাপ্রসাদ চন্দের মতে আদি দূর্গা ছিলেন শস্যের দেবী | অন্যান্য প্রাচীন প্যাগান দেবী দের মত তাঁরও আগমন ফসল এর সময় , আশ্বিন মাসে ( মহিষ মর্দিনী রূপ টি সম্ভবত অনেক পরের , আদি রামায়ণেও রাম চন্দ্র সূর্যের পুজো করেছিলেন রাবণের সাথে জেতার জন্য, অকাল বোধন এসেছে কৃত্তিবাসী রামায়ণে) | দেবীর পুজোর উপকরণ নবপত্রিকার (রম্ভা , কচ্চি- শ্বেত অপরাজিতা ? , ডালিম, হরিদ্রা, জয়ন্তী, বেল ,অশোক, মান ,ধান) ঘটের সাথেই | দেবী পুজোর অপরিহার্য অঙ্গ সর্বতভদ্রমন্ডল , তার ওপর স্থাপন করা ঘট এবং আঁকা মাঙ্গলিক চিহ্ন উর্বরতার প্রতীক | ঘটার ওপরে পঞ্চপল্লব ( আম, অশ্বথ , পাকুর, বত ও যজ্ঞডুমুরের পাতা) সবের সাথেই কৃষির নিবিড় সম্পর্ক দেখতে পাবেন আপনি | শাকম্ভরী অর্থে অন্নদাতা , এবার দেখুন অন্নপূর্ণা দেবীর সাথেও এই সম্পর্ক কত ঘনিষ্ঠ | হরপ্পার কৃষি ভিত্তিক মাতৃপ্রধান সমাজে এবং প্রত্ন প্রস্তর যুগে এরম অনেক দেবী মূর্তি পাওয়া গেছে খনন করে, যা কৃষি এবং উর্বরতার সাথে এই দেবীদের সম্পর্ক একদম ফেভিকল কা মজবুত জোড় ভাবে প্রমাণ করে দিয়েছে |
এবারে কৃষিকাজে অধিকার ছিল না ব্রাহ্মণ এবং ক্ষত্রিয়ের( মনু সংহিতা) , সুতরাং এই কৃষিজীবী অন্ত্যজ দের ঘরের দেবতাই যে ছিলেন দুর্গা, সে কথা বোঝা কি খুব কঠিন ?
সতীন্দ্র মোহন চট্টোপাধ্যায় তাঁর তন্ত্রের কথা বইতে স্পষ্ট লিখেছেন , তন্ত্র প্রধান বাংলায় দেবী চন্ডী ই উঠে এসেছেন পরে উচ্চবর্ণের দুর্গামন্ডপে | শবরদের ঘরে মা চন্ডীর আদিম উপাসনার উল্লেখ ও আছে তাঁর লেখায় |
সুতরাং আমরা দেখলাম , যে দুর্গা যে আর্য বা উচ্চবর্ণের দেবী এরকম কোনো ঐতিহাসিক তথ্য প্রাচ্য থেকে পাশ্চাত্যের কোনো বিদগ্ধ পন্ডিত ই দিচ্ছেন না | বরং লোকায়ত মাতৃতান্ত্রিক নিম্ন বর্ণের অনার্য মানুষদেরই পরম আরাধ্যা শক্তি পুজোর প্রতিভূ হচ্ছেন দুর্গা সে কথাই বারবার উঠে আসছে | এ প্রসঙ্গে একটা ছোট তথ্য দিয়ে শেষ করব, বৈদিক সভ্যতা মূলতঃ পশুপালক তাই তাঁদের সমাজে দেবীর সংখ্যা এবং উল্লেখ খুব ই কম ( উষা, অদিতি এরম কয়েকটি ) বাকি দেবী রা সবাই এসেছেন তথা কথিত অনার্য দের মধ্যে থেকেই | আমাদের অতি পরিচিত দেবতা গনেশ ও এসেছেন অনার্য দের হাত ধরেই |

এবারে বিচারের ভার আপনাদের হাতে , যে কিভাবে মূলনিবাসী ইতিহাস কে বিকৃত করার চেষ্টা করছে পেটোয়া কিছু লোকজন নিজেদের অভীপ্স রাজনৈতিক উদ্দ্যেশে | এরা সারা জীবনে মূল নিবাসীদের কথা ভাবেও নি জানেও নি, আজ কিঞ্চিত ক্রিশ্চিয়ান কাঞ্চন মূল্যের লোভে এদের এই শীঘ্র পতন | কতটা নির্লজ্জ হলে আদ্যাশক্তি, প্রাচীন পৃথিবীর সৃষ্টির প্রতীক মাতৃ পূজা কে এরা বারাঙ্গনা ( বারাঙ্গনা দের প্রতি আমার কোন অসূয়া নেই, কিন্তু এ কথাও এরা জানে না যে আদিম সমাজে এই বারাঙ্গনা আসতেন পুরোহিতের ঘর থেকে, যাঁরা সমাজের কল্যানে উর্বরতার উত্সব পালন করতেন ) বানিয়ে দিতে পারে হিসেব করার জন্য কোনো যন্ত্রগণকের দরকার নেই |সুতরাং, এর পরে এই জন বিচ্ছিন্ন এবং ভারতের সংস্কৃতি অজ্ঞ এই মিথ্যাচারী দের এই সস্তা কুত্সার উপযুক্ত উত্তর দিতে রাবণের প্রসঙ্গ দিয়ে শেষ করি | রাবণ কেও যে অনার্য এবং ব্রাহ্মণবাদী ষড়যন্ত্রের শিকার হিসেবে দেখানো হচ্ছে, তারও সারবত্তা নেই কারণ রাবণের পুজো রীতিমত মন্দির গড়ে যাঁরা করেন তাঁরা কান্যকুব্জের ব্রাহ্মণ |

"তথ্য সু্ত্র:
1. লোকায়ত দর্শন- দেবী প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
2. তন্ত্রের কথা -সতীন্দ্র মোহন চট্টোপাধ্যায়
3. আম্বেদকার রচনাসমগ্র- শুদ্ররা কারা
4. ডি ডি কোশাম্বী- ইন্ট্রোডাকশন টু ইন্ডিয়ান হিস্ট্রি
5. Asko Parpola_The_Roots_of_Hinduism_The Early Aryans and_the_Indus_Civilization
6. Hindu Mythology, Vedic and Puranic, by W.J. Wilkins
7. www. Harappa.com
8. বিভিন্ন আন্তর্জাল সংবাদ পত্র
কৃতজ্ঞতা- সুমিত বর্ধন ,কল্লোল মুখার্জী
চিত্র- ১) https://www.harappa.com/blog/buffal...
২)www.newworldencyclopedia.অর্গ





Avatar: sswarnendu

Re: দুর্গা, নিওলিথিক উত্তরাধিকার

সৌম্যদীপবাবুর লেখাটা পড়লাম। অনেকগুলো কথা বলার আছে, পড়ে লিখছি।
Avatar: Soumyadeep Bandyopadhyay

Re: দুর্গা, নিওলিথিক উত্তরাধিকার

নিশ্চয়
আপনার লেখার সাথে অনেক কমন থ্রেড আছে দেখলাম আমার লেখাটায়

Avatar: sswarnendu

Re: দুর্গা, নিওলিথিক উত্তরাধিকার

সৌম্যদীপ,
আমারটা লেখা নয়, নিতান্তই ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাস মেসেজ।
যাই হোক, যে কথাগুলো বলার ছিল...
আপনার ১ নম্বর পয়েন্ট এ কি বলতে চেয়েছেন সেটা একটুও পরিষ্কার নয়। আপনার বক্তব্যগুলো কনফিউসিং ও মিসলিডিং ।

" আর্য রা সবাই বাইরে থেকে এসেছে এবং বৈদিক সভ্যতা স্থাপন করেছে , তা একদম ই প্রামাণ্য নয়,"... এই বাক্যটিতে ভুল কিচ্ছু নেই, কিন্তু আপত্তি আপনার এই বাক্যটার রিপ্রেসেন্টেশনে। কারণ এই বাক্যটার অর্থ এইটা নয় যে 'আর্য' সংস্কৃতি ( ঠিক শব্দ ব্যবহার করলে প্রোটো-ইন্দো-ইউরোপিয়ান মেটিরিয়াল কালচার ) ভারতীয় উপমহাদেশে বাইরে থেকে আসা জিনিস নয়। আপনি ঠিক সেই অর্থেই বাক্যটা ব্যবহার করতে চেয়েছেন বলে মনে হচ্ছে আপনার লেখায়।

"few Indians had any conscious memory of an "Aryan" warrior''-" এইটা আপনি কোট করছেন, তাই দায় আপনার নয়। তবু বলে যাই, কন্সাস মেমরি নেই এটা কোন যুক্তি নয়। আজকের পৃথিবীর কোন জনগোষ্ঠীর কোন মিথ এ লাস্ট গ্লেসিয়াল ম্যাক্সিমাম এর কোন স্মৃতি কোনভাবে রক্ষিত আছে বলে আমি শুনিনি বা পড়িনি কোথাও, তাতে লাস্ট গ্লেসিয়াল ম্যাক্সিমাম এ মডার্ণ হিউম্যান যে ইউরেশিয়া ও উত্তর আমেরিকায় ছিল ( অর্থাৎ, 'আইস এজ' দেখেছে ) সেইটা মিথ্যে হয়ে যায় না। কালেক্টিভ মেমরি ঐতিহাসিক সত্য নিরূপণের ভাল মার্কার নয়।

একই কথা প্রযোজ্য "ইন্দো ইউরোপীয় এবং ইন্দো আর্য খুব বেশী হলে একটা ভাষা গোষ্ঠী এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়। তাকে জাতির সাথে কখনোই গোলানো যায়না।" --- এর মানেও ভাষাটা বা সংস্কৃতিটা উপমহাদেশে বহিরাগত এটাও নয়, আবার জাতির সাথে গোলানো যায় না মানেই এই আসার সাথে কোন জিন-ফ্লো জড়িয়ে নেই এইটাও না।

"আচ্ছা একবার এটাও ভাবুন, এরকম কেন হতে ই হবে যে আর্য রা, বা উচ্চবর্ণ ব্রাহ্মণ রা এসে নিজেদের সংস্কৃত চাপিয়ে দিলো অনার্য্য দের ওপর ? সংস্কৃতিক মেলবন্ধন তো হতেই পারে'' এবং " তারমানে, সাংস্কৃতিক আদান প্রদান ছিল যথেষ্ট।" এই বাক্যদুটোও সমস্যার। 'মেলবন্ধন' শব্দটার শাক দিয়ে এই মাছটা আদৌ ঢাকা পড়বে না যে একটা বিপুল জনজাতির ল্যাঙ্গুয়েজ রিপ্লেসমেন্ট এমনি এমনি ঘটে না। অন্য ভাষাটা বলা, অন্য কালচারটা অ্যাডপ্ট করাটা বেশী লাভজনক, বেশী প্রেস্টিজিয়াস বা এইজাতীয় বড়সড় ইনসেন্টিভ ছাড়া ঘটে না। সেগুলো কি সে নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু উপমহাদেশে তৎকালীন এক্সিস্টিং ভাষা ও সংস্কৃতির সাথে প্রোটো-ইন্দো-ইউরোপিয়ান ভাষা ও সংস্কৃতির যে লেগাসি উপমহাদেশের পশ্চিম প্রান্তে এসে পৌঁছেছিল, তাদের ইন্টারঅ্যাকশনটা 'সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন' টাইপ গোল-গোল ভাল-ভাল অ্যামিকেবল কিছু নয়। পরবর্ত্তীকালে তো আরোই নয়, এমনকি আজও নয়।

"অনার্য মানেই অহিন্দু এরম কিছুও প্রতিপাদ্য নয় দেখলাম।" --- এইটা নিছক অ্যানাক্রনিজম। যে আর্য-অনার্য নিয়ে আপনার ওই অংশটা লেখা, সেই অর্থে হিন্দু কথাটা অপ্রাসঙ্গিক, কারণ যে কোনরকম হিন্দু আইডেন্টিটি তখন কিছু না হলেও এক হাজার বছর ভবিষ্যতের গর্ভে।

২ নম্বর পয়েন্ট এ ঋগ্বেদে Asura র মানে সম্পর্কে যা লিখেছেন তাইই, কিন্তু এই শব্দটার অর্থ ও কনোটেশনটা সময়ের সাথে সাথে নেগেটিভ দিকেই গেছে সেইটা না উল্লেখ করা একটা সিলেক্টিভ পিকচার দেওয়া। ভাষায় শব্দের মানে পাল্টাতে থাকে। সামান্য সময় আগেই মাগী শব্দটা বহুলভাবে ব্যবহৃত হত আলাদা করে কোন গালাগালির কনোটেশন ছাড়াই।

আহুর থেকেও ইন্দো-আর্য শব্দকোষে অসুর ঢুকে পড়েনি। আভেস্তান এ শব্দটা Ahura আর ইন্দো-আর্য এ Asura, প্রিসাইসলি একই শব্দ। ঠিক যেমন Haravati=Saraswati, Hapta Hindu=Sapta Sindhu। শব্দগুলো আভেস্তান থেকে ইন্দো-আর্য এ আসেনি, আভেস্তান আর ইন্দো-আর্য দুটোতেই ইন্দো-ইরানিয়ান থেকে এসেছে ( যেটা ইন্দো-আর্য আর আভেস্তান, দুটোরই কমন মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ )।

নেগ্রিটো টার্মটা প্রবল কন্ট্রোভার্সিয়াল, অ্যানথ্রোপলজিকালিই, পলিটিকাল কারেক্টনেস এর অর্থে বলছি না। আপনি AIT নিয়ে যা লিখেছেন ঠিক সেই কথাটাই, with no less justification, বলা চলে ওই নেগ্রিটো টার্মটার সম্পর্কে।

"অন্যান্য প্রাচীন প্যাগান দেবী দের মত তাঁরও আগমন ফসল এর সময় , আশ্বিন মাসে "--- নিছক ভুল তথ্য। আপনি দুর্গা র লেগাসি বলতে গিয়ে নিজেই যে নামগুলো লিখেছেন তাদের বেশিরভাগ এর আলাদা করে বাৎসরিক পুজোর দিন ( মানে পুজো সম্বৎসর, উৎসবের দিন বলা উচিৎ ) ছিল স্প্রিং ইকুইনক্স এ, বসন্তকালে। দুর্গাপুজোও প্রিসাইসলি তাই ছিল, এখনো বহু জায়গায় বাসন্তী পুজো বলে চালুও আছে।

"হরপ্পার কৃষি ভিত্তিক মাতৃপ্রধান সমাজে "-- হরপ্পার সমাজ মাতৃপ্রধান ছিল এটা কেউ কোথাও ডেমনস্ট্রেট করেননি।

" কৃষিজীবী অন্ত্যজ দের ঘরের দেবতাই যে ছিলেন দুর্গা,"-- আবারো সম্ভবত অ্যানাক্রনিজম, কিন্তু আমি অতটা নিশ্চিত নওই এইটা নিয়ে। এইটুকু বলার যে কৃষিভিত্তিক কালচারের লেগাসি মানেই চাষিরাই পুজো করত, এবং চাষিদের মধ্যে পুজোটা প্রচলিতই ছিল, তাও আবার চাষিরা যখন থেকে 'অন্ত্যজ' বলে পরিগণিত হয়েছে তখন পর্যন্ত - এ খুবই সন্দেহজনক ক্লেইম। এমনিতেও বজ্রজানী বৌদ্ধ ট্র্যাডিশনের হাত ধরে তন্ত্র বহুদিনই শুধু 'হিন্দু' দের ব্যাপার ছিল না। বজ্রযানের তারা, উগ্রতারা এগুলো পার্বতীরই নানান রূপকল্প।

" বৈদিক সভ্যতা মূলতঃ পশুপালক " - এইটাও কি বলতে চাইলেন পরিষ্কার নয়।















Avatar: sswarnendu

Re: দুর্গা, নিওলিথিক উত্তরাধিকার

ওপরে একটা বাজে টাইপো থেকে গেল।

"একই কথা প্রযোজ্য "ইন্দো ইউরোপীয় এবং ইন্দো আর্য খুব বেশী হলে একটা ভাষা গোষ্ঠী এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়। তাকে জাতির সাথে কখনোই গোলানো যায়না।" --- এর মানেও ভাষাটা বা সংস্কৃতিটা উপমহাদেশে বহিরাগত এটাও নয়, আবার জাতির সাথে গোলানো যায় না মানেই এই আসার সাথে কোন জিন-ফ্লো জড়িয়ে নেই এইটাও না। "


এখানে "... এর মানেও ভাষাটা বা সংস্কৃতিটা উপমহাদেশে বহিরাগত নয় এটাও নয়... " হবে।
Avatar: কল্লোল

Re: দুর্গা, নিওলিথিক উত্তরাধিকার

দূর্গা পূজা শুরু হয় আশ্বিন মাসে?
তথ্য হিসাবে বোধহয় ঠিক নয়। পুরাণ মতে শুরুটা বসন্তকালে, সুরথ রাজার হাতে।
রামায়ণ মতে রাম শরৎকালে পূজা করেন, রাবণ বধের উদ্দেশ্যে, তাই তা অকাল বোধন হিসাবে খ্যাত। অর্থাৎ রামায়ণেও মানা হচ্ছে যে দূর্গাপূজার আদি কাল বসন্তকাল।

Avatar: সৌম্যদীপ

Re: দুর্গা, নিওলিথিক উত্তরাধিকার

স্বর্ণেন্দু বাবুর বক্তব্য নিয়ে পরে মত রাখছি ,অনেক কিছু বলার আছে
। কল্লোল বাবু আপনি সুস্থ জেনে খুব ভালো লাগলো, আপনার বই টি আমার বাবা এবং আমার দুজনের ই খুব প্রিয় । আর বাল্মীকি রামায়ণে দুর্গা পুজোর কোনো উল্লেখ নেই, রাম সূর্য পূজা করেছিলেন । কৃত্তিবাসী রামায়ণের সম্ভবত প্রথম রামের অকাল বোধনের কথা আসে ।
Avatar: কল্লোল

Re: দুর্গা, নিওলিথিক উত্তরাধিকার

সৌম্যদীপ।
আপনাকে ও আপনার বাবাকে অনেক ধন্যবাদ। এখন অনেকটা ভালো।
রামায়ণের নানান পাঠ আছে, ফলে কোন কোন রামায়ণে অকাল বোধন না-ই থাকতে পারে।
তবে পুরাণমতে দূর্গাপূজার শুরু সুরথ রাজার হাতে, বসন্তকালে, যা এখন বাসন্তীপূজা নামে চলে।

Avatar: Atoz

Re: দুর্গা, নিওলিথিক উত্তরাধিকার

বেচারা সমাধি বৈশ্য! টাকা দিল পয়সা দিল, নাম হল শুধু রাজা সুরথের!
ঃ-)
Avatar: Soumyadeep Bandyopadhyay

Re: দুর্গা, নিওলিথিক উত্তরাধিকার

স্বর্ণেন্দু- লেখা আর স্টাটাস কি পার্থক্য জানি না :) যাই হোক

আপনার বক্তব্যের জবাব দেবার আগে দু এক টা ছোট্ট কথা। এক নম্বর, আপনি একটা জিনিস মিস করেছেন , সেটার দায় আমি ই নিচ্ছি - এটা কোনো ইন্ডিপেন্ডেন্ট লেখা নয়, বরঞ্চ এক টা সদ্য প্রচলিত ( বেশ্যা ব্রাহ্মণ্যবাদী এজেন্ট দুর্গার ছলনা র দ্বারা অনার্য রাজা মহিষাসুর হত্যা ইত্যাদি ) প্রোপাগান্ডার জবাব হিসেবে লেখা , সেই জন্য কিছু প্রেক্ষিত হয়তো আপনার কাছে পরিষ্কার হয়নি, এবং আমার বক্তব্য বিক্ষিপ্ত লেগেছে।

এবার এক এক করে

১. আপনার ১ নম্বর পয়েন্ট এ কি বলতে চেয়েছেন সেটা একটুও পরিষ্কার নয়। আপনার বক্তব্যগুলো কনফিউসিং ও মিসলিডিং ।- খুব সংক্ষিপ্ত ভাবে, প্রোপাগান্ডার মূল প্রতিপাদ্য ছিল , বাইরে থেকে আসা আর্য রা মূলনিবাসী/ অনার্য সভ্যতা ধ্বংস করে - আমি যেটা জানিয়েছি সেটা হলো আধুনিক প্রাচ্য এবং পাশ্চাত্যের বাঘা বাঘা পন্ডিত কেউ ই এই ইনভেশন থিওরি তে আর বিশ্বাসী নন ( আস্ক পারপোলা র এ বিষয়ে অনেক লেখা আছে, ডেভিড ফ্রলি ও রেফার করতে পারেন ) এবং ভারতীয় দের মধ্যে রোমিলা থাপার, কোশাম্বী ( তথাকথিত ডানপন্থী ঐতিহাসিক বক্তব্য আর লিখছি না ) এবং আম্বেদকর কেউ ই এই এ আই টি ( আরিয়ান ইনভেশন থিওরি ) কে নম্বর দিচ্ছেন না বিন্দুমাত্র, এবং এর পিছনে টিপিকাল হোয়াইট সুপ্রিমেসি কমপ্লেক্স কেই দায়ী করছেন। এই তত্ত্ব খারিজ হলে, প্রোপাগান্ডার প্রথম খুঁটি ই নড়বড়ে হয়ে যায়।

" আর্য রা সবাই বাইরে থেকে এসেছে এবং বৈদিক সভ্যতা স্থাপন করেছে , তা একদম ই প্রামাণ্য নয়,"... এই বাক্যটিতে ভুল কিচ্ছু নেই, কিন্তু আপত্তি আপনার এই বাক্যটার রিপ্রেসেন্টেশনে। কারণ এই বাক্যটার অর্থ এইটা নয় যে 'আর্য' সংস্কৃতি ( ঠিক শব্দ ব্যবহার করলে প্রোটো-ইন্দো-ইউরোপিয়ান মেটিরিয়াল কালচার ) ভারতীয় উপমহাদেশে বাইরে থেকে আসা জিনিস নয়। আপনি ঠিক সেই অর্থেই বাক্যটা ব্যবহার করতে চেয়েছেন বলে মনে হচ্ছে আপনার লেখায়।- আবার ,ওপরের পয়েন্ট দ্রষ্টব্য , এটাও উত্তর হিসেবে লেখা, কন্টেক্সচুয়াল। এই অর্থেই ব্যবহার করেছি।

"few Indians had any conscious memory of an "Aryan" warrior''-" এইটা আপনি কোট করছেন, তাই দায় আপনার নয়। তবু বলে যাই, কন্সাস মেমরি নেই এটা কোন যুক্তি নয়। আজকের পৃথিবীর কোন জনগোষ্ঠীর কোন মিথ এ লাস্ট গ্লেসিয়াল ম্যাক্সিমাম এর কোন স্মৃতি কোনভাবে রক্ষিত আছে বলে আমি শুনিনি বা পড়িনি কোথাও, তাতে লাস্ট গ্লেসিয়াল ম্যাক্সিমাম এ মডার্ণ হিউম্যান যে ইউরেশিয়া ও উত্তর আমেরিকায় ছিল ( অর্থাৎ, 'আইস এজ' দেখেছে ) সেইটা মিথ্যে হয়ে যায় না। কালেক্টিভ মেমরি ঐতিহাসিক সত্য নিরূপণের ভাল মার্কার নয়।

একই কথা প্রযোজ্য "ইন্দো ইউরোপীয় এবং ইন্দো আর্য খুব বেশী হলে একটা ভাষা গোষ্ঠী এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়। তাকে জাতির সাথে কখনোই গোলানো যায়না।" --- এর মানেও ভাষাটা বা সংস্কৃতিটা উপমহাদেশে বহিরাগত এটাও নয়, আবার জাতির সাথে গোলানো যায় না মানেই এই আসার সাথে কোন জিন-ফ্লো জড়িয়ে নেই এইটাও না।

- এই দু ক্ষেত্রেই মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ওপরেই লিখেছি। এই দু তিনটে লাইনে যদি আপত্তি থাকে, আপনি অল্প খুঁজলেই নেটে এনাদের ডিটেল বক্তব্য পেয়ে যাবেন , যেটা এ আই টি বিরুদ্ধাচরণ করছে - আপনি এর মধ্যে যে কোনো অন্য লাইন ও পছন্দ করতে পারেন, দি দি কোশাম্বী এ ক্ষেত্রে ফিউ ইন্ডিয়ান বলতে ঐতিহাসিক এবং নৃতত্ব বিদ দের কথাই বলছেন বলে আমার বিশ্বাস, জেনারেল সুইপিং স্টেটমেন্ট নয়।

"আচ্ছা একবার এটাও ভাবুন, এরকম কেন হতে ই হবে যে আর্য রা, বা উচ্চবর্ণ ব্রাহ্মণ রা এসে নিজেদের সংস্কৃত চাপিয়ে দিলো অনার্য্য দের ওপর ? সংস্কৃতিক মেলবন্ধন তো হতেই পারে'' এবং " তারমানে, সাংস্কৃতিক আদান প্রদান ছিল যথেষ্ট।" এই বাক্যদুটোও সমস্যার। 'মেলবন্ধন' শব্দটার শাক দিয়ে এই মাছটা আদৌ ঢাকা পড়বে না যে একটা বিপুল জনজাতির ল্যাঙ্গুয়েজ রিপ্লেসমেন্ট এমনি এমনি ঘটে না। অন্য ভাষাটা বলা, অন্য কালচারটা অ্যাডপ্ট করাটা বেশী লাভজনক, বেশী প্রেস্টিজিয়াস বা এইজাতীয় বড়সড় ইনসেন্টিভ ছাড়া ঘটে না। সেগুলো কি সে নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু উপমহাদেশে তৎকালীন এক্সিস্টিং ভাষা ও সংস্কৃতির সাথে প্রোটো-ইন্দো-ইউরোপিয়ান ভাষা ও সংস্কৃতির যে লেগাসি উপমহাদেশের পশ্চিম প্রান্তে এসে পৌঁছেছিল, তাদের ইন্টারঅ্যাকশনটা 'সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন' টাইপ গোল-গোল ভাল-ভাল অ্যামিকেবল কিছু নয়। পরবর্ত্তীকালে তো আরোই নয়, এমনকি আজও নয়।- এ ব্যাপারে একটাই কথা বলার আছে, যে তথাকথিত লোকায়ত সংস্কৃতি এতটাই বৈদিক ধর্মে প্রবেশ করে , যে আজকের দিনে দেবী ই অ বৈদিক পূজিত হচ্ছেন তাঁরা প্রায় সবাই অবৈদিক। ব্রাহ্মণ পদবী বেশীরভাগ ই এসেছে, আদিবাসী টোট্যাম থেকে , শান্ডিল্য, কশ্যপ সব ই নাকি পাখী বা জন্তু দের নাম থেকে আসা ( ডিটেলস এর জন্য দেবী প্রসাদ চট্টোপাধ্যায় এর লোকায়ত দর্শন দ্রষ্টব্য )

"অনার্য মানেই অহিন্দু এরম কিছুও প্রতিপাদ্য নয় দেখলাম।" --- এইটা নিছক অ্যানাক্রনিজম। যে আর্য-অনার্য নিয়ে আপনার ওই অংশটা লেখা, সেই অর্থে হিন্দু কথাটা অপ্রাসঙ্গিক, কারণ যে কোনরকম হিন্দু আইডেন্টিটি তখন কিছু না হলেও এক হাজার বছর ভবিষ্যতের গর্ভে।-"অনার্য মানেই অহিন্দু এরম কিছুও প্রতিপাদ্য নয় দেখলাম।" --- এইটা নিছক অ্যানাক্রনিজম। যে আর্য-অনার্য নিয়ে আপনার ওই অংশটা লেখা, সেই অর্থে হিন্দু কথাটা অপ্রাসঙ্গিক, কারণ যে কোনরকম হিন্দু আইডেন্টিটি তখন কিছু না হলেও এক হাজার বছর ভবিষ্যতের গর্ভে।–
উত্তর কন্টেক্সচুয়াল এক্ষেত্রেও। তবে আপনি যে সময় ক্রম বলছেন, তা কাছাকাছি।
২ নম্বর পয়েন্ট এ ঋগ্বেদে Asura র মানে সম্পর্কে যা লিখেছেন তাইই, কিন্তু এই শব্দটার অর্থ ও কনোটেশনটা সময়ের সাথে সাথে নেগেটিভ দিকেই গেছে সেইটা না উল্লেখ করা একটা সিলেক্টিভ পিকচার দেওয়া। ভাষায় শব্দের মানে পাল্টাতে থাকে। সামান্য সময় আগেই মাগী শব্দটা বহুলভাবে ব্যবহৃত হত আলাদা করে কোন গালাগালির কনোটেশন ছাড়াই।

আহুর থেকেও ইন্দো-আর্য শব্দকোষে অসুর ঢুকে পড়েনি। আভেস্তান এ শব্দটা Ahura আর ইন্দো-আর্য এ Asura, প্রিসাইসলি একই শব্দ। ঠিক যেমন Haravati=Saraswati, Hapta Hindu=Sapta Sindhu। শব্দগুলো আভেস্তান থেকে ইন্দো-আর্য এ আসেনি, আভেস্তান আর ইন্দো-আর্য দুটোতেই ইন্দো-ইরানিয়ান থেকে এসেছে ( যেটা ইন্দো-আর্য আর আভেস্তান, দুটোরই কমন মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ )।

প্রথমত কোন সময় থেকে কোন অসুর শব্দ নেগেটিভ কনটেশন পেয়েছে বলা মুশকিল, সেখানে আপনার অনুমান এবং আমার অনুমান দুটোই ঠিক বা ভুল হবার স্পেস রয়েছে। তাই সে বেসিসে সিলেকটিভ বলা যায় কি? - পরবর্তী কালের ঋগবেদেও অসুর দের কখনো ই নেগেটিভলি দেখানো হয়নি। আর বেশিরভাগ দেব অসুর সংঘর্ষ আসলে আদিত্য( বৈদিক দেবী অদিতির সন্তান) এবং দৈত্য ( অদিতির বোন দিতি র সন্তান) /দানব (অদিতির বোন দনু র সন্তান) দের মধ্যে।

এবং এখানেও যে কনটেক্সটে লেখা যে অসুর মানেই আর্য রা নেগেটিভ পোর্ট্রে করেছে , সেটার উত্তর। আরেকটা তথ্য দিয়ে শেষ করি , মহাভারতে দৈত্য এবং দানব দের ''নিখুঁত '' সুন্দর বলেই দেখানো হয়েছে .

আহুর থেকেও ইন্দো-আর্য শব্দকোষে অসুর ঢুকে পড়েনি। আভেস্তান এ শব্দটা Ahura আর ইন্দো-আর্য এ Asura, প্রিসাইসলি একই শব্দ। ঠিক যেমন Haravati=Saraswati, Hapta Hindu=Sapta Sindhu। শব্দগুলো আভেস্তান থেকে ইন্দো-আর্য এ আসেনি, আভেস্তান আর ইন্দো-আর্য দুটোতেই ইন্দো-ইরানিয়ান থেকে এসেছে ( যেটা ইন্দো-আর্য আর আভেস্তান, দুটোরই কমন মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ )।- ঠিক , আমিও ঢুকে পড়েছে বলতে এটাই মিন করেছিলাম, এ টা বাইরের কোনো শব্দ হিসেবে এসেছে তা বলিনি। স এবং হ নিয়ে একদম ঠিক বলেছেন।

নেগ্রিটো টার্মটা প্রবল কন্ট্রোভার্সিয়াল, অ্যানথ্রোপলজিকালিই, পলিটিকাল কারেক্টনেস এর অর্থে বলছি না। আপনি AIT নিয়ে যা লিখেছেন ঠিক সেই কথাটাই, with no less justification, বলা চলে ওই নেগ্রিটো টার্মটার সম্পর্কে।- এটা নিয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই, কারণ কে কি হিসেবে দেখবেন সে টা নিতান্তই ব্যক্তিগত ডায়েট।


"অন্যান্য প্রাচীন প্যাগান দেবী দের মত তাঁরও আগমন ফসল এর সময় , আশ্বিন মাসে "--- নিছক ভুল তথ্য। আপনি দুর্গা র লেগাসি বলতে গিয়ে নিজেই যে নামগুলো লিখেছেন তাদের বেশিরভাগ এর আলাদা করে বাৎসরিক পুজোর দিন ( মানে পুজো সম্বৎসর, উৎসবের দিন বলা উচিৎ ) ছিল স্প্রিং ইকুইনক্স এ, বসন্তকালে। দুর্গাপুজোও প্রিসাইসলি তাই ছিল, এখনো বহু জায়গায় বাসন্তী পুজো বলে চালুও আছে।- আংশিক সত্য। বাসন্তী পুজো অবশ্যই হয়, কিন্তু শরৎ কালের সাথে দেবী দুর্গার সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ( আউশ ধানের জন্যেই হয়তো ). দু একটা উদাহরণ দি ,

১. ত্রিপুরা সুন্দরী - দুর্গা নামের আরেকটা অর্থ, দুর্গ ধ্বংস কারী ( দুর্গা ঘ্ন ) . এই বিষয়ে সবচেয়ে বিখ্যাত যে কাহিনী তা হলো ত্রি পুরা ( পুর অর্থাৎ দুর্গ , দেবী সেখানে তিনটে দুর্গ ধ্বংস করেছিলেন ) . এই দুর্গ দের ঋগবেদে শরৎকালীন ( অটামনাল ) বলা হয়েছে। এর অর্থ পুরো পুরি পরিষ্কার নাহলেও মনে করা হয় যে এই দুর্গ গুলি ছিল দেবীর শরৎ কালীন উপাসনা স্থল )

২. কাশ্মীর -এখানেও একই কারণে দেবী কে সারদা ( শরৎ ) বলা হয় এবং অন্যতম প্রধান উপাসনাস্থল এর নাম সাৱদি।

৩. নেপাল - এখানে দুর্গা কে দেশের রক্ষাকর্ত্রী হিসেবে ধরা হয় এবং নব রাত্রি উৎসব হয় দুর্গের মধ্যে -শরৎ কালে

( আস্ক পারপোলা - রুটস অফ হিন্দুইজম)


"হরপ্পার কৃষি ভিত্তিক মাতৃপ্রধান সমাজে "-- হরপ্পার সমাজ মাতৃপ্রধান ছিল এটা কেউ কোথাও ডেমনস্ট্রেট করেননি।- বিতর্ক রয়েছে , যেহেতু নারী মূর্তি খনন করে বেশী পাওয়া গেছে তবে তা মাতৃ পুজো র জন্যেই কিনা, এনিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আপনার কথা মেনে নিলাম।

" কৃষিজীবী অন্ত্যজ দের ঘরের দেবতাই যে ছিলেন দুর্গা,"-- আবারো সম্ভবত অ্যানাক্রনিজম, কিন্তু আমি অতটা নিশ্চিত নওই এইটা নিয়ে। এইটুকু বলার যে কৃষিভিত্তিক কালচারের লেগাসি মানেই চাষিরাই পুজো করত, এবং চাষিদের মধ্যে পুজোটা প্রচলিতই ছিল, তাও আবার চাষিরা যখন থেকে 'অন্ত্যজ' বলে পরিগণিত হয়েছে তখন পর্যন্ত - এ খুবই সন্দেহজনক ক্লেইম। দেখুন, মনুসংহিতা ( প্রোপাগান্ডা যার বিরুদ্ধে ) পরিষ্কার বলছে, ব্রাহ্মণ এবং ক্ষত্রিয় দের কৃষি কাজ করা নিষেধ। তো কৃষি কাজ তাহলে কারা করবে? উত্তর তো সহজ। চাইলে মূল শ্লোক দিয়ে দিতে পারি।

এবারে আপনি বলতে পারেন মনু সংহিতা কি ঠিক, আমি বলবো নয়। কিন্তু, মনুবাদ চাপিয়ে দেবার বিরুদ্ধে যে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে সেই লাইনেই বলা যায় যে মনুবাদ অনুযায়ী কৃষি সমাজ অন্ত্যজ দের ই একচেটিয়া। আর প্যাগান পুজো কৃষি ভিত্তিক সমাজে প্রাধান্য পাবেই এ ব্যাপারেই বা সন্দেহ কি ? তাহলে, মনুবাদ অনুযায়ী ই এই পুজো উচ্চ বর্ণের নয়। বাণভট্টের কাদম্বরী তেও শবর দের ধূমধাম করে চন্ডী পুজোর উল্লেখ আছে। ফলে তাদের থেকেই যে আমার আপনার চন্ডী মণ্ডপে দুর্গার আবির্ভাব এ নিয়ে মোটামুটি সবাই একমত।


এমনিতেও বজ্রজানী বৌদ্ধ ট্র্যাডিশনের হাত ধরে তন্ত্র বহুদিনই শুধু 'হিন্দু' দের ব্যাপার ছিল না। বজ্রযানের তারা, উগ্রতারা এগুলো পার্বতীরই নানান রূপকল্প।- তাতে কি প্রমাণ হলো বুঝলাম না। বৌদ্ধ তন্ত্র শাস্ত্র সম্ভবত হিন্দু তন্ত্র শাস্ত্রের পূর্বজ। তন্ত্র মূলত অবৈদিক , এবং পূর্ব ভারতে এর প্রসার ছিল ব্যাপক এবং এখনো আছে। ( এজন তামিল ব্রাহ্মণের বা উত্তর ভারতীয় ব্রাহ্মণের সাথে নিজের খাবার প্লেট দেখলেই তফাৎ তা বোঝা যায় ) এবং মহাভারতেও বংগ কে পান্ডব বর্জিত বলা হয়েছে কারণ এখানে বেদ মানা হতো না। হিন্দু দের নির্গুণ এবং নিরাকার ব্রহ্ম যেহেতু সবাইকে আকর্ষিত কৰতে পারেনি তাই ধীরে ধীরে পৌত্তলিকতা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এই লড়াই তে হীনযান রা ক্রমশ পিচিয়ে পড়ে এবং তান্ত্রিক বজ্রযান আসন গ্রহণ করে। এসব বৌদ্ধ স্থাপত্যে বিভিন্ন হিন্দু দেব দেবী দের বৌদ্ধ দেব দেবীর থেকে ছোট হিসেবে দেখানো হয় ( কখনো দ্বারপাল রূপে কখনো ছোট মূর্তি বৌদ্ধ মূর্তির পায়ের কাছে রেখে ).বৌদ্ধ রা হিন্দু পৌত্তলিকতা অনুসরণ করলো কিন্তু তার সাথে জাস্টিফাই করার জন্য কিছু অদ্ভুত শ্লোক ও লিখলো যেমন ''দেবদেবীরা সবাই শূন্যের বহিঃস্ফূর্তি এঁদের অন্তরাত্মা সব ই শূন্য। এনারা সবাই শূন্যের প্রতিমূর্তি ''

কৃতজ্ঞতা - তন্ত্রের কথা -সতীন্দ্র মোহন চট্টোপাধ্যায়

" বৈদিক সভ্যতা মূলতঃ পশুপালক " - এইটাও কি বলতে চাইলেন পরিষ্কার নয়।- আদি বৈদিক মানুষ রা তো পশুপালক ছিলেন বলেই জানি। বেশীর ভাগ শ্লোক তো তাই বলে। ভুল বললাম কি ?


Avatar: sswarnendu

Re: দুর্গা, নিওলিথিক উত্তরাধিকার

সৌম্যদীপবাবু,
সত্যিই হতাশ হলাম।

"আধুনিক প্রাচ্য এবং পাশ্চাত্যের বাঘা বাঘা পন্ডিত" হল David Frawley??!!! :) :) :)
তা ওনার এই সংক্রান্ত বিষয়গুলোর মধ্যে ডিগ্রিটা কিসে? Yoga Philosophy?? :D :D :D


ডিটেল এ লেখার সময় নেই, এবং একই জিনিস নিয়ে আলাদা করে একাধিক জায়গায় 'উত্তর' লিখতে ভাল ও লাগে না। যদি বা লিখতাম, ফ্রলে পণ্ডিত এর পড়ে আর প্রশ্নই নেই। তাই আপাতত এইটার পরে আমার আর এইটায় কিছু লেখা হবে না হয়ত।

তবু ছোট্ট করে লিখে যাই।

আপনার লেখা পড়ে মনে হয়েছিল লেখাটা কনফিউসিং হয়েছে, আপনার এই কমেন্ট টা পড়ে বুঝলাম আপনিই কনফিউসড, নিছক বাক্যগঠনের জন্যে কনফিউসিং হয়ে গেছে এমন নয়।

আমি পরিষ্কার কাটা কাটা প্রশ্ন করি? আপনার ভাবনায়

ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা এবং কালচার কি ভারতীয় উপমহাদেশে বাইরে থেকে আসা না নয়?

যদি এইটার উত্তর আপনার আছে হ্যাঁ হয়, তাহলে সেই 'আসা' টা invasion না migration না trickling in না diffusion, এগুলোয় দুর্গা-অসুর এর প্রোপাগ্যান্ডাটির কন্টেক্সট এ অপ্রাসঙ্গিক। কারণ মেকানিজম যাই হয়ে থাকুক না কেন, এইটার উত্তর হ্যাঁ বলার মানে হচ্ছে 'আর্য সভ্যতা' ও 'অনার্য সভ্যতা' এই টার্মদুটোকে ডিফাইন করার মত প্রয়োজনীয় কন্ট্রাস্ট ছিল এবং 'আর্য সভ্যতা' উপমহাদেশে ইন্ট্রুসিভ।


আর যদি এইটার উত্তর আপনার কাছে না হয়, তাহলে অন্তত থাপার কে সিলেক্টিভলি কোট করা বন্ধ করুন, কারণ থাপার আদৌ এটায় আপনার সাথে এগ্রিড নন। and at least own up to the fact that what you are saying is essentially what the frauds like Frawley, Kak, Rajaram are screaming.


বাকিও একগাদা অদ্ভুত যুক্তি দিয়েছেন, কিন্তু সেইগুলো কাটাছেঁড়া করার সময়, ইচ্ছে কোনটাই বিশেষ নেই।
নেহাত নিজের লেখা না হলে আপনাকে বলতাম, যে টই এ ভুল করে লেখাটা পেস্ট করেছিলেন, সেইটায় চোখ রাখলে এমন অনেক "আধুনিক প্রাচ্য এবং পাশ্চাত্যের বাঘা বাঘা পন্ডিত" দের খড় কুচোনো কুচোনো হবে দেখতে পাবেন।


আর হ্যাঁ, স্ট্যাটাস তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়া, লেখা বলতে আমি অন্যজাতের জিনিস বুঝি, টাইপ করে ফেললাম আর লিখে ফেললাম এই দুটো আমার কাছে সমার্থক নয়। যা অন্তত দুবার রিরাইট করতে হয়নি কিম্বা দুটো রাত জাগতে হয়নি তাকে আমি লেখা বলিনা।




Avatar: Soumyadeep Bandyopadhyay

Re: দুর্গা, নিওলিথিক উত্তরাধিকার

নিজের লেখা নিয়ে সুপারইগো থেকে দূরে থাকাই ভালো , তবে আস্ক পারপোলা নামটা ইচ্ছাকৃত অমিসন করলেন কেন বুঝলাম না, (সিলেকটিভ কোটেশন ?) দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় নিয়েও হয়তো একই বক্তব্য রাখবেন , আমরা আসলে সবাই নিজের হাইপোথেসিস সাপোর্ট করা লোক ই খুঁজি, কি আর করা যাবে ।


আমি বরঞ্চ ইন্টার মিংলিঙ শব্দ তা ব্যবহার করতাম , ইনট্রুসিভ না লিখে, যাক সে আর কি করা যাবে । প্রয়োজনীয় কনট্রাস্ট মানেই যে নেগেটিভ , সেটা বোধয় অন্য কোনো স্কুলের সিলেবাসে ছিল ।


আর অদ্ভুত যুক্তি ( মানে যা আপনার কাছে প্যালেটেবল নয় ) নিয়ে কাটা ছেঁড়া করার সময় বা ইচ্ছে না থাকা আপনার চয়েস ।

and at least own up to the fact that what you are saying is essentially what the frauds like Frawley, Kak, Rajaram are screaming. ( এই আক্রমণ তার মানে বুঝলাম না , আপনিও তো নিজের কথা কিছু লেখেন নি ,অন্যদের বই থেকেই কোট করছেন - আমি বা আপনি কেউই ইন্ডোলজিস্ট নই)

এছাড়া বহু প্রসঙ্গ আপনি ইচ্ছে করেই এড়িয়ে গেলেন , যেমন কোথায় কোনো লিখিত ইতিহাস বা ফোক কালচার না থাকা সত্ত্বেও কি ভাবে অসুর কে মহিষাসুর কে বানিয়ে দেওয়া হলো , কালচারাল এসিমিলেশন কিনবো অগ্গ্রেশন হিসেবে দেখতেই হবে, ইন্দো ইরানিয়ান ভাষা গোষ্ঠী এতদিন ধরে কেন মাইগ্রেশন করলো মিলিটারি সুপ্রিম হয়েও ইত্যাদি, যাক সে জন্যে আপনাকে কিছু বলে লাভ নেই বুঝতেই পারলাম ।

আর সত্যি মনে হয় এ ব্যাপারে আলোচনা করা উচিত নয়- ভালো থাকুন ।








Avatar: sswarnendu

Re: দুর্গা, নিওলিথিক উত্তরাধিকার

সৌম্যদীপবাবু,

পারপোলার নাম না লেখার কারণ নেহাতই আপনার জুয়াচুরি নিয়ে আর সময় নষ্ট না করার ইচ্ছের জন্য। পারপোলা অবশ্যই ক্রেডিবল স্কলার, আর ঠিক সেইজন্যেই আপনাকে থাপার এর মত তাঁকেও মিসরিপ্রেসেন্ট করতে হয়েছে। ( মূল লেখাটায় নয় অবশ্য, সেখানে পারপোলার রেফারেন্স শুধু মহিষ বলির ট্র্যাডিশন নিয়ে, কিন্তু কমেন্ট এ এমনভাবে লিখেছেন যেন পারপোলা ও ফ্রলে একই মত সাবস্ক্রাইব করেন, ঠিক যেমন মূল লেখাটায় থাপারকে নিয়ে যেমনভাবে লেখা; থাপার যা বলেছেন আর আপনি যেভাবে থাপারকে রিপ্রেসেন্ট করেছেন সেটাকে জুয়াচুরি বলে )।

"Asko Parpola, THE COMING OF THE ARYANS TO IRAN AND INDIA AND THE CULTURAL AND
ETHNIC IDENTITY OF THE DÃSAS "

লিঙ্ক ও রেখে গেলাম, পড়ে দেখে নিতে পারেন যে কেউ সৌম্যদীপবাবুর এই 'সিলেকটিভ' কোটগুলোর চরিত্রটা...
http://ojs.tsv.fi/index.php/StOrE/article/view/49745/14789

আরও একগাদা দিতে পারি পারপোলার লেখা থেকে, সবকটার লিঙ্ক নেই তাই স্ক্রিনশট নিয়ে দিতে হবে তাই আর খাটলাম না এখন।

আর আবারো intermingling এর শাক দিয়ে মাছ ঢাকা। যেকোন দুটো কালচার যারা পরস্পরের সংস্পর্শে বহুদিন আছে সেগুলো ইন্টারমিঙ্গল করেই, ফলত ওটা কোন কথাই নয়। ইন্দো-ইউরোপীয় কালচার ভারতীয় উপমহাদেশে ইন্ট্রুসিভ না নয়? বাইরে থেকে এসে এক্সপ্যান্ড করেছে না নয়? এই সোজা প্রশ্নটার উত্তর দিতে আপনার ব্যথাটা কিসে সেটা বাকিদেরও বলুন একটু। ( পারপোলার এ বিষয়ে মত জানতে যে আর্টিকলটা দিলাম সেটা পড়তে অবধিও হবে না, টাইটেলটা পড়লেই হবে :P )।

এখন এই অবধিই থাকুক নাকি সৌম্যদীপবাবু? লাগলে বলবেন। :D






Avatar: sswarnendu

Re: দুর্গা, নিওলিথিক উত্তরাধিকার

আর একটা চ্যালেঞ্জ ও রেখে গেলাম, আমাকে পারপোলা র একটা লেখার রেফারেন্স দিতে হবে যেখানে উনি উপমহাদেশে ইন্দোইউরোপীয় কালচারকে ইন্ট্রুসিভ নয় বলেছেন।
Avatar: Soumyadeep Bandyopadhyay

Re: দুর্গা, নিওলিথিক উত্তরাধিকার

জুয়াচুরি - বাহ্ , অসাধারণ। ফ্রলে র নাম শুনেই এতো উত্তেজিত হয়ে পড়বেন না মশাই ,

নিজেকে একটু বেশী পড়ুয়া ভেবে ফেলছেন বোধয়, তো যাই হোক সিলেক্টিভ ব্যাপারে রোমিলা থাপারের এই বক্তব্য দেখতে পারেন- ( http://www.indoaryans.org/romila-thapar-aryans.html

আপনি নিশ্চয়ই আমার চেয়ে বেশি সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে লেখেন, ফলে পার্সোনাল এট্যাক এ নেমে আস্তে হচ্ছে, তো আমার টাইটেল পড়ার দরকার নেই আস্ক পারপোলার বই টি আমার কাছে আছে ( অবাক হবেন না যেন। )

আশা করি বাকি রেফারেন্স দেওয়া বই গুলো ও উল্টে পাল্টে দেখে আপনি আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট করবেন একটু ,দূরাশাই বলতে পারেন ।

আর ইমোটিকন গুলো এখানে ঠিক কাজ করে না বুঝলেন , তাই বেকার টাইপ করছেন এগুলো । তার থেকে একটু অন্য মতের প্রতি সন্মান জানানো শিখুন লেবেলিং এর মতো ড্রিবলিং না করে, এই বয়স টা আমি অন্তটি পেরিয়ে এসেছি ।

আপনি কন্টিনু করুন, আমি এখানে আর কিছু লিখবো না , কারণ যে কনক্লুশন কোনো ঐতিহাসিক এখনো দিতে পারেন নি, সেটা আপনাকে প্রমান করতেই হবে - শুভেচ্ছা রইলো










Avatar: চুপি চুপি

Re: দুর্গা, নিওলিথিক উত্তরাধিকার

সৌম্যদীপ বাবু ,
আপনি হয়তো নতুন এখানে লিখেছেন বলে জানেন না , এখানে কিন্তু এক্ষুনি আপনাকে 'চাড্ডি' ইত্যাদি বলে দাগিয়ে দেওয়া হলো বলে।গুরুচন্ডালী ফোরাম টি বামঘেঁষা , মায়াপাতায় পোস্টমডার্ন নিওলিবারেল লেফট এক্টিভিজম এর জায়গা । বহু লোকের বক্তব্য পছন্দ না হলেই তাকে বুলি করে তাড়ানো হয়েছে ।ডানপন্থী থট অফ স্কুল এখানে নিষিদ্ধ তবে যেকোনো বামপন্থী চিন্তনের চেরিপিকিং স্বাগত ।
তবে ছাড়বেন না , সাহস করে লিখে যান - ওই যে মাও বলেছেন না সদর দপ্তরে কামান দাগতে :-)
Avatar: Soumyadeep Bandyopadhyay

Re: দুর্গা, নিওলিথিক উত্তরাধিকার

আর আমি বলেছি আস্ক পারপোলা এ আই টি খারিজ করেছেন , আপনি ওনার বই টি (দা রুটস্ অফ হিন্দুইজম )
দেখে নিতে পারেন উনি কোথায় আপনার ভাষায় ইনট্রুসিভ টাইপ বাক্যবন্ধ ব্যবহার করেছেন কিনা। রোমিলা থাপারের জ্যে যেন ইউ তে বক্তৃতার লিংক তা তো দিয়েই দিয়েছি, দেখুন উনি আপনার পছন্দের ভোক্যাবুলারি ব্যবহার করেছেন কিনা । জানি না এবার হয়তো বলবেন, আমি গিয়ে ওয়েব সাইটে ওনার মন্তব্য বিকৃত করেছি , সব ই সম্ভব ।










Avatar: Soumyadeep Bandyopadhyay

Re: দুর্গা, নিওলিথিক উত্তরাধিকার

চুপি চুপি বলি- আছি অনেক দিন ই ।


Avatar: sswarnendu

Re: দুর্গা, নিওলিথিক উত্তরাধিকার

এখনো সাদা প্রশ্নের সাদা উত্তর এল না...

কালচারটা ইন্ট্রুসিভ না নয়?

আর থাপারের আপনার ই দেওযা লিঙ্ক থেকে

"So the idea is not that there is a huge displacement of people and culture but a kind of slow trickling in of people bringing in new technology, new ideas."

:D


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6]   এই পাতায় আছে 81 -- 100


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন