রাণা আলম RSS feed

রাণা আলম এর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • আমাদের চমৎকার বড়দা প্রসঙ্গে
    ইয়ে, স-অ-অ-অ-ব দেখছে। বড়দা সব দেখছে। বড়দা স্রেফ দেখেনি ওইখানে এক দিন রাম জন্মালেন, তার পর কারা বিদেশ থেকে এসে যেন ভেঙেটেঙে মসজিদ স্থাপন করল, কেন না বড়দা তখন ঘুমোচ্ছিলেন। ঘুম ভাঙল যখন, চোখ কচলেটচলে দেখলেন মস্ত ব্যাপার এ, বড়দা বললেন, ভেঙে ফেলো মসজিদ, জমি ...
  • ধর্ষকের মৃত্যুদন্ড দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ?
    যেকোন নারকীয় ধর্ষণের ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়ে সামনে আসার পর নাগরিক হিসাবে আমাদের একটা ঈমানি দায়িত্ব থাকে। দায়িত্বটা হল অভিযুক্ত ধর্ষকের কঠোরতম শাস্তির দাবি করা। কঠোরতম শাস্তি বলতে কারোর কাছে মৃত্যুদন্ড। কেউ একটু এগিয়ে ধর্ষকের পুরুষাঙ্গ কেটে নেওয়ার ...
  • তোমার পূজার ছলে
    বাঙালি মধ্যবিত্তের মার্জিত ও পরিশীলিত হাবভাব দেখতে বেশ লাগে। অপসংস্কৃতি নিয়ে বাঙালি চিরকাল ওয়াকিবহাল ছিল। আজও আছে। বেশ লাগে। কিন্তু, বুকে হাত দিয়ে বলুন, আপনার প্রবল ক্ষোভ ও অপমানে আপনার কি খুব পরিশীলিত, গঙ্গাজলে ধোওয়া আদ্যন্ত সাত্ত্বিক শব্দ মনে পড়ে? না ...
  • The Irishman
    দা আইরিশম্যান। সিনেমা প্রেমীদের জন্য মার্টিন স্করসিসের নতুন বিস্ময়। ট্যাক্সি ড্রাইভার, গুডফেলাস, ক্যাসিনো, গ্যাংস অব নিউইয়র্ক, দা অ্যাভিয়েটর, দ্য ডিপার্টেড, শাটার আইল্যান্ড, দ্য উল্ফ অব ওয়াল স্ট্রিট, সাইলেন্টের পরের জায়গা দা আইরিশম্যান। বর্তমান সময়ের ...
  • তোকে আমরা কী দিইনি?
    পূর্ণেন্দু পত্রী মশাই মার্জনা করবেন -********তোকে আমরা কী দিইনি নরেন?আগুন জ্বালিয়ে হোলি খেলবি বলে আমরা তোকে দিয়েছি এক ট্রেন ভর্তি করসেবক। দেদার মুসলমান মারবি বলে তুলে দিয়েছি পুরো গুজরাট। তোর রাজধর্ম পালন করতে ইচ্ছে করে বলে পাঠিয়ে দিয়েছি স্বয়ং আদবানীজীকে, ...
  • ইশকুল ও আর্কাদি গাইদার
    "জাহাজ আসে, বলে, ধন্যি খোকা !বিমান আসে, বলে, ধন্যি খোকা !এঞ্জিনও যায়, ধন্যি তোরে খোকা !আসে তরুণ পাইওনিয়র,সেলাম তোরে খোকা !"আরজামাস বলে একটা শহর ছিল। ছোট্ট শহর, অনেক দূরের, অন্য মহাদেশে। অনেক ছোটবেলায় চিনে ফেলেছিলাম। ভৌগোলিক দূরত্ব টের পাইনি।টের পেতে দেননি ...
  • ছন্দহীন কবিতা
    একদিন দুঃসাহসের পাখায় ভর করে,ছুঁতে চেয়েছিলাম কবিতার শরীর ।দ্বিখন্ডিত বাংলার মত কবিতা হয়ে উঠলোছন্দহীন ।অর্থহীন যাত্রার “কা কা” চিৎকারে,ছুটে এলোপ্রতিবাদী পাঠক।ছন্দভঙ্গের নায়কডানা ভেঙ্গে পড়িপুঁথি পুস্তকের এক দোকানে।আলোক প্রাপ্তির প্রত্যাশায়,যোগ ধ্যানে কেটে ...
  • হ্যালোউইনের ভূত
    হ্যালোউইন চলে গেল। আমাদের বাড়িতে হ্যালোউইনের রীতি হল মেয়েরা বন্ধুদের সঙ্গে ট্রিক-অর-ট্রিট করতে বেরোয় দল বেঁধে। পেছনে পেছনে চলে মায়েদের দল। আর আমি বাড়িতে থাকি ক্যান্ডি বিতরণ করব বলে। মুহূর্মুহূ কলিং বেল বাজে, আমি হাসি-হাসি মুখে ক্যান্ডির গামলা নিয়ে দরজা ...
  • হয়নি
    তুমি ভালবাসতে চেয়েছিলে।আমিও ।হয়নি।তুমিঅনেক দূর অব্দি চলে এসেছিলে।আমিও ।হয়নি আর পথ চলা।তুমি ফিরে গেলে,জানালে,ভালবাসতে চেয়েছিলেহয়নি। আমি জানলামচেয়ে পাইনি।হয়নি।জলভেজা চোখে ভেসে গেলআমাদের অতীত।স্মিত হেসে সামনে এসে দাঁড়ালোপথদুজনার দু টি পথ।সেপ্টেম্বর ২২, ...
  • তিরাশির শীত
    ১৯৮৩ র শীতে লয়েডের ওয়েস্টইন্ডিজ ভারতে সফর করতে এলো। সেই সময়কার আমাদের মফস্বলের সেই শীতঋতু, তাজা খেজুর রস ও রকমারি টোপা কুলে আয়োজিত, রঙিন কমলালেবু-সুরভিত, কিছু অন্যরকম ছিলো। এত শীত, এত শীত সেই অধুনাবিস্মৃত কালে, কুয়াশাআচ্ছন্ন পুকুরের লেগে থাকা হিমে মাছ ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

ইসকুল-টিসকুল (পর্ব ১)

মাহফুজ আলম

বাঙালি হিসেে্বে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাংলা ভাষা নিয়ে গভীর আবেগ রয়েছে আমার। আগাম এটুকু বলে রাখাটা জরুরী।
কদিন আগে একটি প্রিন্ট মিডিয়াতে জনৈক বাঙালি শিশুশিল্পীর সাক্ষাৎকার পড়ছিলাম। সেখানে তার মা জানাচ্ছেন যে তার কন্যাটি বাংলা পড়তে পারেনা। আমার জ্ঞানলাভ হল যে কলকেতাতে অ্যামন ইস্কুলও আছে যেখানে পড়লে বাঙ্গালির ছেলে মেয়েরা বাংলা পড়তে পারেনা।
এখন আমি সেকেলে লোক। বাংলা মাধ্যম ইস্কুলে পড়ে পাশ করা। কাজেই আমার চোখে বাঙালি হয়ে বাংলা পড়তে না পারাটা খুব গর্বের বিষয় নয় আর কি। যাদের কাছে গর্বের বিষয় তারা ভালো থাকুন।
প্রসঙ্গত, আমারো পেট চলে ইস্কুলে ইংরেজি ভাষাটা পড়িয়ে। ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র হিসেবে জানিয়ে রাখি যে ইংরেজি ভাষার প্রতি কোনোরকম অসূয়া আমার নেই। বিশ্ব জ্ঞান ভান্ডারের সাথে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ইংরেজি'র গুরুত্ব অসীম। এবং সেটাকে অস্বীকার করাটা মূর্খামি। ব্রিটিশ ভাষাবিদ DAVID GRADDOL দেখিয়েছেন যে ইন্টারনেটে সঞ্চিত জ্ঞান ভাণ্ডারের ৮০% শতাংশই হচ্ছে ইংরেজি ভাষাতে লেখা।
সুতরাং, ইংরেজি ভাষাটা ভালোরকম ভাবেই শেখা উচিত। যদিও আমাদের সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থায় ইস্কুল স্তরে ইংরেজি শিক্ষার সিলেবাসটা অ্যামনভাবে তৈরী করেন ঠান্ডি ঘরের কর্তাব্যক্তিরা যাতে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাড়ির সন্তান আর ভালো গৃহশিক্ষক এর সাহায্য ছাড়া গরিব ঘরের ছেলে মেয়েরা ইংরেজি শেখার ক্ষেত্রে গুচ্ছের বাধার মুখোমুখি হয়।
সেটা ক্যামনে হয়? ছোট্ট করে বুঝিয়ে দিই। আমরা ইস্কুলে যখন ইংরেজি পড়াই তখন ধরে নিই যে বাচ্চারা অমুক জিনিস গুলো বাড়ি থেকে জেনেই এসেছে। বেশিরভাগ শিক্ষিত বাড়িতে ইস্কুলে আসার আগেই ইংরেজি অক্ষর জ্ঞান সম্পূর্ণ হয়। কিন্তু নকুল মাঝি’র মেয়ে রিমি মাঝি’র কি হবে সার? তাকে তো বিঁড়ি বেঁধে ইস্কুলে আসতে হয়। নকুল মাঝি সাত সকালে খাটতে বেরোয়।বাড়িতে পড়া দেখানোর কেউ নেই।
সরকারী প্রাইমারি স্কুলে বাচ্চারা গাদাগাদি করে বসে।রাজ্য সরকারের সৌজন্যে শিক্ষক কম। মাস্টার মশাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চেয়ারে বসে ‘লেকচার’ মেথডে পড়িয়ে যান। আর ছেলে পুলে একসাথে উত্তর দেয়। দশজনের মধ্যে তিন জন উত্তরটা বুঝে বলে। দুজন বোঝার মতন জায়গায় যায়। বাকি পাঁচ জন কিছুই বোঝেনা।
পাশ-ফেল প্রথা জাহান্নামে গেছে। সুতরাং প্রায় কিছু না শিখেই অনেক ছেলে মেয়ে এইট অব্দি তরতরিয়ে উঠে যায়। সরকারী খাতায় সাফল্যের খতিয়ান লেখা হয়। মা সরস্বতী আড়ালে দীর্ঘশ্বাস ফ্যালেন।
এখন প্রত্যেকটা ছেলে মেয়ে কে আলাদা করে দেখাতে হলে ৩৬৫ দিনেও অ্যাকাডেমিক ইয়ার সম্পূর্ণ হবেনা। সম্পন্ন বাড়ির অভিভাবক সরকারী স্কুলে ভর্তি করলেও তার উপরে ভরসা রাখেন না, হয় নিজে দেখান অথবা গৃহশিক্ষক দেন।
(একটা বিষয় এখানে গুঁজে দিচ্ছি। পরিকাঠামো নেই, এটা একশোভাগ ঠিক। কিন্তু সরকারী স্কুলগুলোর খারপ হালের জন্য একাংশের মাস্টার মশাইরাও দায়ী যারা ক্লাসে গিয়ে কিস্যু পড়ান না বা নাম কে ওয়াস্তে পড়ান এবং মাসের শেষে অম্লানবদনে মাইনেটা পকেটে পোরেন। বিবেকে কিস্যু খোঁচা লাগেনা।এবং এদের জন্য যারা খেটে পড়ান তারাও বদনামের ভাগিদার হোন।যারা এই অখাদ্য নোট টা পড়ছেন, তারা আশে পাশে খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন সরকারী স্কুল টিচারদের অধিকাংশই নিজেদের ছেলে মেয়েদের বেসরকারী স্কুলে পড়ান।)
গরিব বাড়ির ছেলে মেয়েরা দু-একটা মেধার জোরে অথবা কারুর ব্যক্তিগত সাহায্যে ছিটকে ছাটকে বেরোয়, বাকিরা অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের সংখ্যা ভারি করে।
এই সমস্যাটা ক্যানো হয় সেইটে বোঝার চেষ্টা করছি। প্রথম অভিযোগ অবশ্যই সিলেবাস নিয়ে। আমাদের ইস্কুল বোর্ডের সিলেবাসটা হয় শহরের দিকে তাকিয়ে। নিচু ক্লাসে একটা টপিক আছে, নাম ‘কলকাতা অ্যান্ড হার মনুমেন্টস’।বীরভুমের প্রান্তিক গ্রামের ছেলেটি যে কিনা টাউন বলতে কি বোঝায় তাইই চেনেনা, তাকে কিভাবে অ্যাসোসিয়েট করা যাবে পাঠ্য বস্তুর সাথে? এখানেই শেষ নয়। জওহরলাল নেহরু তার মেয়ে ইন্দিরাকে চিঠি লিখতেন। সেটার উপরে ভিত্তি করেও একটা টেক্সট দেওয়া হয়েছে। বেচারা মাস্টার মশাই আগে ছেলে মেয়েদের জওহরলাল নেহরু আর তার মেয়েকে চেনাবেন। বাপ ক্যানোই বা মেয়েকে চিঠি লিখতো সেইটে বোঝাবেন। তারপরে লার্নিং অবজেকটিভ এ যাবেন।
অ্যাত্তো সময় খুদাতলা হতভাগ্য ক্লাস টিচার কে দেন না।
এখন শহরের জন্য আলাদা, গ্রামের জন্য আলাদা –এভাবে সিলেবাস করাটা শক্ত। কিন্তু গ্রাম শহর ভেদে ছেলে মেয়েরা সহজেই নিজেদের অ্যাসোসিয়েট করতে পারে, অ্যামন টেক্সট করাটা বোধহয় ততটা কঠিন কাজ নয়।
এবার আসি পড়ানোর ক্ষেত্রে। প্রথমেই বুঝে নেওয়া যাক যে কোনো ভাষা শেখানোটা খুব সহজ কাজ নয়, বাচ্চাদের পড়ানোটা তো আরও কঠিন এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে ইংরাজীতে প্রথম শ্রেণী পেলেই সে ভালো ভাষা শিক্ষক হবে অ্যামন ভাবাটা মূর্খামি।
পড়ানোর অনেক রকম মেথড আছে। লার্নারদের সোসিও-সাইকোলজিক্যাল অবস্থান বুঝতে হয়।এগুলো রপ্ত করার জন্য ট্রেনিং এর দরকার।
সেইজন্যেই বিএড ট্রেনিং এর ব্যবস্থা। যাতে শিক্ষক হবার জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হয়।
সরকারী উদাসীনতায় বিএড ট্রেনিং টা দীর্ঘকাল ধরে হাস্যকর প্রহসনে পরিণত হয়েছে।ট্রেনিং কালে প্রায় কিছুই শেখা যায়না। এবং শুধুমাত্র পাশ করাটাই উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অগত্যা, মাস্টার মশাইও কিভাবে পড়াইবেন তাহা কিছু শিখিলেন না। সেই সুবাদে তাহার ছাত্রও কিছু শিখিলোনা। শিক্ষাদপ্তরের কর্তাব্যক্তিরা ঠান্ডি ঘরে বসিয়া খাতা কলমে কল্পিত সাফল্যের ঢেঁকুর তুলিলেন। আর রহিম শেখ এবং রামা কৈবর্ত্যের সন্তানেরা পূর্বের ন্যায় ইস্কুল ছুট হইয়া জমিতে অথবা ইঁটভাঁটায় খাটিতে গেলো। এইরূপে ইস্কুলে ইংরাজি শিক্ষার শ্রাদ্ধ সম্পূর্ণ হইলো।

198 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: রাণা আলম

Re: ইসকুল-টিসকুল (পর্ব ১)

এই নিয়ে রাণা এখন অনেক কাজ করছে। আশা করি লিখবে।

নামের জায়গা আসছে না। পাই লিখলাম।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন