রাণা আলম RSS feed

রাণা আলম এর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • অরফ্যানগঞ্জ
    পায়ের নিচে মাটি তোলপাড় হচ্ছিল প্রফুল্লর— ভূমিকম্পর মত। পৃথিবীর অভ্যন্তরে যেন কেউ আছাড়ি পিছাড়ি খাচ্ছে— সেই প্রচণ্ড কাঁপুনিতে ফাটল ধরছে পথঘাট, দোকানবাজার, বহুতলে। পাতাল থেকে গোঙানির আওয়াজ আসছিল। ঝোড়ো বাতাস বইছিল রেলব্রিজের দিক থেকে। প্রফুল্ল দোকান থেকে ...
  • থিম পুজো
    অনেকদিন পরে পুরনো পাড়ায় গেছিলাম। মাঝে মাঝে যাই। পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়, আড্ডা হয়। বন্ধুদের মা-বাবা-পরিবারের সঙ্গে কথা হয়। ভাল লাগে। বেশ রিজুভিনেটিং। এবার অনেকদিন পরে গেলাম। এবার গিয়ে শুনলাম তপেস নাকি ব্যবসা করে ফুলে ফেঁপে উঠেছে। একটু পরে তপেসও এল ...
  • কাঁসাইয়ের সুতি খেলা
    সেকালে কাঁসাই নদীতে 'সুতি' নামের একটা খেলা প্রচলিত ছিল। মাছ ধরার অভিনব এক পদ্ধতি, বহু কাল ধরে যা চলে আসছে। আমাদের পাড়ার একাধিক লোক সুতি খেলাতে অংশ নিত। এই মৎস্যশিকার সার্বজনীন, হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ে জনপ্রিয়। মনে আছে ক্লাস সেভেনে পড়ার সময় একদিন ...
  • শুভ বিজয়া
    আমার যে ঠাকুর-দেবতায় খুব একটা বিশ্বাস আছে, এমন নয়। শাশ্বত অবিনশ্বর আত্মাতেও নয়। এদিকে, আমার এই জীবন, এই বেঁচে থাকা, সবকিছু নিছকই জৈবরাসায়নিক ক্রিয়া, এমনটা সবসময় বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে না - জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য-পরিণ...
  • আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার চাই...
    দেশের সবচেয়ে মেধাবীরা বুয়েটে পড়ার সুযোগ পায়। দেশের সবচেয়ে ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিঃসন্দেহে বুয়েট। সেই প্রতিষ্ঠানের একজন ছাত্রকে শিবির সন্দেহে পিটিয়ে মেরে ফেলল কিছু বরাহ নন্দন! কাওকে পিটিয়ে মেরে ফেলা কি খুব সহজ কাজ? কতটুকু জোরে মারতে হয়? একজন মানুষ পারে ...
  • ইন্দুবালা ভাতের হোটেল-৭
    চন্দ্রপুলিধনঞ্জয় বাজার থেকে এনেছে গোটা দশেক নারকেল। কিলোটাক খোয়া ক্ষীর। চিনি। ছোট এলাচ আনতে ভুলে গেছে। যত বয়েস বাড়ছে ধনঞ্জয়ের ভুল হচ্ছে ততো। এই নিয়ে সকালে ইন্দুবালার সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে। ছোট খাটো ঝগড়াও। পুজো এলেই ইন্দুবালার মন ভালো থাকে না। কেমন যেন ...
  • গুমনামিজোচ্চরফেরেব্বাজ
    #গুমনামিজোচ্চরফেরেব্...
  • হাসিমারার হাটে
    অনেকদিন আগে একবার দিন সাতেকের জন্যে ভূটান বেড়াতে যাব ঠিক করেছিলাম। কলেজ থেকে বেরিয়ে তদ্দিনে বছরখানেক চাকরি করা হয়ে গেছে। পুজোর সপ্তমীর দিন আমি, অভিজিৎ আর শুভায়ু দার্জিলিং মেল ধরলাম। শিলিগুড়ি অব্দি ট্রেন, সেখান থেকে বাসে ফুন্টসলিং। ফুন্টসলিঙে এক রাত্তির ...
  • দ্বিষো জহি
    বোধন হয়ে গেছে গতকাল। আজ ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ, সন্ধ্যাবেলায় আমন্ত্রণ ও অধিবাস। তবে আমবাঙালির মতো, আমারও এসব স্পেশিয়ালাইজড শিডিউল নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই তেমন - ছেলেবেলা থেকে আমি বুঝি দুগ্গা এসে গেছে, খুব আনন্দ হবে - এটুকুই।তা এখানে সেই আকাশ আজ। গভীর নীল - ...
  • গান্ধিজির স্বরাজ
    আমার চোখে আধুনিক ভারতের যত সমস্যা তার সবকটির মূলেই দায়ী আছে ব্রিটিশ শাসন। উদাহরণ, হাতে গরম এন আর সি নিন, প্রাক ব্রিটিশ ভারতে এরকম কোনও ইস্যুই ভাবা যেতো না। কিম্বা হিন্দু-মুসলমান, জাতিভেদ, আর্থিক বৈষম্য, জনস্ফীতি, গণস্বাস্থ্য ব্যবস্থার অভাব, শিক্ষার অভাব ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

ইসকুল-টিসকুল (পর্ব ১)

মাহফুজ আলম

বাঙালি হিসেে্বে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাংলা ভাষা নিয়ে গভীর আবেগ রয়েছে আমার। আগাম এটুকু বলে রাখাটা জরুরী।
কদিন আগে একটি প্রিন্ট মিডিয়াতে জনৈক বাঙালি শিশুশিল্পীর সাক্ষাৎকার পড়ছিলাম। সেখানে তার মা জানাচ্ছেন যে তার কন্যাটি বাংলা পড়তে পারেনা। আমার জ্ঞানলাভ হল যে কলকেতাতে অ্যামন ইস্কুলও আছে যেখানে পড়লে বাঙ্গালির ছেলে মেয়েরা বাংলা পড়তে পারেনা।
এখন আমি সেকেলে লোক। বাংলা মাধ্যম ইস্কুলে পড়ে পাশ করা। কাজেই আমার চোখে বাঙালি হয়ে বাংলা পড়তে না পারাটা খুব গর্বের বিষয় নয় আর কি। যাদের কাছে গর্বের বিষয় তারা ভালো থাকুন।
প্রসঙ্গত, আমারো পেট চলে ইস্কুলে ইংরেজি ভাষাটা পড়িয়ে। ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র হিসেবে জানিয়ে রাখি যে ইংরেজি ভাষার প্রতি কোনোরকম অসূয়া আমার নেই। বিশ্ব জ্ঞান ভান্ডারের সাথে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ইংরেজি'র গুরুত্ব অসীম। এবং সেটাকে অস্বীকার করাটা মূর্খামি। ব্রিটিশ ভাষাবিদ DAVID GRADDOL দেখিয়েছেন যে ইন্টারনেটে সঞ্চিত জ্ঞান ভাণ্ডারের ৮০% শতাংশই হচ্ছে ইংরেজি ভাষাতে লেখা।
সুতরাং, ইংরেজি ভাষাটা ভালোরকম ভাবেই শেখা উচিত। যদিও আমাদের সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থায় ইস্কুল স্তরে ইংরেজি শিক্ষার সিলেবাসটা অ্যামনভাবে তৈরী করেন ঠান্ডি ঘরের কর্তাব্যক্তিরা যাতে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাড়ির সন্তান আর ভালো গৃহশিক্ষক এর সাহায্য ছাড়া গরিব ঘরের ছেলে মেয়েরা ইংরেজি শেখার ক্ষেত্রে গুচ্ছের বাধার মুখোমুখি হয়।
সেটা ক্যামনে হয়? ছোট্ট করে বুঝিয়ে দিই। আমরা ইস্কুলে যখন ইংরেজি পড়াই তখন ধরে নিই যে বাচ্চারা অমুক জিনিস গুলো বাড়ি থেকে জেনেই এসেছে। বেশিরভাগ শিক্ষিত বাড়িতে ইস্কুলে আসার আগেই ইংরেজি অক্ষর জ্ঞান সম্পূর্ণ হয়। কিন্তু নকুল মাঝি’র মেয়ে রিমি মাঝি’র কি হবে সার? তাকে তো বিঁড়ি বেঁধে ইস্কুলে আসতে হয়। নকুল মাঝি সাত সকালে খাটতে বেরোয়।বাড়িতে পড়া দেখানোর কেউ নেই।
সরকারী প্রাইমারি স্কুলে বাচ্চারা গাদাগাদি করে বসে।রাজ্য সরকারের সৌজন্যে শিক্ষক কম। মাস্টার মশাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চেয়ারে বসে ‘লেকচার’ মেথডে পড়িয়ে যান। আর ছেলে পুলে একসাথে উত্তর দেয়। দশজনের মধ্যে তিন জন উত্তরটা বুঝে বলে। দুজন বোঝার মতন জায়গায় যায়। বাকি পাঁচ জন কিছুই বোঝেনা।
পাশ-ফেল প্রথা জাহান্নামে গেছে। সুতরাং প্রায় কিছু না শিখেই অনেক ছেলে মেয়ে এইট অব্দি তরতরিয়ে উঠে যায়। সরকারী খাতায় সাফল্যের খতিয়ান লেখা হয়। মা সরস্বতী আড়ালে দীর্ঘশ্বাস ফ্যালেন।
এখন প্রত্যেকটা ছেলে মেয়ে কে আলাদা করে দেখাতে হলে ৩৬৫ দিনেও অ্যাকাডেমিক ইয়ার সম্পূর্ণ হবেনা। সম্পন্ন বাড়ির অভিভাবক সরকারী স্কুলে ভর্তি করলেও তার উপরে ভরসা রাখেন না, হয় নিজে দেখান অথবা গৃহশিক্ষক দেন।
(একটা বিষয় এখানে গুঁজে দিচ্ছি। পরিকাঠামো নেই, এটা একশোভাগ ঠিক। কিন্তু সরকারী স্কুলগুলোর খারপ হালের জন্য একাংশের মাস্টার মশাইরাও দায়ী যারা ক্লাসে গিয়ে কিস্যু পড়ান না বা নাম কে ওয়াস্তে পড়ান এবং মাসের শেষে অম্লানবদনে মাইনেটা পকেটে পোরেন। বিবেকে কিস্যু খোঁচা লাগেনা।এবং এদের জন্য যারা খেটে পড়ান তারাও বদনামের ভাগিদার হোন।যারা এই অখাদ্য নোট টা পড়ছেন, তারা আশে পাশে খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন সরকারী স্কুল টিচারদের অধিকাংশই নিজেদের ছেলে মেয়েদের বেসরকারী স্কুলে পড়ান।)
গরিব বাড়ির ছেলে মেয়েরা দু-একটা মেধার জোরে অথবা কারুর ব্যক্তিগত সাহায্যে ছিটকে ছাটকে বেরোয়, বাকিরা অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের সংখ্যা ভারি করে।
এই সমস্যাটা ক্যানো হয় সেইটে বোঝার চেষ্টা করছি। প্রথম অভিযোগ অবশ্যই সিলেবাস নিয়ে। আমাদের ইস্কুল বোর্ডের সিলেবাসটা হয় শহরের দিকে তাকিয়ে। নিচু ক্লাসে একটা টপিক আছে, নাম ‘কলকাতা অ্যান্ড হার মনুমেন্টস’।বীরভুমের প্রান্তিক গ্রামের ছেলেটি যে কিনা টাউন বলতে কি বোঝায় তাইই চেনেনা, তাকে কিভাবে অ্যাসোসিয়েট করা যাবে পাঠ্য বস্তুর সাথে? এখানেই শেষ নয়। জওহরলাল নেহরু তার মেয়ে ইন্দিরাকে চিঠি লিখতেন। সেটার উপরে ভিত্তি করেও একটা টেক্সট দেওয়া হয়েছে। বেচারা মাস্টার মশাই আগে ছেলে মেয়েদের জওহরলাল নেহরু আর তার মেয়েকে চেনাবেন। বাপ ক্যানোই বা মেয়েকে চিঠি লিখতো সেইটে বোঝাবেন। তারপরে লার্নিং অবজেকটিভ এ যাবেন।
অ্যাত্তো সময় খুদাতলা হতভাগ্য ক্লাস টিচার কে দেন না।
এখন শহরের জন্য আলাদা, গ্রামের জন্য আলাদা –এভাবে সিলেবাস করাটা শক্ত। কিন্তু গ্রাম শহর ভেদে ছেলে মেয়েরা সহজেই নিজেদের অ্যাসোসিয়েট করতে পারে, অ্যামন টেক্সট করাটা বোধহয় ততটা কঠিন কাজ নয়।
এবার আসি পড়ানোর ক্ষেত্রে। প্রথমেই বুঝে নেওয়া যাক যে কোনো ভাষা শেখানোটা খুব সহজ কাজ নয়, বাচ্চাদের পড়ানোটা তো আরও কঠিন এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে ইংরাজীতে প্রথম শ্রেণী পেলেই সে ভালো ভাষা শিক্ষক হবে অ্যামন ভাবাটা মূর্খামি।
পড়ানোর অনেক রকম মেথড আছে। লার্নারদের সোসিও-সাইকোলজিক্যাল অবস্থান বুঝতে হয়।এগুলো রপ্ত করার জন্য ট্রেনিং এর দরকার।
সেইজন্যেই বিএড ট্রেনিং এর ব্যবস্থা। যাতে শিক্ষক হবার জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হয়।
সরকারী উদাসীনতায় বিএড ট্রেনিং টা দীর্ঘকাল ধরে হাস্যকর প্রহসনে পরিণত হয়েছে।ট্রেনিং কালে প্রায় কিছুই শেখা যায়না। এবং শুধুমাত্র পাশ করাটাই উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অগত্যা, মাস্টার মশাইও কিভাবে পড়াইবেন তাহা কিছু শিখিলেন না। সেই সুবাদে তাহার ছাত্রও কিছু শিখিলোনা। শিক্ষাদপ্তরের কর্তাব্যক্তিরা ঠান্ডি ঘরে বসিয়া খাতা কলমে কল্পিত সাফল্যের ঢেঁকুর তুলিলেন। আর রহিম শেখ এবং রামা কৈবর্ত্যের সন্তানেরা পূর্বের ন্যায় ইস্কুল ছুট হইয়া জমিতে অথবা ইঁটভাঁটায় খাটিতে গেলো। এইরূপে ইস্কুলে ইংরাজি শিক্ষার শ্রাদ্ধ সম্পূর্ণ হইলো।

188 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: রাণা আলম

Re: ইসকুল-টিসকুল (পর্ব ১)

এই নিয়ে রাণা এখন অনেক কাজ করছে। আশা করি লিখবে।

নামের জায়গা আসছে না। পাই লিখলাম।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন