শিবাংশু RSS feed

শিবাংশু দে-এর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • কাশ্মীরের ইতিহাস : পালাবদলের ৭৫ বছর
    কাশ্মীরের ইতিহাস : পালাবদলের ৭৫ বছর - সৌভিক ঘোষালভারতভুক্তির আগে কাশ্মীর১ব্রিটিশরা যখন ভারত ছেড়ে চলে যাবে এই ব্যাপারটা নিশ্চিত হয়ে গেল, তখন দুটো প্রধান সমস্যা এসে দাঁড়ালো আমাদের স্বাধীনতার সামনে। একটি অবশ্যই দেশ ভাগ সংক্রান্ত। বহু আলাপ-আলোচনা, ...
  • গাম্বিয়া - মিয়ানমারঃ শুরু হল যুগান্তকারী মামলার শুনানি
    নেদারল্যান্ডের হেগ শহরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস—আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে করা গাম্বিয়ার মামলার শুনানি শুরু হয়েছে আজকে। শান্তি প্রাসাদে শান্তি আসবে কিনা তার আইনই লড়াই শুরু আজকে থেকে। নেদারল্যান্ডের হেগ শহরের পিস ...
  • রাতপরী (গল্প)
    ‘কপাল মানুষের সঙ্গে সঙ্গে যায়। পালানোর কি আর উপায় আছে!’- এই সপ্তাহে শরীর ‘খারাপ’ থাকার কথা। কিন্তু, কিছু টাকার খুবই দরকার। সকালে পেট-না-হওয়ার ওষুধ গিলে, সন্ধেয় লিপস্টিক পাউডার ডলে প্রস্তুত থাকলে কী হবে, খদ্দের এলে তো! রাত প্রায় একটা। এই গলির কার্যত কোনো ...
  • রাতপরী (গল্প)
    ‘কপাল মানুষের সঙ্গে সঙ্গে যায়। পালানোর কি আর উপায় আছে!’- এই সপ্তাহে শরীর ‘খারাপ’ থাকার কথা। কিন্তু, কিছু টাকার খুবই দরকার। সকালে পেট-না-হওয়ার ওষুধ গিলে, সন্ধেয় লিপস্টিক পাউডার ডলে প্রস্তুত থাকলে কী হবে, খদ্দের এলে তো! রাত প্রায় একটা। এই গলির কার্যত কোনো ...
  • বিনম্র শ্রদ্ধা অজয় রায়
    একুশে পদকপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অজয় রায় (৮৪) আর নেই। সোমবার ( ৯ ডিসেম্বর) দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। অধ্যাপক অজয় দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে ভুগছিলেন।২০১৫ ...
  • আমাদের চমৎকার বড়দা প্রসঙ্গে
    ইয়ে, স-অ-অ-অ-ব দেখছে। বড়দা সব দেখছে। বড়দা স্রেফ দেখেনি ওইখানে এক দিন রাম জন্মালেন, তার পর কারা বিদেশ থেকে এসে যেন ভেঙেটেঙে মসজিদ স্থাপন করল, কেন না বড়দা তখন ঘুমোচ্ছিলেন। ঘুম ভাঙল যখন, চোখ কচলেটচলে দেখলেন মস্ত ব্যাপার এ, বড়দা বললেন, ভেঙে ফেলো মসজিদ, জমি ...
  • ধর্ষকের মৃত্যুদন্ড দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ?
    যেকোন নারকীয় ধর্ষণের ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়ে সামনে আসার পর নাগরিক হিসাবে আমাদের একটা ঈমানি দায়িত্ব থাকে। দায়িত্বটা হল অভিযুক্ত ধর্ষকের কঠোরতম শাস্তির দাবি করা। কঠোরতম শাস্তি বলতে কারোর কাছে মৃত্যুদন্ড। কেউ একটু এগিয়ে ধর্ষকের পুরুষাঙ্গ কেটে নেওয়ার ...
  • তোমার পূজার ছলে
    বাঙালি মধ্যবিত্তের মার্জিত ও পরিশীলিত হাবভাব দেখতে বেশ লাগে। অপসংস্কৃতি নিয়ে বাঙালি চিরকাল ওয়াকিবহাল ছিল। আজও আছে। বেশ লাগে। কিন্তু, বুকে হাত দিয়ে বলুন, আপনার প্রবল ক্ষোভ ও অপমানে আপনার কি খুব পরিশীলিত, গঙ্গাজলে ধোওয়া আদ্যন্ত সাত্ত্বিক শব্দ মনে পড়ে? না ...
  • The Irishman
    দা আইরিশম্যান। সিনেমা প্রেমীদের জন্য মার্টিন স্করসিসের নতুন বিস্ময়। ট্যাক্সি ড্রাইভার, গুডফেলাস, ক্যাসিনো, গ্যাংস অব নিউইয়র্ক, দা অ্যাভিয়েটর, দ্য ডিপার্টেড, শাটার আইল্যান্ড, দ্য উল্ফ অব ওয়াল স্ট্রিট, সাইলেন্টের পরের জায়গা দা আইরিশম্যান। বর্তমান সময়ের ...
  • তোকে আমরা কী দিইনি?
    পূর্ণেন্দু পত্রী মশাই মার্জনা করবেন -********তোকে আমরা কী দিইনি নরেন?আগুন জ্বালিয়ে হোলি খেলবি বলে আমরা তোকে দিয়েছি এক ট্রেন ভর্তি করসেবক। দেদার মুসলমান মারবি বলে তুলে দিয়েছি পুরো গুজরাট। তোর রাজধর্ম পালন করতে ইচ্ছে করে বলে পাঠিয়ে দিয়েছি স্বয়ং আদবানীজীকে, ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

চাঁড়ালের হাত দিয়া......

শিবাংশু

মানুষ লেখালিখি শুরু করার ঢের আগে থেকে মৌখিক পরম্পরার শ্রুতিসাহিত্যের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করে রেখেছিলো। পৃথিবীর সর্বদেশে প্রাচীন শাশ্বতসাহিত্যের বিভিন্ন ধারা কথকতার সূত্রেই লোকপ্রিয়তা অর্জন করেছিলো। হোমারের ইলিয়াড থেকে ঋগবেদ, মহাভারত, রামায়ণ ইত্যাদি এই শ্রুতিপরম্পরারই অঙ্গ।
'সাহিত্য' শব্দটির শিকড় লুকিয়ে আছে 'সহিত' শব্দটির সঙ্গে। অর্থাৎ এই শিল্পটি একা মানুষের খেলাধূলা নয়। স্রষ্টা ও গ্রহীতার পারস্পরিক সম্পর্কের দ্বান্দ্বিক সমীকরণের সঙ্গে তার সার্থকতা নিহিত আছে। যেমন শ্রদ্ধেয় সুধীর চক্রবর্তী মশায় রবীন্দ্রসঙ্গীত'কে 'নির্জন এককের গান' বলেছিলেন। ব্যক্তি আমি এই ভাবনাটির পক্ষে ন'ই। কেন ন'ই? কারণটি অতি সহজ। কোনও সামাজিক মানুষ কখনও 'নির্জন একক' হতে পারেনা। তার সামাজিক অস্তিত্ত্বই তাকে 'মনুষ্যত্ব' দিয়েছে। মনুষ্যত্ব একটি সাপেক্ষ প্রেক্ষিত, এককের নিঃসঙ্গতা তাকে ধরতে পারেনা। মননে মনুষ্যত্ব না থাকলে সব শিল্পই বিফল। শিল্পের তাৎপর্য এককের চিত্তকন্ডূয়ন নয়, সমষ্টির পরিপ্রেক্ষিতেই তার মূল্যায়্ণ হয়ে থাকে। এককের শিল্পরুচি নির্ধারন করে দেয় সমষ্টি, সমাজ ও ইতিহাসের প্রচলিত টানাপোড়েনগুলি। তাই 'সাহিত্য' শব্দটি সৃষ্টি হয়েছে অন্যের 'সহিত' বিনিময়যোগ্য চিন্তাভাবনার খতিয়ান হিসেবে। এই 'অন্য' বা 'অপর', স্রষ্টা বা গ্রহীতা দুইই হতে পারেন। এভাবেই আমরা দেখি বেদ-উপনিষদ-দর্শন-পুরাণ-মহাকাব্য ইত্যাদি কোনও কালজয়ী সাহিত্যই এককের রচনা নয়। দীর্ঘসময় ধরে অসংখ্য সৃষ্টিশীল মানুষ তাঁদের নিজস্ব চিন্তার সারনির্যাস দিয়ে এই সব নথিবদ্ধ সাহিত্যসৃষ্টিকে পূর্ণতা দিয়ে এসেছেন। তাই এই সব ক্ল্যাসিক আর এককের রচনা থাকেনি, সমষ্টির সৃজন ও গ্রহণের সার্বভৌম নিদর্শন হয়ে থেকে গেছে। তার 'সাহিত্য' নাম সার্থক হয়েছে।
---------------------------------------------------------
২.
লিপি আবিষ্কারের পর থেকে সাহিত্যের শুধু শ্রাব্যরূপের সঙ্গে দৃশ্যরূপও গ্রহীতার কাছে পৌঁছোতে থাকে। তবে এই সব লেখাজোখা যেসব মাধ্যমে করা হতো, তা ছিলো ইতরজনের আয়ত্বের বাইরে। প্রথমে শিলালিপি, পরে ধাতবতক্ষণ এবং আরো পরে তালপত্র, ভূর্জপত্রে তাকে ধরে রাখা হতো। কোথাও কোথাও চামড়ার ব্যবহারও হতো। কিন্তু আমাদের দেশে তা ছিলো 'অপবিত্র'। শ্রুতি সাহিত্যের মতো-ই এই সময় থেকেই ব্রাহ্মণ্য ব্যবস্থা ইতরজনের নাগাল থেকে 'দৃশ্য' সাহিত্যকেও দূরে নিয়ে যায়। বিধান দেওয়া হয়, শূদ্রজন যদি এই দৃশ্য বা লেখ্য সাহিত্যের চর্চা করে , তবে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে। প্রকৃত অর্থে 'সাহিত্য' শব্দটি একটি টার্ম বা পরিভাষা মাত্র হয়ে যায়, তার আত্মা নির্বাসিত হয়ে যায় চিরতরে।
সেকালে 'সাহিত্য ' বলতে মানুষের সমগ্র অক্ষর ও শব্দভিত্তিক সৃজনশীল যাপনকে চিহ্নিত করা হতো। তার মধ্যে কাব্য, নাট্য, দর্শন, পুরাণ, ইতিবৃত্ত ইত্যাদি সব ধরনের চর্চাই সমায়িত ছিলো। পরবর্তীকালে বিভিন্ন বর্গীকরণ করা হয় এবং সামূহিক জনমনে 'সাহিত্য' বলতে মূলতঃ আখ্যানমূলক গদ্য, যাকে নতুন নাম দেওয়া হয় কথাসাহিত্য ও কবিতা বা কাব্যসাহিত্যের অস্তিত্ত্বই মুখ্য হয়ে ওঠে। যে জনসমষ্টি ব্রাহ্মণ্য বলয়ের বাইরের অংশ ছিলো, অর্থাৎ সংখ্যাগুরু ইতরজনের অনন্ত কাফিলা, 'সাহিত্য' তাদের নীতিশিক্ষা ও মূল্যবোধের শিক্ষা দেবার জন্যই ব্যবহৃত হতে থাকে। আমরা যদি শুধু আমাদের ভাষার ক্ষেত্রেই সংহত হই, তবে দেখবো বৌদ্ধদোহা বা চর্যাপদের সময় থেকেই সন্ধা ভাষার কাব্য ক্রমাগত দুরূহ জটিলতাকে শৈলি হিসেবে গ্রহণ করতে থাকে। সমান্তরালভাবে দেখতে পাবো বিভিন্ন ব্রাহ্মণ্যযুগের মহাকাব্য ও লোকযানী মিথপুরাণকে সহজ ইতরজনবোধ্য ভাষায় সাধারণ মানুষের বিবেক ও বিনোদনের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলা হয়েছে। কিন্তু যাঁরা কৃত্তিবাস, কাশীরাম বা মুকুন্দরামের অনুরাগী গুণগ্রাহী ছিলেন, তাঁদের জন্য বেদপুরাণ বা ভাগবতের জগত অজানা থেকে গিয়েছিলো। এস ওয়াজেদ আলির লেখার সেই রামায়ণ পাঠরত মানুষটির ট্র্যাডিশনটিও এ রকমই ছিলো। এই পরম্পরায় আমাদের সংস্কৃতিতে 'বিশিষ্ট' ও 'নিকৃষ্ট' পাঠকশ্রেণীর ধারণা জন্ম নেয়। লেখাপড়ার বিশ্বেও, আর্থ-সামাজিক সমীকরণের ভিত্তিতে পাঠকের গুণগ্রাহিতার মান বর্গীকৃত হতে থাকে। বর্গীকরণের এই ধারা আর বর্ণভিত্তিক সামাজিক স্তরবিভেদ প্রায় সমান্তরাল ছিলো।
---------------------------------------------------
৩.
দেশীয় সামন্ততান্ত্রিক সাংস্কৃতিক বাতাবরনে এই ব্যবস্থাটি স্বীকৃত হয়ে যায় এবং বেশ কয়েকশো বছর এ নিয়ে কোনও দ্বন্দ্ব প্রকট হয়নি। এই স্থিত ব্যবস্থাটির প্রতি প্রথম আঘাত আসে য়ুরোপীয় মনন ও যুক্তির ক্রমবিকশিত প্রভাবে ও বিদেশী প্রযুক্তি ব্যবহারের সূত্রে। সারা পৃথিবীর মতো আমাদের দেশেও ছাপাখানা মানুষের মনোজগতে বিচারনির্ণয়ের ক্ষেত্রে তুমুল আলোড়ন নিয়ে আসে। 'নবজাগরণ' শব্দটি প্রকৃত অর্থে সফল হয়ে উঠতে থাকে। ঠাকুর আসনে নির্বাসিত সিঁদুরচন্দন মাখা তালপাতার পুথি বা নৈয়ায়িক স্মার্ত অভিজাতবর্গের কুক্ষীগত মননগঙ্গোত্রী বিপুল উচ্ছ্বাসে জনসমুদ্রের তৃষ্ণা নিবারণ করতে উদ্যোগী হয়ে ওঠে। বাংলা পাঠকও প্রাচীন, প্রচলিত ও স্থবির পাঠ অভ্যেসের থেকে নিশ্চিত মুক্তি খুঁজে পায়। ফারসি ও ইংরিজি ভাষার স্ট্রাকচার্ড মেধাচর্চার একটা দেশজ বিকল্প তৈরি হলো। এই মন্থনের ফলশ্রুতি হিসেবে কয়েকটি নতুন খেলার মাঠ সৃষ্টি হয়। প্রতিষ্ঠিত ব্রাহ্মণ্য মননব্যব্স্থা কৌলীন্য আহত হবার শংকায় প্রথম থেকেই অতি রক্ষণশীল অবস্থান গ্রহণ করেছিলো। অন্য পক্ষে হিন্দু কলেজ বা সংস্কৃত কলেজকে কেন্দ্র করে পঠনপাঠনের এক নতুন প্রবণতা বিকশিত হতে দেখা যায়। ভাটপাড়া মার্কা জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে অতিবাদী রক্ষণশীল বাধানিষেধের অন্যপ্রান্তে ইয়ং বেঙ্গল মার্কা যাবতীয় বিগ্রহবিনাশী উদ্দাম সেরিব্রাল উদ্যম মোকাম কলকাতায় কেন্দ্রিত হতে থাকে। এর মধ্যেই আবার হেয়ার সাহেব, ডাফ সাহেব বা আমাদের বিদ্যাসাগর মশায় একটা সমন্বিত পাঠপ্রকরণ প্রচলিত করতে মনোসংযোগ করেন । পরবর্তীকালে এই ধারাটিই মূলস্রোতের স্বীকৃতি লাভ করে ছিলো। সেই সময় যাঁরা এই শিক্ষাব্যব্স্থার সুযোগ নিতে অগ্রণী হ'ন তাঁরা ছিলেন একটি জায়মান শ্রেণী, পরবর্তীকালে যাঁদের উত্তরসূরিরা ' মধ্যবিত্ত' নামে চিহ্নিত হয়ে ছিলেন। তবে এই সব ক্রিয়াকান্ড মূলতঃ শহর কলকাতাতেই কেন্দ্রিত ছিলো। যদিও গ্রাম বা মফস্সলের নানা আর্থসামাজিক স্তর থেকে কলকাতায় আসা প্রথমপ্রজন্মের মানুষজনই এই মন্থনের ডাইনামিক্স গুলি স্থির করে দেন। উদাহরণ হিসেবে মাইকেল বা ভূদেব মুখো'র বৈপরীত্য ও একাত্মতার কথা ভাবা যেতে পারে। নিত্য প্রকাশিত নানাদেশীয় প্রকাশনা আর আমদানিকৃত বিদেশী গ্রন্থসম্ভারের প্রাচুর্য আগ্রহী পাঠকদের সামনে বহুমুখী পঠনবিকল্প এনে দেয়। কিন্তু তখনও পাঠকের স্তরভেদে 'বর্ণাশ্রম' ব্যবস্থা বেশ প্রকট ছিলো।
------------------------------------
৪.
ঔপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থার কায়েমী স্বার্থ, স্থিতাবস্থাকে বিচলিত করার বিশেষ পক্ষপাতী ছিলোনা। তাদের মূল লক্ষ্য ছিলো রাইটার্সের কাজচালানো কেরানি কুলকে প্রস্তুত করা। তারা ছিলো হোয়াইট ম্যানস 'বার্ডেন', 'অ্যাসেটস' নয়। তাই তাদের মেধাজগতকে পূর্ণতা দেবার কোনও দায় সাহেবদের ছিলোনা। স্বদেশ থেকে গোরা সাহেবদের এনে রাইটারের চাকরি দেওয়া আর্থিক মুনাফার হিসেবে পোষাতো না। এদেশের ইতিহাসের প্রথম আউটসোর্সিং ইংরেজরাই এইভাবে শুরু করেছিলো। এই ইতিহাসটির পুনরাবৃত্তি ঘটছে আজ । এই সময় আমাদের দেশে একটা সম্পূর্ণ প্রজন্ম ,তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসার সূত্রে নব ঔপনিবেশিক হোয়াইট ম্যানস প্রসাদনির্ভর হয়ে পড়ছে, বিভিন্ন রুচি ও মূল্যবোধের নিরিখে ।তার নিদর্শন আজ বেশ প্রকটরূপেই দেখতে পাই। এক কালের রাইটার্স থেকে কেন্দ্রটি স্থানান্তরিত হয়ে গেছে ম্যানহাটান, সিলিকোন ভ্যালি, ফ্লরিডায়। বহুজাতিক বণিকেরা বডি শপিং জাতীয় দাসব্যবসায় আমাদের নতুন প্রজন্মের একটি বৃহৎ অংশকে অধিকার করে ফেলেছে । অনারেবল জন কোম্পানি ঊনবিংশ শতকে যেভাবে এদেশের নতুন প্রজন্মগুলিকে কেরানিপ্রজন্মে রূপান্তরিত করে ফেলতে পেরেছিলো, স্যামচাচার কোম্পানিরাও আজ সেজাতীয় কাজেই লিপ্ত । আমাদের দেশে এই বৃত্তির সঙ্গে যুক্ত একালের নাগরিক পাঠকদের একটা বড়ো অংশের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বলে কিছু অবশিষ্ট নেই। প্রাকৃতিক নিয়ম অনুযায়ী মানুষের রোদজ্যোৎস্নার ছন্দে জীবনযাপনের সহজ বৃত্তটি বিড়ম্বিত হয়ে পড়েছে। পেশা বলতে সারা রাত বডিশপিং, সারা দিন আধোঘুম আধো জাগরণে পরের রাতে শাদা চামড়াদের থেকে প্রত্যাশিত ভর্ত্সনা পরিপাক করার জন্য প্রস্তুত হওয়া । এর ফলে সপ্তাহান্তে তাদের শরীরমনে কোনও উচ্চকোটীর রসগ্রাহিতার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি আর অবশিষ্ট থাকছে না। মনে হচ্ছে, পানশালায় গিয়ে বন্ধহীন ব্যাকানালিয়ার পাপে আত্মসমর্পণ ভিন্ন তাদের একটা বড়ো অংশের কাছে কোনও বিকল্প নেই। পাঠক হিসেবে তারা কীভাবে রবীন্দ্রনাথের গদ্যপদ্যের কাছে এসে পৌঁছোবে? সেই উদ্বৃত্ত শক্তি বা নিবেদিত সংকল্পের তাড়না তারা আর ধারণ করতে পারছেনা। চেতন ভগতের অধিক কোনও মনোসংযোগ তাদের থেকে প্রত্যাশিত নয়। অথচ এই পাঠকগোষ্ঠীটিই আজকের প্রজন্মের নতুন লেখকদের বহুমুখী সৃজনচর্চার প্রধান গুণগ্রাহী হতে পারতো ।
-----------------------------------------------------
৫.
এই বিপর্যস্ত মেধার নবপ্রজন্ম, যদি পাঠক হিসেবে শুশ্রূষা পেতে কখনও বইয়ের কাছে যাবার কথা ভাবেও, তবে সেই বইয়ের ভিতরে শাদা পাতায় কালো অক্ষরগুলি র প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠছে টিভি স্ক্রিনের মায়াবী দৃশ্যনাট্যের এইচডি সম্প্রচার। এই নিশিডাক এড়াতে পারা অত্যন্ত দুরূহ, প্রায় অসম্ভব কাজ । বই কখনও বিনোদনের বিকল্প হতে পারেনা। এই পরিবেশে চেতন ভগত, শোভা দে এবং এই ক্লোনের লেখককূলই সফল হতে পারেন। রবীন্দ্রনাথ পারেন না। লেখক হিসেবে রবীন্দ্রনাথ চিরকালই ব্যতিক্রমী পাঠকের জন্য সংরক্ষিত থেকে যাবেন। যদিও চিন্তা ও মননে মুক্ত স্বকীয়তার বিচারে এই ধারার লেখককুলকে আরো কয়েকজন্ম জাতকচক্রে পরিভ্রমণ করতে হবে, রবীন্দ্রনাথকে ছুঁতে ঈ কিন্তু সংখ্যাগুরু পাঠকের প্রেয়, গভীরতর মনন থেকে দূরে থাকা লঘু স্মার্ট লিখনশৈলি এঁদের ইউ এস পি। মুদ্রিতমাধ্যমে জনরঞ্জনের জাদুটি এঁরা আয়ত্ব করে ফেলেছেন। রাইটার্সের কেরানিকুল ও গ্রামীণ ফড়েদের তেষ্টা মেটাতে তৈরি হয়েছিলো বটতলার লিখনসাম্রাজ্য। জনরঞ্জনই তাদের লক্ষ্য, রঞ্জিতসাহিত্যই তাঁদের ফর্টে । একটি প্রজন্মের দীর্ঘস্থায়ী মূল্যবোধ তৈরি করার কন্টকসংকুল ক্ষুরস্যধারার চ্যালেঞ্জ তাঁরা নেবেন না এতো স্বাভাবিক। সফল বিজনেস ম্যানেজারেরা লেখাটেখার মাধ্যমে বিজনেসবোধেরই চর্চা করবেন। তাই তাঁদের বইবাণিজ্যের সাফল্য আকাশ ছোঁয়া। তাঁদের কোনও দায় পড়েনি রবীন্দ্রনাথ জাতীয় মানুষদের প্রথা অনুসরন করার। 'পাঠ্য' হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রহণযোগ্যতা আইটি প্রজন্মের কাছে, অথবা বৃহত্তর নতুন প্রজন্মের কাছে, শেষ হয়ে গেছে। হয়তো বৃহত্তর বঙ্গজ পাঠক কুলের কাছে রবীন্দ্ররচনার কোনও আবেদন কখনও ছিলো’ও না । বটতলার পাঠকদের একটা অংশ বঙ্কিমে এসে পৌঁছোতে পেরেছিলো। কিন্তু বটতলা থেকে সরাসরি রবীন্দ্রনাথে পৌঁছোতে পারা সম্ভব নয়, মাঝখানে বঙ্কিমকে প্রয়োজন হয়।হৃদয়ের খাদ্যরুচি ও উদরের ভোজনতুষ্টি সময়ের প্রাথমিকতার সঙ্গে পাল্টে যায়। সেটাই কালের ধর্ম। তা বলে একালের 'মূল' স্রোতের, অর্থাৎ বাণিজ্যলক্ষ্মীর প্রসাদপুষ্ট বঙ্গীয় লেখককুল গতানুগতিকতার চোরাবালির কাছে বর্তমানে যে পর্যায়ে আত্মসমর্পণ করছেন, সেটা কতোটা স্বীকার্য ? চেতন জাতীয় অ্যাকমপ্লিশড বটতলার লেখকদের কোনও লেখা কি তাঁদের মৃত্যুর এক বছর পরেও কারো মনে থাকবে? প্রকাশকেরা ওজন দরে বিক্রি করলেও খরিদ্দার পাওয়া যাবে কি ? জানা নেই । কারণ বিভিন্ন বইয়ের দোকানে দেখি বছর দুই আগে তাঁদের লেখা বইগুলো মুদিখানার সামগ্রীর মতো অন্য কিছুর সঙ্গে ফাউ হিসেবে বিতরিত হচ্ছে। অতএব সম্পূর্ণ ভিন্ন গোত্রের, ভিন্ন মননের লেখকদের মধ্যে এই জাতীয় তুলনামূলক সমীকরণ করতে চাওয়ার আবহমান প্রয়াস পাঠকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ছাড়া আর কিছু আনবে না। এই মৌল বিভেদটিকে যদি স্বীকার না করা হয় তবে 'বিশিষ্ট' বা 'নিকৃষ্ট' পাঠকের মিথ ক্রমাগত বেড়েই চলবে।
-------------------------------------------------
৬. যখন কোনও নতুন ভাষা ক্রমশঃ সমর্থ হতে থাকে তখন তার পাঠকগোষ্ঠীর মধ্যে বিভিন্ন স্তরবিন্যাসও গড়ে ওঠে । যেহেতু ভাষার এই এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে নদীর তুলনা করা হয়, তাই উপমানটি নানা লক্ষণে অনস্বীকার্য । নদীর জল যেমন একই ঘাট দু'বার স্পর্শ করেনা, তেমনি ভাষাশৈলিও কখনও পুরোনো শরীরে আবার ফিরে আসেনা। নদী বয়ে যায় নিজের ছন্দে, নিজস্ব গরজে, কিন্তু যাবার পথে দুকূলছড়ানো মাটির জগৎকে শষ্যপর, ঋদ্ধতার আশীর্বাদে ধন্য করে দিয়ে যায় । ভাষাকে জড়িয়ে মানুষ যে মননজগৎ গড়ে তোলে, সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়ও তাকেই বহন করতে হয়। অথচ নদীর বয়ে আনা উর্বর পলিমাটি যদিও মানুষের জন্য পরম প্রাপ্তি, কিন্তু নদীর জন্য তা বিনাশী সঞ্চয়। ভাষানদীর জন্যও সেটা সত্য ঈ পলিমাটিতে উর্বর এই মানবজমিন যদি সঠিক দিশানির্দেশ না পায় তবে তা ভাষার গতিরোধ করে ফেলার ক্ষমতা রাখে। এই জায়গাটা থেকেই পাঠকের দায়িত্ব শুরু হয়। কী পড়লে, কীভাবে পড়লে ব্যক্তি পাঠক স্বতঃ প্রয়াসে ভাষার শ্রেয়ফলের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করে রাখতে পারবে ? পড়ার প্রক্রিয়াটি জীবনকে উপভোগ করার একটি সূচক। প্রাপ্তির নিরিখে দেখলে পঠনক্রিয়া থেকে মানুষ কী পায় ? সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য, তৃপ্তি, আরাম, আঘাত, উপলব্ধি, পরিপূর্ণতা থেকে মননসিদ্ধির অনুভূতি। কিন্তু সব পাঠক তো একই উদ্দেশ্য নিয়ে পড়তে বসেন না। যে পাঠক তাঁর উদ্বৃত্ত সময়ে নবকল্লোলের দিকে হাত বাড়িয়ে দেন, তিনি তো সচরাচর 'জিজ্ঞাসা' বা 'এক্ষণে'র প্রতি আগ্রহী না'ও হতে পারেন। অথবা এমন পাঠকও আছেন যাঁরা এই দু'দিকেই হাত বাড়িয়ে দিতে ইচ্ছুক। তবে পাঠকের 'শ্রেণীবিভাগ' কীভাবে করা যাবে। কোনও বইয়ের পঠন উৎকর্ষের মান নির্ধারিত কীভাবে হবে? পাঠকের 'মান' থেকে না অন্য কোনও মানদন্ডও রয়েছে ?
--------------------------------------------------------------
৭.
যদি শুধু বাংলা বইয়ের ক্ষেত্রেই কেন্দ্রিত থাকি, তবে দেখবো কলকাতা শহরের বার্ষিক বৃহৎ বইমেলাটি ব্যতিরেকে বিভিন্ন মফস্সল শহরের অন্যান্য বইমেলাতেই শুধু যথেষ্ট বাংলা বই দেখতে পাওয়া যায় । নয়তো কলেজ স্ট্রিট চৌহদ্দির বাইরে পছন্দমতো বাংলাবই কলকাতা শহরেও পাওয়া যায়না, অন্য পরে কা কথা। আর্থিক বাণিজ্যের মাপকাঠিতে বাংলা বই পিছিয়ে রয়েছে বহুকালই । পারমার্থিক বাণিজ্যেও আজ তারা হয়তো পশ্চাদ্পদ হয়ে পড়ছে । বাংলাভাষা ও সাহিত্যের রোজ-এ-কয়ামত এসে গেছে এই তত্ত্বে আমি বিশ্বাসী নই । তবে এটা অস্বীকার করা যায়না মান ও মাত্রার বিচারে বাংলা বইয়ের অধিকারক্ষেত্রটি ক্রমশঃ ছোটো হয়ে যাচ্ছে । এ বড়ো সুখের সময় নয়, এ বড়ো আনন্দের সময় নয় । বাংলা কথাশিল্পে কেরানিপোষা সাহিত্যের অনুপাত চিরকালই অত্যন্ত অধিক । কিন্তু অতীতে এটা দেখা যেতো সেই অধস্তন সাহিত্যের থেকে অনেক উপরের স্তরের সৃষ্টিগুলিরও জনমনে বেশ বড়ো জায়গা ছিলো । লিটল কাগজ বা অন্যতর ব্যতিক্রমী পত্র আয়োজন ছাড়াও পাঠকরুচির একটি ন্যূনতম স্তর ধরে রাখতে বাংলা লেখকরা সক্ষম হতেন। যেমন 'দেশ' নামক পত্রিকাটির মান থেকে একসময় বাংলাপাঠকের রুচির হদিশ কিছুটা পাওয়া যেতো। বাণিজ্য হলেও, দেশ পত্রিকার কর্তারা সাধারণ বাংলা পাঠকের গদ্যপদ্য তৃষ্ণা নিবারণের ক্ষেত্রে কিছু যত্ন নিশ্চয় নিতেন। আমাদের বাল্যকালে দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত লেখাজোখার মান স্থূল বিচারে বাংলাপাঠকের রুচিবোধের সূচক হিসেবে স্বীকৃত ছিলো। যদি সেই অভ্যেসকে আজও প্রশ্রয় দিতে চাই, তবে দেখবো রুচিসূচকের অধোগমন অতি স্পষ্ট ।
----------------------------------------------------------
৮.
আমরা আবার ফিরে এলাম প্রশ্নমুখের উৎসে। যাঁরা বাংলায় লেখালেখি করেন, তাঁদের কাছে বাংলায় লিখে বৃহত্তর পাঠক ধরে রাখার চ্যালেঞ্জটি এখন অনেক বেশি প্রকট হয়ে পড়েছে । 'পাঠকচরিত্র' বুঝে লেখকরা পণ্য সরবরাহ করবেন না পাঠকরা পড়াশোনার মাধ্যমে 'লেখকচরিত্র'কে খুঁজতে চাইবেন, পাঠকের সেই চিরকালীন দ্বিধাসংকট এখনও সমানভাবে বহাল রয়েছে। প্রথম গোষ্ঠীর পাঠকদের এতোদিন ধরে 'নিকৃষ্ট' ভাবার পাপ আর দ্বিতীয় গোষ্ঠীর সতত নিজেদের 'পবিত্রতর' মনে করার অভ্যেস কতোটা প্রাসঙ্গিক সে নিয়ে হয়তো একটু অন্যরকম ভাবা যেতেও পারে । মূলস্রোতের পণ্যবাহী সাহিত্যের 'ভার' কম করে কীভাবে আর একটু ধার আনা যায় বা অন্য স্রোতের অতি 'ধারালো' শব্দচর্চাকে অকারণ আপোস না করেও বৃহত্তর জনগণেশের প্রেয় করে তোলা যায় কি না, সে বিষয়টিও আজকের কলম-নবীশদের চিন্তাভাবনায় খোরাক হতে পারে। মোদ্দা কথা হলো, কালের দাবিতে পাঠকরা অনেক অধিকমাত্রায় নিজেদের উপভোক্তা হিসেবে ভাবতে শুরু করেছেন । আমার ধারণায় এর মধ্যে অন্যায় কিছু নেই । কারণ এর ফলে বাংলারচনার মান উন্নত করে তোলার পক্ষে নতুন প্রয়াস উঠে আসতে পারে। এর সঙ্গে এটাও মনে রাখা প্রয়োজন যে গোলগাপ্পা-চানাচুরমার্কা লেখা লোকে তাৎক্ষণিক সাময়িকতায় গ্রহণ করলেও পাঠকের বুদ্ধিবৃত্তিকে তার বিচারে মাপার চেষ্টা ভুল হবে। জীবনানন্দ বা বিভূতিভূষণ বা আরো অনেকে, একসময় মূলস্রোতের বাইরে সমান্তরাল স্রোতের আবহে থেকে সৃজনকর্ম করে গেছেন নিজেদের জোরে। বহুদিন হলো পাঠকসাধারণ, নিকৃষ্ট বা বিশিষ্ট, তাঁদের মূলস্রোতে সিংহাসন পেতে দিয়েছেন। লোকপ্রিয়তার বিচারে অমিয়ভূষণও একদিন বিভূতিভূষণ হয়ে উঠবেন , সে আশা কখনও ফিকে হবেনা। বাংলাসাহিত্যে এ জাতীয় উদাহরণ কম নেই। লেখার গুণমান নিয়ে সতর্ক না হয়ে যদি আমরা এখনও পাঠকদের গুণমান নিয়ে অধিক তর্কমত্ত থাকি, আত্মবিজ্ঞাপনকেই সফলতার প্রধান সোপান মনে করে তূষ্ণীম্ভাব অবলম্বন করি, তবে হয়তো সেদিন দূরে নয় যখন ভাবীকালের বাঙালি পাঠক, 'বিশিষ্ট বা নিকৃষ্ট' নির্বিচারে, আবার মাইকেলের ভাষায় আমাদের বর্তমান ধুরন্ধর লোকপ্রিয় লেখকদের প্রত্যাখ্যান করবেন,

''চাঁড়ালের হাত দিয়া পোড়াও পুস্তকে,
ফেলো কীর্তিনাশা জলে........''

(সৌজন্যে : কালিমাটি অনলাইন)

252 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: শিবাংশু

Re: চাঁড়ালের হাত দিয়া......

কিছু বন্ধু সাম্প্রতিক নানা বাজার সাহিত্যপত্রিকার শারদীয় স্রোতের লেখাজোখা নিয়ে পাঠপ্রতিক্রিয়া জানতে চাইছিলেন। যখন জানালুম প্রায় দুই দশক ধরে ঐ জঁরের লেখাপত্র থেকে নিজেকে দূরে রাখি। সুপারিশ পেলে বিচ্ছিন্নভাবে কখনও পড়া হয়ে যায়, এই মাত্র। কেউ কেউ কারণ জানতে চেয়েছিলেন তাই এই লেখাটি .....
Avatar: সে

Re: চাঁড়ালের হাত দিয়া......

ইশ্শ্ এরেই কয় টেলিপ্যাথি! গত কদিন ধরেই এসব ভাবছি।
লেখাটা জাস্ট ওপর ওপর পড়েছি এখন। ডিটেলে পড়তে হবে। কোথায় লাগে পুজোবার্ষিকী।
Avatar: দ

Re: চাঁড়ালের হাত দিয়া......

হুঁ। মন দিয়ে পড়লাম। যা মনে হচ্ছে কিছুটা এলোমেলোভাবেই লিখে রাখি, পরে গুছিয়ে লিখবো ভাবতে গেলে আর লেখা হবে না।

কলসেন্টারের ছেলেমেয়েদের বই পড়া বা নাপড়ার অভ্যাসের অনেক আগে বোধহয় বাঙালীর সাধার?ণ বই পড়ার অভ্যাস কতখানি সেটাকে প্রশ্ন করাও দরকার। আমার ছোটবেলা, এই মোটামুটি ক্লাস ফাইভ বা সিক্স পর্যন্তও বিয়ে পৈতে জন্মদিনে বই দেওয়ার চল ছিল বটে। কিন্তু অনেকক্ষেত্রেই অন্যান্য জিনিষের চেয়ে বাংলা বইয়ের দাম কম বলেই দেওয়া হত। সঞ্চয়িতা, চয়নিকা, শেষের কবিতা উপহার হিসেবে গণ্য হত রবি ঠাকুরের ঠাকুরত্ব'র জন্যই অনেকটা। এরকম উপহারদাতা একজনের সাথে মালঞ্চ নিয়ে আলোচনা করতে 'ডেঁপো মেয়ে' আখ্যা পেয়েছিলাম এবং বেশ বুঝেছিলাম (নিজের ডেঁপোত্বর কারণেই সম্ভবতঃ) যে মালঞ্চ নষ্টনীড়, দুইবোন ইত্যাদি তিনি হয় মোটেই পড়েন নি অথবা আদৌ তলিয়ে দেখার চেষ্টা করেন নি। আমার মামারবাড়ীতে 'ভারত প্রেমকথা' ছিল ৭ পিস, সঞ্চয়িতা ১৯ পিস শেষের কবিতা ৪ পিস ইত্যাদি। তো নব্বইয়ের দশকে যখন আরো সব জিনিষপত্য়্র অপেক্ষাকৃত সস্তায় পাওয়া যেতে লাগল, যথা নানা রকমের দেওয়ালঘড়ি, তখন উপহারের পছন্দ অতালিকায় সেগুলি চলে এল বইকে হটিয়ে। এমনিতেও টিভির অনেক অনেক চ্যানেল এসে যাওয়াতে অনেকের সময়েও টান পড়তে লাগল।

এবারে আসি পাঠাভ্যাসের কথায়। ১৯৭৯ সালে আমরা ডিলাক্সে চেপে দিল্লী যায় ৩ টিয়ার স্লিপার। আমি সঙ্গে নিয়ে যাওয়া বই প্রায় পড়তে পারিই নি লোকজনের কলরবে ও 'আরে শোন না মেয়ে কি বইমুখে বসে আছিস' এর ঠ্যালায়। ট্রেনে বাসে বই পড়া সময়সুযোগমত পশ্চিমবঙ্গে খুবই কম দেখেছি, আমার বেড়ে ওঠা সত্তর ও আশির দশকে। অথচ অনেক পরে যখন বাইরে গেলাম তখন ইউরোপ ও আমেরিকা দুই জায়গাতেই পাবলিক ট্র্যান্সপোর্টে অনেক বেশী মহিলা পুরুষকে বই নিয়ে ডুবে থাকতে দেখেছি। হয়ত তা নিতান্তই থ্রিলার, হয়ত কেউ বলবেন অজানা অচেনা ব্যক্তির সাথে মিথষ্ক্রিয়ায় অনিছার কারণে বিদেশীদের এই বইমুখে বসে থাকা, যা সমষ্টির চেয়ে ব্যক্তিকে প্রাধান্য দেয় ---- কিন্তু আমি বলব এটা বই পড়ার অভ্যাস বা অনভ্যাসের কথাও বটে।

বাংলা প্রকাশকদের ভায়নক পুরানোপন্থী হওয়াও একটা সমস্যা তো বটে। ধরুন আমার মত পাঠক আমি বেশ কিছু চিনি যারা শোভন সংস্করণ, তথ্যবহুল বই দাম দিয়ে কিনতে পিছপা নন। কিন্তু বাংলা বই অনলাইনের কেনার অপশান ইংরাজীর তুলনায় নস্যি। আর ই-বুকের নাম শুনলে প্রকাশকরা আঁতকে ওঠেন। অথচ ওঁদেরই বই কিনে যথেচ্ছ বাজেভাবে স্ক্যান করে যেমন তেমন করে একটা পিডিএফ বানিয়ে ছেড়ে দেবার লোকও মার্কেটে এসে গেছে। নিরুপায় পাঠক সেই যেমন তেমন পিডিএফই অনেক সময় পড়তে বাধ্য হয়। দেবেশ রায় এর তিস্তাপারের বৃত্তান্ত এর একটা আদর্শ উদাহরণ। বইটা ইয়াম্মোটা, পৃথিবীর যে কোনও প্রান্ত থেকে সহজে কেনাও সম্ভব নয় অথচ এর পিডিএফটা কি যে অযত্নে তৈরী .... এই বইএর একটা সুষ্ঠু ক্রয়যোগ্য ই-পাব এবং মোবি ভার্সান থাকলে দেশ বিদেশের অনেক পাঠকই কিনে পড়তে পারতেন।

পাঠক প্রসঙ্গে যে কোনও লেখকেরই তো একটা টার্গেট অডিয়েন্স থাকে, তাদের টার্গেট করেই পেশাদার লেখকগণ লিখবেন বৈকী। তবে আপনার বক্তব্যটা বোধহয় ধরতে পেরেছি। এর আগে বর্ণপরিচয় কেন একহনকার দিনে প্রাইমার হিসেবে অচল সেই নিয়ে গুরুতে দীএর্ঘ আলোচনা হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গেও এই কথাগুলো এসেছিল। আরো একটা হ্যারী পটার সম্পর্কে, মানে ঠাকুমার ঝুলির থেকে হ্যারী এখনকার বাচ্চাদের কাছে বেশী গ্রহণীয় হচ্ছে সেই প্রসঙ্গে।
Avatar: দ

Re: চাঁড়ালের হাত দিয়া......

উঃ একগাদা টাইপো।
সাধারণ
জিনিষপত্র
তালিকায়
এখনকার
অনিচ্ছার কারণে
....
ইত্যাদি
Avatar: সে

Re: চাঁড়ালের হাত দিয়া......

হ্যাঁ। দ এর মতামত পড়বার পরে একটু সাহস পেলাম এনিয়ে কটা কথা বলবার।
বাঙালীর (যার মাতৃভাষা বাংলা ধরে নিচ্ছি) বই পড়বার অভ্যেস বেড়েছে কি কমেছে সে পরিসংখ্যান আমার কাছে নেই। কিন্তু যেটা আছে সেটা হচ্ছে জীবন থেকে নেওয়া অভিজ্ঞতা।
ছোটোবেলা থেকে বইএর পরিবেশে বেড়ে উঠেছি, আবার একসময় নিজেও বাচ্চাকাচ্চা বড়ো করেছি। দুটোই শহুরে পরিবেশে, এবং দেশে ও বিদেশে।
আমাদের কৈশোর ও যৌবনের সময়টা সত্তরের দশকের শেষ থেকে আশির দশকের পুরোটাই ইস্কুলে কলেজে ইন্স্‌টিটিউটে পড়াকালীন লক্ষ্য করেছি যে বাংলা বই পড়বার সুবিধে ও অসুবিধে দুটোই ছিলো। যারা বাংলা মাধ্যম ইস্কুলে পড়েছি, বড়ো শহরে, অধিকাংশ বন্ধু সহপাঠিদের পাঠ্য বইয়ের বাইরে, কেবল গল্পের বই পড়বার সুবিধে তেমন ছিলো না। ক্লাসের মধ্যেই লুকিয়ে চুরিয়ে বইয়ের নীচে লুকিয়ে গল্পের বই পড়তে গিয়ে ধরা পড়ে শাস্তি পেত তারা। এর কারণ, বাড়িতে গল্পের বই পড়বার সময় হয় ছিলো বেঁধে দেওয়া বরাদ্দ কিছু, নয়ত একেবারেই শূণ্য। অথচ পাঠ্য বইয় পড়বার ক্ষেত্রে কোনো সময়সীমা বরাদ্দ হোতো না। এর কারণ, পড়াই বই মুখস্ত কর্লে পরীক্ষায় নম্বর ভালো পাওয়া যায়, গল্পের বই পড়ে "সময় নষ্ট" করে কোনো "লাভ" নেই। অনেক অনেক অভিবাবকই এমনটা ভাবতেন। নতুন নতুন গল্পের বই কিনে দেওয়াতেও তাই তাঁদের আগ্রহ ছিলো খুব কম। তার ওপরে কিশোর বয়সে "বড়দের বই" পড়ে যাতে "পেকে" না যায়, সে ব্যাপারেও তাঁরা খুবই সজাগ থাকতেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও বই যাদের পড়বার, তারা ঠিকই জোগাড় করে ফেলত অভিপ্রেত বইটি। এইভাবেই "ন হন্যতে" না কিনেও, একটি মাত্র সংগ্রহ করা বই গোটা ক্লাস পড়ে ফেলেছিলো মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে, তা ধরুন প্রায় চল্লিশটি মেয়ে। এই গোগ্রাসে পড়ে ফেলা কেবল নয়, সম্পূর্ণ উপন্যাসটি মনের ভেতরে গেঁথে ফেলেছিলো, কোটেশান সহ। এটা একটি মাত্র উদাহরণ। এরকম আরো অনেক হয়েছে। কিন্তু এই বাংলা সাহিত্যের প্রতি আকর্ষণ সম্ভব হয়েছিলো বাংলা ভাষাটা মোটামুটি জানা ছিলো বলেই। কই, ইংরেজি গল্পের বইয়ের ওপরে তো তেমন আগ্রহ দেখাতো না বাংলা মিডিয়াম। কারণ ইংরেজি ছিলো দূরের ভাষা, ভয়ের সাবজেক্ট। খুব কম বুঝতাম সেই ভাষা, যতটুকু না জানলেই পাশের পড়া করা সম্ভব হবে না ততটুকুই। সেখানে পাঠপুস্তকের বাইরে ঢুঁ মারার চেষ্টাও ছিলো না কারো তেমন। আবার ইস্কুলের বাইরের সমবয়সী ইংলিশ মিডিয়ামদের দেখেছি ইংরেজি গল্পের বই, কমিক্স হু হা পড়ে ফ্যালে। ইংরেজি গল্পের বইয়ের ক্ষেত্রে তাদের বাড়ীতে বাধাটা তুলনামূলক ভাবে কম, কোনো কোনো ক্ষেত্রে নো রেস্ট্রিকশান। কেন? আমার অভিজ্ঞতা বলে, যে ওসব ক্ষেত্রে অভিবাবকেরা বুঝতেন যে ইংরেজি যত পড়বে ততই সুবিধে হবে ভবিষ্যতে। উচ্চশিক্ষায়, চাকরীতে, জেনেরাল নলেজে। বাংলায় সেসব সুবিধে নেই, ঐ পাশ করলেই চলল, হ্যাঁ ভালো নম্বরও দরকার কারণ দুশো নম্বরের পরীক্ষা, ডিভিশান তুলতে, স্টার পেতে, মোট নম্বর বাড়াতে বাংলায় ভালো নম্বর লাগে। তবে লেটার তো পাওয়া যায় না, তাই খুব একটা খেটে ওরই পেছনে "সময় নষ্ট করে" কোনো "লাভ" নেই। মোটামুটি সবাই তখন দৌড়োচ্ছিলো ভালো উচ্চশিক্ষা ভারো কেরিয়ারের পেছনে, সেখানে মাতৃভাষা বাংলা কিচ্ছু দিতে পারে না। যতটুকু সময় বাধ্যতামূলক আছে ততটুকু মিনিমাম অ্যাটেনশান দাবী করত বাংলা। ক্রমশঃ কলিকাতা পুস্তক মেলার মধ্যেও বইপত্রের প্র্কৃতি পাল্টে যেতে লাগল। বিশেষ করে আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে। মেলায় আমদানী হতে লাগল প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা পাশের বই, আর খুব বেশি করে করে পাশের পড়ার বই। গল্পের বই বা অন্য বই ছিলো, কিন্তু ভীড় খুব হোতো পাশের পড়ার বইয়ের জন্যে। অবশ্যই কিছু পাবলিশারের স্টলে গল্পের বইয়ের জন্যেও লাইন পড়ত লম্বা, কিন্তু মেলার প্রকৃতি পাল্টাচ্ছিলো। প্রচুর চাকরী তৈরী হচ্ছিলো দেশে। অবশ্যই শুভ লক্ষণ। শুধু তো বড়ো শহর নয়, ছোটো শহর, মফস্বল, গ্রাম থেকেও তো অসংখ্য ক্রেতা আসত বইমেলায়।
সে যাই হোক, অভিবাবকদের মধ্যেই অনীহা ছিলো বাংলা সাহিত্যের প্রতি সন্তানের ঝোঁক বাড়ানোয়।
একটা সময়ের পরে একটা অদ্ভুত জিনিস আমি লক্ষ্য করেছি। সেটা হচ্ছে, আজকের দিনের বাঙালী কিশোর কিশোরীদের (পশ্চিমবঙ্গের বড়ো শহরে যাদের বাস) মাতৃভাষাটা আর বাংলা নয়। তাদের বাবামায়ের মাতৃভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও সন্তানরা বাংলা সাহিত্য দূরে থাক, ভাষাটাই শেখেনি। কোন ভাষায় তারা ভাবে, চিন্তা করে, জানিনা। খুব ছোটো থেকেই ইংরেজি ও হিন্দি শব্দের ব্যবহার এত বেশি, এদের ভোক্যাবুলারিতেও সেইসমস্ত শবই ঢুকে গিয়েছে। তার মানে এই নয় যে তারা ঐ শব্দগুলো বাংলা প্রতিশব্দ জানে। আদৌ জানে না। বাপ মায়েরা এই নিয়ে এতটুকুও উৎকণ্ঠিত নন। কারণ ঐ একই, আগে যা লিখেছি, এ তারই পরবর্তী স্টেজ। আমাদের টাইমে শুরু হয়েছিলো, এখন অনেক বেশি পেকে গেছে ব্যাপারটা। বাংলা ভোক্যাবুলারী তো কমই, সেটা মৌখিক ভাষার হাল, লিখতে ও পড়তে পারার অবস্থা আরো শোচনীয়। ভাষাই যদি ঠিক করে পড়তে না পারে, তবে তাতে সাহিত্য পড়বে কেমন করে? ঠাকুরমার ঝুলি ভার্সেস হ্যারী পটার যদি হয় শিশুদের রিলেট করতে পারবার সামাজিক প্রেক্ষাপট, তারো আগে আসছে ভাষাটা পড়তে পারা, সম্যক অক্ষর পরিচয়। হ্যাঁ, অক্ষর পরিচয়। যাদের কথা বলছি, তারা সবকটা যুক্তাক্ষরই চেনে না। পড়তে দিলে পড়তে পারবে না। অত্যন্ত সাধারন শব্দের অর্থ জানে না। একটা বড়ো টেক্স্ট পড়তে দিলে ঠেকে ঠেকে পড়বে, অর্থ বুঝবে না। বুঝতে পারবার ইচ্ছেটুকুও নেই, কারণ সমাজিক পরিবেশে (বাড়ী, স্কুল, বন্ধুবান্ধব) ঐ ইচ্ছেটুকু জাগিয়ে তুলবার পেছনে কোনো ইনসেনটিভ নেই। বরং "কম জানা" বা "কাঁচা হবার" জন্য একটা গর্ববোধ রয়েছে, নবীন পাঠকটির সঙ্গে তার পরিমণ্ডলেরও। এটা সুখের কথা কি দুঃখের কথা তা বলবার আমি কেউ নই। সময় বলে দেবে।
তাই বলে কি সময়াভাব? তা সম্ভবতঃ নয়। বিপুল সময় কম্পিউটার গেম বা অন্য অনেক কিছুতে এরা ব্যয় করে থাকে, অভিবাবকদের জ্ঞাতসারেই। কারণ সেগুলো "স্মার্ট" ব্যাপার। বাংলা সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসাটা অতটা স্মার্ট নয়। ইনফ্যাক্ট যেকোনো সাহিত্যের প্রতি খুব বেশি আকর্ষণই আখেরে কাজের নয়। যতটুকু জানলে "লাভ", ততটুকুই জানতে হবে ভাষা ও সাহিত্য। বিদেশযাত্রার ছাড়পত্রের পরীক্ষায় যা যা লাগবে, সেইসমস্তের তালিকায় না আছে বাংলা ভাষা, না আছে বাংলা সাহিত্য।
এবার এখন বিদেশের পাবলিক ট্রান্সপোর্টে কেন লোকে অ্যাতো বই পড়ে তার একটা খেলো কারণ বলতে পারি যে ওসব দেশ রাস্তাগুলো ভালো, অ্যাতো ঝাঁকুনি নেই, অ্যাতো ভিড় নেই, মাতৃভাষাটা শিখতে লজ্জা নেই, এইসমস্ত।
আবার কিছু কিছু (সবাই নয়) প্রবাসী বাঙালীদের মধ্যে দেখেছি খুব বাংলা শেখানোর ঝোঁক। প্রথম প্রথম। যদ্দিন পারা যায়। যে দেশে, যে ভাষার পরিমণ্ডলে শিশুটির জন্মে বেড়ে ওঠা, সেইখানকার ভাষাটাই কি তার মাতৃভাষা নয়? জানা নেই।
তবে দেশে ও বিদেশে বহু বাঙালী (এবং ভারতীয়) দের মধ্যে দেখেছি ভাষার বদলে অন্য কিছু "কাজের জিনিস" শেখাতে ব্যস্ত থাকেন। যেমন, আরেকটু কম্পিউটার, আরেকটু অঙ্ক, বা আরো লাভজনক কোনো ভাষা। যেটা শিখলে আখেরে লাভ হবে। বহু দম্পতিকে বলতে শুনেছি, সন্তান কী পড়বে কী হবে সমস্তই সাত আত দশ বারো বছর বয়সের মধ্যেই "ঠিক" করা হয়ে গেছে। তারই প্রস্তুতি চলছে জোরকদবে। সবই মাবায়ের ইচ্ছেয়। তবু তারই মধ্যে বেপরোয়া কিছু শিশু লুকিয়ে চুরিয়ে গল্পের বই পড়বার সময় ও ব্যবস্থা করে নেয়। তা যে ভাষাতেই হোক না কেন। যত প্রতিকূলতাই থাকুক না না কেন।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন