উদয়ন ঘোষচৌধুরি RSS feed

মোদ্দা ব্যাপার হল, বাঙালি সব জানে। সব মানে, সঅঅঅব। ব্রহ্মা যা জানে না, বাঙালি তা-ও জানে। মোদী থেকে মারাদোনা – লাইফে কে কি করতে পারল না, বাঙালি জাস্ট একটা বিড়ি খেতে খেতে বলে দেবে। উদয়ন বাঙালি, তাই সে-ও সব জানে। অন্তত সেরকমই মনে করে সে। সিনেমা নিয়ে, বইপত্র নিয়ে, বেড়ানোর গপ্পো নিয়ে, আর আরও হ্যানত্যান ইত্যাদি নিয়ে প্রচুর ভাঁটায়। সেইসব বুকনিবাতেলা এবার আপনার ক্লিকে। প্রকাশিত বই : উদোর পিণ্ডি, সৃষ্টিসুখ, ২০১৪; লিঙ্গ নেই মৃত্যু নেই, উবুদশ, ২০১২

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • কাশ্মীরের ইতিহাস : পালাবদলের ৭৫ বছর
    কাশ্মীরের ইতিহাস : পালাবদলের ৭৫ বছর - সৌভিক ঘোষালভারতভুক্তির আগে কাশ্মীর১ব্রিটিশরা যখন ভারত ছেড়ে চলে যাবে এই ব্যাপারটা নিশ্চিত হয়ে গেল, তখন দুটো প্রধান সমস্যা এসে দাঁড়ালো আমাদের স্বাধীনতার সামনে। একটি অবশ্যই দেশ ভাগ সংক্রান্ত। বহু আলাপ-আলোচনা, ...
  • গাম্বিয়া - মিয়ানমারঃ শুরু হল যুগান্তকারী মামলার শুনানি
    নেদারল্যান্ডের হেগ শহরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস—আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে করা গাম্বিয়ার মামলার শুনানি শুরু হয়েছে আজকে। শান্তি প্রাসাদে শান্তি আসবে কিনা তার আইনই লড়াই শুরু আজকে থেকে। নেদারল্যান্ডের হেগ শহরের পিস ...
  • রাতপরী (গল্প)
    ‘কপাল মানুষের সঙ্গে সঙ্গে যায়। পালানোর কি আর উপায় আছে!’- এই সপ্তাহে শরীর ‘খারাপ’ থাকার কথা। কিন্তু, কিছু টাকার খুবই দরকার। সকালে পেট-না-হওয়ার ওষুধ গিলে, সন্ধেয় লিপস্টিক পাউডার ডলে প্রস্তুত থাকলে কী হবে, খদ্দের এলে তো! রাত প্রায় একটা। এই গলির কার্যত কোনো ...
  • রাতপরী (গল্প)
    ‘কপাল মানুষের সঙ্গে সঙ্গে যায়। পালানোর কি আর উপায় আছে!’- এই সপ্তাহে শরীর ‘খারাপ’ থাকার কথা। কিন্তু, কিছু টাকার খুবই দরকার। সকালে পেট-না-হওয়ার ওষুধ গিলে, সন্ধেয় লিপস্টিক পাউডার ডলে প্রস্তুত থাকলে কী হবে, খদ্দের এলে তো! রাত প্রায় একটা। এই গলির কার্যত কোনো ...
  • বিনম্র শ্রদ্ধা অজয় রায়
    একুশে পদকপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অজয় রায় (৮৪) আর নেই। সোমবার ( ৯ ডিসেম্বর) দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। অধ্যাপক অজয় দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে ভুগছিলেন।২০১৫ ...
  • আমাদের চমৎকার বড়দা প্রসঙ্গে
    ইয়ে, স-অ-অ-অ-ব দেখছে। বড়দা সব দেখছে। বড়দা স্রেফ দেখেনি ওইখানে এক দিন রাম জন্মালেন, তার পর কারা বিদেশ থেকে এসে যেন ভেঙেটেঙে মসজিদ স্থাপন করল, কেন না বড়দা তখন ঘুমোচ্ছিলেন। ঘুম ভাঙল যখন, চোখ কচলেটচলে দেখলেন মস্ত ব্যাপার এ, বড়দা বললেন, ভেঙে ফেলো মসজিদ, জমি ...
  • ধর্ষকের মৃত্যুদন্ড দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ?
    যেকোন নারকীয় ধর্ষণের ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়ে সামনে আসার পর নাগরিক হিসাবে আমাদের একটা ঈমানি দায়িত্ব থাকে। দায়িত্বটা হল অভিযুক্ত ধর্ষকের কঠোরতম শাস্তির দাবি করা। কঠোরতম শাস্তি বলতে কারোর কাছে মৃত্যুদন্ড। কেউ একটু এগিয়ে ধর্ষকের পুরুষাঙ্গ কেটে নেওয়ার ...
  • তোমার পূজার ছলে
    বাঙালি মধ্যবিত্তের মার্জিত ও পরিশীলিত হাবভাব দেখতে বেশ লাগে। অপসংস্কৃতি নিয়ে বাঙালি চিরকাল ওয়াকিবহাল ছিল। আজও আছে। বেশ লাগে। কিন্তু, বুকে হাত দিয়ে বলুন, আপনার প্রবল ক্ষোভ ও অপমানে আপনার কি খুব পরিশীলিত, গঙ্গাজলে ধোওয়া আদ্যন্ত সাত্ত্বিক শব্দ মনে পড়ে? না ...
  • The Irishman
    দা আইরিশম্যান। সিনেমা প্রেমীদের জন্য মার্টিন স্করসিসের নতুন বিস্ময়। ট্যাক্সি ড্রাইভার, গুডফেলাস, ক্যাসিনো, গ্যাংস অব নিউইয়র্ক, দা অ্যাভিয়েটর, দ্য ডিপার্টেড, শাটার আইল্যান্ড, দ্য উল্ফ অব ওয়াল স্ট্রিট, সাইলেন্টের পরের জায়গা দা আইরিশম্যান। বর্তমান সময়ের ...
  • তোকে আমরা কী দিইনি?
    পূর্ণেন্দু পত্রী মশাই মার্জনা করবেন -********তোকে আমরা কী দিইনি নরেন?আগুন জ্বালিয়ে হোলি খেলবি বলে আমরা তোকে দিয়েছি এক ট্রেন ভর্তি করসেবক। দেদার মুসলমান মারবি বলে তুলে দিয়েছি পুরো গুজরাট। তোর রাজধর্ম পালন করতে ইচ্ছে করে বলে পাঠিয়ে দিয়েছি স্বয়ং আদবানীজীকে, ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

সব দো, শব দো *

উদয়ন ঘোষচৌধুরি


মঙ্গল পাণ্ডে নয়; চিল্লেছিল আমির খান, প্রবল বাবরি আর গোঁফ বাগিয়ে। 'হলল্লা বোল'। আমিরি চুলের মেন্টেনেন্স খরচা উঠেছিল কি না সন্দেহ, তবে পাবলিক হল্লাটা খেয়েছিল। ওটা খাওয়া পাবলিকের ঐকান্তিক ধর্ম। কেউ মরছে কি না, কেউ ধুঁকছে কি না, কেউ তার বিষাদফোঁড়ায় আলতো হাত রাখছে কি না – সে জেনে পাবলিকের কি! পাবলিক বেঁচে আছে এবং সাংঘাতিক তীব্ররূপে আছে – সেটা সক্কলের জানা দরকার। জানানো তার হক। সে জন্যেই ঈশ্বরবাবু তাকে গলা দিয়েছে। এবার তো বাকিদের গলায় সে পা তুলবেই। ইস্কুলে চুকিৎকিৎ বা কমপ্লেক্সে হাডুডু – স্রেফ চিল্লে জেতার কৌশলটা ধরে নিন। মারি অরি পারি তো গলা খুলে। সঙ্গে ‘সভ্যতা’ নামের বায়বীয় বস্তুটি জুড়ে দিয়েছে সুপারহিট দুই মহার্ঘ – ‘ধম্মো’ আর ‘সঙোস্কিতি’। ইদানীং তো সোমবচ্ছর ত্যাঁদোড়পনার গণমোচ্ছব। স্রেফ ধুয়ো তুললেই ফুর্তির মাঠ। যিশু হোক কি গণেশ, নেমে পড়ুন তাগড়াই মাইক উঁচিয়ে। দুগ্গা হলে তো কথাই নেই। মহালয়া থেকে এস্টাট। যা দেবী গুঁতিয়ে দিবি হামলে বিগড়ে উঠবি না। অ্যালার্ম গুঁতিয়ে পাড়া কাঁপিয়ে 'জাগোওওও...'। ৩৬৪ দিন উলটে ঘুমোও, নো পরোয়া। ওই একটা দিন কিন্তু দুনিয়াকে জাগাতেই হবে। কেন-না, ‘ভদ্র’ তো শুধু বীরেন্দ্রকৃষ্ণ – আমরা থোড়ি। অতঃপর লাইন দিয়ে – লক্ষ্মী, কালী, জগদ্ধাত্রী, কার্তিক, অঘ্রাণ, পৌষ, মাঘ। আহা, শীত পড়ুক না পড়ুক, অদ্য পিকনিক তো। অতএব কে আছ জোয়ান, মাঠ-ময়দান। রাম্পাট বক্স, চৌহদ্দিতে কাক-চিল ঢুকতে দেব না। চড়ুইভাতির নামে এমন গাঁতিয়ে গান বাজাব, চড়ুইদের বাবার ভাত মেরে দেব। সঙ্গে দোসর সুগ্রীব, বিয়েবাড়ি। চাড্ডি কুখাদ্য আর অ্যান্টাসিড ঠেঙিয়ে কান পেতে শুনবেন, তোমার বাড়ির সামনে দিয়ে আমার মরণযাত্রা যে দিন যাবে। কনে’র বুক এক কোণে টলমল, মাইরি তোমায় ভুলিনি গো, বল্টুদা। একটু দম ফেলবেন কি ফেলবেন না, এলাকার ফুটফুটে দেড় ফুট খালি জায়গায় ফুলটুস সরস্বতী-সামিয়ানা। সেথায় ধুন্ধুমার 'হুক্কা বার'। সরকারি নিষেধকে একশো-আট বার দেখিয়ে বিদ্যেধরদের হ্যালনাচন। তারপর হোলি। তারপর এসো হে বৈশাখ, বোসো হে বৈশাখ। চির-আদিখ্যেতার ‘রোবিন্দোনাত’ (হালে, ‘বিবেকান্দ’)। তারপর, তারপর। যে দিকেই যাও, গাঁকগাঁক ধর্ষণ অব্যাহত। তব জয়গাথা, রুকিবে কোন গাধা?

চিৎকার প্রাণীর স্বাভাবিক ব্যাপার। অনেকটা সংবিধানের মৌলিক অধিকারের মতো। এমনকি আপাত-বোবা জিরাফও ফাঁকতালে শীৎকারটি মারে। তবে আমরা হলুম ‘উল্লত’ প্রজাতি, নিজের গলায় যখন তখন চিল্লোই না। শুধু সাতসকালে এফএম খুলে দিই জাঁকিয়ে। কিম্বা এমটিভিতে 'কিকঅ্যাস মর্নিং'। উঁহু, শুনতে নয়, এলাকাকে শোনাতে। ওপরের ফ্ল্যাটের মর্নিং শিফট, ধাঁ-যুবক গমগমিয়ে বাইক হাঁকড়ে বেরোয়; গ্রাউন্ড ফ্লোরের হৃদকম্প বুড়ো কাশতে কাশতে ক্যালেন্ডার দ্যাখে। সুদিন কবে আসবে, সুপর্ণা, সকালটা একটু শান্তিতে ঘুমোব! নিচের ভাড়াটে নাইট ডিউটি করে সবে মাত্তর শুয়েছে; দোতলায় বাড়িওলার আদুরে নাতি ধাঁইদুমদাম। কি রে বাওয়া, আগেরবার তুইই কি পেল্লাদ ছিলি? বাড়িওলার বাঁধানো হাসি, হেহে, বাচ্চা তো, সামার ভ্যাকেশন চলছে, এই রোদ্দুরে কোথায় আর যাবে, তাই এট্টু বল খেলছে! ওই ‘এট্টু’-র মাথায় মধ্যবিত্ত যন্ত্রণার গিঁট্টু মেরে ভাড়াটে, হ্যাঁহ্যাঁ তাইতো! নাতির ভ্যাকেশন ফুরোয়, আমোদের অ্যাকশন ফুরোয় না। ডান দিকের ফ্ল্যাটে কারপেন্টার আসে। তার ড্রিলমে মেরে হ্যায় দর্দ-এ-ডিসকো। বাঁ দিক ভেবেচিন্তে আনে নতুন টাইলস। পুরনোগুলো খোলার আওয়াজে ব্রেনের স্ক্রু খুলে যায়। আহা, তব শতফুল বিকশিত হোক, প্রভু, একটু ঘুমোতে দাও; আজও যে ফের নাইট শিফ্ট। চোখের কালারে জয় গোঁসাই-এর 'রক্তগাঁজাদম' ফেল। মনিটরের ওপরেই ঢুলে পড়ছিল প্রায়, ইনবক্সে পিং। ক্লায়েন্টের টেঁটিয়া আবদার অথবা বসের স্নেহময় রিমাইন্ডার। এ রকম সিকোয়েন্সে গান বাঁধতে হলে হেমন্ত সুচিত্রাকে নির্ঘাত বলে বসত – এই রাত তোমার বাবার!

নিজের উপস্থিতি জানান দেওয়া যে কোনও প্রাণের ধর্ম। সভ্যতার ইউরিয়া যথেচ্ছ চিবিয়ে মানুষ সেই ধর্ম জাহির করতে বেরোয়। যাবতীয় সারেগামা; মূল জপমন্ত্র, মুখে ঘষে দিও ঝামা। পয়দা ইস্তক ওঁয়া ওঁয়া। এক বার ডুকরি ছাড়লেই কেল্লা ফতে। ঘরে ঘরে ঘ্যানঘ্যানে ঘোঁতন। রাত দেড়টায় তার হাউমাউচাউ। কানে আস্ত বালিশ গুঁজেও নো রেহাই। দাদু-দিদা-কাকা-কাকি-কাজিন লাইন দিয়ে জেনে যাচ্ছে শ্রীঘোঁতনের আবদার। একেবারে মিনি জলসা। কৌশলটা বুঝে ফেলেছে ঘোঁতন। বড় হতে হতে আরও বুঝে যায়। হাঁকের আমি হাঁকের তুমি হাঁক দিয়ে যায় চেনা। রাজনীতি করুন বা কর্পোরেট – গলাবাজিটা মাস্ট। হ্যাঁ, কর্পোরেটেও। টিম কনফারেন্সে স্লাইড শো-র ফোকাসে যদি মিনমিনে দাঁড়িয়ে 'আমি বনফুল গো' করেন, তো কপালে অ্যাপ্রেইজাল নামক গাজরটি ঝুলবে না। রিটায়ার্ড লাইফে বউয়ের ধাঁতানি সহযোগে চা গিলবেন। মোদ্দা অ্যাটেম্পট, অনিমা রেডি সেডি গো, প্রস্তুত হয়ে যান চিল্লাতে এবং ফিরতি চিল্লানি খেতে। যদি ভেবে থাকেন শহুরে ক্লেদ ছেড়ে কদিন জীবনানন্দ-মার্কা জীবন কাটাবেন, চেখে দেখবেন ধুলোহীন চাঁদ; ঠিক হ্যায়, গাঁটগচ্চা দিয়ে বেরিয়ে পড়ুন; খাণ্ডারনি বউকেও না হয় কিছুই বলবেন না। টুক করে একা এবং একাই। কিন্তু যাবেন কোথা? দিকশুন্যপুর? তেপান্তর? হেহে, অত্ত সোজা? এই ধরাধামে ন্যাশনাল অ্যানথেম, তোমায় সাউন্ড-মাঝারে রাখিব, একা ছাড়িব না। হয়ত নিবিষ্ট বসে বিকেলের লাল মাঠে দেখছেন নীলকণ্ঠের ওড়াউরি, কিম্বা পুকুরের ডুবন্ত কঞ্চিতে ফড়িঙের খুনসুটি, অথবা ভাবছেন হাঁড়িচাচার লেজের গঠনগত বৈশিষ্টের কথা – কোথা থেকে যে বেজে উঠবে মারাত্মক চিড়বিড়ে রিংটোন। ও, ওটা আপনার নিজেরই? তাহলে আর দুক্কু নেই, স্বখাতসলিল-টাইপ মুখ করে ফোন ধরুন। আর সে ফোন এমন, তাবৎ বিশ্বে যার নেটওয়ার্ক মেলে না। সুতরাং হ্যালো, তারস্বরে হ্যালো এবং হ্যালোর পিঠে হ্যালো। মাল্টিপ্লেক্সের 'ফড়িং'-এর চে’ও দ্রুত উধাও কঞ্চির ফড়িং। হয়ত অফিস থেকে ফেরার পথে আনমনা ভাবছেন ট্রেনের মেয়েটার আলোময় হাসি, কিম্বা মনে পড়ছে ছোটবেলায় পেয়ারা পাড়তে গিয়ে কাদায় কেমন আছাড় খেয়েছিলেন আর সেইসমেত বাবা ঝুলিয়ে দিয়েছিল ঝুঁটি ধরে – ব্যস, পাশ দিয়ে চমকে যাওয়া অটোর ভ্রররর। সঙ্গে পাগলু ডান্স ডান্স ডান্স। আপনার রোমান্টিসিজম চটকে চুরানব্বই। ঘোষবাবু সেই যে বলেছিলেন, চুপ করো, শব্দহীন হও – আর যায় কোথায়? পাবলিক তো কলা দেখিয়ে পগারপার, যাবতীয় বাঙালি কবিকুল খচে আকুল। আমাদের চুপ করতে বলা? ইয়ার্কি? হেথাহোথা মাচা বেঁধে কবিসম্মেলন। বরকন্দাজ অ্যান্ড পাইক, লে আও মাইক, আম্মো পাঠ করিব কোবতে। জেলায় জেলায় টাউনে টাউনে স্টেশনে স্টেশনে কবিতার কড়ানাড়া। সরকারি মোচ্ছব তো আছেই, বইমেলা। বই বিক্কিরি হোক বা না হোক, পাঁচফুটি বডিতে তিনফুটি চুল ঝুলিয়ে ‘রক’বাজি জরুরি। লিটল ম্যাগ প্যাভের সামনে কাঁপা কাঁপা আবেগে, ও আমার কাজের মাসি, তোমায় হেব্বি ভালবাসি। সমবেত আড়াই জনের চটাপট হাততালি। ওই আড়াই জন এর পর পড়বেন, আমি চটাপট বাজাব। অস্তিত্ত্বের ভেলিগুড় চেটে চেটে ভাগ করে নেওয়া। চায়না টাউনের থেকেও তেজি ও উষ্ণ। যারা সে সব বুঝছেন না, তাদের জন্যে ঝোলানো থাক যিশু-টাইপ হাসি।

২০০৮-এ একটা হিন্দি সিনেমা এসেছিল। জয়দীপ ভার্মার 'হল্লা'। ছবিটা চলেনি, অধিকাংশ নতুন রকমের গল্প বলতে চাওয়া ছবি যে রকম চলে না। যদিও ফাঁক পেলে এলাকায় আঁতলামি করি, হিন্দি সিনেমা কেউ দ্যাখে নাকি! ওয়াক! সিনেমাটায় মারকাটারি দুই অভিনেতা ছিলেন। রজত কপুর আর সুশান্ত সিং। সুশান্তের ঘুম খুব পাতলা, যে কোনও মৃদু আওয়াজেই তার ঘুম ছিঁড়ে যায়। রাতবিরেতে ইতিউতি খুঁজে বেড়ায় আওয়াজের উৎস। আরে, এ তো সোসাইটি-সিকিউরিটির হুইসল। কি জ্বালা! মাঝে মাঝেই শ্যামের বাঁশি ডাক দিয়ে যায়। সুশান্ত ঘুমোতে পারে না। অফিসের কাজে গোলমাল হয়। বুক ঠুকে সোসাইটির সেক্রেটারি রজতের সঙ্গে দ্যাখা করে এক দিন। অনেক আলোচনা অনেক ধস্তাধস্তির পর ঠিক হয়, হুইসলের বদলে গার্ড শুধু লাঠি ঠকঠক করবে। কিন্তু সেই আওয়াজেও সুশান্তের ঘুম হয় না। সুশান্ত মনে করে, এই যে সিকিউরিটি গার্ডের জানান দিয়ে আওয়াজ করে পাহারা দেওয়ার প্রক্রিয়া – এটা একটা অযৌক্তিক অসামাজিক বর্বর নিয়ম। লোকজন হাসাহাসি করে। তার বউও (কার্তিকা রানে) বিরক্ত হয়ে যায়। এ কি পাগলামি! অফিসের ঘনিষ্ঠ বন্ধুও (ব্রজেশ হিরজি) পাত্তা দ্যায় না। কিছুতেই ঘুমোতে না-পারা সুশান্ত ক্রমশ খিটখিটে বদমেজাজি পাগলাটে হয়ে যেতে থাকে। আমাদের এই মেট্রোপলিসিয় ক্রমচকচকে পালিশ কি কি ভাবে কুরে কুরে অবিরত খেয়ে চলেছে মগজ, যা আমরা বুঝছি না, বুঝতে চাইছি না – এই স্টোরিটা সেটারই এক উদাহরণ। খুব কিছু অবিশ্বাস্য নয়, খেয়াল করলে দেখবেন হয়ত আপনি নিজেই, হয়ত আপনার পাশের কেউ রয়েছেন সুশান্তের ওই চরিত্রের কাছাকাছি। আমরা আড়াল করতে চাইছি, অন্যের দীর্ঘশ্বাস এড়াতে কানে গুঁজে দিচ্ছি মোহিনী ইয়ারফোন; বুঝতে পারছি না নিজে অথবা নিজেরা হয়ে উঠছি নিখুঁত ‘পাগল’। গম্ভীর তাত্ত্বিকেরা বলেন, শব্দ অনন্ত। শব্দই ব্রহ্ম। সেই অনন্ত ইথারে গা ভাসাতে ভাসাতে আমরা আদৌ খেয়াল করছি না ব্রহ্মাণ্ডের করাল হাঁ আমাদেরই গিলে চলেছে। ওই উদ্যত হাঁ-এর দিকে একবার খেয়াল করে শুনুন, নাগাড়ে সে বলে চলেছে, সব দো, শব দো।

* 'আগামীকাল' পত্রিকায় প্রকাশিত

269 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: Arindam

Re: সব দো, শব দো *

"সব ভালো তার শেষ ভালো যার" - শেষটুকু অনবদ্য ঃ)


Avatar: 0

Re: সব দো, শব দো *

বিয়্যাপ্পোক :-)
Avatar: apps

Re: সব দো, শব দো *

চম্পা :)

শুধু আশ্বিনের শারদপ্রান্তে, হাটকে-সাহিত্য করতে গিয়ে পটেনশিয়াল-চন্দ্রিলভটচাজ না হয়ে ওঠার সতর্ক বাণী
Avatar: Atoz

Re: সব দো, শব দো *

আচ্ছা বলতে পারেন, সেই চন্দ্রিলের কী হল? আর তো তেমন লেখাপত্র দেখি না!!!


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন