অবন্তিকা RSS feed

দিবারাত্রির চব্য

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • বাংলায় এনআরসি ?
    বাংলায় শেষমেস এনআরসি হবে, না হবে না, জানি না। তবে গ্রামের সাধারণ নিরক্ষর মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আজ ব্লক অফিসে গেছিলাম। দেখে তাজ্জব! এত এত মানু্ষের রেশন কার্ডে ভুল! কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানলাম প্রায় সবার ভোটারেও ভুল। সব আইকার্ড নির্ভুল আছে এমন ...
  • যান্ত্রিক বিপিন
    (১)বিপিন বাবু সোদপুর থেকে ডি এন ৪৬ ধরবেন। প্রতিদিন’ই ধরেন। গত তিন-চার বছর ধরে এটাই বিপিন’বাবুর অফিস যাওয়ার রুট। হিতাচি এসি কোম্পানীর সিনিয়র টেকনিশিয়ন, বয়েস আটান্ন। এত বেশী বয়েসে বাড়ি বাড়ি ঘুরে এসি সার্ভিসিং করা, ইন্সটল করা একটু চাপ।ভুল বললাম, অনেকটাই চাপ। ...
  • কাইট রানার ও তার বাপের গল্প
    গত তিন বছর ধরে ছেলের খুব ঘুড়ি ওড়ানোর শখ। গত দুবার আমাকে দিয়ে ঘুড়ি লাটাই কিনিয়েছে কিন্তু ওড়াতে পারেনা - কায়দা করার আগেই ঘুড়ি ছিঁড়ে যায়। গত বছর আমাকে নিয়ে ছাদে গেছিল কিন্তু এই ব্যপারে আমিও তথৈবচ - ছোটবেলায় মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল ঘুড়ি ওড়ানো "বদ ছেলে" দের ...
  • কুচু-মনা উপাখ্যান
    ১৯৮৩ সনের মাঝামাঝি অকস্মাৎ আমাদের বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ(ক) শ্রেণী দুই দলে বিভক্ত হইয়া গেল।এতদিন ক্লাসে নিরঙ্কুশ তথা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করিয়া ছিল কুচু। কুচুর ভাল নাম কচ কুমার অধিকারী। সে ক্লাসে স্বীয় মহিমায় প্রভূত জনপ্রিয়তা অর্জন করিয়াছিল। একটি গান অবিকল ...
  • 'আইনি পথে' অর্জিত অধিকার হরণ
    ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম ও কর্পোরেট পুঁজির স্বার্থে, দীর্ঘসংগ্রামে অর্জিত অধিকার সমূহকে মোদী সরকার হরণ করছে— আলোচনা করলেন রতন গায়েন। দেশে নয়া উদারবাদী অর্থনীতি লাগু হওয়ার পর থেকেই দক্ষিণপন্থার সুদিন সূচিত হয়েছে। তথাপি ১৯৯০-২০১৪-র মধ্যবর্তী সময়ে ...
  • সম্পাদকীয়-- অর্থনৈতিক সংকটের স্বরূপ
    মোদীর সিংহগর্জন আর অর্থনৈতিক সংকটের তীব্রতাকে চাপা দিয়ে রাখতে পারছে না। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে ভারতের অর্থনীতি সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। সংকট কতটা গভীর সেটা তার স্বীকারোক্তিতে ধরা পড়েনি। ধরা পড়েনি এই নির্মম ...
  • কাশ্মীরি পন্ডিত বিতাড়নঃ মিথ, ইতিহাস ও রাজনীতি
    কাশ্মীরে ডোগরা রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হবার পর তাদের আত্মীয় পরিজনেরা কাশ্মীর উপত্যকায় বসতি শুরু করে। কাশ্মীরি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মানুষেরাও ছিলেন। এরা শিক্ষিত উচ্চ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেনি। দেশভাগের পরেও এদের ছেলেমেয়েরা স্কুল কলেজে পড়াশোনা করেছে। অন্যদিকে ...
  • নিকানো উঠোনে ঝরে রোদ
    "তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে ?আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে ..."সেই অক্ষরগুলোকে ধরার আরেকটা অক্ষম চেষ্টা, আমার নতুন লেখায় ... এক বন্ধু অনেকদিন আগে বলেছিলো, 'আঙ্গুলের গভীর বন্দর থেকে যে নৌকোগুলো ছাড়ে সেগুলো ঠিক-ই গন্তব্যে পৌঁছে যায়' ...
  • খানাকুল - ২
    [এর আগে - https://www.guruchan...
  • চন্দ্রযান-উন্মত্ততা এবং আমাদের বিজ্ঞান গবেষণা
    চন্দ্রযান-২ চাঁদের মাটিতে ঠিকঠাক নামতে পারেনি, তার ঠিক কী যে সমস্যা হয়েছে সেটা এখনও পর্যন্ত পরিষ্কার নয় । এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে শুরু হয়েছে তর্কাতর্কি, সরকারের সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে । প্রকল্পটির সাফল্য কামনা করে ইসরো-র শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীরা ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

নারী-ধর্ষণ সম্পর্কে দু’চার কথা যা আমরা জানি অথবা জানিনা

অবন্তিকা

[কেন 'নারী-ধর্ষণ' তাই নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে, তাই প্রথমেই শিরোনাম সম্পর্কে আত্মপক্ষ সমর্থনে বলে রাখি, যেহেতু ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি ধর্ষণ ব্যাপারটা জেন্ডার-নিউট্রাল একটা ইস্যু, যেহেতু ভারতে ধর্ষণের সংজ্ঞার আরও আরও পরিমার্জন কাম্য বলে মনে করি, আর এই লেখাটা কেবলমাত্র মহিলাদের ধর্ষণ প্রসঙ্গেই একটা ওভারভিউ, তাই এ হেন নাম l
লেখাটা প্রাথমিকভাবে লিখেছিলাম মার্চ মাসে, রাণাঘাট কাণ্ড ও সুজেটের মৃত্যুর অব্যবহিত পর l একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের কারণে শেষমেষ হয়নি l তারপর বেশ কিছুদিন যাবৎ লেখাটা জাস্ট পড়েই ছিল l জয়ন্ত দা পত্রিকার জন্য লেখা চাইলে বলি, ধর্ষণ সম্পর্কিত একটা লেখা হাতে আছে, কিন্তু সেটা স্বাস্থ্যের বৃত্তের জন্য কতটা উপযুক্ত হবে জানিনা l অরুণার মৃত্যু ও আরও সামান্য কয়েকটি তথ্যের সংযোজন করে, ওনাকে পাঠাই l উনি কয়েকদিনের মধ্যে জানান লেখাটা অগস্ট ইস্যুর কভার স্টোরি করতে চান l
কারো কারো পক্ষে যেহেতু পত্রিকার কপি সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না, তাই জয়ন্ত দার অনুমতিক্রমে লেখাটা ব্লগে দিলাম l উপরন্তু সাইটের মানুষজনের মনোজ্ঞ মতামত পেলে নিজের জানার পরিধিও, বলা বাহুল্য, ব্যপ্ত হবে l
লেখাটার জন্য গুরুচন্ডা৯-র 'প্রসঙ্গ ধর্ষণ' বই থেকে কয়েকটি তথ্য নিয়েছিলাম, তাই এই সুযোগে সৈকতদা আর ঈপ্সিতাকেও ধন্যযোগ l ]




http://s22.postimg.org/fk304nt8x/Scan_sb0002.jpg



সোশাল নেটওয়ার্কিং সাইটের জনপ্রিয় গ্রুপে একখানা সুতো খোলা হয়েছিল l একটি নগণ্য সমীক্ষা l জানতে চাওয়া হয়েছিল- গ্রুপের মহিলা সদস্যরা গত ২০১৪ সালের ৩৬৫ দিনে ঠিক কতবার ইভটিজিং-এর মুখোমুখি হয়েছেন l রাস্তায়, অফিসে, বাজারে, কলেজে, পাবলিক ট্রান্সপোর্টেবিবিধ নোংরা মন্তব্য, খারাপ দৃষ্টিবা গায়ে হাত- এ সমস্তই মাথায় রেখে স্রেফ একটা সংখ্যার উল্লেখ l বলা বাহুল্য, উত্তরগুলো ছিল বেশ চোখে পড়ার মতো l মহিলাদের কাছ থেকে জবাব আসছিল- ‘অসংখ্যবার, গোনা সম্ভব নয়’, ‘মানেটা কী? মোর দ্যান হান্ড্রেড টাইমস আই গেস!’, ‘প্রায় প্রত্যেকদিনই কিছু না কিছু’- জাতীয় l এবং পুরুষরা কেউ বিস্মিত হচ্ছিল, কেউ বিশ্লেষণ করতে চাইছিল এরকমটা কেন, আর কেউ কেউ জানতে চাইছিল খারাপ দৃষ্টি - ভালো দৃষ্টির তফাৎ করা যায় কীভাবে l না l সত্যিই এমন কোনো মানদণ্ড নেই বটে l পুরো ব্যাপারটাই ভুক্তভোগীর অনুমান বা দৃষ্টিভঙ্গী-নির্ভর l প্রসঙ্গত, একটা গল্প মনে পড়ে গিয়েছিল l বলি...২০০৮ সালে, আমেরিকান উড়ানে ২১ বছর বয়সী এক তরুণী ঘুমোতে ঘুমোতে যাচ্ছিল l ঘুম ভাঙার পর লক্ষ্য করল, জনৈক পুরুষ সহযাত্রী তার দিকে হাসি হাসি মুখে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে l মেয়েটি সন্দিগ্ধ হলো ও আবিষ্কার করল ওই পুরুষটি তার দিকে তাকিয়ে হস্তমৈথুন করছে l পরিশেষে মেয়েটির চুলে বীর্যপাতও করে ফেলল l এরোপ্লেনটি নামার সাথে সাথে ভিকটিম পুলিশ ডেকেছিল, ও পরবর্তীকালে ক্ষতিপূরণও চেয়েছিল l তরুণী জানিয়েছিল, সহযাত্রীর দৃষ্টিযে ‘স্বাভাবিক’ ছিল না, সেটা প্রথম থেকেই আন্দাজ করছিল সে l ঘটনা সামান্য হোক বা সাজানো, ভিড় বাসে বৃদ্ধের করস্পর্শ স্নেহসূচক নাকি যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ, এ তারাই বোঝে যারা অহরহ এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার l মহিলার প্রোফাইল পিকচারে অন্তর্বাসের দৃষ্টিগোচরতা নিয়ে অবলীলায় মন্তব্য করাও তো একপ্রকার ইভটিজিং-ই, সে কমেন্টকর্তা ‘মজা করেই’ লিখে ফেলুক অথবা ‘ভুল করে’ ! মহিলাদের প্রতি এইসব ছোটোখাটো যৌন হেনস্থাই কিন্তু বড় বড় আকার নিতে সক্ষম l এমনকি ধর্ষণ করতে বা ধর্ষণে ইন্ধন যোগাতেও l

এ দেশে ক্রমে ক্রমে পরিবর্তিত ও পরিমার্জিত ধর্ষণের সংজ্ঞা অপরাধীদের সাজা দেওয়ার পথকে প্রশস্ত করছে ঠিকই, কিন্তু সার্বিকভাবে ঘটনার বাহুল্যকে কমাতে পারছে কি? কী বলছে স্ট্যাটিসটিক্স? কী কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা? স্রেফ আর স্রেফ সংখ্যাতত্ত্ব? সম্প্রতিআন্তর্জালে ভাইরাল হয়ে যাওয়া, লেসলি উডউইন-এর তথ্যচিত্র ‘ইন্ডিয়া’জ ডটার’-এর সূত্রে নির্ভয়া কাণ্ডে অভিযুক্ত মুকেশ সিং-এর সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়ে পড়ল l নির্ভয়া ও তার পুরুষসঙ্গী ১৬ই ডিসেম্বর ২০১২-র রাতে যে মিনি বাসটিতে ওঠে, মুকেশ তার চালক ছিল l ধরা পড়ার পর প্রাথমিকভাবে সে অভিযোগ অস্বীকার করে, কিন্তু ডিএনএ পরীক্ষায় তার বয়ান মিথ্যে প্রমাণিত হয় l বক্তব্যে মুকেশ জানায়,“ধর্ষিত হওয়ার সময় মেয়েটির উচিত ছিল না পাল্টা প্রতিরোধ জানানো l বরং মুখ বুজে থাকা ও ধর্ষণ করতে দেওয়া উচিত ছিল l তাহলেই তাকে ‘করে’ ছেড়ে দেওয়া হতো আর ওই ছেলেটাকে (সঙ্গী) শুধুমাত্র মারধর করা হতো l এক হাতে তো তালি বাজে না, সবসময় দুটো হাতই লাগে l একজন ভদ্র মেয়ে কখনও রাত্তির ন’টার সময় রাস্তায় ঘুরে বেড়ায় না lযেকোনো ধর্ষণকাণ্ডে ছেলেটির (ধর্ষকের) চেয়ে মেয়েটির (ধর্ষিতের) দায় অনেক বেশি থাকে l ছেলে আর মেয়ে কখনও সমান হয়না l ঘরের কাজকর্ম, পরিবারের দেখভাল এইসব মেয়েদের কাজ, রাত্তিরবেলা ডিস্কোয় যাওয়া, বার-এ যাওয়া, খারাপ কাজ করে বেড়ানো বা বাজে পোশাক পরা নয় l আসলে মাত্র ২০ শতাংশ মহিলাই ভালো হয় যারা এগুলো করে না l (ধর্ষকের) ফাঁসির আদেশ হলে পুরো পরিস্থিতিটা মেয়েদের পক্ষে আরো খারাপ হতে পারে l আগে ধর্ষণ করার সময় বলা হতো- আরে ছেড়ে দে, এ কাউকে বলবে না; এখন ধর্ষণ করার পর ছেলেরা, মানে যারা দুষ্কৃতী গোছের, ধরা পড়ার ভয়ে মেয়েটাকে খুন-ই করবে l মেয়েগুলো মরে যাবে…” (সাক্ষাৎকারের অংশবিশেষ) l মুকেশের বক্তব্য সমাজের চেহারাটাকে আরেকটু স্পষ্ট করে দিল l বোঝা গেল, বিভিন্ন সামাজিক স্তরে আর্থ-সাংস্কৃতিক প্রেক্ষিত নির্বিশেষে, মানুষ (মানে পুরুষ, এমনকি নারীও) এই জাতীয় অশিক্ষার শিকার, যা ধর্ষণ ঘটায় এবং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ধর্ষণকে প্রশ্রয় দেয় l


কাকে দিয়েছি রাজার পার্ট !!!
....................................
১) ১৬ই ডিসেম্বর ২০১২-র দিল্লি-গণধর্ষণ প্রসঙ্গে ডিফেন্স-এর উকিল এ.পি.সিং:
যদি আমার নিজের মেয়েবা বোন বিয়ের আগে যৌনতা করত এবং মাঝরাতে ছেলেদের সঙ্গে ঘুরে বেড়াত আমি তাকে ফার্মহাউসে নিয়ে গিয়ে গায়ে পেট্রল ঢেলে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারতাম l এইরকম ঘটনা ঘটতেই দিতাম না l সমস্ত অভিভাবকেরই এরকম মানসিকতা থাকা উচিত l
২) বিজেপি নেতা যোগী আদিত্যনাথ:
আমাদের (হিন্দুদের) উচিত মুসলিম মহিলাদের মৃতদেহ কবর থেকে তুলে তাদের ধর্ষণ করা l
৩) উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মুলায়াম সিং যাদব:
ছেলেরা তো ছেলে l ওমন ভুল করে থাকে l আরে বন্ধুত্ব চলে গেলেই মেয়েরা ছেলেদের ওপর ধর্ষণের অভিযোগ আনে !
৪) মুম্বই-এর পুলিশ কমিশনর সত্যপাল সিং:
পঠনপাঠনের মধ্যে সেক্স এডুকেশন ঢোকানোর ফলে দেশে মহিলাদের প্রতি অপরাধ বাড়ছে l
৫) পুরীর শঙ্করাচার্য:
এককালে ভাইবোনেরা একসাথে স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়ানো সত্ত্বেও তাদের সঙ্গে খারাপ কিছু ঘটত না l এখন মানুষের আবেগ, আদর্শ সবকিছুই বদলে গেছে l আমাদের সংস্কৃতি আমাদের শেখায় মহিলাদের সম্মান করতে- যে নারীরা আমাদের মা, বোন l এমন ভয়ানক ঘটনা (দিল্লিকাণ্ড) নিশ্চয় একদিনে ঘটে না l মানুষ উন্নয়ন ও আধুনিকতার নামে সভ্যতা-সংস্কৃতির সংকীর্ণ রেখাটিকে অতিক্রম করে বলেই ঘটে l
৬) মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী বাবুলাল গৌর:
পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে মহিলারা জিন্স-টিশার্ট পরে ঘুরে বেড়ায়, পুরুষদের সাথে নাচানাচি করে, মদ খায়- সেটা তাদের কালচার l ওসব ওই দেশে চলে, এ দেশে নয় l এখানে এখানকার রীতিনীতি মেনে চলাই ভালো l
৭) গোয়ার এমএলএ বিষ্ণু বাঘ:
যদি মডেলরাও এসে পার্লামেন্টে যোগ দিতে থাকে তাহলে তো গোটা পার্লামেন্ট-এই ফ্যাশন শো বসে যাবে ! মালাইকা অরোরা, রাখি সাওন্ত-এর মতো ফ্যাশন দুনিয়ার মহিলারা ভোটে জিতে পার্লামেন্টে ঢুকে পড়লে দেশে দাঙ্গাও বেঁধে যেতে পারে l
৮) সমাজবাদী পার্টির এমএলএ আবু আজমি:
অবিবাহিত নারী পুরুষদের মধ্যে যৌন সম্পর্ককে আইনত অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা উচিত l আমার স্বীকার করতে দ্বিধা নেই যে গ্রামীণ ভারতে শহুরে দেশের তুলনায় ধর্ষণের ঘটনা অনেক কম ঘটত l
৯) স্বঘোষিত ঈশ্বরের দূত আশারাম বাপু:
শুধুমাত্র পাঁচছ’জনকে দোষ দিয়ে লাভ নেই l ধর্ষিতা ও ধর্ষণকারী উভয়েই সমান অপরাধী l আক্রান্ত হওয়ার আগে মেয়েটির উচিত ছিল ধর্ষণকারীদের ভাই বলে ডাকা এবং করুণাভিক্ষা করা l এটা তার সম্মান ও জীবনকে রক্ষা করতে পারত l এক হাতে কি তালি বাজে ? বাজে না বোধ হয় l
১০) জামাত-ই-ইসলামি-হিন্দ:
কো-এডুকেশন সিস্টেম বন্ধ হওয়া উচিত এবং মেয়েদের জন্য পৃথকভাবে সমস্ত স্তরে শিক্ষার সুযোগ তৈরী হওয়া উচিত l শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেয়েদের পরিশীলিত পোশাক চালু করা উচিত l
১১) বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রেসিডেন্ট অশোক সিংহল:
ব্রিটিশ আমলের আগে মহিলাদের সতীত্ব অটুট থাকত l এই মডেলদের জন্যই এখন তা বিঘ্নিত হয়ে গেছে l
১২) ছত্তিশগড় মহিলা কমিশনের চেয়ার-পারসন বিভা রাও:
মহিলারা শরীর প্রদর্শনের মাধ্যমে পুরুষদের অপ্রীতিকর ক্রিয়াকলাপে প্রলুব্ধ করে l মেয়েরা বুঝতে পারছে না কি ধরণের বার্তা তারা সমাজের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে l
১৩) বিএসপি নেতা রাজপাল সৈনি:
মহিলা ও শিশুদের হাতে ফোন দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই l ফোন তাদের মনকে বিক্ষিপ্ত করে l আমার মা, স্ত্রী, বোন সকলেই তো ফোন ছাড়া দিব্যি কাটিয়েছে l
১৪) খাপ পঞ্চায়েত নেতা জিতেন্দ্র ছাতার:
দারিদ্র্য, নেশাগ্রস্ততা বা যুব সমাজের খারাপ মেলামেশা ধর্ষণের মূল কারণ l তবে চাউমিন খেলেও হরমোনের সমস্যা দেখা দেয় যা ধর্ষণের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ l
১৫) হরিয়ানার খাপ পঞ্চায়েত সদস্য সুবে সিং:
আমার মনে হয় মহিলাদের ১৬ বছর বয়সে বিয়ে করে নেওয়া উচিত যাতে স্বামীরা তাদের যৌন চাহিদা মেটাতে পারে l এর ফলে তাদের আর অন্য পুরুষের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন পড়বে না l এভাবেই ধর্ষণ বন্ধ করা সম্ভব l
১৬) কংগ্রেসের এমপি সঞ্জয় নিরুপম, স্মৃতি ইরানীর উদ্দেশে:
কাল পর্যন্ত পয়সার জন্য টিভিতে নাচ দেখাত, আর আজ ভোট বিশ্লেষক হয়ে গেল!
১৭) বিজেপি নেত্রী হেমা মালিনী, মহিলাদের উদ্দেশে:
যেখানে ইচ্ছে হয় বেরিয়ে পড়বেন না l যেকোনো কিছু ঘটে যেতে পারে l আক্রান্ত হতে পারেন l ভগবান কৃষ্ণ দ্রৌপদীকে বাঁচাতে এসেছিলেন l কিন্তু আমরা তো ততখানি আধ্যাত্মিক নই যে ঈশ্বর আমাদেও বাঁচাবেন !
১৮) সিপিএম-এর এমপি অনিল বসু, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি:
তৃণমূলের ভোটের খরচের জন্য উনি কোন্ ভাতারের কাছ থেকে ২৪ কোটি টাকা নিয়েছিলেন?
১৯) তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী কাকলি ঘোষদস্তিদার:
পার্ক স্ট্রিটের ঘটনা সম্পূর্ণ আলাদা। এটা ধর্ষণের কোনও ঘটনাই নয়। ওই মহিলার ও তাঁর খদ্দেরের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির জের l
২০) বৈবাহিক ধর্ষণকে আইনত অপরাধ স্বীকারের মাধম্যে বিল-টিকে সংশোধনের জন্য ডিএমকে-র এমপি কানিমোজির চিঠির উত্তরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী হরিভাই পারাথিভাই চৌধুরীর বক্তব্য:
অশিক্ষা, বিবিধ সামাজিক রীতিনীতি, ধর্মীয় বিশ্বাস ও অন্যান্য নানাবিধ কারণে বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধ হিসাবে স্বীকার করা সম্ভব নয়, কারণে ভারতীয় প্রেক্ষিতে বিবাহ একটি পুণ্য বিষয় l


হ্যাপি নিউ ইয়ার
.....................
চলতি বছরের ১৪ই ফেব্রুয়ারি বহু প্রতীক্ষিত রাজীব দাস হত্যা মামলার ফল ঘোষণা হলো l দিদি রিঙ্কু দাস-কে শ্লীলতাহানি, বেআইনি অস্ত্র রাখা, এবং দিদিকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসা ষোলোবছর বয়সী রাজীবকে গুণে গুণে সতেরো বার ছুরির আঘাতে খুন করার অপরাধে মিঠুন দাস, বিশ্বনাথ চ্যাটার্জী ও মনোজিত বিশ্বাস-কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিল আদালত, মূল ঘটনার ঠিক চার বছর পর l কেস রিপোর্টেড না হওয়ার ফলে বা হলেও প্রমাণের অভাবে কিংবা প্রশাসনিক ঔদাসীন্যের কারণে পুরো ব্যাপারটাই ধামা চাপা পড়ে যাওয়ায় ধর্ষকদের একটা বড় অংশের কলার তুলে ঘুরে বেড়ানোর আধিক্যে, এ হেন দু’চারটে দৃষ্টান্তমূলক সিদ্ধান্ত যে কিছুটা হলেও আমাদের পুনরুজ্জীবিত করে তা নিয়ে সন্দেহ নেই l তবে একটা কেসের সুরাহা হতে না হতেই ঘটে যায় আরো একগুচ্ছ ঘটনা l
বছর পড়তে না পড়তে গোটা দেশ জুড়ে আরো কিছু ধর্ষণের খবর l ১)২৬শে ফেব্রুয়ারি এআইআইএমএস-এর জনৈক ডাক্তারের বিরুদ্ধে দক্ষিণ দিল্লিতে পঁচিশ বছর বয়সী সিকিম নিবাসী একটি মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল l২)উত্তর প্রদেশের মোতিপুরওয়া গ্রামে ১৬ বছরের একটি দলিত-কন্যার ধর্ষিত মৃতদেহ পাওয়া গেল গাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় l ভিকটিমের বাবার অনুমান, ওই গ্রামেরই দুজন যুবক তার মেয়েকে ধর্ষণ ও খুন করে l ৩)মহারাষ্ট্রের লোনাভালার একটি রিসর্টে সাত বছরের শিশুর মৃতদেহ পাওয়া গেল, মেয়েটি নিখোঁজ থাকার দুদিন পর l আংশিক অন্ধত্বে আক্রান্ত এই শিশুটি গিয়েছিল আত্মীয়ের বিয়ের নিমন্ত্রণে l তাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয় l ৪)উত্তর প্রদেশের মুজাফ্ফরনগরে একইসাথে দুই শিশুকন্যাকে (পরস্পর তুতো বোন) ধর্ষণ করে পাড়ারই এক বছর পঞ্চাশেকের প্রৌঢ l৫)কোলকাতায় বিজেপি-র পার্টি অফিসে একটি পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় সতেরো বছর বয়সী জনৈক যুবককে l৬)হরিয়ানার রোহতক গ্রামের গণধর্ষণ কাণ্ড- একটি আঠাশ বছর বয়সী মেয়ে তিন দিন নিখোঁজ থাকার পর তার ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ পাওয়া যায় যখন তার দুটো হাত, বেশ কিছু অত্যাবশ্যকীয় অঙ্গ ও শরীরের বাঁদিকটা পশুতে খেয়ে গেছে l মেয়েটিরদেহে লাঠি ও পাথর ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল, প্রবল মারধর করে অচেতনও করে দেওয়া হয়েছিল l এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আটজন যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ এবং নবম ব্যক্তিকে খোঁজা হচ্ছে l৭)দিল্লির নিজামুদ্দিনে একটি স্কুলের বত্রিশ বছর বয়সী এক ফিজিকাল ইন্সট্রাকটর ছয় বছরের শিশুকন্যাকে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ l ৮)পুরুলিয়ার জনৈক স্কুল-বাস ড্রাইভারকে,চার বছরের একটি শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় l৯)জয়পুরে উনিশ বছর বয়সী একটি জাপানি মহিলা পর্যটককে ধর্ষণ করে চব্বিশ বছরের যুবক l অপরাধ স্বীকার করার পর সাতজন বন্ধুর সহায়তায় সে শহর ছেড়ে পালায় l অবশেষে এক লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে পুলিশ এবং দোষীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় l ১০)মালদা জেলার কালিয়াচকে ন’ বছরের একটি শিশুকন্যাকে ধর্ষণ করে খুন করে তেত্রিশ বছরের যুবক l১১)মার্চ মাসের মধ্যরাতে রানাঘাটের একটি কনভেন্ট স্কুলে বাহাত্তর বছরের জনৈক সিস্টারকে গণধর্ষণ করা হয় l ঘটনায় আরো তিনজন সিস্টার দুষ্কৃতীদের দ্বারা গুরুতর আহত হয়েছিল l রানাঘাটের কাণ্ডের দিনেই, এন্সেফেলাইটিস-এ মারা গেল লড়াকু মেয়ে সুজেট জর্ডন, ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পার্ক স্ট্রিটে ঘটে যাওয়া বহুচর্চিত ও বিতর্কিত গণধর্ষণ কাণ্ডের সেই ভিকটিম, দুই শিশুকন্যা ও অসমাপ্ত ‘কেস’-কে পিছনে রেখে l ১২) সম্প্রতি, মে মাসে, আর জি কর হাসপাতাল চত্বরের মধ্যেই মাঝরাতে ২৪ বছরের একটি মেয়েকে ধর্ষণ করে হাসপাতালে কর্তব্যরত দুজন লিফ্টম্যান l
ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো-র রিপোর্ট অনুযায়ী, এই মুহূর্তে, দেশে প্রতিদিন গড়ে বিরানব্বই থেকে তিরানব্বই জন মহিলা ধর্ষিত হয়ে চলেছে l এবং চুরানব্বই শতাংশ ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তি(/রা) ভিকটিমের পূর্বপরিচিত l


ধর্ষণ ও ধন-তন্ত্র
...................
ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো ১৯৭১ সাল থেকে ধর্ষণের খতিয়ান নথিভুক্ত করতে শুরু করে l জানা যাচ্ছে, সে বছর রিপোর্টেড রেপ কেসের সংখ্যা ছিল ২৪৮৭ l আইপিসি-৩৭৬ ধারায় ২০১৩ সালে দেশের সবকটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মিলিয়ে রিপোর্টেড রেপ কেসের সংখ্যা ৩৩৭০৭l২০১২-র রিপোর্টেড রেপ কেসের সাপেক্ষে এই সংখ্যা ৩৫.২ শতাংশ বেশি !আবার গত ১০ বছরের খতিয়ান দেখলে জানা যায়, ২০০৩ থেকে ২০১৩-এ রিপোর্টেড রেপ কেসের শতাংশের হার বেড়েছে ৯১.৮ ! এই বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বলা যায়, এক- সত্যিই ধর্ষণের সংখ্যা বেড়ে চলেছে, দুই- ধর্ষণের হার যা ছিল তাই আছে, কিন্তু মহিলাদের মধ্যে সামাজিক প্রতিবন্ধকতা বা সোশাল স্টিগমা-গুলোকে অতিক্রম করে অপরাধীদেরদের প্রতি অভিযোগ জানানোর প্রবণতা বাড়ছে l ‘স্লাট শেমিং এন্ড ভিকটিম ব্লেমিং’, মানে ঘটনা যাই ঘটে থাকুক না কেন আসলে তো মেয়েটি মাঝরাত্তিরে একা বেরিয়েছিল, আসলে তো মহিলার পোশাক বড্ডবেশি খোলামেলা ছিল কিংবা আসলে তো ও মেয়ে নয় মেয়েছেলে- এইসব মিথ ভেঙে প্রতিবাদ জানাতে সক্ষম হচ্ছে বহু মহিলাই l ২০১৩ সালে দেশে রিপোর্টেড ইনসেস্ট রেপ কেসের সংখ্যা ছিল ৫৩৬ ও আক্রান্তের সংখ্যা ৫৪৮ l ইনসেস্ট রেপের ক্ষেত্রেও আশির দশকে বাড়ির ছোট বৌমাকে শাশুড়ি যেমনটা বোঝাতে সমর্থ হতেন- আহা নিজেরই তো শশুরমশাই, অমন হয়ে থাকে, তুমি বাপু পাঁচকান কোরো না- মেয়েরা কিছুটা হলেও এখন ক্রমে ক্রমে উপেক্ষা করতে চাইছে বা পারছে এইসব পরোক্ষ হুমকিকে l তবে,একটা ধর্ষণ ঘটে যাওয়ার পর ধর্ষকের শাস্তি যতটা জরুরি, ততটাই গুরুত্বপূর্ণধর্ষণের উৎসগুলোকে খুঁড়ে বার করা l ফাঁসি বা যাবজ্জীবন কারাবাসেরভয় দেখিয়ে ধর্ষণ বা যৌন হেনস্থার ঘটনা আটকানোর থেকে অধিক কার্যকরী সার্বিক সচেতনতার বোধ তৈরি করা l বহু ক্ষেত্রেই ছোটবেলা থেকে মেয়ে ও ছেলেদের পৃথক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা শুরু করানোর বা আলাদা পরিবেশে বড় করার ফলে শিশুমনে একটা অদ্ভুত ধারণা পুষ্ট হতে থাকে যে মেয়েরা ভিনগ্রহের জীব l তাদের প্রত্যঙ্গের বেড়ে ও গড়ে ওঠা ছেলেদের থেকে বিলকুল আলাদা এবং আশ্চর্য এক রহস্যের জালে আবৃত l বয়ঃসন্ধিতে সেই কৌতুহল আরো চরমে পৌঁছয় l বাড়ির কিশোরটি যুবতী বুয়ার পাতিয়ালায় রক্তের ছিটে দেখে বিচলিত ও সন্দিগ্ধ হয়ে ওঠে l অধিকাংশ মধ্য-চিত্তের পরিবারেই তাকে মাথায় হাত বুলিয়ে কেউ বোঝাতে আসে না, এটি একটি স্বাভাবিক ঘটনা, ঠিক যেমনটা ওই নাইট ফলস-ও l বোঝালে, অপরাধবোধ ও অপরাধের প্রবণতা কমত বৈ বাড়ত না l নারী-পুরুষ-ভিন্নলিঙ্গ বহিরঙ্গে পৃথক, শারীরবৃত্তীয় কারণে আলাদা, সাংস্কৃতিক প্রেক্ষিতে সেসব ডিসক্রিমিনেশন-কে অতিক্রম করা উচিত, এই বোধটা মানবিক বিকাশের এক্কেবারে শুরু থেকে কোথাও মাথার ভেতর রোপণ করা দরকার l প্রশ্ন উঠতেই পারে, মধ্যপ্রদেশের প্রত্যন্ত গ্রামে কোএডুকেশন কালচার এবং অত্যাবশ্যক সেক্স এডুকেশনএকটি ষোলো বছরের মেয়েকে স্কুলমুখী করে তোলার পক্ষে পরিপন্থী হয়ে উঠবে না কি? বলা বাহুল্য এ পরিবর্তনও একদিনে ঘটবে না l কিন্তু সর্বাগ্রে তো প্রতীত হতে হবে শিক্ষার কান্ডারীদেরও, যারা বদলটা আনতে পারবে !
২০১৩-র রিপোর্টে, রিপোর্টেড রেপ কেসের সংখ্যা ৩৩৭০৭ হলেও ভিকটিমের সংখ্যা কিন্তু ৩৩৭৬৪ l এই পরিসংখ্যানকে বয়সের নিরিখে ভাগ করে দেখা গেছে: ১০ বছর বয়স পর্যন্ত ধর্ষিত নারীর সংখ্যা ১৫৮৪, ১০-এর বেশি বয়স থেকে ১৪ বছরের মধ্যে ২৮৪৩, ১৪-র বেশি বয়স থেকে ১৮ পর্যন্ত ৮৮৭৭, ১৮-র অধিক থেকে ৩০ অবধি ১৫৫৫৬, ৩০-এর বেশি থেকে ৫০ পর্যন্ত ৪৬৪৮, ৫০-এর ঊর্ধে ২৫৬ l স্পষ্টতই ১৮ থেকে ৩০ এই বয়সকালকে রিপোর্টের ভিত্তিতে সবচেয়ে বেশি ভালনারেবল ধরা যেতে পারে l কারণটা বোধ করি এই যে, ভারতীয় (অপ)সংস্কৃতিতে যৌবনের কনসেপ্ট মূলত এই বয়সের পরিসরে সীমাবদ্ধ l গয়নার বিজ্ঞাপনে কচি মেয়েটি যেমন মায়ের চুড়ি হাতে গলিয়ে রমণী হয়ে উঠতে চায়, তেমনই মধ্যবয়সী নারীকে সাবান মাখিয়ে বয়স কমানোর চেষ্টা চালানো হয় এবং স্তাবকের কণ্ঠ থেকে ভেসে আসে- আপকো দেখকে তো উমর কা পাতা হি নহি চলতা ! একটা বড় সংখ্যক মূল ধারার ঝিনচ্যাক দিশি ছবিতে নায়িকার বয়স কিচ্ছুতেই তেইশের বেশি হয়না l গোটা বিপণনের দুনিয়া যৌবন বেচতে বদ্ধপরিকর l এবং যারা খাচ্ছেতাদের কাছে ‘পূর্ণযৌবনা’ নারীকে সবচেয়ে বেশি উপভোগ্য হিসেবে পরিবেশন করার অদম্য প্রয়াস l ফলত এরাই ‘টার্গেট’ l আর উন্নয়নশীল দেশে পূর্বোল্লিখিত কনসেপ্ট-এর সাথে ভার্জিনিটি-র পাঞ্চ মিশিয়ে দিলে ১৪ থেকে ১৮-র ভীতিপ্রদ সংখ্যার ব্যাখ্যাটা জলের মতো পরিষ্কার হয়ে ওঠে l ১৬ই ডিসেম্বর ২০১২-র দিল্লি কাণ্ড সমাজের পক্ষে একটা কালো দিক হলেও ধর্ষণের সংজ্ঞায় তা কিছুটা আলো দেখাতে পারলো l এই ঘটনার অব্যবহিত পরে সরকারের পক্ষ থেকে নিযুক্ত সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত জাস্টিস যে.এস ভার্মা-র তত্ত্বাবধানে গঠিত কমিটির সিদ্ধান্তে ২০১৩ সালের ৩রা ফেব্রুয়ারি আইপিসি-৩৭৫ ধারায় বেশ কিছুটা (উত্তর)আধুনিকতার ছোয়াঁচ লাগলো lআমরা জানলাম, ধর্ষণ শব্দটা শুধুমাত্র যোনি ও লিঙ্গের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রাখার বিষয় নয় l আরো কিছু বয়সসীমা ও শর্তের তারতম্য ঘটানো হলো পরিমার্জিত সংজ্ঞায় l তবে ম্যারাইটাল রেপ এখানেও অপরাধ হিসেবে গণ্য হলো না l ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো-র ২০১২-র রিপোর্টে আমরা দেখেছি দেশে মোট ১০৬৫২৭ জন মহিলা গৃহনির্যাতন (আইপিসি ৪৯৮ এ)-র শিকার l এখানে পশ্চিমবঙ্গের স্থান দ্বিতীয়তে অর্থাৎ ত্রিপুরার পরেই l যেখানে ডোমেসটিক ভায়োলেন্স-এর পরিসংখ্যান এ হেন, সেখানে বৈবাহিক ধর্ষণের সংখ্যাও যে বিপুল হবে তা সহজেই অনুমেয় l
যৌনাচারে নারীটি নিয়ন্ত্রিত হবে তার পুরুষটির দ্বারা, এই মিথ-এর কারণেই বোধ করি ম্যারিটাল রেপ-কে শুধুমাত্র ‘রাফ সেক্স’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার একটা কালচার আগেও ছিল এবং এখনও আছে l নাহলে রাষ্ট্র দ্বারা নির্ধারিত পুরুষতান্ত্রিক পরিবার-পরিকাঠামোর সুখী সুখী ইমেজ ঝুরঝুর করে ভেঙে পড়ার অবশ্যম্ভাবী সম্ভাবনাথেকে যায় l ১৯৭৫ সালে কেমব্রিজ ডকুমেন্টারি ফিল্মস-এর জন্য মার্গারেট লাজারাস ও রেনার উন্ডারলিচ ‘রেপ কালচার’ নামে একটি তথ্যচিত্র বানান যেখানে নারী ও পুরুষ উভয়কেইধর্ষণ করার যে প্রবণতা তাকে ‘স্বাভাবিক’ বলার বিরুদ্ধে অভিমত প্রকাশ করা হয় l ছবিটা ধর্ষণের ধারণাকে প্রথম সংজ্ঞায়িত করার স্বীকৃতি পায় lপ্রসঙ্গত মনে পড়ে যাচ্ছে এর ঠিক ত্রিশ বছর পরে, ২০০৫ সালে ভারতে মুক্তিপ্রাপ্ত‘মাতৃভূমি’ ছবিটির কথাও যা একইসাথে ফিমেল ফিটিসাইড, ডাওরি, ম্যারাইটাল রেপ, ইনসেস্ট রেপ ও ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স-এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিল l মোদ্দা কথাটা হলো উৎস যাই হোক না কেন, আর্থসামাজিক সমস্যা, জাতিবিদ্বেষ, লিঙ্গবৈষম্য, ধর্মীয় ভেদভাব, হোমোফোবিয়া, যুদ্ধ পরিস্থিতি, পর্নোগ্রাফি, মানসিক বিকার ইত্যাদি প্রভৃতি, মূল লক্ষ্য কিন্তুআঘাত করার মধ্যে দিয়ে ক্ষমতাপ্রদর্শন l পাওয়ার এক্সারশন l বীরভোগ্যা পৃথিবী ও রূপমুগ্ধা নারী- এই কনসেপ্ট থেকে যেমন একজন বলশালী রাজা ভূমি দখল করার পর জমিতে তলোয়ার পুঁতে জাহির করতো ওই পরিসরের ওপর তার কতৃত্ব, একজন পুরুষও নারীর মুখ, যোনি, পায়ু অথবা শরীরের যেকোনো ছিদ্রে লিঙ্গ বা অন্যকোনো বস্তুর প্রবেশ ঘটিয়ে তার ক্ষমতাকে প্রদর্শন করায় l পেনিট্রেশন- মাটি হোক বা রমণী, গ্রোথিত করার মাধ্যমে তার ওপর ক্ষমতাশীলের অধিকারপ্রয়োগ l অথচ শুধু ধর্ষণ কেন, আমরা যাকে স্বাভাবিক যৌনাচার বলে জানি, সেখানেও এই পুরুষতন্ত্র ও ক্ষমতাপ্রদর্শনের রাজনীতি l কারণ চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নততর গবেষণা জানায়, নারীর অরগ্যাজম ‘কেবলমাত্র’ পেনিট্রেশন কেন্দ্রিক- এটাও স্রেফ একটা মিথ !
সাম্প্রতিককালে দেখা যাচ্ছে যে একক ব্যক্তির দ্বারা ধর্ষণের সাথে সাথে গণধর্ষণের ঘটনাও অনেক বেশি ঘটছে lগবেষণা বলছে এর পেছনে কারণগুলো মূলত যৌনতার অধিকারপ্রয়োগ, বিনোদন ও শাস্তি দেওয়ার প্রবণতা l একজন পুরুষ এককভাবে ধর্ষণ করাকালীন যতখানি বলপ্রয়োগ করতে সক্ষম, দলবদ্ধ অবস্থায় তার আঘাত করার ক্ষমতা বেশ কয়েকগুণ বেড়ে যায় l গণধর্ষণের ক্ষেত্রে সাধারণত তিনজন বা তার বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করে যারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বয়সে তরুণ l বলা বাহুল্য, এ বিষয়টি অনেক বেশি হিংসাত্মক এবং যৌন অত্যাচারের পাশাপাশি অযৌন অত্যাচারও করা হয় ভিকটিমকে l যুদ্ধ বা দাঙ্গার পরিস্থিতিতে মহিলাদের গণধর্ষণের মাধ্যমে ভিকটিম ও তার কম্যুনিটিকে ভয় দেখানোর জন্য ব্যাপক হারে গণধর্ষণের প্রবণতা দেখা গেছে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায়, ভিন্ন ভিন্ন সময়ে l তবে সাধারণভাবে, যুবসমাজের বেকারত্ব আর নেশাগ্রস্ততাকে গণধর্ষণের বড় কারণ বলে দাবি করছেন সমাজবিজ্ঞানীরা l আর যারা গণধর্ষিত হচ্ছে তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিম্ন মধ্যবিত্ত বা দরিদ্র পরিবারের সদস্য l কেননা সামাজিক কারণেই তাদের প্রতিরোধ করার ক্ষমতা ও সাহস বহুলাংশে কম l আমাদের দেশে এখনও আলাদা করে গণধর্ষণের রেকর্ড সংগ্রহ করা হয়না l হলে দেখা যাবে সার্বিক পরিস্থিতির মতোই গণধর্ষণের ঘটনাও ক্রমবর্ধমান l


না-ফুরোনো গল্পগুলো
............................
বড় বেদনার বোধও ক্রমে ঝাপসা হয়ে আসে l মেয়েটির স্বজনেরা, এমনকি সে নিজেও শরীর-মনের ক্ষতগুলোর সাথে অভ্যস্ত হয়ে যেতে থাকে ধীরে ধীরে l আর আমরা যারা খবর কাগজের পাতায় ঘটনার বিবরণ পড়লাম, দু’চারদিন ভেতরে ভেতরে কোথাও আগুনটুকু জ্বলল, তারাও দ্রুত ফিরে যেতে চাই পরিচিত স্বাভাবিকতায় l টানা বিয়াল্লিশটা বছর ভেজিটেটিভ স্টেটে অরুণা শানবাগ পড়ে ছিল হাসপাতালের বিছানাতে l ১৯৭৩ সালের ২৭শে নভেম্বর সোহনলাল বাল্মীকি নামে সরকারি হাসপাতালের এক চতুর্থ শ্রেণীর কর্মী পঁচিশ বছর বয়সী একটি নার্সকে গলায় কুকুরের চেন বেঁধে সোডোমি অর্থাৎ পায়ুছিদ্র দিয়ে ধর্ষণ করে l সেই নার্স, মানে অরুণার মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, ব্রেন স্টেম ও সারভাইকাল কর্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কর্টিকাল ব্লাইন্ডনেস ঘটে l সোহনলালের কেবল সাত বছরের হাজতবাস হয় ‘ডাকাতি ও খুনের চেষ্টার অপরাধে’, কেননা আইপিসি-৩৭৬ অনুযায়ী সোডোমি-র মাধ্যমে ধর্ষণকে তখন ধর্ষণ হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হতো না l গত ১৮ই মে ২০১৫ তে, অরুণা ‘মরিয়া প্রমাণ করিল সে মরে নাই’ lযদিও তার অস্তিত্বের, চেতনার, মৃত্যু ঘটেছিল বহু বছর আগেই l
বিহারের দেওঘর থেকে ত্রিশ কিলোমিটার দূরে পারারিয়া গ্রামে এক রাতে উনিশজন আদিবাসী মহিলা ধর্ষিত হয় l নিমিয়া, রাধিয়া, দারিয়া, সুমিয়া ও ভগবতিয়া, পারারিয়া গণধর্ষণ কাণ্ডে (১৯৮৮) মাত্র এই পাঁচজন ছিল অভিযোগকারী l যে ষোলো জনের বিরুদ্ধে কোর্টে যায় এই মহিলারা, তারা সকলেই ছিল পুলিশকর্মী, চৌকিদার ও হোমগার্ড l ধর্ষণের সাথে সাথে মারধর ও তাদের বাড়িতে লুঠতরাজও চলে l অভিযোগ দায়ের করা সত্বেও ধর্ষিতদের যথাযথ মেডিকেল পরীক্ষা হয়না l সরকারি পক্ষ থেকে তাদের প্রত্যেককে এক হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় l এবং পরবর্তীকালে ওই পাঁচজন মহিলাকে প্রতারক হিসেবে সাব্যস্ত করা হয় l বলা হয়, মিথ্যাচারের জন্য এরা যেকোনো কিছু করতে পারে কারণ হাজার টাকা এদের কাছে সত্যিই অনেক l
২০০২-এর গুজরাত দাঙ্গায় অসংখ্য মুসলিম মহিলাকে ধর্ষণ করা হয় যার হিসাব কেউ দেয়নি আজ পর্যন্ত l
২০০৩ সালে একজন আঠাশ বছর বয়সী সুইস ডিপ্লোম্যাট-কে তার নিজের গাড়িতে ধর্ষণ করা হয় l ধর্ষিত তার বিবৃতিতে বলে- ধর্ষকদের একজন অনর্গল ইংরিজিতে কথা বলে যাচ্ছিল l এমনকি তাকে প্রশ্ন করছিল সুইজারল্যান্ড সম্পর্কে, আর সম্ভবত ভারতীয় সংস্কৃতি নিয়ে তাকে জ্ঞানও দিচ্ছিল !
মণিপুরের বত্রিশ বছর বয়সী মেয়ে মনোরমাকে আসামের সৈন্যরা বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় ‘রাষ্ট্রদ্রোহীদের’ সঙ্গে যোগাযোগের অপরাধে l কয়েক ঘন্টা পর তার বিক্ষত শরীর পাওয়া যায় l মনোরমার তলপেট ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিল অসংখ্য বুলেটের আঘাতে l সালটা ২০০৪ l
২০০৯ সালে ভারত-শাসিত কাশ্মীরের সোপিয়ান টাউনে দুটি তরুণীকে গণধর্ষণ করে হত্যা করা হয় l প্রতিবাদে টানা সাতচল্লিশ দিন সশস্ত্র আন্দোলন ও ধর্মঘট চলে l
মাওবাদীদের সংবাদপ্রেরক সন্দেহে ২০১১-র অক্টোবর পর্যন্ত সোনি সোরি-কে ছত্তিসগড়ের জেলে আটকে রাখা হয় l জেল থেকে বেরোনোর পর সোনি সুপ্রিম কোর্টে অভিযোগ জানায়, বন্দী থাকাকালীন তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছিল ও তার যোনিপথে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল পাথর l
২০১২ সালে উত্তর প্রদেশের একটি থানার ভেতরে সোনম নামে চোদ্দ বছরের একটি মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করা হয় l
২০১৩ সালে কলকাতা থেকে কুড়ি কিলোমিটার দূরে কামদুনি গ্রামে কুড়ি বছর বয়সী কলেজ পড়ুয়াকে গণধর্ষণ করে খুন করা হয় l ন’জন অভিযুক্তের মধ্যে আটজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ l আপাতত তদন্দের ভার সিবিআই-এর হাতে l ভিকটিমের পরিবার ও বন্ধুরা বিচারের অপেক্ষায় l
এমন আরো একগুচ্ছ জানা অজানা ঘটনা নিয়ত ঘটে চলেছে চারপাশে l তার কতগুলো কেস রিপোর্টেড হচ্ছে? ঠিক কতগুলো ঘটনার মীমাংসা হচ্ছে? কতজন অভিযুক্ত শাস্তি পাচ্ছে? ‘তারিখ পে তারিখ, তারিখ পে তারিখ’–এর চক্করে একাধিক প্রমাণ লোপাট হয়ে যাবে l উচ্চবংশের ছেলে দলিতের মেয়েকে ধর্ষণ করে না- এমন হাস্যকর কিছু যুক্তি সাজিয়ে বেমালুম ছাড়া পেয়ে যাবে ধর্ষক l অমুক যখন শাস্তি পেল না তখন আমাদেরই বা কে কী করবে- এমন মনোবল নিয়ে ধর্ষণে উদ্যত হবে আরো আরো পুরুষ l ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটবে ভিকটিম ও তার পরিবারের l কোনো কোনো ধর্ষিত অর্থের বিনিময়ে কন্যাসন্তানের ভবিষ্যত সুনিশ্চিত করতে চাইবে l অন্তত এই রাষ্ট্রব্যবস্থায় সেই চাওয়াটুকু জাস্টিফায়েড l আর যাদের হাতে ভুবনের ভার, দেখাই যাচ্ছে,নারী-পুরুষ নির্বিশেষে তাদের একটা বড় অংশ চরম পুরুষতান্ত্রিকতা, ক্ষেত্রবিশেষে চূড়ান্ত অশিক্ষার শিকার l রিপোর্টের ভিত্তিতে সামাজিক অবক্ষয়ের কাটাছেঁড়া চলবে, চলবে সামাজিক অবক্ষয়ের ভিত্তিতে রিপোর্টের কাটাছেঁড়াও l বয়স উনিশ লিখে যে পনেরো বছরের মেয়েটিকে শহর কোলকাতা থেকে মাত্র তিরিশ কিলোমিটার দূরে বিয়ে দিয়ে দিল তার মা-বাবা, ইনসেস্ট রেপের খতিয়ানে তার বয়স কিন্তু রইলো উনিশই l ১৮ থেকে ৩০-এর এই লম্বা ঘরটিকে কেন ১৮ থেকে ২৪ এবং >২৪ থেকে ৩০–এ ভাগ করা হলো না, প্রশ্ন থেকে যাবে l জানা হবে না, আঠেরো বছরের কমবয়সী একটি ছেলে যদি গণধর্ষণে সামিল হয় এবং পূর্ণাঙ্গ ধর্ষণে সক্ষম হয় তাহলে শাস্তি ঘোষণার সময় তাকে কেন দেখা হবে একজন নাবালক হিসেবেই? এক্ষণে প্রশ্ন উঠবে সাবালকত্বের মাপকাঠি, ভোটাধিকার, মদ্যপান, বিবাহের বয়স এবং রাষ্ট্র কতৃক নির্ধারিত অন্যান্য নানাবিধ মাইলস্টোন নিয়েও l বরং আজ থাক l উত্তর খোঁজা যাবে অন্য কোথাও... অন্য কোনোখানে...


4533 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8] [9] [10]   এই পাতায় আছে 141 -- 160
Avatar: Ekak

Re: নারী-ধর্ষণ সম্পর্কে দু’চার কথা যা আমরা জানি অথবা জানিনা

সমান শক্তিধর হওয়া জরুরি নয় কিন্তু সমান অধিকার পেতে হলে সমান ক্ষমতাধর হতে হবে । সম না হলে সম্মান কিসের । করুণা চাইলে আলাদা কথা ।
Avatar: AP

Re: নারী-ধর্ষণ সম্পর্কে দু’চার কথা যা আমরা জানি অথবা জানিনা

সযত্নে গুলিয়ে দেওয়া কতগুলো কথা আবার লিখে দিই।

আত্মরক্ষার কৌশল যে কেউ শিখলে আপত্তির কিছু নেই, কেউ তাতে আপত্তি করেননি। কিন্তু সরকারী তরফে যদি 'আত্মরক্ষার কৌশল' শেখানো হয়, তার অর্থ নিশ্চই 'বিপদ থেকে আত্মরক্ষা'। সেটা ছেলে মেয়ে সকলের জন্যই হওয়া উচিত। শুধু মেয়েদের জন্য হলে বুঝতে হবে 'পুরুষ দ্বারা বিপদ (বা আপদ)' থেকে আত্মরক্ষার কৌশল। সেটা এই বিপদের কোনো সমাধান নয়। কারণ মেয়েদের যে ধরনের ট্রেনিঙ্গ দেবার কথা হচ্ছে, ক্যারাটে ইত্যাদি, বা যে সব হাতিয়ার রাখার কথা বলা হচ্ছে, পেপারস্প্রে ইত্যাদি সেগুলো যদি ছেলেরাও রাখেন, প্রয়োগ করেন তাহলে মেয়েদের আত্মরক্ষার কৌশল কোনো কাজেই আসবে না। হয়তো আসেও না। ঠিক যে কারণে একটি আক্রান্ত মেয়ের পুরুষ সঙ্গীও অনেক সময় কিচ্ছু করতে পারে না (সিনেমায় যেমন হয় না)। তাই রাষ্ট্র এই ট্রেনিঙ্গ ইত্যাদি গুলোকে বেশি প্রোজেক্ট করলে আখেরে মেয়েদের বিপদ বাড়বে বই কমবে না।

যে আক্রান্ত সে যা কিছুই করতে পারে। এখানে 'করতে পারে' অর্থ হল যাকিছু করতে পারার অধিকারী। কিন্তু আক্রান্ত সাধারনতঃ বেকায়দায় থাকে তাই মাঝে সাঝে টেনে একটা চড় মারা ছড়া কিছু সত্যি সত্যি করতে পারে না। সেটাও ঐ বড়জোর ভীড় বাসে কি ওয়ান টু ওয়ান মোকাবিলায়। সেখানে আবার ক্যারাটে শিখে বিশেষ লাভ নেই। তবু আত্মরক্ষার কৌশল শিখে রাখাই ভালো। কিন্তু তাতে রাষ্ট্র যেন সেটা নিয়ম করে না ফেলে।

কিন্তু আক্রমণকারীর শাস্তিটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সে ঘরের লোকই হোক বা রাস্তার। সেটা অন্য প্রসঙ্গ, কিন্তু নেহাত অপ্রাসঙ্গিক নয়। কারণ সেখান থেকেই এই আলোচনা শুরু হয়েছিল। আর সেটা সমাধানের একটা দিকও বটে।

এ বাদে মেয়েরা কিসে কিসে নীচে, কি করে উঠে এল, চাকরী, রোজগার, ব্রেড আর্নার কিনা ইত্যাদি বোধহয় এই আলোচনায় বহিরাগত।
Avatar: /\

Re: নারী-ধর্ষণ সম্পর্কে দু’চার কথা যা আমরা জানি অথবা জানিনা

সযত্নে গুলিয়ে হচ্ছে যে আত্মরক্ষার কৌশল শেখার পরামর্শ দেওয়া মানেই এটা না যে রাষ্ট্র তার দায় এড়িয়ে যেতে পারে। প্রত্যেক নাগরিককে সুরক্ষা দেওয়া আর অপরাধীকে শাস্তি দেওয়া রাষ্ট্রের অবশ্য কর্তব্য। সেই কর্তব্যে কোথাও গাফিলতি হলে সেটা নিয়ে আন্দোলন করা যেতেই পারে। কিন্তু আত্মরক্ষার কৌশল শেখার পরামর্শ সরকারি বা বেসরকারি নানান লেভেলে দেওয়া যেতেই পারে। আত্মরক্ষার কৌশল জানা থাকলে বা ব্যাগে পেপার স্প্রে থাকলে মেয়েরা কিছু কিছু সময়ে নিজেদের বাঁচাতেই পারে। কাউকে সরকারী বা বেসরকারী তরফে আত্মরক্ষার কৌশল শেখালে বা শেখার পরামর্শ দিলেই যে রাষ্ট্র অব্যাহতি পেয়ে যাচ্ছে না এটা যেন গুলিয়ে দেওয়া না হয়।
Avatar: AP

Re: নারী-ধর্ষণ সম্পর্কে দু’চার কথা যা আমরা জানি অথবা জানিনা

@ ল্যামডা,

এটা গুলিয়ে দেওয়া নয়। এটা তো সকলেরই মাথাব্যথা। যারা এই বিষয় নিয়ে ভাবছেন, এই গুলিয়ে দিয়ে তাদের কারুর কিচ্ছু লাভ হচ্ছে না। তারা কেউ আত্মরক্ষার কৌশল সেখার বিরুদ্ধে কথা বলছেন বলে তো দেখলাম না। কিন্তু এটা একটা চিন্তার বিষয় অন্ততঃ আমাদের রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে। কারণ রাষ্ট্র (মানে ধরুন পুলিশ) যে এই করে কিছুটা দায়িত্ব এড়িয়ে জেতে চাইছে / চাইবে না সেটা কে বলতে পারে ! আজ যারা মেয়েদের আত্মরক্ষা শিখতে বলছে, কাল তারাই পুরুষদের বলবে আত্মরক্ষার কৌশল শিখে মেয়েদের রক্ষা করতে। সেটাকেও অন্যায় বলা যাবে না। তাই আত্মরক্ষার কৌশল যা খুশি শিখুন বা সেখান কিন্তু সেটাই যে সমাধান নয় বা সেটুকুই যে সরকারের কাজ নয় এই ধারনাটা পরিস্কার থাকলেই ভালো।
Avatar: /\

Re: নারী-ধর্ষণ সম্পর্কে দু’চার কথা যা আমরা জানি অথবা জানিনা

AP, অনেস্টলি কয়েকটা কটা লিখি। এখানে দুটো এক্সটেন্শান দেখছি, যে দুটোতেই লজিকাল ফ্যালাসি চোখে পড়ছে।

১। মেয়েদের আত্মরক্ষার পরামর্শ দেওয়া --> রাষ্ট্র তার দায় এড়িয়ে যাবে।

প্রথমত, আজকের ভারতবর্ষে সত্যিই কি পুলিশ আদৌ কোন দায়িত্ব পালন করে? একে তো বহু অপরাধের সঠিক তদন্ত হয়না, তার ওপর যৌন হেনস্থা সংক্রান্ত অপরাধের কিনারায় প্রায় পুরো পুলিশ-বিচারব্যাবস্থা গা করেনা। এই অবস্থার পরিবর্তন অবশ্যই হতে হবে, তার জন্য আন্দোলনও হতেই হবে, কিন্তু মেয়েদের আত্মরক্ষার পরামর্শ দিলে পুলিশ তার দায় এড়িয়ে যাবে এটা কিকরে ভাবছেন? পুলিশের কর্তা বা সরকারী কাউকে কি বলতে শুনেছেন যে আমরা তো আত্মরক্ষা শিক্ষা দিচ্ছি, কাজেই আমাদের আর কোন মাথাব্যথা নেই। এরকম কোন স্টেটমেন্ট আমার চোখে পড়েনি, পড়লে তার প্রতিবাদ অবশ্যই করবো। সরকারি স্তরে এরকম মনোভাব আছে কি? আমার সেরকম মনে হয়নি, তবে এরকম মনোভাব হলেও প্রতিবাদ অবশ্যই করবো। অন্যদিকে যৌন হ্যানস্থা যেভাবে বাড়ছে তাতে কিন্তু মনে হয় আত্মরক্ষার পরামর্শ, সেটা সরকারই দিক বা মেয়েরা নিজেরাই এটা নিয়ে চিন্তা করুক, কাম্য। ঠিকমতো ট্রেনিং নেওয়া থাকলে কখনো কখনো নিজেকে বাঁচাতে সক্ষম হতেও পারে। যে মেয়েটি নিজেকে বাঁচাতে পারলো তার তো লাভ হলো! (এর মানে এও না, যে শেখেনি সে কোন ঘটনার সম্মুখীন হল, তখন তাকে বলা হবে তুমি কেন কিছু শেখোনি? সব দায় তোমার। এরকম ভিক্টিম ব্লেমিংও আমার চোখে পড়েনি)। তাই এই এক্সটেনশানটা কেন করছেন সত্যি বুঝছি না।

২। মেয়েরা আত্মরক্ষা শিখলে --> ছেলেরাও সেসব শিখবে আর সেসব অস্ত্র ব্যবহার করবে, তাহলে কি হবে?

এটা কিন্তু একেবারে স্লিপারি স্লোপ ফ্যালাসি। মেয়েরা শিখলেই ছেলেরাও শিখবে এটা লজিকালি আসে না কারন দুটো আলাদা সেট। মেয়েরা শিখবে আত্মরক্ষার তাগিদে। সব ছেলের আত্মরক্ষার দরকার হয়না, অন্তত যৌন হেনস্থার বিরুদ্ধে, তাই তাদের শেখার তাগিদটাই নেই। এবার আসি যে ছেলেরা যৌন হেনস্থা করতে পারে তাদের কথায়। আগেই বলেছিলাম, এদের মধ্যেও একটা বড়ো অংশ স্রেফ সুযোগন্ধানী, পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে হেনস্থা করেনা (কিছু এক্সেপশান বাদে)। ট্রামেবাসে যারা হাত চালায় বা অন্ধ্কার গলিতে একটি মেয়েকে একা পেয়ে যারা এগিয়ে আসে তার বেশীরভাগ স্রেফ সুযোগন্ধানী। আপনার কি মনে হয় তারা ধৈর্য্য ধরে রেপ করতে হবে এই তাগিদ থেকে ক্যারাটে শিখবে? খুব কম ছেলেই ওরকম করবে।

"আজ যারা মেয়েদের আত্মরক্ষা শিখতে বলছে, কাল তারাই পুরুষদের বলবে আত্মরক্ষার কৌশল শিখে মেয়েদের রক্ষা করতে"

এটাও কষ্টকল্পিত মনে হচ্ছে। আজ যারা মেয়েদের আত্মরক্ষা শিখতে বলছে (যেমন দুয়েকটা রাজ্যের পুলিশ) তারা তো মেয়েদের নিয়েই প্রোগ্রাম অর্গানাইজ করছে। তার মধ্যে পুরুষদের কেন টেনে আনবে?
Avatar: AP

Re: নারী-ধর্ষণ সম্পর্কে দু’চার কথা যা আমরা জানি অথবা জানিনা

@ ল্যামডা,

এক নম্বর পয়েন্ট নিয়ে খুব কিছু বলার নেই। সরকার বা পুলিশের উদ্যোগটা যতক্ষণ স্রেফ সচেতনতা / আত্মরক্ষার ক্ষমতা / আত্মবিশ্বাস বাড়াবার জন্য ততক্ষণ কিছু সমস্যা নেই। আর কিছুটা সফল হবে, সেটাও ঠিক।

কিন্তু মেয়েদের বিরক্ত বা রেপ যারা করছে তারা কেউ রেপিস্ট হয়ে জন্মায় নি, ছোটবেলায় রেপিস্ট হবে বলে খাতায় রচনা লেখেনি, অনেকেই সাধারণ ঘরের ছেলে। বড় হয়ে রেপ করবে বলে নয় এমনিই তো তারাও সেই কৌশল শিখতে পারে। আত্মরক্ষার দরকার যে তার কোনোদিন হবে না তা তো নয় ! ঠিক যে ভাবে পাশের বাড়ির মেয়েটি আত্মরক্ষার কৌশল শিখছে, সেই ভাবেই সেই ছেলেটিও শিখতে পারে, সাথে রাখতে পারে পেপার স্প্রে। অর্থাত এই ক্যারাটে শেখা ইত্যাদি কালচারে পরিণত হলে সেটা আর আলাদা করে 'মেয়েদের' শক্তি বাড়াবে না। (আমাদের ছোটবেলায় ছেলেদের যেমন নাচ এমনকি গান শেখার চলও খুব বেশি ছিল না, কিন্তু এখন যে কারণেই হোক এই বিষয়ে ছেলে মেয়েতে বিশেষ তফাত নেই, নাচ-গানের স্কুলে ছোট শিশুরা ছেলে-মেয়ে প্রায় সমান সংখ্যায় যাচ্ছে)।

আজ যারা মেয়েদের নিয়ে অর্গানাইজ করছে কয়েক বছর পর যদি দেখা যায় সেই প্রোগ্রাম যথষ্ট সফল নয় তখন সেটা ছেলেদের জন্যও প্রসারিত করবে না তাও বলা যায় না আর করলে সেটাতে আপত্তিরও কিছু দেখা উচিত নয়।
Avatar: /\

Re: নারী-ধর্ষণ সম্পর্কে দু’চার কথা যা আমরা জানি অথবা জানিনা

কিন্তু এটাকে আলাদা করে 'মেয়েদের' শক্তি হিসেবে কেন দেখছেন? আত্মরক্ষার কৌশল শেখার অ্যাডভান্টেজ বা শক্তি তো একটাই, বিপদের সময়ে নিজেকে রক্ষা করতে পারা। এটা হতেই পারে যে যে ছেলেটি রেপ করতে উদ্যত হয়েছে সে ক্যারাটে জানে। কিন্তু সেটা তো সে নিজের তাগিদেই আলাদা ভাবে শিখেছে, যেটা আপনিও বললেন। মেয়েরা ক্যারাটে শিখছে, তাই আমিও ক্যারাটে শিখি, তাহলে আমি হেনস্থা করতে পারবো, এরকম মনোভাব সত্যিই হবে বলে আপনার মনে হয়?

"আজ যারা মেয়েদের নিয়ে অর্গানাইজ করছে কয়েক বছর পর যদি দেখা যায় সেই প্রোগ্রাম যথষ্ট সফল নয় তখন সেটা ছেলেদের জন্যও প্রসারিত করবে না তাও বলা যায় না"

সফল না হওয়ার মানে যথেষ্ট সংখ্যক মেয়ে সেই প্রোগ্রামে জয়েন করেনি, অর্থাৎ মেয়েদের আত্মরক্ষার জন্য ক্যারাটে-পেপার স্প্রের পরামর্শ যারা দিয়েছিল তারা ব্যর্থ হয়েছে। তাহলে তো চুকেই গেল, তখন তো আর এতোসব তর্কই উঠবে না। আগে যে কজন ছেলে ক্যারাটে শিখত তখনও সে কজনই শিখবে।
Avatar: pi

Re: নারী-ধর্ষণ সম্পর্কে দু’চার কথা যা আমরা জানি অথবা জানিনা

লিখতে অসুইধে হচ্চে, একটা জিনিস পড়েছিলাম, দিএ জই খালি। তৃতীয় প্যারাতা ভাল করে পড়বেন।

Rahul Agarwal, chief karate instructor at the Seido Karate Institute, said that apart from the occasional spike in interest after incidents such as the Nirbhaya case, the rate of enrollment has remained flat during the 12 years he has taught self-defence.
Agarwal is not the only instructor to see interest fluctuate with headlines.

“The spike happened at the level of enquiries because there was just so much talk in the media. That generated paranoia of sorts. But the actual conversion rate was extremely low,” said Anuj Sharma, chief combat training instructor at the Safdurjung center of Invictus, a self-defence and fitness institute. Its Delhi centre sees up to 40 new enrollments per month. At 10 new members every month, membership at their Gurgaon centre southwest of Delhi is far less.

What’s more, male students significantly outnumber women at such institutes. Ishita Matharu, an instructor at Krav Maga India, puts the ratio at “never above three women” per every 10 men. Abha, a self-defence trainer based in Noida, a large suburb southeast of Delhi, said several men turned up at the centre to get trained in martial arts. They said that the high rate of crime puts the onus of protecting “mothers, sisters and female colleagues” on them.
Avatar: /\

Re: নারী-ধর্ষণ সম্পর্কে দু’চার কথা যা আমরা জানি অথবা জানিনা

মেয়েদের এনরোলমেন্ট কম হলে এতো সব তর্ক করার দরকারই তো আর থাকছে না। আত্মরক্ষার কৌশল শেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু অনেক মেয়েই সেটা গ্রহন করেননি কোননাকোন কারনে। চুকে গেল।

তবে আমি নিজে যেটা দেখছি সেটা হল দুয়েকটা স্কুল কলেজে আগের থেকে মেয়েদের এনরোলমেন্ট একটু বেড়েছে। আত্মীয়দের মধ্যেও দুয়েকজন ক্যারাটে শেখা বা শেখানোর ব্যাপারে উৎসাহ দেখান। তবে এগুলো সবই আমার পার্সোনাল অ্যানেকডোট, আমি ভুল হতেও পারি।

তৃতীয় প্যারার লাস্ট লাইনটা গা গুলানো। দিল্লিতে প্যাট্রিয়ার্কাল ব্যাপারটা একটু বেশী মনে হয়েছে, অন্য শহরে হয়তো এরকম মনোভাব নিয়ে সবাই জয়েন নাও করতে পারেন।

ওপরের ব্লগে Asees Chaddha নামের একটি মেয়েকে নিয়ে আলোচনা হয়েছে দেখলাম। পড়তে ভাল্লাগলো।
Avatar: Ekak

Re: নারী-ধর্ষণ সম্পর্কে দু’চার কথা যা আমরা জানি অথবা জানিনা

এই তর্ক টায় ঢুকবনা । প্রচন্ড গোল -গোল । একটাই জিনিস মজার , এই যে দুপক্ষই একমত হয়েছেন যে মেয়েদের কমব্যাট -এবিলিটি ছেলেদের চে কম , এটা কিভাবে হলেন ? মানে সমান ঘনফল এর একজোড়া ছেলে ও মেয়ের মধ্যে বাকি সব প্যারামিটার স্টাটিক থাকলে ছেলেটির মাসল বেশি হয় । কিন্তু তা দিয়ে এটা আদৌ প্রমান হয়না যে মেয়েদের ক্যালানোর ক্ষমতা কিছু কম । আমি মেয়েদের সঙ্গে মারপিট করেছি , চুল টানা -বেবিয়ানা নয় ,সিরিয়াস মারপিট ,ভুটান-এ কিক বক্সিং ক্লাসে । কিচ্ছু কম নেই বরং একই ট্রেনিং এর মধ্যে দিয়ে আসা ছেলে ও মেয়ের মধ্যে মেয়েরা বেশি ক্ষিপ্র উল্টোদিকে ছেলেদের ব্লান্ট হিটিং পাওয়ার বেশি । এটা একটা বিশাল বড় জগতজোড়া পলিটিক্স যে মেয়েদের বিশ্বাস করানো যে তাদের মারপিট করার ক্ষমতা "আলটিমেটলি " কম । এরকম আলটিমেট কিছু হয়না । সেটা তে দেখছি দুপক্ষই দিব্য সাবস্ক্রাইব করে বসে আছেন :|
Avatar: ঈশান

Re: নারী-ধর্ষণ সম্পর্কে দু’চার কথা যা আমরা জানি অথবা জানিনা

এই জগৎজোড়া পলিটিক্সের বিরুদ্ধে লড়ার উপায় তো বাতলালাম। শুধু একটা কিকবক্সিং ক্লাসের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা দিয়ে তো হবেনা, অলিম্পিক্স এশিয়ান গেমস, জাতীয়, রাজ্য, এবং স্থানীয় ইভেন্টে, অন্তত কুস্তি ও বক্সিং এ মেয়েদের ও ছেলেদের আলাদা ক্যাটেগরি রাখার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলুন। লেডিজ কম্পার্টমেন্ট তুলে দেবার দাবী রাখুন। আরও ভালো হয় বিশ্ব হেভিওয়েট/লাইটওয়েট পেশাদার বক্সিং এ ছেলেদের ও মেয়েদের একসঙ্গে লড়িয়ে দিয়ে একটা ইভেন্ট করলে। গড়পড়তা মেয়েরা কমব্যাট এবিলিটিতে কিচ্ছু পিছিয়ে নেই, তার একটা একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করা দরকার তো। নইলে আর পাল্টা পলিটিক্স কিসের
Avatar: ঈশান

Re: নারী-ধর্ষণ সম্পর্কে দু’চার কথা যা আমরা জানি অথবা জানিনা

আর আলাদা করে গা গুলোনোর কি আছে জানিনা। পুরো ট্রেন্ডটা দেখলে আমার এমনিতেই গা গুলোয়। কেউ কেউ ভাবছেন, বা ভাবতে পারেন, যে তাঁরা তাঁদের প্রিয়জনদের আত্মরক্ষার কলাকৌশল শিখতে বলছেন বলে আমি তাঁদের দোষী ঠাউরাচ্ছি। বা পিতৃতান্ত্রিক বলছি। একেবারেই তা নয়। ব্যক্তিগত পর্যায়ে, বা মাইক্রো লেভেলে এগুলো একেবারেই দোষবহ কিছু না। সমস্যাটা হচ্ছে সামাজিকভাবে বিষয়টা যেভাবে প্রোজেক্টেড হচ্ছে। ওই ট্রেনার সেটাকে খুব সুন্দর ভাবে সামারাইজ করেছেন। "Ishita Matharu, an instructor at Krav Maga India, puts the ratio at “never above three women” per every 10 men. Abha, a self-defence trainer based in Noida, a large suburb southeast of Delhi, said several men turned up at the centre to get trained in martial arts. They said that the high rate of crime puts the onus of protecting “mothers, sisters and female colleagues” on them."

সামাজিকভাবে মেয়েদের আত্মরক্ষাটা দুধুভাতু ব্যাপার, দশদিনের ট্রেনিং ক্যাম্পেই সমাপ্ত। পরের ধাপে আসে আসল জিনিস। "কমিউনিটি দ্বারা মেয়েদের রক্ষা"। পুলিশ সেই কর্মের সাহায্যকারী মাত্র। এই তো পুরো যুক্তিপরম্পরা। এতে মেয়েদের "স্বাধীন" হয়ে ওঠার কোনো গপ্পোই নেই।
Avatar: /\

Re: নারী-ধর্ষণ সম্পর্কে দু’চার কথা যা আমরা জানি অথবা জানিনা

এই যাঃ! আমি কিন্তু একেবারেই সাবস্ক্রাইব করিনি যে মেয়েদের কমব্যাট-এবিলিটি ছেলেদের থেকে কম! এটায় সাবস্ক্রাইব করলে তো ক্যারাটে শেখার পরামর্শই দিতাম না! ক্যারাটে বা কোন মার্শাল আর্টে প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া হয় যে কিছু কৌশল জানা থাকলে তুমি তোমার থেকে ওজনে ভারী বিপক্ষকেও ওভারকাম করতে পারো।

এছাড়াও এখানে যেমন কেউ কেউ বলেছেন, কোন একটা ফিজিকাল ট্রেনিং এ অন্তর্ভুক্ত হলে প্রাথমিক জড়তাটা কাটে। কোন একটা ঘটনা ঘটলে রিয়াক্ট করতে পারে। এটা একটা বিরাট বড়ো শিক্ষা। আমাদের দেশে, হয়তো পৃথিবীর অনেক দেশেই জন্মের পর থেকে মেয়েদের মগজে একটাই জিনিষ ঢোকানো হতে থাকে - তুমি মেয়ে, তুমি ছেলেদের থেকে সব বিষয়ে পিছিয়ে, অন্যায় হলেও তুমি মুখ বুজে সহ্য করবে, কারুর গায়ে হাত তুলবে না, পিছিয়ে আসবে। এই জড়তাটা কাটাতেও ক্যারাটে বা অন্য কোন ফিজিকাল ট্রেনিংএর ক্লাস সাহায্য করে।

"এটা একটা বিশাল বড় জগতজোড়া পলিটিক্স যে মেয়েদের বিশ্বাস করানো যে তাদের মারপিট করার ক্ষমতা "আলটিমেটলি " কম । "

পুরো একমত। এই সোশ্যাল মাইন্ডসেটটা কাটানোর দরকার।

আগে একবার লিখেছি যে গড়পড়তা একটি মেয়ে গড়পড়তা একটি ছেলের থেকে কম শক্তি ধরে। এটা মোটামুটি আমার ধারনা, সেজন্যই লিখেছি, কোন স্টাডিতে যদি দেখানো হয়ে থাকে এরকম না, তাহলে অবশ্যই ভুল স্বীকার করে নেব। তবে শারীরিক শক্তি কম বা বেশী হলেও সেটা ম্যাটার করেনা, কারন মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বিপক্ষের আক্রমন প্রতিহত করা। এমনকি যেকোন ভালো ক্যারাটে কোর্সে মেয়েদের এটাও শেখানো হয় যে যদি তুমি একেবারে একা নির্জন যায়্গায় বিপদে পড়েছো, আর কোনভাবে হয়তো তোমার অ্যাটাকারকে প্রাথমিকভাবে রুখে দিয়েছো, তো সেখানে দাঁড়িয়ে থেকোনা, দৌড়ে পালাও। আত্মরক্ষার মূল উদ্দেশ্য নিজেকে বাঁচানো, আক্রমন করা না।


Avatar: Ekak

Re: নারী-ধর্ষণ সম্পর্কে দু’চার কথা যা আমরা জানি অথবা জানিনা

প্রবলেম টা মাথায় । এসব জুডো -কারাটে ইত্যাদি শিখে আদৌ কেও চ্যাম্পিয়ন হবে এটা বিশ্বাস করিনা । বরং হটকারিতা বাড়বে । ঈশেন যেটা বলল । কিন্তু ঠিক যে কারণে ঈশ্য়েন ভয় পাহ্চ্ছেন আমি সেইকারণেই সামান্য আশার আলো দেখছি , যে হটকারিতার বশ এও যদি এদিক ওদিক মেয়েরা ছেলদের ক্যালাতে শুরু করে এবং একটা হাওয়া উঠে যায় যে রাস্তায় আওয়াজ দিলে চড়-চাপাটি খেতে হচ্ছে তাহলে সেটা ওই মাথার ভেতর পোষা ভুত টাকে তাড়াতে সাহায্য করবে । নাথিং এলস । নাথিং মোর । জাস্ট জলের ধারে নিয়ে গিয়ে চিনিয়ে দেওয়া যে দ্যাখ তোর্ ও নখ দাঁত আছে । এরপর সে নেকড়ে হবে না উদবেড়াল তার ব্যাপার ।

এখন হতেই পারে মারতে গিয়ে উল্টে ব্যাপক মারধর খেয়ে মেয়েরা প্রথম দফায় আরও চুপসে গ্যালো । কিন্তু সবাই চুপ্সবে না । কেও ঠিক আবার পাল্টা ক্যালাবে । আস্তে আস্তে সেক্সুয়াল ক্রাইম থেকে সরে এসে জেনেরাল ক্রাইম এ কনভার্ট করবে মোর এন্ড মোর কেস , ডিটেকটিবিলিটি বাড়বে । ছেলেরাও যদি শেখে ? আর্মস রাখে ? উল্টে মেয়েরাও রাখে ? রাখুক না ! বাগ গুলো এটলিস্ট ভিসিবল রেঞ্জ এ আসছে তো । সারাবছর প্রতিদিন বাস-ট্রেনে শরীরে অনভিপ্রেত খোঁচা খাওয়া ভালো নাকি যদি দেখেন পাঁচ রাস্তার মোড়ে ছেলে-মেয়ে ওপেন আর্মস ফাইট হচ্ছে সেটা ভালো ? অবস্যই দ্বিতীয় টা । কারণ প্রথম টা ভিসিবল ই না বাকিদের কাছে , আরো হাজার বছর চললেও ও বাগ ডিটেক্ট হবেনা ,ভেতরে ভেতরে যন্ত্রণা দেবে । দ্বিতীয় ক্ষেত্রে ভিসিবল রেঞ্জ এ আসবে , কন্ট্রোল মেকানিসম চাপাতে পারবেন । সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে থাকবে । যা হবে এক্সট্রিম কেস হবে । এনিওয়ে ,এটা আমার দৃষ্টিভঙ্গী । ব্যক্তিগত সুরক্ষার প্রশ্নে রাষ্ট্র এনেব্লার হবে না প্রভাইডার এটা একেবারেই সাদা-কালো চয়েস নয় ,কাজেই কোনো দিক নেওয়া সম্ভব না । দুটোই থাকুক ।
Avatar: ঈশান

Re: নারী-ধর্ষণ সম্পর্কে দু’চার কথা যা আমরা জানি অথবা জানিনা

এই ছেলে ও মেয়েদের ফাইটিং, লড়িয়ে দেওয়া, এ তো এই মাতৃভূমি লোকালের কেসে খানিকটা দেখা গেলই। এতে করে নিত্যযাত্রী মেয়েদের কনফিডেন্স বেড়েছে, নাকি কুঁকড়ে যাবার কারণে আরও বেশি পুলিশ প্রোটেকশন দরকার হয়েছে, এবং সেগ্রিগেশন বেড়েছে?

এর পরের স্তরে জুদো ক্যারাটে এবং তার পরের স্তরে আর্মস নিয়ে সম্ভাব্য ফাইটের কথা ভাবতে শিহরিত হচ্ছি। যুগসঞ্চিত বঞ্চনাকে যদি কেউ ক্যারাটে লড়ে মিটিয়ে ফেলার খোয়াব দেখেন তো তাঁর ভালো লাগতেই পারে, আমার লাগছেনা।
Avatar: /\

Re: নারী-ধর্ষণ সম্পর্কে দু’চার কথা যা আমরা জানি অথবা জানিনা

"এসব জুডো -কারাটে ইত্যাদি শিখে আদৌ কেও চ্যাম্পিয়ন হবে এটা বিশ্বাস করিনা "

বিশ্বাস না করে ঠিক করেন। বেশীরভাগ মেয়েই জুডো ক্যারাটে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য শেখেননা। Asees Chaddha যেমন বলেছেন, আত্মরক্ষার তাগিদে শেখেন।

"একটা হাওয়া উঠে যায় যে রাস্তায় আওয়াজ দিলে চড়-চাপাটি খেতে হচ্ছে তাহলে সেটা ওই মাথার ভেতর পোষা ভুত টাকে তাড়াতে সাহায্য করবে । নাথিং এলস । নাথিং মোর ।"

ওয়েল সেড!

"এখন হতেই পারে মারতে গিয়ে উল্টে ব্যাপক মারধর খেয়ে মেয়েরা প্রথম দফায় আরও চুপসে গ্যালো । কিন্তু সবাই চুপ্সবে না । কেও ঠিক আবার পাল্টা ক্যালাবে ।"

ভেরি ওয়েল সেড!
Avatar: /\

Re: নারী-ধর্ষণ সম্পর্কে দু’চার কথা যা আমরা জানি অথবা জানিনা

সব ছেলে আর সব মেয়েকে পরষ্পরের বিরুদ্ধে লড়িয়ে দেওয়ার কথা অবশ্যই বলা হচ্ছে না। যে ছেলেরা সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট করতে উদ্যত হবে তাদের বিরুদ্ধে তাদের ভিক্টিমরা আত্মরক্ষা করবেন। "লড়িয়ে দেওয়া" জাতীয় কথা না বললেও চলে বোধায়।
Avatar: ঈশান

Re: নারী-ধর্ষণ সম্পর্কে দু’চার কথা যা আমরা জানি অথবা জানিনা

একক কথিত "হঠকারিতা"র ওইটাই মানে হয়। :-)
Avatar: /\

Re: নারী-ধর্ষণ সম্পর্কে দু’চার কথা যা আমরা জানি অথবা জানিনা

মেয়েরা রুখে দাঁড়াতে শিখলে বা সরকারি-বেসরকারি স্তরে তাদের সেই পরামর্শ দিলে সেটা হঠকারিতা? আচ্ছা ঃ-)
Avatar: Ekak

Re: নারী-ধর্ষণ সম্পর্কে দু’চার কথা যা আমরা জানি অথবা জানিনা

ঈশান আবার গুলিয়েছেন । আমি বলেছি মেয়েদের কমব্যাট এবিলিটি কম নয় । তারমানে এই নয় যে মেয়েরা কমব্যাট করতে পারেন । যারা নিজেরা বিশ্বাস করেনা যে পারে তারা কিভাবে পারবে । আগে তো নিজেকে বিশ্বাস করতে হবে । বিশ্বাস টা আনার জন্যে একটা গোলমাল -হটকারিতা ইত্যাদির দরকার আছে । ওসব দাবি-ফাবি তলার দরকার আছে বলে মনে করিনা । বিশ্বাস এলে দাবি যারা খেলোয়ার তারাই তুলবে ।

আর এই বারংবার "মাদার ,সিস্টার " কোট গুলো এনে একচুয়ালি কিছু জিনিস প্রমান হয় অবস্যই আবার কিছু জিনিস হয়না । দুটো সম্বন্ধেই ওয়াকিব হাল থাকা দরকার । সম্প্রতি কর্নাটকে এরকম পোস্টার এ ছেয়ে গ্যাছে সরকারের তরফ থেকে যার মূল কথা মেয়েরা সন্তান ধারণ করে -মায়ের জাত তাই শিক্ষা দাও । দেখলে আমার ঝাঁট জ্বলে যায় সিম্পলি । কিন্তু বিরোধিতা করবনা । কারণ আমি যেভাবে -যেকারণ -এ যা করি বা করিনা , পৃথিবীশুধ্দু লোক ওই একই কারণ-এ তা করবে বা করবে না তা নয় । এরকম ও লোক আছে যে মেয়েরা সন্তান ধারণ করে মাথায় রেখেই নিজের মেয়েকে লেখাপড়া শেখাবে । কাজেই তাকে গিয়ে মেয়েরা যে মায়ের বাইরেও একটা অস্তিত্ব এই জ্ঞানের বাণী শোনাবার দরকার নেই ।সে সেই লেভেল নেই । সেম ফর অল দিস ক্যাম্পেইনস । গোবলয় একটা অন্য মানসিকতায় চলে । যেখানে বীরভোগ্যা বসুন্ধরা , মেয়েরা আইদার সোনি কুরি আর নইলে মা-বহেন । ওখানে আগে দরকার ওদের ওই মানসিকতাকেই এনক্যাশ করে মেয়েদের সুরক্ষিত করা । তারপর পরের ধাপ এ মানসিকতা নিয়ে তর্ক আপনা থেকেই উঠবে ।


এরকম এক ধাক্কায় সব রোগ সারে নাকি ? হাঁপানি সরাতে গিয়ে পেট ব্যাতাহ এত হবেই । আগে হাঁপানি টা সারুক । রুগী কে স্টেবল করা লক্ষ্য পার্মানেন্টলি নিরোগ করার চেষ্টা একটা গড কমপ্লেক্স ।

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8] [9] [10]   এই পাতায় আছে 141 -- 160


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন