অবন্তিকা RSS feed

দিবারাত্রির চব্য

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • জীবন যেরকম
    কিছুদিন আগে ফেসবুকে একটা পোষ্ট করেছিলাম “সাচ্‌ ইজ লাইফ” বলে। কেন করেছিলাম সেটা ঠিক ব্যখ্যা করে বলতে পারব না – আসলে গত দুই বছরে ব্যক্তিগত ভাবে যা কিছুর মধ্যে দিয়ে গেছি তাতে করে কখনও কখনও মনে হয়েছে যে হয়ত এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি মানুষ চট করে হয় না। আমি যেন ...
  • মদ্যপুরাণ
    আমাদের ভোঁদাদার সব ভাল, খালি পয়সা খরচ করতে হলে নাভিশ্বাস ওঠে। একেবারে ওয়ান-পাইস-ফাদার-মাদা...
  • বার্সিলোনা - পর্ব ৩
    ঊনবিংশ শতকের শেষে বা বিংশশতকের প্রথমে বার্সিলোনার যেসব স্থাপত্য তৈরী হয়েছে , যেমন বসতবাটি ক্যাথিড্রাল ইত্যাদি , যে সময়ের সেলিব্রিটি স্থপতি ছিলেন এন্টোনি গাউদি, সেগুলো মধ্যে একটা অপ্রচলিত ব্যাপার আছে। যেমন আমরা বিল্ডিং বলতে ভাবি কোনো জ্যামিতিক আকার। যেমন ...
  • মাসকাবারি বইপত্তর
    অত্যন্ত লজ্জার সাথে স্বীকার করি, আমি রিজিয়া রহমানের নামও জানতাম না। কখনও কোনও আলোচনাতেও শুনি নি। এঁর নাম প্রথম দেখলাম কুলদা রায়ের দেয়ালে, রিজিয়া রহমানের মৃত্যুর পরে অল্প কিছু কথা লিখেছেন। কুলদা'র সংক্ষিপ্ত মূল্যায়নটুকু পড়ে খুবই আগ্রহ জাগে, কুলদা তৎক্ষণাৎ ...
  • ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা... বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ পরিবর্তন হওয়ার দিন
    বিএনপি এখন অস্তিত্ব সংকটে আছে। কিন্তু কয়েক বছর আগেও পরিস্থিতি এমন ছিল না। ক্ষমতার তাপে মাথা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল দলটার। ফলাফল ২০০৪ সালের ২১ আগস্টে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেনেড মেরে হত্যার চেষ্টা। বিরোধীদলের নেত্রীকে হত্যার চেষ্টা করলেই ...
  • তোমার বাড়ি
    তোমার বাড়ি মেঘের কাছে, তোমার গ্রামে বরফ আজো?আজ, সীমান্তবর্তী শহর, শুধুই বেয়নেটে সাজো।সারাটা দিন বুটের টহল, সারাটা দিন বন্দী ঘরে।সমস্ত রাত দুয়ারগুলি অবিরত ভাঙলো ঝড়ে।জেনেছো আজ, কেউ আসেনি: তোমার জন্য পরিত্রাতা।তোমার নমাজ হয় না আদায়, তোমার চোখে পেলেট ...
  • বার্সিলোনা - পর্ব ২
    বার্সিলোনা আসলে স্পেনের শহর হয়েও স্পেনের না। উত্তর পুর্ব স্পেনের যেখানে বার্সিলোনা, সেই অঞ্চল কে বলা হয় ক্যাটালোনিয়া। স্বাধীনদেশ না হয়েও স্বশাসিত প্রদেশ। যেমন কানাডায় কিউবেক। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই মনে হয় এরকম একটা জায়গা থাকে, দেশি হয়েও দেশি না। ...
  • বার্সিলোনা - পর্ব ১
    ঠিক করেছিলাম আট-নয়দিন স্পেন বেড়াতে গেলে, বার্সিলোনাতেই থাকব। বেড়ানোর সময়টুকুর মধ্যে খুব দৌড় ঝাঁপ, এক দিনে একটা শহর দেখে বা একটা গন্তব্যের দেখার জায়গা ফর্দ মিলিয়ে শেষ করে আবার মাল পত্তর নিয়ে পরবর্তী গন্তব্যের দিকে ভোর রাতে রওনা হওয়া, আর এই করে ১০ দিনে ৮ ...
  • লাল ঝুঁটি কাকাতুয়া
    -'একটা ছিল লাল ঝুঁটি কাকাতুয়া।আর ছিল একটা নীল ঝুঁটি মামাতুয়া।'-'এরা কারা?' মেয়েটা সঙ্গে সঙ্গে চোখ বড়ো করে অদ্ভুত লোকটাকে জিজ্ঞেস করে।-'আসলে কাকাতুয়া আর মামাতুয়া এক জনই। ওর আসল নাম তুয়া। কাকা-ও তুয়া বলে ডাকে, মামা-ও ডাকে তুয়া।'শুনেই মেয়েটা ফিক করে হেসে ...
  • স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি
    স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি। আমি স্টার্ট-আপ কোম্পানিতে কাজ করছি ১৯৯৮ সাল থেকে। সিলিকন ভ্যালিতে। সময়ের একটা আন্দাজ দিতে বলি - গুগুল তখনও শুধু সিলিকন ভ্যালির আনাচে-কানাচে, ফেসবুকের নামগন্ধ নেই, ইয়াহুর বয়েস বছর চারেক, অ্যামাজনেরও বেশি দিন হয়নি। ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

গল্পের মতো

অবন্তিকা


http://s24.postimg.org/98ut0lo8l/keya.jpg

“The group's early productions were mainly adaptations of non-Indian plays… In the late 1970s, first Asit Bandopadhyay and then Ajitesh Bandopadhyay left the group. With Rudraprasad Sengupta as the main director, a new era started, and Nandikar turned from a pure performance-oriented theatre group to an organisation with a wide range of projects…” (Nandikar: Wikipedia)

পৃথিবীর কোনও ইতিহাস পক্ষপাতহীন নয় l হতে পারেনা l যে বা যারা সেই ইতিহাস লেখেন, তারা আপন মনের মাধুরী মিশিয়েই লেখেন, লিখে থাকেন l এই যেমন ৯-ই জুলাই ২০১৫-তে শেষ-পরিবর্ধিত উইকিপিডিয়ার এই পাতায় আমরা ইতিহাসের একটা জানলাকে খুললাম l অথচ অপরপ্রান্তে অন্য অন্য জানলা, অন্য অন্য আলো-অন্ধকার, অথবা ইতিহাসের ক্যানভাসে আলো-আঁধারির কিছু নিরবিচ্ছিন্ন মিশেল, আপামর দর্শক যাকে আগে কখনও এতটা নগ্ন দেখেনি; ‘নাটকের মতো’ আদতে সেই আবছায়ার গল্প l বা বলা যেতে পারে, আবছায়া ‘অবলম্বনে’ তৈরি গল্প l

দেবেশ গল্প বুনতে পারেন l অন্তত মঞ্চের দেবেশ সম্পর্কে তেমনটাই জানি l দেবেশ সেলুলয়েডেও সেটা পারলেন, কারণ খুব অবলীলায় প্রায় প্রতিটা পরতে নিজেকে রিলেট করাতে পারছিলাম l খেয়া তো আমার, আমাদের মতোই, একটা সাদামাটা মেয়ে l চেনা ছকের বাইরে চলতে চাওয়া একজন মেয়ে, যে ষাটের দশকেও সিঁদুর পরতো না, আর কেউ প্রশ্ন করলে নিজের অবস্থান স্পষ্টত ঘোষণা করার সাহস দেখাতো, যে লিউ শাওচি পড়েনি, কিন্তু জানতো, মালকোঁচা দিয়ে ধুতি পরা বাবু, বৃদ্ধ রিকশাওলার পয়সা মেরে দিলে তার গালে সপাটে এক থাপ্পড় কষাতে হয় l একটা মস্ত নদী, মেয়েটা সাঁতার জানে না, নিচে কোনও জাল পাতা নেই, তারপর হঠাৎই মেয়েটা জলে পড়ে যায়, হয়তো ঝাঁপ দেয়, নাকি ঠেলে ফেলে দেওয়া হয়... আবছায়া... সপ্তাহান্তেও যে মাল্টিপ্লেক্সে বাংলা ছবি এলে সাকুল্যে দর্শকসংখ্যা দেখা যায় গোটা পনেরো, আজ সেখানে জনা পঞ্চাশেকের ভিড় l কে জানে এরা সবাই নদীর গল্প, খেয়ার গল্প, জানতো কিনা ! যে অভিনেত্রীর জীবনের আবছায়া নিয়ে এই ছবি, তার নাম বাবা-মায়ের মুখে প্রথম যখন শুনি, তখন আমার বয়স বড়জোর সাত-আট l পরবর্তীকালে বহুবার ইন্টারনেটে খুঁজেছি l পাইনি l হাতে গোনা কিছু ফটোগ্রাফ, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসম্পূর্ণ তথ্য l এক একটা মানুষ এভাবেই দুম করে আছে থেকে নেই হয়ে যায় l মাঝখানে পড়ে থাকে আবছায়ারা l
“In the dark times
Will there also be singing
Yes there will also be singing
About the dark times”
(Brecht)

আজ, এই পরিসরে, ছবির দুর্বল জায়গাগুলো নিয়ে কথা বলবো না l নির্বাচন (কুশলী), নির্মাণ (সার্বিক) ও নির্ণয় (সব আত্মহত্যাই আসলে হত্যা) নিয়ে প্রশ্ন যেটুকু তোলা গেলেও যেতে পারতো, তুলবো না l কারণ এটা প্রতিক্রিয়া নয় l বরং ভিজুয়াল আর্টের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তাবৎ জীবনের কিউবিক-কোলাজগুলোকে পরপর বিন্যস্ত ও অবিন্যস্ত করার একটা প্রক্রিয়া, যেখানে আমরা স্ট্র্যাটেজি অফ ডিফ্যামিলিয়ারাইজেশানের কথা জানি,
তবুও, শেষমেষ ক্লাইম্যাটিক ক্যাথারসিস থেকে নিজেদের পুরোটা টেনে বার করে আনতে পারিনা l
সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে ভাস্কর চক্রবর্তীর গুটিকয় লাইন মনে পড়ে l “তোমাকে দুঃখিত করা আমার জীবনধর্ম নয়/ চলে যেতে হয় বলে চলে যাচ্ছি/ নাহলে তো/ আরেকটু থাকতাম”l সেই লড়াই থামিয়ে দিতে চাওয়া লড়াকু মেয়েটা, কবি বান্ধবীকে ফুল দেওয়া নরম মেয়েটা, চাকরি ছেড়ে নাটকে ডুবে যাওয়া জিদ্দি মেয়েটা দুম করে একদিন সকালে শুটিং-এ যাওয়ার আগে মাকে বলে চলে যায়- “বেশিকিছু তো চাইনি মা, কেবল ভালোবেসে একটু নিজের মতো করে বাঁচতে চেয়েছিলাম !”

যারা ভালোবেসে নিজের মতো করে বাঁচতে চায়, অথবা নিজের মতো করে বাঁচতে চেয়ে ভালোবাসে, তাদের জার্নিগুলো তো প্রায় এক ! প্রায়শ এক !


1367 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3]   এই পাতায় আছে 27 -- 46
Avatar: ranjan roy

Re: গল্পের মতো

সরি সে।
তিন পয়সার পালা যখন হয় তখন আমি ভিলাইয়ে শয্যাশায়ী। দুটো ফুসফুসই যক্ষ্মায় আক্রান্ত। তাই দেখা হল না। কিন্তু মন দিয়ে ওঁদের বিজ্ঞাপন আর রিভিউগুলো দেখতাম।
যাঁরা দেখেছেন তাঁদের মুখে শুনেছি ম্যাক দ্য নাইফের রোলে অজিতেশের দুর্দান্ত অভিনয়।
দুটো বিজ্ঞাপন (একটা বোধহয় গান-সবই অজিতেশের করা) এখনও মনে আছে।
"-- ইচ্ছে হলে হাঙরেরও দাঁত দেখতে পাবেন।
কিন্তু যখন মহীনবাবু ছুরিটা চমকাবেন,
দেখতে পাবেন না।"

এবং,

" মোহিনীমোহন দেব আর মোহিনীবালা দেবী,
পুরুত বসে মন্ত্র পড়ায় অং বং চং কং,
আমরা বলি হল কিসে,
যদুর মামা মধুর পিসে?
শুনে তারা বল্লে হেসে বিবাহং বিবাহং।"

Avatar: সে

Re: গল্পের মতো

রঞ্জনদা,
মোহিনীমোহন দেব গানটা খুব মজার, ওটা শুনেওছি।
আচ্ছা, "গর্ত বড়ো ভাল" গানটা কোন নাটকের? কিছুতেই মনে পড়ে না।
Avatar: ranjan roy

Re: গল্পের মতো

উঁহু, এটা হয়তো কল্লোল বা রূপংকরদা অথবা নাটকের গান নিয়ে প্রোজেক্ট করেন যে গুরুভাই, "মহাভারতের কথা" চটি লিখেছিলেন , বলতে পারবেন।
Avatar: abantika

Re: গল্পের মতো

'কেয়ার বই'-এর কিন্তু পুনঃপ্রকাশ হবে বলে জানি.

দেবেশ বাবু প্রাথমিক ভাবে সংসৃতি থেকে একটা পত্রিকা করেন কেয়ার ওপর. পরে সেটার লেখা আর 'কেয়ার বই' এর কিছু লেখা মিলিয়ে দীপ প্রকাশন থেকে একটা বই বেরোয়. এটার সম্পাদক দেবেশ বাবু.

আর সেতু প্রকাশনী থেকে 'আগুনের খেয়া' নামে একটা বই আছে.
Avatar: তাপস

Re: গল্পের মতো

ইয়ে, বলছিলাম কী, সিনেমাটা কি আর কেউ দেখলেন? পাই দেখেছে জানি, কিন্তু লিখছে না। :-(
Avatar: Som

Re: গল্পের মতো

পরছি আর যত পরছি গলার কাছ তা তে কেমন দলা পাকিয়ে কান্না উঠছে। কেন উত্ছে জানি না। কত কিছু মিস করেছি দেরী তে জন্ম নিয়ে।
Avatar: মনোজ ভট্টাচার্য

Re: গল্পের মতো

নাটকের মতো !

বহু প্রতীক্ষিত সিনেমাটা দেখা হল । সিনেমাটা না হলেও কারুর কোনও ক্ষতি হত না ! - অবশ্য দেবেশবাবু তো আগেই বলে রেখেছেন - এটা ঠিক নির্দিষ্ট কারুর জীবনী নয় - কোনও এক অভিনেত্রীর জীবনী হতে পারে ! - তাই কিছু বলে লাভ নেই ! - তবু স্বভাব !

কেয়ার চেহারা ছিল শার্প - দোহারা - অনেকটা পুরনো দিনের মঞ্জু দের মতো ! - তাই পাওলি দামকে বড় চোখে লাগে । আর নাক খ্যাদা তো নয়ই ! - নাটকের অভিনয় ছাড়া কখনই মেক-আপ করত না ! আর ভুরু প্লাগ করা-টরা কিছুই ছিলই না ! - আর নাইয়ের নিচে শাড়ি পড়া ! এসব কবে আরম্ভ হল !

কোথা থেকে এই চিত্রনাট্য করা হল কে জানে ! এখন তো সবাই শুনেছি - সব জানে । অথচ একটু হোম-ওয়ার্ক করে নিতে পারল না ! - সবটাই নেগেটিভ লিখতে ইচ্ছে করে না !

পাওলির অভিনয় ভালই । রজতাভর অভিনয় দারুণ ।

ও একটা কথা না লিখলেই নয় । কৃতজ্ঞতা স্বীকারে সবার নাম আছে । শুধুমাত্র রুদ্রপ্রসাদের নামই নেই । এর নিশ্চয়ই কোনও কারন আছে । - বইটা রিলীজ হওয়ার আগের দিন রুদ্রপ্রসাদ একটা বিবৃতি দিয়েছিল - কেয়া নাকি মারা যাবার আগেও ওর পরিচালনায় অভিনয় করেছিল !

তবে সিনেমাটা দেখা যেতে পারে । নিদেন পক্ষে বাংলা সিনেমা !

মনোজ


Avatar: পরিচয় পাত্র

Re: গল্পের মতো

একজন অনেক নাটক দেখার স্মৃতির কথা বলেছেন। খুব ভাল লাগল তাঁর মন্তব্য। একটি সূত্র ধরিয়ে দিয়ে যাই। 'তেত্রিশতম জন্মদিবস' আদতে হ্যারল্ড পিণ্টারের 'বার্থডে পার্টি' র বাংলা রূপান্তর, অজিতেশের অনুরোধে রূপান্তর করেন পবিত্র সরকার। অ্যাবসার্ডিস্ট নিশ্চয়, তবে কিনা পিণ্টারের নাটকের আলাদা মেজাজ আছে। বাকি অ্যাবসার্ড গ্রুপ থেকে আলাদা।
Avatar: সে

Re: গল্পের মতো

পরিচয়বাবু,

তেত্রিশতম জন্মদিবসের শো দুবার দেখেছি মাত্র। ভালো করে সবটা মনে নেই এখন, ১৯৮৩র ঘটনা। এই নাটকেও দুটি ইন্টারভ্যাল ছিলো। মূল চরিত্র সোমু-র ভূমিকার ছিলেন অভীক মুখোপাধ্যায়। গান সম্ভবতঃ ছিলো না এই নাটকে সেভাবে। কিন্তু তেত্রিশতম জন্মদিবসের ভোর থেকে পার্টির পরিবেশ একটু একটু করে তৈরী হতে লাগল। এরই মধ্যে সম্ভাব্য একটা কালো পিক্‌আপ ভ্যানের আসবার আশঙ্কাময় পরিবেশ। এই নাটকের প্রথম ও শেষ দৃশ্য হুবহু এক। অবিকল। পিক্‌আপ ভ্যান এসে সোমুকে নিয়ে চলে যায়, তাতে কোথাও হেল দোল হয় না, সমস্ত আগের মতই চলতে থাকে। সোমু মনে হয়েছে তারুণ্যের প্রতীক। এক একটা মুহূর্ত যেভাবে তৈরী হয়ে যাচ্ছিলো, যেমন গৃহকর্ত্রীর পুরোনো দামী শাড়ী পরে এসে নাচ, যে চুড়ান্ত অবাস্তবভাবে জমে ওঠে জন্মদিনের উৎসবসন্ধ্যা, ইত্যাদি, - এ কেবল ঐ নাটকেই সম্ভব। একবারও মনে হয় না বিদেশী নাটকের অনুবাদ, রূপান্তর।
আপনি একটু লিখুন না এ বিষয়ে। খুব ভালো লাগবে। অনুরোধ।

নাটকের গানের প্রসঙ্গে হঠাৎ মনে পড়ে যাচ্ছে পাপ পুণ্যের একটা গান। "আমি যাব গো তোমার সঙ্গে, যাব বন্ধু যাব।" এসব কি কোথাও সংরক্ষণ কর নেই? কোথাও রেকর্ড করা নেই? টেকনোলজি আজকের মতো উন্নত হওয়া দূরে থাক, কাছাকাছিও ছিলো না। তবু সমস্ত হারিয়ে গেল ভাবলেই মনে হয় এ এক বিরাট ক্ষতি।
Avatar: i

Re: গল্পের মতো

বছর দুই আগে 'রোববার ' এর কোনো এক ইস্যুতে আমি যাব গো তোমার সঙ্গে' গানটি এবং অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা আরও কিছু গানের উল্লেখ ছিল।
কথা এরকম কিছুটা-
'একদিন আমি যাব বন্ধু তোমার সঙ্গে যাব/কুলের মুখে নাথি দিয়ে/ আমি যাব গো তোমার সঙ্গে/যাব বন্ধু যাব..

এইটুকু লিখে নেট সার্চ করে এই সাইটটা দেখলামঃ
http://www.milansagar.com/kobi/ajitesh_bandyopadhyay/kobi-ajiteshbandy
opadhyay_kobita1.html


সে, আপনার এই অভিজ্ঞতা আরও লিখুন।
Avatar: সে

Re: গল্পের মতো

অনেক থ্যাংক্স ইন্দির ঠাকরুণ। এখন কথাগুলো দেখে সুর মনে পড়ে যাচ্ছে।
Avatar: মনোজ ভট্টাচার্য

Re: গল্পের মতো


নান্দীকারের প্রথম থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত প্রায় সমস্ত নাটকই আমি দেখেছি । আমি ওদের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত । তারপর আমার ব্যক্তিগত জীবনের সংগ্রামে একেবারে ভেসে গেলাম ! - কেয়াই আমাকে পাঠিয়েছিল শ্যামল ঘোষের কাছে - অভিনয় করার জন্যে ! সেটা আরেকটা গল্প !

- প্রথমদিকে নান্দীকার একাঙ্ক নাটক করত । ওদের প্রথম বার্ষিকী উদযাপন করলও বাগবাজার রিডিং লাইব্রেরীতে । - যতদূর মনে পড়ে - দুটো একাঙ্ক হয়েছিলো । প্রস্তাব ও ডেথ অব এ সেলসম্যান । - টাকা তোলার জন্যে - আমাদের একে ওকে তাকে ধরে টিকিট বিক্রি করা - তখন এসব সবাইকেই করতে হত । সবাইকে কাঁধে করে সেট বয়ে নিয়ে যেতে হত অজিতদার বাড়ি থেকে । তখন ফ্ল্যাট ছিল কর্নওয়ালিস স্ট্রিটের একটা গলিতে । - এখন যেখানে বাগবাজার মাল্টিপারপাস গার্লস স্কুল - নন্দ বোসের মাঠে প্রথম শো ছিল । - সেই সময় নান্দীকারে যারা অভিনয় করত - বেশিরভাগই স্কুলে বা সরকারি অফিশে কাজ করত । - আমি অবশ্য ছাত্র ছিলাম । অজিতদার স্ত্রী - নাম মনে পরছে না - আমাদের সবাকার কত ধকল সহ্য করেছেন ! - কেয়াকে উনি খুবই ভালবাসতেন ।

অজয় গাঙ্গুলি নামে এক উঠতি নায়ক ছিল দলে - অভিনয় সো সো - কিন্তু তার গ্ল্যামার টিকিট বিক্রির কাজে লাগত । তখন লোকে গ্রুপ থিয়েটারের নাটক জানতও না দেখতও না । - আরও অনেকে ছিল - যাদের কেউ কেউ নাট্য জগতে এখন বেশ নাম করেছে - ও সরকারের অনুগ্রহ পাচ্ছে !

কেয়ার সঙ্গে রুদ্রপ্রসাদের প্রথমে কিছুই ছিল না । একটা বিশেষ ঘটনার পর থেকেই দুজনে কাছাকাছি আসে ও নাটকের সুত্রেই প্রণয় ও অনেক পড়ে পরিণয় পর্যন্ত এগিয়ে যায় । আর সেই ঘটনা খুবই ব্যক্তিগত ও গোপনীয় !

পরে শ্যামবাজার স্ট্রিটের একটা বাড়ির একটা ঘরে নান্দীকার চলে আসে । তার সামনের বাড়িতে তিনতলায় রুদ্রপ্রসাদের দাদার সংসার ছিল ।

আর মানিকতলার রাজেন্দ্র লালা স্ট্রিটে - যেখানে কাজই নজরুল ইসলাম থাকতেন - তার উল্টোদিকের বাড়িতে কেয়াদের পৈতৃক বাড়ি । সেখানে অনেক অধ্যাপক ও নাট্য ব্যক্তিত্ব আসতেন ও নাটক নিয়ে আলোচনা হত । - চিত্তরঞ্জন ঘোষ ও আরও অনেকে । সেখানেই আমার সঙ্গে পরিচয় হয় অনেক ছাত্র ফেডারেশানের নেতাদের সঙ্গে ! - তখন সবাইই ছাত্র ফেডারেশান করত ।

কেয়া যখন স্কটিশ চার্চ কলেজে ঢুকেছিল - প্রথম বর্ষে একটা কবিতা লিখেছিল - নাম 'সে' ! তাই নিয়ে অনেকে খুব আওয়াজ দিত । - সেখান থেকেই অভিনয় করতে থাকে । - ওর প্রথম অভিনয় - গাজর নয় । বাগবাজারের মামার বাড়িতে মঞ্চ বেঁধে নাচ গান হত - তাতে সোনার কলম নাটকে অভিনয় করেছিল । সেটা খুবই লঘু অভিনয় বলা চলে !

আপাতত - এই পর্যন্তই । আবার পরে সময় করে লিখবো !

মনোজ

Avatar: de

Re: গল্পের মতো

সবার লেখা ভালো লাগছে - আরো লিখুন -

দেবশঙ্কর হালদারের রিভিউ -

http://www.anandabazar.com/supplementary/anandaplus/film-review-of-nat
oker-moto-a-biopic-of-actress-keya-chakraborty-1.199239#

Avatar: abantika

Re: গল্পের মতো

প্রথমত, ওটা হালদারের রিভিউ না. দেবশংকর হালদার এত জালি বাংলা লেখেন না. মুখোপাধ্যায় এমনি স্টাফ. আর, লেখাটা পুরো মাধ্যমিকের রচনা টাইপস হয়েছে.
Avatar: abantika

Re: গল্পের মতো

ও মনোজ দা, আমায় একটা টেস্ট মেইল করবেন প্লিজ? একটু কথা বলার ছিল. এটা আমার আইডি: [email protected]
Avatar: de

Re: গল্পের মতো

ওঃ - হালদার নয় মুখোপাধ্যায় -

দেবশঙ্কর দেখার পর বাকিটা ডিফল্টে এসে গেলো ঃ)
Avatar: মনোজ ভট্টাচার্য

Re: গল্পের মতো

দেবশঙ্কর মুখোপাধ্যায় । কি যে লিখতে চেয়েছে - কিছুই বোধগম্য হল না ! - অভিনয় তো সবার নিশ্চয়ই ভালো হয়েছে । এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই !

কিন্তু চরিত্রগুলো কি মিলেছে ! - অজিতেশ ব্যানারজির চেহারার ব্যক্তিত্ব কোথায় ! ব্রাত্যর একটা নিজস্ব স্টাইল বা ম্যানারিজম - যেটা অন্তত এখানে মানায় নি ! - শ্বাশতর অভিনয় অনেক ভালো ! তাই রুদ্রপ্রসাদের চরিত্রটা ওর কাছে জ্বলো লাগল । রূপা তো লাবণ্যকে দেখেন নি - তাই ওর নমনীয় চরিত্র মানায় নি । আর পাওলি কি করে কেয়া হবে ! - বরং খেয়াই ভালো ।

নাট্যকারের সন্ধানে ছটি চরিত্র - যারা দেখেছেন - তারাই বুঝতে পারবেন আসল চরিত্রের কোনও ক্লোনিং হয় না ! - সবচেয়ে বড় ভুল হয়েছে দেবেশবাবুর ! - জানিনা সত্যি কোনও হোম ওয়ার্ক করেছেন কি না ! যদি রুদ্রর কাছে গিয়ে পাঠ নিয়ে থাকেন - ভীষণ ভুল হয়েছে !

মনোজ
Avatar: ranjan roy

Re: গল্পের মতো

মনোজবাবু,
আরও চাই! কোলকাতায় ফিরে আসছি নভেম্বরের শেষে। তখন একদিন আপনার সঙ্গে আড্ডা দেব। না করলে শুনব না কিন্তু!
Avatar: মনোজ ভট্টাচার্য

Re: গল্পের মতো

রঞ্জনবাবু,

আমি গত সপ্তাহে চিন্তা করছিলাম - আপনার শরীর-স্বাস্থ্যের খবর নেব ! তা আপনিই বললেন ! - কলকাতায় এলেই আমার ফোন নম্বর দিয়ে দেবো - ফোন করবেন অনুগ্রহ করে ! আমার খুব ভালো লাগবে !

মনোজ
Avatar: aranya

Re: গল্পের মতো

খুব ভাল লাগছে এই টইটা - সকলের লেখা, স্মৃতিচারণ।
নাটক বড় ভালবাসতাম, এখনও বাসি। কিন্তু বড্ড ডিমান্ডিং আর্ট ফর্ম - বহু দিন ধরে রিহার্সাল, সময় করা মুশকিল।
অব্শ্য যারা সত্যি নাটকের লোক, তারা ঠিকই সময় বার করে নেন

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3]   এই পাতায় আছে 27 -- 46


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন