উদয়ন ঘোষচৌধুরি RSS feed

মোদ্দা ব্যাপার হল, বাঙালি সব জানে। সব মানে, সঅঅঅব। ব্রহ্মা যা জানে না, বাঙালি তা-ও জানে। মোদী থেকে মারাদোনা – লাইফে কে কি করতে পারল না, বাঙালি জাস্ট একটা বিড়ি খেতে খেতে বলে দেবে। উদয়ন বাঙালি, তাই সে-ও সব জানে। অন্তত সেরকমই মনে করে সে। সিনেমা নিয়ে, বইপত্র নিয়ে, বেড়ানোর গপ্পো নিয়ে, আর আরও হ্যানত্যান ইত্যাদি নিয়ে প্রচুর ভাঁটায়। সেইসব বুকনিবাতেলা এবার আপনার ক্লিকে। প্রকাশিত বই : উদোর পিণ্ডি, সৃষ্টিসুখ, ২০১৪; লিঙ্গ নেই মৃত্যু নেই, উবুদশ, ২০১২

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • লাল ঝুঁটি কাকাতুয়া
    -'একটা ছিল লাল ঝুঁটি কাকাতুয়া।আর ছিল একটা নীল ঝুঁটি মামাতুয়া।'-'এরা কারা?' মেয়েটা সঙ্গে সঙ্গে চোখ বড়ো করে অদ্ভুত লোকটাকে জিজ্ঞেস করে।-'আসলে কাকাতুয়া আর মামাতুয়া এক জনই। ওর আসল নাম তুয়া। কাকা-ও তুয়া বলে ডাকে, মামা-ও ডাকে তুয়া।'শুনেই মেয়েটা ফিক করে হেসে ...
  • স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি
    স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি। আমি স্টার্ট-আপ কোম্পানিতে কাজ করছি ১৯৯৮ সাল থেকে। সিলিকন ভ্যালিতে। সময়ের একটা আন্দাজ দিতে বলি - গুগুল তখনও শুধু সিলিকন ভ্যালির আনাচে-কানাচে, ফেসবুকের নামগন্ধ নেই, ইয়াহুর বয়েস বছর চারেক, অ্যামাজনেরও বেশি দিন হয়নি। ...
  • মৃণাল সেন : এক উপেক্ষিত চলচ্চিত্রকার
    [আজ বের্টোল্ট ব্রেশট-এর মৃত্যুদিন। ভারতীয় চলচ্চিত্রে যিনি সার্থকভাবে প্রয়োগ করেছিলেন ব্রেশটিয় আঙ্গিক, সেই মৃণাল সেনকে নিয়ে একটি সামান্য লেখা।]ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কীভাবে যেন পরিচালক ত্রয়ী সত্যজিৎ-ঋত্বিক-মৃণাল এক বিন্দুতে এসে মিলিত হন। ১৯৫৫-তে মুক্তি ...
  • দময়ন্তীর সিজনস অব বিট্রেয়াল পড়ে
    পড়লাম সিজনস অব বিট্রেয়াল গুরুচন্ডা৯'র বই দময়ন্তীর সিজনস অব বিট্রেয়াল। বইটার সঙ্গে যেন তীব্র সমানুভবে জড়িয়ে গেলাম। প্রাককথনে প্রথম বাক্যেই লেখক বলেছেন বাঙাল বাড়ির দ্বিতীয় প্রজন্মের মেয়ে হিসেবে পার্টিশন শব্দটির সঙ্গে পরিচিতি জন্মাবধি। দেশভাগ কেতাবি ...
  • দুটি পাড়া, একটি বাড়ি
    পাশাপাশি দুই পাড়া - ভ-পাড়া আর প-পাড়া। জন্মলগ্ন থেকেই তাদের মধ্যে তুমুল টক্কর। দুই পাড়ার সীমানায় একখানি সাতমহলা বাহারী বাড়ি। তাতে ক-পরিবারের বাস। এরা সম্ভ্রান্ত, উচ্চশিক্ষিত। দুই পাড়ার সাথেই এদের মুখ মিষ্টি, কিন্তু নিজেদের এরা কোনো পাড়ারই অংশ মনে করে না। ...
  • পরিচিতির রাজনীতি: সন্তোষ রাণার কাছে যা শিখেছি
    দিলীপ ঘোষযখন স্কুলের গণ্ডি ছাড়াচ্ছি, সন্তোষ রাণা তখন বেশ শিহরণ জাগানাে নাম। গত ষাটের দশকের শেষার্ধ। সংবাদপত্র, সাময়িক পত্রিকা, রেডিও জুড়ে নকশালবাড়ির আন্দোলনের নানা নাম ছড়িয়ে পড়ছে আমাদের মধ্যে। বুঝি না বুঝি, পকেটে রেড বুক নিয়ে ঘােরাঘুরি ফ্যাশন হয়ে ...
  • দক্ষিণের কড়চা
    (টিপ্পনি : দক্ষিণের কথ্যভাষার অনেক শব্দ রয়েছে। না বুঝতে পারলে বলে দেব।)দক্ষিণের কড়চা▶️এখানে মেঘ ও ভূমি সঙ্গমরত ক্রীড়াময়। এখন ভূমি অনাবৃত মহিষের মতো সহস্রবাসনা, জলধারাস্নানে। সামাদভেড়ির এই ভাগে চিরহরিৎ বৃক্ষরাজি নুনের দিকে চুপিসারে এগিয়ে এসেছে যেন ...
  • জোড়াসাঁকো জংশন ও জেনএক্স রকেটপ্যাড-১৪
    তোমার সুরের ধারা ঝরে যেথায়...আসলে যে কোনও শিল্প উপভোগ করতে পারার একটা বিজ্ঞান আছে। কারণ যাবতীয় পারফর্মিং আর্টের প্রাসাদ পদার্থবিদ্যার সশক্ত স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে থাকে। পদার্থবিদ্যার শর্তগুলি পূরণ হলেই তবে মনন ও অনুভূতির পর্যায় শুরু হয়। যেমন কণ্ঠ বা যন্ত্র ...
  • উপনিবেশের পাঁচালি
    সাহেবের কাঁধে আছে পৃথিবীর দায়ভিন্নগ্রহ থেকে তাই আসেন ধরায়ঐশী শক্তি, অবতার, আয়ুধাদি সহসকলে দখলে নেয় দুরাচারী গ্রহমর্ত্যলোকে মানুষ যে স্বভাবে পীড়িতমূঢ়মতি, ধীরগতি, জীবিত না মৃতঠাহরই হবে না, তার কীসে উপশমসাহেবের দুইগালে দয়ার পশমঘোষণা দিলেন ওই অবোধের ...
  • ৪৬ হরিগঙ্গা বসাক রোড
    পুরোনো কথার আবাদ বড্ড জড়িয়ে রাখে। যেন রাহুর প্রেমে - অবিরাম শুধু আমি ছাড়া আর কিছু না রহিবে মনে। মনে তো কতো কিছুই আছে। সময় এবং আরো কত অনিবার্যকে কাটাতে সেইসব মনে থাকা লেখার শুরু খামখেয়ালে, তাও পাঁচ বছর হতে চললো। মাঝে ছেড়ে দেওয়ার পর কিছু ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

এক বিমর্ষ শয়তান, যে একটু বাঁচতে চেয়েছিল

উদয়ন ঘোষচৌধুরি


নেহাতই ছাপোষা। বউ-বাচ্চা নিয়ে জেরবার। ঘাউরা-মার্কা চোখমুখ। ভুরুটা প্রায়সময়ই কুঁচকে। তেমন কোনও প্রতিভা নেই, তেমন কোনও দক্ষতা নেই যে, সংসারটা হেসেখেলে চালাবে। কিস্যু কি নেই? একেবারেই? আছে! আখাম্বা একটা পুরুষাঙ্গ। যেটা উচ্ছ্রিত হলে লোকটা পুরো যন্ত্র বনে যায়। শুধু সেটাকেই চালনা ছাড়া অন্য কোনও কাণ্ডজ্ঞান থাকে না। হ্যাঁ, এরকমটাই তো দরকার ঝাঁঝালো পুরুষালি পর্নো বানাতে। আর হলও তাই। পরিত্যক্ত গ্যারেজে, পুলসাইডে, বাইকে ঠেস দিয়ে, ঝলসানো আলোর নিচে রগরগে সেট বানিয়ে তৈরি হতে থাকল গোছা গোছা থকথকে কামার্ত পর্নো। তারপর? ফ্লপ! একের পর এক ফ্লপ! লোকটা টাকা পেল না। প্রোডিউসার-ডিরেকটররা খালি ঘুরিয়ে মারে। কি করে চলবে সংসার! এদিকে ছেলে বড় হয়ে উঠছে। ড্রয়িংরুমের র‍্যাক ঘেঁটে সে বের করে ফেলেছে বাবার অভিনীত পর্নো ক্যাসেট। চালিয়ে দেখেও নিয়েছে কিছুটা। লোকটা চিন্তিত। ভাবে, এবার ছেড়েই দেবে এই পেশা। বউকেও ঠিকঠাক বলতে পারে না, কি কি হয় পৃথিবীর এই পরিধিতে। বউ বুঝতে চায়, থই পায় না। দাম্পত্যের এলোমেলো খুনসুটি পরিণত হয় বেদম যৌনতায়, যা খানিকটা বোবা জান্তব আর রিরংসাময়। লোকটার ভাই পুলিশ। পুলিশরা সচরাচর যেরকম, অসৎ ও মাস্তান। লোকটার বউকে সে পেতে চায় নিজের বিছানায়। অনেক তেল পুড়িয়েও বাগে না পেয়ে, টয়লেটের আয়নায় জিঘাংসার হস্তমেহনে তার আত্মদমন।


এরকম পরিস্থিতিতে একদিন এক মহিলা, লোকটার বিগত কো-স্টার, নিয়ে আসে নতুন কাজের প্রস্তাব। একটা ‘আর্ট ফিল্ম’-এ কাস্ট হওয়ার। দোনামনা করেও শেষমেশ রাজি লোকটা; ভাবে, এইবার কিছু টাকা কামিয়ে ছেড়েছুড়ে দেবে সব। তাগড়াই সিকিউরিটিতে শুরু হয় শুট। আর এখানেই আরও জোরালো হতে থাকে ‘মানুষ’ নামে জন্তুটির মারাত্মক যৌনচেতনা। লোকটার কানে গুঁজে দেওয়া হয় ইয়ারফোন, যেটা দিয়ে অনবরত নির্দেশ আসতে থাকে সে তার পুরুষাঙ্গ কোথায় কিভাবে ব্যবহার করবে। নার্সের পোশাকে যুবতী, আইসক্রিম-চোষা নিরুত্তাপ বালিকা, বালিকার লাস্যময়ী মা – একের পর এক। লোকটা ক্লান্ত। প্রতিবাদেও রেহাই নেই। পরিচালক একদিন নিয়ে যায় নিজের ঘরে। দেওয়াল-জোড়া স্ক্রিনে শুরু হয় Newborn Porn; মানে, ডেলিভারি টেবিলে, শিশুর জন্মের সঙ্গে সঙ্গে, মায়ের সামনেই, ডাক্তার সংযুক্ত হয় শিশুটিতে। পর্দায় ভেসে ওঠে সদ্য-হওয়া মায়ের স্মিতমুখ।


একসময় লোকটার জ্ঞান চলে যায়। ড্রাগ দেওয়া হয় তাকে। ধারালো মেশিনের পৌনঃপুনিকতায় তাকে দিয়ে করিয়ে নেওয়া হয় যাবতীয় যৌনব্যবহার। এমনকি, উপুড় করে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ধর্ষণের পর, ধারালো অস্ত্রের কোপে, এক নারীর মাথাও কেটে নেওয়া হয় তাকে দিয়ে। Rigor Mortis-এর আগে নারীটির দেহে যে ছিটকে ওঠা কাঁপুনি, লালসা-মাখা ক্যামেরায় তা যেন Orgasm-এর স্বাদ। অন্য একজনকে দিয়ে ড্রাগে ডুবে থাকা লোকটার পায়ুমৈথুনও করিয়ে নেয় পরিচালক। জ্ঞান ফিরলে, এসব জানতে পেরে, লোকটা পালায়। পারে না। পরিচালকের মুশকো রক্ষীরা ধরে ফ্যালে। নিয়ে আসে উপুড় করে ঢেকে-রাখা দুটো শরীরের কাছে। একটায় যুক্ত হয় মুখ-ঢাকা অন্য এক পুরুষ, অন্যটায় সে। দুজনের মধ্যে যেন তীব্রতার প্রতিযোগিতা। বীর্যপাতের আগে আগে, পরিচালক খুলে দ্যায় সকলের মুখ। দ্যাখা যায়, অন্য পুরুষটি, লোকটার সেই ভাই। তার নিচে কাৎরাচ্ছে লোকটার বউ। আর লোকটার নিচে ব্যথায় নীলচে হয়ে গেছে নিজেরই ছেলেটা, মুখ থেকে গ্যাঁজলা উঠছে। রাগে অন্ধ লোকটা থেঁতো করে দ্যায় পরিচালকের মাথা। ভাইকে মেরে ফ্যালে। গার্ডদেরও। একজনের চোখে ঢুকিয়ে দ্যায় নিজের উত্থিত স্তম্ভিত লিঙ্গ। শেষ নিঃশ্বাসের আগে পরিচালক বলে ওঠে, সিনেমার ক্লাইম্যাক্সে ঠিক এইটাই দরকার ছিল।


এর পর? বাড়ি ফিরে বউ-বাচ্চাকে নিয়ে আত্মহত্যা করে লোকটা। গুলির আচমকা শব্দে কয়েকজন ঢুকে আসে ঘরে। একজনের হাতে ভিডিও ক্যামেরা। একজন খুলতে থাকে প্যান্টের জিপার। অন্যজন বলে ওঠে, বাচ্চাটাকে দিয়ে শুরু কর!


কি ভাবলেন? সিনেমা শেষ? এতই সোজা? ঠিকঠাক দেখুন তো, আমার-আপনার এইসব নেকুপুসু জীবনে কি এখনও ঢুকে পড়েনি লোকটা? দুমড়ে দ্যায়নি আমাদের বেঁচে-থাকা? একুশ শতকের এই যে সময়, যেখানে কোনও-না-কোনও যন্ত্র আমাদের বেঁধে রেখেছে প্রতি পলে, আমাদের আবেগ-অনুভব সমস্তই সেই যন্ত্রগুলোতে আবর্তিত ও নিয়ন্ত্রিত, আমাদের স্পর্শ ভালবাসা স্নেহ উত্তাপ মায়া কখন কোথায় উঠবে-নামবে বলে দিচ্ছে সেই যন্ত্রেরা, তাহলে আসলে আমরা নিজেরাই কি নিজেদের অজান্তে এক-একজন কলের পুতুল নই? আমাদের আক্রোশ আর ক্রোধও কি আমাদেরই? পরিবারের আর নিজের খাবার খুঁজতে অথবা ‘আরও চাই’-মানসিকতা নিয়ে রোজগারের লোভে রোজ কি মাড়িয়ে ফিরছি না দলা দলা থুতু? আর ম্যাকডোনালডের আলুভাজায় মাখিয়ে তুলছি যে সস, সেখানেও কি লেগে নেই ওই থুতুর অংশ? ভোগ-বানিজ্যের বেড়াজালে এই যে সমাজ, ভেবে দেখুন তো, এখানে শেষ কবে নিজের মতো হেসেছি? শেষ কবে কোনও শিশু বেড়ে উঠেছে তার নিজের ইচ্ছায়? শেষ কবে রাস্তার পাশের গাছটা ফুল ফুটিয়ে ভয় পায়নি কর্পোরেশনের কুড়ুলকে? ‘সুস্থতা’-র নামে, বোধশক্তিহীন এই রাষ্ট্রযন্ত্র কখনও কি গলা টিপে মারেনি / মারে না আমাদের ভাল-থাকাগুলো? অহিংস-সহিংস যেকোনও প্রতিবাদ দাবিয়ে দেওয়া হয় না পেটে পা তুলে? আত্মাহীন ‘রাষ্ট্র’ আমাকে দিয়ে যা যা করিয়ে নেয়, কখনও কি সে জানতে চায়, আমি সেসবে ইচ্ছুক কি না? দুনিয়াশুদ্ধু যদি ‘প্রেম’-এরই এত আস্ফালন, তবে কেন এত বিচ্ছেদ? কান্নাকাটি? আত্মহত্যা? নিপীড়ন? পৃথিবী-ভরা ‘উন্নতি’-র আড়ালে কেন এত খুন? ধর্ষণ? ফাঁসি? ঝাঁ-চকচকে বেশ্যাবৃত্তি? তাহলে, ‘পর্নোগ্রাফি’ আদতে কোনটা? পরিচালক স্পাসোজেভিক এ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, “It's (this film) about the monolithic power of leaders who hypnotize you to do things you don't want to do. You have to feel the violence to know what it's about.” [The Wall Street Journal, মার্চ ১৫, ২০১০]। আর এইখানেই সিনেমাটি তার নামকরণ ছাড়িয়ে হয়ে ওঠে বিশ্বজনীন। স্পাসোজেভিক যে সার্বিয়ান সমাজ ও সরকারকে বিদ্রূপ করতে চেয়েছেন, আসলে সেই একই ছবি কি গোটা দুনিয়াতেই চলছে না? সরকার – রাজতন্ত্র বা গণতন্ত্র, যে রূপেই থাক – তার কৌশলের পরতে পরতে?


সিনেমাটি হরর-থ্রিলার ক্যাটেগরির। তবে এটি সেই ‘হরর’ নয় যে, ড্রয়িংরুমের সোফায় ডুবে, ভুট্টাভাজা খেতে খেতে থ্রিল করে আঁতকে উঠবেন, আর আপনার হানি গালে হামি খেয়ে স্বান্ত্বনা পুরস্কার দেবে! বরং একাকী কোনও ঘুমহীন বিছানায় অথবা বাথরুমের নিষ্ঠুর বেআব্রু সঙ্গহীনতায় জ্বালিয়ে খাবে এই ‘হরর’! আলো, ক্যামেরা, টেকনিক – এসব ঠিকঠাক। বা এ-ও বলা যেতে পারে, খুউব সাংঘাতিক কোনও ক্যারদানি মনে হয়নি। ডায়লগের ব্যবহারে দারুণ মুনশিয়ানা। শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যে, স্ত্রী যখন স্বামীকে বলে, ছেলেকে গান শেখানোর জন্যে কিছু টাকা দরকার – নিমেষে বুঝে ফ্যালা যায় ঘরের আর্থিক দুর্দশা। অভিনয়ে সকলেই যথাযথ। স্ক্রিপ্টে প্রোটাগনিস্ট ছাড়া আর কাউকেই মাল্টি-ডাইমেনশনাল বানানো হয়নি। আর সেখানে দুরন্ত চার-ছয় হাঁকিয়েছেন অভিনেতা-গায়ক স্রান তোদোরোভিক।


সিনেমাটিকে কেউই, কয়েকজন ছাড়া, খুব একটা কল্কে দ্যাননি। কেউ ভয় পেয়েছেন এর বীভৎসতায়। ভালও বেসেছেন কেউ কেউ। সমালোচক স্কট উইনবার্গ বলেছেনঃ “The film is tragic, sickening, disturbing, twisted, absurd, infuriated, and actually quite intelligent… it's one of the most legitimately fascinating films I've ever seen. I admire and detest it at the same time.” [Fearnet, মার্চ ১৬, ২০১০]।


স্বাভাবিকভাবেই ফিল্মটির ওপর, গোটা পৃথিবী জুড়ে, যথেচ্ছ চলেছে কাঁচির উল্লাস, Necrophilia ও Pedophilia-র অজুহাতে। নরওয়ে, স্পেন, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়শিয়া, নিউ জিল্যান্ড ইত্যাদি বহু (উন্নত) দেশে। এক ইউকে-তেই ছেঁটে ফ্যালা দৃশ্য মোট পাঁচ মিনিটের। সার্বিয়া সরকারের নির্দেশে তদন্তও হয়েছিল, ফিল্মের শিশু-অভিনেতাদের নিয়ে সত্যিই যৌনব্যবহার করা হয়েছিল কি না! (অদ্ভুতভাবে, কোনও যুবতীর ধর্ষণ-দৃশ্যে কেউ কোথাও এই প্রশ্ন তোলে না! তাহলে কি মেনে নেব, সরকার ও সমাজ সেটা স্বাভাবিক ধরে নেয়?)


বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ : বমির প্রবণতা থাকলে ফিল্মটি না দ্যাখাই ভাল।


সিনেমা : আ সার্বিয়ান ফিল্ম (২০১০) / পরিচালক : স্রজান স্পাসোজেভিক / লেখক : আলেক্সান্দার রাদিভোজেভিক ও স্রজান স্পাসোজেভিক / দেশ : সার্বিয়া



215 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: কল্লোল

Re: এক বিমর্ষ শয়তান, যে একটু বাঁচতে চেয়েছিল

এই ফিল্ম দেখতেও বেশ হিম্মত লাগে। আমার বোধহয় নেই।

Avatar: quark

Re: এক বিমর্ষ শয়তান, যে একটু বাঁচতে চেয়েছিল

অন্য অনেক কাজ আছে করার মত।
Avatar: ranjan roy

Re: এক বিমর্ষ শয়তান, যে একটু বাঁচতে চেয়েছিল

বর্তমান সমাজ ও রাষ্ট্রকে এবং নিজেকে চাবকাতে এছাড়া আর কোন পন্থা নেই? মানে আর্টিস্টিক ফর্ম বা কনটেন্ট? এও একধরনের মর্ষকাম নয়? কী জানি!
Avatar: shibir

Re: এক বিমর্ষ শয়তান, যে একটু বাঁচতে চেয়েছিল

মুভিটা ঘটনাচক্রে আমি দেখেছিলাম । এক কথায় ডিস্টার্বিং । এই মুভিটা আমাদের পলিটিকাল কারেক্টনেস কেও প্রশ্ন করে
Avatar: bheetu

Re: এক বিমর্ষ শয়তান, যে একটু বাঁচতে চেয়েছিল

লোকটা যখন প্যান্টের জিপার খোলে , অদূরে কোথাও ক্ষীণ ম্যান্ডলিন এর শব্দ শোনা যায় l দেখতে দেখতে ওই জীর্ণ বাড়িটা একটা বাগান হয়ে ওঠে l আর বাচ্চাটা একটা চেরি ফুল l লোকগুলো ওর মায়ের ছেড়া গাউন ধরে টানতে চেষ্টা করে l পারেনা l হু হু হাওয়া বইতে থাকে চারপাশে l আর সে কী বিদ্যুতের ঝলকানি ! বড় বড় বৃষ্টির ফোঁটা লোকগুলোর গায়ে এসে পড়তেই ওরা হয়ে যায় ছোট্ট ছোট্ট একেকটা নুড়ি l আর ম্যান্ডলিনটা বাজতেই থাকে... বাজতেই থাকে...

বমি পাচ্ছিল, তাই এসব হাবিজাবি, সিনেমায় যা নেই... :)


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন