সুকান্ত ঘোষ RSS feed

কম জেনে লেখা যায়, কম বুঝেও!

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা... বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ পরিবর্তন হওয়ার দিন
    বিএনপি এখন অস্তিত্ব সংকটে আছে। কিন্তু কয়েক বছর আগেও পরিস্থিতি এমন ছিল না। ক্ষমতার তাপে মাথা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল দলটার। ফলাফল ২০০৪ সালের ২১ আগস্টে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেনেড মেরে হত্যার চেষ্টা। বিরোধীদলের নেত্রীকে হত্যার চেষ্টা করলেই ...
  • তোমার বাড়ি
    তোমার বাড়ি মেঘের কাছে, তোমার গ্রামে বরফ আজো?আজ, সীমান্তবর্তী শহর, শুধুই বেয়নেটে সাজো।সারাটা দিন বুটের টহল, সারাটা দিন বন্দী ঘরে।সমস্ত রাত দুয়ারগুলি অবিরত ভাঙলো ঝড়ে।জেনেছো আজ, কেউ আসেনি: তোমার জন্য পরিত্রাতা।তোমার নমাজ হয় না আদায়, তোমার চোখে পেলেট ...
  • বার্সিলোনা - পর্ব ২
    বার্সিলোনা আসলে স্পেনের শহর হয়েও স্পেনের না। উত্তর পুর্ব স্পেনের যেখানে বার্সিলোনা, সেই অঞ্চল কে বলা হয় ক্যাটালোনিয়া। স্বাধীনদেশ না হয়েও স্বশাসিত প্রদেশ। যেমন কানাডায় কিউবেক। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই মনে হয় এরকম একটা জায়গা থাকে, দেশি হয়েও দেশি না। ...
  • বার্সিলোনা - পর্ব ১
    ঠিক করেছিলাম আট-নয়দিন স্পেন বেড়াতে গেলে, বার্সিলোনাতেই থাকব। বেড়ানোর সময়টুকুর মধ্যে খুব দৌড় ঝাঁপ, এক দিনে একটা শহর দেখে বা একটা গন্তব্যের দেখার জায়গা ফর্দ মিলিয়ে শেষ করে আবার মাল পত্তর নিয়ে পরবর্তী গন্তব্যের দিকে ভোর রাতে রওনা হওয়া, আর এই করে ১০ দিনে ৮ ...
  • লাল ঝুঁটি কাকাতুয়া
    -'একটা ছিল লাল ঝুঁটি কাকাতুয়া।আর ছিল একটা নীল ঝুঁটি মামাতুয়া।'-'এরা কারা?' মেয়েটা সঙ্গে সঙ্গে চোখ বড়ো করে অদ্ভুত লোকটাকে জিজ্ঞেস করে।-'আসলে কাকাতুয়া আর মামাতুয়া এক জনই। ওর আসল নাম তুয়া। কাকা-ও তুয়া বলে ডাকে, মামা-ও ডাকে তুয়া।'শুনেই মেয়েটা ফিক করে হেসে ...
  • স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি
    স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি। আমি স্টার্ট-আপ কোম্পানিতে কাজ করছি ১৯৯৮ সাল থেকে। সিলিকন ভ্যালিতে। সময়ের একটা আন্দাজ দিতে বলি - গুগুল তখনও শুধু সিলিকন ভ্যালির আনাচে-কানাচে, ফেসবুকের নামগন্ধ নেই, ইয়াহুর বয়েস বছর চারেক, অ্যামাজনেরও বেশি দিন হয়নি। ...
  • মৃণাল সেন : এক উপেক্ষিত চলচ্চিত্রকার
    [আজ বের্টোল্ট ব্রেশট-এর মৃত্যুদিন। ভারতীয় চলচ্চিত্রে যিনি সার্থকভাবে প্রয়োগ করেছিলেন ব্রেশটিয় আঙ্গিক, সেই মৃণাল সেনকে নিয়ে একটি সামান্য লেখা।]ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কীভাবে যেন পরিচালক ত্রয়ী সত্যজিৎ-ঋত্বিক-মৃণাল এক বিন্দুতে এসে মিলিত হন। ১৯৫৫-তে মুক্তি ...
  • দময়ন্তীর সিজনস অব বিট্রেয়াল পড়ে
    পড়লাম সিজনস অব বিট্রেয়াল গুরুচন্ডা৯'র বই দময়ন্তীর সিজনস অব বিট্রেয়াল। বইটার সঙ্গে যেন তীব্র সমানুভবে জড়িয়ে গেলাম। প্রাককথনে প্রথম বাক্যেই লেখক বলেছেন বাঙাল বাড়ির দ্বিতীয় প্রজন্মের মেয়ে হিসেবে পার্টিশন শব্দটির সঙ্গে পরিচিতি জন্মাবধি। দেশভাগ কেতাবি ...
  • দুটি পাড়া, একটি বাড়ি
    পাশাপাশি দুই পাড়া - ভ-পাড়া আর প-পাড়া। জন্মলগ্ন থেকেই তাদের মধ্যে তুমুল টক্কর। দুই পাড়ার সীমানায় একখানি সাতমহলা বাহারী বাড়ি। তাতে ক-পরিবারের বাস। এরা সম্ভ্রান্ত, উচ্চশিক্ষিত। দুই পাড়ার সাথেই এদের মুখ মিষ্টি, কিন্তু নিজেদের এরা কোনো পাড়ারই অংশ মনে করে না। ...
  • পরিচিতির রাজনীতি: সন্তোষ রাণার কাছে যা শিখেছি
    দিলীপ ঘোষযখন স্কুলের গণ্ডি ছাড়াচ্ছি, সন্তোষ রাণা তখন বেশ শিহরণ জাগানাে নাম। গত ষাটের দশকের শেষার্ধ। সংবাদপত্র, সাময়িক পত্রিকা, রেডিও জুড়ে নকশালবাড়ির আন্দোলনের নানা নাম ছড়িয়ে পড়ছে আমাদের মধ্যে। বুঝি না বুঝি, পকেটে রেড বুক নিয়ে ঘােরাঘুরি ফ্যাশন হয়ে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

ফাইভ ফ্রুটস্‌ এ ডে

সুকান্ত ঘোষ

আমি ইংল্যাণ্ডে থাকাকালীন ওখানকার সরকার এক ক্যাম্পেন চালু করেছিল – Five Fruits a Day। ব্রিটিশ ছেলেছোকরাদের ক্রমশঃ খারাপ থেকে নিকৃষ্ট হয়ে যাওয়া রুখতেই সেই প্রচার। তবে যে দেশে দুই হাত অন্তর ফ্রাই, কেবাপশপ আর বার্গারের দোকান এবং যেখানে ফল কিনতে গেলে দুই মাইল দূর দূর সুপারমার্কেটে যেতে হয় সেখানে এই ক্যাম্পেন কতটা সার্থকতা লাভ করবে তা বোঝার জন্য পরিসংখ্যানবিদ হবার দরকার নেই। আমাদের ইউনিভার্সিটির ফুডকর্ণারগুলিতে ছবি লাগানো হল ফলের – আপেল, কলা, লেবু, আঙ্গুর ইত্যাদি। দোকানদার প্রায় সবুজ কলা কিনে ঝুড়িতে রাখল – সেই কলা রঙ পালটে হলুদ হল এবং বার্ধক্যে প্রবেশ করে কালো হতে শুরু করলেও তার কোন ক্রেতা পাওয়া গেল ন! অনেকে দাবী করল পাঁচ পিস আঙুর দানা খেলেও নাকি Five Fruits a Day সিষ্টেমকে স্যাটিসফাই করা যায়। তবে আমার আশ্চর্য্য লেগেছিল অন্য জায়গায় – বৃটিশদের লেডি ডায়নার প্রতি এক অস্বাভাবিক প্রীতি আছে, তিনি মরে যাবার পরে যেটা আরো বাড়ে। তো সেই ডায়না তাঁর সৌন্দর্য্যের রহস্য বোঝাতে বলেছিলেন পর্যাপ্ত জল আর ফল খেতে। কিন্তু সেই উপদেশ এহেন ডায়নাপ্রেমী ব্রিটিশ পাবলিক নেয় নি। অনেকে এর মধ্যে বহুজাগতিক সংস্থার চক্রান্ত খুঁজে পান – ভিটামিন পিল বিক্রীকারক সংস্থাগুলি নাকি ইচ্ছে করেই সেই ফল জলের রহস্য মিডিয়াকে ঠিকভাবে উন্মোচন করতে দেয় নি। খাবার সংক্রান্ত সেই সব রহস্যগল্প অন্য এক পর্বে। বিলেত থেকে ফিরে আসা যাক আমাদের আদি অকৃত্রিম দেশীয় ব্যাপারে।

আমাদের দিকে একটা কথা চালু ছিল যে সুতো আর জুতোর দামের কোন মা-বাপ নেই, অর্থাৎ আপনি জানতেও পারছেন না যে আপনি কেমন ভাবে বলির পাঁঠা হচ্ছেন। অনেকে পরিবারের সাথে পূজোর বাজার করতে গিয়ে গম্ভীর ভাবে জামা-কাপড় চয়েস করে মতামত চালান করেন, তাঁদের একটাই পরামর্শ যে প্লীজ আর করবেন না। কাপড়ের ব্যবসার সাথে সম্যক পরিচয় থাকলে আপনি হয়ত বুঝতে পারতেন যে আপনার ভ্রান্তির স্ট্যান্ডার্ড ডিভিয়েশন স্ট্যাটিকটিক্স-এর এখনও পর্যন্ত জানা তত্ত্ব দিয়ে পরিমাপ করা যাবে না। আমার পিসির ছেলে কাপড়ের দোকান দিলে ব্যাপারটা আমার কাছে ক্রমশঃ পরিষ্কার হতে শুরু করে। জুতোর ব্যাপারেও তাই –বন্ধু বাচ্চু আমাদের আলোর জগতে নিয়ে আস্তে শুরু করে। আমি এই দুই জিনিসের সাথে আরো একটা যোগ করতে চাইছি, সেটা হল ফল। আপনারা ট্রেনে বা ফলের দোকানে যা ফল কেনেন তার বিবর্তন বা দামের ইতিহাস জানা থাকলে এই বাজারেও একটু চমকে উঠতেন।

যে কোন রেল স্টেশনে নামলেই প্রথম যা চোখে পড়বে তা হল ঝুপড়ি ঝুপড়ি ফলের দোকান, আমাদের ‘মেমারী’ রেল স্টেশনও তার ব্যতিক্রম নয়। আর এই সব দোকেনের মালিক বা তার ছেলেরা প্রায় সবাই আমার বাবার ছাত্র। অন্য শিক্ষকরা যখন ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার তৈরী করে আত্মপ্রসাদ লাভ করেছে মনে মনে, তখন আমার বাবা দেদার ফল বিক্রেতা প্রডিউস করে ডাইরেক্ট ফল লাভ করেছে প্র্যাক্টিক্যাল লাইফে । আমার বাপ গুরুদক্ষিণা পেত কেনা দামে ফলের দোকান হতে ফল পেয়ে। তবে এই ক্ষেত্রেও ‘কেনা দাম’ ছিল একটা বিশ্বাস মাত্র! এতো আর বিদেশী সুপার মার্কেট নয় যে ফলের গায়ে বা ফলের ঝুড়ির গায়ে বারকোড লেপ্টে থাকবে! ফলতঃ দামের স্ট্যাণ্ডার্ড ডিভিয়েশন কোন সিগমা গুণিতকে ধরা দুঃসাধ্য ছিল। ছোটবেলায় ফলের দামের থেকেও যে জিনিসটা আমাকে বেশী আকৃষ্ট করত তা ছিল কিছু দোকানদারের ফল নিয়ে নাড়াচাড়া করা। কোন কোন সময় দেখতাম খালি দোকানে দোকানদার পরম যত্নে ফলের গায়ে হাত বুলাচ্ছে – যেমন রবিশংকর সেতারের উপর হাত চালায়। আর তা ছাড়া অনেক ফল বিক্রেতা আবার ফলেদের স্থানান্তর একটা অবশ্য কর্ম বলেই মনে করত।

তা সে যাক – সব চেয়ে বড় নাটক মঞ্চস্থ হত তরমুজ কেনার সময়। ছোট ফল কেনার ঝামেলা কম – ধরুণ আঙুর, মিষ্টি হবে কিনা একটা মাল টপ করে মুখে পুরে দিলেই মালুম হত। শীতকালীন লেবু, গ্রীষ্মের আমও একই ভাবে যাচাই হত। কিন্তু তরমুজ – লাল হবে কি? জলসা হবে না তো! কি ভাবে বুঝবেন – আপনাকে নয়ত নিজের বিচক্ষণতার অথবা দোকানদারের রেকমেণ্ডশনের উপর নির্ভর করতে হবে। আমার জানামতে তরমুজের আকার ও বাইরের রঙের সাথে ভিতরের মালের রঙ বা মিষ্টতার কোন পরীক্ষিত ও প্রস্তাবিত সম্পর্ক ছিল না। অগত্যা সেই দোকানীর জ্যোতিষবিদ্যার মত ঘোলাটে মতামত শুনতে হত। সে পরম যত্নে তরমুজের গায়ে হাত বুলিয়ে বা যেমন ভাবে বাচ্ছা ছেলের পেট গরম হলে ডাক্তারেরা পেটে টোকা মারে (অন্তত আমাদের সময়ে মারত), তেমনি তরমুজটাকে টোকা মেরে আপনাকে বলবে কোন তরমুজটা ভালো লাল ও মিষ্ট হবে। তারপর আপনি জোরাজুরি করলে সে ছুরি দিয়ে একটা ত্রিভুজ কেটে আপনাকে দেখাবে। কিন্তু এখানেও আপনার জিত নেই – যদি সেই ত্রিভুজ লাল হয় তাহলে আপনি কনভিন্সড, কিন্তু একদিক লাল বলে অন্যদিক লাল হবে তরমুজের এমন কোন বাধ্যকতা নেই – এবং সেটাই আপনাকে ফল বিক্রেতা জানাত যদি সেই ত্রিভুজ লাল না হত। আর তা ছাড়া লাল রঙের গাঢ়তা চোখ দিয়ে পুরোপুরি পরিমাপযোগ্য নয়। কতটা লাল আসলে লাল? ফলে প্লাসিবো এফেক্ট কাজ করতে শুরু করে। আপনি নিশ্চিত মনে লাল তরমুজ কিনেই বাড়ি যান! তবে আমার বাপ শিক্ষক বলে একটু সম্মান পেত কারণ বিহারীদের মধ্যে গুরুভক্তি প্রবল। ফলে বেশীরভাগ সময়েই বাপ উইনিং সাইডে থাকত।

আমরা ছোটবেলায় আমকেই ফলের রাজা বলে মানতাম ও জানতাম। আমাদিগের পূর্বপুরুষেরা তেনাদের নানাবিধ কার্যকলাপ দ্বারা এই ধারণা আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিলেন আমাদের মজ্জাতে। তবে সেই আম কেনারও কিন্তু একধরণের বিশেষ টেকনিক ছিল। আমের নানা প্রকারভেদ – দেশী আম, কলমের আম, হিমসাগর, ল্যাংড়া, ফজলি, বোম্বাই। বিবর্তনের নিয়ম অনুযায়ী লোকাল বাঙ্গালী আরও চালাক হতে শুরু করলে ‘কলমের’ আমের নানাবিধ প্রকারভেদ বের হল যথা – চ্যাটার্জী, ব্যানার্জী, গোলাপখাস, গোপালভোগ, কিষণভোগ, লক্ষণভোগ, মোহনভোগ ইত্যাদি। ‘আলফানসো’ নিয়ে আমরা বেশী নাড়া ঘাঁটা করি নি। দোকানের ওই সব ফলের কদর বাঙালী মধ্যবিত্ত করতে পারত না। গলদা চিংড়ি এবং ‘আলফানসো’ ক্রেতারা প্রায়শই অভিন্ন হত।

পরবর্তিকালে আমার নিজের ভৌগলিক বিস্তার আরও একটু বাড়ার পর এই অনুসিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলাম যে শ্রেষ্টর শিরোপার লড়াইটা তিন প্রজাতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা ভালো – হিমসাগর, ল্যাংড়া ও আলফানসো। যতদূর মনে পড়ে মুজতবা আলী সাহেবের ভোটটা ল্যাংড়ার দিকেই ছিল। আমার বাপেরও তাই, আর আমি নিজে ল্যাংড়া ও হিমসাগরের মধ্যেই দোদ্যুল্যমান ছিলাম। ‘আলফানসো’ আম দেখলেই আমার কেমন যেন পুতুপুতু তুলোয় জড়ানো শৌখিন ব্যাপার বলে মনে হত। যে খেলায় বডি কনক্যাক্ট নেই, তা আমার ঘোর না পসন্দ – তা সে তুলোয় জড়ানো আমই হোক বা ক্রিকেট!

ফজলি আম আসত টুকরী বা বেতের চুপরী করে। মাঝে মাঝে দেখতাম যে বিশাল বিশাল সাইজের ফজলি আমদানি হয়েছে – মালদার মাল বলে চলানো হত। অভিজ্ঞরা সন্দেহ প্রকাশ করতেন যে ওই আম আদৌ ফজলি নাকি বুনো আম! ক্ল্যাসিক্যাল টেকনিকে আম কাটা হয় তিন টুকরোয় – আঁটি ও তার সাথে দুই ‘চাকা’। যে কোন কারণেই হোক এই আজও অন্যভাবে আম কাটা দেখলে বুকটা হু হু করে ওঠে। ভাবুন একবার – আপনার জামাই বাড়িতে এসেছে – তেল ঝোল খাসি/পাঁঠার মাংসাটা শেষ করে জামাই তেলতেলে হাত বাড়াচ্ছে প্লেটে রাখা খোসা ছাড়ানো টুকরো আমের দিকে – এ ঠিক যায় না। দৃশ্য পলুউশন টাইপের। জামাই খাবে মেঝেতে বসে এবং খাবার শেষে চুষবে আমের আঁটি ও চাকা – এটাই ক্লাসিক, এটাই ঐতিহ্য – সেটাই মৃণাল, ঋত্বিক, সত্যজিত, রামকিঙ্কর, নন্দলাল।

আরো ভাবার বিষয় হল আম কেমন ভাবে সাজানো থাকবে ফলের দোকানে – তার মধ্যেও ক্যাথলিক – প্রোটেষ্টান্ট জাতীয় টুইষ্ট আছে। আমের বোঁটা আপনার দিকে থাকে নাকি আমের সরু দিকটা? সুজনেরা বলে থাকেন আমের বোঁটার চারপাশ দেখে আমের ক্যারেক্টার বোঝা যায় – যেটা করা যায় না আমের সরু দিকটা দেখে। ফলতঃ আমের বোঁটা ক্রেতার দিকে করে সাজানোই দোকানের রীতি হওয়া উচিত।

তুলনামূলকভাবে কলা কেনা সহজ ছিল। আমাদের সময়ে মেমারীর ফলের দোকানগুলিতে তিন প্রজাতির কলারই সমাহার থাকত – চাঁপা, কাঁঠালি ও সিঙ্গাপুরি। মর্তমান কলা নৈব নৈব চ - মার্কেটে এলেও তা গলদা চিঙড়ি, আলফানসো আমের সাথে একই সোশ্যাল ক্যাটাগরিতে ঠাঁই পেত। একমাত্র এই কলা নিয়ে ভাবতে গেলেই আমার মনে হয় ডারউইন সাহেব কোথাও একটা ছোট ভুল করে গেছেন। অভিযোজন ও বিবর্তন যে কেবল হাজার বা মিলিয়ন বছরের স্কেলে হয় তাই নয় – কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিবর্তন ১০-১৫ বছরেও চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করা যায়! এই যেমন ১৯৯২ থেকে ২০১১ এর মধ্যে কলার বিবর্তন। আগে চাঁপা কলার কি সুন্দর গড়ন ছিল – আহা – ওই জন্যই কবিরা তুলনা দিতেন চাঁপা কলার মতন [যাকে সংস্কৃতে চম্পক কলি বলে] আঙুল বিবৃত করে। যাই হোক সেই চাঁপা কলা এখন ছোট ছোট হতে হতে প্রায় হাতের কড়ে আঙুলের মতন হয়ে গেছে। বুদ্ধিমানেরা বলে এটা হয় একেবারে কাঁচা অবস্থাতেই গাছ থেকে মাল সরিয়ে নেবার জন্য, সময় দিলে তারা নাকি আরো বাড়ত! আমার সিনিক্যাল মন বলে চাঁপা কলা গাছে রেখে দিলেও আর বাড়বে না। গ্লোবাল ডিপ্রেশনের যুগে তাদের মাথাতেও এটাই ঘুরবে যে আর বেড়ে কি হবে! বরং সারভাইভ্যাল অব দ্যা ফিটেষ্ট তত্ত্ব অনুসারে তারা আরও ছোট হতে সুরু করবে মনুষ্য দৃষ্টিকে ফাঁকি দেবার জন্য।

অন্যদিকে কাঁঠালি কলা ছেলেকে চেনানোর জন্য আপনাকে কোন বিশেষ ছবি বা জুয়োলজির ক্লাসের সাহায্য নিতে হবে না – সিম্পলি বলবেন যে দোকানের সামনে সবচেয়ে কুৎসিত যে কলার ছড়াগুলি ঝুলছে তাহাই কাঁঠালি কলা! কাঁঠালি কলা ছাড়া পূজো হয় না কেন এবং সিঙ্গাপুরী কলার নামকরণের ইতিহাস এই দুই বিষয়ে আমি নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী ও বারিদবরণ ঘোষের সাথে চিঠি চালাচালি করব ঠিক করেছি শীঘ্রই। কাঁঠালি কলা আমার এমনিতে ঠিক লাগলেও সামান্য প্রবলেম আছে ওর বীচি নিয়ে। সিঙ্গাপুরী কলার পতনের ইতিহাসও প্রায় চাঁপা কলার মতনই। আগে সিঙ্গাপুরী কলা ছিল মোটা ও ঈষৎ বাঁকানো - এখন তাদের অবস্থা অপুষ্টি ও দূর্ভিক্ষ ছাপ মার্কা। খোসা মোটা হয়েছে ক্রমশঃ এবং শাঁস হয়েছে সীমিত। ফলে একটা কলা, টুকরো পাঁউরুটি ও একটি ডিম দিয়ে স্কুলের স্পোর্টসের টিফিন করা যায় না। মিনিমাম তিনটি কলা লাগে, নাহলে ওই স্ট্রং পাঁউরুটি গলা দিয়ে নামানোর জন্য যে পরিমাণ লুব্রিকেশন দরকার তা একটা কলা থেকে পাওয়া ক্রমশঃ দুঃসাধ্য হয়ে উঠছিল।

ইনফ্যাক্ট এখনকার প্রাণী ও উদ্ভিদ সকলেই অকালপক্ক। উদ্ভিদ জগতের অকালপক্কতার পিছনে প্রধান অবদান ছিল কার্বাইডের। আজকাল কিলিয়ে কিছুই পাকাতে হয় না – এমনকি কাঁঠালও! যা পাকাতে চান চটের বস্তার ভিতর কার্বাইডের টুকরো সহ রেখে দিন – ব্যাস খেল খতম। ফেয়ার অ্যাণ্ড লাভলির থেকেও কার্বাইডের জোড় বেশী - ফেয়ার অ্যাণ্ড লাভলি রঙ ফেরায় সাতদিনে, আর কার্বাইড এফেক্ট ওভারনাইটে!

কলা কেনা সহজ ছিল আরও একটা কারণে – তা হল টক মিষ্টির কোন ব্যাপার ছিল না তার মধ্যে। কলার মিষ্টতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করতে বা তর্ক ফাঁদতে আমি চরম স্কেপটিকদেরও দেখি নি! মেমারী স্টেশন বাজারে কোচনদার রেডিও সারাইয়ের দোকান ছিল সাথে সাইকেল স্ট্যান্ড। রেডিও বাজার থেকে ক্রমশঃ উঠে যাবার জন্য কোচনদা তাদের অন্য একটা ঘরে এক বিহারীকে (যাকে বাঙালী বললে রেগে যেত) কলার গোডাউন করার পারমিশন দেয়। ফলে আমরা কলার কাঁদিগুলোর কৈশোর না দেখলেও যৌবন ও বার্ধক্য দেখেছি দেদার। তবে কলার কৈশোর আমার কাছে নতুন কিছু ছিল না। আমার গ্রামে অন্য যে কোন গড়পড়তা বাংলা গ্রামের মতই কলা গাছের ছড়াছড়ি ছিল। তবে অনেকেও হিসেব করে দেখেছিল খাবার কলার থেকে কাঁচাকলার চাষ বেশী লাভজনক। বাঙালী প্রি-হিষ্টরিক যুগ থেকে পেট-পাতলা বলে কাঁচাকলা ও ডুমুরের চাহিদা বাজারে কনস্ট্যান্ট রাখতে পেরেছে। আলু, ধান চাষ করে চাষী আত্মঘাতী হয়েছে নিয়মিতই – কিন্তু কাঁচাকলার চাষ করে ক্যালামিটির খবর আমার কাছে বিশেষ নেই। যে কাঁচাকলাকে আমি কৈশোরে দুরছাই করেছি, সেই কাঁচাকলাকেই যৌবনে বিদেশের সুপারমার্কেটে ‘প্ল্যানটেন’ নামে শোভিত হতে দেখেছি। লিটারেলি ‘কলাপোড়া’ খাওয়াকে ডেলিকেসি বলে চালানো হয় যেখানে।

আমি যখন প্রথম চাকুরী করতে ঢুকি ব্যাঙ্গালোরে তখন কোম্পানীর নিয়মানুসারে গেষ্টহাউসে প্রথমে থাকা যেত। সেই সময় আমার সাথে গেষ্টহাউসে এক ডাচ ছোকরা ছিল যাকে দেখতাম রোজ সকালে ব্রেকফাষ্ট করার সময় এক থালা করে পেঁপে খাচ্ছে। বেশী পেঁপে খাওয়া আমার কাছে তখনও গরুর খাবার কথা মনে করাত। আমার গ্রামের বাড়িতে হাইব্রীড পেঁপে আমদানী হবার আগে পর্যন্ত গরুরা বেশ আয়েশ করেই পেঁপে খেত। গাছে যত পেঁপে ফলত খাবার লোক তত ছিল না, পেঁপে কেনার লোক তো আরোই না। ফলে উদবৃত্ত পেঁপে যেত গরুর পেটে। সেই ব্যাকগ্রাউণ্ড থেকে এসে আমি ডাচ ছোকরার অতো পেঁপে খাবার কারণ বুঝতে না পেরে একদিন জিজ্ঞাসাই করে ফেললাম। যা উত্তর পেলাম তার সারমর্ম হল হল্যাণ্ডে পেঁপে জিনিসটা ডেলিকেসি এবং সব সময় কেনার সাধ্য করা যায় না – তাই সে যত পারে খেয়ে পুষিয়ে নিচ্ছে! যুগ বদলেছে – গত বছর আমি মেমারী স্টেশন বাজার থেকে হাইব্রীড পেঁপে কিনেছি ৫০ টাকা কিলো দরে (মাষ্টারের ছেলে বলে ছাড় সহ) – এবং আমষ্টারডাম সুপারমার্কেটে পেঁপে দেখছি অস্বাবাভিক দামে, অদ্ভূত সাইজ ও শেপে।

তা যা বলছিলাম, আমাদের ছোটবেলায় পেঁপে বিক্রী ফলের দোকানে অতো প্রচলিত ছিল না – পেঁপে বিক্রী হত অকেশন অনুসারে – পূজা, নবান্ন ইত্যাদি সময়ে। পেঁপের আকার ক্রমশঃ বড় হতে শুরু করল – আর বীচি ক্রমশঃ কমতে। একসময়ে বুদ্ধিমানেরা (আমাদের দিকে বুদ্ধিমান বলতে বাঙালদেরই বোঝাত জেনারেলি, ঘটিরা খুব একটা চালাকচতুর ছিল না এই সব ব্যাপারে) আবিষ্কার করল যে পেঁপের স্বাদ পেঁপের বীচির সংখ্যার সাথে ব্যাস্তানুপাতে পরিবর্তিত হয়। ফলে সবাই পেঁপে কিনতে গিয়ে বীচি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ত। বীচি আছে কি নেই এই দার্শনিক প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে দোকানদারেরা একসময় ক্লান্ত হয়ে পড়ল। দেশী পেঁপে ফলের দোকানে দড়ি দিয়ে ঝোলানো যেত তখন – এখন হাইব্রীড পেঁপে কেবল তরমুজের মত জমিতে গড়িয়েই বিক্রী করতে হয়। আর তা ছাড়া ডাক্তারেরা কোন ফলের পুষ্টিগুণ বেশী সেই ধাঁধার সমাধান এখনও না করতে পারায় আপেল, পানিফল, ন্যাশপাতির সাথে পেঁপেও স্বাস্থ্য সচেতনতার উপকথায় সামিল ছিল।

কাঁঠাল ছিল সিজেন্যাল ফ্রুট – মানে গরম ছাড়া পাকত না। কাঁঠাল খাবার কদর অসভ্য বাঙালীদের মধ্যে ক্রমশঃ কমে আসছে। সভ্য বাঙালীরাই এখনও কাঁঠাল নিয়ে নাড়াচাড়া করেন। কাঁঠাল বিক্রীর দোকান ছিল গড়পড়তা ফলের দোকানের থেকে আলাদা। মূল কাঁঠাল বিক্রী হত গোডাউন থেকে – মাল লাট করা থাকত অবহেলায়, অযত্নে ও অসহযোগীতায়। কাঁঠালের ফেস ভ্যালু কোনদিনই আম বা আপেলের মত ছিল না। আম-আপেল নায়ক হলে কাঁঠাল বড়জোর সহ চরিত্রাভিনেতা। তেমন কাঁঠাল হলে ১২ রিলের বছরে ২ রিল উপস্থিত থেকেই ময়দান কাঁপিয়ে দেবে। কাঁঠালের জনপ্রিয়তা হারানোর আরো একটা মূল কারণ হল কাঁঠাল ভাঙার জটিলতা ও বাঙালীর অকারণ স্বাস্থ্য সচেতনতা। বাঙালী জামাই স্লিম হচ্ছে, জিম করছে এবং শ্বশুরবাড়ি গিয়ে খাসীকে চিকেন এবং কাঁঠালকে রিপ্লেস করছে অন্য ফল দিয়ে। আর তা ছাড়া সর্ষের তেলটাও একটা ফ্যক্টর। বাঙালী হেঁসেল থেকে খাঁটি সর্ষের তেল উধাও (কিনা কোলষ্টেরল বাড়বে!) ফলে কাঁঠাল ভাঙার অসুবিধা। আনারস ছাড়াবার কল আবিষ্কৃত হলেও এখনো পর্যন্ত কাঁঠালকে অন্যভাবে খালাস করার যান্ত্রিক পদ্ধতি আমার চোখে পড়ে নি। দুই হাতে কনুই পর্যন্ত ভালো করে সর্ষের তেল মেখে কাঁঠালের ভিতর অনুপ্রবেশ করতে হয়। দুই প্রকার কাঁঠাল জনপ্রিয় – খাজা কাঁঠাল ও রস কাঁঠাল। খাজা কাঁঠাল ড্রাই টাইপের, রস কম। আর রস কাঁঠাল গলায় দেওয়ামাত্র সুরুত করে পেটে, রসে টইটম্বুর। আমাদের কৈশোরকালে রথের মেলায় গিয়ে কাঁঠাল ভেঙে খাওয়া একপ্রকার প্রথার মধ্যেই ছিল।

বাঙালীর খাদ্যরসিকতার সাথে পেয়ারার সম্পর্কটা আমি আজও ঠিক ঠাক ঠাওর করতে পারি নি। পেয়ারার গল্প শরৎ, বিভূতিতেই সীমাবদ্ধ – কমলকুমার বা সন্দীপন পর্যন্ত আর সে পৌঁছতে পারে নি। আজকাল ট্রেন্ডী বাঙালীরা ডাইনিং টেবিলে ফলের ঝুড়ি রাখাছে – তাতে আপেল, আঙ্গুর থাকলেও পেয়ারা নৈব নৈব চ। কিন্তু পেয়ারার সাথে আমার বেশ কিছু শৈশবকাল ও রোমাণ্টিসিজম জড়িয়ে আছে। আমার কৈশোর জীবনের বেশ কয়েক পার্সেণ্ট সময় পেয়ারা গাছের ডালে কেটেছে! অন্য অনেক ফলের মতই পেয়ারারও দুই ভাগ – দেশী ও বিদেশী। পেয়ারা অবশ্যই বিদেশ থেকে এনে বিক্রী করা হত না আমাদের দিকে – দেশী পেয়ারার ভিতরটা লাল এবং বীচি শাঁসের তুলনায় বেশী। অন্যদিকে বিদেশী পেয়ারাকে কোন এক অজ্ঞাত কারণে আমরা ‘কাশ্মীরি’ পেয়ারা বলতাম, তাতে সাদা শাঁস বেশী কিন্তু বীচি কম থাকত। মেমারী স্টেশন বাজারের ফলের দোকান গুলিতে দেশী পেয়ারা বিক্রী প্রায় হতই না। তারও অনেক পর শুরু হয়েছিল বারুইপুরের পেয়ারার আগমণ। আমার সাথে বারুইপুরের পেয়ারার পরিচয় প্রথম হয়েছিল বর্ধমান রেল স্টেশনের ঠিক বাইরে। সেই প্রথম আমি পেয়ারাকে কিলো দরে বিক্রী হতে দেখি, তার আগে ছিল পিস। পেয়ারার বিবর্তন রসগোল্লার বিপরীত – রসগোল্লা আমাদের দিকে কিলো থেকে পিসে নেমে এসেছিল। তাছাড়া পলিথিন ব্যাগের সাথে এক অঙ্গাঙ্গী সম্পর্ক ছিল এই দুইয়ের সাথেই – রসগোল্লা মাটির হাঁড়ি থেকে স্থানান্তরিত হল পলিথিনে আর বারুইপুরের পেয়ারা গাছেই আশ্রয় পেল পলি গহ্বরে। আমরা ছেলেবেলায় গাছের পেয়ারা ন্যাকড়া জড়িয়ে রাখতাম পাখির হাত থেকে বাঁচানোর জন্য – সে দৃশ্য সুখের ছিল না। কিন্তু গাছ থেকে পলিথিনের ভিতর পেয়ারা ঝুলছে – এ দৃশ্য শুধু অসুখের নয়, ভীতিকরও বটে!

শসা নিয়ে আমি বিশেষ নাড়াচাড়া করতে চাইছি না। কারণ ইহা ফলের দোকানে বিক্রী হলেও কোনদিনই ফলের মর্যাদা লাভ করে নি। তা ছাড়া আজকাল হাইব্রীড শসায় দেশ ছেয়ে গেছে। ফলতঃ বয়স্করা মনকষ্টে ভুগছেন দেশী শসা দিয়ে মুড়ি খাবার পুরানো স্মৃতি রোমন্থন করে। ছোকরারা মুড়ি ছেড়ে এখন টিফিন করা শিখেছে (যদিও এখনো কিছু রিটায়ার্ডমুখী সরকারী কর্মচারী মুড়ি দিয়ে টিফিন সারার কথা বলেন) যেখানে শসার পরিচয় কেবল স্যালাডের অঙ্গ হিসাবেই। শসার অবস্থা আগের দিনের জয়েন্ট ফ্যামিলিতে বিধবা পিসিদের মতন – সুখে আছে, দুঃখে আছে, কিন্তু কোন মর্যাদা নেই!

আরো বেশ কিছু ফল দেখা যেত মেমারী স্টেশন বাজারে – সেই গুলি নিয়ে পরের বার ......



522 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: de

Re: ফাইভ ফ্রুটস্‌ এ ডে

বেশ লেখেন আপনি - ঝরঝরে, সুখপাঠ্য লেখা। কোন এক কারণে খুব রিল্যাক্সড লাগে আপনার লেখাগুলো পড়লে।
Avatar: i

Re: ফাইভ ফ্রুটস্‌ এ ডে

সুকান্তবাবুর লেখার সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় বোধ হয় ২০১১র পুজো স্পেশালের প্রথম ভাগের 'এক গঞ্জের ইতিবৃত্ত এবং কিছুটা স্মৃতিমেদুরতা ' দিয়ে। খুবই ভালো লেগেছিল।তার পর থেকে এখানে প্রকাশিত সব লেখাই পড়ার চেষ্টা করেছি। সবসময় পেরেছি তাও নয়।
গঞ্জের ইতিবৃত্তে একদম শেষে কটা লাইন ছিল এই রকমঃ
"জীবনকে তুমি যত টেনে ধরবে তত খটখটে হয়ে যাবে উঠোন - চারপাশ চারাগাছ চারাগাছ - তলা বেয়ে বেয়ে ভালোবাসা ভুলে যাও ।।।

আমি তাই জীবনকে টেনে ধরিনি। ... আমরা জীবনের কাছে শুনেছি আর হেসেছি...'

সুকান্তবাবুর লেখা পড়লেই আমার এই লাইনগুলো মনে পড়ে।

ইতি ছোটাই
Avatar: সে

Re: ফাইভ ফ্রুটস্‌ এ ডে

হাসতে হাসতে পেট ফেটে গ্যালো।
Avatar: lcm

Re: ফাইভ ফ্রুটস্‌ এ ডে

হা হা।
প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহেই আমাদের পাড়ার দোকানে এক বিক্রেতা অ্যাসিসট্যান্ট ছোকরা দেখি একের পর এক তরমুজে কান ঠেকিয়ে গাঁট্টা মেরে আওয়াজ শুনছে, এক মেম বুড়ি (ক্রেতা) চুপটি করে দাঁড়িয়ে দেখছে। আমাকে একটা হাতে দিয়ে বলল, দেখো তো শুনে ভেতরে সলিড না হলো মনে হচ্ছে।
Avatar: শঙ্খ

Re: ফাইভ ফ্রুটস্‌ এ ডে

সুকি কে চেপে ধরতে হবে। প্রায় সব লেখাতেই দু একটা গল্পের সুতো ছেড়ে গিয়ে বলে, সে গল্প অন্য কখনও অন্য কোনও পর্বে...
এই সুতো গুলো কিন্তু হিসেবের খাতায় জমা হচ্ছে বস
Avatar: ব

Re: ফাইভ ফ্রুটস্‌ এ ডে

সুখপাঠ্য লেখা। খুব উপভোগ করলাম। ঃ))

খালি ২ টো পয়েন্ট। রস কাঁঠাল কে আমরা রসা কাঁঠাল বলতাম। দুটো ই মনে হয় চলে।

আর অসহযোগিতা। অসহযোগী কিন্তু অসহযোগিতা। আশা করি কিছু মনে করবেন না।
Avatar: ঊমেশ

Re: ফাইভ ফ্রুটস্‌ এ ডে

সুকি, আমি কি তোমায় চিনি?
আমি মেমারি বিদ্যাসাগর (ইউনিট-২) থেকে ৯১ এর উঃ মাঃ

তোমার আগের লেখা তেও মেমারী স্টেশন কথাটা এসেছিল, কিন্তু তখন কেন যেন কিছু বলা হয় নি।
Avatar: ঊমেশ

Re: ফাইভ ফ্রুটস্‌ এ ডে

মেমারী স্টেশনের ফল বিক্রেতা দের কয়েকজন আমার স্কুল-ফ্রেন্ড ছিল, ফাইভ থেকে নাইন পর্যন্ত কয়েকজন ছিল, পরে আর এগোয় নি। (ইলিয়াস, অসীম আরো কেউ)
Avatar: Bratin

Re: ফাইভ ফ্রুটস্‌ এ ডে

বোঝো। দারুন ব্যাপার!! ঃ)
Avatar: সুকি

Re: ফাইভ ফ্রুটস্‌ এ ডে

সকলকে ধন্যবাদ।

'i' - আপনি যে আমার লেখা মনে রেখেছেন সেটা দেখেই আমি আপ্লুত - একজন লেখকের এর থেকে বড় পাওনা আর কি হতে পারে।

ল্যামিদা - গল্প তো অনেক আছে। সে তো তোমারও আমার থেকে আরো বেশী আছে। তুমি যে কেন আজকাল আর বেশী লিখছ না এখানে কে জানে! লেখো না এখানে প্লীজ -

'ব' - আরে না, না, মনে করব কেন। ভালো করলেন পয়েন্ট আউট করে বানান ভুলটা। তবে আমাদের দিকে ওই 'রস' কাঁঠালই বলতাম।

উমেশদা,
দাদাই বলছি কারণ আমি ওই ইউনিট-২ থেকে ১৯৯৫ সালে উঃ মাঃ। তোমার আসল নামও কি উমেশ? ঠিক মনে করতে পারছি না ওই নামের কাউকে। আমার বাড়ি একচ্যুয়ালী মেমারীর পাশে নিমোতে। তবে জীবনের বেশীর ভাগটাই মেমারী - মেমারী স্টেশন বাজারেই কেটেছে বলা যেতে পারে। মেমারীর কিছু কমন যোগসূত্র যদি দাও চেনা শুনা হয়ে যেতে পারে। কালুদার বুক স্টল থেকে, মিথিলেশ/নরেশদার কোল্ড ড্রিংকসের দোকান, মধুর ভাগনে বাপির পানের দোকান এখানে ওই সব জায়গাতে কাউকে আমার নাম করলেই চিনবে। মিথিলেশের দোকানের পিছনে ঔষধের দোকান (শ্রী দূর্গা মেডিক্যাল হল টা আমাদের)। তাছাড়া পুরানো দিনের স্কুল টিচাররাও চেনা যোগ সূত্র হতে পারে।
Avatar: কল্লোল

Re: ফাইভ ফ্রুটস্‌ এ ডে

এমন ফলন্ত লেখা। বড়ো ভালো লাগলো।
আপনি ব্যাঙ্গালোরে ছিলেন? তবে তো ব্যাঙ্গালোরের ফল নিয়ে কিছুমিছু আশা করছি। আভাকাডো (যাকে এখানকার লোকে বাটার ফ্রুট বলে), প্লাম, আঞ্জির আর ইয়া ইয়া কালোজাম।
আপনার পরের কিস্তির আশায় রাইলাম।

Avatar: ঊমেশ

Re: ফাইভ ফ্রুটস্‌ এ ডে

সুকি,
হ্যা আমি উমেশ।
আমাদের আড্ডাটা ছিল জয়ন্তী সিনেমা'র সামনে জামাল'দার সাইকেল দোকানে আর ডাক-বাংলো তে (খাঁড়ো পার করে)।

বাসুদেব স্যার (অংকের টিচার) এর ছেলে আমার ক্লাস-মেট, এখনো যোগাযোগ আছে।

তুমি কি রবি (আর জি কর থেকে পাস করেছে) দের ব্যাচ-মেট?
আমি রবিদের পাড়ার ছেলে (হাটপকুর)

কালু'দা আমাকে চিনতে পারে। আমি বাল্লু-সন্জয়ের বন্ধু।
পল্লব, পলাশ, শর্মিষ্ঠা, ললিত, কেশব, অনুভু, প্রনবেশ (রসুলপুল স্কুলে), সব আমাদের ব্যাচ।

Avatar: একক

Re: ফাইভ ফ্রুটস্‌ এ ডে

ফল খেতে প্রচুর মুখ নাড়াতে হয় । তবে,মদের মুখে ভালো ।
Avatar: শঙ্খ

Re: ফাইভ ফ্রুটস্‌ এ ডে

সুকি, আমি ল্যামি দা নই, আরেক শঙ্খ। ঃ) ল্যামিদার নিক হলো Lama। গুরুতে দুজনে বরাবরই আলাদা নামে লিখি।
Avatar: সুকি

Re: ফাইভ ফ্রুটস্‌ এ ডে

সে,
আগের পোষ্টে আপনার জন্য কিছু কথা লেখার ছিল - বলতে চাইছিলাম যে আপনার ওই সুইজারল্যাণ্ডের এক্সপিরিয়েন্স গুলি যে ভাবে শেয়ার করেন পড়তে খুব ভালো লাগে। আসলে নিজে জড়িয়ে না পড়ে নিরপেক্ষ দেখার ক্কমতা সবার থাকে না - তাই অনেকের এক্সপিরিয়েন্স লেখা হয় তিনি যা বিশ্বাস করেন সেটা সমর্থন করতে। কিন্তু আপনার লেখা গুলি তাদের থেকে আলাদা। আমি এক কালে সুইস লাইট সোর্সে (পল শেরার ইনস্টিটিউশন) প্রায়ই যেতাম সিংক্রোটন নিয়ে নাড়াঘাঁটা করতে - জুরিখ থেকে গাড়িতে। সুইজারল্যান্ড নিয়ে অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে, খাবার গল্পও - ভীল ও রোসটি সে কি এক ডিস্‌ ছিল - আহা!

কল্লোলদা,
আমি ১২-১৪ বছর আগে ব্যাঙ্গালোরে ছিলাম - তখনো মল কালচার এতো তীব্র হয় নি। আর অ্যাভোগাডো-র প্রতি আজকাল আমার বিতৃষ্ণ ধরিয়ে দিয়েছে বউ, ওই অ্যাভোগাডো পাস্তা খাইয়ে খাইয়ে। আমি ঠিক জানি না ব্যাঙ্গালোরে লোকেরা কি ভাবে অ্যাভোগাডো ব্যবহার করে। তবে ব্যাঙ্গালোর নিয়ে কিছু লেখার ইচ্ছে আছে।

উমেশদা,
আরে তুমি তো তাহলে আমার ঘরের লোক বেরোলে গো! তা আজকাল কি যাও নাকি মেমারী? আর জামালদার সাইকেলের দোকান, অর্জুনের মোগলাই, অর্জুনের বউ স্বপ্নার বিউটি পার্লার - এই নিয়েই তো আমাদের কৈশোর। হাটপুকুরে আমি খুব বেশী আড্ডা মারি নি, ওই শুভাশীসদের সারের দোকান ছাড়া - তবে ডি ভি সি পাড়ায় অনেক অনেক সময় কেটেছে - এম সি সি (ওই তপা-দা দের ক্রিকেট ক্লাব), অভিযান সংঘ এই সব।

আমি রবিদের ব্যাচের নই - মনে হয় আমি রবিদের আগের বা পরের ব্যাচ, আমার বি ই কলেজ। বাসুদেব স্যারের সাথে অনেকদিন দেখা হয় না - তুমি তা হলে স্যারের ছোট ছেলের ক্লাসমেট ছিলে, কি করে এখন স্যারের ছেলে? আর পল্লবদা বলতে কি ওই পল্লব যে পরে মেমারী স্কুলেতেই পার্ট টাইম মাষ্টারী করতে ঢোকে?

আমার মেমারী নিয়ে আরো দু-একটা পর্ব আছে, এখানে দেবো - সবই তোমারো চেনা হবে।

Avatar: সুকি

Re: ফাইভ ফ্রুটস্‌ এ ডে

এই রে, তা হলে ছড়িয়েছি শঙ্খ - মানে আমি জানি যে লামা নামে শঙ্খদা লেখে, কিন্তু দুই শঙ্খ যে আলাদা সেটা ঘুলিয়ে ফেলেছিলাম। আমারই ফল্ট - সরি

একক,
কিছু ফল খেতে অবশ্যই মুখের নাড়াচাড়া হয় - এমনকি শোনা গ্যাছে ডাক্তারের অবধি নাকি ফল খেতে পরামর্শ দেয় দাঁতের তথা চোয়ালের ব্যায়াম হবে বলে, পুষ্টিগুণ ফাউ। তবে মদের সাথে ফল খাওয়াটা কোন ক্লাসিক জিনিস বলে আমার মনে হয় না - এটা বাঙালীদের আবিষ্কার কিনা খুঁজে দেখতে হবে।
Avatar: কল্লোল

Re: ফাইভ ফ্রুটস্‌ এ ডে

বোঝো। মদের সাথে ফল, সে তো ওমর খৈয়াম টাইপের যেকোন ছবিতেই গুচ্ছ গুচ্ছ। সিরাজীর সাথে থোকা থোকা আঙুর, আপেল ইঃ ইঃ।
একটু টক আপেল ঝালনুন দিয়ে ভোদকার সাথে বেশ জমে। কালোজাম থেঁতলে নুন লঙ্কা দিয়েও দিব্য।

আভাকাডো ব্যাঙ্গালোরে মিল্ক শেক করে খায় আপামরজনে। এছাড়া কিনতে পাওয়া যায় কিছু কিছু ফলের দোকানে। সাংঘাতিক দাম। শুনেছি স্যান্ডুইচ করে খায়, তাই নাম বাটার ফ্রুট।
আমি এমনি এমনি খেয়ে দেখেছি, খুব একটা আহামরি কিছু না, তবে অন্যরকম।

Avatar: সে

Re: ফাইভ ফ্রুটস্‌ এ ডে

সুকি,
হ্যাঁ, এইমাত্র দেখলাম আপনার কমেন্ট। তারমানে আপনি আমার প্রতিবেশী ছিলেন। (:-)) লিখুন না রোয়েষ্টি নিয়ে। মন দিয়ে পড়ব।
Avatar: ঊমেশ

Re: ফাইভ ফ্রুটস্‌ এ ডে

সুকি,
স্নেহাশিস (বাসুদেব স্যার এর ছেলে) এখন গুজরাতে। construction সেক্টরে আছে।

না, পল্লব মাস্টারী করে না।

ডিভিসি পাড়া'র তিলক/রতন আমার ভালো বন্ধু ছিল।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন