অনিকেত পথিক RSS feed

[email protected]
নামেই পরিচয়

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
    ভারত আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র - মিল কতটুকু?একটি দেশ যদি বিশ্বের সবচাইতে শক্তিশালী অর্থনীতি হয়, আরেকটির হাল বেশ নড়বড়ে - মানুষের হাতে কাজ নেই, আদ্ধেক মানুষের পেটে খাবার নেই, মাথার ওপরে ছাদ নেই, অসুস্থ হলে চিকিৎসার বন্দোবস্ত নেই। অবশ্য দুর্জনেরা বলেন, প্রথম ...
  • দক্ষিণের কড়চা
    গরু বাগদির মর্মরহস্য➡️মাঝে কেবল একটি একক বাঁশের সাঁকো। তার দোসর আরেকটি ধরার বাঁশ লম্বালম্বি। সাঁকোর নিচে অতিদূর জ্বরের মতো পাতলা একটি খাল নিজের গায়ে কচুরিপানার চাদর জড়িয়ে রুগ্ন বহুকাল। খালটি জলনিকাশির। ঘোর বর্ষায় ফুলে ফেঁপে ওঠে পচা লাশের মতো। যেহেতু এই ...
  • বাংলায় এনআরসি ?
    বাংলায় শেষমেস এনআরসি হবে, না হবে না, জানি না। তবে গ্রামের সাধারণ নিরক্ষর মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আজ ব্লক অফিসে গেছিলাম। দেখে তাজ্জব! এত এত মানু্ষের রেশন কার্ডে ভুল! কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানলাম প্রায় সবার ভোটারেও ভুল। সব আইকার্ড নির্ভুল আছে এমন ...
  • যান্ত্রিক বিপিন
    (১)বিপিন বাবু সোদপুর থেকে ডি এন ৪৬ ধরবেন। প্রতিদিন’ই ধরেন। গত তিন-চার বছর ধরে এটাই বিপিন’বাবুর অফিস যাওয়ার রুট। হিতাচি এসি কোম্পানীর সিনিয়র টেকনিশিয়ন, বয়েস আটান্ন। এত বেশী বয়েসে বাড়ি বাড়ি ঘুরে এসি সার্ভিসিং করা, ইন্সটল করা একটু চাপ।ভুল বললাম, অনেকটাই চাপ। ...
  • কাইট রানার ও তার বাপের গল্প
    গত তিন বছর ধরে ছেলের খুব ঘুড়ি ওড়ানোর শখ। গত দুবার আমাকে দিয়ে ঘুড়ি লাটাই কিনিয়েছে কিন্তু ওড়াতে পারেনা - কায়দা করার আগেই ঘুড়ি ছিঁড়ে যায়। গত বছর আমাকে নিয়ে ছাদে গেছিল কিন্তু এই ব্যপারে আমিও তথৈবচ - ছোটবেলায় মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল ঘুড়ি ওড়ানো "বদ ছেলে" দের ...
  • কুচু-মনা উপাখ্যান
    ১৯৮৩ সনের মাঝামাঝি অকস্মাৎ আমাদের বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ(ক) শ্রেণী দুই দলে বিভক্ত হইয়া গেল।এতদিন ক্লাসে নিরঙ্কুশ তথা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করিয়া ছিল কুচু। কুচুর ভাল নাম কচ কুমার অধিকারী। সে ক্লাসে স্বীয় মহিমায় প্রভূত জনপ্রিয়তা অর্জন করিয়াছিল। একটি গান অবিকল ...
  • 'আইনি পথে' অর্জিত অধিকার হরণ
    ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম ও কর্পোরেট পুঁজির স্বার্থে, দীর্ঘসংগ্রামে অর্জিত অধিকার সমূহকে মোদী সরকার হরণ করছে— আলোচনা করলেন রতন গায়েন। দেশে নয়া উদারবাদী অর্থনীতি লাগু হওয়ার পর থেকেই দক্ষিণপন্থার সুদিন সূচিত হয়েছে। তথাপি ১৯৯০-২০১৪-র মধ্যবর্তী সময়ে ...
  • সম্পাদকীয়-- অর্থনৈতিক সংকটের স্বরূপ
    মোদীর সিংহগর্জন আর অর্থনৈতিক সংকটের তীব্রতাকে চাপা দিয়ে রাখতে পারছে না। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে ভারতের অর্থনীতি সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। সংকট কতটা গভীর সেটা তার স্বীকারোক্তিতে ধরা পড়েনি। ধরা পড়েনি এই নির্মম ...
  • কাশ্মীরি পন্ডিত বিতাড়নঃ মিথ, ইতিহাস ও রাজনীতি
    কাশ্মীরে ডোগরা রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হবার পর তাদের আত্মীয় পরিজনেরা কাশ্মীর উপত্যকায় বসতি শুরু করে। কাশ্মীরি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মানুষেরাও ছিলেন। এরা শিক্ষিত উচ্চ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেনি। দেশভাগের পরেও এদের ছেলেমেয়েরা স্কুল কলেজে পড়াশোনা করেছে। অন্যদিকে ...
  • নিকানো উঠোনে ঝরে রোদ
    "তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে ?আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে ..."সেই অক্ষরগুলোকে ধরার আরেকটা অক্ষম চেষ্টা, আমার নতুন লেখায় ... এক বন্ধু অনেকদিন আগে বলেছিলো, 'আঙ্গুলের গভীর বন্দর থেকে যে নৌকোগুলো ছাড়ে সেগুলো ঠিক-ই গন্তব্যে পৌঁছে যায়' ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

পালাবার পথ নেই

অনিকেত পথিক

১।
এমনিতে যা যা নিয়ে ভাবি, মাথা ঘামাই, তর্ক করি যেমন ছেলে-মেয়ে ভেদাভেদ বা কলকাতার পরিবহন সমস্যা, বাঙলা ভাষার অবনতি বা রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষতা।।।ইত্যাদি ইত্যাদি, আমি নিজে সেই সব সমস্যার ভুক্তভোগী হই বা না হই, বিষয় হিসেবে সেগুলো খুব এলেবেলে নয়। কিন্তু গত কয়েকদিনের খবরের কাগজ পড়তে পড়তে এই সব কিছুই যেন অকিঞ্চিৎকর হয়ে যাচ্ছে। চোখের সামনে শুধু দেখতে পাচ্ছি একটা কিশোর রাস্তায় কাজ করতে গিয়ে লুটিয়ে পড়ল, তার দাদার চোখের সামনে পড়েই থাকল, তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া গেল না।।।ঢিল ছোঁড়া দুরত্বে পুলিশ গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে। আলের ওপর দিয়ে প্রাণভয়ে দৌড়চ্ছে মা-মেয়ে (কোনো অপরাধ করেনি তারা)পেছনে উন্মত্ত জনতা, দৌড়তে দৌড়তে তারা ঝাঁপিয়ে পড়ল খালের জলে, বাঁচাবার কেউ নেই।।।তবু তারা বেঁচে ফিরল, কি করে কে জানে ! পুলিশ একটু দূরে দর্শক। স্বামীর খুনের অভিযোগ জানাতে এসেছেন সদ্য স্বামীহারা মহিলা, সেখানে বসে অভিযোগপত্র ছিঁড়ে ফেলছেন অভিযুক্ত স্বয়ং, পুলিশ নীরব দর্শক। এইসব যে সমাজের ছবি, অর্থাৎ যে সমাজে বা যে ব্যবস্থায় বেঁচে থাকার ন্যূনতম অধিকারটুকুই স্বীকৃত নয়, সেই সমাজে কি সমানাধিকার বা ধর্মনিরপেক্ষতার ধারণা নিয়ে মাথা ঘামানো চলে ! নাকি তা নিতান্তই বিলাসিতা !
এমন নয় যে আগে কোনদিন এমন কথা শুনিনি বা দেখিনি; এই যে গুন্ডারা গুন্ডামি করছে, লুঠতরাজ, খুন-ধর্ষণ, যা যা সম্ভব, পুলিশ দাঁড়িয়ে দেখছে কিম্বা আক্রান্তকেই গ্রেপ্তার করছে, এই চক্রটাকে আমরা আগেও দেখেছি। কিন্তু এমনও তো নয় যে যা আগে দেখেছি-শুনেছি ঠিক সেই রকম বা তার চেয়ে কয়েক ডিগ্রি বেশি দেখে-শুনে চলাটাই নিয়ম বলে মেনে নিতে হবে। আর এমনও নয় এই ভাঙড়ে এই মাখড়ায় যা যা ঘটছেচ, আমার-আপনার সমানাধিকার বা নিরপেক্ষতা নিয়ে মাথা ঘামানো জীবনে সেসব ঘটতে পারে না বা ঘটছে না ! ওই মা-মেয়ে আজ বেঁচে ফিরেছে, কাল নাও ফিরতে পারে। কিন্তু ওই মা-মেয়ের জায়গায় আমি-আপনি থাকলে বেঁচে ফেরার কোন চান্সই নেই।।।কারণ আমাদের জীবনে এমন বাঘের সঙ্গে যুদ্ধ করে আমরা রোজ রোজ বাঁচিনা, বাঁচিনি। আমরা স্রেফ বিনা দোষে এবং বিনা প্রতিরোধেই মরে যাব।
কিন্তু আমরা যারা নেহাৎ জন্মসূত্রেই দুবেলা ভাত, মাথার ওপর ছাদ, ইস্কুলে যাওয়ার মত একটা ছোটবেলা মিলিয়ে মোটের ওপর একটা সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন পেয়েছি আর পেয়েছি বলেই ওই সততা, নিরপেক্ষতা, অধিকার ও কর্তব্য ইত্যাদি বায়বীয় বিষয় নিয়ে ভাবতে পারি, তাদের ভুলটা তাহলে কোথায় ? আমরা যারা কাউকে না হারিয়ে না কাউকে না ঠকিয়েই এই ভাবতে পারার সুযোগটুকু পেয়েছি আর এটাকেই স্বাভাবিক বলে ভাবতে শিখেছি অন্যায় কি তাদের ? কিন্তু অন্যায় কোনটা ? ওই স্বাভাবিক জীবন পাওয়াটা নাকি ভাবতে শেখাটা ! আজ যখন প্রতিমুহুর্তে নিজের বোধ ও বিশ্বাস ধাক্কা খায় অথচ ভুলটা কোথায় ধরতে পারি না তখন ভাবনাটাকেই অতিরিক্ত মনে হয়। না হলে উত্তরোত্তর যে অপরাধে একজন গ্রেপ্তার হবে বলে ভাবি সে শুধুমাত্র ‘বহিস্কৃত’ হয়েছে (কিম্বা সবসময় তাও হয় নি !) দেখেও কেন আমাদের কিচ্ছু করার থাকে না। একটা সামান্য প্রশ্ন তুললে বা একদল নির্যাতিত মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ালে কেনই বা দেশদ্রোহিতার অভিযোগে অভিযুক্ত হতে হয় ! নাগরিক অধিকারগুলোকে ‘সৌভাগ্য’ বলে না ভেবে ‘স্বাভাবিক’ বলে ভাবা এবং যারা সেগুলো পাচ্ছে না, তাদের বঞ্চিত ভবার যে প্রক্রিয়া আমাদের মধ্যে নিরন্তর জেগে থাকে, যাকে আমরা ‘সচেতনতা’ বলে ডাকি, সেইটা যে একেবারেই অতিরিক্ত, বর্তমান ব্যবস্থা সেইটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখাচ্ছে।

অথচ এটাই হবার কথা ছিল, যারা শিক্ষার আলো পেয়েছে তারা জীবনযাত্রার সূক্ষ্মতর উপাদানগুলো নিয়েও ভাববে, ভাববে তাদের হয়েও যারা জীবনযুদ্ধে দিন আনা দিন খাওয়ার কশাঘাতে এতটাই জর্জরিত যে আর কিছু ভাবার সময়ই পায় না । এর অন্যথা হলে কেমন হবে সেই গণতন্ত্রের চেহারা, যেখানে কোন প্রশ্ন নেই, সংশয় নেই, বিশ্বাসও নেই, কারণ কোন ভাবনাই নেই, যতক্ষন অবধি আগুন আপনার ঘর পর্যন্ত না পৌঁছোচ্ছে ! কিন্তু তাই বলে পালাবার পথ নেই, কারণ সর্বনাশ একদিন না একদিন আপনার ঘরেও হানা দেবে আর পুলিশ সেদিনও একটু দূরে পেছন ফিরে দাঁড়িয়েই থাকবে।

তাহলে ভুল হল কোথায় আর সংশোধনই বা হবে কিভাবে ? জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে আমাদের যে শিখতে হয়েছে, বিশ্বাস করতে হয়েছে যে কেউ যতই অন্যায় করুক আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যায় না, সেই শিক্ষার কি হবে ? এই প্রশ্ন তাই পুলিশের দুর্নীতির বিরুদ্ধে নয়, পুলিশ এখানে একটি অবস্থান মাত্র। যে শাসনযন্ত্র গণতন্ত্রের এই শক্তিশালী উপাদানটাকে ক্রমাগত ধ্বংস করে চলেছে, যার মূল্য দিতে হচ্ছে গোটা সমাজকে প্রশ্নটা সেইখানে। কারণ তারা জানে না, পালাবার পথ নেই তাদেরও ।

২।

বছরটা শুরু করেছিলাম মৃত্যু দিয়ে। তারপর সারাবছর একটা মৃত্যু থেকে আর একটা মৃত্যুতে দৌড়েই বেড়ালাম। অন্যন্য বছরের চেয়ে খুব যে আলাদা এমন নয়, তবু কিছু কিছু মৃত্যু, হত্যা বলাই ভালো, আমাদের সব হিসেব বড় বেশি এলোমেলো করে দেয়, এগোবার, পেছোবার, পালাবার সব পথ বন্ধ করে দেয়। যেমন কালো মেয়ে ব্রততী। কতটা কালো জানিনা, ছবিতে দেখে মনে হয়েছিল সুশ্রী। কিন্তু শুধু কালো বলেই এই মেয়ের বিয়ে তো হয়ইনি, বিয়ের চেষ্টাও নাকি হয়নি উপরন্ত শিক্ষিত পরিবারে জুটেছিল হেনস্থা। সেই অভিমানে মেয়েটা নিজে নিজেই স্রেফ ছবি হয়ে গেল। কালো মেয়ের চেনা জানা গল্পের চেয়ে ব্রততীর গল্পটা কিন্তু আলাদা, কারণ সে মোটেই শরৎবাবুর আমলের অসহায় মেয়েটি নয়, সে ছিল উচ্চশিক্ষিত, স্বনির্ভর, আধুনিক নারী। অভিভাবকরা কোনরকমে তাকে ‘পার করা’র ব্যবস্থা না করে তার উপযুক্ত শিক্ষার এবং স্বাবলম্বী হওয়ার ব্যবস্থা করেছেন, ঠিক যেগুলোকে আমরা এতদিন নারীর মুক্তির পথ বলে জেনে এসেছি। তার পরও যখন ব্রততীরা এইভাবে ছবি হয়ে যায়, তখন বড় হতাশ লাগে, মনে হয় যা ভেবে এসেছি, সব ভুল, আসলে কোথাও পালাবার পথ নেই। কারন এই মৃত্যুর দায় আমরা এমন কোন ব্যক্তি বা এমন কোন প্রথার ওপর চাপাতে পারি না যেখান থেকে আশু কোন সংশোধন সম্ভব। কোন ছেলে কালো মেয়েকে বা কোন মেয়ে বেঁটে ছেলেকে পছন্দ না করলে তাকে বড়জোর অনুদার বলা যেতে পারে, কিন্তু দোষী তো করা যায় না। তাহলে কিভাবে জীবনের এই নিদারুণ অপচয় রোধ করা সম্ভব ! কোন মানুষ শুধু শিক্ষা আর স্বনির্ভরতাকেই পূর্ণতা বলে না মনে করতেই পারেন, চাইতেই পারেন নিজস্ব সংসার। কিন্তু কালো মেয়েকে স্ব-নির্ভর করে তোলার দোষ যদি কোন বাবা-মা’কে এমনকি মেয়ের চোখেও অভিযুক্ত হতে হয়, তখন বড় গোলমাল হয়ে যায়। তাহলে আমরা কি চাইব !

অতঃপর কোরপান শাহ।। তিনি মানসিক রোগী ছিলেন কিনা, চুরি করেছিলেন কি করেন নি তা নেহাতই গৌণ। কথাটা হল তাঁকে স্রেফ পিটিয়ে মেরে ফেলল একদল তরুণ ও মেধাবী ছাত্র যারা সবাই ভবিষ্যতের চিকিৎসক এবং সবাই সকলের পরিচিত। এই বাক্যে সব ক’টি শব্দই ‘বোল্ড অ্যান্ড আন্ডারলাইন্‌ড’। কারণ পিটিয়ে খুনের ব্যস্ত শ্মশানে মাঝে মাঝেই কেউ না কেউ পুড়েই চলেছে কিন্তু সেই সব গড়পরতা ঘটনার চেয়ে এই ঘটনাটা সব দিক থেকেই আলাদা। প্রতিটি গণপ্রহারের পেছনে যে যে কারণের কথা জানা যায়, প্রশাসনের নিস্ক্রিয়তা, তীব্র জনরোষ, ব্যক্তিগত হতাশার প্রকাশ, এর কোনটিই আপতঃদৃষ্টিতে এখানে কাজ করার কথা নয়। কারণ ডাক্তারী ছাত্রদের এই আবাসনে ছোটখাটো চুরি ছাড়া তেমন কোন বড় অপরাধ ঘটেনি যার বিরুদ্ধে এমন তীব্র ক্ষোভ জন্মাতে পারে যা খতিয়ে না দেখেই একটা মানুষকে মেরে ফেলতে পারে। এরা সবাই মেধাবী ছাত্র, মোটামুটি উজ্জ্বল ভবিষ্যত সকলের জন্যই অপেক্ষা করছে, সবাই সংবেদনশীল তরুণ বয়সে দাঁড়িয়ে যখন সরকারী কর্মী ঘুস চাইলে আত্মহত্যা করতে ইচ্ছে হয়, তাহলে কি কারণে একটা লোককে কিছুক্ষণ ধরে পেটনো হল, সে চিৎকার করল কিন্তু কেউ তাতে বিচলত হল না ! গণপ্রহারের ঘটনার কথা যখনই পড়ি তখনই মনে হয় কিছু লোক জুটেই তো একটা লোককে মেরে ফেলছে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার মত, মারমুখী লোকগুলেকে টেনে সরিয়ে দেওয়ার মত কি পুলিশে একটা খবর দেবার মত কয়েকটা লোক কেন জুটল না ! সেই দিক থেকেও এই ঘটনার ক্ষেত্রটা অন্যরকম। একদল অপরিচিত উন্মত্ত লোককে থামানো নাও যেতে পারে কিন্তু সবাই যেখানে শুধু পরিচিতই নয়, সতীর্থ ও সহ-আবাসিক সেখানে ‘এই কি হচ্ছে !’ বলে একটা হাঁক দেওয়ার মত কাউকে কেন পাওয়া গেল না সেকথা ভাবলে সত্যিই হাড় হিম হয়ে যায়। অথচ ইচ্ছে থাকলে যে একাও একটা গণপ্রহারকে থামিয়ে দেওয়া যায় সেটা কয়েকদিন পরেই দেখিয়ে দিলেন শ্রীমতি জুলিয়া দত্ত যিনি একা রুখে দাঁড়িয়ে মারমুখী জনতার হাত বাঁচিয়েছেন একজন মিনিবাসের চালককে। তবে কি এই ছাত্রদের কাছে একটা মানুষের আর্তচিৎকারের আবেদন কিছু খুচরো টাকাপয়সা মোবাইল ফোনের চেয়েও কম হয়ে গেল! এইখানে এই ছাত্রদের ‘ডাক্তার’ পরিচয়টার কথা মনে করতেই হচ্ছে। কারণ আজ যারা একজন চোরের (যদিও তিনি চোর চিলেন না) আর্তচিৎকারে এমন নির্বিকার, কাল তারাই রোগীর করুণ আবেদনেও এমনিই নির্বিকার থাকতে পারেন। আর ঠিক সেই কথাই শুনতে পেলাম আর এক তরুণ ডাক্তারের মুখে। এই ঘটনা নিয়ে যথেষ্ট দুঃখ ও লজ্জা প্রকাশের পরও সেই ডাক্তারী ছাত্র লিখেছিলেন চিকিৎসাব্যবস্থার পরিকাঠামো বর্তমানে এমনই দুর্বল যে পুলিশ আর সেনাবাহিনীর কর্মীদের মত ডাক্তারদেরও কিছুটা উদাসীন থাকা অভ্যেস করতে হয়, কঠিন মুখে অন্যত্র ‘রেফার’ করতে হয় মরণাপন্ন রুগীকে, না হলে কোন চিকিৎসাই সম্ভব নয়। এই দাবী যথাযথ হলে বুঝতে হবে পালাবার সত্যিই কোনও জায়গা নেই; কোরপান শাহ-র মার খেতে খেতে মরা থেকে রক্তের বোতল পাশে নিয়ে কিশোরী সুহানার রক্ত না পেয়ে মরা কিম্বা মানসিক চিকিৎসালয়ে সহ-আবাসিকদের মারে কমলা মজুমদারের মরা কোনটাই নেহাৎ দুর্ঘটনা নয়, সবই স্বাভাবিক। যে ‘একটা ছেলে’ রুখে দাঁড়ালে বা যে ‘একজন ডাক্তার’ বা ‘একজন কর্মী’ এগিয়ে এলে প্রাণের এই অপচয়গুলো হত না, সেই ‘একটা’ কাউকে কখনই পাওয়া যাবে না।

ডাক্তারদের (এবং শিক্ষকদের) কাছে সমাজের প্রত্যাশা কিছু বেশিই থাকে যার দরুণ হয়তো তাঁরা সাধারণ লোকের চোখে কখনও ভগবান কখনও শয়তান হয়ে ওঠেন। সেই অতিমানব হওয়ার চাপ তাঁরা না নিতেও পারেন কিন্তু মানবিকতার দাবী তো তাঁরা এড়িয়ে যেতে পারন না, কারণ মানবিকতাই তাঁদের ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতা। কিন্তু কয়েকটি মৃত্যু এই বিশ্বাসের জায়গা থেকে আমাদের সরিয়ে এনেছে, যেটা একটা সামাজিক ক্ষতি, ডাক্তাররা একটু ভাববেন কি !



360 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: দ

Re: পালাবার পথ নেই

অনেকদিন বাদে একটা ব্লগর ব্লগর পড়ে মনে হল অনেকটাই আমার কথা। পালাবার বোধহয় কোনই পথ নেই .... দমবন্ধ লাগে ........
Avatar: সিকি

Re: পালাবার পথ নেই

সত্যিই। পালাবার পথ নেই। সহমত।
Avatar: adhuli

Re: পালাবার পথ নেই

একটা সাইন্স জার্নাল-এ পরেছিলাম অনেক দিন আগে, একটা ব্যাং-কে হটাত গরম জলে ছেড়ে দিলে সেটা লাফিয়ে বেরিয়ে বাচার চেষ্টা করে। কিন্তু যদি ঠান্ডা জলে তাকে রেখে দিয়ে ধীরে ধীরে জলটাকে গরম করা হয়, তাহলে সেটা সহজে বুঝতে পারে না যে জল গরম হচ্ছে, শেষে সেই ফুটন্ত গরম জলেই দম-বন্ধ হয়ে মারা যায়।ভয় লাগে যে আমাদের হাল-ও এখন অনেকটা ল্যাবরেটরি-র ব্যাং-এর মত। আস্তে আস্তে জল গরম হয়ে উঠছে আমাদের চার দিকে, কিন্তু বুঝতে পারলেও বেরোনোর কোনো রাস্তা খুঁজে পাচ্ছি না। দম বন্ধ হয়ে আসছে।
Avatar: অরিন্দম

Re: পালাবার পথ নেই

সত্যভাষণ ও সৎ উপস্থাপনা। লেখাটি ভাবায়।

Avatar: ranjan roy

Re: পালাবার পথ নেই

খাঁটি কথা।
Avatar: nijam ahmed

Re: পালাবার পথ নেই

ধন্যবাদ, লেখাটা পড়ে ভালো লাগলো | আমি আপনাকে কোন প্রকার অফার করছি না। আমার মানে হয় এই ছোট তথ্যটি আপনার উপকারে আসতে পারে rentalhomebd.com।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন