শিবাংশু RSS feed

শিবাংশু দে-এর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • লাল ঝুঁটি কাকাতুয়া
    -'একটা ছিল লাল ঝুঁটি কাকাতুয়া।আর ছিল একটা নীল ঝুঁটি মামাতুয়া।'-'এরা কারা?' মেয়েটা সঙ্গে সঙ্গে চোখ বড়ো করে অদ্ভুত লোকটাকে জিজ্ঞেস করে।-'আসলে কাকাতুয়া আর মামাতুয়া এক জনই। ওর আসল নাম তুয়া। কাকা-ও তুয়া বলে ডাকে, মামা-ও ডাকে তুয়া।'শুনেই মেয়েটা ফিক করে হেসে ...
  • স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি
    স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি। আমি স্টার্ট-আপ কোম্পানিতে কাজ করছি ১৯৯৮ সাল থেকে। সিলিকন ভ্যালিতে। সময়ের একটা আন্দাজ দিতে বলি - গুগুল তখনও শুধু সিলিকন ভ্যালির আনাচে-কানাচে, ফেসবুকের নামগন্ধ নেই, ইয়াহুর বয়েস বছর চারেক, অ্যামাজনেরও বেশি দিন হয়নি। ...
  • মৃণাল সেন : এক উপেক্ষিত চলচ্চিত্রকার
    [আজ বের্টোল্ট ব্রেশট-এর মৃত্যুদিন। ভারতীয় চলচ্চিত্রে যিনি সার্থকভাবে প্রয়োগ করেছিলেন ব্রেশটিয় আঙ্গিক, সেই মৃণাল সেনকে নিয়ে একটি সামান্য লেখা।]ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কীভাবে যেন পরিচালক ত্রয়ী সত্যজিৎ-ঋত্বিক-মৃণাল এক বিন্দুতে এসে মিলিত হন। ১৯৫৫-তে মুক্তি ...
  • দময়ন্তীর সিজনস অব বিট্রেয়াল পড়ে
    পড়লাম সিজনস অব বিট্রেয়াল গুরুচন্ডা৯'র বই দময়ন্তীর সিজনস অব বিট্রেয়াল। বইটার সঙ্গে যেন তীব্র সমানুভবে জড়িয়ে গেলাম। প্রাককথনে প্রথম বাক্যেই লেখক বলেছেন বাঙাল বাড়ির দ্বিতীয় প্রজন্মের মেয়ে হিসেবে পার্টিশন শব্দটির সঙ্গে পরিচিতি জন্মাবধি। দেশভাগ কেতাবি ...
  • দুটি পাড়া, একটি বাড়ি
    পাশাপাশি দুই পাড়া - ভ-পাড়া আর প-পাড়া। জন্মলগ্ন থেকেই তাদের মধ্যে তুমুল টক্কর। দুই পাড়ার সীমানায় একখানি সাতমহলা বাহারী বাড়ি। তাতে ক-পরিবারের বাস। এরা সম্ভ্রান্ত, উচ্চশিক্ষিত। দুই পাড়ার সাথেই এদের মুখ মিষ্টি, কিন্তু নিজেদের এরা কোনো পাড়ারই অংশ মনে করে না। ...
  • পরিচিতির রাজনীতি: সন্তোষ রাণার কাছে যা শিখেছি
    দিলীপ ঘোষযখন স্কুলের গণ্ডি ছাড়াচ্ছি, সন্তোষ রাণা তখন বেশ শিহরণ জাগানাে নাম। গত ষাটের দশকের শেষার্ধ। সংবাদপত্র, সাময়িক পত্রিকা, রেডিও জুড়ে নকশালবাড়ির আন্দোলনের নানা নাম ছড়িয়ে পড়ছে আমাদের মধ্যে। বুঝি না বুঝি, পকেটে রেড বুক নিয়ে ঘােরাঘুরি ফ্যাশন হয়ে ...
  • দক্ষিণের কড়চা
    (টিপ্পনি : দক্ষিণের কথ্যভাষার অনেক শব্দ রয়েছে। না বুঝতে পারলে বলে দেব।)দক্ষিণের কড়চা▶️এখানে মেঘ ও ভূমি সঙ্গমরত ক্রীড়াময়। এখন ভূমি অনাবৃত মহিষের মতো সহস্রবাসনা, জলধারাস্নানে। সামাদভেড়ির এই ভাগে চিরহরিৎ বৃক্ষরাজি নুনের দিকে চুপিসারে এগিয়ে এসেছে যেন ...
  • জোড়াসাঁকো জংশন ও জেনএক্স রকেটপ্যাড-১৪
    তোমার সুরের ধারা ঝরে যেথায়...আসলে যে কোনও শিল্প উপভোগ করতে পারার একটা বিজ্ঞান আছে। কারণ যাবতীয় পারফর্মিং আর্টের প্রাসাদ পদার্থবিদ্যার সশক্ত স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে থাকে। পদার্থবিদ্যার শর্তগুলি পূরণ হলেই তবে মনন ও অনুভূতির পর্যায় শুরু হয়। যেমন কণ্ঠ বা যন্ত্র ...
  • উপনিবেশের পাঁচালি
    সাহেবের কাঁধে আছে পৃথিবীর দায়ভিন্নগ্রহ থেকে তাই আসেন ধরায়ঐশী শক্তি, অবতার, আয়ুধাদি সহসকলে দখলে নেয় দুরাচারী গ্রহমর্ত্যলোকে মানুষ যে স্বভাবে পীড়িতমূঢ়মতি, ধীরগতি, জীবিত না মৃতঠাহরই হবে না, তার কীসে উপশমসাহেবের দুইগালে দয়ার পশমঘোষণা দিলেন ওই অবোধের ...
  • ৪৬ হরিগঙ্গা বসাক রোড
    পুরোনো কথার আবাদ বড্ড জড়িয়ে রাখে। যেন রাহুর প্রেমে - অবিরাম শুধু আমি ছাড়া আর কিছু না রহিবে মনে। মনে তো কতো কিছুই আছে। সময় এবং আরো কত অনিবার্যকে কাটাতে সেইসব মনে থাকা লেখার শুরু খামখেয়ালে, তাও পাঁচ বছর হতে চললো। মাঝে ছেড়ে দেওয়ার পর কিছু ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

আলসুর লেকের ভিজে হাওয়া ও ভাটজ্বর

শিবাংশু

দু'তিনদিন ধরেই ঝিরঝিরে ওলটপালট জলের ছুটোছুটি। রোদ নেই, রবি নেই, ভাদ্রের উষ্ণতাও ভিজে ভিজে শীতল হয়ে গেছে। দুদিন ধরে বেলুরু-হালেবিদুতে মজে ছিলুম। সারাদিন মেঘলা ছায়ায় এক মন্দির থেকে অন্য মন্দিরের দাওয়ায় গিয়ে চুপ বসে থাকা। সর্বাঙ্গ দিয়ে শুষে নেওয়া আমার ভারতবর্ষ। তবু শনিবারের অপেক্ষা ছিলো, ভাটরোগের প্রকোপ বেশ চেপে বসে ছিলো ভিতর ভিতর।
------------------------------------------------
যতোদিন দক্ষিণদেশে ছিলুম, ততোদিন হয়নি। নিজামের দেশে আমার বাড়িতে একটা জমপেশ ভাট জমেছিলো বেশ কিছুদিন আগে । কাবলিদা, আবেশদা, কল্লোলদা, রঞ্জন আর আমরা । দারুণ জমেছিলো একটা দিন সকাল থেকে রাত । তার পর শিবুর বাৎসরিক হায়দরাবাদ আগমন উপলক্ষে শিবু, বিবি, আমি ভাট করেছি দুয়েকবার। এছাড়া সপ্তাহশেষে সময় পেলেই কল্লোলদা'র হায়দরাবাদে এসে ভাট করা প্রায় অভ্যেসে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলো। ভুবনেশ্বরে আসার পর জানা গেলো মশাবাহিত পরমভট্টারক এখানে এসেই ল্যান্ড করতে যাচ্ছেন । তখন কল্লোলদা জানালেন আমার বাড়ি একটা পারমানেন্ট ভাটসেন্টার হতে যাচ্ছে। স্বাগত...। কিন্তু সবাই জানেন মশা কখন কোথায় যায়, তার কোনও ঠিক নেই। অতএব সেই পরিকল্পনাটি আপাততঃ তাকে রাখা আছে।
--------------------------------
একটা কাজে লুরু যাবার কথা হতে কল্লোলদা'কে ফুন, ভাট বসানো যায় নাকি? তিনি তো সদা তৎপর, তারিখ জানাও। তারিখ ঠিক হতে সম্ভাব্য ভাটুরেদের লিস্টিও তৈরি হয়ে গেলো। এঁদের মধ্যে ভূতো আর পরমভট্টারক ছাড়া বাকিদের সঙ্গে চাক্ষুষ পরিচয় নেই, অক্ষরে পরিচয় আছে। লুরু'তে ভূমিষ্ট হয়েই ভাটকত্তা'কে হাজিরা দিয়ে দিলুম । শনিবার দেখা হবে। আমার পৌঁছোতে একটু দেরি হলো। গিয়ে দেখি ঐশিক হাজির, ভূতো পথে। তবে বেশ নিরাশ হলুম শুনে ডিডি, ব্যাং জ্বরাসুরের আক্রমণে কাতর। ব্যাং নিজে না আসায় তাঁর কাবুলিছাগলের ( কাবুলিবিড়ালের বদলে) দর্শনলাভও হলোনা। হলোনা হারকিউলিসের রক্ত হাতে ডিডি'র আবির্ভাব। সায়ন, অপ্পন, কাব্য আটকে গেছে অন্য কোথাও। যাঃ...। হ্যাঁ, মশাবাহিত মানুষটি দক্ষিণদিকে আসতে আসতে আবার পশ্চিমে চলে গেছেন। বলিহারি...
------------------------------
মেঘলা দিনেই জব্বর আড্ডা জমে। জমিয়ে বসে একথা-সেকথা। পাহাড়জঙ্গলের গপ্পো। জামশেদপুরে বসন্তকালে পাতাঝরার দিন, দলমাপাহাড়ে শুকনোপাতায় জ্বেলে দেওয়া আগুনের মালা দূর থেকে দেখলে কেমন মায়া জাগে। কখনও দেখা সেই দৃশ্য কল্লোলদা'র মনে পড়ে যায়। বম্বের মালাবার হিলসের আলোর কণ্ঠমালা তার কাছে নেহাৎ ফিকে। কিন্তু তবু তো দেখেনি মেঘাতুবুরু'র অতিথশালার চূড়া থেকে সাতশোপাহাড়ে সূর্য নিভলেই জ্বলে ওঠা দূরদূরান্তরে টানা সাঁঝবাতির ঝিকমিক। একই রকম ছমছমে বেতলা, নেতারহাট, চিরিমিরি, বিন্ধ্যাচল, পঁচমড়ি, কোরাপুটের পাহাড়েজঙ্গলে সারিসারি আলো জ্বেলে শুকনো পাতা'লতার ছাই হয়ে যাওয়ার লা দিভাইনা কমেদিয়া ।
---------------------------------------------
পাহাড় এলে কি আর নদী না এসে পারে। কল্লোল'দার মনে পড়ে যায়, গুয়াহাটির উজানবাজার ঘাটে বর্ষার ব্রহ্মপুত্রে ভেসে যাওয়া একটা গোটা বাঁশঝাড়ের সংসার। আমার মনে পড়ে, গুয়াহাটি শনিমন্দির পাহাড় থেকে দেখা ঘোর বর্ষার ঝিরঝিরে জলে চোখ ভিজিয়ে এপারওপার ব্রহ্মপুত্রের প্যানোরামা । সরাইঘাটে বর্ষার সময় লঞ্চে করে এপারওপার । মনের ভিতর জমিয়ে রাখা নদীর তো কোনও শেষ নেই । কেঁচকির কাছে বর্ষার নর্থ কোয়েল, গান্ধিসেতু থেকে গঙ্গা, দোমোহানির সুবর্ণরেখা, পট্টাডকলের মাল্যপ্রভা, হাম্পির তুঙ্গভদ্রা, রাজমহেন্দ্রির গোদাবরী, সাতকোসিয়ার মহানদী, উত্তরকাশীর জাণ্হবী, আরো কতো অন্তহীন ছবি। কিন্তু ব্রহ্মপুত্র ? উনকা অন্দাজে বয়াঁ অওর।
------------------------------------------

ভাট গড়িয়ে যায় নিজের মতো, বনারস থেকে ভাগলপুর, গঙ্গার দুধারে সোনার মাটিতে ফলে ওঠা শাকপাতাসব্জিফলের সবুজ গল্প। দিঘার আমবাগানে যে আমের নাম মালদা, মালদায় তার নাম পাটনাই ল্যাংড়া। খাবার টেবিলে একটা আম রেখে দিলেই সারাঘর ম ম করতে থাকে। ফিল্মি ইস্টাইলে ওভার হাইপড বোম্বাই আলফন্সো কোথায় ফেকিয়ে যায়। ফতুহা-বাঁকাঘাটের বাগান থেকে ঝুড়ি ভরে নিয়ে আসা সেই হাল্কা সবুজ আমের স্বপ্ন, আন্টাঘাটের সব্জিবাজারে শীতের দিন পসেরির হিসেবে নিয়ে আসা পাঁচ রকম বেগুন । গঙ্গার দিয়ারা থেকে নৌকো ভরে শীতের সবুজ খালাস হয় মহেন্দ্রুঘাটে।
---------------------------------
বেগুনের গপ্পো করতে করতে ঐশিকের বোধ হয় খিদে পেয়ে যায় । সে বেরোয় কবাবের খোঁজে । কিছুক্ষণের মধ্যেই গলউতি কবাবের লুরু সংস্করণ নিয়ে সে আবির্ভূত হয়। তার পিছনে গন্ধ শুঁকতে শুঁকতে ভূতোর আবির্ভাব, সঙ্গিনীসহ । আগের ভাটে পড়ে থাকা ডিডিপ্রদত্ত স্বপ্নাদিষ্ট অজরাজার পৌত্র, কোলার সঙ্গে কোলাকুলি করে সামনে এসে দাঁড়ায়। যৎসামান্য পানভোজনের পর গায়ে একটু জোর আসে। কল্লোল'দা আমাদের অনুরোধে গিটার বের করেন।
------------------------------------------
কল্লোল'দার গান অনেক চন্ডালই শুনেছেন। হায়দরাবাদে আমার ভদ্রাসনে কয়েকবার এসে তিনি গান শুনিয়ে গেছেন। গত পাঁচ-ছ বছর ধরে আমি তাঁর গানের বিবর্তন লক্ষ্য করে আসছি। স্বতস্ফূর্ততা ও ভালোবাসা, এই দু'টি লক্ষণ চিরকালই প্রত্যক্ষ তাঁর পরিবেশনে । সেটা তো আছেই, কিন্তু এবার যা শুনলুম সেখানে সুরের কাজে মজা বেড়েছে এবং শব্দ আরো মসৃণ। দু'টি গান আগে শোনা ছিলো, সেগুলি অবশ্য ওঁর ফ্ল্যাগশিপ। প্রতি পরিবেশনেই পরিণত হয় । অন্য দু'টি নতুন । সেই দু'টি গানে সুরফেরতা, অর্থাৎ কর্ডের চকিত বদল এবং ছন্দের দ্রুতির খেলা, একবার শুনেই মনে বাজলো, ভৈরবীর নির্ভুল জাদু। লয়বোধ গান বোঝার নির্ভুল মাপদন্ড। এক মেজাজে কল্লোলদা যতোক্ষণ গান করেন, ততোক্ষণ চুপ করে শুনতে হয়।
-----------------------------------------
কৃষ্ণাবৌদির সঙ্গে সেদিন আমার প্রথম সাক্ষাৎ। কিন্তু তাঁর সঙ্গে বিনিময় করতে কোনও ব্যবধান বোধ হয়নি। 'যোগ্য সহধর্মিনী', একটা খুব ক্লিশে ব্যবহার। কিন্তু কখনও সেটা ব্যবহার করতেই হয়, বিকল্পহীন। তাঁর বামুন বাপের বাড়িতে রামপাখিই ট্যাবু, কিন্তু পতিদেবের ভালোবাসার তাড়নায় গোমাংস রেঁধে অতিথি সৎকার, আমাকে কৃষ্ণরাও শংকর পন্ডিতের গুরুসেবা মনে করিয়ে দিলো। পুরুষানুক্রমিক গোঁড়া মহারাষ্ট্রীয় ব্রাহ্মণ সঙ্গীতশিক্ষার প্রেরণায় গুরুর জন্য গোশত কিনে এনে রান্না করে দিতেন। তাঁর পুরোনো গপ্পো থেকে শুনি, তাঁদের বাড়িতে মাংস মানে কালীঘাটের বলির পাঁঠা নিয়ে এসে জিরে দিয়ে নিরামিষ রান্না। আজকের দিনে যুগপৎ আমোদ ও বিভ্রান্তির খোরাক। আমারও মনে পড়ে যায় আমার ঘোর ফরিদপুরি মায়ের সংসারে রামপাখির প্রবেশ ঘটিয়ে ফেলা। চিরকালই কালাপাহাড় হয়ে থাকার প্রিভিলেজ সেটা। আমার নির্বিরোধ নৈকষ্য ঘটি পিতৃদেব নিজে তা পারেননি, তাই আমার এই গেটক্র্যাশিং টেকনিককে নীরবে সমর্থন জানানো ছিলো তাঁর প্রধান পুলক। খুব বেশিদিন আগের ব্যাপার নয় তা, কিন্তু মনে হয় শতাব্দীপ্রাচীন গপ্পো, বনস্পতি বটের ঝুরি দিয়ে ঘেরা লৌকিক উপাখ্যান।
--------------------------------------
আবার গানের প্রসঙ্গ ফিরে আসে। সবার সঙ্গে ভাগ করে নিই বিশালমাপের শিল্পীদের অনুষ্ঠানের আগে মহলার গল্প, যা দেখেছি, যা শুনেছি। মান্না দে, রামকুমার চট্টোপাধ্যায়, মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়, সুমন চট্টোপাধ্যায় (তখন তাঁর সেই নামই ছিলো) । যাঁরা নিজেরা সঙ্গীত চর্চা করেন, তাঁদের জন্য অনন্য প্রশিক্ষণ। কীভাবে রাধাকান্ত বা ওয়াই এস মুলকি'কে ব্যবহার করা হবে, তার কিছু প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা। বই দেখে বা খাতা দেখে গান গাওয়ার স্বস্তি-অস্বস্তি থেকে গানব্যবসার স্টারসিস্টেম।
--------------------------------------
ভূতো কবে কখন হসরত মোহানির ঘজল শুনেছিলো আমার গলায়, ক্রমাগতঃ মনে করাতে থাকে সেটি আবার গাওয়ার জন্য। লম্বা ফরমাইশ, মুখড়ার শ্যয়েরিটা পুরো গাইতে হবে , ইত্যাদি। কিন্তু সেদিন কিছুতেই বাংলা গান ছাড়া আর কিছু গাইতে ইচ্ছে হচ্ছিলো না। বাইরে মেঘলা জলের স্নেহ সম্মোহনী ধারাজল, আমারে ডাক দিলো কে ভিতরপানে। ভাবি কী গাই, তারাশঙ্কর, জটিলেশ্বর, মান্না না নিধুবাবু। চেঞ্জার জোগাড় হয়নি, কীবোর্ড ছিলো। কিন্তু তা দিয়ে ঠিক গানের সঙ্গত হয়না। আর যখন মাথায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন কবি ও তাঁর গীতবিতান, অন্য আশ্রয়ের আর কী দরকার ? ভাবলুম গাইবো 'কিছু বলবো বলে এসেছিলেম', কিন্তু বেরিয়ে এলো 'সকল জনমভরে ও মোর দরদিয়া'। তার পর চন্ডালদের জন্য নিবেদিত' এরা পরকে আপন করে' এবং তারও পরে সেদিনের বর্ষা'কে ঠিকঠাক ধরে ফেললো যে গান , 'কৃষ্ণকলি'...। বেশ তৃপ্তি পেলুম অনেকদিন পরে ওভাবে খালিগলায় অপ্রস্তুত গান গেয়ে। একটু আত্মপ্রচার লাগছে কি? তবে পূর্বস্য মার্জনা চেয়েই রাখি না হয়।
---------------------------------------
কিছুদিন ধরে যে ভাবনাটা মাথায় ঘুরছে, আমরা যেমন ছবি আঁকতে শিখি, ছবি দেখতে শিখিনা । তেমনই গান গাইতে শিখি, কিন্তু গান শুনতে শিখিনা। গণতন্ত্রে যেমন সব কিছু নিয়েই গম্ভীর মন্তব্য করার অধিকার সকলের জন্মসিদ্ধ। তা তেন্ডুলকরের ব্যাটিং বা শঙ্খ ঘোষের কবিতা, যা'ই হোকনা কেন, 'আমার' ধারণাটি সতত শিরোধার্য হবে, এমত তাড়নায় সবাই আকুল হয়ে থাকেন। কিন্তু প্রায় অর্ধশতক ধরে বিরতিহীন রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনে যাবার পরেও আমার মনে হয় রোজ নতুন কিছু শিখছি। এই নিয়ে আমরা সবাই আড্ডায় ভরে উঠি। কীভাবে সুমন ম্লান করে দেন মহীনকে। নিজের বাঁধা জমি থেকে সরে গিয়ে তাঁদের নতুন ঘরানাদারকে জায়গা করে দিতে হয়। মহীন কল্লোলদার মহান দুর্বলতা। এ যাবৎ এ নিয়ে তাঁর সঙ্গে অনেক লেখালিখি আর তর্ক হয়েছে। কিন্তু এখন মুখোমুখি। তাঁকে বলি, মহীনের গান মানুষের ভুলে যাবার জন্য তার পাল্লাদাররাই দায়ী। একজন তো তাঁর দোরের পাশে নীল দাড়ি, গোলাপি জুলফি নিয়ে হাফপ্যান্টে কাবন পার্কে শীর্ষাসন করেন। এমন 'অকাট্য যুক্তি' শোনার পর কল্লোলদার আত্মসমর্পন । তবু বলতে থাকেন রানওয়ের গান যে লেখে তার কিছু স্বীকৃতি তো দিতে হবে। পাশাপাশি চলে আসে সুরেশ বিশ্বাসের গানের গল্প। আক্ষরিকভাবে শুওরের খোঁয়াড়ের পাশে ঝুপড়িতে চরম দারিদ্র্যে জীবন কাটিয়ে তিনি কীভাবে প্রাণ নিংড়োনো নতুন গানের ভাষা আবিস্কার করে ফেলেন। হেমাঙ্গ বিশ্বাস স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তাঁকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন। গুণগ্রাহীরা অ্যালবাম প্রকাশ করে। গানও তো শ্মশানের মতো অপূর্ব প্রেম, গ্রেট লেভেলার। যাঁরা শুনতে জানেন, তাঁরা রাজা কি ফকির, কিস্যু এসে যায়না।
--------------------------------------
ভূতোর ভৈরবী তিতলি শোনায় আর-জে হিসেবে বাংলাগান প্রচার করতে তা'কে কী জাতীয় বাধার সম্মুখীন হতে হয়। নতুন প্রজন্মের কাছে পঙ্কজকুমারের গান কীভাবে প্রচার করা যায়। বিয়ের পর ভূতো যে সমাজসংসারের সঙ্গে সম্পর্কত্যাগ করেছে, সে নিয়ে তার স্ত্রীর প্রতি জনতার কটাক্ষ যে একেবারে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ভিত্তিহীন ও দুরভিসন্ধিমূলক, সেটা সে নানা যুক্তিজাল দিয়ে প্রতিষ্ঠাও করে। মেয়েটা ভালো গায়, কিন্তু সেদিন অর্ধেকের বেশি গান মনে রাখতে পারলো না। ভূতোর যে ব্যাপারটি আমি লক্ষ্য করছি দীর্ঘদিন ধরে, বিলেতফেরৎ হবার পর ওর নেভিগেশনটা গড়বড়িয়ে গেছে। যদিও সে ইতরবিলেত, দক্ষিণগোলার্ধের চোরডাকাতের বংশধর সাহেবদের দেশ। তাতেই এই। একসঙ্গে সে শুরু করে দেহচর্চা, গিটারচর্চা এবং বংশীচর্চাও । তার মধ্যে শুনলুম এখন শুধু ল্যাপিচর্চাটিই বেঁচে আছে। মানে ভূতো এখন বৌয়েরও নয়, ব্রহ্মান্ডেরও নয়। কিনু গোয়ালার গলির মোড়ে কান্তবাবুর মতো মাঝরাতের পরে ভাব এলে সে যখন বাঁশি বাজাতে যায়, আশেপাশের রাতজাগা চৌকিদারেরা নাকি সতর্ক হয়ে হুইশল বাজাতে থাকে। বেশ ভৌতিক আবহ গড়ে ওঠে একটা। সে হয়তো বেশ অ্যাট হোম বোধ করে, কিন্তু বাকিরা? এই মূহুর্তে তার গিটারের সঙ্গে সম্পর্ক নেই। আগেকার দিনে বিবাহযোগ্যা কন্যাদের একটি শ্যামাসঙ্গীত শিখে বৈতরণী পারের সমান্তরাল পেলুম তিতলির আক্ষেপে। বিয়ের আগে ভূতো নাকি গিটার বাজিয়ে 'বেলা বোস' শুনিয়েছিলো ইম্প্রেস করতে। তার পর কী হইলো জানে কৃষ্ণলাল। শেষে অঞ্জন দত্ত ? মনে হয় এই পাপেই তার আজ এই দুরবস্থা। সে আবার ল্যাপি স্রোত থেকে হ্যাপি স্রোতে ফিরে আসুক এটাই আমাদের সেদিনের অফিসিয়াল প্রার্থনা হয়ে থাকলো।

এই সব নিশ্ছিদ্র মহান কথাবাত্তার মধ্যে জানালার ওপারে বাদুলে সাঁঝ কখন শব্দহীন নিভে যায়।
--------------------------------------
আমি লুরু যাবার অনেক আগেই কল্লোলদাকে জানিয়েছিলুম এক ও অদ্বিতীয় ডিডি'র সঙ্গে একটা মুঠভেড়ের ব্যবস্থা করে দেবার জন্য। তিনি একজন শুদ্ধ বাঙালি, যাঁর সাহেবদের মতো সূক্ষ্ম রসবোধ রয়েছে। আজকের বাঙালিদের পক্ষে একটি ব্যতিক্রম। প্রস্তুতিও ছিলো, কিন্তু হলোনা। কিছু আক্ষেপ বিনিময় হলো ফোনে ফোনে।ঐশিকের সঙ্গে দেখা হয়ে ভালো লাগলো। সহিষ্ণু, সিরিয়স, কর্মিষ্ঠ একটি বাঙালি ছেলে। ব্যাঙের সঙ্গে সহজ ছাগলপালন শিক্ষা নিয়ে মতবিনিময় করবো ভেবেছিলুম, সেটাও হলোনা। সায়ন থাকলে ভাটে কবিতাও আসতো, কিন্তু সেটাও বাকি থেকে গেলো। আর পরমভট্টারক এবারেও অধরা । মেয়েটা যে কী করে কে জানে? সুদূর ইন্দ্রপ্রস্থ থেকে যিনি বেগুনি ডায়রিতে সব কিছু নোট করে রাখছেন, তাঁকে বলি সে রকম সুযোগ পেলে আমি আগমার্কা সোনালি পাড় মালয়ালী লুঙ্গিতে সুসজ্জিত হয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা করার জন্য নাদস্বরম-টরম নিয়ে অপেক্ষা করবো। তেমন হলে রাষ্ট্রপতির মতো উত্তরীয়বিহীন অবস্থায়....
---------------------------------
এবারে যাঁদের সঙ্গে ভাট হলোনা, আসছে বছর আবার হবে । অতিথশালায় ফেরার পথে আলসুর লেকে মেশামিশি বনজঙ্গল, শিরশিরে হাওয়া, ফৌজিদের গাঁগেরাম, গুরুদোয়ারা পেরিয়ে যাই। ভিজে হাওয়ায় টুকরো টুকরো ছড়িয়ে দিই,

'কিছু বলবো বলে এসেছিলেম, রইনু চেয়ে না বলে।'

https://plus.google.com/photos/103279716929236287567/albums/6054374316
103835393/6054374318086378658?pid=6054374318086378658&oid=103279716929
236287567




420 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: শিবাংশু

Re: আলসুর লেকের ভিজে হাওয়া ও ভাটজ্বর

কয়েকটি ছবি এখানে থাকলো, আগ্রহী জনতার জন্য... :-)
Avatar: সায়ন

Re: আলসুর লেকের ভিজে হাওয়া ও ভাটজ্বর

শিবাংশুদা', আমি ক্ষমাপ্রার্থী, আসবো বলেও আসতে পারিনি। ছেলেপুলেরা হুজ্জুতি করে গোয়া নিয়ে চলে গেল। সেখানে বানভাসি আমরা দু'চাকা নিয়ে নিমজ্জিত সড়কে সাঁতার কাটলাম। এইসব খুচখাচ, আর মান্ডভি নদী কোত্থেকে শুরু হয়েছে বুঝতে না পেরে হোভারক্রাফ্‌ট হয়ে নেমে যাচ্ছিলাম প্রায়।

তবে টী ফর টু অ্যান্ড আ পীস অফ কেক নিয়ে বসে রইলাম। আলসুর লেকের ভিজে হাওয়া এখন নভেম্বর রেইন হয়ে তারপরেও আরও অনেকদূর যায়। দেখা হবে।

ভালো থাকবেন।
Avatar: কল্লোল

Re: আলসুর লেকের ভিজে হাওয়া ও ভাটজ্বর

এই জন্যেই শিবংশু ক্লাস অ্যাপার্ট। আহা, পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিলো - এ এক অনন্ত মেলা.........

আবাএ এসো শিবাংশু বৌঠানেরে নিয়া। এবাএ সক্কলে থাকবে। তখন আর একবার কৃষ্ণকলি হবে। নতুন গান শোনাবো আরও।
Avatar: সুকান্ত ঘোষ

Re: আলসুর লেকের ভিজে হাওয়া ও ভাটজ্বর

আপনার লেখা খুব ভালো লাগে - ঠিক বর্ণনা করতে পারবো না, তবে আপনার লেখাতে যেন এক ধরণের কবিত্ব লুকানো থাকে।
Avatar: Shibir

Re: আলসুর লেকের ভিজে হাওয়া ও ভাটজ্বর

কবে হলো ? আমাকে কেউ বল্লোনা। :-(

Avatar: Ishani

Re: আলসুর লেকের ভিজে হাওয়া ও ভাটজ্বর

আমিও কিন্তু ব্যাঙ্গালোরেই থাকি | আজ ২১ বছর ৮ মাস !
Avatar: Rit

Re: আলসুর লেকের ভিজে হাওয়া ও ভাটজ্বর

বাহ।
Avatar: -

Re: আলসুর লেকের ভিজে হাওয়া ও ভাটজ্বর

ঈশানী, ভাটিয়া৯-তে ৩ সেপ্টেম্বর ১২-৩০ ও ১২-৩৮ পিএম পোস্ট দেখতে পারেন http://www.guruchandali.com/guruchandali.Controller?portletId=4&po
rletPage=1&porletSubPage=25531#.VAqluPldWTI

Avatar: কল্লোল

Re: আলসুর লেকের ভিজে হাওয়া ও ভাটজ্বর

ঈশানী, শিবির,
বিষয় ঃ ভাটঃ ভার্চুয়াল থেকে রিয়্যাল (৩) এতে তো বহুবার লিখেছি এই ভাট, এর আগের ভাট নিয়ে। মনে, ভাটের আগেই। তখন একবার যোগাযোগ করলেই.............
যাগ্গে। সামনে দীপাবলী ভাট। রঞ্জন আসবে। আমার ফোন্নং ৯৯০২৯৮৯৭৬৪। যোগাযোগ করবেন।

Avatar: pi

Re: আলসুর লেকের ভিজে হাওয়া ও ভাটজ্বর

মিস আগেই করেছিলাম। এই লেখাটা পড়ার পর ....
Avatar: Ishani

Re: আলসুর লেকের ভিজে হাওয়া ও ভাটজ্বর

আমি সত্যিই এখানকার খুব কম লোকজনকেই চিনি | তাই কথা বলতেও একটু অস্বস্তিতে থাকি | কে কে ব্যাঙ্গালোরে থাকেন , তাও জানি না | আমি থাকি ইন্দিরানগরে | এবার কলকাতায় গিয়েছিলাম কাবলিদার বাড়ি | এই প্রথম আলাপ হল | খুব ভালো লাগল | তিন কপি বইমেলা সংখ্যা পত্রিকা এনেছি আমি | কাকে কাকে যেন দিতে হবে | একটি কল্লোলদার , একটি সায়নের , তৃতীয় নামটি ভুলে গেছি ! কল্লোলদা , আমি আজকেই ফিরেছি | আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করে নেব |
সকলে ভালো থাকবেন |
শুভকামনা |
Avatar: শিবাংশু

Re: আলসুর লেকের ভিজে হাওয়া ও ভাটজ্বর

সব্বাইকে অনেক ধন্যবাদ....

আর সুকান্ত,

হয়তো একটু পরস্পর পৃষ্ঠকন্ডূয়নের মতো শোনাবে, তবে সেটাকে পরিত্যজ্য বোধ করাই ভালো। আমি আপনার লেখার একজন আগ্রহী, সন্ধিৎসু পাঠক। পরিমাণে আপনার লেখা কম পাই, কিন্তু উপভোগে কোনও কমতি নেই।

রইলো 'কবিত্বে'র ছাপ প্রসঙ্গ। হয়তো সত্যি। তবে তা গদ্যের গৌরববৃদ্ধি করে কি না জানিনা। :-)
Avatar: সে

Re: আলসুর লেকের ভিজে হাওয়া ও ভাটজ্বর

উপভোগ্য।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন