RSS feed

দ'এর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • বার্সিলোনা - পর্ব ২
    বার্সিলোনা আসলে স্পেনের শহর হয়েও স্পেনের না। উত্তর পুর্ব স্পেনের যেখানে বার্সিলোনা, সেই অঞ্চল কে বলা হয় ক্যাটালোনিয়া। স্বাধীনদেশ না হয়েও স্বশাসিত প্রদেশ। যেমন কানাডায় কিউবেক। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই মনে হয় এরকম একটা জায়গা থাকে, দেশি হয়েও দেশি না। ...
  • বার্সিলোনা - পর্ব ১
    ঠিক করেছিলাম আট-নয়দিন স্পেন বেড়াতে গেলে, বার্সিলোনাতেই থাকব। বেড়ানোর সময়টুকুর মধ্যে খুব দৌড় ঝাঁপ, এক দিনে একটা শহর দেখে বা একটা গন্তব্যের দেখার জায়গা ফর্দ মিলিয়ে শেষ করে আবার মাল পত্তর নিয়ে পরবর্তী গন্তব্যের দিকে ভোর রাতে রওনা হওয়া, আর এই করে ১০ দিনে ৮ ...
  • লাল ঝুঁটি কাকাতুয়া
    -'একটা ছিল লাল ঝুঁটি কাকাতুয়া।আর ছিল একটা নীল ঝুঁটি মামাতুয়া।'-'এরা কারা?' মেয়েটা সঙ্গে সঙ্গে চোখ বড়ো করে অদ্ভুত লোকটাকে জিজ্ঞেস করে।-'আসলে কাকাতুয়া আর মামাতুয়া এক জনই। ওর আসল নাম তুয়া। কাকা-ও তুয়া বলে ডাকে, মামা-ও ডাকে তুয়া।'শুনেই মেয়েটা ফিক করে হেসে ...
  • স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি
    স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি। আমি স্টার্ট-আপ কোম্পানিতে কাজ করছি ১৯৯৮ সাল থেকে। সিলিকন ভ্যালিতে। সময়ের একটা আন্দাজ দিতে বলি - গুগুল তখনও শুধু সিলিকন ভ্যালির আনাচে-কানাচে, ফেসবুকের নামগন্ধ নেই, ইয়াহুর বয়েস বছর চারেক, অ্যামাজনেরও বেশি দিন হয়নি। ...
  • মৃণাল সেন : এক উপেক্ষিত চলচ্চিত্রকার
    [আজ বের্টোল্ট ব্রেশট-এর মৃত্যুদিন। ভারতীয় চলচ্চিত্রে যিনি সার্থকভাবে প্রয়োগ করেছিলেন ব্রেশটিয় আঙ্গিক, সেই মৃণাল সেনকে নিয়ে একটি সামান্য লেখা।]ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কীভাবে যেন পরিচালক ত্রয়ী সত্যজিৎ-ঋত্বিক-মৃণাল এক বিন্দুতে এসে মিলিত হন। ১৯৫৫-তে মুক্তি ...
  • দময়ন্তীর সিজনস অব বিট্রেয়াল পড়ে
    পড়লাম সিজনস অব বিট্রেয়াল গুরুচন্ডা৯'র বই দময়ন্তীর সিজনস অব বিট্রেয়াল। বইটার সঙ্গে যেন তীব্র সমানুভবে জড়িয়ে গেলাম। প্রাককথনে প্রথম বাক্যেই লেখক বলেছেন বাঙাল বাড়ির দ্বিতীয় প্রজন্মের মেয়ে হিসেবে পার্টিশন শব্দটির সঙ্গে পরিচিতি জন্মাবধি। দেশভাগ কেতাবি ...
  • দুটি পাড়া, একটি বাড়ি
    পাশাপাশি দুই পাড়া - ভ-পাড়া আর প-পাড়া। জন্মলগ্ন থেকেই তাদের মধ্যে তুমুল টক্কর। দুই পাড়ার সীমানায় একখানি সাতমহলা বাহারী বাড়ি। তাতে ক-পরিবারের বাস। এরা সম্ভ্রান্ত, উচ্চশিক্ষিত। দুই পাড়ার সাথেই এদের মুখ মিষ্টি, কিন্তু নিজেদের এরা কোনো পাড়ারই অংশ মনে করে না। ...
  • পরিচিতির রাজনীতি: সন্তোষ রাণার কাছে যা শিখেছি
    দিলীপ ঘোষযখন স্কুলের গণ্ডি ছাড়াচ্ছি, সন্তোষ রাণা তখন বেশ শিহরণ জাগানাে নাম। গত ষাটের দশকের শেষার্ধ। সংবাদপত্র, সাময়িক পত্রিকা, রেডিও জুড়ে নকশালবাড়ির আন্দোলনের নানা নাম ছড়িয়ে পড়ছে আমাদের মধ্যে। বুঝি না বুঝি, পকেটে রেড বুক নিয়ে ঘােরাঘুরি ফ্যাশন হয়ে ...
  • দক্ষিণের কড়চা
    (টিপ্পনি : দক্ষিণের কথ্যভাষার অনেক শব্দ রয়েছে। না বুঝতে পারলে বলে দেব।)দক্ষিণের কড়চা▶️এখানে মেঘ ও ভূমি সঙ্গমরত ক্রীড়াময়। এখন ভূমি অনাবৃত মহিষের মতো সহস্রবাসনা, জলধারাস্নানে। সামাদভেড়ির এই ভাগে চিরহরিৎ বৃক্ষরাজি নুনের দিকে চুপিসারে এগিয়ে এসেছে যেন ...
  • জোড়াসাঁকো জংশন ও জেনএক্স রকেটপ্যাড-১৪
    তোমার সুরের ধারা ঝরে যেথায়...আসলে যে কোনও শিল্প উপভোগ করতে পারার একটা বিজ্ঞান আছে। কারণ যাবতীয় পারফর্মিং আর্টের প্রাসাদ পদার্থবিদ্যার সশক্ত স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে থাকে। পদার্থবিদ্যার শর্তগুলি পূরণ হলেই তবে মনন ও অনুভূতির পর্যায় শুরু হয়। যেমন কণ্ঠ বা যন্ত্র ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

মাসকাবারি বইপত্তর - ১

এই কিছু বছর ধরে আমার স্বভাব এমন পল্লবগ্রাহী হয়েছে, একসাথে দুই তিনখানা বই, কখনও বা চার পাঁচখানাও একসাথে শুরু করি, তারপর তারা বিভিন্ন সময়ে পড়া শেষ হয়৷ হঠাৎই মনে হল প্রতি মাসের শেষে কোনগুলো শেষ হল আর কেমন লাগল তার একটা হিসাব রাখলে মন্দ হয় না৷ নিতান্তই আটপৌরে এই পড়ার ইতিহাস একেবারেই নিজের জন্য লিখে রাখা৷


১) ‘বড়ো বাড়ির ছোটো স্মৃতি' - স্মৃতি মিত্র
২) ‘আমার সংসার' - শরৎকুমারী দেব
৩) স্মৃতির সৌরভ' - কল্যাণী সুর
৪) 'আশকথা পাশকথা' - মন্দার মিত্র
৫) 'ছড়াসমগ্র' - শঙ্খ ঘোষ
৬) 'আত্মকথা' - সারদাসুন্দরী দেবী
৭) পরিবেশের জাতপাত - মোহিত রায়
৮) ‘পূর্ববঙ্গীয় কথ্য ভাষা'-কোরক সাহিত্য পত্রিকা –প্রাক-শারদ সংখ্যা


‘বড়ো বাড়ির ছোটো স্মৃতি' - স্মৃতি মিত্র

কলকাতার যে প্রাচীন পরিবারগুলো খুব বিখ্যাত, তাদেরই একটি পাথুরিয়াঘাটার ঘোষ পরিবার৷ সেই পরিবারের মেয়ে স্মৃতির বিয়ে হয়েছিল আরেক অতি বিখ্যাত পরিবার, রাজা দিগম্বর মিত্রের বংশধরের সাথে৷ এই দুই পরিবারের সাবেকি জীবনযাত্রার অন্তরঙ্গ বিবরণ 'বড়ো বাড়ির ছোটো স্মৃতি'৷ স্মৃতি মিত্রের কন্যা সীতা ও নাতনি সুকন্যার সৌজন্যে স্মৃতিদেবীর এই ব্যক্তিগত আখ্যানটি প্রকাশ পেয়েছে৷ সঙ্গে আছে কিছু দূর্লভ আলোকচিত্র৷ সেকালের জীবনযাত্রা, একাধিক কন্যা থাকা সত্ত্বেও অপুত্রক হলে দত্তক নেওয়ার প্রথা এবং সেজন্য উদ্ভুত বিচিত্র বৈষয়িক সমস্যা, মামলা মকদ্দমা, বিভিন্ন উপলক্ষ্যে জাঁকজমক, ঠাটবাট ইত্যাদির জমজমাট বর্ণনা আছে এই বই জুড়ে৷ পড়তে ভালই লাগে৷ আত্মীয়দের মধ্যে মামলা মকদ্দমা বা নিজের দিদিমা, মামাদের লোভ ইত্যাদির মত অপ্রিয় বিষয়গুলি স্মৃতিদেবী এড়িয়ে যান নি৷ এইজন্য বইখানা আমার কাছে আকর্ষণীয় লেগেছে৷

‘আমার সংসার' - শরৎকুমারী দেব

ব্রাহ্মসমাজের নেতা শিবচন্দ্র দেবের পুত্রবধু শরৎকুমারী দেবী৷ শরৎকুমারীর জন্ম হয়েছিল ১৮৬১, মৃত্যু ১৯৪১৷ রবীন্দ্রনাথের সাথে জন্ম ও মৃত্যুর বছর একেবারে মিলে যাওয়াটা বেশ ইন্টারেস্টিং৷ শরৎকুমারীর শ্বশুর শিবচন্দ্র দেব ও দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু৷ শিবচন্দ্রের পুত্র সত্যপ্রিয় দেবের মৃত্যুর পর শরৎকুমারী এই স্মৃতিকথাটি লেখেন৷ নিতান্ত পাতলা ৪৩ পৃষ্ঠার বই৷ বইটা কৌতুহলপ্রদ, কারণ যে পটভূমিতে বইটি লেখা সেটি দেশের সামাজিক সাংস্কৃতিক ইতিহাসে, বিশেষত ব্রাহ্ম আন্দোলনের ইতিহাসে স্মরণীয় যুগ৷ বইটি সেই ইতিহাসের উপরে কিছু আলোকপাত করে৷ বইটির লেখার ধরণ একটু আড়ষ্ট, বিশেষ করে একেবারে পতিদেবের ছায়া হয়ে থাকা শরৎকুমারীর লেখায় একটা একপেশে ব্যপার আছে৷ আবার শরৎকুমারীর পিতা গোঁড়া হিন্দুসমাজের গণ্ডীর বাইরে এসে নিজের বিশ্বাসমত ব্রাহ্ম পদ্ধতিতে কন্যার বিয়ে দিয়ে কি পরিমাণ বাধার সম্মুখীন হয়েছিলেন সেই বর্ণনা আকর্ষণীয়৷ এই বইটির একটি আকর্ষণীয় দিক হল এর প্রচ্ছদ৷ হঠাৎ দেখলে মনে হয় ঈষৎ কোঁচকানো খদ্দরের আংশ বুঝি৷ স্বামীর ছায়াসদৃশ শরৎকুমারী যেন স্মৃতিকথাটি তাঁর স্বামীর সদ্য ছেড়ে যাওয়া পাঞ্জাবীর মধ্যে ভরে দিয়েছেন৷

‘স্মৃতির সৌরভ' - কল্যাণী সুর

স্মৃতিকথাগুলির কোন কোনওটাতে শুধু যিনি লিখছেন তাঁর ও তাঁর আত্মীয় পরিজনের কথা থাকে, কোনও কোনওটিতে আবার তাঁর দেখা জীবন ও লোকজনের কথাই বেশী থাকে৷ কল্যাণী সুরের বইটি এই দ্বিতীয় গোত্রের৷ তাঁর শৈশব, কৈশোর কেটেছে গান্ধীবাদি পিতা ও স্বদেশী মন্ত্রে দীক্ষিত মানুষজনের সংস্পর্শে, শান্তিনিকেতনের প্রকৃতি সাহচর্য্যে, রবীন্দ্রনাথকে দেখার অপার সৌভাগ্যে৷ সেইসময়ের মধুর স্মৃতি তাঁকে ভুলিয়ে রেখেছে বিবাহপরবর্তী তিক্ত অভিজ্ঞতার সময়েও৷ কোনও তিক্ততার কথা তিনি লেখেন নি বইটিতে৷ শুধু শুনিয়ে গেছেন আনন্দের কথাগুলো, আদর্শের কথাগুলো৷ প্রসঙ্গত: একবার এসেছে বিবাহ পরবর্তী জীবনে তাঁর একবার কাঁকের মানসিক চিকিৎসালয়ে বাস করার গল্প৷ কিন্তু তার আগে পরে আর কিছুই বলা নেই৷ ফলে একধরণের অতৃপ্তির সৃষ্টি হয়৷ অপ্রিয় বিষয়গুলি এড়িয়ে যাওয়া ছাড়া বইটি চমৎকার৷ মানবীবিদ্যার পাঠেও এ বইটি উল্লেখযোগ্য লেখিকা ও তাঁর মায়ের কারণে৷

'আশকথা পাশকথা' - মন্দার মিত্র

'আশকথা পাশকথা' খানিকটা কলাণী দত্ত'র 'থোড় বড়ি খাড়া' ধরণের বই৷ সেকালের যেসব জিনিষ, আচার আচরণ এখন আর তেমন দেখা যায় না, তাই নিয়ে কলাম গোছের লেখা৷ কিন্তু এই বইটি ভারী সুখপাঠ্য৷ ছোট্ট নোটবইয়ের আকারে, হালকা কমলারঙা কাগজে ছাপা বইটির মুদ্রণসৌকর্য্যও দেখবার মত৷ মন্দার মুখোপাধ্যায়ের লেখার গুণে 'জামাইষষ্ঠী'র মত নিতান্ত জানাশোনা ব্যপারগুলোও পড়তে দিব্বি লাগে৷

‘ছড়াসমগ্র’ - শঙ্খ ঘোষ

এই বইটা বেশ কিছুদিন ধরেই ঘুরে ফিরে পড়ে গেছি৷ আরও পড়ব অনেকবার নিশ্চয়৷ এই শঙ্খ ঘোষ ভদ্রলোক যে শব্দ নিয়ে কি করতে থাকেন ---- অবিশ্বাস্য!! বইটা দে'জ পাবলিশিঙের, দাম ২০০/-৷ হার্ডকভারে বাঁধাই, ডাঁসা পাতিলেবুর সবুজে হলুদে মেশানো মলাটে দেবব্রত ঘোষের প্রচ্ছদ একেবারে যথাযথ৷ ভেতরে অলংকরণও দেবব্রত ঘোষেরই করা৷ ভারী সুন্দর ছিমছাম কাজ৷ শঙ্খ ঘোষের্ ছড়া নিয়ে আমি আর কী-ই-বা বলতে পারি ---- দু'চারটে উদাহরণ দিই বরং৷
বইয়ের দ্বিতীয় কবিতা এটা:

উলুকঝুলুক শুলুক পাতায়
কণ্টিকারি ফুল
হরেকরকম আলসে কথা
পোড়োবাড়ীর ঝুল
শ্যাওড়াগাছের টনক নড়া
বদ্যিভিটের ভুত
চাঁদনীরাতে কুলপি গড়ায়
আস্ত তিরিশ ফুট
--------------
--------------
-------------- (আরো দুই প্যারা আছে, টুকতে আলসেমি লাগছে)
কিম্বা ধরুন তার পরের কবিতাটা

চাকুমচুকুম বাকতাল্লা
অন্ধকারের ছা
গাবুসগুবুস ইয়া আল্লা
ডুবল ভরা না'
পৈঠাতে পা ফিনিকঝিনিক
ইস্কাপনের বিবি
জলের থেকে তুলতে পারি
বল আগে কী নিবি?

'ছড়া' জিনিষটা যদিও একেবারে বাচ্চাদের জন্যই সাধারণত: লেখা হয়, কিন্তু এই বইয়ের বেশ কিছু ছড়া একেবারে বাচ্চাদের জন্য ঠিক নয়, বরং আমাদের মত বড়দের কাছেই বেশী উপভোগ্য হবে বলে মনে হয়েছে আমার৷ কিন্তু এই বই পাশে রাখুন, পড়তে থাকুন৷


'আত্মকথা' - সারদাসুন্দরী দেবী

ব্রহ্মানন্দ কেশবচন্দ্র সেনের মা এই সারদাসুন্দরী দেবী৷ সারদাসুন্দরী এই আত্মকথাটি নিজে হাতে লেখেন নি, মুখে মুখে বলে গেছেন, যোগেন্দ্রলাল খাস্তগীর শুনে শুনে লিখে নিয়েছেন৷ বইটার ইন্টারেস্টিং ব্যপার হল, সারদাসুন্দরী অত্যন্ত ধার্মিক এবং সেজন্য তাঁর ভাশুর যখন তাঁকে ও তাঁর ছেলেদের সম্পত্তি ও এজমালি জিনিষপত্র থেকে বঞ্চিত করছেন, তিনি সেটা অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে মেনে নিচ্ছেন৷ ছেলেদেরও কোর্টকাছারি করা থেকে বিরত করছেন৷ কেশবচন্দ্র সেনের জীবনের খুঁটিনাটি কিছু বর্ণনা আছে বইটয়৷ সব মিলিয়ে খুব যে সুখপাঠ্য তা নয়, তবে আগ্রহোদ্দীপক৷

‘পরিবেশের জাতপাত’ - মোহিত রায়

সবাই চায় সুন্দর পৃথিবী, সবুজ অরণ্য, নীল আকাশ, দূষণহীন পরিবেশ৷ টিভিতে, খবরের কাগজে বা এনজিওদের প্রচারপত্রে পরিবেশ ও উন্নয়নের পবিত্র আহ্বান৷ এ সবের ঢক্কানিনাদে ঢাকা পড়ে যায় গরিব মানুষের পরিবেশ সমস্যার কথা৷ হারিয়ে যায় তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের চেষ্টা৷ পেশায় পরিবেশ উপদেষ্টা মোহিত রায় জোরগলায় জানান পরিবেশেরও জাতপাত আছে৷সারাদিন রোদে পুড়ে জলে ভিজে যে নারী সুন্দরবনে মীন ধরেন, সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বাড়লে তাঁর কোন লাভই নেই, বরং ক্ষতি হবার সম্ভাবনা আছে৷ গ্রাম থেকে আসা এক ছাত্রী তাঁকে বলেছিল বিশেষ কোন জীববৈচিত্র্য ছাড়াই যদি তাঁরা কলকাতা শহরে ওদের চেয়ে অনেক বেশী ভাল থাকেন, তাহলে ওদের গ্রামেই বা কেন জীববৈচিত্র্যকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে? খুব একটা সন্তোষজনক উত্তর যোগায় নি তাঁর মুখে৷ অনেক পরিবেশবিদ যখন পরিবেশের উপর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে জ্বালাময়ী বক্তৃতা দেন, তখন এটা ভুলে যান যে আমাদের দেশের সব ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছতে হলে আমাদের এখনও আরও অনেক বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হবে৷ব্যপারটা অনেকটা যে চারবেলা পর্যাপ্ত খাবারই যোগাড় করতে পারে না, তাকে ডায়েটিঙের প্রয়োজনীয়তা বোঝানোর মত৷

এই বইটি মোহিত রায়ের প্রবন্ধ সংকলন৷ এতে মোট ১৭টি প্রবন্ধ আছে৷ প্রতিটি প্রবন্ধই সুলিখিত ও তথ্যসমৃদ্ধ৷ পরিবেশের দোহাই দিয়ে গরিব উৎখাতের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর এবং হেরে যাওয়ার কিছু ঘটনারও বিস্তৃত উল্লেখ আছে৷ যেমন রবীন্দ্রসরোবর বা সাউথ সিটির ঘটনা৷সব মিলিয়ে অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটি প্রবন্ধ সংকলন৷

‘পূর্ববঙ্গীয় কথ্য ভাষা' - কোরক সাহিত্য পত্রিকা –প্রাক-শারদ সংখ্যা :

কোরক পত্রিকার এই সংখ্যাটি বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কথ্য ভাষার স্বরূপ সংগ্রহ করেছে৷ বইটি মোটামুটি তিনটি অংশে বিভক্ত বলা যায়৷ প্রথম অংশে বাংলাদেশের জেলাগুলিতে মানুষের ব্যবহৃত মুখের ভাষার চেহারা ও চরিত্র অনুসন্ধান করা হয়েছে৷ দ্বিতীয় অংশে রয়েছে বিভিন্ন লেখকের উদ্ভাবিত শব্দ, সাহিত্যে ব্যবহৃত ভাষা বিষয়ে তথ্যনিষ্ঠ আলোকপাত৷ রবীন্দ্রনাথ থেকে বিষ্ণু দে, জীবনানন্দ পর্যন্ত বহু কবি, গদ্যকার সচেতনভাবে বহু শব্দ সৃষ্টি করেছেন৷ সেইসব সৃষ্ট শন্দ, ব্যবহৃত ভাষা শুধু বাংলা সাহিত্যে বৈচিত্র এনেছে তাই না, আমাদের আভিধানিক পরিসরেরও বৃদ্ধি ঘটিয়েছে৷ তারই বিস্তৃত বিবরণ উঠে এসেছে এই অধ্যায়টিতে৷ তৃতীয় অংশটি বঙ্গীয় শব্দকোষপ্রণেতা হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর একটি ক্রোড়পত্র৷

আমার ব্যক্তিগতভাবে দ্বিতীয় অংশটি সবচেয়ে আকর্ষণীয় লেগেছে৷ এই অংশে রবীন্দ্রনাথ, সুকুমার রায়, মাণিক বন্দ্যোপাধ্যায় আসবেন এটা প্রত্যাশিতই ছিল৷ কিন্তু সৈয়দ মুজতবা আলী, দীপ্তেন্দ্রকুমার, তারাশঙ্কর এবং সুধীন্দ্রনাথ দত্তর শব্দ ও ভাষাশৈলী নিয়ে আলোচনাগুলি নতুন আলোকপাত করেছে৷ এছাড়া মধুসুদন দত্ত, নজরুল, অবধুত, জীবনানন্দ, বনফুল ইত্যাদির ওপর লেখাগুলিও বেশ৷ ,

বঙ্গীয় শব্দকোষ প্রণেতা হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধার্ঘ্য অংশটিতে সংকলিত হয়েছে অমিতাভ চৌধুরী, হীরেন্দ্রনাথ দত্ত, দেবাঙ্গন বসু, পরিমল গোস্বaমী ,নির্মল দাশ ও নির্মলকুমার নাগের লেখা ছয়টি প্রবন্ধ৷ সাথে বাড়তি পাওনা রয়েছে বিশ্বভারতী পত্রিকায় ১৩৫৬ সনে প্রকাশিত বঙ্গীয় শব্দকোষের একটি বিজ্ঞাপন৷

কোরকের এই সংখ্যাটি নি:সন্দেহে সংগ্রহযোগ্য৷


782 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 7 -- 26
Avatar: byaang

Re: মাসকাবারি বইপত্তর - ১

আশকথা পাশকথা মোটেও তেমন ভালো লাগে নি। বড়োবাড়ির ছোটো স্মৃতি বরং বেশি টেনেছিল।
Avatar: byaang

Re: মাসকাবারি বইপত্তর - ১

দমুকে থ্যাংকিউ শরৎকুমারী দেব ও কল্যাণী সুরের বইদুটোর খবর দেওয়ার জন্য।
Avatar: লবাতমুন্ডি

Re: মাসকাবারি বইপত্তর - ১

ভালো দরকার। খুব উপকার হবে আমার। কিন্তু মন্দার মিত্র না মুখোপাধ্যায়?
Avatar:  লবাতমুন্ডি

Re: মাসকাবারি বইপত্তর - ১

*ভালো ব্লগ। দরকারী।

কি যে হয়েছে। এত টাইপো। চোখ দেখাতে হবে।
Avatar: byaang

Re: মাসকাবারি বইপত্তর - ১

মুখোপাধ্যায়
Avatar: pi

Re: মাসকাবারি বইপত্তর - ১

‘পূর্ববঙ্গীয় কথ্য ভাষা' কোথায় পাওয়া যাচ্ছে ?
Avatar: দ

Re: মাসকাবারি বইপত্তর - ১

অ্যালল!! ওটা মুখোপাধ্যায়ই হবে।

পাইকে রাতে লিখছি।
Avatar: hu

Re: মাসকাবারি বইপত্তর - ১

দমদির ডায়েরীটা ভালো লাগছে। আমাকে "রায়বাড়ি" নামের একটা বইয়ের লেখিকার নাম, পাবলিশারের নামের সুলুকসন্ধান দিতে পারবে? লেখিকা সম্পন্ন একান্নবর্তী পরিবারের গৃহবধূ। বাড়ির নানা পালাপার্বন, আচারবিচারের কথা সুন্দর ঝরঝরে ভাষায় লিখেছিলেন। মিশিগানের একটা লাইব্রেরীতে হঠাৎ হাতে এসেছিল। ডিটেলস একদম ভুলে গেছি। এখন পড়তে ইচ্ছে করে।
Avatar: byaang

Re: মাসকাবারি বইপত্তর - ১

গিরিবালাদেবীর লেখা। দেজ পাবলিশার্স।
Avatar: hu

Re: মাসকাবারি বইপত্তর - ১

বাহ বাহ! থেঙ্কুস ঃ-)
Avatar: Suhasini

Re: মাসকাবারি বইপত্তর - ১

প্রথম চার আর ছ'নম্বর বইয়ের প্রকাশক কে?
Avatar: byaang

Re: মাসকাবারি বইপত্তর - ১

৪ নম্বরের প্রকাশক গাংচিল।

কিনিস না। আমারটা নিয়ে নিস।
Avatar: AS

Re: মাসকাবারি বইপত্তর - ১

খুব ভালো লাগল এই না পড়া বই গুলোর সন্ধান দেবার জন্য
Avatar: দ

Re: মাসকাবারি বইপত্তর - ১

সুহাষিণী,

১ - -থীমা
৩ - গাঙচিল
২, ৬ - অবভাষ।

পাই,

পূর্ব্ববঙ্গীয় কথ্য ভাষা আর পশ্চিমবঙ্গীয় কথ্যভাষা দুইই কোরকের দোকানে পাবে। আগে পত্রিকায় বেরিয়েছিল, পরে বই হিসেবে বের করেছে।
Avatar: দ

Re: মাসকাবারি বইপত্তর - ১

ইন্ডোকে বেদম ক্যালাব। :ক্ষ

হুচি।সুহাষিণী, লবাতমুন্ডি, AS, ব্যাঙ
থিঙ্কুসসস
Avatar: দ

Re: মাসকাবারি বইপত্তর - ১

হ্যাঁ এইবারে পাইয়ের মূল প্রসঙ্গ সম্পর্কঃ

প্রথমেই জয়া মিত্র'র লেখাটার জন্য একটা মস্ত ধন্যবাদ। আবাপ'য় এইটা আমার চোখ এড়িয়েছিল।

যাই হোক জয়াদেবীর তোলা পয়েন্টগুলো ঠিকই আছে। এখন আমরা যাদের গুরুতে 'ব্যাগড়াপন্থী' বলছি তাদের উপর ওঁর খুব রাগ। সেটা বইয়ে বারবার এসেছে। তবে .... তবে ওঁর বক্তব্যের কিছুটা সত্যতা তো আছেই। গাছপালা, বাঘ সিংহ আর মানুষের মধ্যে যদি কখনও প্রায়োরিটাইজেশানের প্রশ্ন আসে তো আমি মানুষের দিকেই হেলে থাকবো।

ধর কলকাতা আর দচপ'র বিস্তীর্ণ অংশ (রাজারহাট, লাউহাটি, শিকড়পুর, হারোয়া ইত্যাদি ধরে) এই শ'তিনেক বছর আগেও ম্যানগ্রোভের গভীর জঙ্গল ছিল। শুধু রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারই নয় এমনকি একজাতীয় গন্ডারও দিব্বি ঘুরেফিরে বেড়াত। তা এখন তো সেসব পাকা ঘরদোর হয়ে গন্ডার বেমালুম বিলুপ্ত আর বাঘেরা কোণঠাসা হয়ে আছে। তো, এটা সত্যিই অন্যরকম হয়ে থাকলে কি খুব ভাল হত? কি জানি! আমার তো মনে হয় না।

তবে আমি মনে করি মানুষের অতিরিক্ত লোভেও একটা চেক ব্যালেন্স দরকার। সেইজন্যই পরিবেশ দপ্তর, পরিবেশ বিজ্ঞানী ইত্যাদি। মানুষকে বাঁচতে গেলে কিছু প্রকৃতি ধ্বংস করে কিছুটা সঙ্গে নিয়েই বাঁচতে হবে।

তো এইদিক থেকে দেখলে আমার মোহিতবাবুর বক্তব্য খুব অযৌক্তিক লাগে নি।

এই বই পড়তে গিয়েই মনে পড়ল একবার কোন্নগর স্টেশান বাজারে তরকারীতে অতিরিক্ত রং ব্যবহারের জন্য কিছু বিক্রেতাকে স্থানীয় মানুষজন বিজ্ঞানক্লাবের সাহায্যে ধরে বেশ হেনস্থা করে, বাজারে টাটকা রংহীন সবজি বিক্রী করতে হবে এই মর্মে বিক্ষোভও দেখায়। তো, এর মধ্যে এসে গেল পরিবেশ দিবস। ওবাবা দেখি একজন ভীষণ তেড়েফুঁড়ে বক্তৃতা দিচ্ছেন মানুষের সবুজ খাওয়া দরকার, কাজেই যেসব বিক্রেতারা অতিরিক্ত সবুজ রঙে চুবিয়ে পটল ইত্যাদি বিক্রীএ করছেন তাঁরা আসলে পরিবেশবান্ধব। :-))
তো এনাকে যখন বক্তৃতা দিতে মঞ্চে ডাকা হয়েছিল, তখন নিশ্চয় পরিবেশবন্ধু ধরে নিয়েই পরিবেশদিবসের অনুষ্ঠানে ডাকা হয়েছিল। তা এরকম লোকের সম্বন্ধে মোহিতবাবুর বক্তব্যটা তো ঠিকই আছে।

বাংলাদেশ থেকে আগত লোক সম্পর্কে বিদ্বেষটা কোনও কারণে খেয়াল করি নি, পল্লবগ্রাহিতার ফল আর কি। :-( । আরেকবার পড়ে দেখতে হবে।
Avatar: aranya

Re: মাসকাবারি বইপত্তর - ১

জয়া মিত্রের লেখাটা ভাল লাগল
Avatar: π

Re: মাসকাবারি বইপত্তর - ১

দমদি, থ্যাংকু। পরে লিখছি।
Avatar: Suhasini

Re: মাসকাবারি বইপত্তর - ১

উপকার হল দমু। ব্যাং, কাকে বললে? ঃ
Avatar: byaang

Re: মাসকাবারি বইপত্তর - ১

তোকেই বললাম।

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 7 -- 26


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন