Punyabrata Goon RSS feed

[email protected]
Punyabrata Goonএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা... বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ পরিবর্তন হওয়ার দিন
    বিএনপি এখন অস্তিত্ব সংকটে আছে। কিন্তু কয়েক বছর আগেও পরিস্থিতি এমন ছিল না। ক্ষমতার তাপে মাথা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল দলটার। ফলাফল ২০০৪ সালের ২১ আগস্টে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেনেড মেরে হত্যার চেষ্টা। বিরোধীদলের নেত্রীকে হত্যার চেষ্টা করলেই ...
  • তোমার বাড়ি
    তোমার বাড়ি মেঘের কাছে, তোমার গ্রামে বরফ আজো?আজ, সীমান্তবর্তী শহর, শুধুই বেয়নেটে সাজো।সারাটা দিন বুটের টহল, সারাটা দিন বন্দী ঘরে।সমস্ত রাত দুয়ারগুলি অবিরত ভাঙলো ঝড়ে।জেনেছো আজ, কেউ আসেনি: তোমার জন্য পরিত্রাতা।তোমার নমাজ হয় না আদায়, তোমার চোখে পেলেট ...
  • বার্সিলোনা - পর্ব ২
    বার্সিলোনা আসলে স্পেনের শহর হয়েও স্পেনের না। উত্তর পুর্ব স্পেনের যেখানে বার্সিলোনা, সেই অঞ্চল কে বলা হয় ক্যাটালোনিয়া। স্বাধীনদেশ না হয়েও স্বশাসিত প্রদেশ। যেমন কানাডায় কিউবেক। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই মনে হয় এরকম একটা জায়গা থাকে, দেশি হয়েও দেশি না। ...
  • বার্সিলোনা - পর্ব ১
    ঠিক করেছিলাম আট-নয়দিন স্পেন বেড়াতে গেলে, বার্সিলোনাতেই থাকব। বেড়ানোর সময়টুকুর মধ্যে খুব দৌড় ঝাঁপ, এক দিনে একটা শহর দেখে বা একটা গন্তব্যের দেখার জায়গা ফর্দ মিলিয়ে শেষ করে আবার মাল পত্তর নিয়ে পরবর্তী গন্তব্যের দিকে ভোর রাতে রওনা হওয়া, আর এই করে ১০ দিনে ৮ ...
  • লাল ঝুঁটি কাকাতুয়া
    -'একটা ছিল লাল ঝুঁটি কাকাতুয়া।আর ছিল একটা নীল ঝুঁটি মামাতুয়া।'-'এরা কারা?' মেয়েটা সঙ্গে সঙ্গে চোখ বড়ো করে অদ্ভুত লোকটাকে জিজ্ঞেস করে।-'আসলে কাকাতুয়া আর মামাতুয়া এক জনই। ওর আসল নাম তুয়া। কাকা-ও তুয়া বলে ডাকে, মামা-ও ডাকে তুয়া।'শুনেই মেয়েটা ফিক করে হেসে ...
  • স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি
    স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি। আমি স্টার্ট-আপ কোম্পানিতে কাজ করছি ১৯৯৮ সাল থেকে। সিলিকন ভ্যালিতে। সময়ের একটা আন্দাজ দিতে বলি - গুগুল তখনও শুধু সিলিকন ভ্যালির আনাচে-কানাচে, ফেসবুকের নামগন্ধ নেই, ইয়াহুর বয়েস বছর চারেক, অ্যামাজনেরও বেশি দিন হয়নি। ...
  • মৃণাল সেন : এক উপেক্ষিত চলচ্চিত্রকার
    [আজ বের্টোল্ট ব্রেশট-এর মৃত্যুদিন। ভারতীয় চলচ্চিত্রে যিনি সার্থকভাবে প্রয়োগ করেছিলেন ব্রেশটিয় আঙ্গিক, সেই মৃণাল সেনকে নিয়ে একটি সামান্য লেখা।]ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কীভাবে যেন পরিচালক ত্রয়ী সত্যজিৎ-ঋত্বিক-মৃণাল এক বিন্দুতে এসে মিলিত হন। ১৯৫৫-তে মুক্তি ...
  • দময়ন্তীর সিজনস অব বিট্রেয়াল পড়ে
    পড়লাম সিজনস অব বিট্রেয়াল গুরুচন্ডা৯'র বই দময়ন্তীর সিজনস অব বিট্রেয়াল। বইটার সঙ্গে যেন তীব্র সমানুভবে জড়িয়ে গেলাম। প্রাককথনে প্রথম বাক্যেই লেখক বলেছেন বাঙাল বাড়ির দ্বিতীয় প্রজন্মের মেয়ে হিসেবে পার্টিশন শব্দটির সঙ্গে পরিচিতি জন্মাবধি। দেশভাগ কেতাবি ...
  • দুটি পাড়া, একটি বাড়ি
    পাশাপাশি দুই পাড়া - ভ-পাড়া আর প-পাড়া। জন্মলগ্ন থেকেই তাদের মধ্যে তুমুল টক্কর। দুই পাড়ার সীমানায় একখানি সাতমহলা বাহারী বাড়ি। তাতে ক-পরিবারের বাস। এরা সম্ভ্রান্ত, উচ্চশিক্ষিত। দুই পাড়ার সাথেই এদের মুখ মিষ্টি, কিন্তু নিজেদের এরা কোনো পাড়ারই অংশ মনে করে না। ...
  • পরিচিতির রাজনীতি: সন্তোষ রাণার কাছে যা শিখেছি
    দিলীপ ঘোষযখন স্কুলের গণ্ডি ছাড়াচ্ছি, সন্তোষ রাণা তখন বেশ শিহরণ জাগানাে নাম। গত ষাটের দশকের শেষার্ধ। সংবাদপত্র, সাময়িক পত্রিকা, রেডিও জুড়ে নকশালবাড়ির আন্দোলনের নানা নাম ছড়িয়ে পড়ছে আমাদের মধ্যে। বুঝি না বুঝি, পকেটে রেড বুক নিয়ে ঘােরাঘুরি ফ্যাশন হয়ে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

ওষুধ নিয়ে জানার ওষুধ কাকে বলে

Punyabrata Goon

স্বাস্থ্য মানেই চিকিৎসা নয়—একথা সত্যি, কিন্তু অসুখ হলে চিকিৎসা দরকার, আর সেই চিকিৎসায় বড় ভূমিকা ওষুধের। খরচের হিসেবে যদি দেখি--চিকিৎসার মোট খরচের একটা বড় অংশ (৭০ থেকে ৮০%) জুড়ে থাকে ওষুধের দাম। চিকিৎসার খরচ যোগাতে দারিদ্রসীমার নীচে নেমে যায় রোগীর পরিবার।

ওষুধ একটা পণ্য, ওষুধ-কোম্পানী ওষুধ তৈরী করে মুনাফার জন্য। কিন্তু অন্য পণ্যের সঙ্গে এ পণ্যের ফারাক হল ক্রেতা (অর্থাৎ রোগী) পণ্যটাকে নির্বাচন করেন না। রোগীর হয়ে পণ্যটাকে নির্বাচন করে দেন অন্য কেউ অর্থাৎ ডাক্তার। তাবলে ওষুধ সম্পর্কে সাধারণ মানুষ জানবেন না এমনটা হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়।

ওষুধ একটা রাসায়নিক
যার ব্যবহারঃ
• রোগ নিরাময়ে (যেমন—ব্যাক্টেরিয়া-সংক্রমণে এন্টিবায়োটিক)
• রোগের কষ্ট কমানোয় (যেমন—উচ্চ-রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসে)
• রোগ-প্রতিরোধে (যেমন—টীকাগুলো)
• রোগ-নির্ণয়ে (যেমন—এক্স-রে বা সিটি স্ক্যানে অনেক ক্ষেত্রে রঞ্জকের ব্যবহার)
• স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়া পরিবর্তনে (যেমন—জন্মনিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত ওষুধ)।

ওষুধ আর বিষ
ওষুধবিজ্ঞানে বলা হয়—যার বিষক্রিয়া নয় তা ওষুধই নয়। এরকম একটা পদার্থ একটা মাত্রায় ওষুধের কাজ করে আবার মাত্রা বাড়ালে বিষের মত কাজ করে। তাই কোনও বস্তুকে ওষুধের তকমা পেতে গেলে কতগুলো ধাপ পেরিয়ে আসতে হয়।

রাসায়নিক কি ভাবে ওষুধের তকমা পায়?
• প্রথমে কোন রাসায়নিক ওষুধ হতে পারে সে বিষয়ে ধারণা করা হয়।
• তারপর ওষুধপদপ্রার্থী বস্তুটার ডিজাইন করা ও সংশ্লেষণ করার পালা।
• এবার মানবেতর প্রাণী ও তাদের কোষকলার ওপর সেটার প্রভাব নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।
• এরপর মানুষের ওপর পরীক্ষা।
• এরপরের ধাপে সরকারী লাইসেন্স পেয়ে চিকিৎসার জন্য বস্তুটা বাজারজাত করা হয়।
• বাজারজাত হওয়ার পর তার নিরাপত্তা ও অন্যান্য ওষুধের সঙ্গে তুলনামূলক তথ্য-সংগ্রহ চালানো হয়।

বাজারে আসার লাইসেন্স পাওয়ার আগে মানুষের ওপর পরীক্ষা চালানোর কথা আবার তিনটে পর্যায়ে—
১) ২০ থেকে ৫০ জন সুস্থ স্বেচ্ছাসেবী বা স্বেচ্ছাসেবী রোগীর ওপর,
২) ৫০ থেকে ৩০০ জন রোগীর ওপর,
৩) ২৫০ থেকে ১০০০ জন রোগীর ওপর।
কোন পর্যায়ে কি কি দেখা হয় তা জটিলতা বর্জন করার জন্য এখানে বলছি না।

ওষুধ আবিষ্কারের খরচ আর ওষুধ কোম্পানী খরচ বাঁচাতে কি করে?
বলাই বাহুল্য এভাবে পরীক্ষা চালিয়ে একটা ওষুধকে বাজারে আনা বেশ ব্যয়সাপেক্ষ, তার ওপর আবার দেখা যায় ১০০ টা ওষুধপদপ্রার্থীকে নিয়ে কাজ শুরু করলে শেষ অবধি ওষুধের তকমা পায় গড়ে তাদের মধ্যে একটা। নতুন ওষুধ বাজারে আনার খরচ হিসেব করে দেখা গেছে ওষুধ পিছু খরচ পড়ে গড়ে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সময় লাগতে পারে ১৫ বছর অবধি, তার মধ্যে ক্লিনিকাল ট্রায়ালের জন্য ১০ বছর অবধি।

খরচ বাঁচানোর জন্য বহুজাতিক ওষুধ-কোম্পানীগুলো যে পন্থা অবলম্বন করে তার মধ্যে অন্যতম হল—তৃতীয় বিশ্বের গরীব দেশগুলোতে ক্লিনিকাল ট্রায়াল চালানো, যেসব দেশে ওষুধ-নিয়ন্ত্রক সংস্থা কমজোর, যেখানে ওষুধ-নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মীদের একাংশ ও চিকিৎসকদের একাংশকে কমপয়সা খরচ করেই কিনে নেওয়া যায়, নিজেদের পছন্দমত রিপোর্ট তৈরী করানো যায়।

ভারতেও এরকম অনৈতিক ক্লিনিকাল ট্রায়াল চলেছে বহুদিন ধরে। বিষয়টা নিয়ে হইচই হওয়ার পর সরকার বাধ্য হয় নিয়ম করতে—২০০৯-এর ১৫ই জুন থেকে সমস্ত ক্লিনিকাল ট্রায়াল করার জন্য আই সি এম আর-এর ক্লিনিকাল ট্রায়াল রেজিস্ট্রিতে নথিভুক্তিকরণ বাধ্যতামূলক। নতুন নতুন নিয়ম যতই হোক না কেন তাতে ওষুধকোম্পানীগুলোর কোনো অসুবিধা হচ্ছে বলে মনে হয় না। ক্ষতিকর, অপ্রয়োজনীয় ও উন্নত দেশে নিষিদ্ধ ওষুধের সংখ্যা আমাদের দেশের বাজারে বাড়ছে বই কমছে না।



দেশে প্রচুর ওষুধ, কিন্তু মানুষের জন্য ওষুধ নেই
আমাদের দেশ পৃথিবীর বৃহত্তম ওষুধ উৎপাদক দেশগুলোর মধ্যে একটা। ২০০৯-২০১০ সালে ৬২,০৫৫ কোটি টাকার ওষুধ বিক্রি হয়েছে দেশের বাজারে আর ৪২,১৫২ কোটি টাকার ওষুধ রপ্তানী হয়েছে। উৎপাদিত ওষুধের আয়তনের হিসেবে ভারত পৃথিবীতে তৃতীয়, মোট দামের হিসেবে পৃথিবীতে ১৪ নম্বর। এই ফারাকের কারণ হল আমাদের দেশে ওষুধের দাম অনেক দেশের তুলনায় কম তাই মোট আয়তন বেশী হলেও মোট দাম কম।

এত উৎপাদন সত্ত্বেও অবশ্য আমাদের দেশের অধিকাংশ নাগরিক ওষুধ কিনতে পারেন না। কেন পারেন না, তার কারণ খুঁজতেই আমাদের এই আলোচনা।

সব ওষুধ কিন্তু দরকারী নয়
১৯৭৫-এ সাংসদ জয়শুকলাল হাতি-র নেতৃত্বাধীন এক সংসদীয় কমিটি বলেছিল ১১৭টা ওষুধ দিয়ে সে সময়ের ভারতের অধিকাংশ মানুষের অধিকাংশ মানুষের অধিকাংশ অসুখের চিকিৎসা সম্ভব।

১৯৭৭-এ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রথম যে অত্যাবশ্যক ওষুধের তালিকা বার করে তাতে ছিল ২০৮টা ওষুধ। অথচ সে সময়ে ভারতের ওষুধ বাজারে প্রায় ৬০হাজার ওষুধ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক অত্যাবশ্যক ওষুধের তালিকায় আছে ৩৭৪টা ওষুধ। ভারতের জাতীয় তালিকায় ওষুধের সংখ্যা ৩৪৮। অথচ ভারতের বাজারে ওষুধ ফর্মুলেশনের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়েছে।

এত ফর্মুলেশন তাহলে কেন? একই ওষুধ আলাদা আলাদা কোম্পানী বাজার-জাত করে আলাদা আলাদা নামে। তারপর আছে একাধিক ওষুধের নির্দিষ্ট মাত্রায় মিশ্রণ, যার অধিকাংশই অপ্রয়োজনীয়। এছাড়া আছে অপ্রয়োজনীয় অনেক ফর্মুলেশন, যেমন—কাফ সিরাপ, হজমী ওষুধ, টনিক...।

ওষুধের নাম
ওষুধের আসলে তিনটি নাম। প্রথম নামটি পুরো রাসায়নিক নাম, যা কাজে লাগে রসায়নবিদদের। দ্বিতীয় নামটি গোত্র নাম বা জেনেরিক নাম, এই নাম ব্যবহার করা হয় ওষুধ-বিজ্ঞান সহ চিকিৎসাবিদ্যার অন্যান্য শাখার আলোচনায়। তৃতীয় নামটি হল ব্র্যান্ড নাম বা বাণিজ্যিক নাম। একটি ওষুধের বাণিজ্যিক নাম অবশ্য একটি নয়। একই ওষুধকে আলাদা আলাদা ওষুধ-কোম্পানী আলাদা আলাদা নাম দেয়, বলা যেতে পারে এই নাম ওষুধ-কোম্পানীর বাণিজ্যিক সম্পত্তি।
একটি উদাহরণ দেখুন। প্যারাসিটামল ওষুধটি আমাদের খুব চেনা, জ্বর-ব্যথায় আকছার ব্যবহার করা হয়। এর রাসায়নিক নাম--N-(4-hydroxyphenyl) ethanamide N-(4-hydroxyphenyl) acetamide। জেনেরিক নাম প্যারাসিটামল (paracetamol), আমেরিকায় অবশ্য এসিটামিনোফেন (acetaminophen) জেনেরিক নামে একে ডাকা হয়। বাজারে যেসব নামে প্যারাসিটামল পাওয়া যায়, তাদের মধ্যে বহুল-প্রচারিত ক্যালপল (Calpol) আর ক্রোসিন (Crocin)।

জেনেরিক নাম নয় আসলে বলা উচিত ‘আন্তর্জাতিক অব্যবসায়িক নাম’
জেনেরিক নামের আসল অর্থ গোষ্ঠী নাম, জেনেরিক নাম বলতে ওষুধের ক্ষেত্রে কিন্তু ওষুধের একটি গোষ্ঠীর (এক ধরনের কিছু ওষুধের) নাম না বুঝিয়ে একটি ওষুধের নাম বোঝানো হয়। তাই জেনেরিক নামের বদলে বলা উচিত আন্তর্জাতিক অব্যবসায়িক নাম (International Nonproprietary Name) ।

আগে একই ওষুধ ভিন্ন ভিন্ন দেশে পরিচিত ছিল ভিন্ন ভিন্ন নামে। বছর ৫০ আগে নামে সমতা আনার প্রয়াস শুরু হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ওষুধের আন্তর্জাতিক অব্যবসায়িক নাম ঠিক করে। বেশীর ভাগ দেশই এখন আন্তর্জাতিক অব্যবসায়িক নাম ব্যবহার করে। ব্যতিক্রম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র—যেমন আমরা দেখেছি প্যারাসিটামলকে সে দেশে ডাকা হয় এসিটামিনোফেন নামে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নামগুলি (USA National Names)-কে অবশ্য আস্তে আস্তে আন্তর্জাতিক অব্যবসায়িক নামে পরিবর্তিত হচ্ছে। ব্রিটেনে অনুমোদিত নামগুলো (British Approved Names—BAN)-ও বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অব্যবসায়িক নামে রূপান্তরিত হয়ে গেছে।

আন্তর্জাতিক অব্যবসায়িক নাম ঠিক করার সময় তিনটি বিষয় দেখা হয়—
1. উচ্চারণে ও বানানে যাতে বৈশিষ্ট্য থাকে, হাতের লেখাতেও যাতে অসুবিধা না হয়।
2. চলতি অব্যবসায়িক নাম বা বাণিজ্যিক নামগুলোর সঙ্গে যাতে এ নাম গুলিয়ে না যায়।
3. নাম থেকে যাতে একই ধরনের বিভিন্ন ওষুধের পারস্পরিক সম্পর্ক আন্দাজ করা যায়।

অব্যবসায়িক নাম থেকে কি ভাবে একই ধরনের ওষুধগুলিকে চেনা যায় দেখুন
• ডায়াজিপাম, নাইট্রাজিপাম, ফ্লুরাজিপাম—এই প্রশান্তিকারক ওষুধগুলো সব বেঞ্জোডায়াজেপিন।
• প্রোপ্রানোলল, এটেনেলল, মেটোপ্রোলল—‘ওলল’ দিয়ে শেষ হওয়া ওষুধগুলো প্রেসার কমানোর ওষুধ, যাদের বলা হয় এড্রেনোরিসেপ্টর ব্লকার বা বিটা-ব্লকার।
• এনালাপ্রিল, রেমিপ্রিল, লিসিনোপ্রিল—‘প্রিল’ দিয়ে শেষ হওয়া প্রেসারের ওষুধগুলো এসিই-ইনহিবিটর।
• ‘ফ্লক্সাসিন’ দিয়ে শেষ হওয়া নরফ্লক্সাসিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন, গ্যাটিফ্লক্সাসিন, ইত্যাদি কুইনোলন জীবাণুনাশক।

কিভাবে আন্তর্জাতিক অব্যবসায়িক নাম লেখা হবে তারও নিয়ম ঠিক করা আছে বিভিন্ন দেশে। আন্তর্জাতিক অব্যবসায়িক নাম ব্র্যান্ড নামের ঠিক নীচে লিখতেই হয়। কোনো কোনো দেশে আন্তর্জাতিক অব্যবসায়িক নাম ছাপা হয় যে সাইজের অক্ষরে ব্র্যান্ড নাম ছাপা হয়েছে অন্তত তার অর্ধেক সাইজের অক্ষরে। কোনো কোনো দেশে আবার আন্তর্জাতিক অব্যবসায়িক নাম ছাপতে হয় ব্র্যান্ড নামের চেয়ে বড় অক্ষরে। কোনো দেশ আবার রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্রে ব্র্যান্ড নামের ব্যবহার তুলেই দিয়েছে।

কেবল আন্তর্জাতিক অব্যবসায়িক নাম ব্যবহারে কি সুবিধা?
• ওষুধবিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের বইপত্রে-পড়াশুনায় কেবল আন্তর্জাতিক অব্যবসায়িক নামই ব্যবহৃত হয়।
• চিকিৎসাবিজ্ঞানের জার্নাল ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রকাশনাগুলিতেও কেবল আন্তর্জাতিক অব্যবসায়িক নাম ব্যবহার করা হয় ।
• বাজারে একাধিক ওষুধের নির্দিষ্ট মাত্রায় মিশ্রণে তৈরী প্রচুর ফর্মুলেশন পাওয়া যায়, যেগুলির অধিকাংশই অযৌক্তিক ও অপ্রয়োজনীয়। আন্তর্জাতিক অব্যবসায়িক নাম ব্যবহার চালু হলে ওষুধ কোম্পানীগুলো বেশী সংখ্যায় একক ওষুধের ফর্মুলেশন উৎপাদন ও বিক্রি করতে বাধ্য হয়।
• ওষুধের নাম দেখেই সেটা কোন ধরনের ওষুধ বোঝা সহজ হবে। একই ওষুধের নানান ব্র্যান্ড নামে মিল থাকে না, ফলে বিভ্রান্তি তৈরী হয়। এই বিভ্রান্তিও হয় না জেনেরিক নাম ব্যবহারে।
• দেখা গেছে আন্তর্জাতিক অব্যবসায়িক নামের ওষুধগুলির দাম সাধারণভাবে সেই ওষুধেরই ব্র্যান্ডগুলোর চেয়ে অনেক কম।
• কেবল আন্তর্জাতিক অব্যবসায়িক নাম ব্যবহার করা হলে ডাক্তারদেরও অল্প কিছু নাম মনে রাখলেই হয়, একগাদা ব্র্যান্ড নাম মনে রাখতে হয় না।
• আন্তর্জাতিক অব্যবসায়িক নাম ব্যবহৃত হলে জাতীয় অত্যাবশ্যক ওষুধের তালিকা তৈরী করা সহজ হয়।
• কেবল আন্তর্জাতিক অব্যবসায়িক নাম চললে ব্র্যান্ড নামের প্রচার করতে হয় না, বিজ্ঞাপনে খরচ কমে, ওষুধের দামও কমে।
• দেখা যায় ওষুধের সম্পর্কে সাধারণ মানুষ ও চিকিৎসাকর্মীদের ধোঁয়াশা কাটে আন্তর্জাতিক অব্যবসায়িক নাম ব্যবহারে।

কেন ব্র্যান্ড নামে বিভ্রান্তি?
আমাদের দেশে উৎপাদিত বস্তুর পেটেন্ট স্বীকৃত নয়, উৎপাদন-পদ্ধতির পেটেন্ট স্বীকৃত। এই কারণে কোন ওষুধের কোন মালিক নেই, মালিকানা কেবল ওষুধ তৈরীর পদ্ধতির। অর্থাৎ একই ওষুধ একাধিক কোম্পানী আলাদা আলাদা পদ্ধতিতে তৈরী করতে পারে। ওষুধের কোন ব্র্যান্ড নাম এক অর্থে কোন একটি কোম্পানীর সম্পত্তি। কিন্তু সেখানেও কথা আছে—বেশীর ভাগ ব্র্যান্ড নামই কিন্তু নথিভুক্ত করা নয়, কেন না আমাদের দেশে নাম নথিভুক্তিকরণের প্রক্রিয়া খুব জটিল ও তাতে দীর্ঘ সময় লাগে। যে ব্র্যান্ড নামগুলি নথিভুক্ত নয়, যে কেউই সে নাম ব্যবহার করতে পারে। নথিভুক্ত ব্র্যান্ড নামগুলিও আবার অন্য শ্রেণীর পণ্যের জন্য ব্যবহার করা যায়। যেমন ‘মারুতি’ গাড়ীর জন্য নথিভুক্ত নাম, কোন ওষুধের ব্র্যান্ড নাম কিন্তু মারুতি হতেই পারে। এর ফলে বিভ্রান্তির শেষ নেই।

একই ব্র্যান্ড নামে পাওয়া যায় আলাদা শ্রেণীর ওষুধ
‘Lona’এই নামে ট্রাইটন হেলথকেয়ার প্রাইভেট লিমিটেড ক্লোনাজিপাম তৈরী করে, ক্লোনাজিপাম মৃগীরোগে, উদ্বেগে ব্যবহার করা হয়। আবার ‘Lona’ নামে ডাবর তৈরী করে উচ্চরক্তচাপের রোগীদের জন্য কম সোডিয়াম-যুক্ত লবণ। তাহলে ডাক্তার ‘Lona’ লিখলে ওষুধের দোকানী কোনটা দেবেন?

কিছু ব্র্যান্ড নাম এতটাই এক রকম যে গন্ডগোল হয়ে যায়
কতগুলো উদাহরণ দেখুন—
• A to Z এগ্লোমেডের মাল্টিভিটামিন, AZ-1 কোপ্রানের জীবাণুনাশক এজিথ্রোমাইসিন, AZ কিওর কুইক ফার্মার কৃমির ওষুধ এলবেন্ডাজোল।
• Celib ইউনিকেম ল্যাবের ব্যথার ওষুধ সেলেকক্সিব, Celin গ্ল্যাক্সো স্মিথ ক্লিনের ভিটামিন সি।
• Eltocin ইপকা ল্যাবের জীবাণুনাশক এরিথ্রোমাইসিন, Eltroxin গ্ল্যাক্সো স্মিথ ক্লিনের লিভোথাইরক্সিন যা হাইপোথাইরয়েড রোগে ব্যবহার করা হয়।
• Fasigyn ফাইজারের আমাশার ওষুধ টিনিডাজোল, Fasizym ইনফারের এনজাইম প্রিপারেশন।
• Glyred নোভার্টিসের গ্লাইক্লাজাইড, Glyrep এমকিওর ফার্মার মেটফরমিন, দুটিই অবশ্য ডায়াবেটিসের দুই শ্রেণীর ওষুধ।
• Orfiz নোভার্টিস ফার্মার ORS, Orfix অর্কিডের জীবাণুনাশক সিফিক্সিম।
• Pronim ইউনিকেম লিমিটেডের ব্যথার ওষুধ, Pronil পিআইএল-এর বিষাদের ওষুধ ফ্লুওক্সেটিন।
• Tobitil রেনব্যাক্সির ব্যথার ওষুধ টেনোক্সিকাম, Tobitol পিসিআই-এর যক্ষ্মার ওষুধ ইথামবুটল।
• Trip ফাইজারের বিষাদের ওষুধ নরট্রিপ্টিলিন, Triz ইন্ডোকো রেমিডিজের এলার্জির ওষুধ সেট্রিজিন।
• Vizole এম এল ল্যাবসের কৃমির ওষুধ লিভামিজোল, Vinzole ভিন্টেজ ল্যাবসের পেপ্টিক আলসারের ওষুধ ওমপেরাজোল।

একই কোম্পানী আলাদা ওষুধগুলোকে এতোটা একরকম ব্র্যান্ড নাম দেয় যে গুলিয়ে যায়
• প্যারেন্টাল তার দুই জীবাণুনাশক এমোক্সিসিলিন ও রক্সিথ্রোমাইসিনের নাম দিয়েছে যথাক্রমে PD-Mox ও PD-Rox।
• পিআইএল-এর দুই মনোরোগের ওষুধ ক্লোমিপ্রামিন ও ক্লোরপ্রোমাজিনের নাম যথাক্রমে Clomine ও Clozine।
• Taxim এবং Taxim-O যথাক্রমে এলকেমের দুই জীবাণুনাশক সেফোট্যাক্সিম ও সেফিক্সিম।

উপরের উদাহরণগুলো থেকে সহজেই বোঝা যায় ব্র্যান্ড নাম থেকে কি পরিমাণ চিকিৎসা-বিভ্রাট হতে পারে।

ব্র্যান্ড নামে দামের ফারাক!
কোম্পানী নিজের ব্র্যান্ডকে পরিচিত করানোর জন্য প্রচার করে, সেই প্রচারের খরচ তোলে রোগীর পকেট কেটে ওষুধের দামে। তাই একই ওষুধ একেক কোম্পানীর ব্র্যান্ডে একেক রকম দাম। যে প্যারাসিটামলের ৫০০ মিগ্রা-র ট্যাবলেট এলবার্ট ডেভিড Parazine নামে বিক্রি করে একেকটা ১৫ পয়সা দামে, ফার্মা সিন্থ ফর্মুলেশন্স লিমিটেড Paranova নামে তা বিক্রি করে একেকটা ৫ টাকা ৯০ পয়সায়। প্রথম ব্র্যান্ডটার তুলনায় পরের ব্র্যান্ডটার দাম প্রায় ৪০ গুণ!

সত্যিই কি জেনেরিক নামের ওষুধের তুলনায় ব্র্যান্ড নামের ওষুধ গুণবত্তায় ভালো?
অনেকে মনে করেন কোম্পানী যখন ব্র্যান্ড নামকে পরিচিত করানোর জন্য এত পয়সা খরচ করেছে তখন সে ওষুধের গুণবত্তার সঙ্গে আপস করবে না। ডাক্তাররাও অনেকে এমনটা বিশ্বাস করেন, তাই দেখি জেনেরিক নামের বিরুদ্ধে ও ব্র্যান্ড নামের সপক্ষে জনমত তৈরী করতে তাঁরা নেমে পড়েন। কিন্তু প্রায়শই দেখা যায় বহুল পরিচিত অনেক ওষুধ কোম্পানী ও ওষুধের ব্র্যান্ড মুনাফার লক্ষ্যে গুণবত্তায় আপস করে। গণস্বাস্থ্য আন্দোলনের কর্মীরা যে সব ক্লিনিক বা হাসপাতাল চালান সেগুলির অভিজ্ঞতা থেকে জোরের সঙ্গেই বলা যায় জেনেরিক নামের ওষুধ ও তার নানান ব্র্যান্ডের কার্যক্ষমতায় কোন ফারাক নেই।

জেনেরিক নামের ওষুধ বাজারে পাওয়া মুশকিল
মেডিকাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া ২০০২-এর নীতিমালায় ডাক্তারদের যথাসম্ভব জেনেরিক নাম ব্যবহার করতে বলেছে। সরকারও ডাক্তারদের নির্দেশ দিচ্ছে জেনেরিক নামে ওষুধ লেখার জন্য। কিন্তু বেশীর ভাগ ওষুধের দোকানে আন্তর্জাতিক অব্যবসায়িক নামে ওষুধ পাওয়া যায় না। জেনেরিক নামের প্রেসক্রিপশনে দোকানী তাঁর ইচ্ছা মতো ব্র্যান্ডের ওষুধ দেন। স্বভাবতই যে ব্র্যান্ডের ওষুধে তাঁর লাভ বেশী সেটাই তাঁর পছন্দের ওষুধ হয়। আবার বেশীর ভাগ ওষুধ আন্তর্জাতিক অব্যবসায়িক নামে উৎপাদিতই হয় না। বড় বড় ওষুধ কোম্পানীগুলোর জেনেরিক ডিভিশন আজকাল অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের উৎপাদিত ওষুধে ব্র্যান্ড নাম দেয়, এদের বলা হয় ‘ব্র্যান্ডেড জেনেরিক্স’।

যেসব ওষুধ আন্তর্জাতিক অব্যবসায়িক নামে উৎপাদিত হয় না সে ক্ষেত্রে কি করা যায়?
তাদের কমদামী ব্র্যান্ড ব্যবহারই বিকল্প, এই বিকল্প খোঁজায় আপনার ডাক্তার আপনাকে সাহায্য করতে পারেন। আর আপনি যদি কম্পিউটার-স্যাভি হন, তাহলে আপনার জন্য এখন এক অভিনব ওয়েবসাইট আছে। এই ওয়েবসাইটটি চালায় বিনোদ কুমার মেমোরিয়াল ট্রাস্ট। www.medguideindia.com লিঙ্কে ক্লিক করে হোম পেজে যান। Brand Name লেখা জায়গায় আপনাকে যে ওষুধ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে সেটি লিখে submit করুন। ড্রপ ডাউন মেনুতে সে ওষুধটির নাম পেয়ে যেতে পারেন।এবার আপনি পাবেন প্রস্তুতকারী কোম্পানীর নাম, ধরন (বড়ি/ক্যাপসুল/ইঞ্জেকশন/ ইত্যাদি), একেকটি মাত্রার পরিমাণ, প্যাকেটে ক’টি একক আছে, প্যাকেটের দাম (টাকায়), একটি এককের দাম(টাকায়), ব্রান্ডটির সক্রিয় উপাদান (Active ingredients) বা জেনেরিক নাম (Generics)। Active Ingredients (Generics)-এ ক্লিক করলে একটি ডায়ালগ বক্সে দেখা যাবে উপাদান। এই বক্সেই Matched Brands with above Constituent (একই উপাদানের অন্য ব্র্যান্ড) বোতাম পাবেন। আর পাবেন Indication, Contra-indication, Precaution and Side effect বোতাম। Matched Brands with above Constituent-এ ক্লিক করুন। এবার পাবেন একই উপাদানের অন্য ব্র্যান্ডগুলির তালিকা সেগুলির দাম, প্রস্তুতকর্তা সহ।
দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ গরীব মানুষ অবশ্য কোনভাবেই এই সুযোগ ব্যবহার করতে পারবেন না।

নির্দিষ্ট মাত্রায় মিশ্রণ ওষুধ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অযৌক্তিক
কেন না—
• এক্ষেত্রে একটা ওষুধের মাত্রা অপরিবর্তিত রেখে অন্যটার মাত্রা কমানো বাড়ানো যায় না।
• মিশ্রণের উপাদান ওষুধগুলো আলাদা আলাদা কিনলে যা দাম পড়ে, সাধারণত মিশ্রণ ওষুধের দাম তার চেয়ে বেশি হয়।
• দেখা গেছে উপাদানগুলোর পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ার চেয়ে বেশি হয় নির্দিষ্ট মাত্রার মিশ্রণ ওষুধের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া ।

২০১০-এ হেলথ একশন ইন্টারন্যাশানাল (HAI)-এর অর্থানুকূল্যে কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট মেডিসিনাল ইউনিট (CDMU) ভারতের বাজারে অযৌক্তিক মিশ্রণ ওষুধের ওপর এক সমীক্ষা চালায়। দেখা যায়—
• ২০০৭-র সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের ওষুধ-মহানিয়ন্ত্রক বাজারে চলা ২৯০ রকমের মিশ্রণ ওষুধকে অনুমোদনহীন ঘোষণা করেন। এই মিশ্রণগুলো বিভিন্ন রাজ্যের ওষুধ-নিয়ন্ত্রকের ছাড়পত্র পেয়ে বাজারে ছিল। (আমাদের দেশে যে কোনো রাজ্যের ওষুধ-নিয়ন্ত্রকের কাছ থেকে যে কোনো উপায়ে লাইসেন্স পাওয়া থাকলেই অন্য রাজ্যগুলোতে ওষুধ বিক্রি করা যায়)। ওষুধ-কোম্পানীগুলো নিজ নিজ মিশ্র ওষুধের অনুমোদন পাওয়ার জন্য ক্ষমতার অলিন্দে দৌড়োদৌড়ি শুরু করে, আদালতে কিছু মামলা দায়ের করা হয়। ২৯০ টার মধ্যে ১৭৫ টা অনুমোদন পেয়ে যায়, অনুমোদনহীন থেকে যায় ১১৫ টা মিশ্রণ। সমীক্ষায় দেখা যায় সেই ১১৫ টার মধ্যে ৫০ টা তখনও নানা ব্র্যান্ড নামে বাজারে বিকোচ্ছে।
• বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ও ভারতের সাম্প্রতিক অত্যাবশ্যক ওষুধের তালিকায় নির্দিষ্ট মাত্রায় মিশ্রণ ওষুধ আছে যথাক্রমে ২৫টা ও ১৩টা যেগুলো বিজ্ঞানসম্মত, অথচ Current Index of Medical Specialities-এর এপ্রিল-জুলাই সংখ্যায় ১৩৫৬ রকম অযৌক্তিক মিশ্রণ ওষুধ এবং সেগুলোর মোট ৪৫৫৯ রকম ব্র্যান্ড খুঁজে পাই।
• ওষুধের বাণিজ্যিক তালিকা CIMS-এ দেখা যায় কাশির ওষুধের নামে ১৬৬ রকম মিশ্রণ বাজারে চলছে ৪৯৩ টা ব্র্যান্ড নামে, তৈরী করছে ১০৬ টা কোম্পানী। সবক’টাই অপ্রয়োজনীয়, কয়েকটাতো আবার ভারতেই নিষিদ্ধ।
• রক্ত তৈরীর ওষুধের তালিকায় ১৩২ রকমের অযৌক্তিক মিশ্রণ পাওয়া যায় ২১২ টা ব্রান্ড নামে। তার মধ্যে ৪ টে এমন ব্র্যান্ড ছিল যাতে হিমোগ্লোবিন মেশানো আছে। অথচ ১৯৯৮ থেকেই ওষুধে প্রাণিজ হিমোগ্লোবিন মেশানো নিষিদ্ধ।
• ডায়াবেটিসের মুখে খাওয়ার ওষুধের অযৌক্তিক মিশ্রণ পাওয়া যায় ১৮ রকম, ২৩১টা ব্র্যান্ড নামে।

জেনেরিক নামে ওষুধ উৎপাদনের ব্যাপারে সরকার কি বলছে?
২০১৩-এর ৪ঠা ও ৫ই ফেব্রুয়ারী নয়াদিল্লীতে সরকারের ওষুধ-সংক্রান্ত নীতি নির্ধারক ‘ড্রাগ কনসাল্টেটিভ কমিটি’ (ডিসিসি)-র এক বৈঠক হয়। এই বৈঠকে ছিলেন দেশের ওষুধ মহা নিয়ন্ত্রক, ২৮টা রাজ্য ও ৭টা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মোট ৩৫ জন ওষুধ নিয়ন্ত্রক (ড্রাগ কন্ট্রোলার) ছাড়া ছিলেন কেন্দ্রের অতিরিক্ত স্বাস্থ্যসচিব, যুগ্ম স্বাস্থ্যসচিব। তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন—এখন থেকে ওষুধ কোম্পানীগুলোকে লাইসেন্স দেওয়া হবে ওষুধের জেনেরিক বা আন্তর্জাতিক অব্যবসায়িক নামে, ব্র্যান্ড নামে নয়। কোনও কোম্পানী যদি ব্র্যান্ড নামে নিজের উৎপাদন বাজারজাত করতে চায় তাহলে তাকে নির্দিষ্ট আইন মেনে ট্রেড মার্কের জন্য আবেদন করতে হবে। বৈঠকে উপস্থিত এক উচ্চ-পদস্থ স্বাস্থ্যকর্তা জানান—তাঁরা চাইছেন জনগণের স্বার্থে দেশজুড়ে কেবল জেনেরিক নামেই ওষুধ চলুক।

এর আগে ড্রাগ কনসাল্টেটিভ কমিটির ৪৪তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১২-র ২০শে জুলাই। বৈঠকের সপ্তম আলোচ্য বিষয় ছিল—রাজ্যগুলোর লাইসেন্সিং অথরিটি অর্থাৎ ড্রাগ কন্ট্রোলার দ্বারা কেবল জেনেরিক নামে ওষুধ তৈরীর লাইসেন্স দেওয়ার প্রস্তাব। পর্যালোচনায় দেখা যায় যে লাইসেন্সের আবেদন করার সময় ওষুধ-কোম্পানী জেনেরিক নামের সঙ্গে ব্র্যান্ড নামেরও উল্লেখ করছে, এবং রাজ্যের ওষুধ নিয়ন্ত্রকরা তাতে অনুমোদনের ছাপ লাগিয়ে ব্র্যান্ড নামটাকে একপ্রকার স্বীকৃতি দিচ্ছেন।

দেশের ওষুধ ও প্রসাধনী নিয়মাবলী (Drug & Cosmetics Rules)-এ কিন্তু ওষুধ তৈরীর লাইসেন্সের আবেদন বা অনুমোদনের কোনও ফর্মে ব্র্যান্ড নাম উল্লেখের কোনও প্রয়োজন নেই, কেবল জেনেরিক নাম উল্লেখ করার কথা। যে সব ফরমুলেশনে একাধিক ওষুধ আছে সে সব ক্ষেত্রে লাইসেন্স দেওয়ার কথা কোন ধরনের ওষুধ তা উল্লেখ করে, (যেমন—মাল্টিভিটামিন ট্যাবলেট/ক্যাপসুল/সিরাপ ইত্যাদি বলে), সঙ্গে উপাদানগুলোর নাম ও পরিমাণ দিয়ে।বৈঠকে উপস্থিত আধিকারিকরা অনুভব করেন যে ব্র্যান্ড নামে ওষুধ তৈরীর লাইসেন্স দেওয়া আইনবিরুদ্ধ হচ্ছে। তাঁরা সুপারিশ করেন যে যেসব ফর্মুলেশনে একটামাত্র ওষুধ আছে সেগুলোর লাইসেন্স জেনেরিক নামে দেওয়া হোক। যেসব ফর্মুলেশনে একাধিক ওষুধ আছে সেগুলোর লাইসেন্স জেনেরিক নামে দিলে অনেকগুলো ব্র্যান্ড হয়ে যাবে এবং সেগুলোর গুণমান নিয়ন্ত্রণ কষ্টকর হবে বলে তাঁরা মনে করেন। সেই বৈঠকের ফলশ্রুতিতেই ৪-৫ ফেব্রুয়ারীর বৈঠক।

সারা পৃথিবী জুড়ে যাঁরা সমস্ত মানুষের স্বাস্থ্যের অধিকারের দাবীতে আন্দোলন চালাচ্ছেন তাঁদের অন্যতম দাবী—ব্র্যান্ড নামের অবলুপ্তি, কেবল আন্তর্জাতিক অব্যবসায়িক নামে সমস্ত ওষুধের প্রচলন। যুক্তিসঙ্গত ওষুধনীতির দাবীতে আমাদের দেশে যাঁরা প্রচার-আন্দোলন চালাচ্ছেন গত তিন দশক ধরে, তাঁদেরও দাবী এটা। সে হিসেবে ড্রাগ কনসাল্টেটিভ কমিটির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে আমাদের খুশী হওয়ারই কথা। কিন্তু বিষয়টা কি এত সহজ সরল?

ইতিমধ্যে ওষুধ কোম্পানীগুলো আইনী লড়াইয়ের হুমকি দেওয়া শুরু করেছে। নোভার্টিস ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট রঞ্জিত সাহানী, যিনি আবার ওষুধ প্রস্তুতকারীদের মহাসংঘ অরগানাইজেশন অফ ফার্মাসিউটিকাল প্রোডিসারস অফ ইন্ডিয়া-র ও প্রেসিডেন্ট, জানিয়েছেন—সরকার তাদের বলেছে যে লাইসেন্স জেনেরিক নামে দেওয়া হলেও ওষুধ কোম্পানীগুলোর ব্র্যান্ড নামে ওষুধ বিক্রি করতে কোনও বাধা নেই। জেনেরিক নামে ওষুধের লাইসেন্স প্রদান—সরকার যা যা করছেন বা করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, আসলে তার পেছনে রয়েছে উচ্চতম ন্যায়ালয়ে অল ইন্ডিয়া ড্রাগ একশন নেটওয়ার্কের করা জনস্বার্থ মামলা, সার্বজনীন স্বাস্থ্যের দাবীতে উত্তরোত্তর বর্ধমান জনসচেতনতা।

সরকার যদি সত্যি ওষুধ ব্যবসায়ীদের স্বার্থ না দেখে জনসাধারণের কল্যাণের কথা ভাবেন তাহলে কেবল লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ করা নয়, সমস্ত ব্র্যান্ড নামের ওষুধ নিষিদ্ধ করুক, সাথে সাথে সমস্ত অপ্রয়োজনীয় নির্দিষ্ট মাত্রায় মিশ্রণ ওষুধ নিষিদ্ধ করুক, কঠোর মূল্য নিয়ন্ত্রণ লাগু হোক জেনেরিক নামের ওষুধে।

ওষুধের মূল্য-নিয়ন্ত্রণ
১৯৬২-’৬৩-র আগে দেশে ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণ ছিল না। চীন-ভারত যুদ্ধের পর ভারত রক্ষা আইনের বলে ১৯৬২ ও ’৬৩-তে যথাক্রমে ওষুধের মূল্য প্রদর্শন আদেশ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণ আদেশ জারী করা হয়। ১৯৬৩-র ১লা এপ্রিল যে ওষুধের যা দাম ছিল সেই দামে বেঁধে রাখা হয় সে ওষুধের দাম। এর পরের মূল্য নিয়ন্ত্রণ আদেশ ১৯৬৬-তে। ১৯৭০-এর আদেশে ওষুধকে ১৯৫৫-র অত্যাবশ্যক পণ্য আইনের অধীনে অত্যাবশ্যক পণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ওষুধ নীতি ঘোষিত হয়েছে আর তার সাথে সাথে জারী হয়েছে নতুন নতুন মূল্য নিয়ন্ত্রণ আদেশ—’৭৮, ’৭৯ ও ’৮৭-তে। এই পর্যায়ে মূল নীতি ছিল অত্যাবশ্যক ওষুধগুলোর দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা, পরবর্তী কালে ওষুধের কাঁচা মালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা। পাশাপাশি ওষুধগুলোকে মানুষের আয়ত্বে আনা, দেশীয় ওষুধ শিল্পকে মজবুত করা।
বাস্তবে ১৯৭৯-এই প্রথম ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারী ভূমিকা দেখা যায়। সব ওষুধগুলোকে বিন্যস্ত করা হয় চারটে শ্রেণীতে এবং লাভের সীমা স্থির করে দেওয়া হয়।

শ্রেণী কি ধরনের ওষুধ? লাভের হার
প্রথম জীবনদায়ী ৪০%
দ্বিতীয় জীবনদায়ী ও অত্যাবশ্যক ৫৫%
তৃতীয় অন্যান্য ১০০%
চতুর্থ নতুন ও বাকী সব ওষুধ লাভের কোন উর্ধসীমা নেই

ভাবা হয়েছিল এই শ্রেণী বিভাগের ফলে জনসাধারণ জীবনদায়ী ও অত্যাবশ্যক ওষুধ কম দামে পাবেন। আর প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর ওষুধ উৎপাদনে ওষুধ কোম্পানিগুলোর যে কম লাভ হবে তা তারা পুষিয়ে নেবে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীতে। কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল—ওষুধ কোম্পানীগুলো জীবনদায়ী ও অত্যাবশ্যক ওষুধ তৈরী কমিয়ে দিয়ে তৈরী করতে লাগল টনিক-কাশির সিরাপের মত অপ্রয়োজনীয় ওষুধ। যক্ষ্মা-কুষ্ঠের ওষুধের মত দরকারী ওষুধ অমিল হতে থাকল। সরকার ওষুধ কোম্পানীগুলোকে প্রয়োজনীয় ও অত্যাবশ্যক ওষুধ তৈরীতে বাধ্য করতে পারেনি।

’৯০-এর দশকের আরম্ভে শুরু হল অর্থনীতির উদারীকরণ, শিল্পে লাইসেন্সিং প্রথা অবলুপ্ত হল, ওষুধ শিল্প সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে বিদেশী পুঁজি বিনিয়োগ অনুমোদিত হল। কোন ওষুধকে মূল্য নিয়ন্ত্রণের আনা হবে তা ঠিক করা হতে লাগল বাজারে ওষুধের মোট বিক্রিতে বিভিন্ন কোম্পানীগুলোর অংশের ভিত্তিতে। এই জটিল হিসেবটা না বুঝে জেনে নেওয়া যাক একটা তথ্য—২০১৩-র আদেশের আগে ৭৪টা ওষুধের কাঁচা মাল বা বাল্ক ড্রাগ এবং সেগুলো থেকে তৈরী ১৫৭৭টা ফর্মুলেশন মূল্য নিয়ন্ত্রণের আওতায় ছিল।

এই তালিকায় কিছু প্রয়োজনীয় ওষুধ ছিল বটে কিন্তু তার থেকে বেশী ছিল পুরোনো, বর্তমানে ব্যবহার করা হয় না এমন ওষুধ, এমনকি নিষিদ্ধ কিছু ওষুধ। তালিকায় ছিল না এইচ আই ভি/ এডস, বহু ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মা, ক্যান্সার, করোনারী ধমনীর রোগ, ফাইলেরিয়া, লোহার অভাবজনিত রক্তাল্পতার ওষুধ। ছিল না উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, মৃগীর অধিকাংশ প্রয়োজনীয় ওষুধ। ছিল না ও আর এস। ছিল না টিটেনাস, জলাতঙ্ক, হেপাটাইটিসের টীকা। ছিল না টিটেনাস, ডিপথেরিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত সিরাম, সাপে কাটার প্রতিষেধক।

প্রয়োজনীয় ও অত্যাবশ্যক ওষুধগুলোকে মূল্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে রাখা হয়েছিল এক ভ্রান্ত ধারণা থেকে—যখন একটা ওষুধ অনেকগুলো কোম্পানী তৈরী করবে তখন বাজারে প্রতিযোগিতা থাকবে, বেশী বিক্রি পেতে ওষুধ কোম্পানীগুলো দাম কম রাখবে। কি অভিজ্ঞতা অন্য কথা বলে—বেশী প্রতিযোগী মানেই বেশী প্রতিযোগিতা—এমনটা নয়।
দেখা যায় বাজারে যাদের বেশী বিক্রি কোন ওষুধের সেই ব্র্যান্ডগুলোর দাম কমদামী ব্র্যান্ডগুলোর তুলনায় ১০ থেকে ৪০ গুণ বেশী।

সম্প্রতি ২০১২-র জাতীয় ওষুধ মূল্য-নির্ধারণ নীতি—National Pharmaceutical Pricing Policy (NPPP 2012) এবং ২০১৩-র ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণ আদেশ অনুসারে ২০১১-র অত্যাবশ্যক ওষুধের জাতীয় তালিকায় থাকা ৩৪৮টা ওষুধকে মূল্য নিয়ন্ত্রণের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। ঠিক করা হয়েছে যে, কোন ওষুধের যে ব্র্যান্ডগুলোর বাজারে বিক্রি সেই ওষুধের মোট বিক্রির ১%-এর বেশী সেই ব্র্যান্ডগুলোর দামের গড় করে সেই ওষুধের সিলিং দাম নির্ধারণ করা হবে। কোন কোম্পানী সিলিং দামের চেয়ে বেশী দামে সে ওষুধ বিক্রি করতে পারবে না।

অত্যাবশ্যক ওষুধের তালিকার ৩৪৮টা ওষুধকে মূল্য নিয়ন্ত্রণের আওতায় রাখা হয়েছে ভালো কথা। কিন্তু উৎপাদন খরচের বদলে বাজারে মোট বিক্রির অংশ ও গড় দাম থেকে সিলিং দাম ঠিক করায় কাজের কাজ কিছু হবে না, বরং ওষুধের দাম বেড়ে যাবে।

দেখুন কেন বলছি একথা—
উচ্চরক্তচাপ কমানোর এক বহুল-ব্যবহৃত ওষুধ এম্লোডিপিন। বাজারে এই ওষুধের মোটামুটি ৬১টা ব্র্যান্ড পাওয়া যায়। সবচেয়ে কমদামী ব্র্যান্ডের ৫ মিলিগ্রামেরএকটা বড়ির দাম ১৫ পয়সা আর সবচেয়ে বেশীদামী ব্র্যান্ডের একটা বড়ির দাম ৬ টাকা ৪০ পয়সা। যদি যেসব কোম্পানীর বিক্রি এম্লোডিপিনের মোট বিক্রির ১%-এর বেশী তাদের দামের গড় করে সিলিং দাম ঠিক করা হয়, তাহলে সিলিং দাম দাঁড়াবে ৩ টাকা ৬ পয়সা, সবচেয়ে বেশী দামের ব্র্যান্ডের চেয়ে কমদামী বটে, কিন্তু সবচেয়ে কমদামী ব্র্যান্ডের তুলনায় প্রায় ২০ গুণ বেশী হবে সিলিং দাম। অপর পক্ষে ১৯৯৫-এর মূল্য নিয়ন্ত্রণ আদেশ অনুসারে কাঁচা মাল, শ্রম, বিজ্ঞাপন, ইত্যাদির দামের ভিত্তিতে দাম ঠিক করলে তা দাঁড়ায় ১৭.৭ পয়সায়। অর্থাৎ সরকার এক্ষেত্রে প্রায় ১৭গুণ বেশি অবধি দাম রাখার অনুমতি দিয়ে দিয়েছে।
রক্তে কোলেস্টেরল নামক চর্বি কমানোর জন্য ব্যবহৃত হয় এটোরভাস্ট্যাটিন, তা অত্যাবশ্যক ওষুধের তালিকায় আছে। এর সবচেয়ে কমদামী ব্র্যান্ডের ১০ টা বড়ির দাম ৯ টাকা, সবচেয়ে বেশী প্রচলিত ব্র্যান্ডের ১০ টা বড়ির দাম ৯৭ টাকা। অথচ তামিলনাডুর সরকারী সংস্থা তামিলনাডু মেডিকাল সার্ভিসেস কর্পোরেশন লিমিটেড এই ওষুধ কেনে ১০টা বড়ি ২ টাকা ১৩ পয়সায়। ১৯৯৫-এর হিসেবে মূল্য নিয়ন্ত্রণ করলে আজ দাম দাঁড়ায় ১০টা বড়ি ৫.৬০ টাকা। আর বর্তমান আদেশের ফর্মুলায় ১০টার সিলিং দাম হয় ৫৯.১০ টাকা।

নতুন মূল্য নিয়ন্ত্রণ হলে এমন অবস্থাই হবে ৩৪৮ টা ওষুধের দামের, অল্প কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া।
নিচের সারণি দেখুন—

ওষুধের নাম কি কাজে লাগে? ২০১৩-র ওষুধ মূল্য-নিয়ন্ত্রণ নির্দেশানুযায়ী সিলিং দাম
(টাকায়) ১৯৯৫-এর ওষুধ
মূল্য-নিয়ন্ত্রণ নির্দেশানুযায়ী সর্বোচ্চ খুচরো দাম (টাকায়) ২০১৩-এর হিসেবে দাম/ ১১৯৫-এর হিসেবে দাম
এটেনেলল ৫০ মিগ্রা (১৪টা বড়ির পাতা) উচ্চ রক্তচাপ ২৮.৯৮ ৩.৫ ৮.২৮
এম্লোডিপিন ৫ মিগ্রা উচ্চ রক্তচাপ ৩০.৬ ১.৭৭ ১৭.২৯
ডমপেরিডন ১০ মিগ্রা বমি ২৮.৫ ২.৫ ১১.৪
গ্লিবেনক্ল্যামাইড ৫ মিগ্রা ডায়াবেটিস ৯.৬ ১.৪২ ৬.৭৬
এনালাপ্রিল ৫ মিগ্রা উচ্চ রক্তচাপ ২৯.৬ ২.৪ ১২.৩৩
সেট্রিজিন ১০ মিগ্রা অ্যালার্জি ১৮.১ ২ ৯.০৫
এটরভাস্ট্যাটিন ১০ মিগ্রা রক্তে উচ্চ কোলেস্টেরল ৫৯.১ ৫.৬ ১০.৫৫
এলবেন্ডাজোল ৪০০ মিগ্রা কৃমি-সংক্রমণ ৯১.২ ১২ ৭.৬
ডায়াজিপাম ৫ মিগ্রা উদ্বেগ, অনিদ্রা ১৩.২ ১.৭ ৭.৭৬
ফ্লুকোনাজোল ৫০ মিগ্রা ছত্রাক-সংক্রমণ ৭৮.৩ ৭৩ ১০.৭৩
*এটেনেলল ছাড়া বাকিগুলো ১০টা বড়ির দাম।
**১৯৯৫-এর হিসেবে ১০০% লাভ ধরা আছে।

ওষুধ কোম্পানী কি ভাবে ফাঁকি দেবে তার পরেও?
সাধারণত ওষুধ কোম্পানীগুলো মূল্য নিয়ন্ত্রণ আদেশকে ফাঁকি দিতে মূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকা একটা ওষুধের সঙ্গে অনিয়ন্ত্রিত একটা ওষুধের মিশ্রণ বানায়।
মনে করা যাক এটোরভাস্ট্যাটিনের সঙ্গে মেশানো হল র‍্যামিপ্রিল। র‍্যামিপ্রিল এসিই-ইনহিবিটর, উচ্চরক্তচাপ কমানোর ওষুধ। এসিই-ইনহিবিটর এনালাপ্রিল ২০১১-র তালিকায় আছে, তাই এটোরভাস্ট্যাটিনের সঙ্গে এনালাপ্রিল মেশালে মূল্য নিয়ন্ত্রণের আওতায় থাকতে হবে, র‍্যামিপ্রিল মেশালে সে ঝামেলা নেই। এবার এনালাপ্রিলের চেয়ে র‍্যামিপ্রিল কতো ভাল তার প্রচার হবে।
অথবা এটোরভাস্ট্যাটিনকে পেছনে ঠেলে সামনে আনা হবে একই ধরনের চর্বি কমানোর ওষুধ রোসুভাস্ট্যাটিন, সিমভাস্ট্যাটিন, ফ্লুভাস্ট্যাটিন, লোভাস্ট্যাটিন, পিটাভাস্ট্যাটিন, পিটাভাস্ট্যাটিন ইত্যাদিকে, কেন না এরা তালিকায় নেই।

এই ফাঁকি কিভাবে আটকানো যায়?
সরকার যদি এটোরভাস্ট্যাটিনের মত অন্য সব স্ট্যাটিন বা এনালাপ্রিলের মত সব এসিই-ইনহিবিটরকে অর্থাৎ একই গোষ্ঠীর সব ওষুধকে একই সিলিং-এর আওতায় নিয়ে আসেন তাহলে ফাঁকি ঠেকানো যায়।
আরেকটা উপায়—অত্যাবশ্যক ওষুধের সঙ্গে অত্যাবশ্যক নয় এমন ওষুধের মিশ্রণকে অত্যাবশ্যক ওষুধের সিলিং দামে রাখা। (অবশ্য একাধিক ওষুধের নির্দিষ্ট মাত্রায় মিশ্রণগুলোর অধিকাংশই অযৌক্তিক।)

স্বাস্থ্যমন্ত্রকের মত কিন্তু অন্য ছিল
তাদের মতে মূল্য নির্ধারিত হওয়া উচিত কাঁচা মালের দাম, মোড়কের দাম, উৎপাদন খরচ, মোড়ক-বন্দী করার খরচের সঙ্গে ১০০% লাভ রেখে। এমনটা করলে কিন্তু সত্যিই ওষুধের দাম কমবে। আশ্চর্য এখন এটোরভাস্ট্যাটিনের ক্ষেত্রে বেশী বিক্রির ব্র্যান্ডগুলোতে লাভ থাকে ৩০০০-৪৫০০%। ১০০%-এর জায়গায় সরকার যদি ১৫০% লাভ রাখতে দেয় তাহলেও ওষুধের দাম কম থাকে।

ওষুধ এমন এক পণ্য যা ক্রেতা পছন্দ করে কেনেন না, পছন্দের কাজটা করেন প্রত্যক্ষে ডাক্তার পরোক্ষে ওষুধ কোম্পানী। অধিকাংশ সময় ক্রেতাকে চাপের মধ্যে থেকে ওষুধ কেনার সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তারপর নিজ নিজ উৎপাদনের বিক্রি বাড়ানোর জন্য ওষুধ কোম্পানিগুলোর অনৈতিক কার্যকলাপ তো আছেই। নয়া অর্থনীতির প্রবক্তারা যেমন মুক্ত বাজার-স্বাধীন পছন্দের স্বপ্ন দেখান তেমন আদৌ নয় অবস্থাটা।
এমন এক অবস্থা যেখানে ক্রেতা আগে থেকেই বৈষম্যের শিকার, সেখানে প্রস্তাবিত মূল্য নিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতিটাকে আরও ক্রেতার বিরুদ্ধে ঠেলে দেবে।

আমরা অবশ্যই মূল্য নিয়ন্ত্রণ চাই তবে তা মন্ত্রীগোষ্ঠীর প্রস্তাবিত মূল্য নিয়ন্ত্রণ নয়। ওষুধের মূল্য নির্ধারণ করা হোক কাঁচা মালের দাম, উৎপাদন খরচ, ইত্যাদি বিচার করে। ওষুধ কোম্পানী যাতে ফাঁকি দিতে না পারে তাই নিষিদ্ধ করা হোক সমস্ত অযৌক্তিক নির্দিষ্ট মাত্রায় মিশ্রণ। ওষুধ বিজ্ঞানের পাঠ্য বইয়ে বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বা জাতীয় অত্যাবশ্যক ওষুধের তালিকায় যাদের উল্লেখ নেই এমন সব মিশ্রণ ওষুধ বাজার থেকে দূর করা হোক।

সবার জন্য বিনামূল্যে অত্যাবশ্যক ওষুধ চাই
দ্বাদশ পরিকল্পনার আগে যোজনা কমিশন ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ উপলব্ধ করানোর লক্ষ্যে এক উচ্চ-স্তরীয় বিশেষজ্ঞ দল গঠন করে। বিশেষজ্ঞ দল হিসেব করে দেখিয়েছেন স্বাস্থ্যখাতে খরচ জিডিপি-র ০.৫% বাড়ালেই সমস্ত নাগরিককে বিনামূল্যে অত্যাবশ্যক ওষুধগুলো দেওয়া সম্ভব।
তাঁদের মতে নির্ভরযোগ্য ও কার্যকরী ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্যগুলো এমন হওয়া উচিত—
 স্বাস্থ্যখাতে সরকারী খরচের অন্তত ১৫% হোক ওষুধের জন্য, অত্যাবশ্যক ওষুধের তালিকায় থাকা ওষুধগুলো সরকারকেই কিনতে হবে।
 প্রামাণ্য চিকিৎসা বিধি (Standard Treatment Guidelines) অনুযায়ী প্রেসক্রিপশন ও ডিসপেন্সিং করতে হবে।
 ভাল গুণমানের জেনেরিক ওষুধ নিশ্চিত করতে হবে।

আসুন সবার জন্য বিনামূল্যে ৩৪৮টা অত্যাবশ্যক ওষুধের দাবীতে প্রচার আন্দোলন গড়ে তুলি।


1288 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: Punyabrata Goon

Re: ওষুধ নিয়ে জানার ওষুধ কাকে বলে

আপনি লিখলেন একটি নতুন ওষুধ বাজারে আনতে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়, আমি দু একটা স্পেসিফিক কেস জানি যেখানে বিলিয়ন ডলার অবধি খরচ হয়। সময় লাগে ১০-১৫ বছর থেকে ২০ বছর।

অন্য একটি লেখায় কদিন আগে বলেছেন আপনার মতে ওষুধ এই প্রতিযোগীতা মূলক বাজার থেকে তুলে নিয়ে আসলে সরকারের দায়িত্ব হওয়া উচিত। বিশেষত লাইফ সেব্জিং ড্রাগসের ক্ষেত্রে।

প্রশ্ন হল সরকার দায়িত্ব নিলে নতুন লাইফ সেভিংস ড্রাগের তৈরির বা ইনোভেশনের দায়িত্বও সরকারকে নিতে হবে। সেক্ষেত্রে প্রথমে যে ৫০০ মিলিয়ন থেকে ১ বিলিয়ন ওষুধ্হ প্রতি খরচ হচ্ছে বা যে রিস্ক অ্যাসোসিয়েট যেমন ক্লিনিকাল ট্রায়ালে গিয়ে দেখা গেল ওষুধ কাজ করছে না। সেক্ষেত্রে এই ইনভেস্টমেন্ট কিন্তু ট্যাক্স পেয়ারের ঘাড়ে চাপল। ভারতের মতন দেশে যেখানে ট্যাক্স রেভিনিউ সাংঘাতিক বেশি না সেখানে এর প্র্যাকটিকালিটি কতটা?
Avatar: Punyabrata Goon

Re: ওষুধ নিয়ে জানার ওষুধ কাকে বলে

-আকা

(নাম দেবার জায়গা নেই)
Avatar: aka

Re: ওষুধ নিয়ে জানার ওষুধ কাকে বলে

ওপরের পোস্ট্গুলি আমার কোনোরকম গ্লিচে পুন্যব্রত গুনের নাম দেখাচ্ছে।
Avatar: শুদ্ধ

Re: ওষুধ নিয়ে জানার ওষুধ কাকে বলে

অসামান্য। এই লেখাগুলো মানুষের সম্পদ। একদম মানুষের সম্পদ।
Avatar: শুদ্ধ

Re: ওষুধ নিয়ে জানার ওষুধ কাকে বলে

aka, করের টাকা খরচের কথায় একটা কথা না লিখে পারলাম না। প্রতিরক্ষা ও সামরিক খাতে সরকার খরচ কমাক, এটা বলুন না! আন অ্যাকাউন্টেড ফর খরচ কমিয়ে দিক সেখানের থেকে। আমরা যারা কর দিই তারা তো জানিই না ও টাকা কোন বড় গল্প বা উপন্যাসে ঢুকে কার বাগানে ফুলফল হয়ে ফুটছে! সেই খরচকে কমিয়ে গোটা বাজেটের ২০% করা হোক। বাকী সমস্ত টাকা দিয়ে শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যের কাজ হোক। যে দেশের অধিকারী জনগণের শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যের অবস্থা সেই সে দেশে আবার কিসের সামরিক নিরাপত্তা?

আমরা আগ্রাসক বা আক্রমকের ভয় পাই স্বাধীনতা ও অধিকার হরণের কারণে। তো স্বাধীনতা বস্তুটা কি? সে তো ব্যাজ না, যে ঝুলিয়ে রাখবো! সে তো নানা রকমের অধিকার ও দায়িত্বের সমন্বয়ে তৈরী হওয়া একটি বোধ। তাও যার শিক্ষা নেই, স্বাস্থ্য নেই- সে বোধও তার তেমন করে হয় না। সে নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় ও সুযোগ-ও তার নেই। তাহলে এই স্বাধীনতা রক্ষার জন্য পদক্ষেপটি তার কি কাজে লাগছে?

এ কথার এমন অর্থ করবেন না যে নিরাপত্তার প্রয়োজন নেই আমি বলছি। আমি বরং বলতে চাইছি সমস্ত জনগণ যাতে এই বোধসম্পন্ন হতে পারে তার জন্য নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেবার দায় সরকারের। কেন না সরকার তার সরকারও। সে বোধসম্পন হলে কটা নিউক্লিয়ার বোট কিনলো যা জলে ডুবে যাবে, কি মিগ কিনলো যা চালক সহ ভেঙে পরে যাবে, এ সবের দরকার হবে না। সেই জনগণই রাষ্ট্রের সামরিক শক্তি হতে পারে। তার বদলে সরকার একটি প্রগাঢ় দুর্নীতির ক্ষেত্র খুলে রেখেছে কেন? আমরা রাখতে দিচ্ছি কেন?

আরো টাকা আসতে পারে। স্যুইজারল্যান্ডের কালো টাকা বাদ দিন, শুধু এ দেশে কর জমা দেবার সময় চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট সংস্থারা যে পরিমাণ হয় কে নয় আর নয় কে হয় করে তা বন্ধ করে দিলে রেভিনিউ বেড়ে যাবে একলাফে। এখন যা তার দুশো শতাংশ। যাঁরা এই সব অডিট প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকেন তাঁরা বোধহয় বলবেন যে আমি একটু কমই লিখলাম।

আরো আছে। বেসরকারী সংস্থাকে হসপিটাল বানানোর জন্য এক টাকায় জমি না দিয়ে (যেখানে ধোঁকার টাটির মতন ফ্রী বেডের সংখ্যা দেখানো হয় যা কেউ কোনোদিনও পায় না) ন্যায্য দামে দিক। সে টাকাতে ল্যাবরেটরি ও গবেষণা দুই চলবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ল্যাবরেটরি উন্নত করুক। কাজ হবে। গবেষণা মানে খোড় বড়ি খাড়ার রাস্তা বন্ধ করে, মানে এর পেপার ওর পেপার থেকে কাটাকুটি নোট করে বছরে বছরে গন্ডায় পি এইচ ডি না বানিয়ে সোজাসুজি গবেষণা মানে যে সত্যিই গরু খোঁজা সেই শিক্ষাটাই দিক। কাজ হবে।

এতেও যদি কাজ না হয় তাহলে এই সব রাষ্ট্রপতি, রাজ্যপাল মার্কা সাদা হাতি পোষা বন্ধ করা, এম পি এম এল এ দের খরচ কমিয়ে দেওয়া, নানান বাজে সেমিনার ঢপের কমিশন তুলে দিয়েও টাকা অনেক আসবে।

এতেও কাজ না হলে? আরো দাওয়াই আছে।
Avatar: san

Re: ওষুধ নিয়ে জানার ওষুধ কাকে বলে

এই বিষয়টা নিয়ে আরো লেখা পেলে খুব ভাল লাগবে।
Avatar: cm

Re: ওষুধ নিয়ে জানার ওষুধ কাকে বলে

আমার পুণ্যব্রতবাবুর কাছে একটি প্রশ্ন ছিল। আপনি যে ক্লিনিকাল ট্রায়ালের তিনটি ফেজের কথা লিখেছেন

"বাজারে আসার লাইসেন্স পাওয়ার আগে মানুষের ওপর পরীক্ষা চালানোর কথা আবার তিনটে পর্যায়ে—
১) ২০ থেকে ৫০ জন সুস্থ স্বেচ্ছাসেবী বা স্বেচ্ছাসেবী রোগীর ওপর,
২) ৫০ থেকে ৩০০ জন রোগীর ওপর,
৩) ২৫০ থেকে ১০০০ জন রোগীর ওপর।
কোন পর্যায়ে কি কি দেখা হয় তা জটিলতা বর্জন করার জন্য এখানে বলছি না।"

ক) এটা কি আইন?
খ)এর কোন রেফারেন্স দেবেন?

অনেক সময় দেখি মাকে এমন ওষুধ দিয়েছে যার লিটারেচারে লেখা থাকে এই দিকটা এবং খুব কম লোকের ওপরে পরীক্ষ হয়েছে এরকম ওষুধ ও দেখেছি। ঐ প্রশ্নদুটোর উত্তর পেলে ভবিষ্যতে চ্যালেঞ্জ করতে পারতাম। (চান্দু মিঁঞা)
Avatar: aka

Re: ওষুধ নিয়ে জানার ওষুধ কাকে বলে

শুদ্ধ, অন্য কোথাও খরচ কমিয়ে স্বাস্থ্য খাতে খরচ বাড়ানোতো ভালো প্রস্তাব। দুটো সমস্যাঃ

১) সত্যিই জানি না নিরাপত্তা খাতে যত ব্যায় হয় তার কতটা অপ্রয়োজনীয়।

২) আমি শুধু এই প্রস্তাবটিকে অন্য সব কিছু যা রয়েছে সেখানে কোন চেঞ্জ হবে না ধরে নিয়ে ইভ্যালুয়েট করছি। নইলে সে অনন্ত লুপ। আপনি বলবেন সামরিক খাতে পয়্সা কমাও, সরকার বলবে পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক ঠিক করো, চীন আর আম্রিগা মধ্যে থেজে কাঠি করবে। এটা স্বীকার করে ন্রোয়া ভালো আন্তর্জাতিক পলিটিক্সের এই রগস্যগুলো আমার কাছে ক্লিয়ার নয়। যদ্দুর মনে হয় অদূর ভবিষ্যতে হবেও না। তাই স্বাস্থ্য আলাদা ভাবেই দেখা ভালো বলে মনে হয়।

৩) লিখতে লিখতে মনে হল শুধু স্বাস্থ্যেই তো অনেক সমস্যা যেমন বহু জায়গায় হাসপাতালও নেই। সেখানে স্বাস্থ্যের মধ্যেও ফান্ডের অ্যালোকেশনের প্রায়োরিটি ঠিক কেমন হওয়া উচিত?
Avatar: সে

Re: ওষুধ নিয়ে জানার ওষুধ কাকে বলে

" চিকিৎসার খরচ যোগাতে দারিদ্রসীমার নীচে নেমে যায় রোগীর পরিবার।" - এটা কি USA র ওপরে বেস করে?

Avatar: Suddha Satya

Re: ওষুধ নিয়ে জানার ওষুধ কাকে বলে

aka,
আসলে সত্যিই গায়ে লাগে যখন দেখি সামান্য সচেতনতার অভাবে, শিক্ষার অভাবে, স্বাস্থ্যের অভাবে অনেক অনেক মানুষ তলিয়ে যাচ্ছেন। আমার কাজের প্রয়োজনে আমি এখনো ঘুরে বেড়াই নানা জায়গায়। সত্যি লজ্জা হয় আকা। এত বড় একটা দেশ। এত জনসংখ্যা। কিছু মানুষ উন্মাদের মতন বিত্ত সঞ্চয় করছেন আর এত এত মানুষ মরছে?

অল্পবিস্তর যতটুকু চর্চার অবকাশ পেয়েছি তাতে দেখেছি যে এই আন্তর্জাতিক রাজনীতি থেকে গ্রামাঞ্চলের রাজনীতি সবটাই কোথাও একটা বাঁধা আছে। নানান নকশা তার। মাকড়সার জালের থেকেও জটিল সে বাঁধন। কিন্তু গাঁ-গেরামের মানুষ তো এত বোঝে না আকা। সে বোঝেই না তার আদিম লাঙল কি ক্ষতি করেছে, তাকে কেন মহার্ঘ্য বিদ্যুৎ খরচ করে পাওয়ার টিলার ব্যবহার করতে হবে! সে জানে না কেন তাকে অতি উৎপাদন করতে হবে যখন সে উৎপাদন বাজারজাত করা কি সঞ্চয়ের ব্যবস্থা এত দুর্বল! সে করতে গিয়ে বীজ, সার নানান বিষয় এমন এমন কাজ তাকে করতে হচ্ছে যা তার জমিকে শুইয়ে দিচ্ছে। জমি শুয়ে গেলে তাকে কে খেতে দেয়? মহাজনের ধারের চক্র শক্তিশালী হয়! দাদনের গল্প ফিরে আসে। স্বাস্থ্যেও তো তাই হচ্ছে। ভারত, that which is not India, যাবে কোথায় আকা?

আপনি আমি দুজনেরি হাতে যদি নিরাপত্তার ক্ষেত্রটার তত্ত্ব ও তথ্য খোলাখুলি এসে পরে তাহলেই বুঝে যাব! একেবারে গাধা আমরা কেউই নই। কিন্তু সে তথ্য আসবে না। কদিন ধরে আমেরিকান প্রেসিডেন্সির ধীরে ধীরে সম্রাট হওয়ার ইতিহাসটা দেখছিলাম। নিরেট তথ্যবহুল লেখা। সেখানে দেখাচ্ছেন লেখক, যিনি আমেরিকান ঐতিহাসিক, যে কি ভাবে এই ক্ষমতা নানান জুজু দিয়ে বেড়েই চললো।

প্রেসিডেন্ট আমেরিকাতে যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারেন না, পারে সেনেট। প্রেসিডেন্টরা ক্রমশ কৌশলে সেই ক্ষমতা করায়ত্ব করেছে। তার ফল? সেনেটর গোল্ডওয়াটার বলছেন, সেই ১৯৭৩ সালে পরিসংখ্যান দিয়ে, যে আমেরিকার পত্তন থেকে সেই সময় অব্দি মাত্র পাঁচটা যুদ্ধ হয়েছে সেনেটের অনুমতি নিয়ে। বাকী ২০৪টে যুদ্ধ হয়েছে অনুমতি ছাড়া। এমনকি যুদ্ধ হয়ে যাওয়ার পরেও অনুমতি পায়নি এক্সিকিউটিভরা। এই পরিসংখ্যান উনি সেনেটেই দিয়েছেন। ইতিহাসবিদরা দেখিয়েছেন যে এর মধ্যে অনেক যুদ্ধ আসলে ব্যাক্তির ইন্টারেস্টে লড়া। কোথাও কোথাও সামরিক বাহিনীর স্থানীয় কমাণ্ডারের নিজের ইচ্ছেতে, সোজাসুজি প্রেসিডেন্টেরও আদেশ উপেক্ষা করে লড়া। ভাবা যায়? ঠিক যেমন ইম্পিচমেন্ট হয়নি কোনো প্রেসিডেন্টের তেমনই শতকরা পঁচানব্বুই ভাব ক্ষেত্রে সামরিক কমাণ্ডারদের কোর্ট মার্শালও হয়নি।

তথ্য হাতে এলে পরিস্কার করে অনেক গল্প উবে যাবে আকা। এটা সব দেশের শাসকেরা জানে বলেই না জানানোর জন্য এত এত ন্যাকামো করে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বলে-টলে। কতগুলো চোর-জোচ্চর আর বদমাশ, খুনের মামলায় অভিযুক্তরাও ক্ষমতায় থেকে মন্ত্রী-সান্ত্রী হবার জন্য বুঝবে জাতীয় নিরাপত্তা আর আমরা সাধারণ মানুষরা বুঝবো না?

আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নটি অতি গুরুত্বপূর্ণ। তার সদ্বিবেচনা প্রয়োজন। নিশ্চই ডঃ গুণ এ নিয়ে কিছু ভাবনা জানাবেন আশা করি। ভাল থাকুন!















Avatar: π

Re: ওষুধ নিয়ে জানার ওষুধ কাকে বলে

" চিকিৎসার খরচ যোগাতে দারিদ্রসীমার নীচে নেমে যায় রোগীর পরিবার।" ... এটা ভারতের জন্যই দেখা হয়েছে।

Due to out-of-pocket spending of their income in medicines and healthcare services, about 3.2% of India's population will fall below the poverty line (BPL)," Halloway said at a conference organised by the Delhi Society for Promotion of Rational Use of Drugs (DSPRUD) and WHO here.

According to a survey by the Indian Institute of Population Sciences and WHO in six states, more than 40% of low-income families in India have to borrow money from outside the family to meet their healthcare costs.

The study found that 16% families had been pushed below the poverty line by this trend.


http://indiatoday.intoday.in/story/medical-bills-pushing-indians-below
-poverty-line-who/1/158347.html

Avatar: BanglarBagh

Re: ওষুধ নিয়ে জানার ওষুধ কাকে বলে

আসুন সবার জন্য NRJYO Mulye ৩৪৮টা অত্যাবশ্যক ওষুধের দাবীতে প্রচার আন্দোলন গড়ে তুলি।
Avatar: BanglarBagh

Re: ওষুধ নিয়ে জানার ওষুধ কাকে বলে

* NerjyoMulye
Avatar: শেখর

Re: ওষুধ নিয়ে জানার ওষুধ কাকে বলে

'কোম্পানী নিজের ব্র্যান্ডকে পরিচিত করানোর জন্য প্রচার করে, সেই প্রচারের খরচ তোলে রোগীর পকেট কেটে ওষুধের দামে।' সোমনাথ লাহিড়ীর লেখা একটা ছোট গল্প ('ফাউ') পড়েছিলাম, যেখানে ওষুধের দাম ঠিক করার সময় সব খরচাই ধরা হয়েছে, বাদ গিয়েছে শুধু রাসায়নিক উপাদানের দাম। ওটা 'ফাউ'।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন