খবর্নয়? (৫ই এপ্রিল )


লিখছেন --- খবরোলা অ্যান্ড কোং


আপনার মতামত         


বাজারচলতি কাগজ বা চ্যানেলগুলির কোণায় পড়ে থাকা এইসব টুকরোগুলি এমনিতে চোখে পড়েনা। মিডিয়ার মার্জিনে পড়ে থাকা সেই সব এবড়োখেবড়ো টুকরোটাকরাগুলি তুলে এনে তৈরি করা হল এই বিভাগ।

শাইনিং ইন্ডিয়া: কিছু মিথ, কিছু মিথ্যা

২০০৫-০৬ সালে ভারতবর্ষের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার ৯.৪% এব ২০০৬-০৭ সালে ৯.৬ %। দেশের বিলিয়নিয়ারদের সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়ে গিয়েছিলো এই সময়ে। সেন্সেক্স প্রথমবার ছুঁয়েছিলো ১০০০০ এর ম্যাজিক সংখ্যা।

তবে শাইনিং ইন্ডিয়ার এহেন আকাশছোঁয়া সাফল্য এই বাজারে মন্দার বুরা নজর এড়াতে পারেনি। কদিন আগে ফোর্বস ম্যাগাজিনে বেরোনো লিস্টিতে সবচেয়ে বেশি বিলিয়নিয়ারের তালিকায় গত বছরের 'এশিয়ার ধনীতম' দেশের স্থান নেমে গেল চার থেকে ছয়ে। (১)
কিন্তু এই নিয়ে হইচই আর দুশ্চিন্তার মধ্যে তলিয়ে গেল আরেকটি তালিকায় আমাদের নেমে যাওয়াটা।
আর এই সংখ্যাটা ১২৮ থেকে ১৩২ এ। ১৭৯টি দেশের মধ্যে।

ইউনাইটেড নেশন্স প্রকাশিত Human Development Index (HDI) রিপোর্টে। (২)
HDI মুলত তিনটি বিষয়ে দেশগুলির সাফল্যের আপেক্ষিক মূল্যায়ন করে। শিক্ষা (প্রাইমারি স্কু¤ল শিক্ষা, প্রাপ্তবয়স্কদের শিক্ষা ইত্যাদি), স্বাস্থ্য ( life expectancy ) এবং GDP । এগুলিতে ভারতের স্থান যথাক্রমে ১৩৪,১১৮,১২৭,১২৬।(৩)
১৩১ নং স্থানে,ভারতের ঠিক উপরেই রয়েছে ভুটান, হিমালয়ের কোলে সেই ছোট্ট দেশটি, যাদের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার বা বিলিয়নারের সংখ্যা, কোনোটাই কোনোদিন সংবাদপত্রের পাতায় উঠে আসেনি। ভারতের উপরে রয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত কঙ্গো, রয়েছে বলিভিয়া, বটসোয়ানা, ভিয়েতনাম, এমনকী প্যালেস্টাইনের অধিকৃত অংশ।

প্রসঙ্গত,বাজার অর্থনীতির সাফল্য কিংবা রাষ্ট্রের ধনসম্পদের বৃদ্ধিকে উন্নয়নের মাপকাঠি হিসেবে দেখানোর যে প্রচেষ্টা করা হয়, HDI রিপোর্ট কিন্তু সেই ধারণাকে নস্যাৎ করে দিচ্ছে। বছরের পর বছর আমেরিকান নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকার পরেও HDI রিপোর্টে কিউবার স্থান ৫০। তুলনামূলকভাবে ধনী সৌদি আরব ( per capita income কিউবার তিনগুণ) সেখানে ৫৭তম স্থানে রয়েছে&#২৪০৪; বুশ জমানার বাজার অর্থনীতির স্বর্ণযুগে আমেরিকা রয়েছে ১২ নম্বর স্থানে, HDI রিপোর্টের ইতিহাসে যা আমেরিচার সবচেয়ে খারাপ ফল।

ভারতবর্ষের দারিদ্র্য নিয়ে আগেও বহু আলোচনা হয়েছে। তবু কিছু প্রাথমিক তথ্যের উপরে আবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক। ৮৩৬ মিলিয়ন ভারতীয় এখনো দিনে গড়ে ২০ টাকারও কমে দিনাতিপাত করেন, এর মধ্যে ~২০০ মিলিয়নের আয় দিনে ১২ টাকারও কম। স্বাভাবিকের তুলনায় কম ওজনের শিশুর সংখ্যা (>৪০%) পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি (সারা পৃথিবীর ~৩৯%)। পাঁচ বছরের আগেই মারা যায় দু মিলিয়নেরও বেশি শিশু। গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্সে এখনও বিপজ্জনক চিহ্নিত হওয়া দেশগুলির মধ্যে অবস্থান করছি আমরা । (৪)

চমকে গেলেন? সংখ্যাগুলো কিন্তু আর বেশি হতে পারে। একটি উদাহরণ। মহারাষ্ট্রের বাইশটি আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামে একটি বেসরকারী সমীক্ষা তিন মাসে একশো শিশুর অপুষ্টি জনিত রোগে মৃত্যুর খবর জানানোর সাথে সাথে এও জানায় যে, অপুষ্টিতে ভোগা কেসের মাত্র ১০% রিপোর্টেড হয় সরকারী খতিয়ানে। (৫)
অতএব ....

সূত্র:
1.http://www.zeenews.com/business/economy/2009-03-12/514323news.html
2.http://www.indiatogether.org/2009/mar/psa-forbes.htm
3.http://hdrstats.undp.org/2008/countries/country_fact_sheets/cty_fs_IND.html
4.http://motherchildnutrition.org/india/index.html
5.http://infochangeindia.org/200603035557/Health/Books-Reports/Malnutrition-amongst-Maharashtra-s-tribals-How-bad-is-it.html


এই খরা উপত্যকাও আমার দেশ

উড়িষ্যার পশ্চিমপ্রান্তের তিনটি জেলা কোরাপুট বলংগির ও কালাহান্ডি প্রায় গত অর্ধশতাব্দী ধরে খরা কবলিত। CAG -এর সাম্প্রতিকতম সার্ভে অনুযায়ী, এই তিনটি জেলার ৮৭% মানুষ (আনুমানিক বারো লক্ষ পরিবার) দারিদ্র্যসীমার নীচে। এর মধ্যে বলংগিরের দুর্গতি ভয়াবহ, আশির দশকে কালাহান্ডির দুর্দশার মিথ-কে ছুঁতে চলেছে এই জেলাটি। অত্যন্ত খরাপ্রবণ এই অঞ্চলটিতে সেচ ব্যবস্থা নেই বললেই চলে, গত পঞ্চাশ বছরে যাতায়াতের কোনো উন্নতি হয়নি। আর, অধিবাসীরা যে অরণ্য সম্পদের ওপর ভরসা করে বেঁচে ছিলেন তার অর্ধেকই নি:শেষিত হয়ে এসেছে। বলংগিরের মোট ৫% জমি এই মুহূর্তে চাষযোগ্য এবং সেগুলিও একফসলি। সরকারের দিক থেকে এলাকার উন্নয়ন নিয়ে একটি হাস্যকর অজুহাত আছে: "পরিকাঠামোর উন্নতি না হওয়ায়, এই অঞ্চলগুলির সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে না' http://www.merinews.com/catFull.jsp?articleID=15752218 । বলংগির থেকে নির্বাচিত সাংসদ-বিধায়করা সাধারণভাবে ভুবনেশ্বর বা দিল্লীতেই থাকেন, ভোটের সময় ছাড়া। চরমতম দারিদ্র্যের মধ্যে এলাকাবাসীরা ক্রমশ: ভোট বয়কট করার দাবী তুলছেন http://www.merinews.com/catFull.jsp?articleID=15761421


খোলা অর্থনীতি, বন্ধ কারখানা

গুরগাঁও শাইনিং। উন্নয়নের মশাল জ্বলে, নির্মম দাপটে।আর চরম নৈ:শব্দে পোড়ে সহস্র ছোটলোকের কপাল, তাদের সন্তান সন্ততিদের ভবিষ্যত। প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী,অসাম্যের পরিমাপ ৭০০০০ বেকার শ্রমিক। যাদের অনেকের মজুরি এখনও বাকি। স্কুল ফিস সামলানোর ধাক্কায় সন্তানেরা গ্রামে চালান।

মর্মাহত? শক্‌&#৮২০৪;ড? মাথায় অর্থনীতির ঠাণ্ডা যুক্তি একবার বুলিয়ে নিন। এরকম তো হবেই, ভাই। বাজার বাজার খেলায়। রপ্তানির বাড়বাড়ন্তে আন্তর্জাতিক বাজারে টাকার মূল্যবৃদ্ধি। আর তার ফলাফল রপ্তানির চাহিদা হ্রাস। এ হেন পরিস্থিতিতে মুনাফা রক্ষার উপায়? উৎপাদন ব্যয় কমানো। অব্যর্থ দাওয়াই---ছাঁটাই। গত ২০০৭ এর গ্রীষ্ম থেকেই মজুরি কাট ও ছাঁটাই-এর ঢেউ আছড়ে পড়ে গুঁরগাও-এর অটোমোবাইল কারখানা ও বস্ত্রশিল্পগুলিতে। উদ্যোগ বিহারে অবস্থিত ফ্যাশান এক্সপ্রেসের কথাই ধরা যাক। ২৩ জুলাই, ২০০৭। ম্যানেজমেন্ট কাজ দেওয় বন্ধ করলেন। ৭ই আগস্ট থেকে মাইনে-পত্তর হাপিশ। ইউনিয়নের তরফ থেকে দাবী উঠল, আইন মেনে ফ্যাক্ট্রি লক আউট সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। ভি আর- এস সহ কাজের মেয়াদ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক, অন্যত্র কারখানা খুললে শ্রমিক পুনর্বাসনের চিন্তা করা হোক। মালিক পক্ষ থেকে জবাব: লক-আউটের গুজব ছড়াচ্ছেন অশান্তিকারীরা, অর্থনৈতিক মন্দার কারণে অর্ডার দুর্লভ, তাই আপাতত কাজ স্থগিত।

ঢপের চচ্চরিটা যে বড়ই কাঁচা সার্ভ করলেন মালিক দাদা? কারখানার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আর যাই যাক, বেটাদের চোখ জোড়া যে এখনও অক্ষত। তারা যে দেখতে পেয়েছে কিভাবে কাঁচামাল, মেশিন সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। শেষ দিকে কারখানা ঠেকনা দিচ্ছে একজন সুরক্ষাকর্মী। অর্ডার না আসার গল্পটিও যে নিখাদ গুল। অবিশ্যি এসব প্রমাণ-ফমাণের তোয়াক্কা আর কবেই বা করতে হল? তাই পূর্বপরিকল্পিত ভাবেই সেপ্টেম্বর মাসে কারখানাই তালা ঝুলল। পথে বসা কর্মচ্যুত মানুষেরা তাদের পুরো ন্যায্য পাওনা থেকে আজও বঞ্চিত। ছেলে মেয়েদের স্কুলের মাইনে দিতে অক্ষম ৩৪০০০ পরিবার।

ফ্যাশান এক্সপ্রেসের কাণ্ডকারখানা মোটেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ২০০৭-এর মাঝামাঝি হরিয়ানা সরকার ন্যুনতম মজুরি বৃদ্ধি ঘোষণা করে -২৫৪০ থেকে ৩৫১০। ক্রমবর্ধমান শ্রমিক অসন্তোষের কথা মাথায় রেখেই হয়ত এই সিদ্ধান্ত। অত:পর মাননীয় শিল্পপতিদের সেই বহু পরীক্ষিত পুঁজিবাদী কৌশল অবলম্বন। জোচ্চুরি। মজুররা হাতে হাতে সই করার যে স্লিপটি পেলেন, তার বক্তব্য অনুযায়ী তারা তাদের প্রাপ্য পাওনা পাচ্ছেন\। কিন্তু ওদিকে মাসান্তে পেলেন পুরনো মজুরি। বলা বাহুল্য, এই নির্লজ্জ ঠগবাজি বিভিন্ন জায়গায়, প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছে। বহু ক্ষেত্রে শ্রমিকদের স্বতস্ফুর্ত ধর্মঘট ও প্রতিবাদ বাধ্য করেছে ম্যানেজমেন্টকে মাথা নোয়াতে। নয়া মজুরি বলবৎ করতে। এ প্রসঙ্গে মহারাণী পেন্টস, শ্যাম এলানিয়াজ, টালব্রস ওয়ার্কার্স-এর লড়াই উল্লেখযোগ্য। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রতিবাদের মূল্যস্বরূপ খোয়াতে হয়েছে জীবিকা।

ভাতে মারার খবরগুলি ইদানিং ম্লান হয়েছে, জানুয়ারী ২০০৮-এ আবিষ্কৃত চাঞ্চল্যকর কিডনি স্ক্যান্ডালের দৌলতে। গত ৮-৯ বছরে একটি মেডিকাল ক্লিনিক ৫০০ কিডনি বেআইনি ভাবে সংগ্রহ করেছে। সব কটি অসহায়। যাদের প্রায় সবাই আজ মৃত। হ্যাঁ, গুরগাঁও-এর অর্থনৈতিক উদার মহলে 'দেহ বেচা' আজ স্রেফ প্রতীকি নয়। রাষ্ট্রের ঔদাসীন্যে (কোন কোন ক্ষেত্রে পরোক্ষ মদতে) গড়ে উঠেছে এক কুৎসিত কিডনি-রপ্তানি চক্র। বিক্রেতা মূলত উত্তর প্রদেশ, বিহার, অন্ধ্র থেকে আসা মাইগ্রান্ট শ্রমজীবী। বিয়ের পণ বা শুধুমাত্র অন্নসংস্থান বাধ্য করছে এদের অনেককে। অনেককে বলপূর্বক (বন্দুকের নল ঠেকিয়ে) বাধ্য করা হচ্ছে। চালানকারীদের দেশে আটকে রাখতে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ প্রশাসন। পুলিশ হানার প্রাক্কালে পলায়নরত কুচক্রী ক্লিনিক ম্যানেজারদের জালি পাসপোর্ট তৈরী খোদ পাসপোর্ট অফিসের সৌজন্যে।
সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষাহীন এই শ্রমিক সম্প্রদায় উজ্জ্বল ভারতের। চোখ ধাঁধানি আলোর থেকে এবার নাহয় পাশ ফিরলেন।

বিশদে জানতে :
http://gurgaonworkersnews.wordpress.com/gurgaonworkersnews-no9/


ইন্ডিয়া দ্যাট ডাস নট শাইন অ্যাট নাইট


ইউপিএ সরকারের জমানার শুরুতে ভারতের উন্নয়ন উপেক্ষিত গ্রামগুলিকে বিদ্যুতায়নের আওতায় আনতে ভারত নির্মাণ ও রাজীব গান্ধী বিদ্যুতিকরণ যোজনা নেওয়া হয়। প্রথম চার বছরের পরিকল্পনা হিসেবে মার্চ ২০০৯-এর মধ্যে ১২৫,০০০ গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষমাত্রা ধার্য করা হয়। বাস্তবে দেখা যায় তার অর্ধেকও হয়ে ওঠেনি, বিদ্যুৎ পৌঁছেছে মাত্র ৪৭০০০টি গ্রামে। এই ব্যর্থতার কারণ হিসেবে বিদ্যুৎ মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয় যে বরাদ্দ টাকা অপর্যাপ্ত ছিলো। ২০০৭-এর এপ্রিল থেকে ২০০৮-এর জানুয়ারী অবধি এই প্রোজেক্টের পিছনে সরকার কোনও টাকাই দিতে পারেনি। (১) অর্থসরবরাহ ছাড়াও ঘাটতি থেকে গেছে প্রোজেক্ট রূপায়ণের ব্যবস্থাপনাতেও। দেখা যাচ্ছে সাতটি রাজ্যে ৫০%-এরও কম গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছেছে এবং পাঁচটিতে ২০৫-এরও কম। আর, দুর্ভাগ্যজনকভাবে ঐ সাতটি রাজ্যের মধ্যে একটি আমাদের পশ্চিমবঙ্গ (কেন্দ্রে বামফ্রন্টের সমর্থন আর ক্যাবিনেটে পশ্চিমবঙ্গ থেকে দুই যুযুধান মন্ত্রীর উপস্থিতি সত্ত্বেও। (২)

এর-ই ফলশ্রুতি দেখা যাচ্ছে ভোট বয়কটের ডাক দিচ্ছেন ভারতের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ, কলকাতা থেকে মাত্র ঘন্টাখানেকের দূরত্বে হাওড়ার তাঁতীপাড়ার মানুষ বললেন আলো দাও, ভোট নাও। (৩) তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পঞ্চায়েত প্রধান জানালেন চার বছর ধরে বিডিও-র কাছে দরবার করেও গ্রামে আলো আনা যায়নি। আর সেরকম-ই অবস্থা রাজধানীর সন্নিকটে উত্তরপ্রদেশের খানপুর-মাধো গ্রামে। উত্তরপ্রদেশ সরকারের নিজস্ব বিদ্যুতায়ন যোজনার ১৩ বছরেও এই দলিত অধ্যুষিত গ্রামটিতে আলো আসেনি। ফলে ভোট বয়কটের ডাক দিলেন তাঁরাও। (৪)

সূত্র:
1.http://www.livemint.com/2008/07/24003015/Electricity-for-the-poor-still.html?d=1
2.http://infochangeindia.org/200903257668/Governance/Analysis/Bharat-s-high-tension-yojana.html
3.http://epratidin.in/EpaperPdf/2932009/2932009-md-hr-8.pdf
4.http://www.indianexpress.com/news/no-electricity-so-no-vote-threatens-up-village

ভগ্ন স্বাস্থ্য, রুগ্ন পরিষেবা

"দশ বছরের মেয়েটির কিডনি অকেজো। চিকিৎসা খরচ আড়াই লাখ। বাবা দিনমজুর'। "দু বছরের শিশুটির হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচারের জন্য লাগবে দু লাখ, পরিবারের মাসিক আয় দুহাজার ও না। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন'।

আপনি, আমি এরকম আবেদন মাঝেসাঝেই দেখে থাকি কাগজে, মেলে। আপনার, আমার সহৃদয় বদান্যতায় এরকম কারুর কারুর চিকিৎসা খরচ উঠেও আসে হয়তো। আর আসেনা অনেকের ই। জানতেও পারিনা এরকম আরো অনেকের খবর ই।
কি হয় তাঁদের ?

গরীবের ঘোড়ারোগ হলে যা হয়।
বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু কিম্বা চিকিৎসা করাতে গিয়ে পুরো ফতুর। হ্যাঁ, NSSO র তথ্য বলছে, আক্ষরিক অর্থেই তাই হতে হয়েছে।
বিহার, উত্তরপ্রদেশের হাসপাতাল, নার্সিং হোমে ভর্তি হতে হওয়া এক তৃতীয়াংশেরও বেশি মানুষকে। একটুর জন্য দারিদ্র্য সীমারেখা টপকে যাওয়া মানুষজনের এক পঞ্চমাংশ ই কিন্তু চলে যাবেন ঐ সীমার তলায়। শুধু একটিবার কোন কঠিন অসুখের চিকিৎসা করাতে হলে।

এই সমস্ত তথ্য নিয়েই ঐ independent Commission on Development and Health in India,( ICDHI ) বের করেছেন একটি রিপোর্ট: "Governance of the Health Sector in India: Has the state abdicated its role?” , লিখেছেন ভূতপূর্ব কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব জাভেদ চৌধুরী ও কমিশনের অন্যান্য সদস্যরা। (১)

বছর কয়েক আগের WHO এর একটি রিপোর্টেও পাওয়া যায় সেই এক ই ছবি। দেশের ছটি রাজ্যে ক্রমবর্ধমান চিকিৎসা ব্যয়ভারের প্রভাব সম্পর্কিত সমীক্ষা জানিয়েছিলো, নিম্ন আয় গোষ্ঠীভুক্ত পরিবারের ৪০%এরো বেশি আকন্ঠ ঋণে ডুবে যাচ্ছেন, চিকিৎসার চক্করে, ১৬% এর ও বেশি চলে যাচ্ছেন দারিদ্র্যসীমার নীচে।(২)

অস্বাভাবিক কিছু না। অগতির গতি যখন ঐ বেসরকারী চিকিৎসার মহার্ঘ্য ব্যবস্থা। কেন, সরকারী চিকিৎসা ? তথ্যের দিকে তাকানো যাক। জনস্বাস্থ্য বিভাগে আমাদের দেশের গড় ব্যয় আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান তালিকায় একেবারে তলার দিকে, স্বাস্থ্যখাতে মোট ব্যয়ের মাত্র ২৫%, যা জিডিপির মাত্র ১.২%, তা বহন করে সরকার। পৃথিবীর মাত্র চারটি দেশের চেয়ে বেশি। (৩)

স্বাস্থ্য সূচকে আমাদের এই এমার্জিং গ্লোবাল সুপারপাওয়ারটির স্থান ও মাত্র কয়েকটি দেশের ই উপরে, ১২৭ তম স্থানে।

প্রতি দশহাজারে মাত্র ৬ জন অ্যালোপ্যাথ ডাক্তার। তাদেরো সিংহভাগ শহরে ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে। সরকারী চিকিৎসা অপ্রতুল শুধু তাই নয়, যেটুকু পরিষেবা আছে তার ও হাল বেহাল, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই। তাই ছোটো, বড়, মাঝারি সব রকম অসুখেই দেশের ৭৫-৮০% মানুষ সরকারী চিকিৎসার সুযোগ নিতে পারেন না, বা পেলেও আস্থা হারিয়ে নিতে চান না , তাতে আর আশ্চর্যের কি ! (৪) আর তাই, এটাও আশ্চর্যের না, ২০০৩-০৪ এর NSSO তথ্যানুযায়ী আট বছরে হাসপাতালে ভর্তি হবার খরচ গ্রামে বেড়েছে শহরে বেড়েছে ৭৮%। শহরে ১২৬%। (১) বিষফোঁড়ার মত যুক্ত হয়েছে জীবনদায়ী ওষুধের লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকা দাম, প্রয়োজনাতিরিক্ত ওষুধ প্রেসক্রাইব্‌ড হওয়ার সমস্যা।

ICDHI এর রিপোর্টটি জানাচ্ছে, জনস্বাস্থ্য খাতে যে রাজ্যের সরকারি ব্যয়ভার যত কম, সে রাজ্যের স্থান স্বাস্থ্য সূচকের মানদন্ডে তত তলার দিকে।

দারিদ্র্য আর সরকারী ঔদাসীন্য। ফল, বিশুদ্ধ পানীয় জল, যথাযথ শৌচ ব্যবস্থা, উপযুক্ত টীকাকরণ, পুষ্টিকর খাদ্যের অভাব। ফল, রোগকবলিত হবার প্রবণতা বৃদ্ধি। আর তার ফল ? চিকিৎসা করাতে গিয়ে দরিদ্রতর হওয়া।
বিষচক্র। এ থেকে মুক্তি নাই, সরকারের টনক না নড়লে।

শিক্ষার সাথে সাথে স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এই ক্রমবেসরকারীকরণের ও সমানুপাতিক হারে ক্রমবর্ধমান খরচকে ঢুকিয়ে দারিদ্র্য সীমা নির্ধারণের নতুন মাপকাঠি বানানোর একটা সঙ্গত দাবী বেশ কিছু দিন ধরেই তোলা হচ্ছে। সেটা ধার্য হলে আরো যে বিপুলসংখ্যক মানুষ সরকারীভাবে বিপিএল তালিকাভুক্ত হয়ে যাবেন, তা ইন্ডিয়ার শাইনিং ভাবমূর্তির পক্ষে কিন্তু খুব একটা স্বাস্থ্যকর হবে না ! (৫)

সূত্র:
------
1. http://infochangeindia.org/200903027641/Health/News/Costly-healthcare-pushes-people-into-poverty-VHAI-report.html
2. http://www.hindu.com/2007/06/22/stories/2007062253300200.htm
3. http://www.tribuneindia.com/2009/20090202/nation.htm#7
4. http://infochangeindia.org/20050604394/Agenda/75-prefer-the-private-sector.html
5. http://ideas.repec.org/a/bla/ppolre/v13y2006i3p191-199.html

এপ্রিল ৫, ২০০৯