এই সপ্তাহের খবর্নয় ( জানুয়ারী ১৮)


লিখছেন --- খবরোলা অ্যান্ড কোং


আপনার মতামত         


সমস্যায় চুইং গাম
-------------------
এককালে চুইং গামের আবিষ্কারক হিসেবে নাম কিনেছিল মেক্সিকো। প্রায় দেড়শো বছর আগে মেক্সিকো থেকেই এসেছিল Chicle , যা থেকে তৈরী হয় প্রথম চুইং গাম বা chicle gum । অথচ সেই চুইং গামই এখন হয়ে দাঁড়িয়েছে সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার বস্তু। যেখানে সেখানে চুইং গাম খেয়ে ফেলে দেওয়ার বদভ্যাসে জেরবার এই দেশ। মেক্সিকো সিটির যেকোনো রাস্তার পাশে, পথচারীদের হাঁটার জায়গাগুলো ভর্তি হয়ে থাকে ফেলে দেওয়া চুইং গামে। দেখা গেছে গড়ে প্রতি স্কোয়ার মিটারে ৭০ টারও বেশী চুইং গামের টুকরো পড়ে থাকে ওখানে। এই চুইং গাম পরিষ্কার করতে প্রতি বছর প্রচুর টাকা খরচ হয় পৌরসভার। জার্মানি থেকে ১০টা চুইং গাম পরিষ্কার করার মেশিন কিনেছে পৌরসভা। কিন্তু এই ভাবে সামাল দেওয়া যাচ্ছে না এই সমস্যার। খরচ বাড়ছে ক্রমশ:। তাই নগরবাসীর প্রতি পৌরসভার অনুরোধ, রাস্তায় চুইং গাম ফেলতে হলে একটা কাগজে মুড়ে ফেলুন, আর তা না পারলে গিলে ফেলুন গামটা। রাস্তাকে মুক্তি দিন চুইং গামের হাত থেকে। পৌরসভার এই অদ্ভুত নির্দেশ কিন্তু মেনে নিতে পারে নি অনেকেই। ডাক্তারদের মতে চুইং গাম গিলে ফেলার অভ্যেস বিপজ্জনক হতে পারে পেটের পক্ষে। চুইং গামের সাথে জড়িয়ে যেতে পারে হজম না হওয়া খাবারের টুকরো, আর তার ফলে পেটে নানা রকম সমস্যা দেখা যেতে পারে। তবে ডাক্তারদের এই মত মানতে রাজি নন মেক্সিকো সিটির conservation of public spaces এর ডিরেক্টর রিকার্ডো জারাল। ছোট বেলায় বহুবার চুইং গাম গিলে ফেলার অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। তাই ওঁর মতে গিলে ফেলাটাই সবচেয়ে ভাল উপায়। প্রসঙ্গত: উল্লেখযোগ্য যে বেশ কিছুকাল আগে একই সমস্যায় বিপর্যস্ত হয়ে সিঙ্গাপুরে নিষিদ্ধ হয়ে গেছিল চুইং গাম খাওয়া। সমস্যা আছে অন্য অনেক দেশেও। নিউ-ইয়র্কের The Rid-a-Gum কোম্পানি জানিয়েছে যে প্রতি বছর প্রায় ২০০ টি চুইং গাম পরিষ্কার করার মেশিন বিক্রি করে তারা। ক্রেতার সংখ্যা বাড়ছে ক্রমশ:।


খোঁজবার গরুরা --- মশাদের জাত চেনা
-----------------------------------
কে ফাইলেরিয়া ফ্যায়লায়, কে এনেছে এন্সেফেলাইটিস?
সম্প্রতি হায়দ্রাবাদের ভারতীয় রাসায়নিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা মারাত্মক রোগের বাহক মশকপ্রজাতিদের আলাদা করার জন্য আর্টিফিশিয়াল নিউরাল নেটওয়ার্কের প্রযুক্তি ব্যবহার করা শুরু করেছেন। অ্যানোফিলিস প্রজাতির মশাদের ওপরে করা এই গবেষণায় মানব-মস্তিষ্কের শেখা এবং অভিজ্ঞতা থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পদ্ধতিকে অনুকরণ করে ভারতীয় গবেষকরা মশাদের জিন-এর সেই বিশেষ অংশকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছেন যা থেকে একটি মশার প্রজাতিকে চেনা যাবে। নেচার পত্রিকার তথ্য অনুসারে এর ফলে যে সব উন্নয়নশীল দেশে মশা-বাহিত রোগের মহামারী দেখা যায়, সেখানে রোগ-প্রসারের প্রতিরোধে ব্যাপক সুবিধে হবে। গবেষকদের মতে তাঁদের ব্যবহৃত পদ্ধতির সাহায্যে জিন-স্তরে জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিভাগ করা এরপর অনেক সহজ হবে।



ভূত দেখা, কফি বেচা
-------------------------
ভূত নিয়ে রহস্যের শেষ নেই আমাদের মনে। সেই ছোটবেলা থেকেই ভূতের গল্পে গা ছমছম ভাব, সন্ধেবেলা কারেন্ট অফ হলেই জানলার পাশে আবছা অন্ধকারে কাকে যেন সরে যেতে দেখা। হঠাৎ যেন কানের কাছে কার গলার আওয়াজ, ভূতের সিনেমা দেখতে গিয়ে দেওয়ালে কার যেন ছায়া। আর তারপরেই দিনের আলোয় ভূত নিয়ে প্রবল তর্কাতর্কির সাথে যুক্তির নতুন নতুন বিন্যাস করে রাতের দেখা ভূতগুলোকে উড়িয়ে দেওয়ার পালা। এতদিন ধরে চলে আসা সেই সব তর্কাতর্কি, আর যুক্তির সাথে একটা নতুন পয়েন্ট এসে জুড়েছে সম্প্রতি। ডারহাম ইউনিভার্সিটির গবেষকরা দাবী করেছেন যে যারা সারাদিন ধরে বেশী কফি খান, তাদের ভূত দেখার সম্ভাবনা অনেক বেশী। ইউনিভার্সিটির প্রায় ২০০ জন ছাত্রের ওপর সমীক্ষা চালিয়েছেন এঁরা। সেই সমীক্ষা থেকে তাঁদের সিদ্ধান্ত যে দিনে সাত কাপের বেশী ইন্সট্যান্ট কফি খেলে হ্যালুসিনেশনে ভোগার সম্ভাবনা বেড়ে যায় অনেকটা। যাঁরা দিনে বেশী করে কফি খান তারা অন্যদের চেয়ে তিনগুন বেশী হ্যালুসিনেশনে ভোগেন, হঠাৎ করে মৃত মানুষদের ছায়া দেখেন বা অজানা লোকের কন্ঠস্বরে চমকে ওঠেন। শুধু কফি নয়, এমনকি অতিরিক্ত চকোলেট বা এনার্জী ড্রিংকস, যাতে ক্যাফেইন থাকে বেশী, সেগুলো খেলেও বেড়ে যায় হ্যালুসিনেশানের সম্ভাবনা। বিশেষজ্ঞদের ধারণা যে প্রচন্ড স্ট্রেসে থাকলে মানুষের শরীরে যে cortisol হর্মোনের ক্ষরণ হয়, সেই হর্মোনই দায়ী হ্যালুসিনেশনের জন্য আর ক্যাফেইন এই হর্মোনের ক্ষরণকেই বাড়িয়ে দিতে পারে অনেকটা। যার ফলে অনেক অদ্ভুত পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় মানুষ। তবে এর সাথে তাঁরা এটাও জানান যে হ্যালুসিনেশন মানেই কোনো মানসিক রোগ নয়। প্রায় ৩% মানুষ কোনো রকম সমস্যা ছাড়াই হ্যালুসিনেশনে ভোগেন। মানসিক সমস্যা থাকলে হ্যালুসিনেশনের সম্ভাবনা বাড়ে আর তার সাথে ক্যাফেইনেরও একটা যোগাযোগ রয়ে গেছে। অর্থাৎ এবার থেকে কফি খেলে মেপে খান, অল্প পরিমানে খান, নয়তো যখন তখন শিউরে ওঠার সম্ভাবনা কিন্তু থেকেই যাবে।


জানুয়ারী ১৮, ২০০৯