এই সপ্তাহের খবর্নয় ( নভেম্বর ৯)


লিখছেন --- খবরোলা অ্যান্ড কোং


আপনার মতামত         


গাম্বিয়াতে ভোট
-----------------
সদ্য সমাপ্ত হল আমেরিকার ঐতিহাসিক ভোট। প্রত্যাশা মতনই বারাক ওবামা সামলাবেন হোয়াইট হাউস। সারা দুনিয়ার লোক কম বেশি খবর রাখেন এই নির্বাচনের। সন্দেহ নেই বেশ গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। আমাদের খবর্নয়েও তাই এসে পড়েছে ভোট। আমেরিকায় ভোট হল এবং দিনের শেষে জেনে গেলাম ফলাফল। ভোটাররা একটা সুইচ টিপছেন আর ভোট শেষ। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের এমন সুযোগ সুবিধা কিন্তু সর্বত্র নেই। যেমন আফ্রিকা মহাদেশের গাম্বিয়ায় ভোট হয় মার্বেল দিয়ে। বুথে থাকে অনেক মার্বেল আর প্রার্থীদের রং ও ছবি লাগানো লোহার ড্রাম। ভোটদাতারা মার্বেল নিয়ে পছন্দমতন একটি ড্রামে ফেলেন। ড্রামে মার্বেল পড়ার শব্দ শুনে পোলিং অফিসার বুঝতে পারেন ভোট দেওয়া হল কিনা। শব্দ যাতে শোনা যায় তাই ভোটের দিন বুথের আশেপাশে সাইকেলের বেল বাজানো নিষিদ্ধ। ১৯৬০ সাল থেকে চলে আসা এই অদ্ভূত পদ্ধতির কারণ গাম্বিয়ার সাক্ষরতার হার। এখন অবস্থার উন্নতি হলেও, এই ব্যবস্থায় লোকে এতই অভ্যস্ত যে পাল্টানোর কথা ভাবাই হচ্ছে না। এই ব্যবস্থার সব থেকে খারাপ দিক হল ব্ল্যাংক ভোট দেওয়া যায় না। কোনো একজন দল, প্রার্থীকে বেছে নিতেই হবে।

৬০০ কিমি হেঁটে ভোট
--------------------
গবেষণা আছে বেশি ভোট পড়া মানে শাসক দলের অবস্থা খারাপ। সব কিছু ভালো চললে নাকি সাধারণ জনগণ ভোট দিতে উৎসাহী হয় না। যখন বদল চাই তখনই নাকি ভোট দেওয়ার প্রয়োজনয়ীতা অনুভব করেন সবাই। ভূটানে রাজতন্ত্র অবসান হয়ে যখন প্রথম গণতান্ত্রিক ভোট হল, তখন শেয়াং দেমা নামক এক মহিলা ৬০০ কিলোমিটার হেঁটে ভোট দিতে গেছেন তাঁর নিজের জন্মস্থানে। উনি গাড়ি চড়তে পারেন না - মোশন সিকনেসের জন্য। কিন্তু প্রথমবার ভোট দেবার জন্য ব্যাকুল। তাই এই অসাধ্যসাধন। পরিবর্তনের তাগিদ?

গন্ধের আমি, গন্ধের তুমি
------------------------
ট্রেনে, বাসে, গাড়িতে, অফিসে এমনকি সেই আপন জনের গায়ের গন্ধও মাঝে মাঝে শির:পীড়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। না, এর জন্য নাক সিঁটকে ওঠার কিছু নেই। মানুষটির কোনো বাজে অভ্যেস নয় , তার জিনই তার গন্ধ নির্ধারণ করে। সম্প্রতি একটি গবেষণায় জানা গেছে, প্রতিটি প্রাণীর নিজস্ব গন্ধ আছে। এবং মানুষ থেকে মানুষে, ইঁদুর থেকে ইঁদুরে, বাঘ থেকে বাঘে সেই গন্ধ আঙুলের ছাপের মতনই স্বতন্ত্র। সেই গন্ধ দিয়ে আলাদা করা যায় একজনের থেকে অন্যজনকে। এমনকি প্রাণীজগতে আপনজনকে বেছে নেবার ক্ষেত্রেও খুব বড় ভূমিকা এই গন্ধের। একজনের গায়ের গন্ধ তার জিনের ওপর নির্ভর করে। এই জিন থাকে মেজর হিস্টোকম্পাটিবিলিটি কমপ্লেক্স অঞ্চলে । প্রাণীর সেই নিজস্ব গন্ধই আমরা পাই ঘাম অথবা মূত্রের মাধ্যমে। গবেষণাকারীরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, গায়ের গন্ধ কি খেলাম বা না খেলাম তার ওপর নির্ভর করে না। তাই কারুর গায়ের গন্ধ ভালো না লাগলে মনে রাখবেন সবই জিনের প্রভাব। এবারে সুগন্ধী ব্যবহার করতে বলবেন কিনা - সেটা আপনার ওপরেই থাক।

ছোট্ট মশা ভয়ংকর - দূরে থাকুন
-----------------------------
ছোট হোক বা বড় সব রকমের মশা দেখলেই মারতে ইচ্ছে করে। উল্টোদিকে মশাদেরও মনে হয় আমাদের মতন মানুষ দেখলেই কামড়াতে ইচ্ছে করে - জীবনচক্র। সবরকম মশার থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়, কিন্তু বিশেষত: ছোট্ট দেখতে মশারা ভয়ংকর। আমেরিকার ইলিনয় ন্যাচারাল হিস্ট্রি সার্ভের ব্যারি অল্টো এমনই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। ছোট মশারা নিজেরা খুব তাড়াতাড়ি রোগে ধরাশায়ী হয়ে পড়ে এবং তাই খুব তাড়াতাড়ি রোগ ছড়ায়ও। চেহারার সামান্য তারতম্যেও মশাদের এই রোগ ছড়ানোর প্রবণতায় খুব বেশি প্রভাব ফেলে। তাই ছোট মশা দেখলেই দয়ামায়া না করে মারতে থাকুন।

নভেম্বর ৯ , ২০০৮