এই সপ্তাহের খবর্নয় (অক্টোবর ৫)


লিখছেন --- খবরোলা অ্যান্ড কোং


আপনার মতামত         


অঙ্গ দিয়ে চেনা
---------------
আমরা, মানে মানুষরা একে অপরকে চিনি মুখ দিয়ে। বিভিন্ন লোকের মুখ এবং ধরা যাক হাতের ছবি মেলাতে বললে কিন্তু বেশ মুশকিলেই পড়ব। আরও মুশকিলে পড়ব যদি হাতের বদলে যেসব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পোশাকে ঢাকা থাকে সেইসব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ মেলাতে দেওয়া হয়। কিন্তু শিম্পাঞ্জীরা অবলীলাক্রমে মিলিয়ে দিতে পারে মুখের সাথে পশ্চাৎদেশ বা যৌনাঙ্গ। সম্প্রতি "অ্যাডভান্স সায়েন্স লেটার" নামক জার্নালে এমনই একটি পরীক্ষার কথা বলা হয়েছে। এই পরীক্ষায় বেশ কিছু শিম্পাঞ্জীকে তার সাথীদের পশ্চাৎদেশ এবং যৌনাঙ্গের ছবির সাথে সাথে মুখের ছবি দেখানো হয় এবং শিম্পাঞ্জীরা সহজেই মিলিয়ে দেয় বন্ধুদের যৌনাঙ্গ এবং পশ্চাৎদেশের সাথে মুখ। এই পরীক্ষার ফলাফলকে বিজ্ঞানীরা শুধুই ঘটনাচক্র বলে মেনে নিতে নারাজ। শিম্পাঞ্জীরা এতবার এটা করে দেখিয়েছে যে তাঁরা মনে করছেন এটা একটি বিশেষ ক্ষমতা। অন্য অনেক প্রাণীরা
অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে আলাদা আলাদা ভাবে চিনলেও একটার সাথে অন্যটা মেলাতে পারে না, কিন্তু শিম্পাঞ্জীরা পারে।

কিন্তু কি ভাবে? মনে করা হচ্ছে উলঙ্গ থাকায় যৌনাঙ্গ বা পশ্চাৎদেশ মুখের মতনই চেনা একটি অঙ্গ হয়ে উঠেছে। তাহলে কি মনুষ্য সমাজে যাঁরা উলঙ্গ হয়ে থাকেন মানে 'ন্যুড কলোনিতে' তাঁদেরও এই ক্ষমতা আছে? জানা নেই। এ শুধুই ভাবনা। এখনও জানা যায় নি শিম্পাঞ্জীদের এই ক্ষমতার পিছনে প্রকৃত কারণ কি।

বাড়ির দাম - অবিশ্বাস্য
-----------------------
বাড়ির দাম - বর্তমান অর্থনৈতিক অস্থিরতার সময়ে সব থেকে আলোচিত বিষয়। তা হবেই না বা কেন। যে ঘটনা সারা বিশ্ব জুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা নিয়ে আসে তার তো আলাদা গুরুত্ব প্রাপ্যই। তাই আমাদের পাতায়ও আমরা বার বার বাড়ির দামের কথা বলছি।

সবাই জানে আমেরিকায় বাড়ির দাম কমেছে, আরও কমবে। কিন্তু কত? সম্প্রতি মিচিগানের সাগিনো নামক জায়গায় একটি বাড়ি নিলাম হয়েছে যার সর্বোচ্চ দাম উঠেছে ১ ডলার ৭৫ সেন্ট। কিনেছেন জোয়ান স্মিথ নামক ৩০ বছরের এক মহিলা। বাড়িটা অবশ্য পরিত্যক্ত, ভাঙাচোরা। স্মিথের ইচ্ছে মওকা বুঝে বাড়িটি বেচে দেওয়া। কিন্তু তা বলে এত কম দাম!

চিকেন সুপ এবং পাণ্ডা
-------------------------
না আপাত দৃষ্টিতে কোনো সম্পর্ক নেই। ভাবাই যায় না একটা বিরাট পাণ্ডা শান্ত মুখে চিকেন স্যুপ খাচ্ছে। কিন্তু এমনটাই হয়েছে চীনের উয়াহুন নামক চিড়িয়াখানায়। কদিন ধরেই ঐ চিড়িয়াখানায় পাণ্ডা দেখতে প্রচন্ড ভীড় হচ্ছিল। উৎসাহী জনতা চিৎকার করে, বিভিন্ন শব্দ করে মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করছিল ছোট্ট পান্ডা হে জিহুয়া আর উইউই এর। জনতার এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজে ওরা রীতিমতন বিরক্ত। না হচ্ছিল ঘুম, না ছিল শান্তি। চীন দেশের ঐতিহ্য অনুযায়ী মনের শান্তি ও স্বাস্থ্য ফেরাতে লোকে চিকেন স্যুপ খায়। তাই চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বাঁশ, বান রুটি ইত্যাদি নিয়মিত খাবার দাবারের সাথে দিয়েছে প্রা ২.২ পাউন্ডের চিকেন স্যুপ। পান্ডারাও মনের সুখে খেয়েছে সেই স্যুপ। স্যুপ খাওয়ার পর পান্ডারা কেমন আছে? জানতে হলে ঘুরে আসতে হবে উয়াহুন চিড়িয়াখানায়।

ফুটবলের মতন বড় দাঁত
-------------------------
হ্যারিকেন আইকের দাপটে প্রায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছে আমেরিকার টেক্সাস প্রদেশ। কিন্তু সমস্ত কিছুরই ভালো দিক থাকে। 'প্ল্যানেটোলজিস্ট' ডরথি সিস্কের বাড়ির ধ্বংসাবশেষ থেকে পাওয়া গেছে প্রায় ফুটবলের মতন বড় একটি দাঁত। দেখতে অনেকটা অনেক পাঁউরুটি পাশাপাশি সাজালে যেমন হয় তেমন। মনে করা হচ্ছে এই দাঁত প্রায় ১০,০০০ বছর আগের কলম্বিয়ান ম্যমথের ফসিল। বর্তমানে দাঁতটিকে ল্যামার মিউজিয়ামে রাখা হয়েছে এবং চলছে পরীক্ষা নীরিক্ষা। হয়ত বা বেরিয়ে আসবে নতুন কোনো তথ্য।

গাছের গায়ে ব্যথা হলে
----------------------
আমাদের ব্যথা হলে তো আছে স্যারিডন, বা অ্যাস্পিরিন। আরও অনেক কড়া কড়া "পেইন কিলার'। একটা খেলেই 'গায়েব'। গাছের গায়ে ব্যথা হলে? 'ন্যশনাল সেন্টার ফর অ্যাটমস্ফিরিক রিসার্চের কিছু সদস্য অনেকটা হঠাৎই আবিষ্কার করেন যে গাছ খুব ক্লান্ত বা উত্তেজিত হলে নি:সৃত হয় মেথিল স্যালিসাইলেট নামক একটি রাসায়ণিক নির্যাস যা কিনা থাকে অ্যাস্পিরিনের মধ্যে। ব্যস, শুরু হল গভীর অনুসন্ধান। বিজ্ঞানীরা দেখলেন যে খরা হলে গাছের মধ্যে মেথিল স্যালিসাইলেট অনেক বেশি নি:সৃত হয়। শুধু তাই নয় এই নির্যাস গাছ পরিবেশের মধ্যে বের করে যাতে তার প্রতিবেশী গাছেরা বুঝতে পারে কোনো বিপদ আসন্ন কিনা। এই পরীক্ষায় দুটি জিনিষ প্রমাণিত হয় - এক, গাছ নিজেই নিজের 'পেইন কিলার' তৈরি করে, দুই, পরিবেশে এক গাছের সাথে অন্য গাছের তথ্যের আদানপ্রদান হয়।

অক্টোবর ৫, ২০০৮