এই সপ্তাহের খবর্নয় (জুলাই ২০)


লিখছেন --- খবরোলা অ্যান্ড কোং


আপনার মতামত         


"সচলায়তন' বাংলাদেশে অচল
--------------------------

গত ১৫ই জুলাই বিকেলে বাংলাদেশ থেকে ব্যবহারকারীরা অভিযোগ করেন যে, বাংলা ব্লগসাইট "সচলায়তন' অ্যাকসেস করা যাচ্ছে না। আসলে সাইটটি অল্প কিছুক্ষণের জন্য ডাউন ছিল। কিন্তু সাইট আপ হয়ে যাওয়ার পর, যখন বিশ্বের অন্যপ্রান্ত থেকে খুলতে কোনও অসুবিধা নেই, তখনও সাইটটিকে আর বাংলাদেশ থেকে অ্যাকসেস করা সম্ভব হয় নি। এই লেখা প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত অবস্থার কোন পরিবর্তন হয় নি। "সচলায়তন' কর্তৃপক্ষ বিভিন্নপ্রকার টেকনিক্যাল সম্ভবনা খতিয়ে দেখে এবং পরীক্ষানীরিক্ষা করে নিশ্চিত হয়েছেন যে তাঁদের সার্ভারপ্রান্তে কোন গন্ডগোল নেই। কর্তৃপক্ষ আরও দেখেছেন বিটিসিএল'এর আন্তর্জাতিক গেটওয়ে ব্যবহার করে এমন কোন আইএসপি থেকে "সচলায়তন' অ্যাকসেস করা যাচ্ছে না। ১৬ই জুলাই দৈনিক "প্রথম আলো'র পক্ষ থেকে বিটিসিএল ও বিটিআরসি'র সংশ্লিষ্ট কর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তাঁরা এই ব্যপারে কোন মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। ঢাকা থেকে কয়েকজন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ পরীক্ষা করে জানিয়েছেন যে বিটিসিএল প্রান্তে সচলের পোর্ট ৮০ ও ১১০ বন্ধ করা আছে। ফলে ট্রেসরুট করে সমস্ত হপ খুঁজে পাওয়া গেলেও এইচটিএমএল অ্যাকসেস বন্ধ।

এমতাবস্থায় দুটো সম্ভাবনা আছে।
১) সচলায়তনকে কোনপ্রকার নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।
২) বিটিসিএল প্রান্তে কোনরকম কারিগরী ত্রুটির কারণে এরকম হচ্ছে।
দ্বিতীয় সম্ভাবনাটিকে প্রায় নাকচ করা যায়, কারণ মনে রাখতে হবে, বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন। এবং সর্বোপরি অতীতে যে কটি ওয়েবসাইটকে বাংলাদেশ থেকে ব্লক করা হয়েছে, তাদের কাউকেই আগে থেকে কারণ দর্শানো হয় নি বা আদৌ কোনরকম যোগাযোগই করা হয় নি।

এই পর্যন্ত পড়ে যারা "ওহ্‌ বাংলাদেশ' বলে নিশ্চিন্ত নিশ্বাস ফেলছেন, তাঁদের মনে করিয়ে দেওয়া যাক, ২০০৬ এ মুম্বাইয়ে ট্রেনে বিস্ফোরণের পরেপরেই ভারত সরকার ১৭ খানা ওয়েবসাইট/ব্লগসাইটকে ব্যান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। যুক্তি সেই তথাকথিত "জাতীয় নিরাপত্তা'। অবশ্য সরকারী সিদ্ধান্তের সাথে যুক্তির কোন সম্পর্ক সাধারণত: খুঁজে পাওয়া যায় না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কি বস্তু, এঁদের মাথায় ঢোকাতে গেলে যে মেটিরিয়ালের গজাল লাগবে, সেই মেটিরিয়াল এখনও পৃথিবীর মুখ দেখেনি। অতএব ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর সরকারী সার্কাসের জন্য তৈরী থাকুন।


ম্যানেজমেন্টে ভগবান:
---------------------
কথায় বলে দশচক্রে ভগবান ভূত। কখনো শুনেছেন ভগবান চেয়ারম্যান? লক্ষ্মৌয়ের সর্দার ভগৎ সিং কলেজ অফ টেকনোলজি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের চেয়ারম্যান ভগবান হনুমান। চেয়ারম্যানের অফিসে গেলে দেখা যাবে হনুমানজীর মূর্তি। চেয়ারম্যানের হয়ে কাজ করেন দুইজন ভাইস চেয়ারম্যান। বোর্ড অফ ট্রাস্টে নতুন রিজলিউশন পাস করাতে হয়েছে যাতে ইন্সটিউটের সর্বোচ্চ পদটি ভগবানকে দেওয়া যায়। যেকোনো মিটিংএ চেয়ারম্যানের চেয়ার খালি থাকে। পাশের দুটি চেয়ারে বসেন ভাইস প্রেসিডেন্টরা। সম্মান দেখাতে! ভগবান বলে কি চেয়ারম্যান নয়?

এই কলেজটি অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল অফ টেকনোলজি অ্যান্ড এডুকেশনের সাথে যুক্ত। এই বছরে জুলাই - অগস্ট মাসে এমবিএ ক্লাস শুরু হবে। ভাইস প্রেসিডেন্টরা আশ্বস্ত করেছেন তাঁদের এই ধর্মীয় চিন্তাভাবনার সাথে ক্লাসের বা সিলেবাসের কোনো সম্পর্ক থাকবে না। ক্লাস এবং সিলেবাস হবে অত্যাধুনিক। শুধু ক্যাম্পাসে একটি হনুমান মন্দির থাকবে, রোজ যেখানে পুজো হবে। এসবই হচ্ছে সেকুলার ভারতের বুকে সবার সম্মতি নিয়ে। ধন্য ধন্য।

পারফেক্ট মেমরি:
---------------------
বিজ্ঞান কি এবারে হার মানবে এক মানবী মস্তিষ্কের কাছে? ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, আরভাইনের নিউরোবায়োলজিস্ট জেমস ম্যাকগঘ, যাঁর গবেষণার বিষয়বস্তুই হল মানুষের স্মৃতিশক্তি, কিছুতেই ব্যাখ্যা করতে পারছেন না এজে'র 'পারফেক্ট মেমরি'। প্রফেসর ম্যাকগঘ প্রায় এক দশকের গবেষণায় এই ধারণায় পৌঁছেছিলেন যে মানুষ তাই মনে রাখে যা মানুষের ইমোশন মনে রাখতে সাহায্য করে। স্মৃতির সাথে স্ট্রেস হরমোন এবং ইমোশনের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে বলেই তিনি মনে করেছিলেন। যেমন কেউ কেউ তার হবির কথা সব মনে রাখে, প্রতিটা বাস্কেটবল খেলা মিনিট বাই মিনিট মনে রাখে,বা একটি গান একবার শুনেই মনে রাখতে পারে সারা জীবন। কিন্তু তারা আবার বাস নাম্বারের মতন সাধারণ জিনিষ মনে রাখতে অক্ষম।

কিন্তু গোল পাকালেন এজে। যেকোনো একটা দিনের কথা বললে এজে সেই দিনের সব খুঁটিনাটি ঘটনা বলে দিতে পারেন। একদিকে তিনি যেমন বলতে পারেন ১৯৭৭ সালের ১৬ই অগস্ট মারা গিয়েছিলেন এলভিস প্রেসলি, তেমনই তিনি বলতে পারেন ১৯৭৮ সালের ৬ই জুন ক্যালিফোর্নিয়ার ট্যাক্স ইনিশিয়েটিভ পাসের কথা। অবিকল মনে থাকে ১৯৭৯ সালের ২৫শে মে শিকাগোর প্লেন দূর্ঘটনার কথা। এমনকি প্রফেসর ম্যাকগঘ কে মনে করিয়ে দেন বহু বছর আগের জার্মানী ভ্রমণের কথা। যা কিনা প্রফেসরেরও মনে ছিল না। এজে সবকিছুই মনে রাখেন ডেট অনুযায়ী। এবং তিনি একজন সম্পূর্ণ সুস্থ মানুষ, ভুলে যান না বাস নাম্বারের মতন সাধারণ জিনিষ।

এজের এই পারফেক্ট মেমরি নিয়ে ধন্দে বিখ্যাত বিজ্ঞানী। তবে কি হার মানবে বিজ্ঞান? নাকি এই রহস্যের সমাধান হবে? জানা যাবে মস্তিষ্কের বিশেষ গঠনের কথা? চোখ কান খোলা রাখুন। হয়ত অচিরেই জানতে পারব। কারণ ম্যাকগঘ এবং তাঁর সাথীরা হাল ছাড়েন নি।

`Penny Brown কে চেনেন নাকি?
-------------------------------------------

একটুও কি শোনা লাগছে নামটা? বোধহয় আমেরিকার সবথেকে বিখ্যাত মিসিং এবং নন এক্সিস্টিং চাইল্ড। একটু পরস্পর বিরোধী শুনতে লাগল? পড়ে দেখুন নীচের মেলটি

I am asking you all, begging you to please, forward this email on to anyone and everyone you know, PLEASE. My 9 year old girl, Penny Brown, is missing. She has been missing for now two weeks. It is still not too late. Please help us. If anyone anywhere knows anything, sees anything, please contact me at zicozicozico@hotmail.com. I am including a picture of her. All prayers are appreciated!! It only takes 2 seconds to forward this on, if it was your child, you would want all the help you could get. Please. Thank you for your kindness, hopefully you can help us.

ঠিক এটাই না হলেও এরকম কত মেলই তো আসে আমাদের কাছে প্রতিনিয়ত। সাবজেক্ট লাইন থাকে Please forward, urgent!!! ইত্যাদি ইত্যাদি। লেখা থাকে এটা যদি ফরোয়ার্ড করেন অমুক কোম্পানী টাকা দেবে, কোনো একটি মেয়ে হয়ত পাবে চিকিৎসার টাকা, বা লণ্ডনে ব্যাঙ্কে কেউ আপনার জন্য টাকা রেখেছে, বা বিখ্যাত কোম্পানির লটারি জিতেছেন। খুব ভালো করে চিনে রাখুন, কারণ এগুলো ভুয়ো ইমেল। পেনি ব্রাউন বলে কেউ নেই, তেমনি কেউ টাকা নিয়েও বসে নেই। খুব দয়া হলেও কাউকে পাঠাবেন না। কারণ এতে কারুর উপকার হয় না, বরং আপনি সহ ইমেল চেনের সবার অপকার হয়। খুব অল্পের ওপর দিয়ে হলে 'ইয়ে বর্ধনকারী ইয়ের' মেলসংখ্যা বেড়ে যাবে, খুব খারাপ হলে অর্থদণ্ড থেকে আইডেন্টিটি থেফটঢ সবই হতে পারে। টেকনিকাল টার্মে একেই বলে ফিশিং ( Phishing ), কায়দা করে ইমেলের মাধ্যমে ব্যক্তিগত সেন্সিটিভ ইনফরমেশন বের করে নেওয়া।


বাড়লেই নাকি কমে! তাই তো বলছে:
-------------------------------------

সারা পৃথিবী জুড়ে তাবড় তাবড় বিজ্ঞানী, পলিটিশিয়ান থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সবাই চিন্তিত তেলের মানে জ্বালানীর দাম নিয়ে। আকাশ ছোঁয়া দাম। ডাইরেক্ট বা ইনডাইরেক্ট এফেক্ট পড়ছে সমস্ত কিছুর ওপর। কিন্তু এর ভালো দিকও আছে। এটুকু পড়েই ঢিল মারবেন না, প্লিজ। এমনটাই দাবী করছেন ইউনিভার্সিটি অফ অ্যালাবামা বার্মিংহামের মাইকেল মরিস এবং হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের ডেভিড গ্র্যাবওয়াস্কি। ওনাদের মতে গ্যাস প্রাইস ১০ শতাংশ বাড়লে নাকি গাড়ি অ্যাকসিডেন্ট থেকে মৃতের সংখ্যা ২.৩ শতাংশ কমে। কমবয়সী দের ক্ষেত্রে - ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী - নাকি এটাই ৬ শতাংশ। আমেরিকায় অটো অ্যাকসিডেন্টে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৩৮,০০০ থেকে ৪০,০০০ লোক মারা যায়। প্রফেসর মরিসের কথায় গ্যাসের দাম বাড়ার ফলে বছরে প্রায় ১২০০০ লোক কম মারা যাবে। বিরাট সংখ্যা।

গতমাসে মরিস এবং গ্র্যাবওয়াস্কি তাঁদের এই গবেষণা আমেরিকান সোসাইটি অফ হেলথ ইকনমিস্টসে জমা দিয়েছেন। ভারতে কি হবে? যেটুকু ডেটা পাওয়া গেল ভারতে রোড অ্যাকসিডেন্টে ২০০৪ সালে নাকি প্রায় ৯২,৫০০ লোক মারা গেছেন। জ্বালানীর দাম বাড়ার সুফল তবে ভারতেও পাওয়া যাবে বলেই মনে হয়।


বাড়িতে ৭৪৭, বলিহারি শখ:
-----------------------------

আমরা প্রায় সবাই জানি বাড়ি তৈরি করতে লাগে ইঁট, বালি, সিমেন্ট বা স্টীল, কাঠ ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্র্যান্সি রেওয়াল্ডের বাড়ি করতে লাগছে একটা আস্ত বোয়িং ৭৪৭। উনি চান ওনার বাড়ির থাকুক ফেমিনাইন কার্ভ, আর বাড়ি হোক ইকো ফ্রেন্ডলি। খরচ শুনলে চোখ কপালে উঠতে পারে। বাড়ির আর্কিটেক্ট মনে করেন একটা পুরো প্লেন কিনে ফেলে তার সমস্ত পার্টস ইউজ করাই যুক্তিসঙ্গত হবে। তাই প্রায় ১০০,০০০ ডলার দিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার এরোপ্লেন স্ক্র্যাপ ইয়ার্ড থেকে একটা আস্ত প্লেনই কেনা হয়েছে। আর কনসট্রাকশনে খরচ হবে বেশ কিছু মিলিয়ন ডলার।

বাড়ির ছাদ হবে প্লেনটির ডানা, নাক হবে মেডিটেশন টেম্পল। সব মিলিয়ে বেশ আকর্ষনীয় দেখার বস্তু। ভদ্রমহিলা এখন এদিক ওদিক অনেক পারমিট বের করতে ব্যস্ত। সিভিল অ্যাভিয়েশন অথোরিটিস নাকি বলেছে প্লেনের এলিমেন্ট গুলোকে এমনভাবে মার্ক করতে হবে যাতে আকাশ থেকে ভেঙে পড়া প্লেন মনে না হয়।

জুলাই ২০, ২০০৮