এই সপ্তাহের খবর্নয় (২৯শে জুন)


লিখছেন --- দ্বৈপায়ন বসু


আপনার মতামত         



অ্যান্টি গ্রাভিটি !
----------------
হাওড়া স্টেশনে নেমে সবার আগে কিসের দিকে চোখ পরে বলুন তো? হ্যাঁ, ঠিকই, সবার আগে দরকার হয় কুলীর। সাথে বাক্স প্যাঁটরা তো কম থাকে না। নিজেদের দুটো সুটকেশ, একটা বড় ব্যাগ ছেলে মেয়ের, পুরী থেকে আনা প্রসাদের চ্যাঙারি, বাপের বাড়ি আর শ্বসুর বাড়ির জন্য কেনা গিফটের বোঁচকা বুঁচকি। ভারী তো কম নয়, কে বইবে বলুন তো এই সব !! তার চেয়ে কুলি ডাকা ভাল। না হয় দুটো পয়সা বেশী যাবে, তবু আরামে হাঁটা তো যাবে। তবে এই সব কষ্টের দিন ফুরিয়ে এলো প্রায়। দুটো পয়সা বেশী দেবেনই যখন , তখন আরো দুটো পয়সা বেশী ঢেলে কিনে ফেলুন অ্যান্টি গ্র্যাভিটি সুটকেশ। এই নতুন ধরনের সুটকেশে আপনি যতই জিনিস রাখুন না কেন, আপনার সব সময়েই ওটা খালি মনে হবে। পাঁচ বছরের গবেষনার পরে শেষ পর্যন্ত সফলতা মিলেছে এমন ধরনের সুটকেশ বানানোতে। কিছুদিন আগেই Henley-on-Thames এর হেড কোয়ার্টারে প্রথম দেখা গেলো এই সুটকেশ। প্রতিটা চাকার ওপরে বসানো আছে এক ধরনের ছোট্ট মোটর। এক 'intelligent torque control system' নিয়ন্ত্রন করে মোটর, তথা চাকা গুলো কে। যে মুহুর্তে আপনি সুটকেসের হ্যান্ডল ধরে টান মারবেন, তক্ষুনি এই উন্নত ব্যবস্থা বুঝে নেবে যে কতখানি ঘোরানো দরকার চাকা। ব্যাস আপনি বোঝার আগেই গড়াতে শুরু করবে সুটকেস, আপনি তার ওজনের টের ও পাবেন না। যদি এই নিয়ে খাড়াই রাস্তাতেও ওঠেন, তাতে সমস্যা নেই। বিশেষ ধরনের সেন্সর বুঝে নেবে আপনার ঠিক কতটা সাহায্য দরকার। সেই বুঝে নিজের স্পীড ক®¾ট্রাল করে গড়াতে শুরু করবে সুটকেস।
কোম্পানীর ম্যানেজিং ডিরেক্টর Neil Armstrong জানালেন যে মুলত খাড়াই রাস্তা, ট্যাক্সি-স্ট্যান্ড ইত্যাদির কথা ভেবেই ডিজাইন করা হয়েছে এই সুটকেস। সাধারণ সুটকেসের চেয়ে সামান্য ভারি হবে এগুলোর ওজন। কিন্তু ঐ ওজন আর কখনো বাড়বে না, সে আপনি যতই ভেতরে মাল পত্র পুরে রাখুন। খুব শিগ্গিরি বাজারে পাওয়া যাবে এই সুটকেস।দাম পরবে ১৪০০ ডলার মতন। কি ভাবছেন ! হাল্কা সুটকেস আপনার পকেটকেও হাল্কা করে দেবে কিনা !!

বন্দুকের নলই .........
--------------------
এক কালে কোলকাতার দেয়ালে দেয়ালে লেখা থাকতো 'বন্দুকের নলের' কথা। কিন্তু কেউ কি তখন জানতো যে বন্ধুকের নল শুধু শক্তির উৎস নয়, ক্যালরিরও উৎস। অন্তত বেইরুটের 'Buns and Guns ' এ খেতে গেলে এই কথাটাই আপনার মনে হবে বার বার। সত্যিকারের বন্দুকের নলের সামনে বসেই খেতে হবে আপনাকে। রেস্টুরেন্টের মালিক Mr Ibrahim এর মতে, সারা বিশ্ব তো ওনাদেরকে সন্ত্রাসবাদী বলেই জানে। তো সবাই যখন সেটাই ভাবে, তখন সেই ছাপটাকেই লাগানো যাক কাজে। এই চিন্তা মাথায় নিয়েই তিনি খুলে ফেলেন নতুন রেস্তোরা। পুরোপুরি আর্মি পোস্টের ধাঁচে তৈরী রেস্তোরাটা। খাবার সময় কানের পাশে গুলির আওয়াজ শুনবেন খালি, অন্য কোনো গান এখানে বাজানো হয় না। ছাদের দিকে তাকালে দেখতে পাবেন ক্যামোফ্লেজ নেট ঝুলছে ওপর থেকে। চারপাশে সাজানো রয়েছে বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র। খাবার অর্ডার দেয়ার আগে দুবার ভাবতে হবে আপনাকে। গুলি খাওয়া বলতে এখানে সবাই কিন্তু পাঁউরুটি কেই বুঝবে। আর রকেট প্রপেলড গ্রেনেড অর্ডার করলে পাবেন গরম গরম চিকেন। কালশনিকভ, ভাইপার, B-52 , কি নেই মেনু তে। জানা অজানা সব রকমের অস্ত্রে পেট ভরে যাবে আপনার। বেইরুটের পরিবেশ এখনো প্রচন্ড অশান্ত। কিছুদিন আগেই এক প্রস্থ গোলাগুলি চলেছে চারদিকে। বন্দুক যেন দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অঙ্গ হয়ে গেছে। এমন এক পরিস্থিতিতে এই ধরনের রেস্টুরেন্ট নি:সন্দেহে এক অভিনব চিন্তা ভাবনা। Mr Ibrahim এর মতে, কোনো খারাপ উদাহরণ তৈরী করা নয়, বরং লোককে হাসানোর জন্যই তৈরী তার এই গোলাগুলি রেস্তোরা, যার বাইরে বড় করে ঝুলছে সাবধানবাণী A sandwich can kill you ।

মৌখিক রিমোট
----------------
কথায় বলে আগে নাকি 'দর্শনধারী', তার পরে নাকি আসে বাকি সব কিছু। তাই ম্যানেজমেন্ট গুরুরা বার বার বলেন যে মুখের হাসিটা ধরে রাখতে। মিষ্টি মুখ নাকি অনেক কাজ উদ্ধার করে দিতে পারে। আপাতত মিষ্টি মুখের গুণাবলীর ব্যপারে তেমন কোনো তথ্য আমাদের হাতে নেই, তবে এটুকু আমরা জোর দিয়ে বলতে পারি যে, মুখ দিয়ে এখন মানুষ রিমোট ক®¾ট্রালও চালাতে পারে। UC San Diego's Jacobs School of Engineering এর এক ছাত্র J Whiteall তার মুখের নাড়া চারা দিয়ে ভিডিও প্লেব্যাক ক®¾ট্রাল করতে পেরেছে সম্প্রতি।
রোবোটিক টিচিং আর ভিডিও লেকচারের ওপরে প্রোজেক্ট ছিল জেকবের। রোবোটিক টিচিং এর ব্যপারের জেকবের সবচেয়ে বড় অভিযোগ ছিল যে, ছাত্ররা কোনো কিছু বুঝতে না পারলে, বা আটকে গেলেও টিচার কোনো পাত্তা দেয় না। রোবট টিচার নিজের মতন একটানা লেকচার দিয়ে যায়। শ্রোতাদের দিকে তার কোনো দৃষ্টি নেই। এই সমস্যার সমাধানের জন্যই উঠে পরে লাগে জেকব। শেষ অব্দি সে বানিয়ে ফেলেছে এমন এক সিস্টেম যা শ্রোতার মুখের ভাব বোঝার চেষ্টা করবে। যদি মুখ দেখে বুঝতে পারে যে তার লেকচার শ্রোতাদের মাথার সামান্য ওপর দিয়ে যাচ্ছে, তো সে তার বলার স্পীড কমিয়ে দেবে। এমনকি থেমে গিয়ে সে জিজ্ঞাসাও করবে যে তার লেকচার বুঝতে ছাত্রদের অসুবিধে হচ্ছে কিনা। দরকার হলে পুরনো টপিকস ফের পড়াবে সে, যদি বোঝা যায় যে পুরনো টপিকসটা বেশীর ভাগ ছাত্রই বোঝে নি।
তবে মানুষ আর রোবটের এই কমিউনিকেশান তৈরী করার কাজটা মোটেও সহজ ছিল না জেকবের পক্ষে। মানুষের মুখের ভাব এত বিচিত্র হয়ে যায় একই পরিস্থিতিতে, যে সেই ভাবকে বুঝে তাকে কোনো প্রোগ্রামে বসানো এক রীতিমতন কঠিন ব্যপার। কিন্তু অবশেষে এসেছে সফলতা। আশা করা যায় এই পদ্ধতির ব্যবহার রোবট টিচারদের আরো একটু বেশী মানবিক করে তুলতে পারবে।

ঐশ্বরিক চিজ
---------------------
পুজো পাঠ আর মন্ত্রতন্ত্রে ভারতীয়দের জুড়ি মেলা ভার। তা সে নতুন বাড়ি হোক বা নতুন চাকরি, সবেতেই পুরোহিত ডেকে পুজো চলে কয়েক ঘন্টা ধরে। কথায় কথায় হয় সত্যনারায়নের সিন্নি আর মন্ত্রপুত: জল ছড়িয়ে সব পবিত্র করে দেয়ার চেষ্টা। সর্বসমস্যা আর সর্বরোগহর সেই জল। কিন্তু পুজোপাঠের কপিরাইট হয়তো আর বেশি দিন ভারতীয় হাতে থাকবে না। পশ্চিমি দুনিয়া যে ভাবে এগোচ্ছে, কোনদিন হয়তো শোনা যাবে পুজো পাঠের পেটেন্টও ওরা নিয়ে নিয়েছে। খুব অবাক হওয়ার কিছু নেই। সম্প্রতি অস্ট্রিয়ার এক ডেয়ারী স্কুল দাবী করেছে যে chanting করালে নাকি বেশী ভাল চীজ তৈরি করা যায়।এমনিতেই ইউরোপে বেশ চলছে 'Chant Music of Paradise' অ্যালবামটা। এক গ্রেগরিয়ার মঙ্কের গাওয়া এই অ্যালবাম প্রতিদিন নিয়ম করে চালানো হতো সেই ডেয়ারী ফার্মিং স্কুলে। ১৬০০ পাউন্ডে কেনা ডলবি সিস্টেমে এই চ্যান্টিং শুনে শুনেই নাকি তৈরী হয়েছে আড়াইটনের চীজ। আর তার ফল মিলেছে হাতে নাতে। আড়াইটনের ঐ Grottenhofer Auslese চীজের ভাগ্যে জুটেছে সেরা কোয়ালিটির পুরষ্কার। যবে থেকে নাকি ঐ মন্ত্রপাঠ শুরু হয়েছে তবে থেকেই নাকি চীজের কোয়ালিটি ভাল হয়ে গেছে স্কুলে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক Erich Kerngast¹ এর মতে, এই chanting নিশ্চয় মাইক্রো-অরগানিসম গুলোকেও আনন্দ দিয়েছে। তাই পরিবর্তন এসেছে এই কোয়ালিটিতে। আপাতত এই ভাবেই চীজ তৈরী চলবে ঐ স্কুলে। ভবিষ্যতে হয়তো আরো প্রাইজ জুটে যাবে ওদের ভাগ্যে। আমরা অপেক্ষায় আছি কবে পশ্চিমি দুনিয়া ব্রতকথা পড়াও শুরু করে দেবে, আরো ভাল প্রোডাকশনের জন্য।

জুন ২৯, ২০০৮