এই সপ্তাহের খবর্নয় (২২ জুন)


লিখছেন --- খবরোলা এন্ড কোং


আপনার মতামত         


জ্যামিতি, শস্য ও উড়ন্ত চাকি
-------------------------

শিরোনাম যতই আধুনিক কবিতাসম হোক না কেন, ইহা আদি ও অকৃত্রিম বৈজ্ঞানিক বিষয়। আ মরি ইনজিরিতে এরে কয় ক্রপ সার্কল্‌। শস্যক্ষেত্রে বিভিন্ন জ্যামিতিক প্যাটার্ন তৈরী করার এই প্রথা অনেকদিনের পুরোনো। খেতের কিছু শস্যকে আংশিকভাবে নুইয়ে এই প্যাটার্নগুলো বানানো হয়ে থাকে। একটা সময় অবধি সবাই জানতো, এই ছবিগুলো প্রাকৃতিকভাবেই তৈরী। অন্য একদল এদের ভিনগ্রহের মহাকাশযানের চিহ্ন বলে প্রচার করতে চাইতেন। সত্যি-মিথ্যেয় মেশানো এই ক্রপ সার্কলের ইতিহাস। ১৯৯০ সালের পর থেকে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে হঠাৎ করেই অজস্র ক্রপ সার্কল দেখা দিতে শুরু করে। যথারীতি দাবি করা হয় সেগুলো আপনা থেকেই তৈরী হয়েছে, অন্তত এতে মানুষের হাত নেই। পরে অবশ্য সেই মিথ ভেঙ্গে যায়, আজকাল ইন্টারনেটেই "সহজে ক্রপ সার্কল আঁকিবার উপায়' পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি আরো একটি ক্রপ সার্কলকে কেন্দ্র করে আবার তুমুল কাজিয়া শুরু হয়েছে। বা, বলা ভালো, বহু পুরোনো এই বিতর্কে জ্বালানী পড়েছে। চিরকাল এইসমস্ত প্যাটার্ন নিয়ে ব্রিটিশ আর মার্কিন মিডিয়ার (হয়ত বা উপর মহলেও) চুলোচুলি। ব্রিটিশরা দাবি করেন, এই প্যাটার্নগুলো অকৃত্রিম। উত্তরে মার্কিনরা জানতে চান, এলিয়েনদের দক্ষিণ ইংল্যান্ডের প্রতি এই পক্ষপাতের কোনো কারণ আছে কিনা। একই খবর আলাদা দেশে আলাদা বোতলে বিক্রি হয়।

এবারও অকুস্থল ইংল্যান্ড, তবে এবার বিতর্ক অন্য মাত্রা পেয়ে গেছে ক্রপ সার্কল প্যাটার্ন ডিকোড করার পরে। নর্থ ক্যারোলিনার জনৈক ইঞ্জিনীয়ার (ব্রিটিশ সংবাদপত্র অবশ্য এঁকে অবসরপ্রাপ্ত অস্ট্রোফিজিসিস্ট বলেছে) ঐ প্যাটার্ন দেখে জানিয়ে দেন, ঐ ছবি ডিকোড করলে পাওয়া যায় ""পাই"" এর প্রথম দশটি অঙ্ক (ডিজিট)। এহেন ক্রপ সার্কল যে রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে উঠবে তাতে সন্দেহের কারণ নেই, বৃত্তের পরিধি আর ব্যাসের অনুপাতের এমন চিত্ররূপ ( দশমিক বিন্দুটা পর্যন্ত রয়েছে ছবিতে) ক্রপ সার্কলের বিষয় হতে পারে সেটাও নির্ঘাৎ সবার অজানা ছিলো এতদিন।
ভিনগ্রহের জীবনে অবিশ্বাসীদের এইসব চক্রান্তের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ায় চল্লিশ বছর আগে পাওয়া উল্কাপিন্ড পরীক্ষা করে একদল বিজ্ঞানী বলেছেন, প্রাপ্ত রাসায়নিক পদার্থ পৃথিবীতে প্রাণসৃষ্টির কারণ হলেও হতে পারে। গবেষণা চলছে।

জিরো পার্সেন্ট এপিআর, আনলিমিটেড
----------------------------------

আবার ভুল ভাবছেন। এটা একেবারেই ব্যাংকিং সংক্রান্ত কোন গপ্প নয়। সত্যি বলতে কি, এর সাথে ফিনান্সের কোনো সম্পর্কই নাই। একজন ধার করেছিলেন আজ থেকে বহুদিন আগে। পরিমাণ ৪৫৩ পাউন্ড ৩ শিলিং। এতদিনে তাঁর বংশধর সেই ধার শোধ করলেন। তবে, এক পয়সাও সুদ না দিয়ে। জিরো পার্সেন্ট এপিআর ছাড়া একে কিই বা বলা যায়?

ধার করেছিলেন দ্বিতীয় চাল্‌র্স, রাজভক্ত সাংবাদিককুল যাকে বলছেন,"" রয়্যাল"" ঋণ। সময়টা ১৬৫১। যুদ্ধের প্রাক্কালে সৈনিকদের জন্য উর্দি বানিয়ে দিয়েছিলো এক পোষাক প্রস্তুতকারক সংস্থা, ধারে। সেই ধার আর শোধ করার সময় পান নি মহারাজ। যুদ্ধে হেরে পালিয়েছিলেন। আজ, এতদিন পরে, প্রিন্স চার্লস শোধ করলেন সেই ঋণ, অন্তত আংশিকভাবে। প্রসঙ্গত, সুদসমেত দিলে সেই ধারের পরিমাণ এখন দাঁড়ায় ৪৭০০০ পাউন্ড। কি বলবেন একে? রয়্যাল ক্রেডিট হিস্ট্রি?

লটারিতে কবর
--------------
টেক্সাসের Elaine Fulps লটারিতে ফার্স্ট প্রাইজ পেয়েছেন। পুরষ্কার, বিনামূল্যে শ্রাদ্ধশান্তি সম্পন্ন হবে মারা গেলে, যার নগদ মূল্য আনুমানিক ১০০০০ ডলার। একটি ফিউনারাল সংস্থা বাস্কেটবল ম্যাচের শেষে এই লটারি আয়োজন করে। Elaine দীর্ঘদিন ধরেই ভুগছেন বিভিন্ন অসুখে। অন্তত কুড়িবার অপারেশান হয়েছে তাঁর। তবুও ভদ্রমহিলা লটারি জিতে উচ্ছ্বসিত। বলেছেন, এইরকম কোনো ভালো খবরের জন্যই এতদিন ঈশ্বর ওঁকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। একটু সুস্থ হয়েই সমাধির জন্য ছায়াযুক্ত এক টুকরো জমি বেছে দেবেন নিয়ামক সংস্থাকে।

ইয়ে, ইয়েতি দেখেছেন?
-----------------------

না দেখে থাকলে অন্তত ইয়েতির টিকির গল্প শুনুন। অনেকেই আজ অবধি ইয়েতি দেখেছেন, জনশ্রুতি। আরো অনেকে পূর্ণাঙ্গ ইয়েতি দেখেননি, কিন্তু মাথার চুল, গায়ের লোম, পায়ের নখ, কিংবা নিদেনপক্ষে শ্রীচরণের ছাপ দেখে-এঁকে এনেছেন। যেমন ধরা যাক, পোলিয়ানা'র কথা। এই ব্রিটিশ শিল্পীর দাবি,এক প্রাচীন গুম্ফায় তিনি ইয়েতির স্ক্যাল্প দেখেছেন, যা অন্তত একশো বছরের পুরোনো। গুম্ফা সংলগ্ন অঞ্চলের অধিবাসীরা নাকি ""আখোঁ দেখা হাল"" বলেছে পোলিয়ানাকে, আর নিখুঁত সেই বর্ণনা কাজে লাগিয়ে তিনি এঁকে এনেছেন ইয়েতির ছবি। ৯ই জুলাই সেইসব ছবির প্রদর্শনী হবে ইংল্যান্ডে।

জুন ২২, ২০০৮