খবর্নয় (মার্চ ২৩)


লিখছেন --- শমীক মুখোপাধ্যায়


আপনার মতামত         


বাচ্চা চুরি রুখতে
----------------
মারুতি গাড়িতে আছে, আপনার বাড়ির সদর দরজায় আছে, ব্যাঙ্কের লকারে আছে, কিন্তু কখনও ভেবেছেন সদ্যোজাত শিশু চুরি রুখতেও অ্যান্টি থেফট ডিভাইসের ব্যবহার করা যায়? নরওয়ের অসলোর এক হসপিটাল কিন্তু ভেবেছে এই রকম, এবং হসপিটাল বোর্ড যদি সম্মতি দেয় তা হলে এই নতুন "কম-খরচের' যন্ত্র বসানো যাবে প্রতিটি নবজাতকের ক্ষেত্রে, রুখে দেওয়া যাবে শিশু চুরির যে কোনও ঘটনা।

যন্ত্র অতি সহজ এবং সোজা। দুটি চিপ আছে, একটি লাগানো থাকে বাচ্চার পায়ের গোড়ালিতে লাগানো একটি ব্রেসলেটের মধ্যে, অপরটি লাগানো থাকে সদ্য প্রসূতি মায়ের শরীরে লাগানো একটি ব্রেসলেটে। যদি দুটি চিপের মধ্যে দূরত্ব একটা নির্দিষ্ট পরিমাণের থেকে বেড়ে যায়, মানে মা আর শিশুকে "বিছড়ে' দেবার চেষ্টা যদি কোনওভাবে করা হয়, তা হলেই অ্যালার্ম বেজে উঠবে। কেউ যদি বাচ্চাটাকে তুলে নিয়ে যাবার চেষ্টা করে কিংবা বাচ্চার পা থেকে ব্রেসলেট খুলে নেবার চেষ্টা করে, আপনাআপনি নার্সারির দরজা লক্‌ হয়ে যাবে এবং হাসপাতালের এলিভেটর সিস্টেম সম্পূর্ণভাবে থেমে যাবে। মানে, কোনও অবস্থাতেই বাচ্চাকে সরানো সম্ভব হবে না হাসপাতাল অথরিটির অজ্ঞাতে।

জীবন যখন শুকায়ে যায়
---------------------

যব দিল হি টুট গয়া, হম্‌ জী কে ক্যা করে। প্রেমিকা কিংবা বউ যখন ছেড়ে চলে যায়, ত্যক্ত পুরুষের জীবনে বেশ একটা ট্র্যাজিক আঁধার নেমে আসে, কেউ দেবদাস হয়ে যায়, কেউ জগজিৎ সিং শোনে, কেউ পানপাত্র হাতে নিয়ে কুন্দনলালের এই রকম গান গায় টায়, আর ঘনঘন দীর্ঘশ্বাস সহ ভাবে, এ জীবন রেখে আর কী লাভ!

অস্ট্রেলিয়াতে মাইগ্রেটিত এক ব্রিটিশের বিয়ে ভেঙে যাবার পরে তিনি জীবনের প্রতি অত্যন্ত বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ে নিজের পুরো জীবন এবং সমস্ত বিলংগিংস নিলামে চড়িয়ে দিয়েছেন, eBay সাইটের মাধ্যমে। অকশনে আছে তাঁর তিন বেডরুম ফ্ল্যাট, গাড়ি, এমনকি তাঁর চাকরিও। যদিও বিড জিতলে কেউ তাঁর চাকরিটাই তাঁর ডেজিগনেশনটাই পাবেন, এমন কথা তাঁর এমপ্লয়ার দেন নি এখনও। তবে বিজয়ী দু সপ্তাহের জন্য পার্থের সেই কম্বলের দোকানে, যেখানে এই সদ্য ডিভোর্সী ইয়ান আশার কাজ করেন, সেখানে টেম্পোরারি বেসিসে কাজ করতে সুযোগ পাবেন, বসকে সন্তুষ্ট করতে পারলে তিনি পারমানেন্ট হয়ে যেতে পারেন। তো, সে সব পরের কথা, ইয়ানবাবু আপাতত অকশন লিস্টে আরও চড়িয়েছেন তাঁর কাওয়াসাকি মোটরসাইকেল, জেট স্কি, সার্ফ বোর্ড, স্কাই ডাইভিং কিট, স্পা এবং ছ'-ফিটের টেলিভিশন সেট।

এখানেই শেষ নয়, বিড জিনি জিতবেন, তিনি এমনকি ইয়ানবাবুর বন্ধুদের সাথেও বন্ধুত্ব করতে পারবেন, কারণ তিনি তাঁর যাবতীয় বন্ধুত্বকেও নিলামে চড়িয়েছেন। পত্নীবিচ্ছেদে অপরিসীম শোকাহত ইয়ানবাবুর আশা, এক ডলার থেকে শুরু হওয়া এই নিলাম, যা আগামী এক সপ্তাহে শেষ হবে, তাঁকে এনে দেবে অন্তত দু লক্ষ তিরিশ হাজার পাউন্ড, যা নিয়ে তিনি অস্ট্রেলিয়া থেকে পাততাড়ি গুটোতে পারবেন।
দেখেছেন কখনও এমন শোক?

ফুটবলে নতুন প্রডিজি
--------------------------
\
ইংলন্ডের লিভারপুলের এক নামকরা প্রিমিয়ার লিগ সকার ক্লাব সাত বছরের হ্যারি ইয়েট্‌সকে রিক্রুট করেছে তাদের টিমে। গোলকীপার হিসেবে। হ্যারির অতি অল্প বয়েস থেকেই ফুটবল খেলার শখ, জানিয়েছেন হ্যারির বাবা ফিল ইয়েট্‌স, হাঁটতে শেখার দিন থেকেই নাকি সে ফুটবলে লাথি মেরে চলেছে, এবং ফুটবল ছাড়া তার জীবনে আর কোনও প্যাশন নেই। আরও অল্প বয়েসে, প্রাইমারি স্কুলের জুনিয়র টিম "ভাইপার'-এর হয়ে খেলার সময়েই হ্যারি ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড দ্বারা স্পনসরিত হয়েছিল।
ফুটবল জগৎ কি একজন প্রডিজি পেতে চলেছে?

প্রেমের খেলা
-------------

হানি, উইল ইউ ম্যারি মী?
এমন নিষ্পাপ জিজ্ঞাসা পছন্দের মেয়েটিকে করে উঠতেই কালঘাম ছুটে যায় তাবড় তাবড় স্মার্ট ছেলেদের। কীভাবে বলব, হাতে কোনও গিফট থাকবে কিনা, নিজে বলব না বন্ধুকে দিয়ে বলাব, এমনতরো হাজারো সমস্যার সমাধান খুঁজতে থাকে আয়নার সামনে, কিন্তু লংডংয়ের এক ফিটার মিস্ত্রি হাজি এহেন কঠিন কাজটি করতে গিয়ে যে ভাবে মুরগি হয়েছেন, প্রেমের ইতিহাসে তার তুলনা মেলা ভার।

হাজি করেছিলেন কি, বান্ধবীকে প্রোপোজ করবেন বলে তার জন্যে একখানা আংটি কিনেছিলেন। বেশি না, এই হাজার বারো ডলার দাম। কিনে সেটিকে একটি গ্যাস বেলুনের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন, ভেবেছিলেন বেলুনটিকে বুকে জড়িয়ে বুকের কম্পন লুকিয়ে বান্ধবীকে প্রশ্নটা করবেন, বান্ধবী বাই চান্স রেগে গেলেও পিন ফুটিয়ে বেলুনটাকে ফাঁসিয়ে দেবেন, আর ফাঁসালেই বেরিয়ে পড়বে সেই আংটি, ফাঁসাতে গিয়ে বান্ধবী নিজেই ফেঁসে যাবেন প্রেমের জালে। ফার্স্ট টাইম লাভাররা যেমন বোকা বোকা ভাবে আর কি।

কিন্তু হাজির কপাল মন্দ, এত কেরামরি করে তিনি সবে আংটি কিনে বেলুনের মধ্যে পুরে দোকান থেকে বেরিয়েছেন, অমনি ফুস্‌স্‌। হাত থেকে স্লিপ করে গেছে বেলুনের সুতো। চোখের সামনে বারো হাজার ডলারের আংটি টা-টা করতে করতে শূন্যে আরোহণ করতে লাগল। হাজির হাতে হ্যারিকেন। পাগলের মত গাড়ি নিয়ে ধাওয়া করেছেন বেলুনের পিছু পিছু, যতক্ষণ বেলুনটি দৃষ্টিগোচর থাকে। কিন্তু বেলুনের গ্যাস বেশ শক্তিশালী ছিল, অমন দামি আংটি পেটে পুরেও সেটি আস্তে আস্তে চোখের আড়ালে হারিয়ে যায়।
হাজির সামনে আর কোনও রাস্তা খোলা ছিল না, বান্ধবীকে দুর্ঘটনার সমস্ত বৃত্তান্ত খুলে বলা ছাড়া। বান্ধবী সেই শোকে হাজির সাথে বাক্যালাপও বন্ধ করে দিয়েছেন, বলেছেন ঠিক অমনি আরেকটা আংটি না এনে দিলে তিনি আর হাজির মুখদর্শন করবেন না।
হাজি এখন আশায় আছেন, কেউ যদি আংটিটা খুঁজে পেয়ে তাঁকে ফেরৎ দেন। আরেকটি ঐ রকম আংটি কেনার ক্ষমতা আর তাঁর নেই।

এটিএমে পয়সা ডবল
------------------

আবার ইংলন্ডের ঘটনা। Hull বলে একটা জায়গার এক এটিএমে সকাল থেকে বেজায় ভিড়। বিশাল লম্বা লাইন। কী ব্যাপার? এটিএমটি নাকি যা টাকা চাওয়া হচ্ছে, তার ডাবল টাকা বের করছে। এক ব্যক্তি, জিনি লাইনে ছিলেন, নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, তিনি দুশো পাউন্ড উইথড্র করলেন, মেশিন থেকে বেরোল চারশো পাউন্ড, কড়কড়ে। অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট কিন্তু দেখাচ্ছে দিব্যি দুশো পাউন্ডই তোলা হয়েছে।

ভিড় শেষ হয় রাত আটটায়, যখন এটিএমে টাকা শেষ হয়ে যায়। ব্যাঙ্কের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাঁরা ব্যাপারটি খতিয়ে দেখছেন।

মার্চ ২৩, ২০০৮