খবর্নয় (মার্চ ১৬)


লিখছেন --- শমীক মুখোপাধ্যায়


আপনার মতামত         


অন্ধ বিশ্বাস
---------
কেরালার কোট্টায়ামের এক মেরীভক্ত হোটেলিয়ার দাবি করেছিলেন সুর্যের দিকে তাকালেই মা মেরীর অলৌকিক ছবি দেখতে পাওয়া যাবে। তা, এমন অলৌকিক ব্যাপার স্যাপারে বিশ্বাস করার জনতার কখনও অভাব ঘটে না, বিশেষত ভারতে। অতএব মা মেরীর অলৌকিক দর্শন পাবার আকাঙ্ক্ষায় দলে দলে লোক পূর্ণদৃষ্টিতে সূর্যের দিকে তাকিয়ে বসে থাকে। ফল, অন্তত পঞ্চাশজন লোক পাকাপাকিভাবে অন্ধ হয়ে গেছেন। কোট্টায়ামের এক জেলা হাসপাতালে ৪৮ জন ভর্তি হয়েছেন জ্বলে যাওয়া রেটিনা নিয়ে।
সেই বিশ্বাসী হোটেলিয়ার আরও দাবি করেছিলেন তাঁর কাছে এক মেরীর মূর্তি আছে যা কাঁদলে চোখ দিয়ে মধুগড়ায়, কেটে গেলে রক্তের বদলে তেল আর সুগন্ধী বেরোয়।
সেই কোথায় যেন কোন ধর্মের এক দেবতা শুনেছিলাম শুঁড়ের সামনে চামচে করে দুধ ধরলে চেটেপুটে দুধ খেয়ে নেন। সব ধর্মের অন্ধবিশ্বাসেই কী মিল!

প্রেমের ছুটি
------------
শহীদ কাদরী প্রিয়তমাকে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন যে একদিন সেনাবাহিনী বন্দুক নয়, শুধু গোলাপের তোড়া হাতে কুচকাওয়াজ করবে তার সামনে। ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রচালকরা অতদূর না গেলেও তাঁরা পার্লামেন্টের অধিবেশনে বসে ভালোবাসা-প্রেম নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং, অবিলম্বে তাঁরা এক আইন পাশ করতে চলেছেন যাতে এলিজিবল ফিনিশ প্রাপ্তবয়স্ক জনতা ভালোবাসার জন্য তাঁদের অফিস ইত্যাদি থেকে ছুটি পেতে পারেন।
"ইহা কোনও সেক্স লিভ নহে, কিন্তু ইহার ব্যাপ্তি আরও বিস্তৃত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য', জনৈক পার্লামেন্ট মুখপাত্র জানিয়েছেন। এই ছুটির নাম লাভ লিভ। এক সপ্তাহ পর্যন্ত এই ছুটি নেওয়া যেতে পারে, ভালোবাসার জনকে কোয়ালিটি সময় দেবার জন্য।

গোপন ক্যামেরা
--------------
অ্যার নাম সিকিওরিটি। সিকিওরিটির ঠেলায় মানুষকে ভার্চুয়ালি নাঙ্গা করে সার্চ। জামাকাপড় না খুলেই। এমন এক ক্যামেরা বার করেছেন ব্রিটেনের এক কোংপানি, যাহা কাপড়ের নিচে লুক্কায়িত অস্ত্রশস্ত্র, বিস্ফোরক এমনকি ড্রাগ পর্যন্ত খুঁজে বের করে দেখিয়ে দেয়। তাও কম সে কম ২৫ মিটার দূর থেকে।
ক্যামেরার নাম T5000 , কোম্পানির নাম ThruVision , টেরাহার্ৎজের কম্পাঙ্কের সাহায্যে মানুষজনের এমন প্যাসিভ ইমেজ তৈরি করে দিচ্ছে, যাতে আর জামাকাপড়ের নিচে কিছুই লুকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। কেবল এই রশ্মি নাকি মানুষের ফিজিক্যাল শরীরের কোনও ছবি তোলে না এবং ক্ষতিও করে না। চলন্ত মানুষেরও ছবি তুলে দিতে পারে।
এই ক্যামেরা তৈরি করতে সাহায্য করেছে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি, যারা এই টেরাহার্ৎজের রশ্মির সাহায্যে মৃত নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ ও সেই সম্বন্ধীয় গবেষণা করে থাকে।


জকির কান্ড
------------
বিলেতের রেডিও টিসডেলের এক ডিজে রেডিওতে এক অনুরোধের আসর পরিচালনা করছিলেন, কিন্তু তিনি নিজে ছাড়া আর কেউ সেই অনুষ্ঠান শুনতে পান নি। কারণ অনুষ্ঠান শুরুর সময়ে তিনি "লাইভ' বাটনটাই প্রেস করতে ভুলে গিয়েছিলেন, যার মাধ্যমে প্রোগ্রামটা লাইভ সকলকে শোনানো হয়। ফলে অনুষ্ঠানের সমস্ত শ্রোতা অনুষ্ঠানের গানবাজনার বদলে টানা এক ঘন্টা ধরে ফিলার মিউজিক শুনে যায়, যা সাধারণত দুটি অনুষ্ঠানের মাঝের নীরবতাকে ঢাকতে বাজানো হয়ে থাকে।
সেই ফিলার মিউজিক শুনেছিলেন রেডিওর স্টেশন ম্যানেজারও। তড়িঘড়ি তিনি ফোন লাগান সেই ডিজেকে, কিন্তু ডিজে তখন অনুষ্ঠান পরিচালনায় তুমুল ব্যস্ত, ফোনের বাজনাও তিনি প্রথমে শুনতে পান নি। অবশেষে যোগাযোগ স্থাপিত হয়, লাইভ বাটন প্রেস করা হয় এবং শ্রোতারা অনুষ্ঠানের বাকি অংশ শুনতে পান।
আসলে পুলিশ, শখের ডিজে সেই ভদ্রলোক তুমুল জিভ টিভ কেটে জানিয়েছেন এটা নিছক ভুলই। বহুকাল ধরে তিনি রেডিওতে ডিজের পার্টটাইম কাজ করে আসছেন, কখনও এই রকম ভুল হয় নি। আশা রাখেন, ভবিষ্যতেও আর এই রকম ভুল করবেন না।

মার্চ ১৬, ২০০৮