খবর্নয় (জানুয়ারী ২৭)


লিখছেন --- দ্বৈপায়ন বসু


আপনার মতামত         


তা সে যতই কালো হোক
-----------------------
যতই কালো রঙে বাঙালী পাত্রদের আপত্তি থাক, জগৎ জুড়ে কিন্তু কালো রঙ নিয়ে চিন্তা ভাবনার শেষ নেই। কবিরা কালো রঙে হরিণের চোখ দেখেন, আবার বিজ্ঞানীরা কালো রঙে ব্ল্যাক হোল খোঁজেন। তো সেই কৃষ্ণ জগতে, কিছুদিন আগেই ঘটে গেছে এক নতুন ঘটনা। নিউ ইয়র্কের Rensselaer Polytechnic Institute এর দুজন গবেষক বানিয়ে ফেলেছেন পৃথিবীর সবচেয়ে কালো বস্তু। গবেষকদের দাবী তাঁদের বানানো এই বস্তুটি ৯৯.৯% আলো শোষণ করে নেয়। বহুদিন ধরেই বিজ্ঞানীরা চেষ্টা চালাচ্ছেন সম্পুর্ণ কালো কোনো বস্তু তৈরি করতে। সম্পুর্ণ কালো বলতে বোঝায় এমন এক বস্তু যা ১০০% আলোই শোষণ করে নেবে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী অজয়ন এবং শন-ইউ লিনের তৈরী কালো বস্তুটি কিন্তু সেই লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছে।

অজয়ন জানান যে তাঁদের তৈরি বস্তুটির উচ্চ আলো শোষণ ক্ষমতার পেছনে আছে ৩টি কারণ। কার্বনের যে ন্যানো টিউব দিয়ে বস্তুটি তৈরি হয়েছে সেই টিউবগুলো নিজেরাই শোষণ করে নেয় অনেকটা আলো। এইরকম অনেকগুলো টিউবকে জুড়ে নেওয়া হয়েছে একসাথে। এই জোড়ার কাজটা হয়েছে এমন এক বিশেষ ভাবে যাতে এদের ফাঁকে ফাঁকে আটকে যায় আরো কিছুটা আলো। সবশেষে তাঁরা টিউবের সারফেসের মসৃণতা কমিয়ে দিয়েছেন, যাতে আলোক প্রতিফলন ক্ষমতা কমে যায় প্রচন্ডভাবে। এর ফলে বস্তুটি শোষণ করতে পেরেছে ৯৯.৯% আলো। বস্তুটির কৃষ্ণ কালোত্ব U.S. National Institute of Standards and Technology তে রাখা কালোবস্তুর benchmark থেকে ৩০ গুণ বেশী। বস্তুটির reflective index মোটামুটি ০.০৪৫%, যেখানে আমরা যে কালো পেইন্ট দেখি চারদিকে, সেগুলোর reflective index হয় ৫ থেকে ১০% মতন। এমনকি নিকেল ফসফরাসের অ্যালয়, যাকে এতদিন darkest matter বলা হতো, তার ও reflective index এই বস্তুটির থেকে ৩ গুণ বেশী।

অজয়ন চাইছেন সৌর শক্তি ধরে রাখার গবেষণাতে তাঁর এই কৃষ্ণ বস্তুটিকে ব্যবহার করতে। এছাড়া infrared detection এর ক্ষেত্রেও প্রচন্ড কাজে লাগবে বস্তুটি। আপাতত পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে visible lights পেরিয়ে ultra violet light এর ওপর। সেসবের মাঝেই গিনেস বুকে নাম উঠতে চলেছে এই গবেষকদ্বয়ের।

হায় ডলার !
------------
আমেরিকার অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সারা বিশ্বের মানুষের ভুরু কুঁচকে আছে। অর্থনীতিবিদরা ভেবে চলেছেন কিভাবে সামাল দেওয়া যায় ডলারের দাম। তবে এই সমস্যার, এখনো অবধি সবচেয়ে সহজ সমাধান মনে হয় এসেছে India Tourism Department থেকে। তাজমহল থেকে শুরু করে দেশের ১২০ টি ঐতিহাসিক স্থানে ডলার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে Tourism Department । এই সমস্ত জায়গায় এতদিন ভারতীয় টাকার পাশাপাশি ডলার ও নেওয়া হতো entry fee হিসেবে। বিদেশী পর্যটকেরা সরাসরি ডলারের বিনিময়ে কাটতে পারতেন টিকিট। কিন্তু ডলারের দাম ক্রমশ কমতে থাকায় শেষ অবধি পর্যটন মন্ত্রী অম্বিকা সোনি এই সিদ্ধান্ত নেন। এখন থেকে তাজমহলে ঢুকতে গেলে বিদেশী পর্যটকদের দিতে হবে ৫০০ ভারতীয় টাকা। তবে এর সাথে তাঁরা একটি জলের বোতল পাবেন, ফ্রীতে। অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থানগুলোতেও একই ভাবে ভারতীয় টাকায় কাটতে হবে টিকিট।

প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য যে ২০০৭ এ ডলারের দাম প্রায় ১১ শতাংশ কমে যায় এবং ভারতীয় টাকার হিসেবে ৩৯ টাকায় নেমে যায় ডলার। ফলে অনেক টা ক্ষতি হতে থাকে Tourism Department এর। তাই ২০০৮ এর শুরুতেই নিজেদের নিয়ম কানুন পাল্টে নিয়েছে tourism department । দূরে ঠেলে দিয়েছে আমেরিকান ডলারকে।


অপার্থিব
-------------

হঠাৎ করেই দেখা যাচ্ছে অপার্থিব ব্যপারস্যপার আসতে শুরু করেছে খবরের শিরোনামে। মঙ্গলগ্রহে দেখা গেছে কোনো ভিন-গ্রহবাসিনীকে। এদিকে কোনো বৃদ্ধ নক্ষত্র আবার যৌবন ফিরে পেয়েছে। কিন্তু এর ফাঁকে সবচেয়ে বড় চমকটা দিয়েছেন জাপানের চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি Nobutaka Machimura । সম্প্রতি এক প্রেসকনফারেন্সে তিনি ঘোষণা করেছেন যে UFO জিনিসটা সত্যি আছে এবং UFO র ভয়ে তিনি শংকিত।

শুধু UFO র ব্যপারে ভয় পাওয়াই নয়, ভবিষ্যতে UFO র আক্রমণের কথা ভেবে দেশের প্রতিরক্ষায় কিছু পরিবর্তন আনারও চেষ্টা করেন ইনি। কিন্তু বিরোধীপক্ষ থেকে আসে প্রবল প্রতিবাদ। বিরোধীপক্ষ থেকে Ryuji Yamane জবাব দেন যে এখনো অবধি UFO র ব্যপারে কোনো বিশদ বিবরণ পাওয়া যায় নি। সরকারপক্ষ থেকেও শেষ অবধি তা মেনে নেওয়া হয়। কিন্তু এই ব্যপারটাতে মোটেই খুশি নন ক্যাবিনেট চিফ। সাংবাদিক সন্মেলনে তিনি সব ঘটনা জানানোর সাথে সাথে alien attack নিয়ে আশঙ্কাও প্রকাশ করেন। তবে তাঁর আশঙ্কায় হাসি তে ফেটে পড়ে উপস্থিত সাংবাদিকরা। আর শুধু alien নয়, গডজিলা জাতীয় প্রাণীদের দ্বারাও যে জাপান আক্রান্ত হতে পারে, এমন সম্ভাবনার কথাও জানান Machimura । তবে প্রধানমন্ত্রী Yasuo Fukuda পরে সাংবাদিকদের জানান যে আপাতত UFO নিয়ে কোনো ভাবনা চিন্তা করছে না জাপান সরকার।

জানুয়ারী ২৭, ২০০৮