খবর্নয় (অক্টোবর ১৪)


লিখছেন --- দ্বৈপায়ন বসু


আপনার মতামত         


প্রশাসনিক ব্যাকরণ
----------------------------------
আমাদের দৈনন্দিন জীবন যাত্রার সব কিছুতে প্রশাসনের নাক গলানো নিয়ে আমরা যারপরনাই বিরক্ত। আপিসের চাকরি থেকে শুরু করে ছেলের বিয়ে, সবেতেই আজকাল নাক গলায় পুলিশ, প্রশাসন আর পি ডব্লু ডি। কিন্তু ভাবুন তো, এর পর আপনার প্রতি দিনকার কথাবার্তার ওপর ও যদি প্রশাসন লাইন টানা শুরু করে, তখন জিনিস টা কেমন হবে? প্রায় এমন টাই হয়েছে ব্রাজিলে। ব্রাজিলের ফেডারেল ডিসট্রিক্ট গভর্নর, হোসে রবার্তো আরুদা একটি নতুন নিষেধাজ্ঞা জারী করেছেন ভার্বের Present Participle এর ওপর। গভর্নরের নিজের ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে যে, এখন থেকে কথাবার্তা, বিশেষত সরকারী লেখালেখির কাজে, present participle ব্যবহার করা যাবে না, কারণ সরকারী আমলারা নাকি ক্রিয়াপদের এই বিশেষ রূপ টা কে ব্যবহার করেন নিজেদের অকর্মন্যতা কে ঢেকে রাখার অজুহাত হিসেবে।
পর্তুগীজ ভাষায়, ক্রিয়াপদের এই রূপ টিকে ব্যবহার করা হয় শব্দের শেষে 'ndo' জুড়ে, যা ইংরাজীর ing ব্যবহারের মতন। গভর্নরের মতে, এই বিশেষ ক্রিয়াপদের ব্যবহার করে সরকারী কর্মচারী বা আমলারা সারাক্ষণ মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেন সাধারন মানুষকে। "We will be taking steps' , এই লিখেই তাদের কাজ শেষ হয়ে যায়, দরকারী step আর কোনো দিন নেয়া হয় না। তাই এখন থেকে এই ধরনের কথাবার্তা বলা বা লেখা কে সরকারী ভাবে বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে।

তবে ডিক্রি নাম্বার ২৮.৩১৪ দিয়ে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি আটকবার এই প্রচেষ্টা কে অনেকেই ভাল চোখে দেখছেন না। University of Massachusetts এর পর্তুগীজ বিভাগের প্রধান ড্যারিও বোরিম প্রচন্ড বিরক্ত এই ব্যপারে। তাঁর মতে রাজনীতিবিদ রা নিজেদের কাজের সীমা লঙ্ঘন করছেন। যে ধরনের সিদ্ধান্ত শুধু মাত্র লিঙ্গুইস্টিকরা নিতে পারেন, আজকাল রাজনীতিবিদ রা সেই ধরনের সিদ্ধান্তে নাক গলানো শুরু করেছেন। তবে, এই ধরনের ঘটনায় ব্রাজিল অভ্যস্ত হয়ে গেছে অনেক দিন আগে থেকেই। প্রায় বছর সাতেক আগেও সরকার, সাধারন মানুষের কথ্য ভাষার ওপর এমন এক নিষেধাজ্ঞা জারী করেছিল। বিদেশী প্রভাব থেকে পর্তুগীজ ভাষা কে রক্ষা করার অজুহাতে, সেবারে নিষেধাজ্ঞা জারী হয়েছিল Show এবং kitchenette কথা দুটোর ওপর। এবারেই প্রথম সরাসরি হাত পরলো ব্যাকরণে।
অপেক্ষায় আছি, কবে আমাদের দেশের সরকার বাংলা বানান বিধি তে কিছু পরিবর্তন আনবে।

মহাকাশে রমজান
--------------------------------------
ইসলাম ধর্মাবলম্বী ব্যক্তিগণ, যাঁরা মহাকাশে যেতে ইচ্ছুক, অথচ ধর্ম পালনে সমস্যা হতে পারে ভেবে মহাকাশে যেতে চাইছেন না, তাঁদের জন্য সুখবর। গত সপ্তাহে মালয়েশিয়া সরকার মহাকাশচারী মুসলিম দের জন্য একটি নতুন গাইড বুক প্রকাশ করেছেন। Guidelines for Performing Islamic Rites at the International Space Station নামক বইটি তে লেখা আছে নমাজের বিধি, প্রার্থনার সময় মক্কার দিক নির্ণয় পদ্ধতি, প্রার্থনার সময় নির্ধারণ, এবং কি ভাবে মহাকাশে থেকে রোজা পালন করা যায়, তার পদ্ধতি।
আসলে এই সপ্তাহে মালয়েশিয়া থেকে মহাকাশে যাচ্ছেন, প্রথম মুসলিম মহাকাশচারী শেখ মুজাফর সুকর। কুয়ালালামপুরের এই চিকিৎসক পৃথিবী ছাড়ছেন কাজকাস্তানের বাইকানুর থেকে। তার কথা মাথায় রেখেই এই বই প্রকাশের সিদ্ধান্ত মালয়েশিয়া সরকারের। মালয়েশিয়ার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী আবদুলাহ মহম্মদ জিন জানালেন যে এই ধরনের অনুরোধ তাঁদের কাছে আগেও এসেছিল।

এর আগে ইসলাম ধর্মাবলম্বী হিসেবে প্রথম মহাকাশে যান (মহাকাশ চারী হিসেবে নয়), সৌদি প্রিন্স সুলতান বিন সলমন। উনি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে লিখেছিলেন যে, প্রার্থনা আর উপবাসে সমস্যা হয় না খুব একটা, কিন্তু সমস্যা হয় মক্কার দিক নির্ণয়ে। আর সমস্যা হয় সম্পুর্ণ হাঁটু মুড়ে মাটি তে বসতে। তখন থেকেই ভাবনা চিন্তা চলেছিল যে কি ভাবে মহাকাশবাসী দের জন্য আচরণ বিধির পরিবর্তন করা যায়। তার ই ফল স্বরুপ এই নতুন গাইড বুকের প্রকাশ। আপাতত ইংরাজী, রাশিয়ান এবং আরবী ভাষায় পাওয়া যাবে এই বই। ভবিষ্যতে অন্যান্য অনেক ভাষাতেই প্রকাশ করা হবে বইটি।

রমজানের মতন পবিত্র মাসে মহাকাশে থেকেও, নিজের ধর্ম পালনের এই সুজোগে খুব খুশী শেখ মুজাফর সুকর। তবে মহাকাশে উপবাসের ব্যপারে বিশেষজ্ঞরা কিঞ্চিত বিব্রত।

টয়লেট ম্যান
----------------
চলন্ত গাড়ি তে জন্ম, বা টয়লেটে প্রসব এই ধরনের ঘটনার কথা তো আমরা খবরের কাগজে প্রায়শই দেখে থাকি। এগুলো কে আমরা সাধারনত অ্যাক্সিডেন্ট বলেই ধরে নিই। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার মানুষদের কাছে টয়লেটে জন্মানো এক মহা ভাগ্যের ব্যপার। টয়লেটে জন্মানো শিশুরা নাকি অনেক বেশী দিন বাঁচে, এই ধরনের বিশ্বাস নিয়েই একদিন সিম য ডাকের মা প্রসব স্থান হিসেবে বেছেছিলেন টয়লেট কে। সেখানেই জন্ম সিমের। ৭৪ বছরের এই বৃদ্ধ এখন মরতেও চান কোনো এক টয়লেটে। আর সেই কারনে ১.৬ মিলিয়ান ডলার খরচ করে বানিয়েছেন বিশাল টয়লেট হাউস। সিওলের কাছে এই বিলাসবহুল টয়লেটবাড়ি তে গৃহপ্রবেশের দিন ধার্য্য হয়েছে আগামী ১১ ই নভেম্বর। ৪১৯ বর্গমিটারের এই বাড়িতে আছে দুটো শোয়ার ঘর, অতিথিশালা, এবং বিলাসবহুল তিনটি টয়লেট। নভেম্বরের ১০ তারিখ অব্দি ভাড়াতেও পাওয়া যাবে এই বাড়ি। দৈনিক ৫০,০০০ ডলার ভাড়া দিয়ে যে কোনো ব্যক্তি এক রাত কাটিয়ে আসতে পারেন এখানে। এই টাকা যাবে, পিছিয়ে পড়া দেশ গুলো স্যানিটারি ব্যবস্থার উন্নতি কল্পে।

টয়লেট বানানো নিয়ে মি. সিম ভাবনা চিন্তা শুরু করেন সুয়েওনের মেয়র থাকার সময়। স্বাস্থ্য সম্মত পরিষ্কার টয়লেট বানানোর জন্য ক্যাম্পেন চালু ১৯৯৫ তে। সারা শহররে প্রতিটি পাবলিক টয়লেটকে সাজিয়ে দেন ফুলের বাগান, আর সুন্দর ছবি দিয়ে। ১৯৯৯ তে ওনার আগ্রহে তৈরি হয় কোরিয়া টয়লেট অ্যাসোসিয়েশান। তখন থেকে ওনার ডাক নাম হয়ে যায় 'মেয়র টয়লেট'। মেয়র পদ থেকে সরে আসার পর বিশ্ব জোড়া পরিচ্ছন্ন এবং স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেটের ক্যাম্পেন করার দিকে নজর দেন সিম। তৈরি করেন বিশ্ব টয়লেট অ্যাসোশিয়েসান। সাহায্য আসে মঙ্গোলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, টার্কি আর ব্রাজিল থেকে। আপাতত ওনার নতুন বাড়িতেই বসবে বিশ্ব টয়লেট অ্যাসোসিয়েশানের পরবর্তী সভা। এর পরেই উনি হাত দেবেন IT based toilet system বানানো তে। যেখানে ব্যবস্থা থাকবে স্বাস্থ্য পরীক্ষার এবং ইন্টারনেট সার্ফিং এর। প্রসঙ্গত উল্লেখ যোগ্য যে এখনো বিশ্বের ২.৬ বিলিয়ান মানুষ বাস করেন কোনো স্যানিটেশানের ব্যবস্থা ছাড়াই। প্রতি বছর অন্তত ২ মিলিয়ান মানুষের মৃত্যু ঘটে অপরিচ্ছন্ন টয়লেট থেকে মহামারী ছরিয়ে। সিমের এই প্রয়াস এবং বিশ্ব ব্যপী ক্যাম্পেন সত্যি প্রশংসনীয়।

অক্টোবর ১৪, ২০০৭