খবর্নয় (সেপ্টেম্বর ২৩)


লিখছেন -- দ্বৈপায়ন বসু


আপনার মতামত         


গিনেস বাবা পার করেগা
----------------------

গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম তোলাতে চান, অথচ ভেবে পাচ্ছেন না যে এই হাজার হাজার রেকর্ডের মধ্যে কোন্‌টা আপনি ভাঙবেন? কোন্‌টাকে ভেঙে চুরে নতুন ইতিহাস গড়বেন আপনি? নিজের ক্ষমতার ওপর নিজেই সন্দিহান আপনি? আত্মবিশ্বাসের অভাব?

আর কোনো চিন্তা নেই, এই সব সমস্যার সমাধান এখন হাতের মুঠোয়। খালি একবার 'দিল্লী চলো' ডাক দিয়ে, দিল্লীর দিকে হাঁটা শুরু করুন। ওখানেই পেয়ে যাবেন এক নতুন কনসালটেন্সি "Guiness Record breakers club of India' । ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রেসিডেন্ট হলেন গিনেস ঋষি ওরফে হর প্রকাশ ঋষি। বেশ কিছু রেকর্ডস এঁর পকেটে। গিনেস বুকেও নাম উঠে আছে এনার। আরো কিছু রেকর্ড শুধুমাত্র অনুমোদনের অপেক্ষায়।

একটা স্কুটারকে টানা ১০০১ ঘন্টা চালু রেখে প্রথম বার দলগত ভাবে গিনেস বুকে নিজের নাম তোলেন হরপ্রকাশ। সেই থেকে শুরু। একটার পর একটা রেকর্ড গড়ার চেষ্টা চালিয়ে গেছেন ইনি। প্রথমেই নিজের নাম বদলে রেখেছেন গিনেস ঋষি। ৩৯ সেকেন্ডের মধ্যে খেয়ে ফেলেছেন পুরো এক বোতল টমাটো কেচাপ। ৬১ বছরের শ্যালককে দত্তক নিয়েছেন। আপাতত: চেষ্টায় আছেন ৯০ বছরের কাউকে দত্তক নিতে। নিজের ক্লাবের জন্য সবচেয়ে ছোট্ট জমি কিনেছেন (১/২ বর্গ ইঞ্চি)। নিজের বিজনেস কার্ডে লিখে রেখেছেন তাঁর ১৯ রকম গুণের কথা। বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু চিনির টাওয়ার বানিয়েছেন (১৬২.৫৬ সেমি)। বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা উইল বানিয়েছেন। নিজের স্ত্রী কে দিয়ে লিখিয়েছেন বিশ্বের সবচেয়ে ছোট উইল ( "All to son' )।

শুধু নিজে রেকর্ড করাই নয়, সবাইকে রেকর্ড ভাঙার ব্যপারে পরামর্শ দান করতেও ইচ্ছুক গিনেস ঋষি। ওঁর মতে, ভারতবর্ষের মত বিশাল দেশে যেখানে সাধারণ মানুষের গড় রোজগার বেশ কম, সেখানে বিশ্বের সামনে মাথা তুলে দাঁড়াবার জন্য গিনেস বুকের কোনো বিকল্প নেই। যাদের হাতে টাকা নেই, তারা তাদের সামান্য সামর্থ্য, আর নিজেদের ক্ষমতা দিয়েই সমাজের একজন হয়ে উঠতে পারে। এদের জন্যই ভবিষ্যতে নতুন একটি রেকর্ড বই প্রকাশ করার ইচ্ছেও আছে হর প্রকাশের। তবে এই দলে যে হর প্রকাশ একা আছেন তা নয়, গিনেস বুকের ২১৯ টি রেকর্ড আপাতত ভারতের পকেটে। আছেন রাধাকান্ত বাজপেয়ী, যাঁর কানের চুল এক ফুট লম্বা। আছেন ভাইদাভেলু করুনাকরন, যিনি ৫৮ মিনিটে ১৬ কিমি স্কিপিং করেছেন। ভারতবাসীর গিনেস ম্যানিয়া এখন সত্যি গিনেস বুকে ওঠার মতন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।


বিলেত যাবে ভেসে
-----------------

"একদিন আমেরিকাও ধ্বংস হবে" কিনা সে ব্যপারে কোনো খবর না থাকলেও, বিলেত যে শিগ্গির ভেসে যাবে সে ব্যপারে কোনো সন্দেহ নেই। খুব শিগ্গিরি প্রতিটি বিলেতবাসী মারা যাবেন। ব্রিটিশরা প্রত্যেকে ঠগ এবং ডাকাত। সারা পৃথিবীকে রক্তস্নান করিয়েছে ব্রিটিশরা। সারা জগত তাই ওদের ঘৃণা করে। এই পাপের শাস্তি ওরা শীঘ্রই পাবে।

চম্‌কাবার কিছু নেই, ব্রিটিশ দের সম্পর্কে ঠিক এমনি মন্তব্য করেছেন ভ্লাদিমির ঝিরিনোভস্কি, রাশিয়ার Liberal Democratic Party র প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রেসিডেন্ট। আসলে পরবর্তী পার্লামেন্ট ভোটের জন্য ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে দাড়িয়েছেন আন্দ্রেই লুগোভয়, যিনি এই মুহূর্তে ব্রিটেনের 'মোস্ট ওয়ান্টেড' লিস্টে। আলেক্সান্দার লিদভিলেঙ্কোর খুনের পেছনে যে এই প্রাক্তন কে জি বি অফিসারের হাত আছে, এমনই সন্দেহ লন্ডন পুলিশের। তাই রাশিয়ার কাছ থেকে লুগোভয়ের প্রত্যর্পণ চেয়েছে ব্রিটেন।

সম্প্রতি এক প্রেস কন্‌ফারেন্সে ঝিরিনোভস্কি কে এই ব্যপারে জিজ্ঞাসা করা হলে, প্রচন্ড রেগে ওঠেন উনি। তারপরেই বলেন "Britain will disappear under the water one day' । এমনকি রাণীকেও ছেড়ে কথা বলেন নি উনি। সাথে এও জানিয়েছেন যে ক্ষমতায় এলে মস্কোর ব্রিটিশ দূতাবাসকে উৎখাত করবেন উনি, কারণ ওটি নাকি ব্রিটিশ গুপ্তচরদের থাকার জায়গা।


সস্তায় বেলজিয়াম
----------------

হাতে একটু বেশী পয়সা কড়ি যদি জমে, তবে বেলজিয়াম কিনে দেখতে পারেন, বেশ সস্তায় পাওয়া যাচ্ছে। কোনো ছাপার ভুল নয়, এমনকি বেলজিয়াম গ্লাসও নয়, আমি কিন্তু আস্ত বেলজিয়াম দেশ টার কথাই বলছি! সম্প্রতি ebey.be তে এরকমই একটি বিজ্ঞাপন দেখা গেছে, For Sale: Belgium, a Kingdom in three parts । অফারটি বেশ লোভনীয়, কারণ সাথে রাজা এবং রাজসভা পুরো ফ্রী। এছাড়া শিপিং কস্টও নেই কোনো। তবে ক্রেতাদের জানানো হয়েছে যে জিনিসটা সেকেন্ড হ্যান্ড, এবং এই দেশ কিনলে ক্রেতার ঘাড়ে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের ধার চেপে বসবে। আর তার চেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো যে দেশটা কেনার পর এই দেশের রাজনৈতিক নেতাদের সহ্য করতে হবে।

এই বিজ্ঞাপন যিনি দিয়েছেন, তিনি কিন্তু বেলজিয়ামের মালিক নন, তিনি এক সাধারণ বেলজিয়ামবাসী। নাম গেরিট সিক্স। আসলে গত তিন মাস ধরে বেলজিয়ামের রাজনৈতিক অবস্থা খুব টলোমলো। ডাচ ফ্লেমিশ এবং ফরাসী ওয়ালুন নেতাদের প্রবল ঝগড়া ঝাঁটির জন্য কোনো ভাবেই কোয়ালিশন সরকার গড়ে উঠতে পারছে না। মাঝখান থেকে দেশের সাধারণ মানুষ পড়েছেন প্রচন্ড অরাজকতার মুখে।

বেলজিয়ামের এই সাম্প্রতিক ঘটনার দিকে বিশ্বের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য এমন এক অভিনব বিজ্ঞাপন দেন গেরিট। প্রশাসনের ওপর প্রচন্ড বিরক্ত গেরেট বলেন যে, এরকম কিছু করা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না তার হাতে কারণ প্রশাসন পুরো বদ্ধ কালা সেজে বসে আছে এলন।

বেলজিয়াম e-bay র জনসংযোগ ম্যানেজার পিটার বারিন কিন্তু প্রচন্ড মজা পেয়েছেন গ্যারেটের বিজ্ঞাপনে। তাছারা এই বিজ্ঞাপন দেখার জন্য তাঁর সাইটের হিট কাউন্ট এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গেছে। এমন বুদ্ধিদীপ্ত রসিকতায় মুগ্ধ বেলজিয়ামের সাধারণ মানুষ। তবে আপাতত: কনফিউশান কাটাবার জন্য সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বিজ্ঞাপনটি।

সেপ্টেম্বর ২৩, ২০০৭