কন্ডোমের কম্পন


লিখছেন -- রঙ্গন


আপনার মতামত         


সবাই খালি অ্যাডেরে দোষে। অ্যাড না থাকলে আপনি কি হারাইবেন তার জলজ্জ্যান্ত উদাহরণ হল এ দশকের কামাল ধামাকা (আক্ষরিক অর্থে) কম্পমান কন্ডোম। হিন্দুস্থান ল্যাটেক্স চুপকে চুপকে স্টাইলে বাজারে ছেড়েছেন ক্রেজেন্ডো, কন্ডোম "দ্য" কম্পমান। শুভকার্যের সময় এই সর পে লাল টোপি রাজ কাপুর স্টাইলে থিরথিরিয়ে কাঁপবে। পাশের ঘরে শুয়ে থাকা গুরুজনের কান লাল হয়ে যাওয়া নিবারণার্থে ঝুমঝুমিটা শুধু বাঁধা হয় নি। সর্বজ্ঞ সার্ভেতে জানা গেছে রবারটুপিময় সেক্ষকার্যে পুরুষেরা আনন্দ পাচ্ছেন না। তাই কন্ডোমের জনপ্রিয়তা বাড়াতে তাকে কিঞ্চিৎ "কাঁপিছে দেহলতা থরোথরো" রূপ দেওয়া হল মাত্র। ১২৫ টাকায় তিনটি কম্পমান টুপি, নিরাপদ সেক্ষকার্য এবং বিনিপয়সার পেলভিক থ্রাস্ট। ঘোমটার আড়ালে খেমটা নাচার দুরারোগ্য অভ্যাসের জন্য জনসাধারণ সম্পূর্ণ স্বদেশী এবং পাবলিক সেক্টরজাত এই উদ্ভাবনের খোঁজ পান নি। নইলে এতদিনে চন্দ্রিলের হাত থেকে এই নাজুক চীজের কোনো রক্ষে ছিল!

তবে আর কেউ খবর পাউক কি না পাউক, সেক্ষের একটুকু ছোঁয়া পেলেই হিন্দুত্ববাদীদের একটুকু কথা শুনি। সেক্ষময়তার রেটিঙে এনারা বাৎসায়ন তো কোন ছার, রঞ্জন বাঁড়ুজ্যেরও নাক ঘষে দেবেন। বিরল সেন্স অফ হিউমারের পরিচয় দিয়ে তাঁরা হাল্লাগুল্লার মঞ্চ হিসেবে মধ্যপ্রদেশকেই বেছে নিয়েছেন। সেখানকার শান্ত্রীমন্ত্রীরা বেজায় খাপ্পা! কন্ডোম থিরথিরিয়ে কাঁপলে থাকিলে সে কি আর কন্ডোম রইল র‌্যা? সে তো পশ্চিমী অবক্ষয়ের প্রতীক একটি সেক্ষখেলনা! হিন্দুত্ববাদীদের সেক্ষখেলনাবিষয়ক জ্ঞানের গভীরতা দেখে আমাদের বিস্ময়ের সীমা নাই। বেশির ভাগ সাধারণ লোক পুরো ব্যাপারটাকে কাটিয়ে দিয়েছেন। সবাই তো আর বজরংপন্থীদের মত বেহায়া নয় যে অন্দর কা বাত নিয়ে লোকসমক্ষে কচলাকচলি করবে!

তবে যেই যায় মধ্যপ্রদেশে সেই হয় সেক্ষ- peer । সামাজিক প্রগতির ঝান্ডাধারী সি পি এমেরেও কেউ দাবায়ে রাখতে পারে নাই। তাদের সেক্ষখেলনা নিয়ে জ্ঞান একটু কম, তরুণ প্রজন্ম নিয়ে অভিজ্ঞতা একটু বেশি। মধ্যপ্রদেশ ইউনিটের সাধারণ সম্পাদকের মতে এই কাঁপুনিতে তরুণ প্রজন্মের জিন্দেগী বরবাদ হো যায়েগা। কন্ডোমের কম্পনের সাথে তরুণ প্রজন্মের অবক্ষয়ের গূঢ় আর্থসামাজিক সম্পর্ক এই মোটামাথায় ঢোকে নি। কম্পন-বিরোধী রাজনৈতিক ঐকমত্যের বলিষ্ঠ ব্যারিকেডের মুখোমুখি হয়ে হিন্দুস্থান ল্যাটেক্সের চেয়ারম্যান বলেছেন অন্যে যবে কম্পমান, মধ্যপ্রদেশে বিক্রি বন্ধ। কিন্তু এই ফাঁকা অশ্বাসে আশ্বস্ত না হয়ে কন্ডোমের কম্পন থামাতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবী করা হয়েছে।

কিন্তু এই বাজে গুলতানিতে থামলে চলবে কি করে মহায়রা? সাম্রাজ্যবাদহীন কূটকচালি এবং সেক্ষচিন্তাহীন হিন্দুত্ব- দুইটাই সমভাবে অসম্ভব। তো মধ্যপ্রদেশের হিন্দুত্ববাদীরা সেই দানটিও আমাদের সুবিধার্থে চেলে দিয়েছেন। সারা দুনিয়ার চল্লিশ হাজার কোটি টাকার সেক্ষখেলনার বাজারের সত্তর শতাংশ চীনদেশে তৈরি হয়। কিন্তু ভারতের মাটিতে সরকারী বিধিবলে কোনোরূপ সেক্ষখেলনার নো এϾট্র, পান এবং পানু দুইই ইনটেন্ডেড। অতএব চীনা সাম্রাজ্যবাদীরা যেনতেন প্রকারেণ এই সেক্ষলোভী অথচ সেক্ষোপোসী বাজারেরে গ্রাসিবারে চায়। পাবলিক সেক্টরের হাত ধরে ঢুকে আসা অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদের কালো হাত রুখতে তাই আজ খেলা ভাঙার খেলা। কম্পমান কন্ডোমের সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন বন্ধ করতে হাতে হাতে ইত্যাদি ইত্যাদি। এক মন্ত্রী ফাঁকতালে কন্ডোমালোচনার জন্য সর্বদলীয় বৈঠকও ডেকেছিলেন। কন্ডোমের কম্পনবিরোধিতায় সর্বদলীয় ঐকমত্য হলেও সর্বদলীয় বৈঠকের ব্যাপারে সর্বদলীয় ঐকমত্য না হওয়ায় সর্বদলীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সর্বদলীয় বৈঠক বাতিল করা হয়েছে।

এক পরিবেশবাদী নিওলিবারেলবিরোধী বন্ধু বলল- "হায় সাদামাটা মোটাসোটা নিরোধ, তোমার কাল গিয়াছে!" ক্যাওড়া বন্ধু বলল- "বস, পুরো কাঁপাকাঁপি!" এক গুরুজন তৃণমূলের সর্বাধিক প্রচারিত একশব্দের পোস্টারের মত চারপাঁচটা ছ লাগিয়ে বললেন- "ছি:!" একমাত্র আমার এক আলাভোলা সদ্যবিবাহিত বন্ধু খুব সিরিয়াস উৎসাহ দেখিয়েছে এই জিনিষটির ব্যাপারে। প্রথমে শুধালো- "কিসে চলে রে?" বললাম পড়েছি যে একটা ব্যাটারিচালিত রিং হল এর সোর্স অফ এনার্জি। তার ঠিক পরের প্রশ্ন- "একটু জেনে নিস তো পেন্সিল ব্যাটারি লাগবে না বড়ো ব্যাটারি?" এর পরে আমার কম্পমান কন্ডোমচর্চা আর বেশি দূর আউগায় নাই।


জুন ৩০,২০০৭