বাঁদররা কিন্ত¥ হাসছে


অরিন্দম চক্রবর্তী


আপনার মতামত         


মানুষ হয়ে জনÈগ্রহণ করার অহঙ্কারে অন্যজীবকে হেয় করাই যেন আমাদের জনÈগত অধিকার । বিশেষত: বাঁদরদের ওপর আমাদের আক্রোশ যেন একট¥ বেশীই । কথায় কথায় রেগে গেলেই আমারা একে অপরকে "বাঁদর' বলে আখ্যা দিই । "বাঁদরামো ঘুচিয়ে দেব' বলে গাল পাড়ি । সত্যি কথা বলতে কী , রাগ হবে নাই বা কেন ? এ ধরাধামের সবচেয়ে উন্নততম জীব আমরা । সমাজনীতি , অর্থনীতি , রাজনীতি ,জ্ঞান - বিজ্ঞান প্রভ«তি শাখায় আমাদের পান্ডিত্য অপরিসীম ! আর আমাদের পূর্বপুরুষ কীনা ওরকম একটি ইতর প্রাণী ! তবে আজ এই শ্লাঘাকে কিন্ত¥ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন আমাদের পূর্বপুরুষেরা । ল্যাজ খসিয়ে মাতব্বরি মারার দিন শেষ । আগে আমাদের শরীরে ছেড়ে গিয়েছিল "অ্যাপেনডিক্স' নামক ক্ষ¥দ্র ও আপাত নিরীহ একটি অ‰কে এখন শুনছি এইচ.আই.ভি ভাইরাসটিও নাকী তাদের দান । গেরোটা এখানেই । সময় সু¤যোগ পেলে অ্যাপেনডিক্সকে কেটে বাদ দেওয়া যায় । তাতে প্রাণনাশের ঝঁ¥কি কম , কিন্ত¥ একবার এইচ.আই.ভি ভাইরাস শরীরে ঢ¥কলে আর নিস্তার নেই । মরিবেই মরিবে ।

"জনিÈলে মরিতে হবে... ... ' - ধ্র¥ব সত্যি । কিন্ত¥ তা বলে এইভাবে ! কী ভাবে ? বলছি - ধরুন হদিস পাওয়া গেল আপনার রক্তে আছে এই ভাইরাসটি ব্যস তাহলেই কেল্লাফতে । প্রথমে আপনাকে লাথ মারবে আপনার পরিবার তারপর পাড়া প্রতিবেশী সব শেষে রাষ্টÊ ও তার সেÀহধন্য চিকিৎসকক¨ল । স্বল্পবাক্যব্যয়ে , সম্প¨র্ণ বিনা চিকিৎসায় পটল (এডস্‌ রোগে মারা গেলে তাকে পটল তোলাই বলা হয়) ত¥লবেন আপনি । সকলের মুখেই এক রা - তখন মনে ছিলনা যখন ফ¥র্তি মারতে গিয়েছিলে ? আজ এসেছ চিকিৎসা করাতে । তোমার মরাই উচিত । বুদ্ধিজীবিরা বলবেন বুলাদিকে অচ্ছেদ্দা করা , কতবার সাবধান করে দিয়েছেন "কন্ডোম বিনা স‰ম নয়' , সেই কিনা কন্ডোম ছাড়া....। এবার তোমার যাওয়ার পালা ! এক অসহ্য মন ও দেহজ বেদনা নিয়ে আপনার দুর্লভ মানব জীবনের সলতেটা নিভে যাবে । ভাবছেনতো এ আর এমনকি , কিন্ত¥ এ বড় সু¤খের সময় নয় কারণ এইসব দেখেশুনে বাঁদররা কিন্ত¥ গা ঠেলাঠেলি করে হাসছে আর কলকলিয়ে কথা বলছে ।
কী বলছে ? শুনুন -

বাঁদর (১নং) - দ্যাখ্‌ কান্ড ! এই নাকী পৃথিবীর উন্নততম জীব । ব্যাটারা চাঁদে যাবে হিসি করতে আর ম‰লে হানিমুন কিন্ত¥ এই কথাটা মেনে নিতে পারেনা , যে এইচ.আই.ভি এমনি এমনি কারুর শরীরে ঢোকেনা । এইচ.আই.ভি আক্রান্ত মানুষের রক্ত , সিমেন , ভ্যাজিনাল ফ্ল¥ইড অন্যের রক্তে মিশে গেলে তবেই তারা এইচ.আই.ভি পজিটিভ হয় । তা না ব্যাটারা এডস্‌ রোগীকে দেখলেই পালায় , ভাবখানা এমন যেন এডস্‌ রোগীকে ছ¥ঁলেই ওদের শরীরে এইচ.আই.ভি ঢ¥কে যাবে । এই হল এক¥শ শতকের শিক্ষিত জাতের চেহারা । ব্যাটারা রোগের থেকে রোগীকেই বেশি ঘৃণা করে ।

বাঁদর (২ নং) - তবে অন্য দেশের কথা জানিনা বাপু , ভারতবর্ষ মহান দেশ । তার ঐতিহ্যও মহান । তাই শূন্য আবিষ্কারের মতন জনসংখ্যা হÊÊ¡সের পদ্ধতিও তেনারা আবিষ্কার করে ফেলেছেন । ভেজাল কীটে রক্ত পরীক্ষা করে একে একে অজস্র মানুষের শরীরে ছড়িয়ে দিচ্ছে এই বিষ । তারপর রোগ ধরা পড়লে তার গায়ে চিটিঁয়ে দিচ্ছে স্টীকার - যেমন কর্ম তেমন ফল । ডাক্তাররা রোগীকে ছ¥ঁয়েও দেখছেনা । জননেতারা ব্যস্ত সি‰¥রে আঙ¥র হবে না টাটার গাড়ী তা নিয়ে । মহান চিন্তার এক কনাও যদি এইসব রোগীদের জন্য বরাদ্দ হত , তাহলে ক«তার্থ হত লোক…লো ।

বাঁদর (৩নং) - বুঝলেনা কেন ? আসলে গলদতো গোড়ায় । সব শিক্ষাই যুক্তিহীন । যুক্তি , বুদ্ধি দিয়ে বিচার করতে শিখলে এমন কান্ড ঘটায় !

বাঁদর (৪নং) - তবে হ্যাঁ । প্রগতিশীল জাতি বটে । বিশ্বায়নের বাজারে বিশ্বের অন্য দেশের স®‰ তাল মিলিয়ে এনারাও ১লা ডিসম্বের "এইডস্‌ দিবস' পালন করেন । সেদিন দিবস ও রজনী ধরে সমাজের কেষ্ট-বিষ্ট¥রা সব রেড লাইট এলাকা জ¥ড়ে ননস্টপ রাÉলি করে আর কনস্ট্যান্ট কনডোম বিলিয়ে যায় । এইচ.আই.ভি আক্রান্ত শিশুদের ভালোবেসে (পড়¥ন বিল গেটসে্‌র পকেট মেরে) দুটো ক্যাডবেরী , চারটে খেলনা কিনে দেয় । ব্যস তাহলেই কেল্লা ফতে । ওদের কাছে এডস্‌ সমস্যা একদিনের , প্রতিদিনের নয় । বাকী ক'দিন "নিজের ম্যাও নিজে সামলাও' এই হল ওদের বিধান ।

কথোপকথন শেষ । এরপর চারজনই একত্রে খ্যাক্‌ , খ্যাক্‌ ... করে হেসে বলে উঠল - আমরাই ভাল আছি বাবা ! দরকার নেই এমন কান্ডজ্ঞানহীন দীর্ঘজ্ঞানের প্রযুক্তিতে বেড়ে ওঠা পৃথিবীর উন্নততম জাত হয়ে ।

তাই প্রতিবেদকের একটি অনুরোধ - চিড়িয়াখানা ,সার্কাস বা অন্যত্র কোথাও বাঁদরদের হাসতে দেখলে তা নিয়ে ব্য‰-বিদ্র¥প করবেননা । ওদের তাচ্ছিল্যও করবেননা । নিজেদের দিকে তাকান তাহলেই বুঝবেন ওরা কিন্ত¥ আমাদের দেখেই হাসছে । আর হাসতে হাসতে বলছে - এখনো বাঁদর আছ "মানুষ' হওনি ।