বঙ্গীয় বারোমাস্যা -- দ্যাখ কেমন লাগে


লিখছেন -- অমিত মজুমদার


আপনার মতামত         


খ্যামটানাচের ইতিকথা
---------------------

তিনকাল গিয়ে দ্রোহকালে ঠেকে। মাথায় ঘোমটা দিতে গিয়ে পোঁদের কাপড় সরে যেতে দেখা । রেখো মা দাসেরে - ধুর শালা তোর দাস! দাস ক্যাপিটাল মায় গণতন্ত্র নামে জগন্নাথের …হ্যদেশে চুনকি দিয়ে "কামলিস' দাদা বলে দিলে কিনা ভাই হবে রাজা! এসো জন বসো জন ধন্য ধন্য করি। তাও রক্ষে, বলে বসেনি,""আমি যখন ছোট ছিলুম রোমেল দাদার হাত ধরে যুদ্ধু করতে যেতুম''! একে রামে রক্ষে নেই সু¤গ্রীব দোসর। আবার আমাদের এই শান্তশিষ্ট পশ্চিমব®‰ বসে ব্যারিকেড গড়ে তুলতে হত। জনগণ জনগণ করে চুলদাড়ি পাকিয়ে ঘাটে যাবার সময় হল বুঝি, কিন্তু তা বলে একি ভীমরতি । থাক বাবা, আবার যেন টিন ডÊ¡ম বাজাতে যাস নি, কমিউনিসম পা পিছলে আলুর দম, চাইকি এগজিবিশনে বিক্রী - হ্যাপেনিং আর্ট । চারখানা চিলকে যদি শান্তি পুরষ্কার দিয়ে থাকি,তবে তোরেও সয়ে নেব, এহ বাহ্য । এইবেলা সময় থাকতে থাকতে একখানা কেতাব লিখে ফ্যালা , 'How The Communist Was Tempered' , আর তা যদি নাই পারিস, প্রতিপত্তি খাটিয়ে, চুপিসাড়ে বরাত দিয়ে একখান 'A Suitable Communist' লিখিয়ে নে, পুলিৎজার বাঁধা। আমরা এইখানে নিরানন্দ পাবলিশার্স থেকে সোনার জলে লেখা বোর্ড বাঁধাই রাজ সংস্করণ বের করব, স®‰ খটাস ভ–¡চার্যের ছবি। সামনেই বইমেলা (সামনেই থাকে), মারমার কাটকাট বিক্রী। অবশ্য দুদিনের মধ্যে ফতোয়া, বই ব্যান, প্রতিবাদে লেখক ও শিল্পীদের ধুতি মিছিল। চিন্তা নেই, আদালত অব্দি যেতে হবে না, নন্দনে বসেই ছাপা বন্ধ করে দেব । কত হনুর লেজ চুলকে ছেড়ে দিলাম, তুই তো কোন তেল বিনা হ্যারিকেন! অথচ ঘন্টাকর্ণ যখন ছো–টি ছিল, অবিকল সু¤কান্ত স্টাইলে পোজ দিয়ে বসে (কারণ জানতে চাইলে বলত থিঙ্ক করছি, যদিও আমার মনে হত রঁদ্যা নয়, র্যাঁদা চালিয়েছে কেউ) ফিদুর নিন্দে করত । বলত ব্যাটা হাড় বজ্জাত, নাম কামানোর জন্য আর গা ঘ্যঁ¡সাঘেঁসি করার জন্য শালো লেড়ের বাচ্চা ইন্দির ঠাকরুণকে ভারতমাতা এঁকে দিলে! আহা, তাও তো সে বেচারি ন্যাংটা মেয়ের ছবির নীচে সরস্বতী লেখা দ্যাখেনি। কি যে করে বসতো কে জানে। ওর আবার ওই নামে একখান গজগামিনী প্রেমিকা ছিল কিনা! বেচারা সোনার চাঁদ ছেলে ছিল, বেঁচে থাকলে এই বাজারে একখান চাকরি ঠিক বাগিয়ে নিত। তারপর দেখা যেত প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা করা যায় কিনা, মানে ভেবে দেখতুম আর কি, ওই রকম পোজে বসে আমিও এ–¤ থিঙ্ক করতুম প্রতিষ্ঠান কি জিনিস। নইলে পুলিন গা‰¤লীও গান গায়, তাও ক্যাসেটবন্দী হয়, নন্দনে বিক্রী। মরে গেলে নির্ঘাত এপিটাফ লিখবো আমরা - ""দাঁড়াও পথিকবর---'' ইত্যাদি ইত্যাদি।

এতো গেল ঘন্টাকর্ণের কথা। কিন্তু আমরা কি করি? লালবাংলার লাল মাটিতে ফেরার কথা ভাবলেই পশ্চাদ্দেশ লাল হয়ে যায়, লাথি খাওয়ার আগেই। যতই বিড়ি ফুঁকতে ফুঁকতে ম্যারিকা কে গালি পাড়ি, সেই তো বাবা সাজু…জু করে লাইন দেবে এমব্যাসির সামনে, যদি হাড়ের টুকরো মেলে একখান। চিবুতে চিবুতে, জীবনে প্রথম কেনা টাই খানা ঠিক করে গলায় এঁটে, ঢিকুতে ঢিকুতে স্যামসোনাইটে নির্লজ্জতা ভরে উঠে পড়বে জাম্বোতে। এই আমাদের বড় হয়ে ওঠা, সেই °শশবে করা প্রশ্ন, কবে বড় হব মা? উহ্য ছিল। কবে লাথিটি জায়গামতো কষাব মা? তবে হ্যঁ¡, সময়মত এদিক ওদিক পাল্টি খেতে পারলে ২০ জনের সীট যে ৩০ জনের হয়ে যাবে না তা কে বলতে পারে। দু একটা চিঠি জায়গামতো চালাচালি, ই-মেল ফাঁস, তাহলেই ব্যস! আবার আমাদের মায়ের পেটের দাদার মত আমরাও দাঁত কেলিয়ে রাজার আসনে। সে যতই মন্দ লোকে বলুক না কেন, ""তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ ---'' ইত্যাদি ইত্যাদি। বদ লোক সর্বকালে সর্বদেশে বিদ্যমান। ওদের কথায় কান দিলে আর ২৭ বছর ধরে শুকনো ঘা চুলকে খেতে হত না। হাত মেলাব,নদীর জলে বেণী ভেজাব না। তবু কে আম খাবি আর কে আঁটি চুষবি তা আমি ঠিক করবো। এক পা এগোবি! শালা পাগড়ি ধরে তিন পা টেনে আনব। সংগঠনটা আগে শেখ বাপ। আমদানী রপ্তানী কলেজের ঝাঁপখানি খোলা শেখ। নইলে যতই তুমি ডিগ্রী কর, লালবাংলায় ভিক্ষে কর । তাও শালা আমাদের এলাকাতে নয়। কানে কামড়ে বললাম, তোরা আমাদের ভোট দিসনি, তোদের এলাকার উন্নতির দায় আমাদের নয়। তবু ভ্যানতাড়া মারছিস! কাল্টিতে গবেষণা কর আর রাস্তা পার হয়ে মালপত্র নিয়ে উল্টোদিকের বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরিতে ঢোক। শালা রিক্সাও ভাড়া করতে হবে না। এরপরেও যদি কেউ বলে লালবাংলায় গণতন্ত্র নেই, আইন কানুন নেই, সে শালা আলবাত সি আই এর দালাল আর নইলে ওই মাগীটার গর্ভস্রাব। এবারে জোর পি–£ দিয়েছি, আবার পিঁয়াজী করতে এলে ঝাড়ে বংশে নাশ করবো।

শুধু দু:খ একটাই, বিভাস ঘরে ফেরে নাই। আ মোলো যা, সে আবার ঘরের ছেলে ছিল কবে? শালা চিরটাকাল ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়িয়ে বেড়ালে। এই সেদিন ও লাফালাফি করতে গিয়ে জলে পড়লে। আবার তাকে টেনে তোল, ললিপপ দাও, সে এক হ্যা‰¡ম। যৌবনকালে যুবভারতীতে নাচতে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়েছিল, তবু শিক্ষা হল না। দেখছিস এঁড়ে গরু, তবু বলে টেনে দে, দুধ বেরোবে। ওই, সবকিছুর মূলে ওই জনগণ। বাড় খাইয়ে নেচে নেচে গান গাইলে ""মরা মানুষ বাঁচিয়ে তোলে এমনি যে তার যাদু'' ইত্যাদি ইত্যাদি। যত তাদের বলি ওরে ব্যাটাচ্ছেলেরা থাম তো, তাদের এক কথা, ""বোম্বাই মে কিশোরকুমার ভি তো গাতা হ্যায়, উসে তো কোই কুছ নহি কহতা''!

এই হল বাঙালী। ভিডি-ভিসি-ভিনি -- ছিল, আছে,থাকবে। মাছে-ভাতে থেকে ছানার চাঁদমুখে চুমু খাবে। আঠারোশো পাঁচ থেকে খেলে আসছে, অদ্যপিও সেই খেলা খেলে গোরা রায়। সানিয়া মির্জা টাইপ ঠুকঠুক নয়, শালা যেন ব্রাজিলের কোচ, পুরো টীম নামিয়ে দিয়েছে! জেতাহারা বড়ো নয়, শো মাস্ট গো অন। খেলা চলছে চলবে। রামনাম সত্য হ্যায়। যুগযুগ জিও। এবার দ্যাখ কেমন লাগে।

শুধু বিমলদা যে কোথায় গেল! এই মার্কেটে দু একটা চুটকুলি না ঝাড়লে রগড় ঠিক জমে না। কোথায় লাগে ভুলু যাদব। দে গরুর গা ধুইয়ে। ততদিন আমরাও গরু দেখলেই টেনে দেব। রাধে রাধে!


ইতিকথার পরের কথা
--------------------

কুটকচালী করে জীবন গেল ভদ্রতার মুখোশে ঠিকঠাক। প্রেমিকা এসে বললে, রাত জেগে কষ্ট করে লিখছ, যদি না ছাপে? হেসে বললুম, ওরে সোনা, সবুর কর। পেয়াদা লাগিয়েছি, তবু যদি নাই ছাপে, প্রেস কনফারেন্স ডেকে মুখের উপর বলে দেব, এ অশুভ শক্তির কাছে শুভ শক্তির পরাজয়।