L§VLQ¡9 6


শয়রর


আপনার মতামত         


          ন্যাচারাল জাস্টিস


তবে যে শুনিয়াছিলাম পুলিশ হইল শান্তিরক্ষক? তবে যে শুনিয়াছিলাম উহাদের কাজ সুকঠিন? তবে যে শুনিয়াছিলাম উহাদের অস্ত্র ব্যবহারের নির্দিষ্ট বিধি আছে? ইহাও শুনিয়াছিলাম যে সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হইলেই আত্মরক্ষার্থে আক্রমনকারীকে আঘাত করিতে পারে, কিন্তু শান্তিরক্ষকদের, এমনকি আক্রান্ত হইলেও, আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র ব্যবহারের নিয়ম নাই? ভুল শুনিয়াছিলাম সন্দেহ নাই। কিভাবে জানিলাম? পুলিশকর্তার বাণী শ্রবণ করিয়া। সংবাদে প্রকাশ লবণ হ্রদ উপনগরীতে একদল উন্মত্ত আন্দোলনকারী বিদ্যুৎ বিভাগের হেডাপিস আক্রমণ করিলে শান্তিরক্ষকরা গুলি চালায়। গুলি চলিয়াছিল না চলে নাই ইহা লইয়া কনফিউশানের বিস্তর ধূম্রজাল বিস্তারের পর পুলিশকর্তা জনগণের অবগতির জন্য জানাইয়াছেন গুলি বিলক্ষণ চলিয়াছিল। তবে তাহা কেবলমাত্র আত্মরক্ষার্থে। ইতিপূর্বে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশী ন্যায়বিচারের সময়ও অনুরূপ বাণী বিতরিত হইয়াছিল, যে, ইট মারিয়াছিল তাই মারিয়াছি।

এসকল কথা যথেষ্ট যুক্তিপূর্ণ। পুলিশকে ঠেঙাইলে পুলিশ কি করিবে, নাড়ু বিতরণ করিবেনা নিশ্‌চয়ই। পুলিশ কি ধিনিকেষ্ট,নদের নিমাই,না জাতির জনক, যে গালে চড় মারিলে তাহর ভোকাল কর্ড হইতে প্রেমপর্বের রবীন্দ্রগান বাহির হইবে? নাকি পুলিশ সতেরো বৎসর বয়সী দেশলাই কাঠি, যে আগ বাড়াইয়া বাড় খাইয়া শহীদ হইয়া আসিবে? এসব খুব সহজ ও স্বাভাবিক যুক্তি। আমরা মানিয়া নিয়াছি, মন্ত্রীরা মানিয়া লইয়াছেন। আশা, যে, এসকল যুক্তি জজেও মানিবে, কারণ সহজ ও স্বাভাবিক যুক্তিকেই ইংরাজি নামক যাবনিক ভাষায় ন্যাচারাল জাস্টিস বলা হয়।




          আরও দু পয়সা



ন্যাচারাল জাস্টিস লইয়া আরও দুপয়সা যাহারা চান, তাঁরা নিশ্‌চয়ই ভুলিয়া যাননি যে কিছুদিন পূর্বে পুলিশি হেফাজতে কোন পরিষেবার কি মূল্য, এই বিষয়ে এক দীর্ঘ ও স্বয়ং সম্পূর্ণ গবেষণামূলক বিজ্ঞপ্তি পুলিশ গেজেটে প্রকাশিত হইয়াছিল। উহা যে শুধু মিথ্যা রটনা তাহাই নয়, পুলিশী সুশাসনকে বেইজ্জত করিবার জন্য এক বৃহত্তর চক্রান্তের অঙ্গ, তাহা লইয়াও আশা করা যায় কাহারো মনে কোনো সন্দেহের অবকাশ নাই। জনতা নিশ্‌চয়ই এব্যাপারেও অবহিত আছেন, যে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষএ বিষয়ে গভীর তদন্তের পর অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসাবে কয়েকজন প্রুফ রিডারকে সাসপেন্ড করিয়াছেন। প্রুফ রিডাররা কি দোষ করিল, তাহারাতো শুধু বানান সংশোধন করিয়া থাকে, লেখকদের ধরা হইলনা কেন,কেন ধরা হইলনা সেই সকল ব্যক্তিসমূহকে যাহারা লেখা সংগ্রহ করিয়াছিল, এই সকল অবান্তর প্রশ্ন যাহারা করিতেছেন, তাহাদের অবগতির জন্য জানানো যাইতেছে, যে, পুলিশ ও গোয়েন্দাদের কর্মপদ্ধতি সিভিলিয়ানদের ন্যায় সহজবোধ্য নয়। তাহারা জটিল পদ্ধতি অনুসরণ করিয়া অনুসন্ধান কার্য চালাইয়া থাকে। তাহারা সারপ্লাস মিনিং ভালোবাসে, বিটুইন দা লাইন পড়াশুনো করে, তাহারা আস্ত দেয়াল ছাড়িয়া ফাটলের পিছনে ধাওয়া করে। ফলে কখন কি কারণে তাহারা কি করিয়াছে মন্ত্রী ও দেরিদা ভিন্ন আমপাব্লিক তাহা প্রথম চান্সেই বুঝিয়া ফেলিবেন এইরূপ প্রত্যাশা বাতুলতা মাত্র।

অতএব অকারণ গোল না পাকাইয়া অসাধারণ যুক্তিবিধি প্রয়োগ করুন। এ মরজগতের প্রাচীন নিয়ম হইল পেরিস্কোপ দৃশ্যমান থাকিবে কিন্তু সাবমেরিন রহিবে জলতলে। অবুঝ টাইটানিক গুঁতাইয়া সলিল সমাধি লাভ করিলেও হিমশৈল থাকিবে চোখের আড়ালে। টেক্সটের সকল দায়িত্ব কাঁধে লইয়া জাগিয়া থাকিবেন (প্রুফ) রিডার, লেখক মৃত বলিয়া পরিগণিত হইবেন। ইহাই ন্যাচারাল জাস্টিস যাহাকে বঙ্গভাষায় একুশে আইন বলা হইয়া থাকে।